• শনিবার ( রাত ১০:৫৫ )
    • ২৪শে আগস্ট, ২০১৯ ইং

পাস্তুরিত দুধে নিষেধাজ্ঞাঃঃ ইউ এইচটি দুধে নয়ঃ শংকায় বিক্রেতারাঃআট সপ্তাহের জন্য বাঁধা নেই মিল্ক ভিটায়

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

দুধ নিয়ে নিষেধাজ্ঞা হওয়ায় দিশেহারা খুচরা বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলো। সুপারশপ গুলোও সিদ্ধান্ত নিতে পারছেনা তাদের করণীয় সম্পর্কে।  পাস্তুরিত ও ইউ এইচটি দুধ সম্পর্কে কি আদেশ এটা না বুঝতে পারায় এমন জটিলতায় ভূগছেন তারা। তবে আদালতের নির্দেশনা পাস্তুরিত দুধের উপর। প্রাণসহ ১৪ কোম্পানির পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন ও বিপণন পাঁচ সপ্তাহের জন্য বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব দুধ ক্রয় ও মজুদ করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।রোববার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এ আদেশ দেন।

বিএসটিআইয়ের লাইসেন্সধারী এই ১৪ কোম্পানির উৎপাদিত দুধে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক ও ধাতব উপাদানের (সিসা) উপস্থিতি থাকায় আদালত এ নিষেধাজ্ঞা দেন।প্রাণসহ ১৪টি প্রতিষ্ঠানই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নিয়ে পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন ও বিক্রি করে আসছিল। হাইকোর্টের এ আদেশের ফলে ৫ সপ্তাহ দেশে বৈধভাবে পাস্তুরিত দুধ বিক্রির কোনো সুযোগ থাকল না।

আদালতে বিএসটিআইয়ের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সরকার এমআর হাসান, রিট আবেদনকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার অনীক আর হক ও তানভীর আহমেদ। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম।

নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠান গুলোর ব্রান্ডগুলো হচ্ছে যথাক্রমে—    ১. প্রাণ ডেইরি লিমিটেডের প্রাণ মিল্ক, ২. আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের ফার্মফ্রেশ মিল্ক, ৩. আমেরিকান ডেইরি লিমিটেডের মো, ৪. বাংলাদেশ মিল্ক প্রডিউসারস কো. অপারেটিভ ইউনিয়ন লিমিটেডের মিল্ক ভিটা, ৫. বারো আউলিয়া ডেইরি মিল্ক অ্যান্ড ফুডস লিমিটেডের ডেইরি ফ্রেশ, ৬. ব্র্যাক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রজেক্টের আড়ং ডেইরি, ৭. ড্যানিশ ডেইরি ফার্ম লিমিটেডের আয়রান, ৮. ইছামতি ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টের পিউরা, ৯. ইগলু ডেইরি লিমিটেডের ইগলু, ১০. আফতাব মিল্ক অ্যান্ড মিল্ক প্রডাক্ট লিমিটেডের আফতাব, ১১. উত্তরবঙ্গ ডেইরির মিল্ক ফ্রেশ, ১২. শিলাইদহ ডেইরির আল্ট্রা, ১৩. পূর্ব বাংলা ডেইরি ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের আরওয়া, ১৪. তানিয়া ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টসের সেইফ।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, পাস্তুরিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিক, সিসা, ডিটারজেন্ট, ফরমালিন, ব্যাকটেরিয়াসহ ক্ষতিকর উপাদান থাকায় এর বিরুদ্ধে গত বছর আদালত রুল জারি করেন। আমরা আশা করেছিলাম, এই রুল জারির পর দুধ উৎপাদনকারী ও সংশ্লিষ্ট তদারক প্রতিষ্ঠান দুধ পরিশুদ্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।কিন্তু তারা তা করেনি। আদালতের আদেশ দেয়ার প্রয়োজন হল। আইন থাকার পরও ভেজাল দুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আদালত বলেন, আমাদের নির্দেশের পর চারটি ল্যাবে দুধের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

