• শনিবার ( সকাল ৬:২৩ )
    • ১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

আসামে নাগরিক তালিকাঃ বাদ পড়েছে প্রায় বিশ লাখ আদি বাসিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

সেভেন  সিস্টার্স বলে পরিচিত এলাকা    ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের আদি  বাসিন্দাদের নাম  তালিকা (এনআরসি) থেকে বাদ পড়েছে প্রায় বিশ লাখেরও বেশি মানুষের নাম। ৩১আগষ্ট  শনিবার সকালে প্রকাশিত তালিকায় চূড়ান্তভাবে  ৩ কোটি ১১ লাখ মানুষের নাম প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিন হলো আলোচিত ইস্যু   এনআরসি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল ।  অনলাইনে তালিকা প্রকাশের পর অপ্রকাশিত প্রায় বিশ লাখ  মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়ে গেল বলে জানিয়েছে  এনডিটিভি।

এসব মানুষকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে বাদ দেয়া হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মিরের কয়েক দশকের পুরনো স্বায়ত্তশাসন বাতিল করার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই এই এনআরসি তালিকা প্রকাশ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম বৃহত্তম পদক্ষেপ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।এদিকে এনআরসি তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এই রাজ্য যাতে কোনো অশান্তি না ছড়ায় সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি সরকারি স্থানে চার জনের বেশি লোক জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, বিশেষত সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোতে। কেননা এর আগে আসামের গুয়াহাটিসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় এই ইস্যুতে অশান্তি ছড়ায়। আসাম জুড়ে প্রায় ৬০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ২০ হাজার অতিরিক্ত আধা-সামরিক বাহিনীও আসামে পাঠিয়েছে কেন্দ্র।

কেন্দ্র অবশ্য বলেছে, যাদের নাম চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় স্থান পাবে না সমস্ত আইনি বিকল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এখনই বিদেশি ঘোষণা করা যাবে না। এনআরসির বাইরে থাকা প্রতিটি ব্যক্তি বিদেশি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন এবং আবেদন করার সময়সীমা ৬০ থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন করা হয়েছে।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে তাদের পক্ষে যুক্তি শোনার জন্য পর্যায়ক্রমে কমপক্ষে এক হাজার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে; এর মধ্যে ১০০টি ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যেই খুলে দেয়া হয়েছে এবং আরও ২০০টি আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই স্থাপন করা হবে। ট্রাইব্যুনালে কেউ মামলা হারলেও তারা উচ্চ আদালত এবং তারপরে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করতে পারবেন।

ক্ষমতাসীন মোদী সরকার জানিয়েছে  সকল আইনি বিকল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই বিদেশি হিসেবে ঘোষণা করা হবেনা।

ক্রাইম ডায়রি// আন্তর্জাতিক

Total Page Visits: 16655

যশোরে হাসপাতালে ডিউটি অবস্থায় পুরুষ নার্সের আকস্মিক মৃত্যু

ক্রাইম ডায়রি যশোর অফিসঃ

যশোরে একটি হাসপাতালে একজন নার্সের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে  চৌগাছা উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালে।  এসময় কর্তব্যরত অবস্থায় ৩১আগষ্ট শনিবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঐ নার্সের মৃত্যু হয়। মৃত গোলাম হোসেন (৫৫) সদর উপজেলার নওয়াদাগা গ্রামের বাসিন্দা ও ওই হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স (ব্রাদার)। তার স্ত্রী শামসুন্নাহার একই হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত আছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা  ডা. মাসুদ রানা জানান, গোলাম হোসেন কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। সকালে প্রতিদিনের মতো অফিসে এসে তিনি দায়িত্ব পালন শুরু করেন। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গোলাম হোসেন ২০০৯ সালের ১০ নভেম্বর চৌগাছা হাসপাতালে যোগদান করেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে হতভম্ব পুরো হাসপাতাল।।।

ক্রাইম ডায়রি///জেলা

 

Total Page Visits: 16655

অবশেষে জামিন পেল বরগুনা ট্রাজেডির মিন্নিঃ শর্ত নিউজ মিডিয়ার সামনে মুখ খোলা যাবেনা

আদালত প্রতিবেদকঃ

অবশেষে বরগুনার ট্রাজেডির    চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে জামিনের আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ২৯ আগষ্ট বৃহস্পতিবার, বিজ্ঞ  বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। তবে, একটা শর্ত আছে।  সেটা হলো  নিউজ মিডিয়ার সামনে কথা বললে তার জামিন বাতিল বলে গন্য হবে।

উচ্চ  আদালত বলেন, রিফাত হত্যায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি জড়িত থাকার বিষয়ে গণমাধ্যমে কাছে বরগুনা পুলিশ সুপারের দেয়া বক্তব্য দুঃখজনক ও হতাশাজনক । এসপির দেয়া বক্তব্যের বিষয়ে পুলিশের আইজিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আদালত নির্দেশ প্রদান করেন।

প্রায়শঃই, আসামি গ্রেফতার করেই নিউজ মিডিয়ার সামনে হাজির করে অতিউৎসাহী হয়ে বক্তব্য দিতে দেখা যায়।পুলিশকে। আদালত বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আদালত দ্বারা দোষী সাবাস্ত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত কাউকে অপরাধী বলা আইন সমর্থন করেনা। ।তাই, গণমাধ্যমের নিকট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য দেয়া নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেন।

এরআগে, ২৮আগষ্ট বুধবার বিজ্ঞ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে মিন্নিকে জামিন দেয়ার বিষয়ে রুলের শুনানি শেষ করেন। এ সময়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির হাইকোর্টে মামলার তথ্য-উপাত্ত দাখিল করেন। শরীফকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা মামলার প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রধান সাক্ষী তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে কেন জামিন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে এক সপ্তাহের রুলও এর আগে জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। এছাড়া, বরগুনার এসপিকে মিন্নির দোষ স্বীকার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

গত ৫ই আগস্ট হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় মিন্নির পক্ষে জামিন আবেদন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেডআই খান পান্না।

প্রসঙ্গত, গত ২৬শে জুন সকালে প্রকাশ্যে বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে নেয়ার পর সেখানেই রিফাত শরীফ মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। এছাড়া, এঘটনা নিয়ে সাদাপানি ঘোলাসহ পাল্টাপাল্টি নানান বক্তব্য ও সংবাদ সম্মেলনে প্রকৃত পরিস্থিতি আঁচ করা নিয়ে জনগনও দ্বিধাদ্বন্দ্বেে ভুগছিল।।।

