• বৃহস্পতিবার ( বিকাল ৩:৫২ )
    • ২রা জুলাই, ২০২০ ইং

চাকরী হারানোর ভয়ে অসংখ্য গার্মেন্টস শ্রমিক

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : একদিকে বেতন না পাওয়ার আহাজারি অন্যদিকে চাকরি হারানোর গভীর সঙ্কায় রয়েছেন পোশাক খাতের শ্রমিকরা। দেশে বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত সর্বমোট এক হাজার ৯২৬টি তৈরি পোশাক কারখানা চালু রয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৮৫৫টির মালিক তাদের শ্রমিকদের মে মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেছেন। তবে এখনও ৭১ কারখানার শ্রমিক বেতন-ভাতা পাননি। এ তথ্য জানিয়েছে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

মিল-কলকারখানা চালু হলেও কোনো শিল্প ইউনিট ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। সক্ষমতার বিপরীতে অর্ডার নেই। বড় জোর ৩০ শতাংশ শ্রমিক-কর্মচারী দিয়ে মিল ফ্যাক্টরি চালানোর সুযোগ আছে। তাও কতদিন চলবে- তা অনিশ্চিত। এ হিসাবে কমপক্ষে বস্ত্র সেক্টরের ৭০ শতাংশ কর্মীর চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

বিজিএমইএ বলেছে, এক হাজার ৯২৬ কারখানার মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় রয়েছে ৩৩৩টি। এর মধ্যে মে মাসের বেতন দিয়েছে ৩১৪টি প্রতিষ্ঠান। গাজীপুরের ৭১৩ কারখানার মধ্যে বেতন দিয়েছে ৬৯৩টি, সাভার-আশুলিয়ায় ৪১২টির মধ্যে বেতন দিয়েছে ৩৯৭টি, নারায়ণগঞ্জের ১৯৮টি কারখানার মধ্যে বেতন দিয়েছে ১৯৬টি, চট্টগ্রামের ২৫২টি কারখানার মধ্যে ২৪০টি এবং প্রত্যন্ত এলাকার ১৮টি কারখানার মধ্যে ১৫টি বেতন পরিশোধ করেছে। সব মিলিয়ে মে মাসের বেতন পরিশোধ করেছে চালু থাকা এক হাজার ৮৫৫টি (৯৬.৩০ শতাংশ) কারখানা। তবে ৭১টি কারখানার (৩.৭০ শতাংশ) শ্রমিকদের বেতন ২৫ জুন পর্যন্ত পরিশোধ করেনি মালিকপক্ষ।
জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এই প্যাকেজ থেকে উৎপাদনের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ পণ্য রফতানি করছে এমন সচল প্রতিষ্ঠান সুদবিহীন সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দিয়ে ঋণ নিতে পারছে। জানা যায়, তহবিল থেকে ঋণ পেতে বিজিএমইএর সদস্য এক হাজার ৩৭০টি ও বিকেএমইএর সদস্য ৫১৯টি কারখানা আবেদন করেছিল। বিভিন্ন কারণে বিকেএমইএর ৯৯ সদস্য কারখানাসহ বেশি কিছু আবেদন বাতিল হয়। তবে এরপরও পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের সিংহভাগ অর্থই ঋণ হিসেবে পেয়েছেন পোশাকশিল্পের মালিকরা। ফলে দুই মাস ধরে পোশাক শ্রমিকদের একটি বড় অংশের মজুরি হচ্ছে প্রণোদনার টাকায়। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চলমান সংকটে শ্রমিক-কর্মচারীদের আরও তিন মাসের বেতন-ভাতা দেয়ার জন্য বিশেষ অর্থ বরাদ্দ চান দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকরা। এই বরাদ্দ চেয়ে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী বরাবর চিঠি দেয় রফতনিমুখী পোশাক মালিকদের বড় দুটি সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।
এ বিষয়ে বিকেএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, চলমান সংকটে রফতানিমুখী শিল্পের ক্ষতির কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছায় বেতন-ভাতা দেয়ার জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ দিয়েছেন। ওই টাকায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পোশাক কারখানা তিন মাসের মজুরি দিচ্ছে। তিনি বলেন, প্যাকেজের ঋণের অর্থে আমরা এপ্রিল, মে ও জুন- এ তিন মাসের মজুরি দেয়ার সুযোগ পেয়েছি। এখন আগামী জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য আগের মতো সহজশর্তে অর্থবরাদ্দ চেয়েছি। কারণ আজ থেকে তিন-চার মাস পর আমাদের যে কাজ প্রোডাকশন লাইনে যাবে বা শিপমেন্ট হবে সেটা এখনই কনফার্ম হওয়া দরকার। কিন্তু আমাদের কাছে এ মুহূর্তে কোনো অর্ডার আসছে না। তাই আগামী তিন মাস শ্রমিকদের বেতন দেয়ার মতো পরিস্থিতি কারখানাগুলোর নেই। এমন অবস্থায় আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছি বেতন দেয়ার জন্য ঋণের সুবিধা আরও তিন মাস যেন দেয়া হয়।
এদিকে মিল-কলকারখানা চালু হলেও কোনো শিল্প ইউনিট ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। সক্ষমতার বিপরীতে অর্ডার নেই। বড় জোর ৩০ শতাংশ শ্রমিক-কর্মচারী দিয়ে মিল ফ্যাক্টরি চালানোর সুযোগ আছে। তাও কতদিন চলবে- তা অনিশ্চিত। এ হিসাবে কমপক্ষে বস্ত্র সেক্টরের ৭০ শতাংশ কর্মীর চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু গার্মেন্ট সেক্টরেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ কোটি লোকের কাজ থাকবে না। সূত্রমতে, বিজিএমইএর দাবি অনুযায়ী তাদের শ্রমিক সংখ্যা ৪৫ লাখ হলে এর ৭০ শতাংশ অর্থাৎ ৩১ লাখের বেশি শ্রমিকের কাজ থাকছে না। এছাড়া তৈরি পোশাকের পশ্চাৎপদ শিল্প যেমন স্পিনিং, টেক্সটাইল, এক্সেসরিজ, পরিবহন, ফ্রেইট ফরোয়াডার্স, সিএন্ডএফ এজেন্টসহ পরোক্ষভাবে জড়িত শ্রমিক-কর্মচারীদের বড় অংশ কর্মহীন হয়ে পড়বে। এর বাইরেও পরোক্ষভাবে একটি কারখানাকে কেন্দ্র করে আরও অনেক ছোটখাটো ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে ওঠে। সেগুলোর কাজ কিংবা আয়ের পথ বন্ধ হবে। সব মিলিয়ে হিসাব করলে কোটির কাছাকাছি হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প মালিকদের কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যে যাই বলুক না কেন, বাস্তবতা হল বর্তমানে গার্মেন্টে যে কাজ আছে সেখানে ৩০ শতাংশের বেশি শ্রমিক কাজে লাগানোর সুযোগ নেই। যদি সুবিধামতো অর্ডার না পাওয়া যায় তাহলে চালু রাখা তো দূরের কথা, পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেয়া ছাড়া কোনো পথ খোলা থাকবে না। এর সঙ্গে ছাঁটাইয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। কাজ না থাকলে বেতন দেবে কে? ব্যবসার স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে কেউ থাকতে পারবেন না। ইতোমধ্যে শিল্প মালিকরা লোকসান দিয়ে হলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের ধরে রেখেছেন। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হলে সামনের দিকে সামলানো সম্ভব হবে না। তারা বলেন, অবস্থাদৃষ্টে যা দেখা যাচ্ছে, তাতে সামগ্রিকভাবে বস্ত্র খাত আদৌ আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে। তাই সংকট নিরসনে সরকারকেই এখন এগিয়ে আসতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাকেঞ্জির তথ্য অনুযায়ী করোনার প্রভাবে আগের বছরের তুলনায় চলতি বছর বিশ্বের পোশাক বাজারে বিক্রি ৩০ শতাংশ হ্রাস পাবে। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে পোশাক রফতানি ১০ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পাবে। চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) পোশাক শিল্পে ঋণাত্মক ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি। করোনার প্রভাবে মার্চ পর্যন্ত ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্রয়াদেশ বাতিল হয়ে গেছে। কারণ বহির্বিশ্বে বাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অনেক বড় বড় ক্রেতা দেউলিয়াত্বও বরণ করেছে। অর্ডার কমে যাওয়ায় চলমান পরিস্থিতিতে কোনো কারখানাই সামর্থ্যের শতভাগ ব্যবহার করতে পারছে না। অনেক কারখানা ৩৫ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। বড় কারখানাগুলোও ৬০ শতাংশের বেশি সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না। জুনে কারখানাগুলো গড়ে ৫৫ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার করে কোনোরকমে উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখছে। জুলাইর পরিস্থিতি এখনই অনুমান করা কঠিন। গত ৪ জুন এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক এমন বাস্তবতা তুলে ধরে বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কারখানাগুলো ক্যাপাসিটির ৫৫ শতাংশ কাজে লাগাতে পারছে। এ ক্যাপাসিটিতে কারখানা চালিয়ে শতভাগ কর্মী রাখা উদ্যোক্তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এমন প্রেক্ষাপটে জুন থেকে শ্রমিক ছাঁটাই করা হতে পারে। এটি অনাকাঙ্খিত বাস্তবতা, কিন্তু করার কিছু নেই।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ভোগ ও চাহিদা কমে যাওয়ায় সারা বিশ্বেই শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে। বাংলাদেশেও এর বাইরে নয়। কারণ একদিকে পোশাকের অর্ডার কমে গেছে। অন্যদিকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কারখানায় লে-আউট প্ল্যান পরিবর্তন করতে হয়েছে। এতে ৩০ শতাংশ মেশিন সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। সেই ৩০ শতাংশ শ্রমিককেও সরকারের প্রণোদনা তহবিলের টাকায় এপ্রিল ও মে মাসে কাজ ছাড়া বেতন দেয়া হয়েছে। এ টাকা মালিকদেরই পরিশোধ করতে হবে। এ অবস্থা চলতে থাকলে তৈরি পোশাক খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় এক কোটি শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো মালিকই শ্রমিক ছাঁটাই করতে চান না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, মহামারীর কাছে মালিকরা অসহায়। শুধু গত ২ মাসেই প্রায় ৩শ’ গার্মেন্ট বন্ধ হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে কী হবে তা কেউ বলতে পারছে না।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, তৈরি পোশাকের পশ্চাৎপদ শিল্প হিসেবে টেক্সটাইল খাতও কোভিড-১৯ এ চরম ক্ষতিগ্রস্ত। অর্ডার যেভাবে বাতিল হচ্ছে, তাতে রফতানিমুখী টেক্সটাইল খাতের উৎপাদন কমবে। পাশাপাশি দেশে লকডাউন থাকায় স্থানীয় সুতা-কাপড়ের চাহিদা কমে এসেছে। এভাবে চললে ভবিষ্যতে কী হবে তা বলা যাচ্ছে না। উদ্যোক্তারা এখন লাভের জন্য নয়, বেঁচে থাকার জন্য কারখানা চালাচ্ছেন। কিন্তু করোনা দীর্ঘায়িত হলে সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে যাবে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টশ অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি আবদুল কাদের খান বলেন, আগের অর্ডার দিয়ে জুন পর্যন্ত কারখানা চালানো যাবে। কিন্তু জুলাইয়ে কী হবে তা বলা যাচ্ছে না। গার্মেন্ট থেকে এক্সেসরিজের অর্ডার দিচ্ছে না।

