• বুধবার ( সকাল ৬:৫৯ )
    • ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

শিরোনামহীন লেখাঃ অসাধারণ এই বিভাগীয় কমিশনারের জন্য দোয়া কামনা

মমিনুল ইসলামঃ

মাহমুদ হাসান। সবার প্রিয় মুকুল কাকা। বর্তমানে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার। কিছুদিন আগে দুদকের মহাপরিচালক ছিলেন। তার আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ছিলেন – তার আগে ছিলেন হবিগঞ্জের ডি সি। তিনি বাংলাদেশের প্রশাসনে সততার প্রতীক ।


তিনি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের- স্কুল মাষ্টারের ছেলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। টিউশনি করে পড়ালেখা করেছেন । তাঁর ছাত্রদের একজন এখন পরমানু বিজ্ঞানী ডক্টর জাহিদ হাসান তাপস-প্রিন্সটন ভার্সিটির অধ্যাপক ।
মাহমুদ স্যার যখন প্রশাসন ক্যাডারে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে জয়েন করলেন—এলাকার সবাই বললো এইবার মমতাজ মাষ্টারের কপাল খুলবে। ছেলে ম্যাজিস্ট্রেট – টাকা আসবে বস্তা বস্তা। কিন্তু টাকা এলো না – ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব যা বেতন পান তা দিয়ে ঠিকমতো সংসারই চলে না ।
তিনি যখন এ সি ল্যান্ড – ইউ এন ও-এ ডি সি-এবং ডিসি –সবখানে আমি গিয়েছি; তার জীবন যাত্রায় কখনোই জৌলুস এলো না। একই জামা কাপড় তাঁর পরিবারের সদস্যদের বছরের পর বছর ধরে পরতে দেখি-খাবার টেবিলেও বহুপদের আায়োজন থাকে না। পঞ্চগড় টু চট্টগ্রাম—সাতক্ষীরা টু হবিগঞ্জ – যেখানেই চাকরি ট্রান্সফার হয়; সেই একই আসবাবপত্র তিনি টানাটানি করে নিয়ে যান। হাড়ি-খুড়ি- বিছানার চাদর জানালার পর্দা সবই সাথে যায়। বাড়তি কেনাকাটার টাকা তাঁর কাছে নেই –অথচ হাত বাড়ালেই পেতে পারেন কোটি কোটি টাকা।

মাহমুদ হাসান স্যার পৈত্রিক ভিটারও কোন সংস্কার করতে পারেননি। এখনো বাড়িতে এলে সেই আদিকালের ঘর ভিটেতেই থাকেন। অথচ চাকরিজীবন প্রায় শেষ। তাঁর দুইটি ছেলে –ভীষণ মেধাবী। বড় ছেলে সীমান্ত –জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-কিন্তু বক্তৃতা দিয়ে বেড়ায় অক্সফোর্ড –ক্যামব্রিজে।
ছোট ছেলেটি –সমুদ্র –এবার এই এস সি পাস করলো –ভাল গান করে। সে ও বৃত্তি নিয়ে জার্মান –পোল্যান্ড ভ্রমণে যায়।
মাহমুদ স্যারের স্ত্রী শাহিনা হাসান –সেই অতি সাধারণ একজন ।ভীষণ ভাল মনের এক মহিয়ষি নারী।কবিতা লিখেন।ভালবাসেন নিসর্গ আর মানুষ।সংসারে এক ধরনের অভাব আছেই –কিন্তু অভিযোগ নেই। তিনি স্বামীর সততার পক্ষে।
কিন্তু মাহমুদ স্যার যে জীবনে কিছু করতে পারলেন না –সাধারণ মানুষের এই হতাশার ব্যাখ্যা দিবে কে? কি করতে পারেননি তিনি? ঘুষ খেয়ে দুর্নীতি করে বাড়ি গাড়ি টাকা সম্পত্তি করতে পারেন নি এই তো? একজন সরকারী কর্মকর্তা অসৎ পথে বাড়তি উপার্জন করে তথাকথিত বড়লোক হয়ে ডাটফাটে যোগ্যতার চেয়ে –পদের চেয়ে-রাষ্ট্রের চেয়ে উঁচুতে পা ফেলে চলবেন–এটাই কি আমাদের প্রত্যাশা? আমরা কি জাতি হিসেবেই দুর্নীতির সমর্থক হয়ে পড়েছি?

