• শনিবার ( সকাল ৬:২৫ )
    • ১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

নোয়াখালীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানঃ তিন হাসপাতালকে জরিমানা

নোয়াখালী অফিসঃ

সারাদেশে ধারাবাহিক  অভিযানের অংশ হিসেবে নোয়াখালী জেলা প্রশাসনেেের  উদ্যোগে নোয়াখালী জেলা শহরে নিরাময়, শমরিতা ও মর্ডান হাসপাতালে অভিযান, ৯০হাজার টাকা জরিমানা ও একজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে , জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব তন্ময় দাস স্যারের তাৎক্ষণিক নির্দেশে নোয়াখালী জেলা শহরের মাইজদি এলাকায় নিরাময় হাসপাতাল, শমরিতা হাসপাতাল ও মর্ডান হাসপাতালে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় দেখা যায়- বিধি অনুযায়ী ডাক্তার, নার্স না থাকা, টেকনিশিয়ান ছাড়া ল্যাব পরিচালনা, হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার কক্ষ অপরিচ্ছন্ন, ফার্মেসীতে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ, অনঅনুমোদিত ঔষধ বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ফার্মেসীতে প্রদর্শন, হাসপাতাল-ল্যাব-ফার্মেসী পরিচালনার লাইসেন্স-এর মেয়াদ না থাকার দায়ে এসব হাসপাতালগুলোকে নব্বই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং মাদকের লাইসেন্স ব্যতীত পেথেডিন ও মরফিন নিজ অধিকারে সংরক্ষণ করার দায়ে নিরাময় হাসপাতাল থেকে মহিবুল্লাহ নামে একজনকে আটক করে নিয়মিত মামলা দায়ের করার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের পরিদর্শক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: রোকনুজ্জামান খান (Ruknuzzaman Khan Rukon)। আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা করেন- সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি ডা. আরাফাত হোসেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দেবানন্দ সিনহা, ড্রাগ সুপার মো: মাসুদৌজ্জামান খান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের পরিদর্শক মো: আনোয়ারুল হক এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সহুযোগিতা করেন সুধারাম মডেল থানা পুলিশ।

নিরাময় হাসপাতালকে ৬৫হাজার, শমরিতা হাসপাতালকে ১০হাজার ও মর্ডান হাসপাতালকে ১৫হাজার টাকাসহ সর্বমোট ৯০হাজার টাকা জরিমানা দন্ড আরোপ করে তা আদায় করা হয়।

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম//আদালত///জেলা

Total Page Visits: 16655

তিন কোটি টাকার বীজ খেলেন ওরা চারজন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

বিএডিসির ঝিনাইদহের দত্তনগর বীজ উৎপাদন খামারের ৩ কর্মকর্তাসহ ৪ জনকে দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন, গোকুল নগর খামারের উপপরিচালক তপন কুমার সাহা, করিঞ্চা থামারের উপ পরিচালক ইন্দ্রজিৎ চন্দ্র শীল, পাতিলা খামারের উপ পরিচালক আকাতারুজ্জামান তালুকদার ও যশোর শেখহাটি বীজ প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রের উপপরিচালক মো. আমিন উদ্দিন।

অসৎ উদ্দেশ্য ও বিধি বহির্ভূতভাবে প্রায় ৩ কোটি টাকার ১২৯ মেট্রিক টন হাই ব্রিড ধান বীজ দত্তনগরের ৩টি খামার থেকে পাচার করে যশোর বীজ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে অবৈধভাবে পাঠানো হয়। উদ্দেশ্য ছিল এ বীজ বিক্রির টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নেওয়া।

বিএডিসির সচিব আব্দুল লতিফ মোল্লা সোমবার এক চিঠিতে তাদের সাময়িক বরখাস্তের এই আদেশ দেন। বিএডিসির ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বরখাস্তকৃত কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো পৃথক পৃথক চিঠিতে বলা হয়েছে- বিধি বহির্ভূতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গোকুল নগর, পাতিলা ও করিঞ্চা বীজ উৎপাদন খামারে ২০১৮/১৯ উৎপাদন বর্ষে কর্মসূচি বহির্ভূত অতিরিক্ত ১২৯ দশমিক ২২ মেট্রিক টন এসএল-৮ এইচ হাইব্রিড জাতের ধান বীজ পক্রিয়াজাত কেন্দ্র যশোরে প্রেরণ করেছেন। আপনি/আপনারা অতিরিক্ত বীজ উৎপাদনের পরিমাণ নিয়মানুযায়ী মজুদ ও কালটিভেশন রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করেননি। এমন কি অতিরিক্ত বীজ প্রেরণের কোন চালান বা তথ্য প্রমাণ খামারে রাখেননি। আপনারা উক্ত ধান বীজ অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেরা আত্মসাৎ করার জন্য সংরক্ষণ ও উৎপাদন বিষয়ক প্রকৃত তথ্য গোপন করেছেন মর্মে প্রতীয়মান হয়। ফলে আপনি বা আপনাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

বিএডিসির যশোর শেখহাটির বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত ১২৯ দশমিক ২২ মেট্রিক বীজ গোপনে বিক্রির জন্য মজুতের বিষয়টি ফাঁস হলে হৈচৈ পড়ে যায়। এ কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক আব্দুল কাদের এ কারচুপির কথা চিঠি লিখে বিএডিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দত্তনগর বীজ উৎপাদন খামারের অধীন গোকুলনগর খামার থেকে ১১৭ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন ও পাতিলা খামার থেকে ৫৯ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন এস এল ৮ এইচ জাতের হাইব্রিড বীজ যশোর শেখহাটি বীজ প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রে পাঠানো হয়। কিন্তু মজুত যাচাই কালে এর অতিরিক্ত ১২৯ দশমিক ২২ মেট্রিক টন অতিরিক্ত বীজ পাওয়া যায়। তদন্তে আসেন বিএডিসির জি এম ( বীজ ) নুরুন্নবী সরদার ও অতিরিক্ত জি এম ( খামার ) তপন কুমার আইচ। তদন্ত শেষে তারা ঢাকায় ফিরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট দেন। তার প্রেক্ষিতে ৪ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে জিএম নুরুন্নবী সরদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘তারা অভিযোগ তদন্ত করে রিপোর্ট দেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ৪ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন।

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম//অপরাধজগত

Total Page Visits: 16655