ক্রাইম ডায়রি//    আদালত//জেলা

 

Total Page Visits: 16655

চৌকস পুলিশ অফিসার সালেহ ইমরান কর্তৃক বাড়ির মালিক অপহরনকারী টাকাসহ গ্রেফতার

ক্রাইম ডায়রি ডেস্কঃ

বাড়ির মালিক কে অপহরণ পূর্বক ১০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও  হয়ে যেতে চেয়েছিল ভাড়াটিয়া। কিন্তুু বাঁধ সাধল পুলিশের চৌকস অফিসার পিবি আই কর্মকর্তা সালেহ ইমরান। ঘটনাসুত্রে জানা যায়,    ভাড়াটিয়া কর্তৃক অপহৃত হলে ভিকটিমের পরিবার আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করে, পরে বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে থানা থেকে মামলা পিবিআই এ হস্তান্তর করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় অধিক সফলতা ও দেশপ্রেমিক পুুুুলিশ অফিসার হিসেবে আলোচিত এস আই  সালেহ ইমরান। মামলা আসার ৪ দিনের মধ্যে নওগাঁ  থেকে মুল আসামী মোহনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন এই কর্মকর্তা।   গ্রেফতারের পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক নগদ ৫ লাখ টাকা এবং উক্ত টাকা দিয়ে কেনা ২ লাখ টাকার মোটরসাইকেল এবং বিকাশের মাধ্যমে বাদীকে দেয়া ৯০ হাজার টাকা সহ প্রায় ৮ লাখ টাকা উদ্ধার করেন  তিনি।

পি বি আইয়ের এই সফল জনবান্ধব কর্মকর্তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন আশুলিয়ার সর্বস্তরের জনগন।

ক্রাইম ডায়রি//আইন শৃঙ্খলা

Total Page Visits: 16655

প্রাকৃতিক পরিবেশ ঠিক রেখে গ্রামগুলোকে ঢেলে সাজাতে হবে–বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা

ক্রাইম ডায়রি ডেস্কঃ

গ্রামবান্ধব সরকার প্রধান বঙ্গকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,  বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হলে সব ধরনের নাগরিক সুযোগ- সুবিধা নিশ্চিতের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মাধ্যমে সব গ্রামকে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ২৮ শে আগষ্ট   বুধবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি কমপ্লেক্স সংলগ্ন ‘জমি অধিগ্রহণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ পরিকল্পনা’ শীর্ষক উপস্থাপনা প্রত্যক্ষকালে এ কথা বলেন।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল উপজেলা পর্যায়ে নয় ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এমন কী সব গ্রামে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে তার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে কৃষি উন্নয়নেেের  মাধ্যমেই পুরো দেশকে অতি দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাবার যে ভিশন তা  বাস্তবায়নে  আবাদি জমি রক্ষার কথা মাথায় রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, মাশরাফী বিন মর্ত্তুজা, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান, টুঙ্গিপাড়া পৌরসভা মেয়র, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচজন চেয়ারম্যান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকারি প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) ৩৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ভূমি অধিগ্রহণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ পরিকল্পনা’ শীর্ষক চার বছর মেয়াদি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে রাজধানীতে তার কার্যালয়ে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়।

এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমান প্রকল্পটি উপস্থাপনা করেন।

দেশব্যাপী ৩৪৬৫ দশমিক ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে যে চলমান ‘জরুরি নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়)’ চলছে, তার একটি অংশ হিসেবে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী ২৮১টি মিউনিসিপ্যালিটিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

প্রকল্পটির আওতায় সড়ক উন্নয়ন, সেতু, কালভার্ট ও ড্রেন নির্মাণ, ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, খাল খনন, নদী তীর পুনর্নির্মাণ, পুকুর/খাল/বিল সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন, বৃক্ষ রোপণ এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সড়কের পাশে বাতি স্থাপন করা হবে।এ উন্নয়ন কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে শেখ রাসেল শিশুপার্ক (সম্পন্ন), টুঙ্গিপাড়া-পাটগাতি খালের সৌন্দর্যবর্ধন (সম্পন্ন), টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কমপ্লেক্সের পুকুরগুলোর সৌন্দর্যবর্ধন (সম্পন্ন), পাটগাতি কাঁচাবাজার (নির্মাণাধীন), টুঙ্গিপাড়া কাঁচাবাজার (সম্পন্ন) এবং প্রস্তাবিত বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ, গোরস্থানের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন, শেখ রাসেল শিশু পার্কের বিপরীত পার্শ্বে টুঙ্গিপাড়া বাজার মসজিদের পুনর্নির্মাণ (প্রস্তাবিত) এবং টুঙ্গিপাড়া নতুন বাসস্ট্যান্ড নির্মাণাধীন।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়//সুত্রঃঃ বাসস

Total Page Visits: 16655

কাস্টমসে দূর্নীতিঃঃ দুদকের সুপারিশঃঃ দূর্নীতিবাজদের সন্ধানে কাজ করছে দুদক

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

কাস্টমসের বিভিন্ন শাখার একশ্রেণির দূর্নীতিবাজ রাঘব বোয়ালের  চরম সুকৌশলের  দূর্নীতি   আজ লোকমুখে।

(দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের নিয়ে তথ্যবহুল প্রতিবেদন জানতে চোখ রাখুন ক্রাইম ডায়রিতে)   

ব্যাক্তির দূর্নীতির কারনে অনেক নিম্নপদস্থ কর্মী কিংবা কর্মকর্তা নামে বেনামে কিংবা চতুর কৌশলে কোটি কোটি টাকার মালিক। তাদের ব্যক্তিসম্পদ নিজ নামে কিংবা দুঃসম্পর্কিত বন্ধুর নামে লগ্নি করায় কিছুটা ধরা ছোয়ার বাইরে নিজেকে মনে করলেও আসলে তারা দুদকের দক্ষ কর্মকর্তাদের স্পর্শ এরিয়াতেই অবস্থান করছেন। এহেন পরিস্থিতিতে   রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন কাস্টমস, এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট বিভাগে দুর্নীতির ১৯টি উৎস চিহ্নিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধে ২৬ দফা সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট নিয়ে দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক দলের সুপারিশে এসব কথা উঠে এসেছে।

