• শনিবার ( সকাল ৬:২৭ )
    • ১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

বিবেকের কাছে প্রশ্নঃএদের রুখবে কে???

নজরুল ইসলাম জনিঃ
সিরাজগঞ্জের রায়গন্জ থেকে ছয় বছরের শিশুকন্যা হুমায়রার সুচিকিৎসার গরিব বাবা মা এসেছিলেন বগুড়ায়। টনসিলের অপারেশনের জন্য দালালের খপ্পরে পড়ে শিশুটিকে ভর্তি করেছিলেন শহরের একটি ক্লিনিকে। বেলা সাড়ে তিনটায় শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নেন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের একজন ইএনটি চিকিৎসক।

শিশুটিকে অজ্ঞান করার পর আর জ্ঞান ফেরাতে পারেন নি চিকিৎসক। অবচেতন অবস্থায় অপারেশনও করেন। দুইঘন্টা পর প্রাণহীন শিশুটিকে অস্ত্রপচার কক্ষ থেকে বের করে আনা হয়। স্বজনেরা নাড়ির স্পন্দন না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। অস্ত্রপচারকারি চিকিৎসক আশ্বস্ত করেন, শিশুটি ভাল আছে, যথাসময়ে জ্ঞান ফিরবে। ঘন্টার পর ঘন্টা যায় জ্ঞান আর ফিরে না। ওটি থেকে পরে বের হওয়া রোগীর জ্ঞান ফিরলে স্বজনদের সন্দেহ হয়। ডিউটি ডাক্তার কে ডাক দেওয়ার পর চুক্তি মোতাবেক অপারেশনের সাড়ে 11 হাজার টাকা বুঝে নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ডেকে রাত সাড়ে আটটায় সিরাজগঞ্জ এর এনায়েতপূর খাজা ইউনুস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। দিশেহারা বাবা মা তাৎক্ষণিক শিশুটিকে শহরের মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেন। চিকিৎসকেরা জানান,শিশুটি মারা গেছে। বিশ্বাস না হওয়ায় পরে শজিমেক হাসপাতালে নেন। এখানকার চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, কয়েক ঘন্টা আগেই শিশু টি মারা গেছে। এরপর লাশ নিয়ে ক্লিনিকে ফিরে এসে দেখেন, চিকিৎসক-নার্স সবাই পালিয়েছে। রাত সাড়ে দশটা থেকে 12 টা পযর্ন্ত ক্লিনিকে অবস্থান করেও দায়িত্বশীল কাওকে সেখানে পাওয়া যায় নি। এখন প্রশ্ন হলো মৃত শিশুকে পাচঘন্টা জীবিত দেখিয়ে ক্লিনিকের সমুদয় বিল নিয়ে অন্য হাসপাতালে রেফার করাটা কতটা নির্মম প্রতারণা ও অমাবিক? চিকিৎসার নামে এসব কসাইখানায় আর কতদিন ঠান্ডা মাথায় এমন নির্মম হত্যাকান্ড চলতেই থাকবে?

Crime diary/crime/fb/(Anowar Parvej)

Total Page Visits: 16655