• রবিবার ( রাত ১০:০৯ )
    • ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং

প্রসঙ্গ ভাবণাঃরিফাত হত্যাকান্ড ও মিন্নির দুই বিয়ে

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

এই মুহূর্তের সারাদেশ কাঁপানো সংবাদ হলো বরগুনায় প্রকাশ্য দিবালোকে রিফাত হত্যাকান্ড। ঘটনার নাটকীয়তায় হতভম্ব পুরো বিশ্ব। তবে সাবধানের মার নেই। অন্ততঃ পরিবারের কাউকে বিয়েশাদি করাতে গেলে মানুষ ভাববে।
https://youtu.be/YEvrtCrSDzUবরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী মিন্নির সঙ্গে প্রধান আসামী সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডের বিয়ে হয়েছিল। তাদের বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাজী মো. আনিসুর রহমান ভূইয়া। তিনি বরগুনা পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্টার। বরগুনা পৌরসভার ডিকেপি রোডের কেজি স্কুল নামক স্ট্যান্ডে তার অফিস।।

নয়ন বন্ড ও আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির বিয়ের প্রথম সাক্ষী রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের দ্বিতীয় আসামি বাকিবুল হাসান রিফাত ওরফে রিফাত ফরাজি। গত বছরের ১৫ অক্টোবর আছরের নামাজের পর তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের দেনমোহর হয়েছিল ৫ লাখ টাকা। তবে দেনমোহরের কোনো নগদ পরিশোধ ছিল না।

এ বিষয়ে কাজী মো. আনিসুর রহমান বলেন, বিয়ে করার জন্য নয়ন ও মিন্নিসহ ১৫ থেকে ২০ জন লোক আসে আমার অফিসে। এসময় নয়ন ও মিন্নি তাদের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার প্রমাণ স্বরূপ এসএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেট নিয়ে আসে। এরপর আমি মেয়ের বাবার সঙ্গে কথা বলে জানতে চাইলে তারা বলে, মেয়ের বাবা আসবে না, আপনি মেয়ের মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর মিন্নির মা পরিচয়ে একজন আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

সেই মহিলা আমাকে বলেন, বিয়ের বিষয়টি আমরাতো জানি। মিন্নির বাবা বিয়েটা এখন মানবে না। আপনি বিয়ে সম্পন্ন করেন। বিয়ের কিছুদিন পর ঠিকই মেনে নেবেন। এরপর আমি পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে নয়ন ও মিন্নির বিয়ে সম্পন্ন করি। এ বিয়ের উকিল ছিলেন শাওন নামের একজন। শাওন ডিকেপি রোডের মো. জালাল আহমেদের ছেলে।

যদিও মিন্নি বলেছিলেন,” আমার বিয়ে হয়েছে একমাত্র রিফাত শরীফের সঙ্গে। এছাড়া আর কখনো কারও সঙ্গে বিয়ে হয়নি। যেহেতু বিয়েই হয়নি, ডিভোর্স হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। রিফাতই আমার স্বামী এবং এটাই সত্য। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই দাবি করি, যারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে আমি তাদের ফাঁসি চাই।”

তবে সমাজ ও সামাজিকতা নিয়ে চিন্তিত দেশকে ভালবাসেন এমন সবাই।  এ বিষয়ে  পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম রসুল বলেন ”  সম্প্রতি দেশজুড়ে রিফাত হত্যাকান্ড নিয়ে ফেসবুকিং ঝড়, নিন্দা, স্বামীকে বাঁচাতে একজন নারীর করুন আর্তনাদ ও প্রচেষ্টা, মানুষের পশুর মতো আচরণ ইত্যাদি দেখতে ও শুনতে পাচ্ছি।

একজন মানুষকে প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তায় ফেলে কুপিয়ে মারছে, সেখানে কিছু মানুষরুপি জানোয়ার ও পশু দাঁড়িয়ে দেখছে।
ভালো-মন্দ, পক্ষে-বিপক্ষে অনেক লোকের অনেক রকম মতামত আছে ও থাকবে।
আমার মতে:
১। খুনিদের বিচার হোক।
২। যারা দাঁড়িয়ে দেখেছে ওরা ও সহযোগী। ওদের ও বিচার হোক।
৩। অনেকে মেয়েটির কথা বলছে, সে যদি প্রকৃত দোষী হয় তাহলে তার ও বিচার হোক। এক্ষেত্রে ওই মেয়ের সাথে খুনিদের মোবাইল কথোপকথন ও অন্যভাবে যোগাযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা দরকার।
৪। মূল কথা খুনের সাথে যারা জড়িত তাদের কঠোর শাস্তি হোক। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন সাহস না পায়।”

তার এই মতের সাথে একমত বিবেকবান মানুষেরা। তবে আরও যাচাই করে আরও গভীরে মেপে।

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম

5654total visits,105visits today