দুদক সূত্র জানায়, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধে বিভিন্ন সংস্থার জন্য দুদকের আলাদা আলাদা দল রয়েছে। কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের দুর্নীতি পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধে সংস্থার পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি আছে। কমিটি সম্প্রতি ওই বিভাগের দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করা ও তা প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তৈরি করেছে। কমিশন তা সম্প্রতি অনুমোদনও করেছে।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য  ক্রাইম ডায়রিকে   বলেন, সম্প্রতি কমিশনের পক্ষ থেকে ওই প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব সারোয়ার মাহমুদের স্বাক্ষরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব বরাবরে পাঠানো হয়েছে।

অপরাধ সাংবাদিকদের প্রতিবেদন ও গোপনীয় তথ্য পর্যালোচনাসহ    কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক দল বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের  সঙ্গে আলোচনা, কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাটসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা, সরেজমিনে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন, গণমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্যাদি এবং কমিশনের গোয়েন্দা উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনায় প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনের সুপারিশের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে ওই প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য কমিশনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত বছরের  ৮ নভেম্বর আয়কর বিভাগে দুর্নীতির উৎস এবং তা প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা পাঠানো হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। তাতে দুর্নীতির ১৩টি উৎস এবং সার্বিক দুর্নীতি প্রতিরোধে ২৩ দফা সুপারিশ ছিল।দুদকের প্রতিবেদনে চিহ্নিত দুর্নীতির উৎসপ্রতিবেদনে বলা হয়, পণ্য আমদানিতে পণ্যমূল্য অবমূল্যায়ন, অতিমূল্যায়ন, পণ্যের বিবরণ, এইচএস কোড, ওজন পরিমাণ, গুণগতমান ইত্যাদি বিষয়ে মিথ্যা ঘোষণা, প্রতারণা এবং একই ধরনের পণ্যের একাধিক চালান প্রস্তুতকরণ কাস্টম হাউসগুলোর ব্যাপক প্রচলিত অনিয়ম। উচ্চকর আরোপযোগ্য পণ্যগুলোর ইনভয়েসে প্রকৃত পরিমাণ/ওজনের চেয়ে কম এবং নিম্নহারে কর আরোপযোগ্য পণ্যের ইনভয়েসে প্রকৃত পরিমাণ/ওজনের চেয়ে বেশি দেখানো হয়। এ ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে আমদানিকারকের ঘোষণা অনুসারে শুল্কায়ন করে ওই সব পণ্য খালাস করা হয়। রেয়াতসংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন বা এসআরওর শর্ত অমান্য এবং আমদানিনীতি, পরিবেশনীতি, অন্য বিধিবিধান ও নীতিমালার শর্ত/নির্দেশনা ভঙ্গ করে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে দুর্নীতি করা হয়।

কাস্টমস আইন-১৯৬৯–এর বিধান অনুসারে আমদানি করা পণ্য এবং খালাস করা পণ্যের চালান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রায়ই সমন্বয় করা হয় না। আমদানি করা মালামাল নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে খালাস না হলে ওই সব মালামাল নিলামের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার বিধান থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে যথাসময়ে তা হয় না।

বিশ্বব্যাপী কাস্টমসের জন্য অটোমেটেড পদ্ধতি চালু থাকলেও বাংলাদেশে কাস্টমস বিভাগ সার্বিকভাবে এখনো এটি চালু করতে পারেনি। এ কারণে কাস্টমস বিভাগের কার্যক্রম ও প্রক্রিয়াগুলো এখনো অস্বচ্ছ এবং সনাতন পদ্ধতিতে হচ্ছে। এ কারণে তা দুর্নীতির প্রবণতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

আমদানিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিলগুলো আমদানিকারক বা এজেন্সিগুলো কর্তৃক প্রায়ই সঠিকভাবে প্রস্তুত করে না। এ কারণে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়।

কাস্টম হাউসের বন্ডগুলোর (শতভাগ রপ্তানি বন্ড/চামড়া খাতের বন্ড/আমদানি বিকল্প বন্ড/কূটনৈতিক বন্ড শিপ/স্টোরস বন্ড ইত্যাদি) ব্যবস্থাপনা মানসম্মত নয়। এতে বিভিন্ন অনিয়ম, ভোগান্তি, কর ফাঁকি, দুর্নীতি ইত্যাদির ক্ষেত্র তৈরি হয়।

সমজাতীয় বা প্রতিদ্বন্দ্বী পণ্যের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক ট্যারিফ কাঠামোর কারণে কাস্টমসসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ, বিরোধ বা মামলার সংখ্যা বাড়ছে। এ কারণে মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে এবং দুর্নীতি বাড়ছে।

প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ্যের অপ্রতুলতা (অপর্যাপ্ত ওজন নির্ধারক/স্ক্যানিং মেশিন, সিসি ক্যামেরা, ফর্ক লিফট, সমন্বিত স্বয়ংক্রিয়তা বা অটোমেশন), কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব, শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থার অপর্যাপ্ত ও অদক্ষ তৎপরতা, গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অভাব এবং পণ্য খালাসের নিরীক্ষা সম্পাদনে অনীহা দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে।

অস্থায়ী আমদানি বিধির আওতায় বিশেষ সুবিধাভোগী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা গাড়িসহ অন্য পণ্যাদি, বিলম্বিত শুল্ক ব্যবস্থার আওতায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য আমদানি করা মালামাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব এবং এ প্রক্রিয়ায় আমদানি করা কোনো কোনো মালামাল পুনঃ রপ্তানির ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়।

ভ্যাট আইন ও বিধিমালায় অসংগতি, যথা: বিবিধ রেয়াত, মূল্য ও ট্যারিফের নিম্ন ভিত্তি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিদ্যমান ভ্যাট পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো এখনো সনাতন পদ্ধতির। এ ধরনের পদ্ধতি উত্তম চর্চাভিত্তিক ভ্যাট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। অনেক সময় রেয়াত নেওয়ার বিপরীতে সঠিক দলিলাদি থাকে না।

