• শনিবার ( রাত ১০:৫৩ )
    • ২৪শে আগস্ট, ২০১৯ ইং

আদালতের মন্তব্যঃরাষ্ট্রপতি এবং প্রধাণমন্ত্রী ভি আইপি;বাকী সবাই প্রজাতন্ত্রের চাকর

শাহাদাত হোসেন  রিটনঃ
অমানবিক মৃত্যুর পর টনক নড়েছে পুরো দেশবাসীর। আলোচনা সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় ঘটনাটি। স্বপ্রণোদিত হয়ে আদালতে রিট করা হয়। এতে, রাষ্ট্রপতি আর প্রধানমন্ত্রী ছাড়া দেশে কোনো ভিআইপি নেই বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। যুগ্ম সচিবের অপেক্ষায় মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে তিন ঘণ্টা দেরিতে ফেরি ছাড়ায় স্কুলছাত্র তিতাসের মৃত্যুর ঘটনায় করা রিটের শুনানিতে বুধবার এ মন্তব্য করেন আদালত। আদালতের এ নির্দেশনায় জনগনের চাওয়ার প্রতিফলন ঘটেছে বলে অনেকে মনে করছেন।।     সংশ্লিষ্ট যুগ্ম সচিব ও ফেরির ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানিতে আদালত বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি আর প্রধানমন্ত্রী ছাড়া দেশে কোনো ভিআইপি নেই। বাকিরা সবাই প্রজাতন্ত্রের চাকর।’
উল্লেখ্য গত কয়েকদিন আগে   নড়াইল কালিয়া পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাস ঘোষ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা ভাড়া করা একটি আইসিইউ সম্বলিত অ্যাম্বুলেন্সে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির উদ্দেশে রওনা দেন পরিবারের লোকজন। রাত ৮টার দিকে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌ-রুটের মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ১ নম্বর ভিআইপি ফেরিঘাটে পৌঁছায় অ্যাম্বুলেন্সটি। তখন কুমিল্লা নামে ফেরিটি ঘাটে যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় ছিল। সরকারের এটুআই প্রকল্পের যুগ্ম সচিব আবদুস সবুর মণ্ডল পিরোজপুর থেকে ঢাকা যাবেন বলে ওই ফেরিকে অপেক্ষা করতে ঘাট কর্তৃপক্ষকে বার্তা পাঠানো হয়। তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর ফেরিতে ওঠে অ্যাম্বুলেন্সটি। এসময় ফেরী কর্তৃপক্ষকে জীবনভিক্ষা চেয়ে অনুনয়-বিনয় করে তিতাসের মাসহ পরিবার। বহু কান্নাকাটির পরও মন গলেনি তাদের। কিন্তু এর মধ্যে মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যায় তিতাস। এ ঘটনা তদন্তে সোমবার (২৯ জুলাই) তিনটি কমিটি গঠন করা হয়।
বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটের শুনানি হয়। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জহির উদ্দিন লিমন।পুরো দেশই শুধু নয় বিশ্বমানবতা স্থম্ভিত। বঙ্গকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে পুরো বাংলাদেশ যাতে এহেন ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি দেখতে না হয়।।
ক্রাইম ডায়রি/// জাতীয়///আদালত

6847total visits,173visits today

পুলিশের ব্যক্তিগত কাজে গাড়ি রিকুইজিশনে নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টের

এড.আবুল বাশার, হাইকোর্ট সংবাদদাতাঃ

যখন তখন গাড়ি রিকুইজিশন করে নেয়া দেখলে মনে হয় নিজ দেশে  পরবাসী হয়ে আছে গাড়ির মালিকেরা।প্রাচীনকালে  কর বা জিজিয়া প্রদানের মত বাধ্য হয়েই এটা করতে হয় সাধারণ মানুষের। আদালতের  দৃষ্টিগোচর হলে জনগনের স্বার্থে    ব্যক্তিগত কাজে গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশা ও ট্যাক্সি রিকুইজিশন করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপির) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোশতাক হোসেন।রায় শেষে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্ট কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়েছেন।

সেগুলো হলো- যে কোনো গাড়ি রিকুইজিশন অবশ্যই জনস্বার্থে করতে হবে। যদি কেউ না করে সে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।রিকুইজিশন করা গাড়ি কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত বা পরিবারের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না। করলে অসদাচরণের জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।