বাংলাদেশের পুরো প্রশাসন যে তাঁর নাম শুনলেই শ্রদ্ধায় মৌন হয়ে দাঁড়ায়। সরকার যে তাঁকে ক্লিন ইমেজের অফিসার হিসেবে বড় বড় পদে নিয়ে বসায় –এটা কি তাঁর যথার্থ প্রাপ্তি না?
না এটাও যথার্থ প্রাপ্তি না। আমরা অসৎ অফিসারদের তোষামুদ করি ঘৃণাও করি –কিন্তু সৎ অফিসারদের পুরস্কৃত করি না। তাঁদের স্বাধীনতা পদক বা একুশে পদক দেই না। তাঁরা যে সারাজীবন সততা আর অভাব নিয়ে – রাষ্ট্রের জন্য কাজ করে গেলেন এজন্যে রিটায়ারের পর এককালীন দু চার কোটি টাকাও দেই না। এমন কি পেনসনের টাকাটাও সম্মানের সাথে দেই না। রাষ্ট্র যদি অন্ধ হয় –অজ্ঞ হয় –রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অসততা বাড়বেই।
আমি ‘ম্যাজিস্ট্রেট’ নামের একটি টি ভি নাটক লিখেছি।জাহিদ হাসান ও রোমানা অভিনয় করেছে। এ টি এন বাংলা কয়েকবার প্রচার করেছে।এমন একটি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশে একজন সৎ অফিসার হয়ে ওঠা এবং সততা নিয়ে টিকে থাকা কত যে কঠিন কাজ সেটা দেখিয়েছি।সারাদেশ থেকে অনেক ম্যাজিস্ট্রেটএবং প্রশাসনের কর্মকতাগণ আমাকে ফোন করে ধন্যবাদ বলেছেন। তাঁরা সততার পথে কঠিন প্রতিবন্ধকতার কথা আমাকে জানিয়েছেন।সবকিছুর মূলে আমাদের রাজনৈতিক অসততা। আমাদের রাজনীতি স্বচ্ছ্ব সঠিক আর জবাবদিহীতার ধারায় চলে এলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। মাহমুদ হাসান স্যার প্রতিবন্ধকতার দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেই মাথা তুলে আছেন সগৌরবে।আমাদের প্রশাসন তাঁকে অনুসরণ করে সঠিক পথে টিকে থাকার উদ্দীপণা লাভ করতে পারে।
মাহমুদ হাসান স্যার মাঝে মধ্যে সস্ত্রীক আমার শালবনে এসে অবসর নেন।উদাস হাওয়ায় পাতা ঝরার দৃশ্য দেখতে দেখতে রিটায়ারের পর কি করবেন তাই নিয়ে ভাবেন।সরকারী বাসা ছেড়ে আসার পর কোথায় থাকবেন?একটি বাড়িও বানানো হলো না – ফ্ল্যাটও কেনা গেলো না; ক’দিন পর ছেলেদের বিয়ে দিতে হবে-ওরা নতুন বউ নিয়ে কোথায় এসে ওঠবে? আমি অভয় দিয়ে বলি –সোজা আমার বাড়িতে এসে উঠবেন সবাই। মাহমুদ স্যার হাসেন –বিড় বিড় করে বলেন-কিন্তু একটা কিছু তো করতে হবে। জিজ্ঞাসা করি –পকেটে কত টাকা আছে? কি করতে চান? বাণিজ্য? তিনি হাসেন। খোঁচা দিয়ে বলি –সারাজীবন ভুল করেছেন, এখনো সময় আছে চোখবুজে হাত পেতে কামিয়ে নিন। তিনি হাসেন –অতি সরল –নিষ্পাপ হাসি।এমন হাসি শুধু একজন সৎ এবং নিষ্ঠাবান মানুষই হাসতে পারেন।
মাহমুদ স্যার এখন ভীষণ অসুস্থতার মধ্যে পড়েছেন । তাঁর বোনমেরু ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে । দেশে চিকিৎসা নেই ;সিঙ্গাপুরে যাবার প্রস্তুতি চলছে । পুরো চিকিৎসাব্যয় মনে করা হচ্ছে আনুমানিক এক থেকে দেড় কোটি টাকা লাগবে ।অথচ তার পকেট শূন্য ।সরকার কতটা করবে –সিভিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে কতটা করা হবে এখন সেই ভাবনা চলছে । তিনি এখন শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ।আমার মাথায় ঠিক কাজ করছে না-তাঁর জন্যে আমরা কি করতে পারি !
আমি তাঁর সাথে দেখা করতে গেলাম । তিনি হাসছেন –এমন নিয়তির সামনে একজন সচেতন মানুষের হাসি ছাড়া আর কি করার আছে ?
মাহমুদ স্যারের শৈশবের একজন বন্ধু আছেন । সৈয়দ বদরুদ্দোজা রিজভী । তিনি একজন পীর সাহেব ।তিনি স্যারের রোগমুক্তির জন্য তপজপ করছেন । এ জগত বড় রহস্যময় । কার বিশ্বাসে কোন ফল ফলে বলা মুশকিল । আমরাও মাহমুদ স্যারের রোগমুক্তির জন্য মহান স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করতে পারি –তিনি সুস্থ সবল হয়ে উঠুন ।