পণ্যের শুল্কায়ন চূড়ান্তভাবে সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট আইনে সাময়িকভাবে শুল্কায়নপূর্বক পণ্য ছাড় দেওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে, শুল্ক কর্তৃপক্ষ কোনো কোনো ক্ষেত্রে পণ্য চালান সাময়িকভাবে শুল্কায়নপূর্বক ছাড় দেয়। কিন্তু পরে অনেক ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত শুল্কায়ন করা হয় না। এভাবে দেশের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়।

কাস্টম হাউসগুলোয় ওজন পরিমাপক যন্ত্র, স্ক্যানিং মেশিন, সিসি ক্যামেরা প্রতিনিয়তই অকেজো থাকে অথবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অকেজো করে রাখা হয় মর্মে অভিযোগ আসে। এই সুযোগে অনেক উচ্চ শুল্ক হারের পণ্য কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে আমদানিনিষিদ্ধ পণ্য খালাস করে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকিসহ আন্তর্জাতিকভাবে দেশের সুনাম বিনষ্ট হয় এবং দুর্নীতি হয়।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সঠিকভাবে তদারকি ও নজরদারি না করার ফলে দুর্নীতিবাজ শুল্ক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টেদের অবৈধ সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। ফলে, দেশের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি সুবিধাভোগী দুর্নীতির চক্র তৈরি হয়।

বন্ড কমিশনারেটের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত অডিট সম্পন্ন করা হয় না।

বন্ড লাইসেন্স দেওয়া ও নবায়নে দুর্নীতি হয়। স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে প্রাপ্যতা বাড়িয়ে বা মূল্য কমিয়ে ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউসগুলোতে শুল্কমুক্ত মদ এবং অন্যান্য পণ্য আমদানি করে তা ভুয়া প্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামে বিতরণ দেখিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করে দেয়। এ কারণে দেশের রাজস্ব ক্ষতি হয়। একইভাবে, প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রকৃত প্রাপ্যতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি প্রাপ্যতা দেখানো হয় এবং বেশি প্রাপ্যতাকে ধরেই লাইসেন্সে নবায়ন করা হয়।

আমদানি–রপ্তানিতে কিছু অংশ বাদে বন্ড ওয়্যারহাউস কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ ম্যানুয়ালি করা হয়। নতুন লাইসেন্স ছাড়া আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম সমন্বয় কিংবা অডিট প্রক্রিয়াটি অত্যধিক কাগুজে দলিলনির্ভর, যার অনেক তথ্য যাচাই–বাছাই করার অবকাশ থাকে। ফলে, এ পদ্ধতিতে মানসম্পন্ন অডিট করা প্রায় অসম্ভব। যার সুযোগ বন্ড প্রতিষ্ঠান এবং অসাধু কর্মকর্তারা গ্রহণ করে।

বর্তমান মূসকব্যবস্থায় আদর্শ হারে ১৫ শতাংশ হারে মূসক, ট্যারিফ মূল্য ও সংকুচিত মূল্যে মূসক পরিশোধের বিধান রয়েছে। ট্যারিফ মূল্য ও সংকুচিত ভিত্তি মূল্যে পণ্য/সেবা প্রদানকারীর রেয়াত গ্রহণ করতে না পারায় তারা কাঁচামালের ওপর ভ্যাট পরিশোধ হয়েছে কি না, তা যাচাই করে না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে কাঁচামাল ক্রয় রেজিস্ট্রারে এন্ট্রি না করে মূসক ফাঁকি দিয়ে থাকে।

উৎসে ভ্যাট কর্তনের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব আয়ের ফলে ভ্যাটে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পর্যাপ্ত শ্রম দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে, তাদের লক্ষ্যমাত্রা উৎসে ভ্যাট কর্তনের মাধ্যমে পরিপূর্ণ হওয়ায় তারা ভ্যাটের পরিধি বাড়িয়ে নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন না করে দুর্নীতির দিকে ঝুঁকে যায়। এ ছাড়া ভ্যাট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অবৈধ যোগসাজশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চালান (মূসক-১১) জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহককে প্রতারিত করার মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়।

শুল্ক ও ভ্যাট অনুবিভাগের শুল্ক ও ভ্যাট আদায়সংক্রান্ত নীতিমালা না থাকা এবং নিয়োগ বদলি ও পদোন্নতিতে সুনির্দিষ্ট গাইড লাইনের অভাবে এসব ক্ষেত্রে দুর্নীতি উৎসাহিত হয়।

দুর্নীতি প্রতিরোধে সুপারিশমালারাজস্ব গুরুত্বসম্পন্ন এবং উচ্চ ট্যারিফ হারযুক্ত বাণিজ্যিক পণ্য যাদের ক্ষেত্রে মিথ্যা ঘোষণার প্রবণতা রয়েছে—এমন পণ্যসমূহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টম অনুবিভাগের সদস্যের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ও অংশীজনদের সহযোগিতায় যথাশিগগির সম্ভব চিহ্নিত করে যথাযথ ঘোষণার তথ্য/বিবরণ নির্ধারণ করা যেতে পারে। ইনভয়েস ও প্যাকিং লিস্ট প্রস্তুত এবং বিল অব এন্ট্রি প্রণয়নের সময় যথাযথ ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করা যেতে পারে।

আমদানি–রপ্তানিতে যথাযথ ঘোষণাভুক্ত উপাত্তগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের অনলাইন সিস্টেম এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করে রাখতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় মিথ্যা ঘোষণাকেন্দ্রিক দুর্নীতি কমে যাবে।

অবমূল্যায়ন বা অতিমূল্যায়নপ্রবণতা রোধে ‘ন্যূনতম মূল্য’সংক্রান্ত বিদ্যমান প্রজ্ঞাপন বাতিল যৌক্তিকীকরণ করতে হবে। ঘোষিত পণ্যের পরিমাণ/মূল্য এবং বাস্তব পরিমাণ/মূল্যের মধ্যে গরমিল পাওয়া গেলে দায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা আমদানিকারকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

শুল্ক বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের অনেক ক্ষেত্রে অবারিত স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা রয়েছে। ওই ক্ষমতা পরীক্ষা করে গ্রহণযোগ্য মাত্রায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তাছাড়া বিভিন্ন আটকের মধ্যে কিংবা চোরাচালানের সহযোগীতারও অভিযোগ রয়েছে কারও কারও বিরুদ্ধে। যদিও একদুইবার বড় অংকের দাঁও মেরে অনেকে সেই অর্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেে লগ্নি করে সাধু সেজে বসেছে। অনেকে চাকরিতে ঢুকেই দুএক বছরে এত টাকার মালিক হয়েছে যে দুদকের ভয়ে চাকরি ছাড়ারও প্ল্যান করছে।               

মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সময়ক্ষেপণ দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে। এরূপ কাজের জন্য একটি সময় নির্ধারণ করা এবং নির্ধারিত সময়ে কার্য সম্পাদনে ব্যর্থ হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা ছাড়া বিল অব এন্ট্রি দাখিলের পর আগে এলে আগে মূল্যায়ন ভিত্তিতে মূল্যায়ন শেষ করতে হবে। মূল্যায়ন কার্যক্রম থেকে কোনো বিল অব এন্ট্রিকে সাইড লাইনে পাঠাতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার বিধান রাখা জরুরি।

বন্ডের ভেতরে ও বাইরে এবং পাসবইয়ের তথ্য ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ এবং এসব তথ্যে আলোকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অডিট কার্যক্রম সম্পাদন করা উচিত।

পণ্য আমদানির নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পণ্য খালাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে বিধান অনুযায়ী ওই সব মালামাল নিলামের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে সব প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার মেশিন স্থাপন নিশ্চিত করা এবং আদায় করা ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমার বিষয়টি নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যকর করতে হবে।

পণ্য আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট, অগ্রিম ভ্যাট, অগ্রিম আয়কর প্রভৃতি মিলে তৈরি ট্যারিফ পণ্যের মিথ্যা ঘোষণাকে প্রভাবিত করে বিধায় তা যৌক্তিকীকরণ করতে হবে। তা ছাড়া বর্তমানে শূন্য, ৫, ১০, ২৫ শতাংশ শুল্ককাঠামোতে যেসব পণ্য আছে, তাও যৌক্তিকীকরণ করা প্রয়োজন।

কাস্টমস বিভাগের সোর্স মানি ব্যয় এবং বিভিন্ন উদ্দীপনা পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সব দপ্তরে একই নীতি অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়। সোর্স মানি ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকল্পে প্রতিটি ইউনিটে রেজিস্ট্রার সংরক্ষণসহ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

কল্যাণ তহবিলের মাধ্যমে আর্থিক অব্যবস্থাপনা দুর্নীতির একটি বড় উৎস। এটি রোধকল্পে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং নীতিমালা মোতাবেক স্বচ্ছতার সঙ্গে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এনবিআরের আওতাধীন কাস্টম হাউস, বন্ড কমিশনারেটসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি-পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় অনেক সময় দুর্নীতি হয়। রাজস্ব কর্মকর্তাদের বদলি, পদোন্নতি ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি। কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পদায়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা যেতে পারে। সৎ, মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তাদের কাস্টম হাউস, বন্ড কমিশনারেটসহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পদায়ন করা উচিত।

কাস্টমস ও ভ্যাট উভয় বিভাগের গোয়েন্দা বিভাগকে শক্তিশালী করা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দুর্নীতি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ই-নথি ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে দ্রুত নথি নিষ্পত্তির পাশাপাশি যেকোনো প্রয়োজনে ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে নথির অবস্থান জানা যাবে।

প্রতিটি কাস্টম হাউসের চোরাচালান দমন বিভাগ শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

কাস্টমসসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ, বিরোধ বা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।

এনবিআর প্রদর্শিত রাজস্ব আদায়ের পরিমাণের সঙ্গে অডিট অধিদপ্তর প্রদর্শিত রাজস্ব আদায়ের পরিমাণের পার্থক্য নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

আমদানিকারকদের একটি ডেটাবেইস তৈরি করা প্রয়োজন। যেখানে আমদানিকারকদের বিস্তারিত তথ্য থাকবে। এর ফলে শুল্কায়ন শেষ হলে (শুল্ক-করাদির পরিমাণ) আমদানিকারক ই-মেইল, এসএমএসের মাধ্যমে জানতে পারবেন।

যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম অটোমেটেড সম্পাদনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সেকেন্ড অ্যাপ্রেইজমেন্ট পুরোপুরি বন্ধ করে পিসিএ বাস্তবায়ন শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।

হাতে হাতে কিংবা সশরীরে উপস্থিত হয়ে কাগজপত্র জমা দেওয়ার পদ্ধতি বন্ধ করে অনলাইন পদ্ধতি এবং কাস্টমসের হলরুমে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করলে দুর্নীতি কমে যাবে।

কোনো চালান যে কর্মকর্তা বন্ধ করবেন, তা ওই একই কর্মকর্তা কর্তৃক খোলার বিধান পরিবর্তন করে খোলার ক্ষমতা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ওপর ন্যস্ত করা যেতে পারে।

বন্ড প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহার বন্ধ করতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করার বিকল্প নেই। এর ফলে বন্ডসংক্রান্ত তথ্যে সহজে প্রবেশ করা যাবে। সব তথ্যের ভান্ডার থাকলে এবং সেখানে সহজে প্রবেশাধিকার থাকলে দুর্নীতি কমবে।

ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর অডিট তদারকি করতে হবে। মানসম্পন্ন অডিট নিশ্চিত করতে পারলে বন্ড প্রতিষ্ঠানের অপব্যবহার কমবে, যার ফলে অসাধু কর্মকর্তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ড কমানো সম্ভব হবে।

নতুন বন্ড লাইসেন্স দেওয়ার সময় এবং নবায়নে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে টিম গঠন করা যেতে পারে। বন্ড ব্যবস্থায় আমদানি করা পণ্য যথাযথভাবে বন্ড গুদামে প্রবেশ এবং ইন টু বন্ড হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বন্ড কর্মকর্তা মাসিক প্রতিবেদন দেবেন।

সব ক্ষেত্রে আদর্শ হারে মূসক প্রযোজ্য হবে এবং রেয়াত গ্রহণের সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ট্যারিফ বা সংকুচিত ভিত্তিমূল্য থাকবে না। প্রয়োজনে নিট প্রদত্ত টাকার একটি নির্দিষ্ট অংশ রিফান্ড দেওয়া যাবে—এমন বিধান রাখা যেতে পারে।

তদুপরি এ সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে দুর্নীতির হার কমবে বলে অনেকে মনে করছেন।  তবে দুর্নীতি করে ইতোমধ্যে যারা টাকার পাহাড় গড়েছেন  তাদেরকে দুদকের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হলে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে পরবর্তী বহুবছর দুর্নীতি করার প্রতি অনাগ্রহ সৃষ্টি হবে নতুন প্রজন্মের কর্মকর্তাদের।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম///অপরাধজগত//দুদক বিট