রিকুইজিশন করা গাড়ির ব্যাপারে প্রত্যেক পুলিশ স্টেশনে তালিকা সংরক্ষণ করতে হবে। ব্যক্তিগত গাড়ি রিকুইজিশন করা যাবেনা।  রিকুইজিশনের ব্যাপারে যে কোনো অভিযোগ পুলিশ কমিশনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।

রিকুইজিশনকৃত গাড়ির ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। গাড়ির পেট্রোল খরচ বহন করতে হবে। চালকদের খাবার খরচ দিতে হবে।ছয় মাসের মধ্যে একই গাড়ি দ্বিতীয়বার রিকুইজিশন করা যাবে না। নারী, শিশু, রোগী থাকলে সে গাড়ি রিকুইজিশন করা যাবে না।

পুলিশ কমিশনার একটি সার্কুলার ইস্যু করে সব পুলিশ কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন এবং নির্দেশনা মানা নিশ্চিত করবেন।আদালত মামলাটি চলমান রেখেছেন বলে জানিয়েছেন মনজিল মোরসেদ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশের ১০৩(ক) ধারার অধীনে পুলিশ কর্তৃক গাড়ি রিকুইজিশনের বিধান নিয়ে ২০১০ সালে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করা হয়েছিল। তবে এইরায়ে খুশি পুরোদেশবাসী।

ক্রাইম ডায়রি///আদালত///

6847total visits,173visits today

পাস্তুরিত দুধে নিষেধাজ্ঞাঃঃ ইউ এইচটি দুধে নয়ঃ শংকায় বিক্রেতারাঃআট সপ্তাহের জন্য বাঁধা নেই মিল্ক ভিটায়

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

দুধ নিয়ে নিষেধাজ্ঞা হওয়ায় দিশেহারা খুচরা বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলো। সুপারশপ গুলোও সিদ্ধান্ত নিতে পারছেনা তাদের করণীয় সম্পর্কে।  পাস্তুরিত ও ইউ এইচটি দুধ সম্পর্কে কি আদেশ এটা না বুঝতে পারায় এমন জটিলতায় ভূগছেন তারা। তবে আদালতের নির্দেশনা পাস্তুরিত দুধের উপর। প্রাণসহ ১৪ কোম্পানির পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন ও বিপণন পাঁচ সপ্তাহের জন্য বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব দুধ ক্রয় ও মজুদ করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।রোববার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এ আদেশ দেন।

বিএসটিআইয়ের লাইসেন্সধারী এই ১৪ কোম্পানির উৎপাদিত দুধে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক ও ধাতব উপাদানের (সিসা) উপস্থিতি থাকায় আদালত এ নিষেধাজ্ঞা দেন।প্রাণসহ ১৪টি প্রতিষ্ঠানই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নিয়ে পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন ও বিক্রি করে আসছিল। হাইকোর্টের এ আদেশের ফলে ৫ সপ্তাহ দেশে বৈধভাবে পাস্তুরিত দুধ বিক্রির কোনো সুযোগ থাকল না।

আদালতে বিএসটিআইয়ের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সরকার এমআর হাসান, রিট আবেদনকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার অনীক আর হক ও তানভীর আহমেদ। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম।

নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠান গুলোর ব্রান্ডগুলো হচ্ছে যথাক্রমে—    ১. প্রাণ ডেইরি লিমিটেডের প্রাণ মিল্ক, ২. আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের ফার্মফ্রেশ মিল্ক, ৩. আমেরিকান ডেইরি লিমিটেডের মো, ৪. বাংলাদেশ মিল্ক প্রডিউসারস কো. অপারেটিভ ইউনিয়ন লিমিটেডের মিল্ক ভিটা, ৫. বারো আউলিয়া ডেইরি মিল্ক অ্যান্ড ফুডস লিমিটেডের ডেইরি ফ্রেশ, ৬. ব্র্যাক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রজেক্টের আড়ং ডেইরি, ৭. ড্যানিশ ডেইরি ফার্ম লিমিটেডের আয়রান, ৮. ইছামতি ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টের পিউরা, ৯. ইগলু ডেইরি লিমিটেডের ইগলু, ১০. আফতাব মিল্ক অ্যান্ড মিল্ক প্রডাক্ট লিমিটেডের আফতাব, ১১. উত্তরবঙ্গ ডেইরির মিল্ক ফ্রেশ, ১২. শিলাইদহ ডেইরির আল্ট্রা, ১৩. পূর্ব বাংলা ডেইরি ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের আরওয়া, ১৪. তানিয়া ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টসের সেইফ।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, পাস্তুরিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিক, সিসা, ডিটারজেন্ট, ফরমালিন, ব্যাকটেরিয়াসহ ক্ষতিকর উপাদান থাকায় এর বিরুদ্ধে গত বছর আদালত রুল জারি করেন। আমরা আশা করেছিলাম, এই রুল জারির পর দুধ উৎপাদনকারী ও সংশ্লিষ্ট তদারক প্রতিষ্ঠান দুধ পরিশুদ্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।কিন্তু তারা তা করেনি। আদালতের আদেশ দেয়ার প্রয়োজন হল। আইন থাকার পরও ভেজাল দুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আদালত বলেন, আমাদের নির্দেশের পর চারটি ল্যাবে দুধের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

