• শনিবার ( সকাল ৬:২২ )
    • ১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

পল্টিবাজ ও ভুঁইফোঁড় যুবলীগের জিকে শামীম দেহরক্ষীসহ গ্রেফতার

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

শেখহাসিনার চাওয়া যেন বঙ্গবন্ধুর চাওয়ার প্রতিফলন। তিনি চাইতেন দুর্নীতিমুক্ত আওয়ামীলীগ। শেখ হাসিনাও তাই চান।পুরো দেশবাসী তাই চায়।আমরাও চাই।।। দুর্নীতিবাজরা কারো বন্ধু নন।তারা ধান্দাবাজ ও পল্টিবাজ।।। ক্ষমতার পালা বদলে তারাও দল পাল্টান।

ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক সহসম্পাদক কেন্দ্রীয় যুবলীগের সমবায় বিষয়ক সম্পাদক এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে তার ছয় দেহরক্ষী সহ আটক করেছে র‌্যাব। যুবদল হতে যুবলীগ।

ভুঁইফোঁড় যে কোন সংগঠনের জন্য কত বড় বিষফোঁড়া তা এবার হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছে আওয়ামীলীগসহ৷ সকল রাজনৈতিক দল।।।সকাল বিকাল যারা নীতি পরিবর্তন করেন তারা ধান্দাবাজ না হয়ে পারেন না।

শামীমকে গ্রেফতারের সময় রাজধানীর নিকেতনে তার ব্যবসায়িক কার্যালয় জি কে বিল্ডার্স থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ নগদ ১০ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমানে এফডিআর ও ডলার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) জব্দ করা হয়েছে।

রাজধানীর নিকেতন থেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া ওরফে জি কে শামীমকে একাধিক দেহরক্ষীসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার দুপুরে নিকেতনে শামীমের ব্যাবসায়ীক কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ৬ দেহরক্ষীসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।

দেহরক্ষীদের মধ্যে প্রধান দেহরক্ষী শহীদুল মুরাদ কামাল ও জাহিদের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিকেতন ৪ নম্বর রোডের ১১৪ নম্বর ভবনে জিকেবি কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড শামীমের বাণিজ্যিক কার্যালয়। জি কে শামীম যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক। একই সাথে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি।

রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় জি কে শামীম প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবেই পরিচিত। গণপূর্ত ভবনের বেশির ভাগ ঠিকাদারি কাজই জি কে শামীম নিয়ন্ত্রণ করেন। শামীম যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সন্মানদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে শামীম। আফসার উদ্দিন মাস্টার ছিলেন হরিহরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিন ছেলের মধ্যে জি কে শামীম মেজো। বড় ছেলে গোলাম হাবিব নাসিম ঢাকায় জাতীয় পার্টির রাজনীতি করেন। সন্মানদী ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, প্রাইমারি স্কুল ও হাই স্কুল পাস করার পর তাঁদের গ্রামে দেখা যায়নি। ঢাকার বাসাবো আর সবুজবাগ এলাকায় বড় হয়েছেন। গত জাতীয় নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রচারণাও চালিয়েছিলেন শামীম।

তিনি সবসময় ছয়জন অস্ত্রধারী দেহরক্ষী প্রটেকশন নিয়ে চলেন। সবার হাতেই থাকে শর্টগান। গায়ে বিশেষ সিকিউরিটির পোশাক। তাদের একেকজনের উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট। শামীম ছোটখাটো মানুষ হলেও তার ক্ষমতার দাপট আকাশসমান।

 

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কিংবা যুবলীগের পার্টি অফিস, বিয়ে বাড়ি কিংবা বন্ধুর বাড়ি, যেখানেই তিনি যান, সঙ্গে থাকে অস্ত্রধারী প্রটোকল বাহিনী। ভারী অস্ত্র নিয়ে ছয়জন নিরাপত্তারক্ষী আগে-পিছে পাহারা দিয়ে তাকে নিয়ে যান। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন জি কে শামীম।

বাসাবো এলাকায় পাঁচটি বাড়ি এবং একাধিক প্লট রয়েছে শমীমের। বাসাবোর কদমতলায় ১৭ নম্বরের পাঁচতলা বাড়িটি জি কে শামীমের। এই বাড়িটি ম্যানেজার হিসেবে দেখাশোনা করেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন সর্দার। শামীম কয়েক বছর বাসাবোর ওই বাড়িতে বসবাস করলেও এখন থাকছেন বনানীর ওল্ড ডিওএইচএসে নিজের ফ্ল্যাটে। এবং নিজের কার্যালয় বানিয়ে বসেন নিকেতন এলাকায় একটি ভবনে। বাসাবোতে আরো রয়েছে তিনটি ভবন এবং ডেমরা ও দক্ষিণগাঁও ছাড়াও সোনারগাঁ উপজেলা, বান্দরবান ও গাজীপুরে কয়েক শ বিঘা জমি কিনেছেন তিনি।

বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা অন্যায় অপরাধকে মোটে বরদাশত কটেন না।অন্যায়ের প্রতি আপোসহীন নেত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছে আপামর নাগরিকবৃন্দ।

 

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম

Total Page Visits: 16655