• সোমবার (দুপুর ২:৩৭)
    • ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

পুলিশকে জনগনের প্রকৃত বন্ধু হতে বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবান

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

“মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার,পুলিশ হবে জনতার” বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘ জনতার সেবার জন্যই সৃষ্ঠ পুলিশ বাহিনীকে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। জনগনের প্রকৃত বন্ধু না হতে  পারলে যে কোনো ধরনের অপরাধ দমন করা সহজ হবে না।’ আর পুলিশ যদি সবসময়  রক্ষকের ভূমিকা পালন করে, তাহলেই এ আস্থা অর্জন করা সম্ভব।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও অনেক সময় পুলিশ নিজেই জড়িয়ে পড়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা কমার এটা একটা অন্যতম কারণ ।

বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের আরও জনবান্ধব হওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, আসলে পুলিশকে জনতারই হতে হবে, জনগণ যেন আস্থা পায়, বিশ্বাস পায় এবং পুলিশের কাছে দাঁড়াতে পারে।

তিনি বলেন, পুলিশের প্রতি আগে মানুষের যে একটা অনীহা ছিল সেটা কিন্তু আর নেই। কিছু উচ্চশিক্ষিত ও জনবান্ধব অফিসার এর পজিটিভ ভূমিকার কারনে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অনেকাংশে  বৃদ্ধি পেয়েছে। আসলে এটাই সব থেকে বেশি প্রয়োজন। কাজেই আপনারা সেভাবেই কাজ করবেন। সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে (পিএমও) ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২০’ উপলক্ষে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণে এসব কথা বলেন।

বিআইডব্লিউটিএ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে পুলিশ সদস্যদের প্রতিনিধি থাকা প্রয়োজন এবং তার সরকার সেই উদ্যোগ নেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ইতিমধ্যেই পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

বিপদে-আপদে যেখানে মানুষের সবচেয়ে বেশি নির্ভর করার কথা পুলিশের ওপর, সেখানে দেখা যাচ্ছে, নিজেদের আচার-ব্যবহার ও কার্যকলাপের কারণে পুলিশ হয়ে পড়ছে জনবিচ্ছিন্ন। অথচ পুলিশের ভূমিকা হওয়া উচিত জনগণের সেবকের।

প্রধানমন্ত্রীও পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন। তাই আমরা আশা করব, পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার পাশাপাশি প্রকৃত জনবান্ধব করারও পদক্ষেপ নেয়া হবে।

পুলিশরা রাজনীতির উদ্ধে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে পুলিশ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না- এ অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পুলিশের নিয়োগ, বদলি, পদায়ন ইত্যাদি প্রশাসনিক কাজেও ব্যাপক রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়। এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতারা নানাভাবে প্রভাব খাটান।

এতে অনেক দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তাও বিশেষ কোনো রাজনৈতিক নেতার আস্থাভাজন না হওয়ায় বা তার কথামতো কাজ না করায় হয়রানির শিকার হন। বস্তুত পুলিশের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের যত অভিযোগ উঠে থাকে, সেসবের বেশিরভাগই সংঘটিত হয় পুলিশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ফলে। পুলিশের কাছ থেকে যথাযথ সেবা পেতে এ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি।

আমাদের পুলিশ বাহিনী অনেকাংশে ব্রিটিশ আমলে প্রণীত ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের উত্তরাধিকারই বহন করে চলেছে। ব্রিটিশ শাসকরা ওই নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ন করেছিল পরাধীন জনগণের স্বাধীনতার স্পৃহাকে দমিয়ে রেখে নির্বিঘ্নে শাসনকাজ পরিচালনার উদ্দেশ্যে।

আজকের যুগে এ আইন অচল। কাজেই আইনটির আমূল পরিবর্তন ছাড়া পুলিশকে জনগণের সেবকে পরিণত করা প্রায় অসম্ভব। পুলিশ সপ্তাহ উদযাপনে সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়টি আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।

অস্বীকার করা যাবে না, পুলিশের নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পর্যাপ্ত যানবাহন নেই তাদের। অনেক ক্ষেত্রে লোকবলেরও সংকট রয়েছে। অপরাধ দমনের এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুলিশকে জঙ্গিবাদ দমনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজও করতে হয়। পুলিশ বিভাগে যোগ্যতা ও দক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত।

ক্ষেত্রবিশেষে উপযুক্ত প্রণোদনা দিতে হবে। এসব পদক্ষেপে পুলিশের কাজে গতি আসবে। হ্রাস পাবে দুর্নীতি। পুলিশের আচরণে মানবাধিকার ও মানবিক দিকগুলো যেন বিশেষ গুরুত্ব পায়, প্রশিক্ষণকালেই সে শিক্ষাটা দেয়া দরকার।

পুলিশ সপ্তাহে এবারের প্রতিপাদ্য হল- ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার পুলিশ হবে জনতার’। আমরা চাই, পুলিশ যথার্থই জনগণের বন্ধু হয়ে উঠুক। সরকারের সদিচ্ছা এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বশীলতায়ই তা সম্ভব হতে পারে। পুলিশ সপ্তাহে এ বাহিনীর সব সদস্যের প্রতি রইল আমাদের শুভেচ্ছা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের গ্রেফতারের কোনো এখতিয়ার নেই। গ্রেফতারের জন্য তাদের কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরই বলতে হবে। তারা নির্দেশ দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, তারা ধরে রেখে ওখানে হাজতখানা বানাবে, হাজতে রাখবে এটা কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজ নয়। যার যার কাজ তার তার করতে হবে। এ কথা মনে রাখতে হবে।

