• সোমবার (বিকাল ৩:৫৩)
    • ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

উত্তাল জাবি ক্যাম্পাসঃ ভিসির অপসারনের দাবীর পক্ষে-বিপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

জাবি ক্যাম্পাস সংবাদদাতাঃ

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যাপীঠ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর হল ত্যাগের যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তাতে বিপাকে পড়েছেন ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা। হঠাৎ করে হল বন্ধের ঘোষনায় রাজশাহী, খুলনা, বরিশালের মতো দূরবর্তী অঞ্চলগুলোর শিক্ষার্থীরা চাইলেও এতো অল্প সময়ের মধ্যে হল ত্যাগ করতে পারবে না। এজন্য তারা বিক্ষোভ মিছিল করে প্রশাসনকে হঠাৎ বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার দাবি জানিয়েছেন। খালেদা জিয়া হল ও নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের মেয়েরা ভ্যাকান্ডকে (হল বন্ধের সিদ্ধান্ত) প্রত্যাখ্যান করে হলে থাকার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।

এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে একদল ছাত্র ছাত্রী।। আন্দোলনরতদের দাবী তারা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২ টা থেকে সোয়া বারোটা পর্যন্ত ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থানরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর এ হামলার ঘটনা  ঘটে। এতে ৮ শিক্ষকসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছে। এছাড়া দায়িত্ব পালন করার সময় চার সাংবাদিককেও মারধর করে আহত হয়েছে। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে ।

গুরুতর আটজনকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানান জাবির চিকিৎসক ডা. রেজওয়ানুর রহমান। আহত শিক্ষকরা হলেন- অধ্যাপক সাইদ ফেরদৌস, মীর্জা তাসলিমা সুলতানা, অধ্যাপক রায়হান রাইন, অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক, সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ, অধ্যাপক শামীমা সুলতানাসহ আরো কযেকজন।

মারধরে আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে-৪৪ তম আবর্তনের দর্শন বিভাগের মারুফ মোজাম্মেল, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের মাহাথির মুহাম্মদ, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সাইমুম ইসলাম, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের রাকিবুর রনি,ইংরেজি বিভাগের আলিফ মাহমুদ,অর্থনীতি বিভাগের উল্লাস, দর্শন বিভাগের রুদ্রনীল, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সৌমিক বাগচীসহ আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী। এছাড়া ৪৪তম আবর্তনের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ছাত্রী ছন্দা ও ৪৭ ব্যাচের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাউদা নামের দুই নারী শিক্ষার্থীকেও মারধর করতে দেখা গেছে।

হামলার বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন,‘আমরা শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস চাই। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শিবির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ আছে। আমরা কোউকে মারিনি। আমরা শুধু অবস্থান করেছি।

হামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ.স.ম. ফিরোজ-উল-হাসান বলেন,‘ঘটনাস্থলে মব তৈরি হয়েছিল। চেষ্টা করেও আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। বড় ঘটনা এড়াতে আমরা তৎপর আছি।’

মারধরের ঘটনার আধাঘন্টা পর বাসভবনের গেইট ফাঁকা হলে ভিসি ফারজানা ইসলাম তার সমর্থক শিক্ষকদের সাথে নিয়ে তার কার্যালয়ে যান। কার্যালয়ের সামনে ভিসি সংবাদ সম্মেলনে বলেন,‘আমার সহকর্মী ও ছাত্রলীগ কর্মীদের এ গণঅভ্যুত্থানের জন্য ধন্যবাদ। ছাত্রলীগের হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করলে ভিসি বলেন,‘ছাত্রলীগ এতদিনে ছাত্রত্বের পরিচয় দিয়েছে। আমরা ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ জানাই।’

এরপর দুপুরে এক সিন্ডিকেট সভা ডেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন এবং হলগুলোকে ভ্যাকান্ড(খালি) করতে বলা হয়। বিকাল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে সকলকে হল ছাড়তে বলা হয়।এই ঘোষণার পরে আবারও উত্তাল হয়ে পড়ে জাবি ক্যাম্পাস। আন্দোলনকারীরা এই বন্ধ ঘোষণাকে দুর্বলতার পরিচয় দাবি করে সমগ্র ক্যাম্পাসে মিছিল করে। পরে ক্যাম্পাসের বাস আটকানোর চেষ্টা করে।

এদিকে হল ভ্যাকান্ড হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বন্ধের বিষয়ে মেয়েদের হলগুলো বেশি প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। তারা বিক্ষোভ মিছিল করে এবং প্রশাসনকে হঠাৎ বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বলে। মেয়েদের খালেদা জিয় হল ও নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের মেয়েরা ভ্যাকান্ডকে প্রত্যাখ্যান করে হলে থাকার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। এদিকে জাবিতে আন্দোলনে হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদ বিক্ষোভের তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভিসি অপসারণ দাবিতে সোমবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে ভিসির বাসভবন ঘেরাও করেছে রেখেছিলেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