এ পরীক্ষায় দুধে অ্যান্টিবায়োটিক (অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, টেট্রাসাইক্লিন ও সিপ্রোফ্লক্সাসিন) এবং সিসার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ১৪ জুলাই বাজারে থাকা বিএসটিআই অনুমোদিত সব কোম্পানির পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

এসব কোম্পানির দুধে অ্যান্টিবায়োটিক, ডিটারজেন্ট, ফরমালিন, ব্যাকটেরিয়া আছে কি না, তা পরীক্ষা করে চারটি গবেষণাগারকে এক সপ্তাহের মধ্যে আলাদাভাবে প্রতিবেদন দিতে বলেন আদালত।

জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর), ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) ও সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের গবেষণাগারে বাজারের এসব দুধ স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করতে বলা হয়।

সেই সঙ্গে দুধে অ্যান্টিবায়োটিক বা ডিটারজেন্ট আছে কি না, তা পরীক্ষার সক্ষমতা অর্জন করতে বিএসটিআইয়ের ল্যাবরেটরির কত সময় ও অবকাঠামো প্রয়োজন সে বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা আদালতে জমা দিতে বলা হয়। চার ল্যাবরেটরির প্রতিবেদন রোববার আদালতে জমা পড়ে।

এতে দেখা যায়, একটি পরীক্ষায় ১৪ কোম্পানির দুধেই মানবদেহের জন্য অসহনীয় মাত্রার সিসা পাওয়া গেছে। আরেকটি পরীক্ষায় ১৪ কোম্পানির দুধেই পাওয়া গেছে অ্যান্টিবায়োটিক। বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, দুধে অ্যান্টিবায়োটিক বা ডিটারজেন্ট আছে কি না, তা তাদের ল্যাবে পরীক্ষার সক্ষমতা অর্জন করতে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সময় লাগবে।

আদালত রুল জারি করে উৎপাদিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও ক্ষতিকর ধাতব উপাদান থাকায় সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর নিষ্ক্রিয়তা এবং মানুষের জীবন রক্ষার অধিকার ক্ষুণ্ণ করা কেন অবৈধ ঘোষণা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ১৪ ব্র্যান্ডের কোম্পানিসহ ২৩ বিবাদীকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদেশের পর ব্যারিস্টার অনীক আর হক বলেন, ১৪টি ব্র্যান্ডের দুধের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যদিও আমাদের কৃষি খাদ্য, মৎস্য খাদ্য আইনে গবাদি পশু বা যে কোনো পশুর ওপর অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নিষিদ্ধ। কিন্তু তাদের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে।

একই সঙ্গে বিসিএসআইআর ও আণবিক শক্তি কমিশনের ল্যাবের যে রেজাল্ট, সেখানে দুধের মধ্যে হেভি মেটাল, স্পেশালি লেড অর্থাৎ সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, এ সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আদালত আজ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি রুল ইস্যু করেছেন। যে দুধে এসব ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে, সেগুলোর উৎপাদন কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং রাইট টু লাইফের পরিপন্থী হিসেবে ঘোষণা করা হবে না এবং স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ রুলের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়েছেন আদালত।

ফলে আগামী পাঁচ সপ্তাহের জন্য এই ১৪টি লাইসেন্সধারী কোম্পানির দুধের প্রডাকশন, বিপণন এবং এর সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ ক্রেতারা যেন না খায়, সে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেন এগুলো না করে। অর্থাৎ আগামী পাঁচ সপ্তাহ তারা এগুলো উৎপাদন, বিপণন, সেল করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, এর সঙ্গে বিএসটিআইকে বলা হয়েছে তাদের যে মানদণ্ড রয়েছে সেটাকে আপডেট করার ব্যাপারে কী স্টেপ নিয়েছে সেটা জানানোর জন্য। রুলে ১৪ কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য ২৫ আগস্ট দিন ধার্য রেখেছেন।

