• শনিবার ( সকাল ৬:১৫ )
    • ১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

একটু সহযোগিতা, একটি জীবন দানঃ সুনামগঞ্জ সদর থানার এস আই সোহেল রানার অবদান

মিয়া মোহাম্মদহেলাল উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টান, পুরো জীবনটাই পাল্টে যাবে।

একটু সহযোগিতা, একটি জীবন দান- ❝স্যার আমাকে ভাত দেন, আমি অনেক দিন মাংস দিয়া ভাত খাই না❞ একাধিক বার কথা গুলি বলছিল পিতা-মাতা হারা অনাথ এক ছেলে। নাম আমির উদ্দিন। বয়স ১৯ হবে হয়ত। সুনামগঞ্জ সদর থানাধীন রঙ্গারচর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২ বোন ২ ভাই এর মাঝে আমির উদ্দিন ২য়। জন্মের প্রায় ১০/১২ বছর পর মা মারা যায়। বাবার কাছে মানুষ হওয়ার প্রানান্তর চেষ্টা। কিছুদিন বাড়ীর পাশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলেও অভাব অনটনের সংসারে যেখানে ভাত জুটানো কষ্টকর সেখানে শিক্ষা গ্রহন ছিল দুষ্প্রাপ্য।

পিতার জীবদ্ধশায় বড় বোনকে বিবাহ দিলেও ভাই বোন ৩ জন নিয়ে ছোট একটি চা দোকানের আয়ের মাধ্যমে সংসার চলত। গত ২ বছর আগে একমাত্র আশ্রদাতা পিতা রাকিব আলীও ৩ ভাই বোনকে এতিম করে না ফেরার দেশে চলে যায়। সংসারে হাল ধরার মত কেহ ছিল না। বিল বাধাড়ে ঘুরাঘুরি, ডাংগুলি আর ফুটবল খেলার নেশায় সংসারের হাল ধরার পরিপক্কতা আমির উদ্দিন এর ছিল না। অভাব যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাড়ায়। ছোট বোন কোন রকমের পিতার চা দোকান চালাইতে শুরু করে। কিছুদিন পর গ্রাম্য কিছু অসাধু লোক চা দোকান থেকে বাকি খেয়ে টাকা পরিশোর না করে চা দোকানকে লাটে তুলে ফেলেছে। বকেয়া টাকা তুলতে না পারায় এবং নিয়মিত চা দোকান করে দুই ভাইকে রান্না করে খাওয়ানো কষ্টকর হয়ে পড়ে বোনের। এক পর্যায়ে দোকান বন্ধ করে দিয়ে বড় বোনের বাড়ীতে চলে যায় ছোট বোন। ছোট ভাইটি অন্যের বাড়ীতে রাখাল হিসেবে কাজে লেগে যায়। এক পর্যায়ে আমির উদ্দিন অসহায় হয়ে পড়ে। কিছুদিন পরিচিত চাচা ও আত্মীয়রা খাবার দিলেও সময়ের ব্যবধানে আর তাহার দুষ্টুমির কারনে তাও বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষুধার জ্বালায় আমির উদ্দিন এক পর্যায়ে মানুষের রান্না ঘরের খাবার চুরি করিতে শুরু করে। খাবারের সময় হয়ে মানুষের রান্না ঘরে ডুকে রান্না করা হাড়িপাতিল চুরি করিয়া তাহার মা বাবার কবরে নিয়া খাইয়া কবরেই ঘুমিয়ে থাকে। এই ভাবে চলতে থাকে আমির উদ্দিনের জীবন। খাবার চুরির কারনে গ্রামের একাধিক বার বিচার শালিশ হয়। বিচার শালিসে তাহাকে বেধরক মারপিটও করা হয়।