এ পরীক্ষায় দুধে অ্যান্টিবায়োটিক (অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, টেট্রাসাইক্লিন ও সিপ্রোফ্লক্সাসিন) এবং সিসার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ১৪ জুলাই বাজারে থাকা বিএসটিআই অনুমোদিত সব কোম্পানির পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

এসব কোম্পানির দুধে অ্যান্টিবায়োটিক, ডিটারজেন্ট, ফরমালিন, ব্যাকটেরিয়া আছে কি না, তা পরীক্ষা করে চারটি গবেষণাগারকে এক সপ্তাহের মধ্যে আলাদাভাবে প্রতিবেদন দিতে বলেন আদালত।

জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর), ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) ও সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের গবেষণাগারে বাজারের এসব দুধ স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করতে বলা হয়।

সেই সঙ্গে দুধে অ্যান্টিবায়োটিক বা ডিটারজেন্ট আছে কি না, তা পরীক্ষার সক্ষমতা অর্জন করতে বিএসটিআইয়ের ল্যাবরেটরির কত সময় ও অবকাঠামো প্রয়োজন সে বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা আদালতে জমা দিতে বলা হয়। চার ল্যাবরেটরির প্রতিবেদন রোববার আদালতে জমা পড়ে।

এতে দেখা যায়, একটি পরীক্ষায় ১৪ কোম্পানির দুধেই মানবদেহের জন্য অসহনীয় মাত্রার সিসা পাওয়া গেছে। আরেকটি পরীক্ষায় ১৪ কোম্পানির দুধেই পাওয়া গেছে অ্যান্টিবায়োটিক। বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, দুধে অ্যান্টিবায়োটিক বা ডিটারজেন্ট আছে কি না, তা তাদের ল্যাবে পরীক্ষার সক্ষমতা অর্জন করতে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সময় লাগবে।

আদালত রুল জারি করে উৎপাদিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও ক্ষতিকর ধাতব উপাদান থাকায় সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর নিষ্ক্রিয়তা এবং মানুষের জীবন রক্ষার অধিকার ক্ষুণ্ণ করা কেন অবৈধ ঘোষণা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ১৪ ব্র্যান্ডের কোম্পানিসহ ২৩ বিবাদীকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদেশের পর ব্যারিস্টার অনীক আর হক বলেন, ১৪টি ব্র্যান্ডের দুধের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যদিও আমাদের কৃষি খাদ্য, মৎস্য খাদ্য আইনে গবাদি পশু বা যে কোনো পশুর ওপর অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নিষিদ্ধ। কিন্তু তাদের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে।

একই সঙ্গে বিসিএসআইআর ও আণবিক শক্তি কমিশনের ল্যাবের যে রেজাল্ট, সেখানে দুধের মধ্যে হেভি মেটাল, স্পেশালি লেড অর্থাৎ সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, এ সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আদালত আজ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি রুল ইস্যু করেছেন। যে দুধে এসব ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে, সেগুলোর উৎপাদন কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং রাইট টু লাইফের পরিপন্থী হিসেবে ঘোষণা করা হবে না এবং স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ রুলের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়েছেন আদালত।

ফলে আগামী পাঁচ সপ্তাহের জন্য এই ১৪টি লাইসেন্সধারী কোম্পানির দুধের প্রডাকশন, বিপণন এবং এর সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ ক্রেতারা যেন না খায়, সে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেন এগুলো না করে। অর্থাৎ আগামী পাঁচ সপ্তাহ তারা এগুলো উৎপাদন, বিপণন, সেল করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, এর সঙ্গে বিএসটিআইকে বলা হয়েছে তাদের যে মানদণ্ড রয়েছে সেটাকে আপডেট করার ব্যাপারে কী স্টেপ নিয়েছে সেটা জানানোর জন্য। রুলে ১৪ কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য ২৫ আগস্ট দিন ধার্য রেখেছেন।

