• শনিবার ( রাত ১১:০৩ )
    • ২৪শে আগস্ট, ২০১৯ ইং

রংপুরে ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামী RAB এর হাতে গ্রেফতার

রংপুর সংবাদদাতাঃ

রংপুরে ধর্ষণ মামলার আসামীকে গ্রেফতার করেছে RAB.সে এই মামলার একমাত্র আসামী। সুত্রে জানা গেছে,      রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া থানাধীন ধামুর মধ্য পাড়া গ্রামস্থ গঙ্গাচড়া টু বড়াইবাড়ি গামী পাকা রাস্তার পশ্চিম পার্শ্বে জনৈক নুরুজ্জামান মিয়ার বসত বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে বর্ণিত মামলার একমাত্র আসামী মোঃ মেহেরুল হক (২৫) কে গ্রেফতার করা হয়।

ঘটনাসুত্রে  প্রকাশ,গত ১৪ অক্টোবর ২০১৬ ইং তারিখ রংপুর মহানগরীর কোতয়ালী থানাধীন পূর্ব নাজির দিগর এলাকার পিতা-মোঃ মহুবর রহমান ধাপা এর বখাটে ছেলে মোঃ মেহেরুল হক (২৫) কর্তৃক রংপুর মহানগরীর কোতয়ালী থানার জনৈক মোঃ রুবেল মিয়া (৩২) (ছদ্মনাম)এর ৬ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষনের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা মোঃ রুবেল মিয়া (৩২) পরবর্তীতে রংপুর জেলার কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন যার নং ৭৬ তারিখ-১৮ অক্টোবর ২০১৬ এবং জিআর-৯০৭/২০১৭ ধারা-২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯ (৪) (খ) তৎসহ ৩২৩/৫০৬ দঃবিঃ। চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ চেষ্টার এ ঘটনাটি তখন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়। এদিকে মামলা দায়েরের পর পুলিশ সরোজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে আসামীর বিরুদ্ধে গত ৩১ মার্চ ২০১৭ ইং তারিখ অভিযোগপত্র দাখিল করে। তখন থেকে অভিযুক্ত মোঃ মেহেরুল হক (২৫) বিগত ০৩ বৎসর যাবত পলাতক ছিল। অভিযুক্ত আসামী গ্রেফতার না হওয়ার সংবাদটি সাম্প্রতিককালে স্থানীয় গণমাধ্যমে আবার প্রকাশিত হলে র‌্যাব-১৩ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে এবং আসামীর অবস্থান সনাক্ত করার সর্বাত্নক প্রচেষ্টা চালায়। এমতাবস্থায়, র‌্যাব-১৩, রংপুরের একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইং ২৪ এপ্রিল ২০১৯ তারিখ সন্ধ্যায় রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া থানাধীন ধামুর মধ্য পাড়া গ্রামস্থ গঙ্গাচড়া টু বড়াইবাড়ি গামী পাকা রাস্তার পশ্চিম পার্শ্বে জনৈক নুরুজ্জামান মিয়ার বসত বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে বর্ণিত মামলার একমাত্র আসামী মোঃ মেহেরুল হক (২৫) কে গ্রেফতার করে। র‌্যাবের প্রাথমিক জিঙ্গাসাবাদে সে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃত আসামীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ক্রাইম ডায়রি/// আইন শৃঙ্খলা

6925total visits,251visits today

মহেশপুরে মাদকাসক্ত যুবকের ‘টাকা না দেওয়ায়’ ক্ষিপ্ত হয়ে মা ও নানীকে কুপিয়ে হত্যা !

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌর এলাকার নওদাগ্রামে মানসিক বিকারগ্রস্থ যুবক ইমরান (২৬)’র ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মা ও নানী নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো-ওই গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের মেয়ে মর্জিনা খাতুন ও স্ত্রী শামসুন্নাহার (৭০)। বৃহস্পতিবার ভোররাতে যশোর সদর হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়। মহেশপুর থানার ওসি রাশেদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাতে ইমরান তার মায়ের কাছে টাকা চাই। টাকা না দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে মা ও নানিকে কুপিয়ে গুরুতর যখম করে। সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ওসি আরও জানান, মহেশপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের কারিগরী বিষয়ের শিক্ষক মর্জিনা বেগম তার সন্তান ইমরান ও তার মা শামসুন্নাহারকে নিয়ে বসবাস করতেন। ছেলে ইমরান ছিল মানসিক রোগী। বিভিন্ন সময় সে তার মা ও নানীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। ২০০৪ সালে যখন তার মায়ের ডিভোর্স হয় সে বছর সে তার দাদাকে মারধোর করে। পরবর্তীতে তাকে দুইদফা পাবনা মানষিক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রাত ২ টার দিকে চিৎকার শুনে লোকজন বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান দুই জনই ঘরের মেঝেতে পড়ে আছেন। ইমরান ওই সময়েই পালিয়ে যায়। এদিকে এলাকাবাসী বলছে, ইমরান মাদকাসক্ত। টাকার জন্য প্রায়ই তার মাকে মারধর করতো। রাতেও তার মায়ের কাছে নেশার জন্য টাকা চেয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে ইমরান।