আইনজীবী এমআর হাসান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে বিএসটিআই পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষা করে থাকে। তবে দুধে কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার থাকতে পারবে না বলে জনস্বার্থে একটি রুল জারি করেছেন আদালত। এখন আমাদের বিএসটিআইয়ের দায়িত্ব হচ্ছে আদালতের রুলের জবাব তৈরি করা এবং দুধের মান বৃদ্ধি করা সম্পর্কে আদালতকে অগ্রগতি জানানো।

তিনি বলেন, কোর্টের আদেশের পর আমরা অবশ্যই বাজার মনিটরিং করব। আদালতের নির্দেশনা রয়েছে, এসব দুধ কোনোভাবেই বাজারজাত না করার। আজ থেকেই আমরা (বিএসটিআই) বাজার মনিটরিং শুরু করব এবং উদ্যোক্তাদেরও তাদের উৎপাদন ৫ সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখার বিষয়ে জানাব।

তবে মিল্কভিটা————

সোমবার (২৯ জুলাই) হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে মিল্ক ভিটা আদালতে আবেদন করে, যা চেম্বার বিচারপতির আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। চেম্বার বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান মিল্ক ভিটার ক্ষেত্রে হাইকোর্টের দেওয়া পাঁচ সপ্তাহের ওই বন্ধের আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন।

মিল্ক ভিটার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মহিউদ্দিন মো. হানিফ।শুনানি শেষে মহিউদ্দিন মো. হানিফ বলেন, মিল্ক ভিটার ক্ষেত্রে হাইকোর্টের দেওয়া ওই আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন চেম্বার বিচারপতি। ফলে মিল্ক ভিটার দুধ উৎপাদন ও বিপণনে আইনগত বাধা কাটল।

এই বন্ধের বিষয়েও আমরা আদালতকে প্রতিবেদন দিয়ে জানাব। বিএসটিআইয়ের এই আইনজীবী আরও বলেন, কোম্পানিগুলো নিজেদের দায়িত্বে দুধ সরিয়ে নেবে বলে তিনি মনে করেন। কারণ কোর্টের আদেশ হওয়ার পরপরই তা কার্যকর করতে হয়।

এরপরও তারা মার্কেট থেকে দুধ তুলে না নিলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি। গত বছরের ১৬ মে বাণিজ্যিকভাবে পাস্তুরিত দুধ সম্পর্কে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর একটি গবেষণা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।২৫ জুন বিএসটিআইয়ের আইনজীবী আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক গত ২৫ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি লেকচার থিয়েটারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কিছু খাদ্যের গুণগত মান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন। বিএসটিআইয়ের আরও কার্যকরীী পদক্ষেপ নেয়া ও পরীক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি   প্রয়োজন বলেও কর্তৃপক্ষ মন্তব্য করেন।

ক্রাইম ডায়রি///জাতীয়

6856total visits,182visits today

হায়রে, স্টার জলসা!দেখতে না দেওয়ায় স্ত্রীর হাতে স্বামী খুনঃ স্ত্রীর যাবজ্জীবন

ক্রাইম ডায়রি  গাজীপুর অফিসঃ


স্টার জলসা দেখা নিয়ে স্বামী খুন,স্ত্রীর যাবজ্জীবন জেল হয়েছে। কি শুনে আশ্চর্য হচ্ছেন?  না অবাক হবার মতো কিছুই নেই। ইন্ডিয়া তবে এক্ষেত্রে দারন সফল। এদের অভিনেতাদের অভিনয় ক্ষমতা এতটাই প্রখর আর চলচিত্র পরিচালকরা এতটাই মেধাবী যে ইন্ডিয়ান চ্যানেল দেখা ঠেকানো খুবই মুশকিল।।।তা দু’চারদিন  দেখলে আপনিও নেশায় পড়তে পারেন।জি বাংলা,স্টার জলসাসহ আরও বেশ কিছু ইন্ডিয়ান চ্যানেলের লোভনীয় ও আকর্ষণীয় সিরিয়াল সত্যিই পাগল করে ফেলেছে নারীদের। ভুক্তভোগী; আমি আপনি সবাই। এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরে ঘটল বিরল ঘটনা।