আইনজীবী এমআর হাসান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে বিএসটিআই পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষা করে থাকে। তবে দুধে কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার থাকতে পারবে না বলে জনস্বার্থে একটি রুল জারি করেছেন আদালত। এখন আমাদের বিএসটিআইয়ের দায়িত্ব হচ্ছে আদালতের রুলের জবাব তৈরি করা এবং দুধের মান বৃদ্ধি করা সম্পর্কে আদালতকে অগ্রগতি জানানো।

তিনি বলেন, কোর্টের আদেশের পর আমরা অবশ্যই বাজার মনিটরিং করব। আদালতের নির্দেশনা রয়েছে, এসব দুধ কোনোভাবেই বাজারজাত না করার। আজ থেকেই আমরা (বিএসটিআই) বাজার মনিটরিং শুরু করব এবং উদ্যোক্তাদেরও তাদের উৎপাদন ৫ সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখার বিষয়ে জানাব।

তবে মিল্কভিটা————

সোমবার (২৯ জুলাই) হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে মিল্ক ভিটা আদালতে আবেদন করে, যা চেম্বার বিচারপতির আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। চেম্বার বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান মিল্ক ভিটার ক্ষেত্রে হাইকোর্টের দেওয়া পাঁচ সপ্তাহের ওই বন্ধের আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন।

মিল্ক ভিটার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মহিউদ্দিন মো. হানিফ।শুনানি শেষে মহিউদ্দিন মো. হানিফ বলেন, মিল্ক ভিটার ক্ষেত্রে হাইকোর্টের দেওয়া ওই আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন চেম্বার বিচারপতি। ফলে মিল্ক ভিটার দুধ উৎপাদন ও বিপণনে আইনগত বাধা কাটল।

এই বন্ধের বিষয়েও আমরা আদালতকে প্রতিবেদন দিয়ে জানাব। বিএসটিআইয়ের এই আইনজীবী আরও বলেন, কোম্পানিগুলো নিজেদের দায়িত্বে দুধ সরিয়ে নেবে বলে তিনি মনে করেন। কারণ কোর্টের আদেশ হওয়ার পরপরই তা কার্যকর করতে হয়।

এরপরও তারা মার্কেট থেকে দুধ তুলে না নিলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি। গত বছরের ১৬ মে বাণিজ্যিকভাবে পাস্তুরিত দুধ সম্পর্কে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর একটি গবেষণা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।২৫ জুন বিএসটিআইয়ের আইনজীবী আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক গত ২৫ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি লেকচার থিয়েটারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কিছু খাদ্যের গুণগত মান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন। বিএসটিআইয়ের আরও কার্যকরীী পদক্ষেপ নেয়া ও পরীক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি   প্রয়োজন বলেও কর্তৃপক্ষ মন্তব্য করেন।

ক্রাইম ডায়রি///জাতীয়

6847total visits,173visits today

হায়রে, স্টার জলসা!দেখতে না দেওয়ায় স্ত্রীর হাতে স্বামী খুনঃ স্ত্রীর যাবজ্জীবন

ক্রাইম ডায়রি  গাজীপুর অফিসঃ


স্টার জলসা দেখা নিয়ে স্বামী খুন,স্ত্রীর যাবজ্জীবন জেল হয়েছে। কি শুনে আশ্চর্য হচ্ছেন?  না অবাক হবার মতো কিছুই নেই। ইন্ডিয়া তবে এক্ষেত্রে দারন সফল। এদের অভিনেতাদের অভিনয় ক্ষমতা এতটাই প্রখর আর চলচিত্র পরিচালকরা এতটাই মেধাবী যে ইন্ডিয়ান চ্যানেল দেখা ঠেকানো খুবই মুশকিল।।।তা দু’চারদিন  দেখলে আপনিও নেশায় পড়তে পারেন।জি বাংলা,স্টার জলসাসহ আরও বেশ কিছু ইন্ডিয়ান চ্যানেলের লোভনীয় ও আকর্ষণীয় সিরিয়াল সত্যিই পাগল করে ফেলেছে নারীদের। ভুক্তভোগী; আমি আপনি সবাই। এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরে ঘটল বিরল ঘটনা।

