• বুধবার ( সকাল ৭:০২ )
    • ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

চামড়া ফেলে দিলেন মাদ্রাসা কতৃপক্ষঃঃ ৫০ টাকাও দাম পাচ্ছেননা মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

ঈদের দিন কুরবানির মাঠে গরু কুরবানী দিয়ে বরাবরের মত চামড়া ক্রেতার দিকে তাকিয়ে ছিলেন বিক্রেতারা।৷ কিন্তু দেখা মিলল না দীর্ঘসময়। হ্যা, বগুড়ার শেরপুর থানাধীন ফুডভিলেজ খ্যাত ধনকুন্ডি কুরবানির মাঠের কথাই বলছি। বগুড়া সদর আসনের এমপি এবং শেরপুর ধুনটের চারবার নির্বাচিত এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের বাড়ির কুরবানির মাঠে প্রতিবছরই শতাধিক গরু কুরবানী হয়।।। চামড়া কেনাবেচার জন্য প্রতি বছরই এখানে পাইকাররা আসেন। এবার আসেননি। স্থানীয় কিছু যুবক শুরু করলেও তিন হতে পাঁচশ টাকা দাম বলছিলেন  লক্ষাাাধিক টাকা দামের গরুর জন্য। তাই বেশির লোকই চামড়া মাদ্রাসায় দান করেছেন।কিন্তু মাদ্রাসার হুজুররাও সেই চামড়া পরিবহন করে নিয়ে পরিবহন খরচ তুলতে পেরেছেন কি???           ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দিয়ে সংগ্রহ করা চামড়া আড়তদারদের কাছে ৫০ টাকায়ও বিক্রি করতে পারছেন না মৌসুমি কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা। সবচেয়ে বড় চট্টগ্রামের আতুরার ডিপোসহ,নাটোর,বগড়া,সিরাজগ, রাজশা, টাঙ্গাইল,বরিশাল,সিলেট,পঞ্চগড়সহ দেশের প্রায় সব জেলাতেই  চামড়ার আড়তে এমনটা দেখা যায়।মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এ জন্য আড়তদারদের ‘সিন্ডিকেটকে’ দায়ী করেছেন।

আড়তদারেরা এবার চট্টগ্রামে সাড়ে ৫ লাখ পিস গরুর চামড়া ও ৮০ হাজার পিস ছাগলের চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। আড়তদাররা আশা করছেন চট্টগ্রামে এবার ৪ লাখ গরু, ১ লাখ ২০ হাজার ছাগল, ১৫ হাজারের মতো মহিষ এবং ১৫ হাজারের মতো ভেড়া কোরবানি দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার বাইরে এবার সরকার প্রতি বর্গফুট চামড়ার দর ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। বড় গরুর প্রতিটি চামড়া সাধারণত ১৮ থেকে ২০ বর্গফুট হয়। ছোট গরুর চামড়া সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৫ বর্গফুট পর্যন্ত হয়।

মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭০ শতাংশ চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান আড়তদারেরা। বাকি চামড়া কয়েক দিনের মধ্যে আতুরার ডিপোর আড়তে চলে আসবে বলে তাদের ধারণা।

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সম্পর্কে চট্টগ্রামের আড়তদারদের ভাষ্য- ঢাকার ট্যানারি ব্যবসায়ীরা ঈদের মৌসুমেও পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় তারা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া কিনতে পারছেন না। এছাড়া মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অনেকে আড়তে চামড়া নিয়ে আসতে দেরি করায়, চামড়ার গুণগত মান নষ্ট হয়ে যাওয়াতে অনেক চামড়া কেনা সম্ভব হয় না বলেও জানান তারা।

