• শনিবার ( রাত ১১:০০ )
    • ২৪শে আগস্ট, ২০১৯ ইং

ভাইরাল হওয়া অশ্লীলদের আইনের আওতায় আনা সময়ের দাবী

অনলাইন ডেস্কঃ

ভাইরাল হওয়া কিছু মানুষের অশ্লীলতা সাম্প্রতিককালে মাত্রা ছাড়িয়েছে। লাগাম টেনে না ধরলে অবক্ষয়ের মাত্রা আশংকাজনক অবস্থায় পৌঁছাতে পারে।  নিরবে ঘাতকের মত তরুন সমাজের চরিত্র ও মানসিকতা হত্যাকারী এসব অশ্লীল ভাইরালদের দমন এখন তাই সময়েরদাবী। যুগান্তরের একটি রিপোর্ট সত্যিই ভেবে দেখা দরকার। জনস্বার্থে তা হুবহু তুলে ধরা হলেঃ——

“কিছুদিন আগে ঢাকা শহরের একটি কোচিং সেন্টারে ক্লাস নিতে গিয়ে খুবই বাজে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলাম।
একটি গাণিতিক সমস্যা সমাধানের এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রশ্ন করলাম- এখন আমরা কী করতে পারি? প্রত্যুত্তরে তারা বলল-
আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম। সত্যি, আমাদের নতুন প্রজন্মের চিন্তা-চেতনা আজ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। কতটা নিচু মানসিকতা নিয়ে তারা আজ বেড়ে উঠছে?
একদিকে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ে সমাজ যখন থরথর করে কাঁপছে, ঠিক তার বিপরীতে বর্তমানে আরও একটি আতঙ্কের নাম ‘সেফুদা’র মতো উদ্ভট মানুষের উত্থান ও দৌরাত্ম্য। সেফাতউল্লাহ ওরফে সেফুদা অস্ট্রিয়া প্রবাসী একজন বাংলাদেশি নাগরিক।
বর্তমানে তার এসব কার্যকলাপ ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটস অ্যাপ প্রভৃতির মাধ্যমে শহরের অলিগলি ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে গ্রামের প্রতিটি প্রান্তে। আর এসবের প্রধান দর্শক-শ্রোতা হচ্ছে আমাদের নতুন প্রজন্ম; যারা নিজেদের নৈতিক দায়িত্বের কথা বিস্মৃত হয়ে সারাক্ষণ সেফুদার মতো ভাইরাল সেলিব্রেটিদের নতুন ভিডিও পাওয়ার নেশায় মত্ত হয়ে অনলাইন মিডিয়ার বিভিন্ন সাইটে ঢু মারছে এবং বিকৃত রুচির এ মানুষটির মুখনিঃসৃত কথাগুলো ব্যবহার করছে তাদের নিত্যনৈমিত্তিক কথাবার্তা তথা প্রতিটি কার্যকলাপে।
শুধু তাই নয়, তার লাইভ ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে শুরু করে অভিনয় শিল্পী, তারকা, খেলোয়াড়, নাট্যকারসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর মানুষকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে।
এমন সব ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, যেগুলো মানহানিকর এবং আপত্তিকর। এরকম আরও কয়েকজন ফেসবুক লাইভ সেলিব্রেটি আছে, যারা তাদের অসামাজিক কার্যকলাপের মাধ্যমে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টায় সদা মত্ত।
তাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন নতুন সেফুদা কিংবা আসাদ পং পংয়ের মতো বিবেকহীন মানুষের উৎপাত বাড়ছে সমাজে। ফলে মুহূর্তের মধ্যে গুজবও স্রেফ সত্য হিসেবে ছড়িয়ে পড়ছে জনসমাজে। বিনিময়ে সৃষ্টি হচ্ছে সংঘাত, হানাহানিসহ অপ্রীতিকর নানা ঘটনা।
সাম্প্রতিককালে সেফুদার কার্যকলাপ সমাজে এতটাই প্রভাব বিস্তার করেছে, যা সত্যিই আমাদের জন্য লজ্জার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কথাগুলো একসময় মানুষ একে অপরকে বলতে দ্বিধাবোধ করত, সেসব কথা নিয়ে আজ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ট্রল বানান হচ্ছে।
সাম্প্রতিককালে সেফুদার কার্যকলাপ সমাজে এতটাই প্রভাব বিস্তার করেছে, যা সত্যিই আমাদের জন্য লজ্জার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কথাগুলো একসময় মানুষ একে অপরকে বলতে দ্বিধাবোধ করত, সেসব কথা নিয়ে আজ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ট্রল বানান হচ্ছে।
পরনের টি-শার্টে সেফুদার সেই কুখ্যাত উক্তি ‘মদ খা, মানুষ হ’, মদের বোতল ও সিফাতউল্লার ছবি সংবলিত পোশাক অহরহ পাওয়া যাচ্ছে স্থানীয় মার্কেটগুলোয়। এ যেন স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে গেছে।
ফলে ছাত্র শিক্ষককে অথবা সন্তান বাবা-মাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে দ্বিধাবোধ করছে না। সেলিব্রেটি নামক এসব বিষাক্ত পোকাদের ছোবল থেকে দেশের তরুণ সমাজকে বাঁচাতে হলে অচিরেই এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তা না হলে এদের দৌরাত্ম্যে সমাজে যেমন বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে, তেমনি নতুন নতুন সেফুদার উত্থান হবে প্রতিনিয়ত। আর তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। কাজেই এ ব্যাপারে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।””

দ্রুততার সাথে এসব বিকৃত মানুষদের আইনের আওতায় না আনলে চোখের পলকে  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। ক্রাইম ডায়রি///অপরাধজগৎ

6893total visits,219visits today