• সোমবার (দুপুর ২:৪৩)
    • ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সাভারে দুদকের অভিযানঃ অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

সারাদেশে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  সাভারে বিপুল পরিমাণ অবৈধ গ্যাসের সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। দুদক সুত্রে জানা গেছে, এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে অভিযোগ আসে, একটি সংঘবদ্ধ অবৈধ চক্র, তথা ঠিকাদার ও স্থানীয় দালালরা প্রতিটি শিল্পকারখানা ও বাড়ির মালিকদের নিকট হতে টাকা নিয়ে অবৈধ সংযোগ প্রদান করেছেন। ফলে, বৈধ গ্যাস সংযোগগুলিতে গ্যাস-সংকট তৈরি হওয়া ছাড়াও সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তৎপ্রেক্ষিতে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এর একটি এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান পরিচালনা করে অভিযোগের সত্যতা পায়। দুদক টিমের পর্যবেক্ষণের প্রেক্ষিতে সাভারে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃক পরিচালিত অভিযানে আশুলিয়ার কাঠগড়ার আমতলা এলাকায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবৈধভাবে নেওয়া ১৮০০ আবাসিক গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এছাড়া ট্রেস কোয়ালিটি নামক এক শিল্প কারখানার গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//দুদক

Total Page Visits: 66252

নারায়নগঞ্জে আটকে পড়া শিশুকে উদ্ধারে অভিযান অব্যহত

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

 

নারায়ণগঞ্জের বাবুরাইলে  ধ্বসে পড়া ভবনের ভেতরে আটকে পড়ে থাকা শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে দমকল বাহিনীর একটি চৌকস ইউনিট।

০৩ নভেম্বর,২০১৯ইং রোববার বিকেলে বাবুরাইল এলাকায় ওই ভবনটি হঠাৎ ধসে পড়লে শিশুটি এর ভেতরে আটকে পড়েছে বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা। শিশুটির নাম ইফতেখার আহমেদ ওয়াজিদ। তার বয়স ১২ বছর।  শিশুটি এখনো বেঁচে আছে কি না, সেটা এখনো স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছেনা।

ফায়ার সার্ভিস সুত্রে জানা গেছে , ভবনটির ঠিক কোন জায়গাটিতে শিশুটি রয়েছে সেটা নিশ্চিত হতে পারেনি তারা। তবে শিশুটিকে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে এবং রোববার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এই উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত আছে।

শিশুটির বাবা মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম রুবেল সাংবাদিকদের ও বিবিসিকে জানান, তার ষষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া ছেলে প্রতিদিন ওই ভবনে আরবি পড়তে যেত। রোববারও গিয়েছিল। বিকেলে পড়া শেষে সে বেরিয়েও গিয়েছিল। কিন্তু সে ভেতরে ফেলে আসা কোরআন শরিফ আনতে আবার ফিরে যায় ভবনটির ভেতরে। এরই এক পর্যায়ে ভবনটি ধসে পড়ে। এরপর থেকে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তার বাবা। শিশুটির মা বলেন, “আমি আমার ছেলেকে জীবিত চাই। ওরে বের করেন। ওর শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।”এই ভবন ধসের ঘটনায় কমপেক্ষ একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরো চারজন।

ভবনটি ধসে পাশের খালের ভিতর  গিয়ে পড়ে যায়।

এই ভবনটি চারতলা।  ভবনটির তিন তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ আগেই  শেষ হয়েছিল।  সম্প্রতি চতুর্থ তলার নির্মাণ কাজ চলছিল। এরই মধ্যে এই দূর্ঘটনার ঘটনা ঘটল। শিশুটির  আটকে পড়া নিয়ে পুরো এলাকায় উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।।

ক্রাইম ডায়রি//জেলা//   চলতি পথে

Total Page Visits: 66252

ঝালকাঠিতে আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারী চেয়ারম্যান ও মেম্বার সহ ১৫ জনের তালিকা প্রকাশ

ইমাম বিমান,, ঝালকাঠি হতেঃ

ঝালকাঠিতে নব্য আওয়ামীলীগ তথা হাইব্রিড বা অনুপ্রবেশকারী তিন ইউপি চেয়ারম্যান ও ৭জন মেম্বর (ইউপি সদস্য) সহ ১৫ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে আওয়ামীলীগ।

বিভিন্ন দল থেকে এসে আওয়ামীলীগ ও তার অংঙ্গ সংগঠনে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল সহ রাজনৈতিক ব্যানার ব্যবহার করে দলীয় কোন্দল, অরাজকতা সৃষ্টি ঠেকাতে আওয়ামীলীগে শুদ্ধি অভিযানের ধারাবাহিকতার প্রভাব এবার ঝালকাঠিতে। আর এই অভিযানের তালিকায় নব্য অাওয়ামীলীগ তথা হাইব্রিড বা অনুপ্রবেশকারীর বাছাইয়ে ঝালকাঠি জেলার ঝালকাঠি-নলছিটি ২ আসনের তালিকা প্রকাশ করেছে আওয়ামীলীগ। আর এ তালিকায় ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলার তিনজন ইউপি চেয়ারম্যান ও সাতজন মেম্বর সহ মোট ১৫ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।

