• রবিবার (সকাল ৭:৪২)
    • ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বিসিকের হেড অফিসে চলছে মধুমেলা

মোঃ হেলাল উদ্দিনঃ

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)  ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উৎসাহ দিয়ে সামনে দিকে এগিয়ে নিয়ে যুগোপযোগী ব্যবসায়ী তৈরির ক্ষেত্রে দারুণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীন জনগোষ্ঠীর        -এর আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মৌচাষ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগে মতিঝিলস্থ বিসিক ভবন চত্বরে ২৭ হতে ৩১ অক্টোবর ২০১৯ পর্যন্ত ৫ দিনব্যাপী মধুমেলা-২০১৯ আয়োজন করা হয়েছে।

২৭ অক্টোবর ২০১৯ তারিখ রোববার বেলা ৩.৩০টায় বিসিক ভবনের নীচ তলায় (১৩৭-১৩৮ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০) বিসিক পরিচালক (বিপণন ও নকশা) মোঃ মাহবুবুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে মধুমেলার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিকের প্রধান নকশাবিদ (ভাঃ) মোঃ রাহাত উদ্দিন।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন বিসিক দেশব্যাপী ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প খাতের উন্নয়নে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন ধরনের সেবা-সহায়তা প্রদান করে আসছে। পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিতে মৌচাষের মাধ্যমে মধু উৎপাদন বৃদ্ধির কার্যক্রমও পরিচালনা করছে। ১৯৭৭ সাল থেকে বিসিক মৌচাষের কার্যক্রম গ্রহণ করে। দেশে বর্তমানে দুই প্রজাতির যথা, অ্যাপিস মেলিফেরা এবং অ্যাপিস সেরেনা বা দেশজ প্রজাতির মৌমাছি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৌবাক্সে চাষ করা হয়। মধু উৎপাদন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সফল পরাগায়নের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ দু প্রজাতির মৌমাছি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৌবাক্সে চাষ করা প্রয়োজন। ফসলের মাঠে মৌমাছিরা বিচরণ করে সেখানে বাড়তি পরাগায়নের কারণে ফসলের উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

অনুষ্ঠানের আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মৌমাছি পালন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক খন্দকার আমিনুজ্জামান বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দেশব্যাপী মৌচাষে মৌচাষীদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে মধু উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মানুষের আয়বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব। এই কার্যক্রম পালনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিসিক দেশব্যাপী প্রায় ১৮ হাজার নারী ও পুরুষকে আধুনিক পদ্ধতিতে মৌ-চাষ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। তাছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মৌচাষ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার লোককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের অনেকেই বর্তমানে মৌ চাষের মাধ্যমে মধু উৎপাদনে যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। মৌ-চাষীদের উৎপাদিত মধুর ব্যাপক পরিচিতি ও বাজার সৃষ্টি এবং মধু ব্যবহার সম্পর্কে মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এই মধুমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিসিক পরিচালক (প্রযুক্তি) ড. মোহা: আব্দুস ছালাম ও বিসিক পরিচালক (প্রকল্প) মোহাম্মদ আতাউর রহমান ছিদ্দিকী, মৌচাষ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবাদুল্লাহ আবজাল।

দেশের বিভিন্ন এলাকার মৌ-চাষীদের উৎপাদিত মধু বিক্রি ও প্রদর্শনের লক্ষ্যে মেলায় ২৮ টি স্টল স্থান পেয়েছে। মেলা চলবে ২৭ হতে ৩১ অক্টোবর ২০১৯ পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯.০০ টা থেকে বিকাল ৫.০০ টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

ক্রাইম ডায়রি//শিল্প বানিজ্য

Total Page Visits: 66752