Total Page Visits: 16655

ঝালকাঠিতে ২য় শ্রেনীর ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনঃ আটক মিরাজের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

ইমাম বিমান,ঝালকাঠি অফিসঃ

ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় ২য় শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটককৃত ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী মিরাজুর রহমান মিরাজের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় জনসাধারণ।

২৭আগষ্ট, মঙ্গলবার, সকাল ১১টায় ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিবাবক ও এলাকাবাসী ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন পালন করে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিবাবক এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয় । এ সময় মানববন্ধনে অংশগ্রহন করা অভিভাবকগন শিশু ধর্ষন চেষ্টাকারী অভিযুক্ত ঐ বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী মিরাজের দৃষ্টান্তমুলক বিচার দাবি করেন। সেই সাথে বিদ্যালয়ে শিশু নিরাপত্তার বিষয় তুলে ধরে বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে দোষী মিরাজের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন, লাভলু হাওলাদার, প্রিয়াহাম, নাছিমা বেগম ও ভিকটিম ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার সকাল ১১টার দিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিদ্যালয়ের আশেপাশে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিল কয়েকজন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক ছিলেন দুটি ক্লাসে পাঠদানে ব্যস্ত। এ সুযোগে বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী মিরাজুর রহমান মিরাজ দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে লাইব্রেরীতে ডেকে এনে ধর্ষণচেষ্টা করে। শিশুটি চিৎকার দিয়ে কৌশলে তার কাছ থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি সে তার বাবা মাকে জানায়। স্থানীয় লোকজন ঘটনা জানতে পেরে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ দুপুরে বিদ্যালয়ে এসে ওই ছাত্রীর বক্তব্য শুনে দপ্তরি মিরাজকে আটক করে। এ ঘটনায় নলছিটি একটি মামলা দায়েরের পর আটককৃত দপ্তরি মিরাজকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম/জেলা

Total Page Visits: 16655

প্রসঙ্গ ইভটিজিংঃ আত্মহত্যা,বাস্তবতা ও করণীয়

স্পেশাল ডেস্কঃঃ

ইভটিজিং এক মহাপ্রলয়ংকারী আতংক। উঠতি বয়সী মেয়েরা এমন এক অবস্থার মুখোমুখি হয়  যেখানে সে কিছুই বলতে পারেনা।নিরবে সে বাধ্য হয় অথবা আত্নহত্যাও করে বসে। বাংলাদেশে গত আড়াই বছরে ‘ইভ টিজিং’ বা প্রেমের নামে ছেলেদের হাতে উত্যক্ত বা হয়রানির শিকার হয়ে প্রায় ৪০ জন মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে বলছে একটি গবেষণা রিপোর্ট।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের করা ওই গবেষণায় বলা হয়, উত্যক্তকারীদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার কোন উপায় না দেখেই সাধারণত ওই মেয়েরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।প্রকাশিত রিপোর্টটিতে বলা হয়, ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭৫৪টি ইভটিজিং-এর ঘটনার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু এসব ঘটনার বিচারের হার খুবই নগণ্য। নারী নির্যাতনের খবর বাংলাদেশে নতুন নয়, কিন্তু ইভ টিজিং-এর শিকার হয়ে ৪০ জনের আত্মহত্যার ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জনস্বার্থে প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন হুবহু তুলে ধরা হলোঃ—–

“বাংলাদেশে এমন নারী খুঁজে পাওয়া দুস্কর যে কখনো কোনো দিন ইভ টিজিংয়ের শিকার হয়নি! সে বোরকার নিচেই থাকুক আর তথাকথিত আধুনিকাই হোক না কেন। ফেস-টু-ফেস কিংবা ভার্চুয়াল, নারী পরিচিত-অপরিচিতদের কাছ থেকে কখনো নোংরা কথা কিংবা কখনো ‘হাই সুন্দরী’, এই জাতীয় প্রশংসাসূচক কথার মাধ্যমেও টিজিংয়ের শিকার হয়ে থাকে। যে বলে, ‘কই আমার মা-বোনেরা তো কোনো দিন টিজিংয়ের শিকার হয়নি!’ কিছু না জেনেই আবার যে বলে, ‘টিজিং করছে, নিশ্চয় মেয়েটার দোষ ছিল। এক হাতে তো বাপু তালি বাজে না। আরও তো মেয়ে আছে, তাদের তো কেউ টিজ করে না।’ আমি তাদের বলব, ‘আপনি সত্য থেকে বহু দূরে! টিজিংয়ের জন্য সুন্দরী-অসুন্দরী, হিজাব-নেকাব কোনটাই কাজে আসে না। ওই যে ‘নিনজা’ যায় কিংবা ‘বোরকাওয়ালি’ আইছে—এটাও তো টিজিং বা বুলিংয়ের পর্যায়েই পড়ে। আর তালি আজকাল এক হাতেও বাজে বটে, দরকার শুধু একটা ড্রাম বা ঢোল জাতীয় কিছু।

তবে এ কথাও সত্যি যে, আজকাল ছেলেরাও নাকি টিজিং-বুলিং এসবের শিকার হয়ে থাকেন। তো সে ছেলে হোক বা মেয়ে হোক, টিজিং অসহনীয় মাত্রায় পৌঁছালে শুনেছি কেউ আত্মহত্যা করেন, কেউ নেশা করেন, কেউ লেখাপড়া বাদ দিয়ে ঘরে বসে থেকে মানবেতর জীবন যাপন করে থাকেন।
আমি আজকে লিখছি তাদের জন্য, যারা সর্বদাই ‘টিজিং’ নামক নোংরামির সাথে পথ চলতে বাধ্য হচ্ছে। হতাশায় ভুগে জীবনের লক্ষ্য থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে। জীবনের গল্প থেকে নেওয়া এ লেখা শুধুই তাদের জন্য।