অনুমান ৩ মাস পূর্বে একদিন তাহার ঘর ভাংচুর করার কারনে আমির উদ্দিনের একজন চাচা তাহাকে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে থানায় সংবাদ দেয়। পরে অফিসার ইনচার্জ সাহেবের নির্দেশ ক্রমে আমি সঙ্গীয় ফোর্স সহ আমির উদ্দিনের বাড়ীতে যাইয়া তাহাকে ঘরের মধ্যে বাধা অবস্থায় পাই। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করিয়া তাহাকে নিয়ে থানায় আসি। থানায় আনিয়া আমির উদ্দিনের নিকট থেকে জীবনের করুন কাহিনী গুলি শুনি। কিন্তু তাহার কার্যকলাপের কারনে পরদিন ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৫১ ধারা মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করি। বিবেকের তাড়নায় তাহাকে এক সপ্তাহের মধ্যেই আদালত হইতে জামিন করিয়ে আমার কাছে এনে রাখি। আমির উদ্দিনের অমায়িক চাহনি, ক্ষুধার্থ মুখের ভাষা আমাকে বিচলিত করে ফেলে। দুই দিন রাখিয়া তাহার চাহিদা মত গরু মাংস, মুরগের মাংস দিয়ে ভাত খাওয়াই। পরে আমির উদ্দিনকে নিয়ে তাহার পিতার ভিটায় যাই। নিকটতম আত্মীয় স্বজন সহ গ্রামের লোকজনের শত বাধা নিষেধ উপেক্ষা করিয়া তাহার পিতার বন্ধ দোকান খুলে দেই। ভাঙ্গা চোড়া টিনের বেড়া, ভাঙ্গা চৌকি, আর ৩/৪ টি পুরাতন কাপ একটি পুরাতন কলসি ও একটি হাতল ভাঙ্গা কেতলির সমন্বয়ে চা দোকান খুলে দেই। কিছু একটা করে দেওয়ার প্রানপন চেষ্টায় আর আমির উদ্দিনের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগে তাহাকে সাহায্য শুরু করি। প্রথমে দোকানের মালামাল কিনার জন্য কিছু টাকা দেই। ভাঙ্গা চোড়া দোকানের ভিতরে ৫৮ ভ্যানগাড়ী মাটি দিয়ে শ্রমিকের মাধ্যমে দোকানটি লেপে সমান করে দেই। পরে ১ ডজন কাপ পিরিচ, ভাঙ্গা কলসির পরিবর্তে দুইটি জগ কিনে দেই। দোকানটি চলতে থাকে। আরো ভাল ভাবে চলার জন্য একটি ৩২ ইঞ্জি ভিশন টেলিভিশনের ব্যবস্থা করে দেই। আমির উদ্দিনকে নিয়ম অনুযায়ী দোকান খোলা, বন্ধ সহ দোখাশুনা করার জন্য একই গ্রামের সাদা মনের মানুষ গোলাম রব্বানী ভাইকে নিয়োজিত করে দেই। এক সময়কার ছন্নছাড়া ক্ষুধার্ত আমির উদ্দিন এখন দৈনিক ৩/৪ হাজার টাকার চা, বিস্কিট, পান সুপারি বিক্রয় করতে পারে। প্রায় ১-২ হাজার টাকা লাভ থাকে দোকানে। প্রায় ৩ মাসের ব্যবধানে এতিম আমির উদ্দিনের জীবনের গতি পরিবর্তন হয়ে যায়। যারা এক সময় তাহার থেকে দূরে থাকত আজ তারাই আমির উদ্দিনের বন্ধু। আজ আমির উদ্দিনের চোখে মুখে হাসি লেগেই থাকে। খুবই ভাল লাগে তাহার হাসি দেখে। কিছুদিন পূর্বে কাংলার হাওড় রক্ষা বাধ পরিদর্শনের সময় তাহার দোকানে উপস্থিত হন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সম্মানীত উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব ইয়াসমিন নাহার রুনা এবং সুনামগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ শহিদুল্লাহ। তাহারাও কিছু সময় আমির উদ্দিনের দোকানে অবস্থান করে তাহার জীবনের পরিবর্তনের গল্প শুনে অভিভূত হন। ভাল থাকুক আমির উদ্দিন। চলতে থাকুক একটু সহযোগিতায় একটি জীবন দান।

এসআই সোহেল রানা
সদর থানা, সুনামগঞ্জ।
সংগৃহীত- ছাতক নিউজ ২৪. কম।

Total Page Visits: 16655

২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাইঃ লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল

ক্রাইম ডায়রি ডেস্কঃ

২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস। ২০১৭ সালে এই দিবসটি জাতীয় দিবস হিসেবে মহান জাতীয় সংসদে ও পরবর্তীতে মন্ত্রীসভায় অনুমোদিত হয়। ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের জন্যে সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২৫ মার্চ কালোরাতে তথ্য-উপাত্ত জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ও জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে পাঠানো হয়েছে বলে জানা যায়।
মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির আনন্দ ও বেদনার এক সংমিশ্রিত ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের পর দেশ স্বাধীন ও মুক্তির আন্দোলনে উত্তাল হতে শুরু করে। মার্চের প্রথম দিকে জয়দেবপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় মুক্তির সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ১৯ মার্চ গাজীপুরের জয়দেবপুরে পাকহানাদার বাহিনীর সাথে বীর জনতার প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হয়। এই সশস্ত্র প্রতিরোধে পাকিস্তান সৈনিকদের গুলিতে মনু খলিফা, হুরমত, নিয়ামত ও কানু মিয়া শাহাদাৎ বরণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে এটাই ছিল বাঙালি জনতার প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ। এই দিন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিগ্রেডিয়ার জাহানজেব দ্বিতীয় ইষ্ট রেজিমেন্টের বাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করতে গাজীপুরে আসছে, এ কথা শুনে গাজীপুরের জনগণ সড়কে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলে। এই সময় বিগ্রেডিয়ার জাহানজেব ঢাকা ফেরার পথে গাজীপুরের বিক্ষুপ্ত জনগণের বাধার সম্মুখীন হন। ফলে গাজীপুরের বীর জনতা ও পাকিস্তানি সৈনিদের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়। এই খবর দ্রুত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এবং সারা বাংলায় শ্লোগান উঠে “জয়দেবপুরের পথ ধরো- বাংলাদেশ স্বাধীন কর”। যা মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁরই নির্দেশে বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক এমপি এর নেতৃত্বে ১৯ মার্চ গাজীপুরের বীর জনতা প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু করেছিলো।
মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হককে স্বাধীনতা পদক ২০১৯ এ ভুষিত করা হয়েছে। এই জন্যে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই।
১৯৭১ এর ২৫ মার্চের কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ঝাঁপিয়ে পড়া, ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে বাঙালির সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু এবং সবশেষে ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের আনন্দ।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস একদিকে যেমন করুন শোকাবহ লোমহর্ষক, তেমনি ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল বীরত্বপূর্ণ।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী তাদের পূর্ব পরিকল্পিত অপারেশন সার্চলাইটের নীলনকশা অনুযায়ী আন্দোলনরত বাঙালিদের কণ্ঠ চিরদিনের জন্যে স্তব্ধ করে দেয়ার ঘৃণ্য লক্ষ্যে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কমলাপুর, সদরঘাট, প্রভৃতি এলাকায় নিরস্ত্র ঘুমন্ত মানুষের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বরোচিত ও নিকৃষ্টতম গণহত্যা শুরু করে।
৭১ এর ২৫ মার্চে গণহত্যা শুধু একটি রাতের হত্যাকান্ডই ছিলো না এটা ছিল মূলতঃ বিশ্ব মানবতার জন্যে এক কলংকজনক জঘন্যতম গণহত্যা। ৭১’র পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর গণহত্যার দিনটি জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দিয়ে দিবসটি ২০১৭ সাল থেকে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
অষ্ট্রেলিয়ার ‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’ পত্রিকার ভাষ্যমতে শুধুমাত্র ২৫ মার্চ রাতেই বাংলাদেশে প্রায় এক লক্ষ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, যা গণহত্যার ইতিহাসে এক জঘন্যতম ভয়াবহ ঘটনা। পরবর্তী নয় মাসে একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার লক্ষ্যে ৩০ লাখ নিরপরাধ নারী-পুরুষ শিশুকে হত্যার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পূর্ণতা দিয়েছিল সেই বর্বর ইতিহাসকে।
মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন ২৫ মার্চের রাত সম্পর্কে লিখেছেন সে রাতে ৭০হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। গ্রেফতার করা হয় আরো ৩০ হাজার মানুষকে। ঢাকার ঘটনার শুরু মাত্র হয়েছিল। তবে ক্রমবর্ধমানভাবে সমগ্র পূর্বপাকিস্তানজুড়ে সৈন্যরা বাড়িয়ে চললো মৃতের সংখ্যা। জ্বালাতে শুরু করলো ঘরবাড়ি। দোকান-পাট লুট করে ধ্বংস তাদের নেশায় পরিণত হলো। রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলো কাক-শেয়ালের খাবারে পরিণত হলো। সমস্ত বাংলাদেশ হয়ে উঠলো শকুন তাড়িত শ্মশানভূমি। পাইকারিভাবে এই গণহত্যার স্বীকৃতি খোদ পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত দলিলেও রয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্কট সম্পর্কে যে শ্বেতপত্র পাকিস্তান সরকার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ করেছিল তাতে বলা হয়, ১৯৭১ সালে পয়লা মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষের জীবননাশ হয়েছিল। ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের কাছে পাকিস্তানী জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের প্রক্রিয়া চলাকালে পাকিস্তানী সেনারা কুখ্যাত অপারেশন সার্চলাইট নাম দিয়ে নিরীহ বাঙ্গালি বেসামরিক লোকজনের ওপর গণহত্যা শুরু করে। তাদের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলো আওয়ামীলীগসহ তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ সকল সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা।
পাকিস্তানী হায়েনাদের কাছ থেকে রক্ষা পায়নি রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও। ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব ও জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুর, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মনিরুজ্জামানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৯জন শিক্ষককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। ঢাবির জগন্নাথ হলে চলে নৃশংসতম হত্যার সবচেয়ে বড় ঘটনাটি। এখানে হত্যাযজ্ঞ চলে গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত।
বিশিষ্ট নজরুল গবেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নীলক্ষেত আবাসনের ২৪নং বাড়িতে। এই বাড়ির নীচে দুপায়ে গুলিবিদ্ধ দুই মা তাদের শিশু সন্তানকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। সিড়ি বেসে যাচ্ছিল তাদের রক্তে। হানাদাররা ভেবেছিলো অন্য কোন দল হয়তো অপারেশন শেষ করে গেছে। তাই তারা এই বাড়িতে ঢুকেনি। অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম তখন প্রাণে বেঁচে যান। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের বাড়ির নিচে আর একজন অবাঙালি অধ্যাপক থাকলেও তিনি ২৫ মার্চের আগে কাউকে না জানিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। শুধু তাই নয়-বিশ্ববিদ্যালয় আবসিক এলাকার সব অবাঙালি পরিবার তাই করেছিলেন। এই থেকে ধারণা করা যায় ২৫ মার্চের এই হত্যাযজ্ঞের পূর্বাবাস অবাঙালিরা জানতো।
প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান অপারেশন সার্চ লাইট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সকল পদক্ষেপ চূড়ান্ত করে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করে করাচি চলে যান। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডি বাসা থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের আগে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং শেষ শত্রু বিদায় না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালিরা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র লড়াই শেষে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ণ বিজয় অর্জন করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ। মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে বিজয় ছিনিয়ে এনে এ দেশের বীরজনতা বুঝিয়ে দিল, ঐক্য ও ত্যাগ থাকলে বুলেট আর কামান দিয়ে কোনো জাতিকে দমিয়ে রাখা যায় না। আমাদের মহান স্বাধীনতা অর্জনে যে শহীদেরা আত্মত্যাগ করেছেন, নিজেদের প্রাণবাজি রেখেছিলেন যে মুক্তিযোদ্ধারা, গভীর শ্রদ্ধার সাথে তাঁদের স্মরণ করি। যে সব দেশ ও গোষ্ঠী মহানমুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের সাহায্য করেছে তাঁদের জানাই কৃতজ্ঞতা।
আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। মুক্তিযুদ্ধের কথা এলেই বারবার চলে আসে বঙ্গবন্ধুর কথা। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি রচনায় তিনি যেমন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন তেমনি যুদ্ধের শুরুতে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ. ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে এবং ৯ মাসের যুদ্ধে তিনি ছিলেন প্রেরণা ও শক্তির উৎস ।
২০১৭সাল থেকে বাংলাদেশ ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে এবং দিবসটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্যে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানা যায়। এই দিবসটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে বিশ্বের সকল নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর প্রতি সম্মান ও সহানুভুতি জানানো হবে। ২৫মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের জন্যে বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন ও সহযোগিতা আদায়ের জন্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা আবশ্যক।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের আন্তর্জাতিক তৎপরতার কারণে দীর্ঘ ৪৮ বছর পরও বাংলাদেশের গণহত্যা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। তবে বাংলাদেশ ২০১৭সাল থেকে জাতীয় গণহত্যা দিবস পালন করায় দিবসটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।

