• শনিবার ( রাত ১০:৫৫ )
    • ২৪শে আগস্ট, ২০১৯ ইং

আদালতের মন্তব্যঃরাষ্ট্রপতি এবং প্রধাণমন্ত্রী ভি আইপি;বাকী সবাই প্রজাতন্ত্রের চাকর

শাহাদাত হোসেন  রিটনঃ
অমানবিক মৃত্যুর পর টনক নড়েছে পুরো দেশবাসীর। আলোচনা সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় ঘটনাটি। স্বপ্রণোদিত হয়ে আদালতে রিট করা হয়। এতে, রাষ্ট্রপতি আর প্রধানমন্ত্রী ছাড়া দেশে কোনো ভিআইপি নেই বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। যুগ্ম সচিবের অপেক্ষায় মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে তিন ঘণ্টা দেরিতে ফেরি ছাড়ায় স্কুলছাত্র তিতাসের মৃত্যুর ঘটনায় করা রিটের শুনানিতে বুধবার এ মন্তব্য করেন আদালত। আদালতের এ নির্দেশনায় জনগনের চাওয়ার প্রতিফলন ঘটেছে বলে অনেকে মনে করছেন।।     সংশ্লিষ্ট যুগ্ম সচিব ও ফেরির ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানিতে আদালত বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি আর প্রধানমন্ত্রী ছাড়া দেশে কোনো ভিআইপি নেই। বাকিরা সবাই প্রজাতন্ত্রের চাকর।’
উল্লেখ্য গত কয়েকদিন আগে   নড়াইল কালিয়া পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাস ঘোষ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা ভাড়া করা একটি আইসিইউ সম্বলিত অ্যাম্বুলেন্সে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির উদ্দেশে রওনা দেন পরিবারের লোকজন। রাত ৮টার দিকে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌ-রুটের মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ১ নম্বর ভিআইপি ফেরিঘাটে পৌঁছায় অ্যাম্বুলেন্সটি। তখন কুমিল্লা নামে ফেরিটি ঘাটে যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় ছিল। সরকারের এটুআই প্রকল্পের যুগ্ম সচিব আবদুস সবুর মণ্ডল পিরোজপুর থেকে ঢাকা যাবেন বলে ওই ফেরিকে অপেক্ষা করতে ঘাট কর্তৃপক্ষকে বার্তা পাঠানো হয়। তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর ফেরিতে ওঠে অ্যাম্বুলেন্সটি। এসময় ফেরী কর্তৃপক্ষকে জীবনভিক্ষা চেয়ে অনুনয়-বিনয় করে তিতাসের মাসহ পরিবার। বহু কান্নাকাটির পরও মন গলেনি তাদের। কিন্তু এর মধ্যে মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যায় তিতাস। এ ঘটনা তদন্তে সোমবার (২৯ জুলাই) তিনটি কমিটি গঠন করা হয়।
বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটের শুনানি হয়। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জহির উদ্দিন লিমন।পুরো দেশই শুধু নয় বিশ্বমানবতা স্থম্ভিত। বঙ্গকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে পুরো বাংলাদেশ যাতে এহেন ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি দেখতে না হয়।।
ক্রাইম ডায়রি/// জাতীয়///আদালত

6858total visits,184visits today

পুলিশের ব্যক্তিগত কাজে গাড়ি রিকুইজিশনে নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টের

এড.আবুল বাশার, হাইকোর্ট সংবাদদাতাঃ

যখন তখন গাড়ি রিকুইজিশন করে নেয়া দেখলে মনে হয় নিজ দেশে  পরবাসী হয়ে আছে গাড়ির মালিকেরা।প্রাচীনকালে  কর বা জিজিয়া প্রদানের মত বাধ্য হয়েই এটা করতে হয় সাধারণ মানুষের। আদালতের  দৃষ্টিগোচর হলে জনগনের স্বার্থে    ব্যক্তিগত কাজে গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশা ও ট্যাক্সি রিকুইজিশন করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপির) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোশতাক হোসেন।রায় শেষে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্ট কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়েছেন।

সেগুলো হলো- যে কোনো গাড়ি রিকুইজিশন অবশ্যই জনস্বার্থে করতে হবে। যদি কেউ না করে সে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।রিকুইজিশন করা গাড়ি কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত বা পরিবারের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না। করলে অসদাচরণের জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।

রিকুইজিশন করা গাড়ির ব্যাপারে প্রত্যেক পুলিশ স্টেশনে তালিকা সংরক্ষণ করতে হবে। ব্যক্তিগত গাড়ি রিকুইজিশন করা যাবেনা।  রিকুইজিশনের ব্যাপারে যে কোনো অভিযোগ পুলিশ কমিশনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।

রিকুইজিশনকৃত গাড়ির ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। গাড়ির পেট্রোল খরচ বহন করতে হবে। চালকদের খাবার খরচ দিতে হবে।ছয় মাসের মধ্যে একই গাড়ি দ্বিতীয়বার রিকুইজিশন করা যাবে না। নারী, শিশু, রোগী থাকলে সে গাড়ি রিকুইজিশন করা যাবে না।

পুলিশ কমিশনার একটি সার্কুলার ইস্যু করে সব পুলিশ কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন এবং নির্দেশনা মানা নিশ্চিত করবেন।আদালত মামলাটি চলমান রেখেছেন বলে জানিয়েছেন মনজিল মোরসেদ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশের ১০৩(ক) ধারার অধীনে পুলিশ কর্তৃক গাড়ি রিকুইজিশনের বিধান নিয়ে ২০১০ সালে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করা হয়েছিল। তবে এইরায়ে খুশি পুরোদেশবাসী।

ক্রাইম ডায়রি///আদালত///

6858total visits,184visits today