সোহরাব-রীপা দম্পতি।।।  গাজীপুর সিটির তেলীপাড়া এলাকার মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। গত বছরের ৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে রীপা টিভিতে স্টার জলসা দেখছিলেন। বাসায় ফিরে সোহরাব স্ত্রীকে স্টার জলসা দেখতে বারণ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে রীপা স্বামী সোহরাবকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে এ ঘটনায় নিহত সোহরাবের বাবা শাহজাহান জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এ আর এম আল মামুন তদন্ত শেষে রীপার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। হত্যার দায়ে তাঁর স্ত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল হক এ দণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামির নাম নাহিদা আকন্দ ওরফে রীপা। তাঁর গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার পশ্চিম চালাকচর গ্রামে। তিনি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া এলাকার নিহত সোহরাবের স্ত্রী।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//আদালত

6847total visits,173visits today

কাঁচা মরিচের কেজি ১৬০টাকাঃ বিপাকে ঝিনাইদহের সাধারন মানুষ

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ


বৈরি আবহাওয়া ও মাকড়ের আক্রমণে ঝিনাইদহে মরিচের ফুল নষ্ঠ হওয়ায় কাঁচা মরিচের উৎপাদন ব্যাপক কমে গেছে। এতে বাজারে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলা দেশের অন্যতম কাঁচা মরিচ উৎপাদনকারী এলাকা। খরিপুর ১ মৌসুমে যশোরে ৬’শ ৬৫ হেক্টরে, ঝিনাইদহে ১৫’শ ৭০ হেক্টরে, মাগুরায় ৬’শ ৯৫ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গায় ১৩’শ ৪৯ হেক্টরে, মেহেরপুরে ৪ হাজার ২’শ ৮০ হেক্টরে ও কুষ্টিয়ায দু হাজার ৭৫ হেক্টরে মরিচের চাষ হয়। এসব জেলাগুলোতে প্রচুর মরিচ উৎপাদন হয়ে থাকে। মে জুন মাসে ক্ষেতে প্রচুর কাঁচা মরিচ ধরে। দামও একেবারেই পড়ে যায়। কোন কোন সবজি বাজারে পাইকারি প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ মাত্র ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি হয়। শৈলকুপা উপজেলার গোরিন্দপুর গ্রামের রিপন শেখ জানান, তারা চার ভাই অনেক দিন ধরে মরিচ চাষ করে আসছে। খরিপুর-১ মৌসুমে চাষ করা মরিচ শেষ পর্যায়ে, গাছ মরে যাচ্ছে। মাস দেড়েক আগে পাইকারী প্রতি কেজি মরচি ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তখন ক্ষেত থেকে মরিচ তুলে ভ্যান ভাড়া দিয়ে হাটে এনে বিক্রির পর লাভ থাকতো না। বৃষ্টি কম হওয়ায় মরিচ গাছ মরে যায়। গরম ও মাকড়ের আক্রমণে মরিচ গাছে ফুল ফল কম ধরে। এতে মরিচের উৎপাদন কমে যায়। দাম চড়ে যায়। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ পাইকারী একশ’ ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা একশত ষাট টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিসের উপ-
পরিচালক সুরেন্দ্র শেখর মালাকার জানান, খরিপুর ১ মৌসুমে চাষ করা মরিচ শেষ পর্যায়ে। গরম ও মাকড়ের আক্রমণে মরিচের ফুল ফল নষ্ঠ হওয়ায় উত্পাদন কমে গেছে। বৃষ্টি হলে মরিচের উৎপাদন বেড়ে যাবে বলে তিনি জানান।

6847total visits,173visits today

অবশেষে দুধ বিক্রিতে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞাঃঃ প্রাণ,মিল্কভিটা ও আড়ং তালিকায়

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

দুধ নিয়ে বেশ কিছুদিনের টানাপোড়েন শেষে অবশেষে কাঙ্খিত রায় ঘোষনা   করল হাইকোর্ট। দুধে মানুষের শরীরের সহ্য ক্ষমতার চেয়ে বেশী সীসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তাই, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদন প্রাপ্ত প্রাণ, মিল্ক ভিটা ও আড়ংসহ ১৪টি পাস্তুরিত দুধ কোম্পানিকে দুধ উৎপাদন, বিপণন ও সরবরাহ বন্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেন। এছাড়াও  সবগুলো কোম্পানির দুধ পরীক্ষা করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষায় বিএসটিআইয়ের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ১৪ কোম্পানির মধ্যে ১১টির পাস্তুরিত দুধে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুধে সিসার পাশাপাশি ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি রয়েছে। যদিও বিএসটিআই ৩০৫টি নমুনা সংগ্রহ করে মাত্র দুটি ব্রান্ডের দুধে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ার কথা জানিয়েছে। এছাড়াও ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি তাদের এক গবেষণা তথ্য অনুযায়ী গরুর দুধে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, অ্যান্টিবায়োটিক, দইয়ে ক্ষতিকর সিসা ও গরুর খাদ্যেও মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকসহ নানা ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পাওয়া গেছে বলে জানায়।