লেখক পরিচিতিঃ লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল
(শিক্ষক, কলাম লেখক ও সংগঠক)
সভাপতি, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি
৫১, ৫১/এ পুরানা পল্টন, ঢাকা।
ই-মেইলঃ lionganibabul@gmail.com
web: www.bbgpbd.org

ক্রাইম ডায়রি//স্পেশাল

Total Page Visits: 16655

বগুড়ার শেরপুরে সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রদান

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত পল্লী সমাজসেবা (RSS) কার্যক্রম একটি গুরুত্বপূর্ণ দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচি। দেশের পল্লী অঞ্চলে বসবাসরত দারিদ্র পীড়িত পশ্চাৎপদ, অবহেলিত, দুঃস্থ ও অসহায় এবং সুবিধাবঞ্চিত সকল শ্রেণীর লক্ষ্যভূক্ত জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এ কর্মসূচীর মূল লক্ষ্য। স্বাধীনতা লাভের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশের পল্লী অঞ্চলে বসবাসরত সুবিধা বঞ্চিত হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বনির্ভর ও আত্মপ্রত্যয়ী করার জন্য সর্বপ্রথম ১৯৭৪ সালে তৎকালীন ১৯ টি জেলার ১৯ টি থানায় ‘পল্লী সমাজসেবা (RSS) কার্যক্রম’ চালু করেন যা প্রান্তিক লক্ষ্যভূক্ত জনগোষ্ঠির কল্যাণে আজ দেশের সকল উপজেলায় বাস্তাবায়িত হচ্ছে। কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত পল্লী সমাজসেবা (RSS) কার্যক্রমের সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র বিমোচন সেক্টরে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ উপলক্ষ্যে শেরপুর উপজেলায় গত ২৭শে মার্চ RSS/১২ সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত ৫ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে শেরপুর উপজেলার সমাজসেবা অফিসার মোঃ ওবায়দুল হক এর সভাপতিত্বে জঝঝ/১২ সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের গ্রাহকদের মাঝে ঋণ প্রদান করা হয়। এখানে ২টি গ্রামের মোট ২২ জন গ্রাহককে RSS/১২ সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত অর্থ বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত অর্থ ভাদাইশপাড়া গ্রামের মোট ১২ জন যেসব ব্যক্তির মাঝে জন প্রতি ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৩ লক্ষ টাকার চেক প্রদান করা হয় তারা হলেন- আঃ রহিম, শারমিন আক্তার, আঃ করিম, রিনা বেগম, নান্নু মিয়া, শিল্পী বেগম, ইছাউদ্দিন, সেলিনা খাতুন, শফিউল বারিক, নারজিনা খাতুন, আঃ জলিল ও মাহমুদা খাতুন। অপরদিকে দাঁড়কিপাড়া গ্রামের মোট ১০ জন যেসব ব্যক্তির মাঝে জন প্রতি ২০ হাজার চেক প্রদান করা হয় তারা হলেন- ইয়াছিন আলী পুটু, জেমি আক্তার, ছামু হোসেন, রাজু আহম্মেদ, চামেলী বেগম, লিনট হোসেন, কহিনুর বেগম, জোবেদা বেগম, বানেছা বেগম ও রহিমা খাতুন। উক্ত টাকা বিতরণ করার সময় শেরপুর উপজেলার সমাজসেবা অফিসার মোঃ ওবায়দুল হক গ্রাহকদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন- আপনার এই টাকা থেকে নিজ বাড়িতে কমপক্ষে ১টি ফলজ ও ১টি কাঠ জাতীয় গাছ লাগাবেন। এসময় সমাজসেবা অধিদপ্তরের সকল পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
ক্রাইম ডায়রি///// জেলা//
Total Page Visits: 16655

বাংলাদেশী মডেলকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন ভারতের নির্মাতা সৃজিত মুখার্জী

বাংলাদেশী মডেলকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন ভারতের নির্মাতা সৃজিত মুখার্জী

আয়াতুস সাইফ মুণঃ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সৃজিত মুখার্জি বিয়ে করছেন।পাত্রী বাংলাদেশের মডেল ও অভিনেত্রী মিথিলা। আগামী বছরই নাকি তারা দুজন গাটছড়া বাধতে যাচ্ছেন এমন সংবাদ ছড়িয়েছে ভারতের গণমাধ্যমে। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন সৃজিত।

মিথিলা-সৃজিতের ‘বিয়ে’ নিয়ে ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় বাংলা দৈনিক ‘এই সময়ে’ সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী বছরের শুরুতেই সংসার শুরু করতে যাচ্ছেন সৃজিত-মিথিলা। তাদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়। জানা গেছে, সম্প্রতি একটি মিউজিক ভিডিওর শুটিং করতে কলকাতায় যান মিথিলা। সেখানে বন্ধু সৃজিত তাকে সঙ্গ দেন। কলকাতার বিভিন্ন স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখান। মিথিলার কলকাতায় ঘুরে বেড়ানো নিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, দুজনের এই সম্পর্ক এখন আর শুটিং ফ্লোরে আটকে নেই। মিথিলা কলকাতা শহরে পা রাখার পর থেকে সৃজিত তাকে নিয়ে ঘুরে বেড়ান। মিথিলাকে কলকাতা শহর দেখিয়েছেন। পরিচালকের ঘনিষ্ঠ মহলের খবর, তারা দুজন নাকি আগামী বছরের গোড়ার দিকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে মিথিলাকে সৃজিতের জীবনের ‘রহস্যময়ী নারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ‘এলিজেবল ব্যাচেলর’ বলা হয় ‘অটোগ্রাফ’খ্যাত নির্মাতা সৃজিত মুখার্জিকে। তবে শোনা যাচ্ছে, তিনিও এখন আর সিঙ্গেল নেই। এ নির্মাতার কাছের এক সূত্র জানিয়েছে, ‘রহস্যময়’ এক নারী এসেছেন সৃজিতের জীবনে। এই নারীর সঙ্গেই ঘর বাঁধবেন সৃজিত! টাইমস অব ইন্ডিয়ার ভাষ্য- শনিবার রাতে কলকাতার রাজারহাটে একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য ‘রহস্যময়’ সেই নারীর সঙ্গে হাঁটছিলেন সৃজিত।  সেই নারী বাংলাদেশের একজন সংগীতশিল্পী, অভিনেত্রী ও এনজিওকর্মী। যার নাম রাফায়াত রশিদ মিথিলা!

