• রবিবার ( রাত ১০:০১ )
    • ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং

সারা দেশে দুদকের তিন অভিযানঃটার্গেট ভুমিদস্যুতা, বালু উত্তোলন ও পাসপোর্ট অফিস

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে আজ   দেশের তিন স্থানে আজ দুদকের দুর্নীতি প্রতিরোধ অভিযান পরিচালিত করেছে দুদক।

কেইস স্টাডি  ০১ঃ—-
যশোর জেলার কেশবপুরে সরকারি খাসজমি দখল করে মাছের ঘের করার অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, যশোর-এর উপপরিচালক মোঃ নাজমুচ্ছায়াদাত –এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। দুদক টিম সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সার্ভেয়ার-এর সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করে দেখে, ৩৩৫ ফুট সরকারি রাস্তা দখল করে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য এ মাছের ঘের করেছেন। সমন্বিত টিম পরিমাপ করে দেখে, ৫৫ ফুট চওড়া রাস্তার মাত্র ৩ ফুট ব্যবহারযোগ্য রয়েছে, অবশিষ্ট পুরোটাই দখলীকৃত হয়েছে। দুদক টিমের এ পর্যবেক্ষণকে আমলে এনে অতিসত্বর উক্ত জমির সীমানা চিহ্নিত করা হবে মর্মে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অবহিত করেন। স্থানীয় জনসাধারণ জানান, উক্ত এলাকায় এরূপ আরও সরকারি খাসজমি দখল করা হয়েছে। এ জমিসমূহ উদ্ধারে তাঁরা দুদককে অভিযান চালানোর জন্য অনুরোধ করেন।

কেইস স্টাডি ০২ঃ——–
এদিকে পাবনা জেলার সুজানগর থানার পদ্মা নদীর তীরে বালু উত্তোলনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পাবনার একটি টিম আজ (১২/০৫/২০১৯ খ্রি.) এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করে। দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে(হটলাইন- ১০৬) আগত অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায় দুদক টিম। তারা এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ করে। এ প্রসঙ্গে কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
কেইস স্টাডি ০৩ঃ——
অপরদিকে লক্ষীপুর পাসপোর্ট অফিসে অভিযান পরিচালনা করেছে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালীর একটি টিম। টিম সেবাপ্রত্যাশীদের সাথে কথা বলে। দুদক টিমের উপস্থিতি আঁচ করতে পেরে দালালরা পালিয়ে যায়। টিম সেবার মান উন্নয়নে সহকারী পরিচালক-কে পরামর্শ প্রদান করে বলে দুদক  সুুুুত্রে  জানা গেছে৷

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম///দুদক বিট

5606total visits,57visits today

৬৫ দিন মাছ শিকার বন্ধের প্রজ্ঞাপনঃ৫০হাজার জেলে চরম উৎকন্ঠায় 

শেখ সাইফুল ইসলাম কবির.সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার,বাগেরহাটঃ
মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রনালয় কর্তৃক গোটা সুন্দরবনের বঙ্গোপসাগরে ২০ মে থেকে ২৩  জুলাই  পর্য ন্ত মোট দু’মাস ৫দিন মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এতে চরম উৎকন্ঠায় পড়েছে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল ৫০হাজার জেলেসহ উপকুলীয় এলাকার জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবীতে ইতিমধ্যে বাগেরহাট,মোড়েলগঞ্জ  ,শরণখোলা, পিরোজপুর,বরগুনা, পাথরঘাটা,  সহ উপকুলীয় জেলা ও উপজেলাগুলিতে মানববন্ধন, সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে জেলেদের বিভিন্ন সংগঠন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জৈষ্ঠ মাস থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত শরণখোলাসহ উপকুলের লক্ষাধিক জেলে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ আহরন করে।

জৈষ্ঠ মাসে প্রথমে সমুদ্র যাত্রার জন্য গত চৈত্র মাস থেকে মৎস্য ব্যবসায়ীরা মহাজনদের কাছ থেকে দাদনের টাকা নিয়ে এবং কেউ কেউ ব্যাংক ও এনজিও থেকে লোন নিয়ে স্ব স্ব জেলেদের অগ্রীম টাকা প্রদান করেন। ট্রলার মেরামত এবং জাল ক্রয় কিংবা জাল রিপেয়ার করে যখন সমুদ্রে যাবার সময় ঘনিয়ে এসেছে, ঠিক তখন ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার খবরটি যেন তাদের মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে।
শরণখোলার রাজৈর এলাকার এফবি খায়রুল ইসলাম ফিশিং ট্রলারের মালিক জাকির হোসেন, এফবি ৮ ভাই ফিসের মালিক আনোয়ার হোসেন, এফবি মায়ের দোয়ার মালিক রফিকুল ইসলাম ও এফবি জিসানের মালিক মনির হোসেনসহ অন্যান্যরা জানান, সরকার এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করলে জেলেরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়বেন।

শরণখোলা উপজেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম কালাম ও শরণখোলা উপজেলা মৎসজীবি সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন জানান, এটি সরকারের একটি আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত। হঠাৎ এরকম সিদ্ধান্তে উপকুলের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। এ সময়ে ভারতসহ অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের জেলেরা বঙ্গোপসাগর থেকে সকল প্রকার মাছ ধরে নেয়ার আশংকা রয়েছে। বিষয়টি সরকারকে পুনঃ বিবেচনা করার দাবী জানান নেতৃবৃন্দ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে গত ২৮ এপ্রিল বরগুনায় উপকুলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার অন্ততঃ ১৫ হাজার জেলেদের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবীতে বড় ধরনের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়েছে। শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে লিখিত স্মারকলিপি বরগুনা জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলে সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ।

এছাড়াও উপকুলের বিভিন্ন স্থানে একই দাবীতে একাধিক কর্মসুচী পালিত হয়েছে। এসব কর্মসুচীতে জেলে পরিবারের হাজার নারী পুরুষ অংশগ্রহন করেছে।
এ বিষয়ে মৎস্য বিভাগের খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক রনজিৎ কমার পালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর পূর্বে প্রতি বছর সাগরে ট্রলিং ট্রলারের ক্ষেত্রে এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর ছিল। এবারে যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক সকল নৌযান এ নিষিদ্ধের আওতায় এসেছে। এ সময়টায় অধিকাংশ মাছ ডিম ছাড়ে।

এ কারনেই সরকার এধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া, মা ইলিশ রক্ষায় অক্টোবরের শেষ থেকে ২২ দিনের অবরোধ কার্যকর থাকবে বলে তিনি জানান। ক্রাইম ডায়রি/// জেলা

5606total visits,57visits today