সোহরাব-রীপা দম্পতি।।।  গাজীপুর সিটির তেলীপাড়া এলাকার মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। গত বছরের ৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে রীপা টিভিতে স্টার জলসা দেখছিলেন। বাসায় ফিরে সোহরাব স্ত্রীকে স্টার জলসা দেখতে বারণ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে রীপা স্বামী সোহরাবকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে এ ঘটনায় নিহত সোহরাবের বাবা শাহজাহান জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এ আর এম আল মামুন তদন্ত শেষে রীপার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। হত্যার দায়ে তাঁর স্ত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল হক এ দণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামির নাম নাহিদা আকন্দ ওরফে রীপা। তাঁর গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার পশ্চিম চালাকচর গ্রামে। তিনি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া এলাকার নিহত সোহরাবের স্ত্রী।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//আদালত

6856total visits,182visits today

কাঁচা মরিচের কেজি ১৬০টাকাঃ বিপাকে ঝিনাইদহের সাধারন মানুষ

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ


বৈরি আবহাওয়া ও মাকড়ের আক্রমণে ঝিনাইদহে মরিচের ফুল নষ্ঠ হওয়ায় কাঁচা মরিচের উৎপাদন ব্যাপক কমে গেছে। এতে বাজারে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলা দেশের অন্যতম কাঁচা মরিচ উৎপাদনকারী এলাকা। খরিপুর ১ মৌসুমে যশোরে ৬’শ ৬৫ হেক্টরে, ঝিনাইদহে ১৫’শ ৭০ হেক্টরে, মাগুরায় ৬’শ ৯৫ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গায় ১৩’শ ৪৯ হেক্টরে, মেহেরপুরে ৪ হাজার ২’শ ৮০ হেক্টরে ও কুষ্টিয়ায দু হাজার ৭৫ হেক্টরে মরিচের চাষ হয়। এসব জেলাগুলোতে প্রচুর মরিচ উৎপাদন হয়ে থাকে। মে জুন মাসে ক্ষেতে প্রচুর কাঁচা মরিচ ধরে। দামও একেবারেই পড়ে যায়। কোন কোন সবজি বাজারে পাইকারি প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ মাত্র ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি হয়। শৈলকুপা উপজেলার গোরিন্দপুর গ্রামের রিপন শেখ জানান, তারা চার ভাই অনেক দিন ধরে মরিচ চাষ করে আসছে। খরিপুর-১ মৌসুমে চাষ করা মরিচ শেষ পর্যায়ে, গাছ মরে যাচ্ছে। মাস দেড়েক আগে পাইকারী প্রতি কেজি মরচি ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তখন ক্ষেত থেকে মরিচ তুলে ভ্যান ভাড়া দিয়ে হাটে এনে বিক্রির পর লাভ থাকতো না। বৃষ্টি কম হওয়ায় মরিচ গাছ মরে যায়। গরম ও মাকড়ের আক্রমণে মরিচ গাছে ফুল ফল কম ধরে। এতে মরিচের উৎপাদন কমে যায়। দাম চড়ে যায়। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ পাইকারী একশ’ ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা একশত ষাট টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিসের উপ-
পরিচালক সুরেন্দ্র শেখর মালাকার জানান, খরিপুর ১ মৌসুমে চাষ করা মরিচ শেষ পর্যায়ে। গরম ও মাকড়ের আক্রমণে মরিচের ফুল ফল নষ্ঠ হওয়ায় উত্পাদন কমে গেছে। বৃষ্টি হলে মরিচের উৎপাদন বেড়ে যাবে বলে তিনি জানান।

6856total visits,182visits today