ক্রাইম ডায়রি//শিক্ষাঙ্গন///ক্রাইম

Total Page Visits: 66253

ধনী দরিদ্র সকল মানুষের বীমা থাকা প্রয়োজন—- বঙ্গকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

মোঃ হেলাল উদ্দিনঃ

বঙ্গকন্যা জননেত্রী  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বীমা শিল্পকে মানুষের জন্য ব্যবহার করার ব্যাপারে বীমা কোম্পানিগুলোর প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছেন, প্রতারণা ও হয়রানী থেকে বীমা গ্রাহকদের রক্ষা করতে একটি ঐক্যবদ্ধ বার্তা প্রদান প্লাটফর্ম চালু করা দরকার। বীমা কোম্পানিগুলো মানব কল্যাণে এবং উৎপাদন ও ঝুঁকিমুক্ত অর্থনীতি গড়ে তুলতে তাদের বীমা কোম্পানি ব্যবহার করবে বলে প্রধানমন্ত্রী  আশা প্রকাশ করেন। ০৫ নভেম্বর,২০১৯ইং বিকেলে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত বীমা সংক্রান্ত ১৫তম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

মিউনিক রি ইন্স্যুরেন্স এবং মাইক্রোইন্স্যুরেন্স নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন তিনদিন ব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

৪২টি দেশের প্রায় চার শতাধিক বিশেষজ্ঞ এবং প্রতিনিধিগণ এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন।

বঙ্গকন্যা  বলেন, তথ্যের অপ্রাপ্যতা বীমা গ্রাহকদের জন্য বড় সমস্যা। তিনি বলেন, বীমা শিল্পে গ্রাহকদের আস্থার অভাব রয়েছে। কারণ তারা যতো গুলো বীমা কিস্তি জমা দিয়েছে, তার সবগুলো কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে আদৌ জমা হয়েছে কি-না, সে ব্যাপরে অন্ধকারেই থেকে যায়। এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে একটি ঐক্যবদ্ধ বার্তা প্রদান প্লাটফর্ম চালুর প্রক্রিয়া চলছে।’

]

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ,  অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স ডেভেলপমেন্ট রেগুলেটরি অথরিটির চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারী ।মিউনিখ রি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান টমাস লোস্টার এবং মাইক্রোইন্সুরেন্স নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান ডবল চেম্বারলিনও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদিও ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য আমরা কর্মসূচি হাতে নিয়েছি এবং আপনারা জানেন আমরা বাংলাদেশের জন্য ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বাংলাদেশকে জলবায়ু ঝুঁকির থেকে মুক্ত করে মানুষের জীবন-মান যাতে উন্নত হয় সেই লক্ষ্যকে সামনে নিয়েই আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি আমাদের যারা স্বল্প আয়ের মানুষ, যারা এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করেন তাঁদের অর্থিক ক্ষতি কিভাবে মেটানো যায় এবং তাঁদের জীবনকে কিভাবে নিরাপদ করা যায়। আর বিশেষকরে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য তাঁদের জন্য বিশেষ বীমা স্কীম যদি করে দেওয়া হয় তাহলে তাঁরা অনেকটাই নিশ্চিত থাকতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ধরনের যদি বীমা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাহলে সেটা একটা নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যেটা জলবায়ু পরিবর্তন জনিত যে সমস্ত ঝুঁকি শুধু বাংলাদেশে নয়, বিভিন্ন ব-দীপ অঞ্চল বা অন্যান্য দেশগুলোতে রয়েছে সেদেশের জনগণও লাভবান হবে।’

সম্প্রতি কিছু দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে সে ব্যবস্থা বাংলাদেশেও নেওয়া যেতে পারে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রবাসী কর্মীদের জন্য বীমা প্রবর্তনের লক্ষ্যে ‘প্রবাসী কর্মী বীমা নীতিমালা’ জারি করা হয়েছে। এতে প্রায় ১২ মিলিয়ন কর্মীর বীমা ঝুঁকি গ্রহণ সম্ভব হবে। এ বীমার আওতায় একজন প্রবাসী কর্মী সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকার বীমা সুবিধা পাবেন বলে উল্লেখ করেন বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা।

 

অন্তর্ভুক্তিমূলক বীমা নিশ্চিতের জন্য বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণে তাঁর সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
‘সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা অনুযায়ী প্রাকৃতিক ঝুঁকিপ্রবণ দেশ হিসাবে বাংলাদেশের অবস্থান ৭ম’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর সরকার হাওড় অঞ্চলে আকষ্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের আর্থিক ক্ষতি নিরসনের জন্য ‘কৃষি বীমা’ চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে।