তখন আমি মাত্র অনার্স শেষ করে মাস্টার্সের জন্য ফাইনান্স ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয়েছি। কিছুদিন পর জানতে পারলাম ডিপার্টমেন্টে শিক্ষক নিয়োগ হবে। সত্যি বলতে কি, শৈশব-কৈশোরে বড় হয়ে অনেক কিছু হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন আমি দেখিনি। সারা জীবন নিজে পড়ো আর অন্যদের পড়াও, ভাবতেই কেন যেন দম বন্ধ হয়ে আসত। কিন্তু নিয়তি বলে অন্য কথা!
প্রশাসনিক দপ্তরে যথাসময়ে দরখাস্ত জমা দিলাম। প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার কারণে, সব থেকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সবার আগে আমার নাম শুনতে পেলাম। তবে অনেকের কাছে এ কথাও শুনলাম, ওপর মহল থেকে ফোন না এলে নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া যায় না। বাবা-মা-আত্মীয়স্বজন ১৪ গোষ্ঠীর মধ্যে ‘তথাকথিত ওপর মহলে’ কেউই অবস্থান করেন না বিধায় ওপর মহলের চিন্তা বাদ দিয়ে বরাবরের মতোই ওপরওয়ালার ওপর সব ছেড়ে দিলাম। ভাগ্যে লেখা থাকলে হবে, না থাকলে নাই—এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করে নিজের মেধা-যোগ্যতার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখলাম।
শিক্ষক নিয়োগের ভাইভার আর কিছু দিন বাকি আছে। হঠাৎ করেই আবিষ্কার করলাম ক্যাম্পাসে যেখানেই যাচ্ছি, ছেলেরা আজেবাজে টিজ করছে। মাথায় ঢুকছে না কেন আমাকে নিয়ে সবাই আজেবাজে কথা বলছে। কাহিনি কী? ঘনিষ্ঠ বান্ধবীদের কাছে জানতে পারলাম আমি যাতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ না পাই, তাই কোনো একটি মহল আমাকে নিয়ে হরেক রকম গল্প বানাচ্ছে এবং তা সচেতনভাবেই ছড়িয়ে দিচ্ছে ক্যাম্পাসের আনাচকানাচে। সেই মহলের ইচ্ছে শক্ত রাজনৈতিক খুঁটির ওপর দাঁড়ানো ১২তমকে নিয়োগ দেওয়ার। কিন্তু তার আগে তো ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্টকে হটাতে হবে! আর যেহেতু আমি মেয়ে, কাজেই আমার নামে নোংরা কিছু ছড়িয়ে দিলেই হলো। জনগণ গুজব (রিউমার) শুনতে পছন্দ এবং নিজের মতো করে গল্প বানাতে পছন্দ করে। কাজেই কোনো কিছু যাচাই না করে অনেকেই মুখে যা আসে তা-ই বলা শুরু করল। আমি ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিতে থাকলাম।
সত্যি বলতে কী, সে সময় মানসিকভাবে আমি খুব ভেঙে পড়েছিলাম। হলের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মরার চিন্তাও যে মাথায় আসে নাই, বললে মিথ্যা বলা হবে। কিন্তু ঠান্ডা মাথায় একদিন ভেবে দেখেছি, আমার আত্মহত্যা কি এর সঠিক সমাধান? আমি মরলে এদের কী? কিন্তু আমার বাবা-মা-ভাইবোন যারা আমাকে বড় করেছেন, ওদের কী হবে? ভেবে দেখলাম, জীবনে এই চাকরি করতে হবে এমন তো কোনো কথা নাই। আমার যে যোগ্যতা, তা দিয়ে আমি যেকোনো ভালো প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার গড়তে পারব। আর বড় কথা হলো, আমি যাতে এসব নোংরা টিজিংয়ের জন্য প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাই, এটাই তো কেউ কেউ চাইছে। আমি কেন হেরে গিয়ে ওদের জিতিয়ে দেব? আমার তো কোনো দোষ নেই।
আমি নিজেকে বদলাতে শুরু করলাম। আগের মতো ক্লাস, লাইব্রেরি, অডিটরিয়াম সবখানে যাওয়া শুরু করলাম। নোংরা কথাগুলো এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দিতাম। মানুষের ফিসফিসানি, কানাকানি দেখেও না দেখার ভান করতে লাগলাম। ভিতরে ভিতরে পুড়ে গেলেও বাইরে থেকে এত শক্ত থাকতাম যে বদমাশগুলো টিজ করে তেমন মজা পেত না। আমার নিস্পৃহতা ওদের উত্সাহে পানি ঢেলে দিয়েছিল বোধ হয়। আমি মুখোমুখি ওদের কখনোই প্রতিবাদ করিনি। আমার মতে প্রতিবাদ করা মানে ওদের আরও উসকে দেওয়া। আমার নিস্পৃহতা ছিলই আমার প্রতিবাদ।
এত কিছুর পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিটা আমি পেয়েছিলাম, আমার ভালো রেজাল্ট, আমার দৃঢ় মনোবল আর সততাই আমাকে জিতিয়ে দিয়েছিল। একদা ক্যাম্পাসের যে নোংরা বাতাসে আমার শ্বাস নিতে বড্ড কষ্ট হতো, শিগগিরই সেই নোংরা বাতাস নির্মল বিশুদ্ধ হতে লাগল। জঘন্য গুজবগুলো হঠাৎই বাতাসে মিলিয়ে গেল।
তাই মেয়েরা তোমাদের বলছি, নোংরা কথা নোংরা লোকেরা বলবেই। আত্মহত্যা কিংবা নিজেকে সবকিছু থেকে গুটিয়ে নেওয়ার মতো ভুল সিদ্ধান্ত এর কোনো সমাধান নয়। কে কী বলে বলুক, তুমি শক্ত হয়ে পথ চলো। মাথা উচু করে হেঁটে যাও। ওদের মিথ্যা কথায় কষ্ট পাচ্ছ? বুঝতে দিও না।

