• রবিবার ( রাত ১০:০৫ )
    • ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং

বোরো ধান কাটা শ্রমিক সংকট ১ মণ ধানে একজন শ্রমিক

শেখ সাইফুল ইসলাম কবির.সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার,বাগেরহাটঃ
বাগেরহাট সহদেশের সব এলাকাতেই প্রায় শুরু হয়ে এসেছে মাঠ থেকে সোনালী ফসল ঘরে তোলার ধুম। ফলে চলতি বোরো মৌসুমের ধান কাটা ও মাড়াই শেষে গোলায় তুলতে এখন ব্যস্ত চাষিরা।এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক। ফণির তাণ্ডবে কৃষকরা আধাপাকা ক্ষেতের ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করলেও শ্রমিক সংকটের কারণে তা হয়ে উঠেনি।
মাঠে একযোগে ধান কাটা শুরু হওয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ সাড়ে শ’ ৫থেকে ৬শ’টাকা দরে। অথচ একজন শ্রমিকের দাম হাকানো হচ্ছে সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা।কিছু কিছু এলাকাতে মজুরি আরও বেশি। শ্রমিকের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় ক্ষেতের ধান ঘরে তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের। গত কয়েকদিনের ঝোড়ো হাওয়ায় মাঠের বেশির ভাগ ধান নুইয়ে পড়াই শ্রমিক লাগছে তুলনামূলক  বেশি।বাগেরহাটের ৯ উপজেলার প্রায় এলাকাতেই শুরু হয়ে এসেছে মাঠ থেকে সোনালী ফসল ঘরে তোলার ধুম। ফলে চলতি বোরো মৌসুমের ধান কাটা ও মাড়াই শেষে গোলায় তুলতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষি শ্রমিকের দাম বেশী থাকায় হতাশ চাষিরা, তাদের এই হতাশা পুরো মৌসুম জুড়ে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে শ্রমিক স্বল্পতা ও অতিরিক্ত মজুরি। শ্রমিক সংকট ও মজুরির অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দেশের অধিকাংশ এলাকাতেই এখন এক মণ ধানের বাজার মূল্য একজন শ্রমিকের দিনের পারিশ্রমিকের সমান। কিছু কিছু এলাকাতে মজুরি আরও বেশি। এ বিষয়ে স্থানীয় ধান চাষি আলমগীর হোসেন জানান, একজন শ্রমিক তিন বেলা খাওয়া এবং দিন শেষে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা দিতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় একজন শ্রমিকের পেছনে দিন শেষে যে খরচ তা উঠবে বলে মনে হয় না। গত মৌসুমেও শ্রমিক সংকট ও মজুরির হার এমন তীব্র ছিল না। কিন্তু নানা কারণে এবার শ্রমিক সংকট এতো বেশি যে, আগের মৌসুমের তুলনায় দ্বিগুণ পারিশ্রমিকও দিতে হয়েছে কোনো কোনো এলাকায়। শ্রমিক সংকট ও পারিশ্রমিকের এ পার্থক্যের কারণ হিসেবে জানা যায়, এ অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় একই সময়ে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হওয়ায় শ্রমিক চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকরা প্রয়োজনীয় শ্রমিক পায় না।
চার বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন ফকিরহাটে গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, এরমধ্যে আগের ১বিঘা জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। বাকি ধান পেঁকে গিয়েছে অথচ কাটা-মাড়াইয়ের কাজে এলাকায় কোনো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এই এলাকার শ্রমিকরা সাধারণত সকাল ৭টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কাজ করে থাকে। এখন ভরা বোরো ধান কাটা মৌসুমে এলাকার বাইরে থেকে শ্রমিক এনে তারা দিনভর ধান কাটা মাড়ায় কাজ করে একজন শ্রমিক ৯শ’থেকে হাজার টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। একই কথা বললেন ফকিরহাটে গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আফতাব উদ্দিন বলেন, এবার বাগেরহাট ৯উপজেলায় ধানের ফলন ভাল হয়েছে। এরইমধ্যে ধান কাটা মাড়াও শুরু হয়েছে। ফণির আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে কৃষকরা তাদের আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করে। এছাড়া মাঠের ধান পেকে যাওয়ায় সবায় একযোগে ধান কাটা শুরু হওয়ায় শ্রমিকের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।এ বিষয়ে ফকিরহাটের স্থানীয় ধান চাষী মন্টু জানান, একজন শ্রমিক তিন বেলা খাওয়া এবং দিন শেষে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দিতে হয়। অনেক সময় দেখা যায় একজন শ্রমিকের পেছনে দিন শেষে যে খরচ তা উঠবে বলে মনে হয়না। গত মৌসুমেও শ্রমিক সংকট ও মজুরির হার এমন তীব্র ছিল না।