তখন এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওইসব প্রতিবেদন আমলে নিয়ে হাইকোর্ট গত ১১ ফেব্রুয়ারি স্বত:প্রণোদিত হয়ে রুল ও আদেশ জারি করে।

আদালত ঢাকাসহ সারা দেশের বাজারে কোন কোন কোম্পানির দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য পণ্যে কী পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক এবং সিসা মেশানো রয়েছে, তা নিরূপণ করে একটি জরিপ প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দেয়। জাতীয় নিরাপদ খাদ্যকর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআইকে এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। বি এস টি আই খাদ্যের মাণ পরীক্ষা করে ব্যবহারের নির্দেশনা প্রদান করে।

এর আগে গত ২৫ জুন এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাবি বায়োমেডিকেল রিসার্স সেন্টারের পরিচালক আ ব ম ফারুকসহ ফার্মেসি অনুষদের কয়েকজন শিক্ষক দুধে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়ার গবেষণার ফলাফল জনসম্মূখে তুলে ধরেন। কিন্তু এরপরও সংশয় কাটেনি খামারি এবং এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান হওয়া কোটি যুবকের।  দুধ শিল্প নিয়ে স্বপ্ন দেখা যুব সমাজ তাই যারপরনাই হতাশায় ভূগতে শুরু করেছে।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়//আদালত

6847total visits,173visits today

রাজধানীতে হাসপাতাল মালিক দুই ভূয়া চিকিৎসক আটক

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃঃ

ভূয়া ডাক্তার নিয়ে লেখালের শেষ নেই। কিন্তু কোন অবস্থাতেই বন্ধ হয়নি ভূয়াদের দৌরাত্ব। কি রাজধানী, কি মফস্বল! সবজায়গাতেই হাতুড়ে আর ভূয়াদের আনাগোনা। তিনি কোনোরকম এসএসসি পাশ। এরপর ১৩ বছর ধরে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছিলেন গাইনি চিকিৎসক হিসেবে। দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছিলেন ভুয়া চিকিৎসা। দুই রোগীর জরায়ুতে অস্ত্রোপচার করে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় অভিযান চালায় র‍্যাব। দেখা যায়, অভিযুক্ত হাসপাতালটির দুই চিকিৎসকই ভুয়া।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ির ধোলাইরপাড়ে অবস্থিত হাসপাতালটি। নাম কিউর জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। গতকাল বুধবার (২৫ জুলাই) রাতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় হাসপাতালটির দুই ভুয়া চিকিৎসকসহ তিনজনকে আটক করে র‌্যাব ১০ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাদেরকে আট লাখ টাকা জরিমানাসহ দুই বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সিলগালা করে দেওয়া হয় হাসপাতালটি।

একই সঙ্গে দুই ভুয়া চিকিৎসককে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালটির মালিক রাহিমা আক্তারকে চার লাখ টাকা জরিমানাসহ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। এর আগে বুধবার (২৫ জুলাই) রাতে যাত্রাবাড়ির ধোলাইরপাড়ে অবস্থিত কিউর জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ডিজি হেলথ’র পরিচালক ডা. মো. শফিউর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলম বলেন, কিউর জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক রাহিমা আক্তার। এসএসসি পাশ করে ২০০৮ সাল থেকে ১৩ বছর নিজেকে গাইনি চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে আসছেন তিনি। পরিচালনা করছিলেন হাসপাতালটি। সেখানকার আরেক ভুয়া চিকিৎসক এস এম আল মাহমুদ। নিজেকে এমবিবিস ও এফসিপিএস ডিএমসিএইচ পরিচয় দিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন তিনিও।

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযানে আরও দেখা যায়, কোনো স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের মতামত ছাড়াই শাবানা নামে এক রোগীর জরায়ু কেটে ফেলে দেওয়া হয়েছে। অপারেশনের সময়ও ছিল না কোনো কনসালটেন্ট। দুইজন ভুয়া চিকিৎসক মিলেই অপারেশন করে ফেলেন। হাসপাতালের মালিক এসএসসি পাশ রহিমাও নিজেকে ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসা দেন এবং অপারেশন করেন। এছাড়া গত ১০ জুলাই সিজার করার সময় এ হাসপাতালে এক নবজাতক মারা যায়।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, দুই বছর আগেও ওই হাসপাতালটিকে জরিমানা করা হয়। তবুও বন্ধ হয়নি এসব ভূয়াদের দৌরাত্ব। উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহন না করলে লাভজনক এ পেশায় ভূয়ারা আরও বেশি প্রবেশ করে মারাত্বক ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে জনস্বাস্থ্যকে।

ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম//আদালত

6847total visits,173visits today

রাজাপুরে স্মার্ট কার্ড বিতরনে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

ইমাম বিমান, ঝালকাঠি অফিসঃ
https://youtu.be/qmSEYuVgpw0
রাজাপুরে স্মার্ট কার্ড বিতরনে খোদ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাধারন জনগন।
ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে  রাজস্ব খাতের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ।
২৫জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়ন পরিষদে স্মার্ট কার্ড বিতরণের সময় নির্বাচন কর্মকর্তা আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। এ বিষয় অভিযোগ কারীরা জানান, যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেছে অথবা ডুপ্লিকেট কপি আছে তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩৪৫ টাকার পরিবর্তে ৩৬০ টাকা ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং এর নামে ভুয়া কাগজ দিয়ে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। এতে অভিযোগকারীরা মনে করেন নির্বাচন অফিসারের যোগসাযোগে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব ফাকি দিচ্ছেন সংঘবদ্ধ এই চক্রটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিষদের দ্বিতীয় তলার কন্যারের একটি কক্ষে কোন রকমের ডিভাইস বিহীন গৌরনদী উপজেলার শুসান্ত শিকারীর ছেলে গৌরনদীতে অবস্থিত পার্থ কম্পিউটার সিস্টেম এর কর্মচারী সৌরভ শিকারী কাজ করছেন আর অপরদিকে কাজ তদারকির জন্য একই কক্ষের ভিতরে দাড়িয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ দাড়িয়ে প্রকাশ্যে ধুমপান করছেন। জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন বা হারিয়ে যাওয়া অথবা ডুপ্লিকেট কপি যাহাদের আছে তাদের কাছ থেকে আবু ইউসুফের ছত্রছায়ায় সৌরভ শিকারী ব্যাংক বা মোবাইল ট্রানজেকশন ছাড়াই নাম মাত্র একটি স্লিপের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি টাকা জমা নিচ্ছেন।
এ বিষয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি অভিযোগ করে জানান, রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে  স্মার্ট কার্ড বিতরনের সময় নির্বাচন অফিসার প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং যদি এই চক্রটি বাকী সব ইউনিয়নে তাদের প্লান বাস্তবায়ন করতে পারেন তাহলে এই উপজেলা থেকে কয়েক লক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিবেন।
অভিযাগকারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যাংকিং ছারা টাকা নেওয়ার বিষয়ে সৌরভ শিকারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি গ্রাহকদের সুবিধার্থে রেজিষ্টারে লিখে রাখি পরবর্তীতে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে দিবো। অথচ নির্বাচন কমিশনের নিয়মানুযায়ী, যাদের পরিচয়পত্র হারিয়ে গেছে তাদের চালান ফরমের মাধ্যমে নির্ধারিত কোডে ৩৪৫ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে ভেন্যু থেকে স্মার্ট কার্ড গ্রহন করতে হবে।
এ বিষয়ে শুক্তাগড় ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুল হক মৃধার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আমি আগে শুনেছি হারিয়ে যাওয়া কার্ডের জনপ্রতি  ৩৪৫ টাকা নেওয়ার কথা কিন্তু এখন দেখি তারা ৩৬০ টাকা নিচ্ছেন। তবে তারা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন কিনা তা জানিনা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা  ক্রাইম ডায়রিকে   জানান, “হারিয়ে যাওয়া কার্ডের জনপ্রতি ৩৪৫ টাকা এবং ডাচ বাংলা ব্যাংকের ভ্যাট বাবদ ১৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। টাকা নেওয়ার সময় এন্টি করতে দু একটা ভুল হতে পারে তবে আমরা গ্রাহকদের কাছ থেকে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার সময় টাকা জমা দেওয়ার রশিদ ফেরত রাখা হয়। প্রকাশ্যে ধুমপান একটি আইনগত অপরাধ। যদিও
এ বিষয়ে কোন বাধ্য বাধকতা দৃশ্যমান নয় তবুও তিনি সরকারি কর্মকর্তা হয়ে এটা করতে পারেন কিনা এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি নিশ্চুপ থাকেন।
ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//জেলা