ক্রাইম ডায়রি//অনলাইন//জাতীয়

Total Page Visits: 55425

ভয়ংকর রেড-ইয়োলো জোনে সাধারন ছুটি-সবুজ জোনে সীমিত

শরীফা আক্তার স্বর্না, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

করোনার অত্যধিক সংক্রমণ ঝুঁকিতে থাকা লাল (রেড) ও হলুদ (ইয়েলো) জোনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এছাড়া সবুজ (গ্রিন) জোনে অফিস সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। আজ সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনায় এ কথা জানানো হয়েছে। আদেশে আরও বলা হয়, আগের শর্তেই সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন ও সরকারি-বেসরকারি অফিস চলবে। তবে করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধকল্পে শর্তসাপেক্ষে সার্বিক কার্যাবলি ও চলাচলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ১৬ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সাপ্তাহিক ছুটি এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।

সংক্রামক ব্যাধি আইনে এ সংক্রান্ত তালিকা প্রকাশের ক্ষমতা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দেয়া আছে। তবে লকডাউন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, কোথায় লকডাউন হবে তার তালিকা স্থানীয় প্রশাসন ঠিক করবে। কোন কোন স্থান লকডাউন করা হবে তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কোথায় কোথায় লকডাউন হবে তা আমার বলারও সুযোগ নেই। স্বাস্থ্য অধিদফতর এটা ঘোষণা করবে।

 

ঢাকা উত্তর সিটি

উত্তর সিটি করপোরেশনে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলো হলো : গুলশান, বাড্ডা, ক্যান্টনমেন্ট, মহাখালী, তেজগাঁও, রামপুরা, আফতাবনগর, মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, গুলশান, মগবাজার, এয়ারপোর্ট, বনশ্রী, রাজাবাজার, উত্তরা, মিরপুর।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৮টি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো : যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মুগদা, গেন্ডারিয়া, ধানমন্ডি, জিগাতলা, লালবাগ, আজিমপুর, বাসাবো, শান্তিনগর, পল্টন, কলাবাগান, রমনা, সূত্রাপুর, মালিবাগ, কোতোয়ালি, টিকাটুলি, মিটফোর্ড, শাহজাহানপুর, মতিঝিল, ওয়ারী, খিলগাঁও, পরিবাগ, কদমতলী, সিদ্ধেশ্বরী, লক্ষ্মীবাজার, এলিফ্যান্ট রোড, সেগুনবাগিচা।