অন্যদিকে, কাঁচা চামড়া সংগ্রহকারীদের অভিযোগ- এবার কোরবানির চামড়ার বাজারকে কেন্দ্র করে পাইকারি চামড়া ক্রেতা এবং আড়তদারের প্রতিনিধিরা মিলে সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এছাড়া, কোরবানিদাতাদের অনেকেই চামড়ার প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ার কারণে তারা কাঁচা চামড়া এতিমখানায় দিয়েছেন। সিন্ডিকেটের সদস্যরা এতিমখানা থেকে সরাসরি কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছেন।

দেশের বিভিন্ন  এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের ওপর চামড়া রেখে আড়তদারদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কিন্তু আড়তের লোকদের সেগুলো কেনায় কোন আগ্রহ দেখা যায়নি।

 আবার দানপেয়ে চামড়া সংগ্রহ করা হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় সেগুলো সিলেটের  আম্বরখানা এলাকায় রাস্তায় ফেলে দিয়েছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হককে ডেকে এনে এগুলো অপসারণ করার অনুরোধ জানান তারা। মেয়র আরিফ তাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে চামড়া সিন্ডিকেটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ জানান, সারাদিন বাসা-বাড়িতে ঘুরে আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ৮২৬টি গরু ও ২২৭টি খাসির চামড়াসহ মোট ১ হাজার ৫৩টি পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন। পরে সোমবার (১২ আগস্ট) রাতে আম্বরখানায় চমড়াগুলো বিক্রি করতে নিয়ে গিয়েছিলেন মাদ্রাসা শিক্ষকরা। চামড়া ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট তৈরি করে চামড়ার দাম কল্পনাতীতভাবে কমিয়ে দেন। তারা মাত্র ২৫-৩০ টাকা দাম করছিলেন প্রতি পিস চামড়ার। এই দামের চেয়ে বেশি খরচ পড়েছে চামড়াগুলো সংগ্রহ করতে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিশেষ করে মফস্বলে চামড়া পরিবহন করে দুরের বাজারে কিংবা শহরে গিয়ে ভাড়া উঠানো যাবে কিনা সন্দেহে চামড়া ফেলে দিয়েছেন মাদ্রাসার ছাত্ররা।।।।

ক্রাইম ডায়রি /// জাতীয়

Total Page Visits: 17101

১৭ আগষ্ট হতে হজ্বের ফিরতি ফ্লাইট শুরু

রফিকুল ইসলাম, জেদ্দা, সৌদিআরব হতেঃ

সোনার মক্কা মদীনায় থাকতে ইচ্ছে কার না হয়।কিন্তু আসতে নাহি মন চায়,তবুও আসিতেই হয়। হ্যা, হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হচ্ছে আজ। মঙ্গলবার সন্ধার পূর্বে মিনায় অবস্থিত ছোট, মধ্যম ও বড় জামারায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়েই মূলত পাঁচদিনের হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হচ্ছে। এরপর হাজীরা নির্ধারিত ফ্লাইটের অপেক্ষায় মক্কা কিংবা মদিনায় অবস্থান করবেন। নির্দিষ্ট দিনে তারা দেশে ফিরবেন। এবছর বাংলাদেশ থেকে হজ ব্যবস্থার কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাসহ মোট হাজীর সংখ্যা এক লাখ ২৭ হাজার ১৫২ জন। আগামী ১৭ আগষ্ট শনিবার থেকে শুরু হবে হজের ফিরতি ফ্লাইট। আর ফিরতি ফ্লাইট শেষ হবে ১৫ সেপ্টেম্বর। এদিকে বাংলাদেশ থেকে হজে যাওয়ার পর এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ৬৩ জন হাজী সৌদী আরবে ইন্তেকাল করেছেন। সৌদী আরবের হজ অফিসের দেয়া তথ্যমতে মারা যাওয়া হাজীদের মধ্যে মক্কায় মারা গেছেন ৫৬ জন, মদিনায় ৬ জন এবং জেদ্দায় মারা গেছেন এক জন হাজী। বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যাওয়া হাজীদের মধ্যে পুরুষ হাজী ছিলেন ৫৫ জন এবং নারী  হাজী ০৮ জন।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 17101