 

অনেকের সঙ্গে আপনি কাজ করেন। মিথিলাকে নিয়ে এমন জল্পনার কারণ কী এমন প্রশ্নে সৃজিত মুখার্জি বলেন, ‘আমি ২০১০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত যে কজন নায়িকার সঙ্গে কাজ করেছি, তাঁদের মধ্যে ৯০ শতাংশের সঙ্গে এমন জল্পনা হয়েছে। এটাকে আমি পেশাগত বিড়ম্বনা হিসেবে মেনে নিয়েছি। ঐতিহাসিকভাবে দেখলে, এসব জল্পনা অধিকাংশ সময়ই ভিত্তিহীন হয়েছে, আর কিছু সময়ে সঠিক হয়েছে। যেহেতু আমি ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছু জানি না, তাই ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে বলা মুশকিল। তবে মিথিলা আমার ভালো বন্ধু, তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই।’

সৃজিতের সঙ্গে পরিচয়ের বিষয়ে মিথিলা জানান, অনেক আগে থেকে সৃজিতের সঙ্গে তার পরিচয়। এর আগেও তাদের দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। কলকাতায় তাদের দুজনের কয়েকজন কমন বন্ধুও আছে। সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, আগামী বছরের শুরুতে আপনাদের নাকি বিয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে-এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিথিলা বললেন, ‘বিয়ের সম্ভাবনা তো সংবাদমাধ্যম তৈরি করছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া সেই চেষ্টা করে যাচ্ছে। দেখি বিয়ের সম্ভাবনা কতটা সফল হয়।’

১১ বছর সংসার করার পর তাহসানের সঙ্গে সুখের সংসারের ইতি টানেন মিথিলা। ২০১৭ সালের ২০ জুলাই এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিয়েবিচ্ছেদের কথা স্বীকার করেন তাহসান ও মিথিলা।

ক্রাইম ডায়রি////বিনোদন

Total Page Visits: 16655

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় লামিয়ার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ

বসুরহাট,নোয়াখালি সংবাদদাতাঃ

জুবাইদা নাহার লামিয়া ২০১৮ সালের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় বসুরহাট একাডেমী থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। তার পিতা মুহাম্মদ আবদুর রহিম বসুরহাট একাডেমীর সাবেক অধ্যক্ষ ও বর্তমানে আমানা গ্রুপ লিমিটেড এর কোম্পানী সেক্রেটারী হিসেবে কর্মরত আছে এবং তার মা ফাতেমা আক্তার মিলি পশ্চিম সিরাজপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার এ ফলাফলে সে অনেক আনন্দিত। তার ভাল ফলাফলের পেছনে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি বলে সে মনে করে, সর্বপ্রথম তার বিদ্যালয়ের শিক্ষক/শিক্ষিকামন্ডলী, তার পিতা-মাতা ও আত্মীয় স্বজনের অবদান সবচেয়ে বেশি বলে মনে করে। ভাল ফলাফলের জন্য সে সকলের দোয়া প্রার্থী। আগামী দিনে সে যেন আরো ভালো পড়াশুনা করে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োগ করতে পারে সেজন্য একজন ভাল ডাক্তার হওয়ার প্রত্যাশা করছে। সে বর্তমানে বসুরহাট এ এইচ সি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। কিভাবে ভাল ফলাফল লাভ করা সম্ভব, এ বিষয়ে জানতে চাইলে সে জানায়, প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন আদায় করলে, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের পাঠদান গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনলে ও সুন্দর একটি পরিকল্পনা থাকলে অনেক ভালো ফলাফল লাভ করা সম্ভব। ভাল ছাত্র/ছাত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখা, নিয়মিত ৫/৬ঘন্টা ব্যক্তিগত পড়াশুনা করলে কোন ছাত্র/ছাত্রীকে পেছনে পড়ে থাকতে হয়না বলে তার অভিমত।

ক্রাইম ডায়রি//শিক্ষাঙ্গন

Total Page Visits: 16655

গণহত্যা দিবসে জাতীয় সাংবাদিক পরিষদের বিশেষ আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান

শাহাদাত হোসেনঃ
আজ ২৫ মার্চ কালো রাত ও গনহত্যা  দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় সাংবাদিক পরিষদের উদ্যোগে এক বিশেষ আলোচনাসভা ও  দোয়া  জাতীয় সাংবাদিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলসহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।
“২৫ মার্চ ১৯৭১। গভীর  রাত। শিশু  কি বৃদ্ধ সবাই গভীর ঘুমে। হঠাৎ গুলির শব্দে হতচকিত সবাই। পাক  সেনাবাহিনীর গুলিতে নিরবে লাশ হচ্ছে বাংলার অসহায় জনতা।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হল (বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল), এস এম হল ও জগন্নাথ হলে ঢুকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারীদের।