চট্টগ্রাম সিটি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ১০ এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো হলো: চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, পতেঙ্গার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড, পাহাড়তলির ১০ নম্বর ওয়ার্ড, কোতোয়ালির ১৬, ২০, ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড, খুলশীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ড, হালিশহর এলাকার ২৬ নম্বর ওয়ার্ড।

বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক প্রণীত (Bangladesh risk zone-based covid-19 containment implementation startegy/guide) গাইডলাইন অনুসরণ করে সংক্রমণের ভিত্তিতে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ লাল অঞ্চল, হলুদ অঞ্চল ও সবুজ অঞ্চল হিসেবে ভাগ করে জেলা/উপজেলা/এলকা/বাড়ি/মহল্লাভিত্তিক জন চলাচল/জীবনযাত্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

আদেশে আরও বলা হয়, সিটি করপোরেশন এলাকায় অঞ্চলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার সার্বিক দায়িত্ব থাকবে সিটি করপোরেশনের। এর বাইরে জেলা প্রশাসন সার্বিক সমন্বয় করবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান জেলা উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দফতর সমন্বিতভাবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, কোভিড আক্রান্ত কিছু এলাকা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ঢাকার এলাকাগুলোতে আমরা সহযোগিতা করছি। কিন্তু নির্দেশনা হচ্ছে, সিভিল সার্জনরা নিজেরাই জোনভিত্তিক এলাকা ঘোষণা করবেন। আমরা তাদের সহযোগিতা করবো। এটা স্থানীয়ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হওয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, লকডাউন সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে সেটি বাস্তবায়নে অনেক মন্ত্রণালয় ও দফতর জড়িত। তাই এককভাবে কারও পক্ষে কোনও এলাকা লকডাউন করা সম্ভব নয়।

এদিকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, দেশের বিদ্যমান সংক্রামক রোগ আইন অনুযায়ী রাজধানীর বাইরে জেলাগুলোয় কোনও এলাকা লকডাউন করতে হলে সেই জেলার সিভিল সার্জনের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমতি নিয়েই লকডাউন করতে হবে। সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার লকডাউন কার্যকর করবেন। গাজীপুরে বেড়েই চলছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। সে কারণেই জেলার সব উপজেলার বিভিন্ন এলাকা রেড জোনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে জেলার বিভিন্ন এলাকা রেড জোনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং সে জন্য প্রস্তুতি নিতেও বলা হয়েছে। তবে কোন কোন এলাকা রেড জোনের আওতায় আনা হচ্ছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে এখনও জানানো হয়নি কিংবা নির্দেশনা দেয়া হয়নি বলে জানান জেলা প্রশাসক।

এদিকে, জেলার কালীগঞ্জ পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড শনিবার থেকেই রেড জোনের আওতায় আনা হয়েছে।গাজীপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, রবিবার জেলায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে অরও ৯০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ২৩৩ জনে। এছাড়া মোট ২৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 55425

”মাসুদ রানা”সিরিজের ২৬০ বইয়ের লেখক শেখ আব্দুল হাকিম; কাজী আনোয়ার নন

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

মাসুদ রানা সিরিজ পড়েনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুস্কর। কল্পনার জগতে ভেসে বেড়ায় কত যুবক এই মাসুদ রানা সিরিজ পড়েই। আবার বাস্তবমুখী বহু কিছু শিখিয়েছেও মাসুদ রানা। ভাববাদী বলেন কিংবা বাস্তবতা বলেন মাসুদ রানার ভক্ত নয় কে?? আর এর স্রষ্টা বলে আজীবনই সবাই জেনে এসেছে কাজী আনোয়ার হোসেনকে। মনে করা হয়েছে তিনিই হয়তোবা রাহাত খান। শুরু হতে আজ অবধি মাসুদ রানা তুমুল জনপ্রিয়। গোয়েন্দারও গোয়েন্দা আছে। গোয়েন্দা সিরিজ মাসুদ রানার উপর এবার হলো মহাগোয়েন্দাগিরি। রাহাত খান; কাজী আনোয়ার হোসেন হতে পাল্টে এবার হলেন শেখ আব্দুল হাকিম । হা হয়ে গেলেন তো। হ্যা, এটাই সত্য। মাসুদ রানা সিরিজের শুরুর দিকে এগারটি বই কাজী আনোয়ার হোসেন লিখলেও পরবর্তী  ২৬০টি বইয়ের লেখক  হলেন শেখ আব্দুল হাকিম।

 শেখ আবদুল হাকিম নিজেকে এই সিরিজের অধিকাংশ বইয়ের লেখক হিসেবে দাবি করে কপিরাইট আইনে মামলা করেন। দীর্ঘ প্রায় এক বছরের আইনি লড়াই শেষে রোববার বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস এই মামলার রায় দিয়েছে। তাতে আবদুল হাকিমের পক্ষে রায় এল।

রায়ে বলা হয়, গোয়েন্দা সিরিজ মাসুদ রানার প্রথম ১১টি বইয়ের পরের ২৬০টি বইয়ের লেখক কাজী আনোয়ার হোসেন নন। এর লেখক হলেন শেখ আবদুল হাকিম। যার ফলে দাবিকৃত মাসুদ রানা সিরিজের ২৬০টি এবং কুয়াশা সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে কপিরাইট স্বত্ত্ব পেতে যাচ্ছেন শেখ আবদুল হাকিম।

বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী  ক্রাইম ডায়রিকে বলেন, কাজী আনোয়ার হোসেন চাইলে অবশ্যই আমাদের এ রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করতে পারবেন। তবে তা অবশ্যই ৯০ দিনের মধ্যে করতে হবে। এখানে তিনি হেরে গেলে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন বলেও তিনি জানান।

কপিরাইট অন্তর্ভুক্তির কারণে তাকে প্রতিটি বইয়ের জন্য আলাদা করে আবেদন করতে হবে। এর পর প্রতিটি বইয়ের লেখক হিসেবে তার নাম যাওয়ার পাশাপাশি, কপিরাইটও তার হয়ে যাবে। লেখকের নাম পরিবর্তন হবে। নতুন করে আবার সবাই মাসুদ রানা সিরিজকে চিনবে।

উল্লেখ্য যে, গত বছরের ২৯ জুলাই শেখ আব্দুল হাকিম ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে স্বত্ব দাবি করে সেবা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কাজী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কপিরাইট আইনের ৭১ ও ৮৯ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ দাখিল করেন।

বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের রায়ে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু সমাধান ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে কপিরাইট বোর্ড বা বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যন্ত আবেদনকারীর দাবিকৃত ও তালিকাভুক্ত বইগুলোর প্রকাশ বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য প্রতিপক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হল।

এ ছাড়া প্রতিপক্ষকে আবেদনকারীর কপিরাইট রেজিস্ট্রেশনকৃত প্রকাশিত বইগুলোর সংস্করণ ও বিক্রিত কপির সংখ্যা এবং বিক্রয় মূল্যের হিসাব বিবরণী এ আদেশ জারির তারিখের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসে দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হল।

কপিরাইট অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৯ জুলাই শেখ আবদুল হাকিম অভিযোগ করার পরে অভিযোগকারী ও প্রতিপক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতিতে ওই বছরের ১১ ও ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ৪ নভেম্বর শুনানি হয়।

শুনানিতে উভয়পক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করে। দাখিলকৃত অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষ লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন। প্রতিপক্ষের উক্ত লিখিত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাদী পুনরায় নিজের স্বপক্ষে লিখিত যুক্তিতর্ক দাখিল করেন। পরবর্তীতে অভিযোগকারীর দাখিলকৃত যুক্তির বিষয়ে প্রতিপক্ষ পুনরায় লিখিত যুক্তিতর্ক পেশ করেন।

কপিরাইট অফিস সুত্রে জানা গেছে, মামলার বিষয়টি বেশ ক্রিটিকাল হওয়ায়  এর বিশ্বাসযোগ্য ও সঠিক সমাধানের জন্য অভিযোগের বিষয়ে দেশের বিখ্যাত ও প্রথিতযশা কয়েকজন লেখক ও প্রকাশক বুলবুল চৌধুরী ও শওকত হোসেন, প্রখ্যাত শিল্পী হাশেম খান  এবং সেবা প্রকাশনীর সাবেক ব্যবস্থাপক ইসরাইল হোসেন খানের লিখিত মতামত চাওয়া হয়। এরই সুত্র ধরে ১৪ই জুন,২০২০ইং রোজ রবিবার এই রায় দেয়া হয়। এদিকে এই রায়ে পাঠক সমাজে শেখ আব্দুল হাকিমের প্রতি যেমন সহানুভুতি দেখা গেছে ঠিক তেমনি তরুন পাঠকেরা মনক্ষুন্নও হয়েছেন অনেকে। তবে বিজ্ঞজনেরা বলছেন দীর্ঘদিনে পরিচিতির কারনে তরুনেরা হঠাৎ করে এটা মেনে নিতে না পারলেও ধীরে ধীরে এটা সয়ে যাবে।

ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়

 

Total Page Visits: 55425

আমি ওভাবে বলিনি, যা বলেছি…..ড.মীজানুর রহমান

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

কোন কোন দেশে ভালোর কদর নেই।। হক কথা বললে মামু বেজার। মাঝে মাঝে মামুদের জোয়ার  আসে।  ভালো বললে মন্দটুকু কাটিং করে প্রচার করবে। আগের এবং পরেরটুকু আর বলবে না।  এরা প্রেক্ষাপটে যাবেনা। পরিস্থিতি বুঝবে না। বসেই আছে, কখন কে মুখ ফসকে কি বলে ফেলে সেই আশায়। সেটা যদি বাস্তবতার নিরিখে হয় কিংবা হক  হয় তাতে কিছু যায় আসেনা। কথা সত্য; তালগাছ আমার। মাঝে মধ্যেই একটি মহল কিছু  বলতেই সেটা নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে।। এদের জাল হতে মুক্তি নেই; এমনকি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরও। যে বিবেচনাতেই নিয়োগ হোক অযোগ্য লোক কিন্তু ভিসি নিয়োগ হয়না।

কয়েকদিন হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে নিয়ে; তার একটি বক্তব্যকে ঘিরে নানামুখী বিতর্ক চলছে। দক্ষতা সম্পন্ন একজন মানুষ ড.মীজানুর রহমান। তিনি একজন  বিবেচনা সম্পন্ন নাগরিক। তিনি কালোকে কালো এবং সাদাকে সাদা বলতে পারবেন না,তাতো হয়না!

[facebook/The Crime Diary ] “কোন কোন দেশে ভালোর কদর নেই।। হক কথা বললে মামু বেজার। মাঝে মাঝে মামুদের জোয়ার  আসে।  ভালো বললে মন্দটুকু কাটিং করে প্রচার করবে। আগের এবং পরেরটুকু আর বলবে না।  এরা প্রেক্ষাপটে যাবেনা। পরিস্থিতি বুঝবে না। বসেই আছে, কখন কে মুখ ফসকে কি বলে ফেলে সেই আশায়। সেটা যদি বাস্তবতার নিরিখে হয় কিংবা হক  হয় তাতে কিছু যায় আসেনা। কথা সত্য; তালগাছ আমার।”

ছাত্রদের মেসভাড়া নিয়ে তিনি অনেক কথা বলেছেন। আমরা জানি দায়িত্বশীল অবস্থান হতে  কোন কথা বলতে নিলে সেই কথার   প্রেক্ষাপট বা শানে নুজুল থাকে, কথার কথা থাকে, উদাহরন থাকে, প্রসঙ্গে দু’একটা অযাতিত কথাও হয়।  সেই কথা গুলোর মধ্যে কাটিং করে যতটুকুতে ঘায়েল করা যায় অতটুকু প্রচার অমানবিকও বটে। পিতা তার সন্তানকে গালি দেয়ার সময় কেমন কথা বলে সবারই জানা। সেগুলো ধরলে পিতার অবস্থান কোথায় যায়??

 

এ বিষয়ে মিডিয়ার কাছে মুখ খুলেছেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কারিগর এবং বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ নিয়ে সুদীর্ঘ সময়ের বিশ্লেষণধর্মী আলোচক ড.মীজানুর রহমান। পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো—-