ক্রাইম ডায়রি// স্পেশাল   facebook/Mominul Islam

Total Page Visits: 17100

 সড়কে দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ালে আইনগত ব্যবস্থাঃ ডি এমপি কমিশনার

সামসুল আলম যুলফিকারঃ

কিছু হলেই আন্দোলনেে ঝাপিয়ে পড়া কোমলমতিরাই সবচেয়ে বেশি ট্রাফিক আইন লংঘন করে দূর্ঘটনার কারন ঘটাচ্ছে।    কলেজ ও স্কুলের পাশে কিছুক্ষন দাড়িয়ে থাকলেই বিষয়টি চোখে পড়ার মত। আন্দোলনের চালিকাশক্তি যারা তারাও যদি আইন লংঘন করেন তবে কেমন করে হবে?         সড়কে দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ালে পথচারীর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। বলেন, ‘দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে আমাদের ট্রাফিক পুলিশের। ট্রাফিক ব্যবস্থার জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতেই হবে। বারবার বলছি, কাজ হচ্ছে না। এখন কঠোরভাবে আইনি প্রয়োগে যেতে হবে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তান মহানগর নাট্যমঞ্চে শৃঙ্খলা ও ট্রাফিক বিষয়ক সচেতনতা বিষয়তক এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা (পুলিশ) কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যাই, কিন্তু জবাব দিতে পারি না। এটার পরিবর্তন হওয়া দরকার।’‘জনগণ যাতে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করে, জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করে, সেজন্য ট্রাফিক বিভাগকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিচ্ছি।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘দুর্ঘটনা ঘটানোয় বাস আটক করা হয়, তেমনি দুর্ঘটনার কারণ হলে পথচারীকেও আটক করুন।’‘আটক করে মিডিয়াকে দেখান, দেশের মানুষকে দেখান যে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে, জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার না করে দূর্ঘটনা ঘটাতে এরা ইস্যু  তৈরি করছে।

এদিকে কমিশনারের এমন বক্তব্যকে  ইতিবাচক ও সাহসী পদক্ষেপ মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

ক্রাইম ডায়রি/// জাতীয়

Total Page Visits: 17100

অসাধারণ একজন মানুষঃ জগলুল হায়দার এমপি

সাতক্ষীরা জেলা ব্যুরোঃ

এমন মানুষও হয়। অসাধারন একজন মানুষ। শুধু তাই নয় তিনি বাংলাদেশেরই একজন সংসদ সদস্য। কল্পনায় আসে কি?     সংসদ সদস্য নামটি শুনলেই সুন্দর পোশাক পরা, গাড়ি দিয়ে আসা মানুষের চিত্র চোখের সামনে ভেসে উঠে। এদের আশেপাশে সবসময়ই অন্তত ১৫-২০ জন মানুষ লেগেই থাকে। এমপি মানেই যেন বিলাসী জীবন। কিন্তু এর ব্যতিক্রমও আছে।

তেমনই একজন হলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জনাব এস এম জগলুল হায়দার। আজ দুপুরে শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর কাঁচাবাজার থেকে নিজ হাতে বাজার করেন তিনি। এরপর এক কিলোমিটার বাইসাইকেল চালিয়ে নিজ বাড়িতে যান। এসময় তার পরনে ছিল লুঙ্গি-গেঞ্জি।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় এমনটি খুব একটা দেখা যায় না। এ কারণে তার এই ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেকেই তার এ ছবি শেয়ার করছেন। সাধারন গণমানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া মানুষটির প্রতি ভালবাসা।

ক্রাইম ডায়রি// জেলা

Total Page Visits: 17100