• শনিবার ( রাত ১১:০০ )
    • ২৪শে আগস্ট, ২০১৯ ইং

সম্পত্তির দাবীতে পিতাকে মারধরঃ পুলিশে দিলো মেয়ে

স্টাফ রিপোর্টারঃ

সম্পত্তির দাবীতে পিতাকে মারধর করে পুলিশে দিলো মেয়ে। ঘটনার সত্যতা যাচাই বাছাই না করে পিতাকে আটক করে ফতুল্লা থানায় নিয়ে একদিন পর মেয়ের দ্বারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাথীন দক্ষিণ এনায়েতনগর এলাকায়।

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, গত ৫ জুলাই শুক্রবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ একটি অভিযোগের  ভিত্তিতে  সিএনজি করে সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ এনায়েতনগর এলাকায় অসুস্থ রোগী আঃ মালেকের বাড়িতে অর্তকিতভাবে প্রবেশ করে অভিযান চালিয়ে আঃ মালেককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।  আঃ মালেকের বিরুদ্ধে মেয়েকে গরম পানি দিয়ে নারী ও শিশুকে হত্যা চেষ্টা করার অপরাধের অভিযোগ তুলে তার  প্রথম পক্ষের     মেয়েরা তার প্রথম স্ত্রীকে দিয়ে ৬ জুলাই একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলা দায়েরের পর আঃ মালেককে গ্রেফতার দেখিয়ে বিকেলে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করেছে বলে জানা যায়। উক্ত ঘটনায় এলাকাবাসী হতভম্ব হয়ে পড়েছে। এরকম কোন ঘটনা আঃ মালেক ও তার দ্বিতীয় পরিবারের কোন সদস্যই ঘটায়নি বলে এলাকাবাসী জানায়।

আরো জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ সম্পত্তি লিখে নেওয়ার জন্য প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম ও তার সন্তান মো. মাসুম, নাসিমা এবং তাছলিমা অসুস্থ পিতা আঃ মালেক ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী সুফিয়া বেগমকে বেশ কয়েকবার মারধর করেছে। সম্প্রতি গত ২১ জুন বিকেলে পাঠানটুলী দক্ষিণ এনায়েনগর এলাকায় মাসুম, নাসিমা ও তাছলিমা সহ রওশন, তানভীর সঙ্গবদ্ধ হয়ে বাড়ীতে হামলা চালিয়ে সুফিয়া বেগমকে পিটিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে এবং ঐ কুসন্তানরা পিতাকেও মারধর করে আহত করে। উপরোক্ত ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২৩ জুন ৫ জনকে আসামী করে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট এবং গুরুতর জখম করা ও ভাংচুর করে ক্ষতিসাধন সহ চুরি করার অপরাধে মামলা দায়ের হয়। উক্ত মামলায় ১নং আসামী মাসুমকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ তল্লা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠালে উক্ত মামলার অন্যান্য আসামীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য বাদী সুফিয়া বেগমকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে এক পর্যায়ে ফতুল্লা থানায় গিয়ে মিথ্যা লিখিত অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে  আঃ মালেককে আটক করে একদিন পর মামলা দায়েরের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়। যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় বলে এলাকাবাসী জানান।

প্রথম স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত মমতাজ বেগমের মামলায় আসামী করা হয়েছে স্বামী আঃ মালেক সহ প্রথম মামলার বাদী দ্বিতীয় স্ত্রী সুফিয়া বেগম ও সাকিব, দুলাল, অপু এবং মৃদুলকে।

দ্বিতীয় স্ত্রী সুফিয়া বেগমের মামলায় আসামী হলেন যারা মো. মাসুম, তাছলিমা, নাসিমা, রওশন ও তানভীর। তবে এলাকাবাসীর মধ্যে অনেকেই বলছে দুই স্ত্রীর লড়াই হলেও প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগমকে ২ শতাংশ জমি কিনে বাড়ি করে দিয়েছে। মমতাজের সন্তানরা দ্বিতীয় স্ত্রী সুফিয়া বেগমই লালন পালন করে বড় করেছে, কিন্তু বর্তমানে প্রথম স্ত্রী মমতাজের প্ররোচনায় পিতার আরো সম্পত্তির দাবীতে পিতাকে সন্তানরা বারংবার মারধর করে আসছে। উভয় মামলায় উভয় পরিবারের সন্তানরা আসামী হয়েছে।

