• বুধবার ( সকাল ৬:৫০ )
    • ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

ফলোআপঃনয়ন বন্ডের মায়ের দাবী-“হত্যাকান্ডের আগের দিনও মিন্নি নয়নদের বাসায় এসেছিল”

বরগুনা সংবাদদাতাঃ

নাটক সিনেমাকেও হার মানাবে এখন। মনে আছে, বহুল আলোচিত বরগুনা ট্রাজেডির কথা ।  খুনিদের মূল হোতা নয়ন বন্ড ক্রস ফায়ারে নিহত হয়েছে ।  আর তার মৃত্যুর পরই পটভূমি পরিবর্তন হতে শুরু হয়েছে।  নয়ন বন্ডের মায়ের ভাষ্যানুযায়ী মূল আসলে মিন্নিই। নয়ন বন্ড কার্য সংগঠক মাত্র। আর এতেই  নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী মিন্নির সাথে প্রধান আসামী সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডের সম্পর্কের বিষয়টি দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নয়ন বন্ডের মা শাহিদা বেগমের আজ একটি অনলাইনকে দেয়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে জানান, রিফাত হত্যাকাণ্ডের আগের দিনও নয়ন বন্ডের বাসায় গিয়েছিলেন নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। বিয়ে হলেও নয়ন বন্ডের স্ত্রীর ভূমিকায়ও ছিল মিন্নি।  শাহিদা বেগম  সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ২৬ জুন (বুধবার)। এর আগের দিন মঙ্গলবারও মিন্নি আমাদের বাসায় এসে নয়নের সঙ্গে দেখা করে।’‘আমার ছেলে তো মারাই গেছে। আমার তো আর মিথ্যা বলার কিছু নেই। মিন্নি যে মঙ্গলবারও আমাদের বাসায় এসেছিলো তা আমার প্রতিবেশীরাও দেখেছে।’

নয়ন বন্ডের মা আরও বলেন, ‘শুধু হত্যাকাণ্ডের আগের দিন মঙ্গলবারই নয়; রিফাত শরীফের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পরও মিন্নি নিয়মিত আমাদের বাসায় এসে নয়নের সঙ্গে দেখা করতো। দীর্ঘসময় সময় কাটাতো । বিশেষ  করে পুরো কলেজ টাইমটা কলেজে না কাটিয়ে নয়নের সঙ্গে একান্তে কাটাতো।  বাইকে করে মিন্নিকে রিফাত শরীফ কলেজে নামিয়ে দিয়ে চলে যেত। এরপর মিন্নি আমাদের বাসায় চলে আসত। আবার কলেজের ক্লাস শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে মিন্নি আমাদের বাসা থেকে বের হয়ে কলেজে যেত।’রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিন্নি জড়িত দাবি করে নয়নের মা শাহিদা বেগম বলেন, ‘রিফাতের সঙ্গে মিন্নির বিয়ের খবর পাওয়ার পর আমি আমার ছেলেকে অনেক নিষেধ করেছি, যোগাযোগ না রাখতে। কিন্তু আমার ছেলে নয়ন কখনও আমার কথা শুনত না। ওর মনে যা চাইতো ও তা-ই করত। নয়ন যদি আমার কথা শুনত তাহলে এমন নির্মম ঘটনা ঘটত না।’

বরগুনা ট্রাজেডির ভিকটিম  নিহত রিফাত শরীফের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামে। তার বাবার নাম আ. হালিম দুলাল শরীফ। মা-বাবার একমাত্র অবলম্বন রিফাত না থাকায় অসহায় তার পিতামাতা এখন বাকরুদ্ধ ।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও ওইদিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়ে যায়। সেই ভিডিওতে দেখা গেছে , ধারালো রামদা দিয়ে রিফাতকে একের পর এক কোপ দিতে থাকে দুই যুবক। ওই সময় রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি দুই যুবককে বারবার প্রতিহতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ঘটনাটি পুলিশের সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল। কিন্তু মিন্নির সেই ঠেকানোটা যে কৃত্রিম তা এখন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ভিডিওতে যে দুই যুবককে দেখা যায় তাদের একজনের নাম নয়ন বন্ড এবং আরেকজন রিফাত ফরাজী। তারা ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত। এসব ঘটনায় তারা একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। এলাকার মানুষ তাদের ভয়ে কাউকে কিছু বলার সাহস করতো না ।  তবে, মনে মনে বেশিরভাগ মানুষই তাদের ঘৃনা করত।

মারাত্বক ও কৌশলী অভিনেত্রী মিন্নি  হত্যাকাণ্ডের পরের দিন অর্থাৎ ২৭ জুন মিন্নি গণমাধ্যমের কাছে কাঁদতে কাঁদতে দাবি করেন, আমার চোখের সামনেই আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে তারা। অনেক চেষ্টা করেও স্বামীকে বাঁচাতে পারিনি আমি। আমি তাদের বিচার চাই।

কিন্তু গত শনিবার বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে থাকা একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয়। সেখানে রিফাত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার আগে ও পরে মিন্নির আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়।ভাইরাল হওয়া দ্বিতীয় ভিডিও ফুটেজটির ৫ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে দেখা যায়, নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীসহ ১০-১২ জন রিফাতকে মারধর করতে করতে বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে বের হচ্ছে। এদের মধ্যে একজন পেছন থেকে রিফাতকে ধরে রেখেছে। বাকি দুজন দুই হাত ধরেছে। মিন্নিকে দেখা যায় পার্স হাতে স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিল। একবার ডানেও তাকিয়েছেন কলেজের দিকে। এমনকি পার্সটা পরে গেলে খুনের  ঘটনার শেষে একজন খুনি স্বাভাবিক ভাবেই মিন্নিকে পার্সটি হাতে তুলে দেয়।।  এছাড়াও মিন্নির শরীরে আঁচরটি পর্যন্ত লাগেনি।।

