• বুধবার ( সকাল ৬:৪৭ )
    • ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

ঝালকাঠিতে অবৈধ ভাবে ড্রাইভিং লাইন্সেস করার অভিযোগঃ১১ জনের জেল জরিমানা

ইমাম বিমান ঝালকাঠি হতেঃ
ঝালকাঠিতে অবৈধ ভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার অভিযোগে ১১জনের অর্থদন্ড সহ ২জনকে জেল দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ঝালকাঠি শাখা অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
বুধবার দুপুরে বিআরটিএ অফিসের কথিত দালাল আব্দুলাহ ও রিদয়ের সহযোহগীতায় চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে অবৈধভাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসা ১১ জনকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি  (বিআরটিএ) শাখা ঝালকাঠি কার্যালয় থেকে লাইসেন্স প্রদানের জন্য আঙুলের ছাপ নেওয়ার সময় আটক করে পুলিশ। এ সময় পুলিশ দুই দালাল সহ তাদেরকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করে। ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এনডিসি মোঃ বসির গাজী লাইসেন্সের জন্য আঙ্গুলের ছাপ দিতে আসা ১১ জন কে ১০০০ টাকা করে জরিমানা এবং রিদয় নামের এক জন কে সাত দিনের জেল ও দালাল আবদুল্লা কে বিশ হাজার টাকা জরিমানা সহ ছয় মাসের জেল প্রদান করেন।
অনুসন্ধান করে জানাযায়, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ঝালকাঠি শাখার সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসন্সে প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দালালের মাধ্যমে ঘুষ নিয়ে ঝালকাঠি জেলার বাইরের লোকজনকেও লাইসেন্স দিচ্ছেন তিনি। সরকার নির্ধারিত টাকার ব্যতিরেকে দ্বিগুন টাকা না দিলে লাইসেন্স দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেছেন মোটরযান চালকরা।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, বিআরটিএ ঝালকাঠি জেলা শাখার সহকারী পরিচালক মো. আইয়ুব আনছারী ২০০৭ সালে চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তাঁর কার্যালয়ে মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য দালাল নিয়োগ করেন সাতকানিয়া উপজেলার বারকোনা গ্রামের আবদুল হককে। আর এই দালাল আবদুল হকের মাধ্যমে তিনি ঘুষ নিয়ে লাইসেন্স প্রদান করতেন। ঘুষের টাকা দিয়ে তিনি অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলেন। এসব ঘটনায় ২০০৭ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। ওই মামলায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ।
পরবর্তীতে তিনি চাকরি ফিরে পেলে ভোলায় বদলী করা হয়। সেখানেও দালাল আবদুল হকের মাধ্যমে ঘুষ নেন তিনি। চার মাস পূর্বে তাকে ঝালকাঠিতে বদলী করা হলে ঝালকাঠিতে যোগদানের পর এখানেও গড়ে তোলেন দালাল সিন্ডিকেট। ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি তিন হাজার ৬০ টাকা থাকলেও দালালের মাধ্যমে লাইসেন্স প্রতি ছয়-আট হাজার টাকা নেন তিনি। ঘুষ দিয়ে লাইসেন্সের আবেদন করলে সেই প্রার্থীকে মোটরযান চালানোর পরীক্ষায় অংশ নিতে হয় না। শুধু টাকা দিয়ে আঙুলের ছাপ দিলেই পাওয়া যায় লাইনেন্স। ঘূষের টাকা না দিলে কাউকে লাইসেন্স দেওয়া হয় না। তিনি ঝালকাঠিতে আসার পর বরিশালের কাউনিয়া এলাকার হৃদয় মৃধা নামে একজনকে দালাল হিসেবে নিয়োগ করেন। সে ফরম পূরণ করে দেয়, এজন্য তাকে ৫০ টাকা এবং প্রতিদিন ৫০০ টাকা খরচ দেন কর্মকর্তা। এমনকি বরিশাল থেকে ওই কর্মকর্তার গাড়িতে করে ঝালকাঠি আসা যাওয়া করেন দালাল হৃদয়। ঝালকাঠি বিআরটিএ সহকারী পরিচালক আইয়ুব আনছারীর গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ডেবরা গ্রামে। তিনি বর্তমানে বরিশাল বসবাস করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোটরযান চালকরা জানান, ঝালকাঠি বিআরটিএ কার্যালয়ের দালাল হৃদয় মৃধার মাধ্যমে ঘুষ নেন সহকারী পরিচালক। জনপ্রতি ছয়-আট হাজার টাকা দিলে কোন পরীক্ষা ছাড়াই লাইসেন্স দেওয়া হয়। সরকার নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আবেদন করলে, তা গ্রহন করেন না কর্তকর্তা। তিনি নানা অযুহাত দেখিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেন। নিয়মানুযায়ী যদি কারো আবেদন রাখেন, তাদের আবার মোটরযান চালানোর পরীক্ষায় অকৃতকার্য দেখান। পরে বাধ্য হয়ে তাঁর কার্যালয়ের দালালের কাছে যেতে হয় লাইসেন্স করতে আসা মানুষদের।