[[ “কথাগুলো-ওভাবে-বলিনি-জবি-উপাচার্য

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার কথা নিয়ে যেভাবে সমালোচনা হচ্ছে, আসলে তিনি কথাগুলো ‘ওভাবে’ বলেননি। কথাগুলোর পূর্বাপর কিছু উল্লেখ না করে কেবল খন্ডিত অংশ তুলে ধরায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যা প্রচার করা হচ্ছে এটা আমার কোনো বক্তব্য নয়। ব্যক্তিগত আলোচনা। আমি কথাগুলো ওভাবে বলিনি। কাউকে আঘাত করার জন্য বলিনি। প্রসঙ্গক্রমে বলেছি।’যখন তারা (ছাত্ররা) বলছে ১৬ হাজার ছাত্র টিউশনি করে চলে। বাড়িতে টাকা পাঠায়। তাই তাদের দুই হাজার টাকা করে মোট ২৯ কোটি টাকা মেস ভাড়ার জন্য বরাদ্দ দিতে হবে। এটা কি বাস্তব কোনো দাবি? যারা মেসে থাকেন তারা কি সবাই গরিব? তখন আমি বলেছি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই কি গরিব? এখানে কি কেবল গরিবদের ভর্তি করা হয়েছে? আমরা কি বিজ্ঞপ্তিতে বলেছি এখানে গরিব-অসহায়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে? এখানে সবাই মেধার ভিত্তিতে ভর্তি হয়েছে। অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন ছাত্ররা ভর্তি হয়, এখানেও তেমন।’যখন আমরা নানামুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, আমাদের অনেক ছাত্র আক্রান্ত, তাদের ফোন করে করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করাতে হচ্ছে। কয়েকজন শিক্ষক বাসায় বসে অক্সিজেন নিচ্ছেন। তাদেরও ভর্তি নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে। তখন সারাক্ষণই তারা গণমাধ্যমের কাছে মেস ভাড়ার দাবিতে কথা বলছে।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও দরিদ্র শিক্ষার্থী আসে, বুয়েটেও আসে। এখন যদি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে গরিব এটা যদি তুলে ধরা হয় তাহলে ছাত্রদের অবস্থান কোথায় থাকে?’  বিশ্ববিদ্যালয়কে যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, এটা গরিবদের বিশ্ববিদ্যালয়, এই বিষয়টি ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কারণ এটা মেধাবীদের বিশ্ববিদ্যালয়। মেধার ভিত্তিতে এখানে ছাত্র ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা আসে, এখানে আসে। আমাদের ক্লাসের ৮০ থেকে ৯০ জন ছাত্র থাকলে ২০ জন হয়তো দরিদ্র পরিবারের হতে পারে। আর ১০ জন হয়তো খুবই নিঃস্ব। বাকিরা তো আমরা ভালো আছি। তাহলে সবার মেস ভাড়া বরাদ্দের তো কোনো কারণ নেই। মেস ভাড়া যাদের সামর্থ্য আছে তারা দিবে। এখন তো মেসভাড়া কেউ চাচ্ছেও না। এখন তো মেসেও কেউ নেই। অনেকেই তো বাড়িতে চলে গেছেন। তারা যখন আসবেন তখন এটা নিয়ে সুরাহা করা যাবে। দেখা যাবে কী করা যায়।’

যারা টিউশনি করে মেস ভাড়া দিয়ে থাকত, তাদের নিয়ে তো সমস্যাটা আরও গভীর হবে। এখন তো মেস ভাড়া দিতে পারছে না, তখন তো খাওয়ারও টাকা থাকবে না। তাদের টিউশনি তো থাকবে না। সেটা নিয়ে আমাদের সবাইকে চিন্তা করতে হবে। আমরা সবাই গরিব তা তো না। আমরা যদি সারাক্ষণ বলি আমরা খুব দরিদ্র-গরিব, সবাই মেসে থাকি, তাহলে তো আমাদের নিজেদেরই আত্মমর্যাদা নষ্ট হবে। এটা বলেছিলাম কথা প্রসঙ্গক্রমে।  শিক্ষার্থীদের বললাম, আমাদের শিক্ষার্থীদের তো অনেকভাবেই আমরা সহযোগিতা করছি। উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত যেখানে যে সমস্যায় পড়ছে তাকেই সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। ইউএনওকে ফোন করে, চেয়ারম্যানকে ফোন করে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছানোর কাজ করছি। বিকাশের মাধ্যমে নগদ টাকা পৌঁছানোর কাজও চলছে। আমাদের প্রচুর ছাত্র আছে অনেক দরিদ্র। এদের তালিকাও আমাদের কাছে আছে। কারণ আমাদের জাকাত ফান্ড আছে। দরিদ্রদের সাহায্য-সহযোগিতা করার বিভিন্ন টিম আছে। সেই হিসাবেই আমাদের ধারণা আছে ৩৬০-৩৬৫ জনের মতো ছাত্র একেবারেই নিঃস্ব। যাদের টিউশনির টাকায় চলতে হয়। তারা এ থেকে বাড়িতেও টাকা পাঠায়।’

তাছাড়া বড় চিন্তার বিষয় হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় যখন খুলবে এই ছাত্ররা যখন ফিরে আসবে তখন তো টিউশনি অনেকের থাকবে না। স্বাভাবিকভাবে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কারণে অনেক ছাত্রের টিউশনিও থাকবে না। কারণ কেউ তো ঝুঁকি নিয়ে প্রাইভেট শিক্ষক রাখবে না। ঘরে যেতে দিবে না এই পরিস্থিতিতে। এই ছাত্ররা কীভাবে তাদের জীবন-জীবিকা চালাবে? এটা হচ্ছে আমাদের চিন্তার বিষয়। তাদের অনেকেই দ্বিতীয় বর্ষ, তৃতীয় বর্ষে পড়ছে। আমাদের সবাইকে মিলেই এটি মোকাবিলা করতে হবে। সরকারের থেকে যদি সহযোগিতা পাওয়া যায় তাহলে ভালো। যারা ধনী আছে, আমাদের ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে, তারাও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে। একদিনের বেতনও দিয়ে রাখছে শিক্ষকরা।’

ছাত্রদের যারা মেসে থাকে সবাই গরিব না; একেক মেসে পাঁচজন, সাতজন, দশজন করে দরিদ্র ছাত্র আছে। তাকে সবাই মিলে সহযোগিতা করলে আমি মনে করি এই সমস্যার উত্তরণ ঘটবে। আমরা সবাই মেস ভাড়া দিতে পারছি না, সবাই গরিব-এটা যদি আমরা মানুষের কাছে প্রকাশ করি তার মানে কী? আমি এটা বলেছি, আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিজ্ঞপ্তিতে তো বলি নাই যে দরিদ্র এবং অসহায়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এরকম কি বলেছি? আমরা তো ছাত্র ভর্তি করেছি মেধার ভিত্তিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ক্যাটাগরি বা ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ডের ছাত্ররা ভর্তি হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও তো একই যোগ্যতা, একই ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ডের।’

 

আমাদের অনেক ছাত্র মোটরসাইকেল চালিয়ে ক্যাম্পাসে আসে। তাদের তো মেস ভাড়া নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এটাই আমি বলেছি। আমাদের এখানে মোট ছাত্র ধরা যাক ১৮ হাজার। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র হচ্ছে ৪০ হাজার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সব মিলিয়ে ডাবলিং, গণরুম মিলিয়ে ২০ হাজার ছাত্র থাকে। বাকি ২০ হাজার ছাত্র কোথাও থাকে, মেসেই তো থাকে। আমাদের যে পরিমাণ ছাত্র মেসে থাকে আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যত ছাত্র মেসে থাকে সংখ্যাটা ধরলাম সমান। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ কি মেস ভাড়া নিয়ে এসব কথাবার্তা বলছে? আমি সেটাই বলছি, আমরা যদি এটাই নিয়ে ব্যস্ত থাকি, তাহলে কী করে হয়?’