দেশের মানুষের নিরাপত্তা প্রদানকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবার মুজিববর্ষে পুলিশ সপ্তাহের যে প্রতিপাদ্য- ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ চালু হওয়ায় মানুষের মাঝে একটা আত্মবিশ্বাস এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোথাও কেউ কোনো অন্যায় দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে ফোন করছে এবং পুলিশ সেখানে পৌঁছে যাচ্ছে, ব্যবস্থা নিচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের অর্থনীতি যত শক্তিশালী ও মজবুত হবে তত বেশি আমরা আমাদের সব প্রতিষ্ঠানকে আরও উন্নত করতে পারব। তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল এবং উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। এটা আমাদের ২০২৪ সাল পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে, যাতে উন্নয়নশীল দেশের স্থায়ী স্বীকৃতি অর্জন করতে পারি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন এবং আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. সফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম, খুলনার পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি ব্যারিস্টার হারুনুর রশিদ পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ক্ষুধামুক্ত হয়েছে ঠিকই কিন্তু এখনও বাংলাদেশে যারা দরিদ্র বা গৃহহীন, কর্মক্ষমতাহীন তাদের প্রত্যেকের জীবনমানটা যাতে উন্নত হয়, তারা কেউ যেন ক্ষুধার কষ্টে না ভোগে, রোগেশোকে কষ্ট না পায়। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্য দিয়েই মানুষকে একটা সুন্দর জীবন উপহার দেয়াই তার সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার মূল্যবোধ যেটা আমরা ’৭৫-এর পর হারিয়ে ফেলেছিলাম তা আজকে আবার ফিরে পেয়েছি। মানুষের মনে আজ স্বাধীনতার মূল্যবোধ জাগ্রত। আবার সেই নতুন চেতনা নিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের স্বাধীনতার মূল্যবোধটা আর যেন হারিয়ে না যায়। এই অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতে যাতে কেউ আর ব্যাহত করতে না পারে। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করব।

পুলিশ সদস্যদের জন্য পৃথক মেডিকেল কোর স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশে কিন্তু মেধাবীরাই আসে, ব্যারিস্টারও আসে, ডাক্তারও আসে, আবার ইঞ্জিনিয়ারও আসে। কিন্তু আমি মনে করি পুলিশের জন্য একটি পৃথক মেডিকেল কোর করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসকরা আসতে চান না। কাজেই পুলিশের মধ্যে যে ডাক্তার রয়েছে তাকে খুঁজেই সেখানে অনেক সময় দায়িত্ব দিতে হয়।

কাজেই আপনারা যদি আলাদা একটা ইউনিট করে ফেলেন ডাক্তারদের জন্য তাহলে আপনাদের চিকিৎসারই একটা সুবিধা হবে। শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশ সদস্যদের জন্য সরকারি হাসপাতালে ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও পুলিশের জনবল বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পৃথক ইউনিট করে নিতে পারলে ভালো হবে। তিনি বলেন, এই পৃথক ইউনিটের দাবি কিন্তু আপনারা করেননি, আমি আপনাদের পক্ষ থেকেই দাবিটা করলাম।

 

একটি দেশের উন্নয়নে জননিরাপত্তার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যদি ঠিকমতো তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে তখনই সেটা সম্ভব। আর আপনারা এটা করতে পেরেছেন বলেই আজকে আমরা উন্নতি করতে পেরেছি। তিনি বলেন, পুলিশকে আরও জনগনের কাছে পৌঁছাতে হবে। সামান্য কারনে যেন ভুল বোঝাবুঝির কারনে কোন জনগন কষ্ট না পায়। কারন, জনগনের উপকারার্থেই পুলিশ এটা ভুলে গেলে চলবে না।

তিনি পুলিশকে জনতার প্রকৃত বন্ধু হতে আহবান জানান।

ক্রাইম ডায়রি///জাতীয়

Total Page Visits: 66252

পাকিস্তানি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তঃঃ দুই পাইলট নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর নিয়মিত প্রশিক্ষণের একটি যুদ্ধবিমান (এফটি-৭) বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশের মিয়ানওয়ালি জেলায় এ ঘটনা ঘটেছে।

পাক বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন বাহিনীটির স্কোয়াডন লিডার হারিস বিন খালিদ অন্যজন ফ্লাইং অফিসার ইবাদুর রহমান।

বিমানবাহিনীর সদর দফতর থেকে দুর্ঘটনার কারণ অনুন্ধানে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত কারণ অনুন্ধানের জন্য আদেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে সর্বশেষ বিমান দুর্ঘটনা ঘটে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে। পাঞ্জাব প্রদেশের গুজরানওয়ালা জেলায় সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান ধানক্ষেতে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। সে সময় দুই পাইলট প্রাণে বেঁচে যান।

ক্রাইম ডায়রি//সুত্র-ডন///অনলাইন

Total Page Visits: 66252