• রবিবার ( রাত ১০:০৪ )
    • ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং

যমুনার কড়াল থাবার কবলে শাহজাদপুরবাসী

শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ 

যমুনার কড়াল গ্রাস হতে সাময়িকের জন্য রক্ষা পেলেও আবার ভাঙন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে শাহজাদপুরবাসী। প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল  সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী থেকে বিনোটিয়া পর্যন্ত যমুনা নদীর ১০ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ বাঁধ।  সময়ের বিবর্তনেে সামান্য সময়ের ব্যবধানে    গুদারাঘাট, ভাটপাড়া নতুন বাজার, গুধিবাড়ী, জগতলা পূর্বপাড়, বাসুরিয়া পূর্বপাড় ও কাশিপুর এসব এলাকার প্রায় অর্ধশত স্থানে ধ্বসে গেছে। ফলে যমুনা নদী তীরবর্তী  গ্রামবাসীরা একদিকে যেমন মাথা গোঁজাবার ঠাই নিয়ে  চিন্তিত তেমনি   তাদের হাটাচলার একমাত্র  পথটিও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ১শ’ বছরের টেকসই এ বাঁধটি নির্মানের কয়েক বছরের মধ্যে জিও টেক্সটাইল সরে গিয়ে সিসি ব্লকের নীচের মাটি যমুনার ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ধ্বসে যাওয়ার পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। যদিও তীর সংরক্ষণ বাঁধের পশ্চিম বরাবর হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে তৈরি হচ্ছে  অরেকটি বন্যা নিয়ন্ত্রন্ত্রিত বাঁধ। তীর  সংরক্ষণ বাঁধ অরক্ষিত না থাকলে হাজার কোটি টাকা বাঁধটিও হুমকির মুখে পড়বে।  শুষ্ক মৌসুমে যমুনায় পানির স্তর যে পর্যন্ত নেমে যায় সে পর্যন্ত এই বালি ভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ দিয়ে ডাম্পিং করা হয়। এরপর শুষ্ক মৌসুমে পানির সর্বনিম্ন স্তরের উপর থেকে সিসি ব্লক দিয়ে তীরের সম্পূর্ণ উপরিভাগ পর্যন্ত বেধে দেয়া হয়। ফলে যমুনা নদীর স্রোতের ধাক্কা ও পানির ঘুর্ণাবর্তে নদীর তীর ভেঙ্গে যাওয়ার সুযোগ ও সম্ভাবনা কমতে থাকে। ওই বাঁধের নির্মান কাজ শেষ হয় গত ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে। পাউবো কর্তৃপক্ষ সেসময় জানিয়েছিল,যেহেতু টেকসই ও উন্নতমানের জিও টেক্সটাইল ব্যাগ পানির নিচে থাকা অবস্থায় ১শ’ বছরেও পচন ধরবে না সেহেতু বাঁধ নিমার্ণকাজ সম্পন্ন হবার পর আগামী ১শ’ বছরেও যমুনা নদীর তীর ভাঙ্গার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু বাস্তবে তার বিপরীত চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। নির্মাণের ৩ বছরের মাথায় ২০১৩ সালে পায় ৩টি স্থানে ধ্বসে যায়। বর্তমানে তা ৫০টি স্থানে পরিণিত হয়েছে। এলাকাবাসী ও বিভিন্ন হজাদপুরে সুত্রে জানা গেছে,    কৈজুরী থেকে বিনোটিয়া পর্যন্ত যমুনা নদীর ১০ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ কাজ সম্পন্ন হবার পর শান্ত ও থমকে দাড়ায় প্রমত্তা, প্রবলা, প্রগলভা যমুনার আগ্রাসী ভাঙ্গন। ফলে কৈজুরী থেকে শুরু করে গুদিবাড়ী, ভাটপাড়া, লোহিন্দাকান্দি, জামিরতা, জগতলা, বালিয়াহাটা, খাউর‌্যা, মৌকুড়ি, কাশিপুর, মারজান, ফকিরপাড়া, বেনুটিয়া, গুপিয়াখালী, ভেড়াখোলা, তারুটিয়া ও চর পেচাকোলা গ্রামের এলাকাবাসী এর সুফল পেতে শুরু করে। শাহজাদপুরের কৈজুরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ও গালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন জানান, ‘বিগত প্রায় এক যুগে শাহজাদপুরের এ দুই ইউপির মোট ৪৮টি গ্রামের মধ্যে ৩০টি গ্রামই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ওই বিলীন হওয়া গ্রামগুলোতে বসবাসকারী সাড়ে ৫ সহস্রাধিক পরিবার সব হাড়িয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ভেঙে গেছে তিন  হাজার তাঁত ফ্যাক্টরী, ২টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৭টি বে-সরকারী, ৬টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রায় কোটি টাকা ব্যায়ে ২টি স্কুল কাম ফ্লাড সেল্টার, ১৮টি মসজিদ, ৮টি মাদরাসা, জনতা ব্যাংক, গ্রামীণ ব্যাংকের পাকা ভবন, গালা ইউনিয়নের হাতকোরা, বেনুটিয়া, তারুটিয়া হাটবাজার এবং বিপুল পরিমাণ ফসলী জমি। যমুনা নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধটি ভেঙ্গে গেলে ভাঙনের কবলে পড়বে কৈজুরীহাট এলাকার ২ শতাধিক আধাপাকা ছোটবড় দোকানঘড়, ২টি স’মিল, ৩টি তেল মিল, ৪টি ধানভাঙ্গা মিল, ঠুটিয়া হাইস্কুল এন্ড কলেজের কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত দুটি পাকা দ্বিতল ভবন, সরকারী খাদ্যগুদাম, সারেরগুদাম, বিএস কোয়ার্টার, তহসিল অফিস, স্বাস্থ ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র, পোষ্ট অফিস, দাতব্য চিকিৎসালয়, বাংলা ১৩৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কৈজুরী হাট জামে মসজিদ, কৈজুরী ফাজিল মাদরাসা, ও প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যায়ে হুরা সাগরের ওপর নির্মিত সেতু। এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি  বাঁধটি দ্রুত নির্মাণ করে সম্পদ ও জীবনের ক্ষতির হাত  হতে জনজীবন রক্ষা করা  হোক।