6925total visits,251visits today

ই-কমার্স নীত‌িমালা এখন সময়‌ের দাবী

সেলিম সরকারঃ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে, এখন ঘরে বসেই কেনাকাটার অবারিত সুযোগ তৈরী হয়েছে। পৃথিবীর যেকোনো দেশ থেকে পছন্দের পণ্যটি অনলাইনে অর্ডার দিলে, মাত্র এক সপ্তাহ থেকে বড় জোর একমাস সময়ের মধ্যেই তা হাতে এসে পৌঁছায়। দেশের অভ্যন্তরীণ অনলাইন শপ থেকে কিনলে তা হাতে পেতে সময় লাগে বড় জোর দু’দিন। আর নিজ শহরে পণ্যের অর্ডার দিলে, মাত্র দু’ চার ঘন্টার মধ্যেই পণ্য নিয়ে দরজায় এসে কড়া নাড়েন বিক্রেতা। অনলাইনের এই ব্যবসাকে নাম দেয়া হয়েছে ‘ই-কমার্স’ হিসেবে।

কী নেই এই বাজারে! ছোট্ট শিশুর খেলনা থেকে শুরু করে কোটি টাকার গাড়ি-বাড়ি, গহনা-শাড়ি সবই আছে এখানে। আছে চাল, ডাল, আলু, বেগুন, টমেটো কিংবা মাছ, মাংস। মোটা স্বাস্থ্য চিকন বা চিকন স্বাস্থ্য মোটা করার জাদুকরী ঔষধও আছে এখানে। ঔষধ থেকে শুরু করে ডাক্তার, নার্স এমনকি পুরো হাসপাতালও মিলছে অনলাইন সেবা খাতে। মানুষের নিত্য নতুন চাহিদার কারণে, প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত হচ্ছে ই-কর্মাস ব্যবসার পরিধি। নতুন, নতুন পণ্যের বাজার সৃষ্টির পাশাপাশি নতুন অনেক কর্মসংস্থানও হচ্ছে এই খাতে। ই-কমার্স এর সুবাদে নগদ লেনদেনও কমছে। ফলে কাগজের নোটের ব্যবহার কমানোর চেষ্টা আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে।

প্রযুক্তির উৎকর্ষে পণ্যের বাজার যত বড়ই হোক, তা মানুষের হাতের মুঠোর চেয়ে বড় নয়। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো অফিসিয়াল কার্যক্রমও ঘরে বসেই পরিচালিত হবে। এতে করে এক অফিসেই হাজার, হাজার মানুষ তাদের কাজ চালিয়ে যাবেন। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে ইতোমধ্যেই শিক্ষা, চিকিৎসাসহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ সেবা অনলাইনের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে। লাখ, লাখ তরুণ আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে, ঘরে বসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করছেন। বাংলাদেশের বেকার যুবকদের একটা বড় অংশ এখন আউট সোর্সিংয়ে নিয়োজিত। প্রতিনিয়ত এই সংখ্যা আশানুরূপ হারে বাড়ছে।

তবে দুঃখজনক বিষয় হলো, ই-কমার্স এর চাহিদা বৃদ্ধির দরুণ, প্রতারকরাও এই বাজারে ঢুকে পড়েছে। তারা অখ্যাত কোম্পানীর নকল পণ্য বিক্রি করে ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করছে। প্রতারকচক্র সাধারণ মানুষের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে, স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ বিভিন্ন নকল ও মানহীন পণ্য বিক্রয় করছে। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই ‘হারবাল ফুড’ নামে বিক্রি করা হচ্ছে এসব পণ্য। অনেক ক্রেতা এসব পণ্য কিনে প্রতারিত হয়েও লজ্জায় সাধারণত কাউকে কিছু বলেননা। শাড়ি, কসমেটিক্স, শো-পিছ ইত্যাদি পণ্য হাতে পেয়ে অনেকে নাখোশ হন। তারা অনলাইনে দেখা পণ্যের সাথে বাস্তবের পণ্যের গুণগত মানের বৈপরীত্যের অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে, অগ্রীম টাকা নিয়ে বিক্রেতার লাপাত্তা হওয়ার কথাও শোনা যায়। টাকা হাতিয়ে নিয়ে এই চক্র ফোন বন্ধ করে দেয়। ওয়েব সাইটে সাধারণত এসব প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ঠিকানা উল্লেখ থাকেনা। থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সেখানে অন্য প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি লক্ষ্মিপুরের একজন ক্রেতা অনলাইনে একটি ঘড়ির অর্ডার করেন। কিন্তু বাস্তবে তার ঠিকানায় পাঠানো হয় দুটি পেঁয়াজ। গণমাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হয়েছে। কিছুদিন আগে একজন ক্রেতা একটি মোবাইল ফোনের অর্ডার দেন। কিন্তু প্যাকেট খুলে দেখতে পান কিছু ইটের টুকরো। এমন অনেক প্রতারণা নষ্ট করছে ই-কমার্স এর ভবিষ্যত। একের পর এক প্রতারণার শিকার হলে, মানুষ একসময় এই বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। ধ্বংস হবে সম্ভাবনাময় এ খাতটি।

প্রতারণা ঠেকাতে এখনই সরকারিভাবে এর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। এসব সাইটে থাকা পণ্যের গুণগত মান, বৈধতা, স্বাস্থ্য বিষয়ক পণ্যসমূহের যথাযথ অনুমোদন ও দামের বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা দরকার। ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান মনিটরিং করতে হবে। এ দুটি মন্ত্রণালয়ের যেকোনো একটির ওয়েব সাইটে ভেরিফায়েড ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহের তালিকা প্রকাশ করা প্রয়োজন। অন্যথায়, এই ব্যবসা লাগামহীন হয়ে পড়বে। প্রতারকরা হাতিয়ে নেবে সাধারণ মানুষের অর্থ। শীঘ্রই এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হোক; এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

লেখক: প্রাবন্ধিক

ক্রাইম  ডায়র‌ি/// জাতীয়

6925total visits,251visits today