তেমনি, এই সমস্যা তো কেবল তো আমাদের সমস্যা নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যে পরিমাণ ছাত্র-ছাত্রী ট্রেনে করে ক্যাম্পাসে আসে, তাদেরও সমস্যা। এই সমস্যার সমাধান হয় রাষ্ট্রকে করতে হবে, অথবা আমাদের মধ্যে যারা সামর্থ্যবান আছে প্রত্যেক ক্লাসে প্রচুর ছাত্র আছে, যারা একজন দশজনকে দেখতে পারবে, তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। এটাই বলেছিলাম যে আমরা তো সবাই গরিব না।”]]

সবাই মিলে সংকট মোকাবিলা করতে হবে উল্লেখ করে ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘সরকার তো সহযোগিতা করছে, আমাদের যাদের সামর্থ্য আছে, তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে নিয়ে নেগেটিভ মন্তব্য করা যায় যখন তার অবস্থান সুস্পষ্ট দুর্নীতির পক্ষে। কিন্তু তিনি যখন   হক কথা বলেন সেটাকে কাটছাট করে ভাইরাল করলে পুরো জাতী লজ্জিত হয়। বিষয়টি ভবিষ্যতের স্বার্থে সবাইকে ভেবে দেখা উচিত নয় কি???

ক্রাইম ডায়রি//  জাতীয়

 

Total Page Visits: 55425

লাশের সারি বাড়ছেঃব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যুঃ আমরা জাগব কবে???

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, ২৬ এপ্রিল ২০২০ ইং রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৫ জন হয়েছে। গত এক দিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও ৯ জন। এ পর্যন্ত মোট ১২২ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা রোববার দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ২ জন নারী। তাদের ৪ ছিলেন রাজধানীর বাসিন্দা, আরেকজনের বাড়ি ঢাকার দোহারে। যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে একজনের বয়স ৬০ বছরের বেশি; ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী তিন জন। এছাড়া দশ বছরের কম বয়সী এক শিশুও আছে মৃতদের মধ্যে।

নাসিমা সুলতানা বলেন, “যে শিশুটি মারা গেছে, তার নেফ্রটিক সিনড্রোম, কিডনির অসুস্থতা ছিল। তারপরে তার কোভিড পজিটিভ হয়েছে।”

বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩৬৮০টি, তার মধ্যে পরীক্ষা হয়েছে ৩ হাজার ৪৭৬টি নমুনা।

কোভিডি-১৯ আক্রান্তদের মধ্যে যারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তাদের তথ্য জানাতে গিয়ে নাসিমা সুলতানা বলেন, “আমাদের বেশিরভাগ আক্রান্ত ব্যক্তি বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নেন। তারা সুস্থ হয়ে গেলে সে তথ্যটা এখানে আমরা দিই না। যারা হাসপাতাল হয়ে বাসায় যান, তাদের তথ্যটাই দিই। ”

একটা বিষয় এখানে পরিস্কার বন্ধ রাখলেই সব কিছুর সমাধান হয়ে যাচ্ছেনা। যদি না প্রতিটি নাগরিক নিজ হতে হোম কোয়ারেন্টাইন বিধি মেনে না চলেন। সব কিছু বন্ধ রাখা হলো আর আমরা নিজেরা সেই বিধি যথারীতি অমান্য করে চললাম। তাতে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই হচ্ছে কিন্তু যে জন্য বন্ধ রাখা হলো সেই উদ্দেশ্য সফল হবেনা। সুতরাং নিজ জীবনের মায়া যদি ব্যক্তি পর্যায়ে তৈরি না হয় তবে বন্ধ রাখলেই কি আর খোলা রাখলেই বা কি? তবুও সার্বিক লকডাউন জরুরী ছিল যা সরকারের তরফ হতে করা হয়েছে। এখন বাকী দায়িত্ব জনগনের । যে মৃত্যু তার স্বজনদেরও এমনকি স্ত্রী সন্তানকেও কবরস্থ করা সুযোগ দেয়না। সেই মর্মান্তিক মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে চাইলে এখনও সময় আছে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক দুরত্ব মেনে চলুন। সমষ্টিগত  লকডাউনই পারে করোনা ঝুঁকি হতে জাতিকে মুক্তি দিতে।।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বেসরকারি এক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। ওই কর্মকর্তা সিটি ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগে এফভিপি ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৪০ বছর। তার সংসারে স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে।

মুগদা হাসপাতালের অধ্যক্ষ (চলতি দায়িত্ব) ডা. শাহ গোলাম নবী সাংবাদিকদের বলেন, এই হাসপাতালে দুইজন মারা গেছেন। তবে ওই ব্যক্তি ব্যাংক কর্মকর্তা কিনা তা কাগজে লেখা নাই।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড-১৯ বিষয়ক টিমের ফোকাল পার্সন সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ওই ব্যক্তি করোনাভাইরাসের রোগী ছিলেন। আজ (রোববার) সকাল ১০টায় তার মৃত্যু হয়েছে।

দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে লকডাউনের মধ্যেও ব্যাংক খোলা রয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন ব্যাংকার আক্রান্তও হয়েছেন। তবে মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম।

সিটি ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, কয়েকদিন ধরে ওই কর্মকর্তা সর্দি-কাশি এবং জ্বরে ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে দুই বার তিনি নমুনা পরীক্ষা করিয়েছিলেন। তবে দুবারই ‘নেগেটিভ’ আসে। চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

অসুস্থতা বাড়লে শনিবার সকালে আবারও মুগদা হাসপাতালে যান ওই ব্যাংক কর্মকর্তা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শাহরিয়ারকে ভর্তি করে নেন। নমুনা আবার পরীক্ষা করে করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ আসে।

সিটি ব্যাংকের ওই কর্মকর্তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরই মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে কল করে তার সঙ্গে দেখা না করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। মৃত্যুর পর তার পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই কর্মকর্তার লাশ স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়নি। সিটি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজধানীর তালতলা কবরস্থানে দাফন করে।

ক্রাইম ডায়রি///

Total Page Visits: 55425

বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ২ লাখ ছাড়ালোঃ বাংলাদেশে ৩২৪ জন চিকিৎসক আক্রান্ত

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

সারাবিশ্বে মহামারী করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ২ লাখের ও বেশি।  আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে এ সংখ্যা ছাড়িয়ে যায়। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে ২১০ দেশটি দেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।

সারাদেশে করোনাভাইরাসে আজ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মোট ৩২৪ জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকে বলছেন যেখানে চিকিৎসকরাই আক্রান্ত তাতে নতুন করে জনগনকে এর ভয়াবহতার ব্যাপারে বলার আর কিছুই নেই। যে চিকিৎসকদের চিকিৎসায় তারা ভাল হবার আশা করে বসে আছেন সেখানে চিকিৎসকরাই আক্রান্ত ; লকডাউন মেনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ঘরে থাকার ব্যাপারে এর চেয়ে বড় মেসেজ আর কি হতে পারে??