ক্রাইম ডায়রি/// জেলা

5619total visits,70visits today

লাইসেন্স ছাড়া প্যাকেটজাত দুধ কোম্পানির তালিকা চেয়েছে হাইকোর্ট

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

হাইকোর্টের জনবান্ধব কার্যক্রমের কারনে দারুণ সন্তুষ্ট বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ।    খাদ্যের ভেজাল নিয়ে জন অসন্তুষ্টি  দীর্ঘদিনের।  হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের  কারনে প্রতারকরা এখন সাবধান হয়েছে। প্রতারণাও কমেছে  যথেষ্ট।  সম্প্রতি, তরল প্যাকেটজাত দুধ নিয়েও চলছে প্রতারণা। তাই, মাননীয় হাইকোর্ট লাইসেন্স ছাড়াই ঠিক কতটি কোম্পানি ঢাকা মহানগরীতে দুগ্ধজাত পণ্য বাজারজাত করেছে, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) এর কাছে তার তালিকা চেয়েছেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই তালিকা দাখিল করতে বলা হয়েছে।রোববার (২৩ জুন ) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

বিএসটিআই বলছে, মাত্র ১৮টি প্রতিষ্ঠান পাস্তুরিত দুধ বিক্রিতে তাদের লাইসেন্স নিয়েছে।এছাড়া দুধের সীসা নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন তৈরিকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির (এনএফএসএল) প্রধান ডা. শাহনীলা ফেরদৌসীকে প্রতিবেদন নিয়ে কোনো প্রকার ডিস্টার্ব (বিরক্ত) না করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আদালতের নির্দেশ মতে, ৩০৫টি নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করে দুটি প্রতিষ্ঠানের পণ্য নিম্নমানের বলে প্রতিবেদন দিয়েছে বিএসটিআই। আর নমুনা সংগ্রহ করে ৫ জায়গায় পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে জানিয়ে প্রতিবেদন দিতে একমাস সময় চেয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য ১৫ জুলাই দিন রেখেছেন। আদালতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। বিএসটিআই’র পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান মামুন; আর অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব ছিলেন দুদকের পক্ষে। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিনউদ্দিন মানিক।

হাইকোর্ট গত ১৫ মে এক আদেশে ডা. শাহনীলা ফেরদৌসীকে তার প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশে ২১মে সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতে হাজির হয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন অধ্যাপক ড. শাহনীলা ফেরদৌসী।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘গাভির দুধ ও দইয়ে অ্যান্টিবায়োটিক, কীটনাশক, সিসা!’ শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গাভির দুধে (প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়া) সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশক ও নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের উপাদান পাওয়া গেছে। পাওয়া গেছে বিভিন্ন অণুজীবও।

একই সঙ্গে প্যাকেটজাত গাভির দুধেও অ্যান্টিবায়োটিক ও সীসা পাওয়া গেছে মাত্রাতিরিক্ত। বাদ পড়েনি দইও। দুগ্ধজাত এ পণ্যেও মিলেছে সীসা।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির (এনএফএসএল) গবেষণায় এসব ফলাফল উঠে এসেছে। সংস্থাটি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আর্থিক সহায়তায় গাভির খাবার, দুধ, দই ও প্যাকেটজাত দুধ নিয়ে এ জরিপের কাজ করেছে।

ওই প্রতিবেদন নজরে আসার পর ১১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ আদেশ দেন। আদেশে গাভির দুধ (প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়া) ও বাজারের প্যাকেটজাত দুধ, দই এবং গো-খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে তাতে কি পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক, অ্যান্টিবায়োটিক, সীসা, রাসায়নিক মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর তা নিরূপণে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

কমিটিকে প্রতি ৬ মাস পরপর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। নিজেদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য মানুষ যাতে সঠিক তথ্য সম্পর্কে জানতে পারে সেজন্য কমিটির দেওয়া প্রতিবেদন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুধ, দই ও গো-খাদ্যে ভেজাল মেশানোর ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দুধ, দই এবং গো-খাদ্যে ভেজাল মেশানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে একটি কমিটি গঠন করতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ কমিটিকে তিনমাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//আদালত

 

5619total visits,70visits today