শহরের ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক মো. ইব্রাহিম বলেন, আমি বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়ে লাইসেন্স করার নিয়ম জানতে যাই। আমাকে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলে, সারাজীবনেও লাইসেন্স পাওয়া যাবে না বলে জানান দালাল হৃদয়। সে আমার কাছ থেকে সাত হাজার ৬০ টাকা দাবি করেন। তিন হাজার টাকা স্যারকে (সহকারী পরিচালক) দিতে হবে বলে সে টাকা দাবি করে। টাকা দেওয়ার অল্প কিছু দিনের মধ্যেই আমার আঙুলের ছাপ নিয়ে লাইসেন্স প্রদান করেন।
এদিকে চট্টগ্রামে চাকরি করার সময় ঝালকাঠি বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আইয়ুব আনছারীর গড়ে তোলা দালাল সিন্ডিকেটের মধ্যে অন্যতম আবদুল হক এখনো সক্রিয়। আবদুল হকের মাধ্যমে সে চট্টগ্রামের লোকজনেরও মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করেন। এজন্য তিনি জনপ্রতি আট হাজার করে টাকা নেন। বুধবার আবদুল হক চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার ১১জন যুবককে লাইসেন্স করানোর জন্য ঝালকাঠি নিয়ে আসেন।
এ বিষয় অভিযুক্ত যুবকরা জানান, তারা চট্টগ্রামের শাহ জব্বার এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যেতে আগ্রহী। এজেন্সি কর্তৃপক্ষ ওই যুবকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স করার তাগিদ দেন। এ লাইসেন্স করা থাকলে তাদের সৌদি নেওয়া যাবে বলেও জানান। ওই যুবকরা চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে গেলে, তাদের অনভিজ্ঞতার কারণে লাইসেন্স দেয়নি কর্তৃপক্ষ। পরে দালাল আবদুল হকের মাধ্যমে তারা ঝালকাঠি বিআরটিএ কার্যালয়ে লাইসেন্স করাতে আসেন। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তিন তলায় ওই ১১জনকে সন্দেজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে এনডিসি মো. বশির গাজী তাদের ডেকে কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে তারা আবদুল হকের মাধ্যমে লাইসেন্স করার জন্য এখানে এসেছেন বলে স্বীকার করেন। লাইসেন্সের জন্য তারা জনপ্রতি আট হাজার টাকা করে দিয়েছেন।
ঝালকাঠির নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. বশির গাজী বলেন, আমি সকাল সাড়ে আটটায় অফিসে প্রবেশের সময় কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখি। তাদের ডেকে ঠিকানা জানতে চাইলে তারা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে। কি কারণে এখানে এসেছেন জানতে চাইলে তারা বলে বিআরটিএ অফিসে লাইসেন্স করার জন্য। তখন সন্দেহ হলে তাদের আমার কক্ষে নিয়ে যাই। তাদের কাছ থেকে বিস্তুারিত জেনে সিন্ডিকেটের সবাইকে ধরে ফেলি। এর মধ্যে দালাল আবদুল হককে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, পরিশোধ না করলে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর এক দালাল হৃদয়কে সাত দিনের কারাদণ্ড এবং লাইসেন্স করাতে আসা ১১ জনকে এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কাছে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
এব্যাপারে ঝালকাঠি বিআরটিএ সহকারী পরিচালক আইয়ুব আনছারী বলেন, আমি এসব কিছুই জানি না। চট্টগ্রাম থেকে কারা এসেছে, আমি তাদের চিনি না। আমি কোন দালাল প্রশ্রয় দেই না। কারো কাছ থেকে টাকাও নেই না। দালাল কেউ থেকে থাকলে আমি তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবো।
ক্রাইমডায়রি//ক্রাইম
Total Page Visits: 17098