কিন্তু নানা কারণে এবার শ্রমিক সংকট এতো বেশি যে, আগের মৌসুমের তুলনায় দ্বিগুণ পারিশ্রমিকও দিতে হয়েছে কোনো কোনো এলাকায়। শ্রমিক সংকট ও পারিশ্রমিকের এ অস্বাভাবিকতার কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখো গেলো ব্যতিক্রম বাদে পুরো দেশের চালচিত্র একই রকম। দেশের অধিকাংশ এলাকায় একযোগে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু  হওয়ায় শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকরা প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাননি। তবে আগাম চাষের এলাকায় এ সমস্যা ছিল না।

শ্রমিক সংকটের কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সারাদেশে আর্থ-সামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে এবং তৈরি হয়েছে গ্রামীণ পর্যায়ে বিভিন্ন খামার, কারখানা ও ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান। সেইসঙ্গে সারাদেশেই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নগরায়ন ও শিল্পায়ন।

এছাড়া অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারের লোকজন জীবিকার তাগিদে পোশাক কারখানা বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি, শহর এলাকায় রিকশা-ভ্যান, টেম্পু, অটোরিকশা চালনার কাজে যুক্ত হয়েছেন। এ পেশায় উপার্জন বেশি হওয়ায় কৃষি শ্রমিকের জীবনে বেশিরভাগ মানুষই আর ফিরে যেতে চান না। অনেকেই  মুরগী খামার, মাছ চাষ, মুদি দোকান করছেন। ফলে দিনকে-দিন কমে গেছে কৃষি শ্রমিক।ক্রাইম ডায়রি//কৃৃষি

5629total visits,80visits today

আইন সবার জন্য সমানঃ সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তার জেল

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

অজানা সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপন করার মামলায় সুপ্রিম কোর্টের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার ছয় বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ওই কর্মকর্তার স্ত্রীর তিন বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।ঢাকার বিশেষ জজ-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান আজ বৃহস্পতিবার এই রায় দেন। দণ্ডিত প্রশাসনিক কর্মকর্তা হলেন গোলাম ফারুক। তাঁর স্ত্রীর নাম সৈয়দা মমতাজ। দুজনই পলাতক।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, গোলাম ফারুকের অবৈধ সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হলো। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গোলাম ফারুককে সম্পদের বিবরণী জমা দিতে ২০১১ সালের ১৮ এপ্রিল নোটিশ দেয় দুদক। পরে গোলাম ফারুক দুদকে তাঁর সম্পদের হিসাব জমা দেন। ফারুক ৭০ লাখ ৫১ হাজার ২৯৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেন। তদন্ত শেষে গোলাম ফারুক ও তাঁর স্ত্রী মমতাজের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর আদালত দুদকের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এই দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে আটজন সাক্ষীকে হাজির করা হয়।

ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম// দুদক বিট

5629total visits,80visits today

নারায়ণগঞ্জে ভূয়া ডাক্তারকে জরিমানা করেছে RAB

ফারুক হোসেন হৃদয়ঃ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অনুমোদনবিহীন হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে হাসপাতালটি সিলগালা করে বন্ধ করে দেয়া হয়। সেই সঙ্গে ১ জন ভুয়া ডাক্তারকে ২ বছর ও হাসপাতালের ম্যানেজারকে ১ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে।

বুধবার সানার পাড় এলাকার হেলথ কেয়ার আধুনিক হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ অভিযান চালানো হয়। র‌্যাব-১১ এর সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সরোয়ার আলম।

র‌্যাব-১১ এর মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সানার পাড় এলাকার অনুমোদনহীন বেসরকারি হাসপাতালটিতে অভিযান চালানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এসএসসি পাশ মো. তানভীর আহমেদ সরকার (৩৪) নিজেকে বড় মাপের ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। তাকে সহায়তা করছে হাসপাতালের ম্যানেজার আবুল বাশার।পরে স্বাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামিরা দোষ স্বীকার করলে আদালত ভুয়া ডাক্তার তানভীরকে ২ বছরের ও ম্যানেজার আবুল বাশারকে ১ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া আদালতের নির্দেশে হেলথ কেয়ার আধুনিক হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সিলগালা করে দেয়া।

ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম

5629total visits,80visits today