বীমা দাবি নিষ্পত্তি বীমা শিল্পের একটি পুঞ্জিভূত সমস্যা উল্লেখ করে এ সমস্যা থেকে বীমা শিল্পকে বের করে আনা এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ও উল্লেখ করেন সরকার প্রধান।

তিনি বলেন, ‘বীমা শিল্পে বিগত ২ বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার বীমা দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। দাবি নিষ্পত্তিতে কর্তৃপক্ষের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় থাকায় দাবি নিষ্পত্তির হার পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।’
জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে বীমা মেলার আয়োজন, উন্নয়ন মেলায় বীমা কোম্পানিগুলো অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি বিভাগীয় শহরে জনসচেতনতা বাড়োনোর উদ্দ্যেশ্যে দিনব্যাপী সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, উঁচু ভবনে অগ্নিকা- থেকে সৃষ্ট ঝুঁঁকির আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ভবন বীমা প্রচলন এবং বেসরকারি কোম্পানিগুলোর মধ্যে যে সকল কোম্পানি এখন পর্যন্ত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি এমন ২৭টি বীমা কোম্পানির তালিকাভুক্তির জন্য ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেধে দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বীমা শিল্পে লেনদেনে স্বচ্ছতা আনার জন্য ১০ হাজার টাকার উর্ধ্বে সকল লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পাদনের নির্দেশনা জারি এবং সকল বীমা কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইট হালনাগাদ করে অনিষ্পন্ন বীমা দাবির তালিকা প্রদর্শন করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

সেইসাথে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, জীবন বীমা কর্পোরেশন, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমির সক্ষমতা বৃদ্ধি, অটোমেশন ও মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে ৬৩২ কোটি টাকার প্রকল্পের কার্যক্রম ২০১৮ সাল থেকে চলমান রয়েছে,বলেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিতা-মাতার অবর্তমানে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার জন্য ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বীমা’ প্রবর্তনের কাজ চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তৎকালীন আলফা ইন্স্যুরেন্সে আঞ্চলিক প্রধান হিসেবে যোগদানের তারিখ ১লা মার্চকে ‘জাতীয় বীমা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাবটি বিবেচনাধীন রয়েছে,জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আশা করি, এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত বিশেষজ্ঞগণ পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ে ভূমিকা রাখবেন যা মূলত অন্তর্ভুক্তিমূলক বীমার মাধ্যমে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও ফলপ্রসু এবং বাস্তবমুখী কর্মসূচি প্রণয়নে সহায়তা করবে।’ বীমাশিল্পের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সংশ্লিষ্টতার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ভাষণে বীমা শিল্পের উন্নয়নে জাতির পিতা গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপেরও উল্লেখ করেন।

 

বঙ্গকন্যা  শেখ হাসিনা  বলেন, ‘আমাদের পারিবারিক সংশ্লিষ্টতা বেশ পুরানো। আমার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একসময় বীমা কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।’

‘এজন্য স্বাধীনতার পর সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তিনি বীমাশিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু উপলদ্ধি করতে পেরেছিলেন বীমাশিল্পের জন্য এ্যাকচুয়ারির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,’যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনকালে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে দেশের একমাত্র এ্যাকচুয়ারি শাফাত আহমেদ চৌধুরীকে লন্ডন থেকে দেশে ডেকে আনেন এবং কন্ট্রোলার অব ইন্সুরেন্স পদে নিয়োগ দান করেন।

আওয়ামীলীগ   সরকারের দারিদ্র হ্রাসে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পেছনে বীমা খাতের অবদান রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বীমা খাত সমাজের সকল শ্রেনির মানুষের নিকট থেকে সঞ্চয় সংগ্রহের মাধ্যমে বিনিয়োগ সৃষ্টিতে সহায়তা করে। এর মাধ্যমে কর্মক্ষেত্র তৈরি হয় এবং দারিদ্র্যে দূর হয়।’

‘ব্যক্তি, পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক খাতের অদৃশ্য ঝুঁকি হ্রাসে বীমাশিল্প সহায়তা করে’ উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ খাতের জন্য তহবিল সৃষ্টিতে সহায়তা করে।’‘কাজেই ধনী, দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য বীমা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৩৮ সালে প্রণীত বীমা আইনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে তাঁর সরকার ‘বীমা আইন ২০১০’ চালু করেছে এবং পূর্বের কন্ট্রোলার অব ইন্স্যুরেন্স অধিদপ্তর অবলুপ্ত করে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বা আইডিআরএ আইন ২০১০ প্রণয়ন করেছে।

‘টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে (এসডিজি) অর্থনৈতিক কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে উল্লেখ করে এর মাধ্যমে দেশের নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর উন্নতি সাধন সম্ভব হবে’, বলেন প্রধানমন্ত্রী। বিআইএ সভাপতি শেখ কবির হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সংগঠনের সহসভাপতি রুবানা হামিদ স্বাগত বক্তৃতা করেন।

সূত্র: বাসস// ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 66253