ভূক্তভোগী আঃ মালেক জানায়, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ প্যারালাইসেস রোগী। তার মধ্যে আমার প্রথম ঘরের সন্তানরা সম্পত্তির দাবিতে এবং জোরপূর্বক লিখে নেওয়ার জন্য আমাকে এবং দ্বিতীয় স্ত্রী সহ সন্তানদের যখন তখন আইসা মারধর করে। আমি ওদেরকে বারবার বলেছি তোরা সম্পত্তির অংশীদার হলে অবশ্যই পাবি। কিন্তু ওরা আমার কোন কথাই শোনেনা। অথচ ওদের জন্য প্রথম স্ত্রীকে ২ শতাংশ জমি কিনে বাড়ি করে দিয়েছি। তার পরেও ওরা আমার উপর এত অত্যাচার করে।
দুই স্ত্রীর ভাই দুলাল বলেন আমার বড় বোনটা খুবই খারাপ ও জঘন্য। সম্পত্তির লোভে মমতাজ আমাদের যে কোন সময় খুন করে ফেলতে পারে। যার প্রমাণ আমার এবং আমার ছোট বোন সহ ভাইগ্না ও ভাগ্নিদের নামে মিথ্যা বানোয়াট মামলা দিয়ে হয়রানী করছে।

ভূক্তভোগী সুফিয়া বেগম বলেন, মাইর খাইলাম, আবার মিথ্যা মামলাও খাইলাম আর আমি ও আমার স্বামী ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে মমতাজ বেগমের ছেলে মেয়ে এবং বহিরাগত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি তারপরেও ন্যায় বিচার পাচ্ছি না।  বর্তমানে আমি ও আমার সন্তানদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনযাপন করছি। আমার ভাইকেও ওরা মেরে ফেলতে পারে। শুনছি আরও মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাসিয়ে আমাদের জেল খাটাবে। তাইলে কি দেশে কোন আইন নাই। আমরা ন্যায় বিচার পামু না।

উপরোক্ত ঘটনায় ভূক্তভোগীরা প্রকৃত ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জের সৎ ও  সাহসী পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম/আইন শৃঙ্খলা

6889total visits,215visits today

পিরোজপুরে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
পিরোজপুর জেলায় নেছারাবাদে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ঝালকাঠির রমজানকাঠি কথিত মাদক ব্যবসায়ী শাহজাহান মিয়ার ছেলে সোহাগকে (৩৫) তার সহযোগী মোড়লগঞ্জের মোতালেব মিয়ার ছেলে মুন্নাসহ(৩২) আটক করেছে নেছারাবাদ পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটককৃত সাংবাদিক পরিচয়দানকারী কথিত মাদক ব্যবসায়ী সোহাগ ও মুন্না আইপি টিভি ৭১ বাংলা.কম এর চট্টগ্রাম হালি শহর প্রতিনিধি ও দৈনিক গনজাগরন পত্রিকার সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যান পরিচয় দেন।
এ বিষয় নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম তারিকুল ইসলাম জানান, সাংবাদিকতার আড়ালে তারা মাদকের ব্যবসা করে আসছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পিতিবার ৪ জুলাই সকাল ১১টায় নেছারাবাদ থানার এস আই মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ এস আই মোজাম্মেল, এ এস আই নাঈম ফোর্সসহ স্বরূপকাঠী পৌর এলকার আকলম স্কুল খেলার মাঠ এলাকা থেকে তাদেরকে আটক করে। এ সময় পুলিশ তাদের দেহ তল্লাশি করে ২৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। আটককৃতদের সাথে ইয়াবা সহ ৭১ বাংলা. কম টিভির লোগো সম্বলিত ক্যামেরা, দৈনিক গনজাগরন পত্রিকার আইডি কার্ড পাওয়া গেলে তারা চট্টোগ্রামের হালি শহরের ৭১ বাংলা.কম টিভির প্রতিনিধি বলে পরিচয় প্রদান করে। থানা সুত্রে জানা গেছে ,    এব্যাপারে মাদক আইনে মামলা দায়েরর প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয় সাংবাদিক পরিচয়দানকারী শাহজান মিয়ার ছেলে সোহাগ তার নিজ গ্রাম ঝালকাঠি রমজানকাঠিতে সংবাদ নিয়ে জানাযায়, সোহাগ তিনবছর পূর্বে ঢাকাতে চায়ের দোকানের ব্যবসা করতো। তার এক ভাই রাজিব চট্রগ্রামে গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে কাজ করতো সেই সুবাধে সে তার ভাইয়ের কাছে চট্রগ্রামে গিয়ে হোটেল ব্যবসায় শুরু করে। এসএসসি পাশ করা সোহাগ সেখান থেকে একটি অনলাইন পত্রিকায় কাজের সুযোগ পায় এর পর থেকেই সাংবাদিক পরিচয়ে মাদক ব্যবসা শুরু করে। সেই সাথে নিজ এলাকার কয়েকজন যুবকদের নিয়ে মাদক ব্যবসায় করে আসছিলো।
ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম

6889total visits,215visits today