• শনিবার ( রাত ১০:৫৮ )
    • ২৪শে আগস্ট, ২০১৯ ইং

রাজধানীতে হাসপাতাল মালিক দুই ভূয়া চিকিৎসক আটক

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃঃ

ভূয়া ডাক্তার নিয়ে লেখালের শেষ নেই। কিন্তু কোন অবস্থাতেই বন্ধ হয়নি ভূয়াদের দৌরাত্ব। কি রাজধানী, কি মফস্বল! সবজায়গাতেই হাতুড়ে আর ভূয়াদের আনাগোনা। তিনি কোনোরকম এসএসসি পাশ। এরপর ১৩ বছর ধরে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছিলেন গাইনি চিকিৎসক হিসেবে। দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছিলেন ভুয়া চিকিৎসা। দুই রোগীর জরায়ুতে অস্ত্রোপচার করে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় অভিযান চালায় র‍্যাব। দেখা যায়, অভিযুক্ত হাসপাতালটির দুই চিকিৎসকই ভুয়া।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ির ধোলাইরপাড়ে অবস্থিত হাসপাতালটি। নাম কিউর জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। গতকাল বুধবার (২৫ জুলাই) রাতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় হাসপাতালটির দুই ভুয়া চিকিৎসকসহ তিনজনকে আটক করে র‌্যাব ১০ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাদেরকে আট লাখ টাকা জরিমানাসহ দুই বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সিলগালা করে দেওয়া হয় হাসপাতালটি।

একই সঙ্গে দুই ভুয়া চিকিৎসককে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালটির মালিক রাহিমা আক্তারকে চার লাখ টাকা জরিমানাসহ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। এর আগে বুধবার (২৫ জুলাই) রাতে যাত্রাবাড়ির ধোলাইরপাড়ে অবস্থিত কিউর জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ডিজি হেলথ’র পরিচালক ডা. মো. শফিউর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলম বলেন, কিউর জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক রাহিমা আক্তার। এসএসসি পাশ করে ২০০৮ সাল থেকে ১৩ বছর নিজেকে গাইনি চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে আসছেন তিনি। পরিচালনা করছিলেন হাসপাতালটি। সেখানকার আরেক ভুয়া চিকিৎসক এস এম আল মাহমুদ। নিজেকে এমবিবিস ও এফসিপিএস ডিএমসিএইচ পরিচয় দিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন তিনিও।

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযানে আরও দেখা যায়, কোনো স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের মতামত ছাড়াই শাবানা নামে এক রোগীর জরায়ু কেটে ফেলে দেওয়া হয়েছে। অপারেশনের সময়ও ছিল না কোনো কনসালটেন্ট। দুইজন ভুয়া চিকিৎসক মিলেই অপারেশন করে ফেলেন। হাসপাতালের মালিক এসএসসি পাশ রহিমাও নিজেকে ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসা দেন এবং অপারেশন করেন। এছাড়া গত ১০ জুলাই সিজার করার সময় এ হাসপাতালে এক নবজাতক মারা যায়।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, দুই বছর আগেও ওই হাসপাতালটিকে জরিমানা করা হয়। তবুও বন্ধ হয়নি এসব ভূয়াদের দৌরাত্ব। উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহন না করলে লাভজনক এ পেশায় ভূয়ারা আরও বেশি প্রবেশ করে মারাত্বক ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে জনস্বাস্থ্যকে।

ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম//আদালত

6877total visits,203visits today

রাজাপুরে স্মার্ট কার্ড বিতরনে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

ইমাম বিমান, ঝালকাঠি অফিসঃ
https://youtu.be/qmSEYuVgpw0
রাজাপুরে স্মার্ট কার্ড বিতরনে খোদ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাধারন জনগন।
ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে  রাজস্ব খাতের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ।
২৫জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়ন পরিষদে স্মার্ট কার্ড বিতরণের সময় নির্বাচন কর্মকর্তা আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। এ বিষয় অভিযোগ কারীরা জানান, যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেছে অথবা ডুপ্লিকেট কপি আছে তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩৪৫ টাকার পরিবর্তে ৩৬০ টাকা ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং এর নামে ভুয়া কাগজ দিয়ে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। এতে অভিযোগকারীরা মনে করেন নির্বাচন অফিসারের যোগসাযোগে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব ফাকি দিচ্ছেন সংঘবদ্ধ এই চক্রটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিষদের দ্বিতীয় তলার কন্যারের একটি কক্ষে কোন রকমের ডিভাইস বিহীন গৌরনদী উপজেলার শুসান্ত শিকারীর ছেলে গৌরনদীতে অবস্থিত পার্থ কম্পিউটার সিস্টেম এর কর্মচারী সৌরভ শিকারী কাজ করছেন আর অপরদিকে কাজ তদারকির জন্য একই কক্ষের ভিতরে দাড়িয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ দাড়িয়ে প্রকাশ্যে ধুমপান করছেন। জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন বা হারিয়ে যাওয়া অথবা ডুপ্লিকেট কপি যাহাদের আছে তাদের কাছ থেকে আবু ইউসুফের ছত্রছায়ায় সৌরভ শিকারী ব্যাংক বা মোবাইল ট্রানজেকশন ছাড়াই নাম মাত্র একটি স্লিপের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি টাকা জমা নিচ্ছেন।
এ বিষয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি অভিযোগ করে জানান, রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে  স্মার্ট কার্ড বিতরনের সময় নির্বাচন অফিসার প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং যদি এই চক্রটি বাকী সব ইউনিয়নে তাদের প্লান বাস্তবায়ন করতে পারেন তাহলে এই উপজেলা থেকে কয়েক লক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিবেন।
অভিযাগকারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যাংকিং ছারা টাকা নেওয়ার বিষয়ে সৌরভ শিকারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি গ্রাহকদের সুবিধার্থে রেজিষ্টারে লিখে রাখি পরবর্তীতে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে দিবো। অথচ নির্বাচন কমিশনের নিয়মানুযায়ী, যাদের পরিচয়পত্র হারিয়ে গেছে তাদের চালান ফরমের মাধ্যমে নির্ধারিত কোডে ৩৪৫ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে ভেন্যু থেকে স্মার্ট কার্ড গ্রহন করতে হবে।
এ বিষয়ে শুক্তাগড় ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুল হক মৃধার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আমি আগে শুনেছি হারিয়ে যাওয়া কার্ডের জনপ্রতি  ৩৪৫ টাকা নেওয়ার কথা কিন্তু এখন দেখি তারা ৩৬০ টাকা নিচ্ছেন। তবে তারা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন কিনা তা জানিনা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা  ক্রাইম ডায়রিকে   জানান, “হারিয়ে যাওয়া কার্ডের জনপ্রতি ৩৪৫ টাকা এবং ডাচ বাংলা ব্যাংকের ভ্যাট বাবদ ১৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। টাকা নেওয়ার সময় এন্টি করতে দু একটা ভুল হতে পারে তবে আমরা গ্রাহকদের কাছ থেকে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার সময় টাকা জমা দেওয়ার রশিদ ফেরত রাখা হয়। প্রকাশ্যে ধুমপান একটি আইনগত অপরাধ। যদিও
এ বিষয়ে কোন বাধ্য বাধকতা দৃশ্যমান নয় তবুও তিনি সরকারি কর্মকর্তা হয়ে এটা করতে পারেন কিনা এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি নিশ্চুপ থাকেন।
ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//জেলা

6877total visits,203visits today