6847total visits,173visits today

আলোকিত বগুড়ার উদ্যোগে সীমাবাড়ি মহিলা কলেজ চত্তরে বৃক্ষরোপন

আলমগীর হোসেন, সীমাবাড়ি সংবাদদাতাঃ

আলোকিত বগুড়া সীমাবাড়ী শাখার আয়োজনে সীমাবাড়ী মহিলা কলেজে বিভিন্ন বনজ ফলজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন আলোকিত বগুড়ার পরিচালক এ্যাডভোকেট ফেরদৌসি আক্তার রুনা।

সিমাবাড়ী শাখার সভাপতি- বেটখের উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম আকন্দ,
সম্পাদক- কাজী মুহাঃ আলমগীর হোসাইন।  সীমাবাড়ি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সাবিনা বেগমসহ আলোকিত বগুড়ার সদস্য বীরমুক্তিযোদ্বা আলহাজ ইমরুল কায়েস,
আসাদুল ইসলাম,শামীম কামালসহ আর ও অনেকে।

ক্রাইম ডায়রি// জেলা///শিক্ষাঙ্গন

6847total visits,173visits today

এন্টি টেররিজম ইউনিটের হাতে হিজবুত তাহরীরের সংগঠক তানভির গ্রেফতার

ক্রাইম ডায়রি ডেস্কঃঃ

জঙ্গিবাদ একটি জাতীয় সমস্যা। জঙ্গিদের হাতে তার নিজ পরিবারও নিরাপদ নয় ।  অন্যের   জীবন কিংবা পরিবারের তবে কি অবস্থা তা সহজেই অনুমেয়৷ জঙ্গিবাদ নিরসন ও দমনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সবচেয়ে সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ বাংলাদেশ পুলিশের এন্ট্রি টেররিজম ইউনিট গঠন । গঠনের পর হতেই  ধারাবাহিক সাফল্যের অংশ হিসেবে  এন্টি টেররিজম ইউনিট, বাংলাদেশ পুলিশ নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন হিযবুত তাহরীর বাংলাদেশ এর সক্রিয় সংগঠক তানভীর হাসান নাঈম (৩১) কে শেখদি, মাতয়ুাইল, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা থেকে গত ২২/০৭/২০১৯ ইং তারিখে দিবাগত রাত্রিতে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত তানভীর ঢাকা কলেজ থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন এবং আলফ্রেড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের একাউন্টিং এর সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে ২০০৮ সাল হতে হিযবুত তাহরীর বাংলাদেশ এর সাথে সাংগঠনিকভাবে যুক্ত হয়। সে ঢাকা মহানগরীর প্রচারণা ও দাওয়া বিভাগের অন্যতম প্রধান হিসেবে কাজ করছিল।

আটককৃত তানভীর ইতোপূর্বে ২০০৯ সালে পল্টন থানায় হিযবুত তাহরীর সংশ্লিষ্ট ঘটনায় দায়েরকৃত একটি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল বলে জানা গেছে ।
গত ০৫ জুলাই, ২০১৯ ইং তারিখে নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরীর এর “আসন্ন খিলাফত রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক রূপরেখা” শীষর্ক অনলাইন সম্মেলনের লিফলেট বিতরণ, পোষ্টারিংসহ অনলাইন প্রচারের সাথে গ্রেফতারকৃত তানভীর হাসান @ নাঈম সরাসরি
সম্পৃক্ত ছিল। গ্রেফতারকৃত নাঈম ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণ, পোষ্টারিং, এলাকা ভিত্তিক হালাকা প্রোগ্রামসহ অনলাইনে প্রচারণার মাধ্যমে হিযবুত তহরীর কাজকে বেগবান করার জন্য সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিল।
গ্রেফতারকালে এন্টি টেররিজম ইউনিটের সদস্যগণ তানভীর হাসান  নাঈমের ভাড়া বাসা হতে প্রচুরসংখ্যক সরকার বিরোধী লিফলেট, পুস্তিকাসহ উগ্রবাদী বই, ০৪ (চার) টি মোবাইল ফোন, ০১ (এক) টি ল্যাপটপ, পেনড্রাইভ এবং একটি হার্ডডিস্ক উদ্ধার করে জব্দ করে। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা ও খেলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র করায়
“সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী ২০১৩)” এর ৮/৯/১০/১১/১২/১৩ ধারায় যাত্রাবাড়ি থানায় মামলা নং-১১২ তারিখ-২৩/০৭/২০১৯ ইং দায়ের করা হয়েছে।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//আইন শৃঙ্খলা

6847total visits,173visits today