আজ সেই ভয়াল ২৫ মার্চ, জাতীয় গণহত্যা দিবস। শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ এড়িয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া এগোন গণহত্যার নীলনকশা বাস্তবায়নের পথে। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নিয়ে পাকিস্তানি সেনারা একাত্তরের এই রাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র-নিরীহ বাঙালি নিধনযজ্ঞে। ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে মাত্র এক রাতেই হানাদাররা নির্মমভাবে হত্যা করে অর্ধলক্ষাধিক ঘুমন্ত মানুষকে। স্তম্ভিত বিশ্ব অবাক হয়ে দেখে বর্বর পাকসেনাদের হাতে সংঘটিত মানব ইতিহাসের জঘন্যতম নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ। ২০১৭ সালের ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হওয়ার পর থেকেই দিনটি জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। একাত্তরের এই দিনে বাঙালি জাতির জীবনে এক বিভীষিকাময় রাত নেমে আসে। মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানানদার বাহিনী কাপুরুষের মতো তাদের পূর্ব পরিকল্পিত অপারেশন সার্চলাইটের নীলনকশা অনুযায়ী আন্দোলনরত বাঙালিদের কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হত্যাকান্ড চালায়। অনেকেই মনে করেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা শুধু এক রাতের হত্যাকান্ডই ছিল না, এটা ছিল মূলত বিশ্ব সভ্যতার জন্য এক কলঙ্কজনক জঘন্যতম গণহত্যার সূচনা মাত্র। অস্ট্রেলিয়ার ‘সিডনি মর্নিং হেরাল্ড’ পত্রিকার ভাষ্যমতে শুধুমাত্র পঁচিশে মার্চ রাতেই বাংলাদেশে প্রায় এক লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, যা গণহত্যার ইতিহাসে এক জঘন্যতম ভয়াবহ ঘটনা। পরবর্তী নয় মাসে একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার লক্ষ্যে ৩০ লাখ নিরপরাধ নারী-পুরুষ-শিশুকে হত্যার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পূর্ণতা দিয়েছিল সেই বর্বর ইতিহাসকে। তাদের সংঘটিত গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ সবই ১৯৪৮ সালের ১১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত ‘জেনোসাইড কনভেনশন’ শীর্ষক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে বর্ণিত সংজ্ঞায় গণহত্যার চূড়ান্ত উদাহরণ। এই গণহত্যার স্বীকৃতি খোদ পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত দলিলেও রয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানের সংকট সম্পর্কে যে শ্বেতপত্র পাকিস্তানি সরকার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ করেছিল, তাতে বলা হয়: ‘১৯৭১ সালের পয়লা মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষের জীবননাশ হয়েছিল।’ ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের কাছে পাকিস্তানি জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করার ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের প্রক্রিয়া চলাকালে পাকিস্তানি সেনারা কুখ্যাত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নাম দিয়ে নিরীহ বাঙালি বেসামরিক লোকজনের ওপর গণহত্যা শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ সকল সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা। ২৫ মার্চ দুপুরের পর থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। এদিন সকাল থেকেই সেনা কর্মকর্তাদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। হেলিকপ্টার যোগে তারা দেশের বিভিন্ন সেনানিবাস পরিদর্শন করে বিকেলের মধ্যে ঢাকা সেনানিবাসে ফিরে আসে। ঢাকার ইপিআর সদর দপ্তর পিলখানাতে অবস্থানরত ২২তম বালুচ রেজিমেন্টকে পিলখানার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এদিন মধ্যরাতে পিলখানা, রাজারবাগ, নীলক্ষেত আক্রমণ করে পাকিস্তানি সেনারা। হানাদার বাহিনী ট্যাংক ও মর্টার নিয়ে নীলক্ষেতসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দখলে নেয়। সেনাবাহিনীর মেশিনগানের গুলিতে, ট্যাংক-মর্টারের গোলায় ও আগুনের লেলিহান শিখায় নগরীর রাত হয়ে উঠে বিভীষিকাময়। পাকিস্তানি হায়েনাদের কাছ থেকে এদিন রক্ষা পায়নি রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও। ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব ও জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মনিরুজ্জামানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৯ জন শিক্ষককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। ঢাবির জগন্নাথ হলে চলে নৃশংসতম হত্যার সবচেয়ে বড় ঘটনাটি। এখানে হত্যাযজ্ঞ চলে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান অপারেশন সার্চ লাইট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সকল পদক্ষেপ চূড়ান্ত করে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করে করাচি চলে যান। সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং শেষ শত্রম্ন বিদায় না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানান। বঙ্গবন্ধুর এই আহবানে সাড়া দিয়ে বাঙালি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র লড়াই শেষে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ণ বিজয় অর্জন করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভু্যদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। বিভিন্ন কর্মসূচি: জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে পঁচিশে মার্চের সেই কালরাতে নির্মম হত্যাযজ্ঞের শিকার অগণিত শহীদকে। রাজধানীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কালরাত’ স্মরণে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দিনভর থাকছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাতে মোমবাতি প্রজ্বালন। বাঙালির ওপর পাকিস্তানি সেনাদের চালানো সেই নিধনযজ্ঞের প্রতি চরম ঘৃণা জানাতে আজ সোমবার রাত রাত ৯টা ১ মিনিটের জন্য অন্ধকারে বস্ন্যাক আউট ডুবে যাবে দেশ। জরুরি স্থাপনা ও চলমান যানবাহন ছাড়া এ সময় দেশের কোথাও জ্বলবে না কোনো আলো। স্মরণ করা হবে স্বাধীনতাকে। স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কন্ঠে ২৫ মার্চ গণহত্যার স্মৃতিচারণা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে গণহত্যার ওপর দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এদিন বাদ জোহর দেশের সকল মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য উপাসনালয়গুলোতে সুবিধাজনক সময়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে এবং সকল জেলা ও উপজেলায় ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করাসহ সারাদেশে গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গীতিনাট্য এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।”