 

এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে ৮ লাখ ১৯ হাজারেরও বেশি মানুষ সুস্থ হয়েছেন। যা শতকরা হিসেবে ৮০ ভাগ

করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ইউরোপ ও আমেরিকার মানুষ। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৯ লাখের বেশি। আর করোনায় যে ২ লাখ মানুষ মারা গেছে তার এক চতুর্থাংশ অর্থাৎ ৫২ হাজারে বেশি মানুষ মারা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। একদিনে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর দিক দিয়েও দেশটিরে ধারে কাছে কেউ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের পর করোনায় মৃত্যুতে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ ইউরোপের। ইতালিতে ২৬ হাজার ৩৮৪, স্পেনে ২২ হাজার ৯০২, ফ্রান্সে ২২ হাজার ২৪৫, যুক্তরাজ্যে ২০ হাজার ৩১৯, বেলজিয়ামে ৬ হাজার ৯১৭, জার্মানিতে ৫ হাজার ৮০৫ ও নেদার‍ল্যান্ডসে মারা গেছে ৪ হাজার ৪০৯ জন।

চীনে প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও দেশটিতে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা এখন ৪ হাজার ৬৩২। তবে এশিয়ায় ৫ হাজার ৬৫০ মৃত্যু নিয়ে চীনের উপরে রয়েছে ইরান। তুরস্কে মারা গেছে ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ। এদিকে আক্রান্তের দিক দিয়ে চীন ও ইরানের উপরে রয়েছে তুরস্ক। দেশটিতে এখন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫ হাজার প্রায়।

এদিকে ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, জাপান ও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে করোনায় সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে। তবে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং ও তাইওয়ানের মতো দেশ ও অঞ্চলগুলোতে সংক্রমণ অনেক কম।

যুক্তরাষ্ট্র সবার শীর্ষে—

এদিকে আক্রান্ত, মৃত ও সুস্থ তিনক্ষেত্রেই শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া সবচেয়ে টেস্টও বেশি হয়েছে দেশটিতে।

ওয়ার্ল্ডোমিটার্সের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৯ লাখ ২৯ হাজারেরও বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দেশটির ৫২ হাজারেরও বেশি মানুষ এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন। আর সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। আর দেশটির ৫০ লাখ ৭৬ হাজারেরও বেশি মানুষকে করোনা টেস্ট করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৪১ জনে। আর নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৩০৯ জন। এ নিয়ে সর্বমোট আক্রান্ত চার হাজার ৯৯৮ জন।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো করোনা রোগী সুস্থ হয়নি। ফলে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা ১১২ জনই রয়েছে।

শনিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৪২২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৩৭ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে।

সারাদেশে করোনাভাইরাসে আজ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মোট ৩২৪ জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন।

চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনের (বিডিএফ) প্রধান ডা. নিরুপম দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মোট আক্রান্ত চিকিৎসকদের ২৫৫ জনই ঢাকার। এদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালের ১৬৩ জন, বেসরকারি হাসপাতালের ৭৬ জন এবং বাকি আরো ২০ জন চিকিৎসক রয়েছেন।

এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬ জন, চট্টগ্রামে বিভাগে ১২ জন, খুলনা বিভাগে সাতজন, বরিশালের আট জন, সিলেটে দুজন এবং রংপুর বিভাগের তিনজন চিকিৎসকের মধ্যে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত করা গেছে।

এক্ষেত্রে চিকিৎসকদের জন্য উন্নতমানের সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই),মাস্ক এবং সেফটি চশমার বিকল্প নেই বলে জানান সংগঠনটির প্রধান ডা. নিরুপম দাস।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

 

Total Page Visits: 55425

ভোলায় ইউএনও’র হস্তক্ষেপে ট্রাকের ত্রিপলের নিচ হতে সবজির পরিবর্তে অসুস্থ শ্রমিক উদ্ধার

ইমাম বিমান, জেলা প্রতিনিধিঃ
কোভিড-১৯ তথা করোনা ভাইরাসের কারনে  লকডাউন দেশে গনপরিবহন চলাচল নিষিদ্ধ হলেও অধীক আয়ের আসায় মানুষকে পন্য বানিয়ে একস্থান থেকে অন্য স্থানে বহন করার বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে (গনপরিবহন ছাড়া) পন্যবাহী বিভিন্ন  পরিবহন। ঠিক তেমনি ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলাধীন আলীমুদ্দিন বাংলাবাজার হতে পন্যবাহী একটি ট্রাকে মানুষ ভর্তি করে উপরে ত্রিপল টানিয়ে মানুষকে পন্য সাজিয়ে জামালপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া পন্যবাহী একটি ট্রাক থেকে ঘামে শরীর ভেজা অবস্থায় ক্লান্ত হয়ে অসুস্থ প্রায় ৩৫জন ব্লক নির্মান শ্রমিককে উদ্ধার করেন বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ভারপ্রাপ্ত) মোঃ বশির গাজী।
৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার আলিমুদ্দিন-বাংলাবাজার এলাকা থেকে একটি ট্রাক জামালপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হলে উপজেলার রানিগঞ্জ নামক এলাকা থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ বশির গাজী গাড়ীটি আটক করে ৩৫ জন ব্লক নির্মান শ্রমিককে ভেজা শরীরে ক্লান্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
এ বিষয় বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ বশির গাজীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি
ক্রাইম ডায়রির এই প্রতিনিধিকে জানান, উপজেলার রানিগঞ্জ এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার সময় বোরহাউদ্দিন উপজেলার আলিমুদ্দিন-বাংলাবাজার এলাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাক আটক করা হয়।
আটককৃত সন্দেহভাজন ট্রাকটিতে তল্লাশী চালন হয়। এসময় ট্রাকে বাঁধা ত্রিপলের নিচে মানুষ দেখতে পেলে তাদেরকে বাহিরে আসতে বলা হয়। তারা একে একে ভেজা শরীর নিয়ে ৩৫জন লোক বেড়িয়ে আসে। এবং সবাই জোরে জোরে শ্বাস করতে থাকে, আবার কেউ ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। হয়তো আর কিছুক্ষন থাকলে তাদের শ্বাস কষ্টে মৃত্যুও হতে পারতো। ট্রাক থেকো নেমে আসা মানুষ গুলো মেঘনা নদী ভাঙ্গন রোধে তারা ব্লক নির্মানের কাজ করেন বলে জানান। এ সময় ট্রাক চালক স্বাধীনকে ভ্রাম্যমান আদালতে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে ট্রাকে আসা ৩৫ নির্মান শ্রমিককে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ক্রাইম ডায়রি//জেলা
Total Page Visits: 55425