তালিকাভুক্ত তিনজন চেয়ারম্যান হলো ঝালকাঠি সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ এর যুগ্ন সাধারন সম্পাদক এবং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সভাপতি ও বর্তমান সদর উপজেলাধীন ৮নং ধানসিঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম জাকির হোসেন। যিনি অনুপ্রবেশের পূর্বে সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন। বর্তমান নলছিটি উপজেলা আওয়ামীলীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৩ নং কুলকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান এইচ এম আখতারুজ্জামান বাচ্চু। যিনি অনুপ্রবেশের পূর্বে ছিলেন পৌর সভাপতি বাংলাদেশ ছাত্র শিবির নলছিটি এবং পরবর্তী তে জামাত ইসলাম এর সাথী সদস্য, পর্যায়ক্রমে  ফ্রিডম পার্টির উপজেলা সভাপতি। বর্তমান ২ নং মগড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি এবং ইউপি চেয়ারম্যান মো : এমানুল হক শাহীন; যিনি অনুপ্রবেশের পূর্বে  জাতীয় পার্টির ইউনিয়ন সভাপতি ছিলেন।

তালিকাভুক্ত সাতজন ইউপি সদস্যদের মধ্যে একই ইউনিয়নে চার জন ইউপি সদস্য ও অপর আরেক ইউনিয়নের তিন জন।  তারা হলেন, ৪ নং কেওড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলগের সেক্রেটারি এবং ৪ নং কেওড়া ইউনিয়নের বর্তমান ইউপি সদস্য
শাহ আলম মীর বহর। অনুপ্রবেশের পুর্বে ছিলেন বিএনপি কর্মী। ৪ নং কেওড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সাধারন সম্পাদক ইউনিয়নের বর্তমান ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বর। অনুপ্রবেশের পুর্বে ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। ৪নং কেওড়া ইউনিয়নের বর্তমান ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক এবং বর্তমান ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুম হাওলাদার যিনি অনুপ্রবেশের পূর্বে ছিলেন,
কেওড়া ইউনিয়ন বিএনপির ৫ নং ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক। ৪ নং কেওড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর গ্রাম বিষয়ক সম্পাদক ও ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাকির হোসেন তালুকদার যিনি অনুপ্রবেশের পুর্বে ছিলেন একই ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারন সম্পাদক। নলছিটি উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের ইউপি সদস্য ও বর্তমানে ইউনিয়ন আওয়ামীলগ সদস্য মাহবুব আলম আকন। যিনি অনুপ্রবেশের পুর্বে ছিলেন বিএনপির কর্মী। নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি ও নাচনমহল ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন যিনি অনুপ্রবেশের পূ্র্বে ছিলেন বিএনপির যুবদলের সদস্য। নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ কর্মী ও নাচনমহল ইউপি সদস্য জলিল হাওলাদার যিনি অনুপ্রবেশের পুর্বে বিএনপির কর্মী ছিলেন। এছাড়াও অপর ৫জন হলেন খাগড়াখানা গ্রামের মিজান খলিফা বর্তমান আওয়ামী লীগ কর্মী যিনি অনুপ্রবেশের পূর্বে ছিলেন ওয়ার্ড যুবদলের সাধারন সম্পাদক। হারদল গ্রামের আল আমিন হাওলাদার বর্তমান আওয়ামীলীগ কর্মী যিনি অনুপ্রবেশের পুর্বে ছিলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ইউনিয়ন সাধারন সম্পাদক। গোবিন্দপুর গ্রামের এম এ নান্না মিয়া বর্তমান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক যিনি অনুপ্রবেশের পুর্বে ছিলেন, ইউনিয়ন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি। ডেবরা গ্রামের মামুন হাওলাদার বর্তমান ইউনিয়ন যুবলীগ সদস্য যিনি অনুপ্রবেশের পূর্বে ছিলেন, জামায়েত ইসলামী সদস্য। ডেবরা গ্রামের বশির হাওলাদার বর্তমান আওয়ামীলীগ কর্মী যিনি অনুপ্রবেশের পুর্বে ছিলেন বিএন পির কর্মী।

এ বিষয় আওয়ামীলীগের একাধিক ত্যাগী কর্মীরা জানান, সরকার ক্ষমতায় আসার পরে এরা দল বদল করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে রয়েছে। জন্ম থেকে যারা আওয়ামী লীগ দল করছে তারা কিছুই পাইনি। তাদের কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে বলে একাধিক কর্মীরা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ কর্মী জানান ,আমরা ছোটবেলা থেকে দল করে কিছুই পাইনি। যারা নব্য হাইব্রিড আওয়ামীলীগে যোগ দিয়ে টাকার কুমির হয়েছে। তাদের কাছে আমাদের কোন মূল্য নেই। আমরা দলকে ভালোবেসে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দল করি। আমরা অনুপ্রবেশকারীর দলের নয়। সারাজীবন দল করে আমরা সঠিক মূল্যায়ন পাইনি। যেদিকে তাকাই দেখা যায় অনুপ্রবেশকারী সংখ্যা বেশি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের অনুরোধ এই অনুপ্রবেশকারীদের হটিয়ে জন্ম থেকে যারা আওয়ামী লীগ দলকে ভালোবাসে দলের দুঃসময়ে মাঠে ছিল তাদের সঠিকভাবে তদন্ত করে মূল্যায়ন করার জন্য অনুরোধ করছি।

অনলাইন ডেস্ক///জেলা//বিমান

Total Page Visits: 66252