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 16655

ঝালকাঠিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সেলিমের নির্বাচন বয়কট

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে আজ ২৪ মার্চ রবিবার ঝালকাঠিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিমের নির্বাচন বয়কট।

আনারস প্রতীকে সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঝালকাঠি সদর উপজেলায় নির্বাচন করলেও আজ ভোট গ্রহনের দিন দুপুর ১টায় কির্তীপাশা ইউনিয়নের ভাউলকান্দা গ্রামের নিজ বাড়ীতে সংবাদ সম্মেলনের
মাধ্যমে নির্বাচন বয়কটের ঘোষনা দেন।
এ সময় তিনি তার বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ গ্রহনের পর  হতে সেভাবে যেহেতু লেভেল প্লেয়িং  পায়নি তাই এই পরিস্থিতিতে আমি সাধারন মানুষের রক্ত বাচানোর জন্য এই
প্রহশন মূলক নির্বাচনকে বয়কট করছি।

ক্রাইম ডায়রি/// জেলা/// রাজনীতি

Total Page Visits: 16655

অ্যাপসে ট্রেনের টিকেটঃ চালু হবে আগামী রোজার ঈদে

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ
ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে দেশ আরও একধাপ এগিয়ে   গেল। জটমুক্ত যাত্রার লক্ষ্যে  আগামী রোজার ঈদের আগেই ট্রেনের টিকিটের জন্য মোবাইল অ্যাপস চালু করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ফলে মোবাইলের নতুন এই অ্যাপসের মাধ্যমেই ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কিনতে পারবেন ঘরমুখো যাত্রীরা।
আজ রোববার দুপুরে রেলওয়ের এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মো: নূরুল ইসলাম সুজন। আগামী মাসের মাঝামাঝিতেই এই অ্যাপ উদ্ধোধন করার সম্ভাবনার কথাও জানান মন্ত্রী।

আগে আজ সকাল ১১টায় রাজধানীর রেল ভবনে ট্রেনের ডিজিটাল টিকেটিং অ্যাপের কার্যক্রমের বিষয়ে বৈঠক করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। উক্ত বৈঠক শেষে দুপুর ১টায় সাংবাদিকদের অ্যাপসের কথা জানান রেলমন্ত্রী।

রেলমন্ত্রী বলেন, ‘ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি বন্ধ করার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ন্যাশনাল আইডি কার্ডের মাধ্যমে সাতটি আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট কাটার ব্যবস্থা করেছিলাম। এর ইতিবাচক ফল পেয়েছি। হয়রানি কমেছে। তাই ঈদের আগে সকল ট্রেনেই টিকেট কাটতে ন্যাশনাল আইডি রাখা বাধ্যতামূলক করছি। এতে ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি বন্ধ হবে। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে এখনি প্রস্তুতি নিতে হবে। এজন্য একটি অ্যাপ তৈরির কাজও চলছে। এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি অ্যাপটি উদ্বোধন করা হবে। ঈদে যাত্রীরা ট্রেনের টিকেট অ্যাপের মাধ্যমে বসেই সংগ্রহ করতে পারবেন।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘ট্রেনের যাত্রীদের হয়রানি রোধে, টিকেট জালিয়াতি বন্ধ করতেই তৈরি করা হচ্ছে একটি অ্যাপ। এই অ্যাপের মাধ্যমে সহজে ঝামেলাবিহীনভাবে ট্রেনের যাত্রীরা টিকেট কাটতে পারবেন। এই অ্যাপে রেলমন্ত্রী মহোদয়ের কিছু সাজেশন আছে। এগুলো অ্যাপে সংযোজন করতে হবে। আশা করছি প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ঝামেলামুক্ত ট্রেন সেবা যাত্রীদের দেয়া সম্ভব হবে ।

অ্যাপ ডেভেলপারদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সব মানুষ এখনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন বা আধুনিক মোবাইল ব্যবহার করছেন না। ফলে কেউ যদি চান কাউন্টার থেকেও টিকেট কাটতে পারবেন, সে ব্যবস্থা রাখতে হবে। আর অবশ্যই ন্যাশনাল আইডি কার্ড দিয়েই ট্রেনের টিকেট কাটতে হবে এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। ট্রেনে যেসব খাবারের ব্যবস্থা থাকবে তার মেন্যুও থাকতে হবে অ্যাপেই।’

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

 

Total Page Visits: 16655

বগুড়ার শেরপুরে সাংবাদিক এরশাদের ফেসবুক আইডি হ্যাকঃ থানায় জিডি

শেরপুর (বগুড়া)প্রতিনিধিঃ

বগুড়ার শেরপুরে  সাংবাদিক এরশাদের ফেসবুুক আইডি হ্যাকার কর্তৃক হ্যাক হয়েছে। এ ব্যাপারে ভিকটিম এরশাদ থানায় সাধারন ডায়েরি করেছেন।  অভিযোগ সুত্রে তিনি লেখেন যে আমি সাংবাদিক এরশাদ হোসেন শেরপুর পৌরসভা খন্দকার পাড়া ৯নং ওয়ার্ডের মৃত কাবজ আলীর ছেলে। গত ১৮ মার্চ কে বা কাহারা আমার ফেসবুক আইডিটি হ্যাক করে মোহাম্মদ ইসমাইল নাম দিয়ে পরিচালনা করছে। আইডি পরিবর্তন করায় আমি আমার ফেসবুকে প্রবেশ করিতে পারছিনা ।
তার ছদ্ম নাম দুর্জয় চৌধুরী। শেরপুর থানার জিডি নং৮৮৩ ।
ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম

Total Page Visits: 16655

ডিম নিয়ে নতুন তথ্যঃ জানলে অবাক হবেন

ক্রাইম ডায়রি ডেস্কঃ

 ডিম নিয়ে তর্কের শেষ নেই। ডিম    খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো কিনা এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরেই বিতর্ক করে আসছেন।

 

আমেরিকান মেডিক্যাল জার্নাল জে এ এম এ-র প্রকাশিত এক জরিপ রিপোর্টে বলা হচ্ছে, প্রতিদিন মাত্র দুটি ডিম খেলেই হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হয় এবং অকালে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে।

এতে বলা হয়, আসলে ডিম খাওয়াটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো কিনা – তা হয়তো নির্ভর করে আপনি কতগুলো ডিম খাচ্ছেন তার ওপর।

ডিম নিয়ে এ উদ্বেগের কারণ হচ্ছে: ডিমের কুসুমে থাকে বিপুল পরিমাণ কোলেস্টেরল। একটি বড় আকারের ডিমে কোলেস্টেরলের পরিমাণ ১৮৫ মিলিগ্রাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে মানুষের খাদ্যে দিনে সর্বোচ্চ ৩০০ মিলিগ্রামের বেশি কোলেস্টেরল থাকা উচিত নয়। অথচ এর অর্ধেকেরও বেশি কোলেস্টেরল আছে একটি মাত্র ডিমে।

ঝুঁকি আসলে কতটা?

এ জরিপে মোট ৬টি পরীক্ষার উপাত্ত ব্যবহৃত হয়েছে – যা ১৭ বছর ধরে ৩০ হাজার অংশগ্রহণকারীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা।

গবেষকরা এর পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে – খাবারের সাথে দিনে ৩০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল গ্রহণ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি থাকে।

বিশেষ করে ডিমের ক্ষেত্রে গবেষকরা দেখতে পান যে প্রতি দিন তিন থেকে চারটি ডিম খাবার সাথে হৃদরোগের ৬ শতাংশ বাড়তি ঝুঁকি এবং অকালমৃত্যুর ৮ শতাংশ বাড়তি ঝুঁকির সম্পর্ক আছে।

দিনে দুটো করে ডিম খেলে এ ঝুঁকি বাড়ে যথাক্রমে ২৭ শতাংশ এবং ৩৪ শতাংশ।জরিপটি বলছে, হৃদরোগ বা অকালমৃত্যুর সাথে ডিমের এই সম্পর্কের সাথে বয়স, ফিটনেসের স্তর, তামাক ব্যবহার, বা উচ্চ রক্তচাপের মতোআগে থেকে বিদ্যমান কোন স্বাস্থ্য সমস্যার সম্পর্ক নেই।

আমাদের জরিপে দেখা গেছে যে দুজন লোক যদি হুবহু একই খাবার খায়, এবং একজনের ক্ষেত্রে শুধু ডিমের পরিমাণটিই আলাদা হয় – তাহলে এ লোকটির হৃদযন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি বেশি হবে” – এ কথা বলছেন জরিপ রিপোর্টটির অন্যতম প্রণেতা, এবং নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক নোরিনা এ্যালেন।

‘আগেকার গবেষণার সাথে এ ফলাফল মিলছে না’

এর আগের গবেষণায় বলা হয়েছিল, ডিম খাওয়া এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ার মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই।

কিন্তু নতুন এই গবেষণার সাথে সেসব ফলাফল মিলছে না।

নোরিনা এ্যালেন বলছে, আগেকার জরিপগুলোতে নমুনার বৈচিত্র্য কম ছিল এবং অংশগ্রহণকারীদের ওপর নজর রাখা হয়েছিল কম সময় ধরে।

তবে এই গবেষকরাও স্বীকার করছেন যে তাদের জরিপ পদ্ধতি বা বিশ্লেষণেও ভুল থাকতে পারে।

কিছু বিশেষজ্ঞ বলেছেন, নতুন এ গবেষণার ফল ‘পর্যবেক্ষণমূলক’ – তারা ইঙ্গিত করছেন যে ডিম খাওয়ার সাথে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক থাকতে পারে – কিন্তু ‘একটার কারণেই যে অন্যটা হচ্ছে’ তা প্রমাণ করতে পারেননি।

কতগুলো ডিম খাওয়া নিরাপদ – এ প্রশ্ন করা হলে নোরিনা এ্যালেন বলছেন, সপ্তাহে তিনটির বেশি নয়।

তিনি আরো বলেন, “আমি ডিম খাওয়া একেবারে বাদ দিতে বলছি না, শুধু কমাতে বলছি – এবং কুসুম বাদ দিয়ে প্রধানত ডিমের শ্বেতাংশটাই খেতে বলছি।”

এক জরিপে বলা হয়, একজন আমেরিকান বছরে গড়ে ২৫২টি ডিম খায়। সেদেশে ২০ শতাংশ মৃত্যু হয় হৃদরোগের কারণে। কিন্তু জাপানে এক জন লোক বছরে গড়ে ৩২৮টি ডিম খায়, কিন্তু সেখানে হৃদরোগে মৃত্যু হয় মাত্র ১১ শতাংশ লোকের।

ব্রিটিশ বিজ্ঞানী টম স্যান্ডার্স বলছেন, পরিমিত মাত্রায় ডিম খেলে – যেমন সপ্তাহে তিন থেকে চারটি – তাতে কোন সমস্যা নেই।

ক্রাইম ডায়রি/// স্বাস্থ্য//সূত্রঃঃ বিবিসি বাংলার সৌজন্যে ও জনস্বার্থে

Total Page Visits: 16655