নোয়াখালীতে ভূয়া ডাক্তারকে ৮মাসের জেল ও প্রাইম হাসপাতালকে জরিমানা

নোয়াখালী অফিসঃ

ভূয়া ডাক্তারকে ৮মাসের জেল ও প্রাইম হাসপাতালকে ২লক্ষ ৫হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুকনুজ্জামান খান। সুত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী জেলা শহরের উকিলপাড়ায় (মাইজদি) এস এম নাজমুল হুদা নামীয় একজন চিকিৎসক হিসেবে ভুয়া ডাক্তার-নাম-পদবী ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সাথে  প্রতারণা করে আসছিল।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  ভ্রাম্যমান আদালত  এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: রোকনুজ্জামান খান

আদালত পরিচালনা করে ভূয়া ডাক্তার ও হাসপাতাল সরেজমিনে পরিদর্শন করে অভিযোগের  ব্যাপারে সত্যতা খুঁজে পান। এ সময় আদালতের সহযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন ,ডাঃ মো: মোমিনুর রহমান, সিভিল সার্জন নোয়াখালী, মো: মাসুদ হাসান,ড্রাগ সুপার নোয়াখালী, দেবানন্দ সিনহা, সহকারী পরিচালক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নোয়াখালী ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা সুধারাম মডেল থানা পুলিশ।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২.৭.১৯) সন্ধ্যা ৭টায় নোয়াখালী জেলা শহরের মাইজদী এলাকায় উকিল পাড়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করে এস.এম.নাজমুল হুদাকে (৩৯) যোগ্যতা না থাকা সত্বেও নিজেকে যোগ্য দাবী করে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে ধোঁকা দেওয়ার অপরাধে নিরাময় হাসপাতালের সামনে থেকে আটক করা হয়। এ সময় তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পাশ্ববর্তী আকসা গার্ডেনে তার বাসার তিন তলায় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে চিকিৎসা চেম্বারে তল্লাশী করা হয়। এসময় তার নামীয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র ও চিকিৎসা প্রদানের যন্ত্রপাতি পাওয়া যায়। এস এম নাজমুল হুদা (৩৯) তার নামীয় ব্যবস্থাপত্রে ডাক্তার নাম-নাম-পদবী-ডিগ্রী ইত্যাদি ভূয়া হিসেবে প্রমাণিত হয় ও তিনি অপরাধ স্বীকার করেন। মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ এর ২৮ ধারায় ৮মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়ে নোয়াখালী জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এছাড়াও,বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা সদরের হাসপাতাল রোড এলাকায় প্রাইম হাসপাতালে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আদালত পরিচালনাকালে হাসপাতালের শয্যা অনুয়ায়ী যেখানে ১৫জন ডিউটি ডাক্তার থাকার আইন রয়েছে সেখানে পাওয়া গেছে মাত্র তিন জন ডিউটি ডাক্তার, অপারেশন থিয়েটার অপরিচ্ছন্ন, ফার্মেসীতে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ, ফামের্সীর ফ্রিজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের সঠিক মাত্রা না পাওয়া, হাসপাতাল ক্যান্টিনের অপরিস্কার-অপরিচ্ছন্নতা অপরাধ আমলে নেওয়া হয়। মেডিক্যাল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারী ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরী (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৮২, ঔষধ আইন ১৯৪০, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর বিভিন্ন ধারায় ২লক্ষ ৫হাজার টাকা জরিমানা দন্ড আরোপ ও আদায় করা হয়। জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে,জনস্বার্থে ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত চলবে এবং এ বিষয়ে

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট  রুকনুজ্জানান খান রুকন সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

ক্রাইম ডায়রি//আদালত//জেলা

 

Total Page Visits: 17098

>>>>জুলহাসের কবিতা-“কুলকিনারা”<<<<

>>>>>কুলকিনারা<<<<<<<

বিধির কাছে পরবে ধরা
কেউ পাবেনা জামিন,
মাপ তুমি যতই চাও
বলবেনা  কেউ আমিন।
পথভ্রষ্ঠের নেই ঠিকানা
যতই খোজ কুলকিনারা,
সমুদ্রের অতল তলে

অফুরন্ত গহীন।
যাযাবরের মতো পথিক

পথে পথে ঘুরে,

দেহখাঁচা পড়েই রবে

রূহ যাবে উড়ে।।

হতভাগা পথিক,

কেউ দিবেনা মুল ঠিকানা

ভাববে সবই সঠিক।
>>>>>>> লিখেছেন—কবি. জুলহাস

Total Page Visits: 17098