তোমাকে টুকরো টুকরো করে ভাঙাই তো ওদের লক্ষ্য। তুমি যখন নির্বিকার থাকবে, ওরা এমনিতেই দেখবে একদিন উত্সাহ হারিয়ে চুপটি মেরে যাবে। আর তুমি তোমার পড়াশুনায় মন দাও, ভালো ক্যারিয়ারের স্বপ্ন দেখো। অমূল্য এই জীবনটাকে তুমি গড়ে তোলো তোমার মেধা দিয়ে, তোমার কর্মগুণে।
পিছু ফিরে দেখতে পাবে, নোংরা ছেলেগুলো এখনো গলির মুখে, স্কুল-কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ঠিক আগের মতো। তবে আরও নোংরা হয়ে। এবার তারা টিজ করছে তোমার ভাই বা বোনের মেয়েটিকে। কিংবা আরও পরে ফুটফুটে তোমার মেয়েটিকে। ওরা কখনোই বদলাবে না। কিন্তু তুমি তো তোমার জীবনটাকে বদলে দিতে পারো! দরকার শুধু তোমার ইচ্ছাশক্তি আর সাহসিকতার। রাস্তার নোংরা ছেলেগুলো থাক না রাস্তায় পড়ে। তোমার এই অমূল্য জীবন শুধুই তোমার। তুমি ভয় না পেয়ে এগিয়ে যাও, অনেক দূরে—সাফল্যের শিখরে।”

বাংলাদেশের বহু জায়গায় কি বগুড়ার প্রত্যন্ত ধনকুন্ডি গ্রাম;  কি টেকনাফ কিংবা তেতুলিয়ার ঘোরপল্লী সবজায়গায় ইভটিজার। আর এরা হলো একই পাড়ায় বেড়ে ওঠা উঠতি বয়সী টোকাই শ্রেণীর ছেলেরা। ক্রাইম ডায়রির বিশেষ গবেষণায় দেখা গেছে এগুলো বন্ধে প্রয়োজন স্কুল ভিত্তিক নিয়মিত আলোচনা,প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করা,মসজিদে নিয়মিত আলোচনা ও সামাজিক উদ্যোগ। তাহলে বন্ধ হতে পারে ইভটিজিং।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম///স্পেশাল/জাতীয়

Total Page Visits: 16655

ব্রীজের রেলিং ভেঙে বাস খাঁদেঃ নিহত ৮,আহত অর্ধশত

ফরিদপুর জেলা সংবাদদাতাঃ
ফরিদপুর জেলা শহরের ধুলদী নামক জায়গায় একটি ব্রিজের রেলিং ভেঙে বাস খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।  এতে   ৮ ব্যক্তি নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে।।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে,    ২৪ আগষ্ট  শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে কমফোর্ট লাইন পরিবহনের ফরিদপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রীজের রেলিঙের সাথে সজোরে ধাক্কা লাগায়। এতে ব্রীজের রেলিং ভেঙে বাসটি খাঁদে পড়ে উল্টে যায়। এতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন  হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে তাৎক্ষণিক হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার নুরুল আলম দুলাল সাংবাদিকদের খবরটি নিশ্চিত করে বলেছেন, বাসের ড্রাইভার বেপরোয়া হবার কারনে এই ঘটনা ঘটেছে।
ক্রাইম ডায়রি//জেলা/চলতি পথে
Total Page Visits: 16655

গভীর রাতে অপহরনচেষ্টার খলনায়ক গণপিটুনিতে নিহতঃ নিহত ভিকটিমের মামা,গুরুতর আহত নানা

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতাঃঃ

আহ্! কি ভয়ংকর। কি দুঃসাহসিক চিন্তা ও কাজ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম উৎকর্ষতার যুগে এহেন কাজের সাহস দেখানে অবক্ষয় ও অধঃপতনের    চরম বহিঃপ্রকাশ। হ্যা, ঘটনাস্থল চুয়াডাঙ্গার আমিরপুরে। সেখানে মধ্যরাতে এক কিশোরীকে অপহরণ চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।  ওই কিশোরীর চিৎকারে তার নানা ও গৃহকর্তা মামা অপহরণকারীকে বাধা দিলে তাঁদের নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই গৃহকর্তা মামার মৃত্যু হয়। নানা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এদিকে, ওই অপহরণকারীকে গ্রামবাসী গণধোলাই দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কানাই লাল সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কলিমুল্লাহ, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ খানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের আমিরপুর গ্রামে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে কৃষক হাসানুজ্জামানের বাড়িতে তাঁর ১৩ বছরের কিশোরী ভাগনি সুমাইয়াকে অপহরণচেষ্টাকালে সুমাইয়া চিৎকার করে ওঠে। সুমাইয়া চিৎকার করে উঠলে অপহরণকারী সুমাইয়ার বাঁ হাতে ছুরিকাঘাত করে। এরপর সুমাইয়া চিৎকারে তার  নানা জেগে উঠে বাধা দিতে এলে অপহরণকারী তার নানা হামিদুল ইসলামকে (৫০) ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।

এ সময় হামিদুলের ছেলে সুমাইয়ার মামা হাসানুজ্জামান (৩০) জেগে উঠে এগিয়ে এলে অপহরণকারী তাঁকেও ছুরিকাঘাত করে। এ ঘটনায় কৃষক হাসানুজ্জামান ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় পরিবারের লোকজনের চিৎকারে গ্রামবাসী ছুটে এসে অপহরণচেষ্টাকারীকে আটক করে গণধোলাই দেয় এবং হামিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠান। অপহরণকারীর নাম আকবর আলী বলে জানা গেছে। সে ওই এলাকায় ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করে। অনেকে জানান, এক সময় আমিরপুর গ্রামে আকবর আলী বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতো ও এলাকায় সে লম্পট বলেও পরিচিত।

এ প্রসঙ্গে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু এহসান মো. ওয়াহেদ রাজু বলেন, রাত পৌনে চারটার দিকে হাসানুজ্জামান নামের এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তবে হাসপাতালে আনার পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়। গনধোলাইয়ে অপহরণকারী আকবর নিহত হয়। উপর্যুপরি কোপের ফলে হাসানুজ্জামানের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং পেটের ভুড়ি বেরিয়ে যাওয়ায় তাঁর মৃত্যু ঘটেছে। হাসানুজ্জামানের বাবা হামিদুল ইসলামের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। হাসানুজ্জামনের ভাগনি সুমাইয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ খান সাংবাদিকদের  জানান, চুয়াডাঙ্গা সদরের মোমিনপুর ইউনিয়নের আমিরপুর গ্রামে মধ্যরাতে এক কিশোরীর শ্লীলতাহানীর চেষ্টাকালে এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে আকবর আলী নামের একজন নিহত হয়েছে।এ ঘটনায় আকবর আলীর ছুরিকাঘাতে ওই কিশোরীর নানা হামিদুল ইসলাম গুরতর আহত ও মামা হাসানুজ্জামান নিহত হয়েছে।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//জেলা

 

Read more

Total Page Visits: 16655