বিয়ের পরও নিয়মিত নয়ন বন্ডের বাড়িতে যাতায়াত এবং হত্যাকাণ্ডের আগের দিনও নয়ন বন্ডের বাসায় যাওয়ার বিষয়ে শনিবার সকালে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের ফোনে কল দিয়ে মিন্নির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মিন্নি অসুস্থ। গতকাল তাকে ডাক্তার দেখানো হয়েছে। মিন্নি এখন ঘুমাচ্ছে। তাই মিন্নি কথা বলতে পারবে না।’এছাড়া মিন্নির সঙ্গে কথা বলতে হলে বরগুনা জেলা পুলিশের অনুমতি লাগবে বলেও তিনি সাংবাদিকদের জানান। আর তিনিও এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি।

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম///জেলা

Total Page Visits: 17098

রাজাপুরের সাবেক ওসির বিরুদ্ধে রেঞ্জ ডিআইজি’র নিকট অভিযোগঃঃ স্বাক্ষ্য গ্রহণ

 ইমাম বিমান,ঝালকাঠি অফিসঃ
ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানা থেকে ষ্টান্ডরিলিজ হওয়া সাবেক (ওসি) মুনির উল গিয়াসের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলার তথ্য গোপন ও ভূয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে বিল-ভাউচার করে সরকারী অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ তদন্তে স্বাক্ষ্য গ্রহন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দুপুরে খুলনা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজির বরাবরে অভিযোগকারী ও ‘২০১৩ সালের পুলিশ হেফাযতে নির্যাতন প্রতিরোধ’ আইনের ১৫/১ ধারায় বিচারাধীন (নং-৪৮৪১৪/১৮) মামলার বাদী রাজাপুরের কলেজ ছাত্র ইমরান হোসেন আদনান স্বাক্ষ্য প্রদান করেছে। খুলনা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের স্বপক্ষে তথ্য প্রমান উপস্থাপন করা হয়। এ সময় খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে তদন্তের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর মো: রবিউল প্রায় ৩ঘন্টা সময় অভিযোগকারীর  স্বাক্ষ্য গ্রহন করেন।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারী সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগের খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি বরাবর অভিযোগ দায়ের করার পর অভিযোগের স্বপক্ষে সকল প্রমানাদি নিয়ে আমাকে গত ২৯ জুন রাজাপুর থানায় বেতার বার্তার মাধ্যমে (সূত্র নং-৭৩০৪,তাং-২৯/০৬/২০১৯ইং)মোতাবেক ২ জুলাই সকাল ১০টায় খুলনা ডিআইজি কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন। বিষয়টি রাজাপুর থানা সাবেক ওসি মুনির উল গিয়াস জানতে পেরে তার ঘনিষ্ট সহচর অলিউর রহমান ওলির মাধ্যমে আমাকে হুমকি প্রদান করে। ২ জুলাই স্বাক্ষ্য দিতে খুলনা যাওয়ার কথা থাকলেও ওসির সহোচর ওলির হুমকির কারনে খুলনা যেতে ব্যর্থ হলে ঐ দিনই বিষয়টি রাজাপুর থানা পুলিশকে অবহিত করে মুনির উল গিয়াস ও তার সহযোগী ওলিসহ কয়েকজনের নামে একটি সাধারন ডায়রী (জিডি) করি ।  যার নম্বর ৫৫।
স্বাক্ষ্য গ্রহনের বিষয় ইমরান হোসেন আদনান আরও জানান, রাজাপুর থানার সাবেক ওসি ও বর্তমান কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্ত ওসি মুনির উল গিয়াস ওরফে দিপু (বিপিনং-৭১৯৫৩৬১৬৪২) রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকা কালীন সময়ে আমাকে একটি চুরি মামলায় স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য থানায় নিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে এবং আমাকে ও আমার ছোট ভাই সাংবাদিক কামরুল হাসান মুরাদকেও একটি মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলার আসামী করে চরম হয়রানি করে। আমি ও আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে দুটি মামলায় আমরা নির্দোষ প্রমানিত হই।
‘২০১৩ সালের পুলিশ হেফাযতে নির্যাতন প্রতিরোধ’ আইনের ১৫/১ ধারায় ওসি মুনীর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আমি একটি মামলা দায়ের করি। উক্ত মামলায় মহামান্য হাইকোর্ট আসামীদের বিরুদ্ধে রুল জারী করলে এখন পর্যন্ত সেই মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আমার দায়েরকৃত মামলায় ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে উক্ত (ফৌঃ রিভিশন নং-১৭২/১৭) তার বিরুদ্ধে সমনাদেশ দিলে খুলনা পিটিসিতে কর্মরত মুনির উল গিয়াস একাধিক বার আসামী হিসেবে আদালতে হাজির হলে তা গোপন করে ঝালকাঠি পুলিশ অফিসের ক্লার্কের সহযোগীতায় বেতার বার্তায় আসামী হিসেবে হাজিরার বদলে নিজেকে সাক্ষী হিসাবে উল্লেখ করে  ।  এ বিষয় আমি তার বিরুদ্ধে খুলনা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি ও সাতক্ষিরা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।”
ক্রাইম ডায়রি//জেলা
Total Page Visits: 17098