মানিকগঞ্জে তবলীগে আসা ব্যক্তির দেহে করোনা সনাক্তঃ সতর্কতা জরুরী

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতাঃ

ভারতের নিজামউদ্দিন মার্কাজের পর এই প্রথম বাংলাদেশের মানিকগঞ্জে তবলীগে আসা এক ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাসের দেখা মিলেছে।  স্থানীয় ও প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় তাবলিগ জামাতে আসা এক ব্যক্তির করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় সিঙ্গাইর পৌর এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।আক্রান্ত ব্যক্তি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার মধ্য কাইচাইল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সিঙ্গাইর পৌর এলাকার আজিমপুর নয়াডাঙ্গী বাইতুল মামুর ও মারকাজুল মা আরিফ ওয়াদ-দা ওয়াহ মাদ্রাসায় তাবলিগ জামাতে এসেছিলেন।

রোববার সিঙ্গাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা বলেন, গত ২৪ মার্চ থেকে ১৩ সদস্যের তাবলিগ জামাতের একটি দল ওই মাদ্রাসায় অবস্থান করছিলেন। এদের মধ্যে ওই ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়।

তিনি তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) গিয়ে পরীক্ষার পর তার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। তাকে আইইডিসিআরের তত্ত্বাবধায়নে রাখা হয়েছে।

এদিকে ওই ব্যক্তির সঙ্গে থাকা অন্য ১২ সদস্য ও স্থানীয় ৬ সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, শনিবার রাত ১২টার দিকে ওই ব্যক্তির করোনায় আক্রান্তের খবর জানানো হয়। এ ঘটনায় সিঙ্গাইর পৌর এলাকাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। লকডাউনের কারণে কোনো পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর যাতে সংকট না হয়, সেই লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ বাজার ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের সরকারিভাবে খাদ্যসহায়তা দেয়া হবে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। এদিকে আলেম ওলামার জানিয়েছেন গজব যখন আসে তখন কেউই এর বাহিরে নন। কি আলেম কি জালেম । সুতরাং সরকারী নির্দেশ মেনে ঘরে থাকাই অতি উত্তম। এই মুহুর্তে সতর্কতা খুবই জরুরী বলে বিজ্ঞ মহল মনে করেন।

ক্রাইম ডায়রি//জেলা///

Total Page Visits: 55425

র‌্যাব-১১এর অভিযানঃ অবৈধ মশার কয়েল ও জুস উৎপাদনকারী ফ্যাক্টরী সিলগালা

আফজাল হোসেন তপন, ক্রাইম ডায়রি অফিস, নারায়ণগঞ্জঃঃ

সারাদেশে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে      র‌্যাব-১১ এর অভিযানে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানাধীন কতুবপুর এলাকায় ০২টি কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে অননুমোদিত যৌন উত্তেজক শরবত ও কয়েল উৎপাদনের দায়ে ১২ জনকে  গ্রেফতার করা হয়েছে।  র‌্যাব ১১ সুত্রে জানা গেছে, এ সময় প্রায় ৭,৩০০ বোতল যৌন উত্তেজক শরবত ও বিপুল পরিমাণ ভেজাল কয়েল জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানাধীন কুতুবপুর এলাকায় অবস্থিত এম. কে ফুডস্ ও এম.এম কনজুমার নামক ০২টি কারখানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে অননুমোদিত যৌন উত্তেজক লায়ন ফুড শরবত এবং ভেজাল কয়েল তৈরীর অপরাধে ১২ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো সুমন মোল্লা(১৯), রাকিবুল ইসলাম(২২), ফয়সাল আহম্মেদ(১৯),রাজু বেপারী(২৪), খায়রুল আলম(৪৭),  হাবুবেপারী(৫০),  রাকিব হোসাইন(২৪), আব্দুর রহমান(২৭), আশরাফুল ইসলাম(২৫),তাহমীদ ইসলাম(২৩), আনোয়ার হোসেন(২২) এবং রাশেদ গাজী(২৩)। এ সময় কারখানা ০২টি হতে আনুমানিক ৭,৩০০ বোতল অননুমোদিত যৌন উত্তেজক শরবত ও বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ব্রান্ডের কয়েল এবং পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ০১টি কাভার্ড ভ্যানও জব্দ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে ও স্থানীয় লোকজন সুত্রে জানা যায়, উক্ত কারখানা ০২টি দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে অননুমোদিত যৌন উত্তেজক শরবত এবং ভেজাল কয়েল উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে। এম.এম কনজুমার দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জাম্বু, গাংচিল, ইগলু, ম্যাক্স, নাইট মাস্টার ইত্যাদি বিভিন্ন খ্যাতিসম্পন্ন ব্রান্ডের নামে কয়েল তৈরী ও পাকেটজাত করে বাজারে বিক্রি করে আসছে। এম.কে ফুডস্ এর উৎপাদনকৃত যৌন উত্তেজক লায়ন ফুডস শরবতগুলো প্যারাসিটামল পাউডার, টেস্টি সল্ট, স্যাগারিন, এমপিএস, ব্যাফেন, এসএস পাউডার, সোডিয়াম পাউডার, সাইট্রিক এসিড, ঘাম, ঘন চিনি, সাধারণ চিনি, ফ্লেভার ও রং সহ মোট ১৬টি ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান দিয়ে তৈরী করা হয়। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এই অননুমোদিত ভেজাল কয়েল ও যৌন উত্তেজক শরবত উৎপাদন করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছে বলে গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে।

এভাবে কারখানা ০২টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে যৌন উত্তেজক শরবত এবং ভেজাল কয়েল উৎপাদন করে জনস্বাস্থ্যের ও রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে আসছে। তিতাস গ্যাস কোম্পানীর টেকনিশিয়ানের প্রাক্কলনে দেখা যায় কারখানা ০২টি দীর্ঘদিন ধরে প্রতি মাসে ৩০ লক্ষ ২৪ হাজার টাকার গ্যাস চুরি করে আসছে। পরবর্তীতে তিতাস গ্যাস কোম্পানী কর্তৃপক্ষ উক্ত কারখানাগুলোর অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে RAB-11.

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম//আইন শৃঙ্খলা///আদালত//জেলা

Total Page Visits: 55425

বৃক্ষ লাগান;প্রকৃতিকে বাঁচানঃ অজানা রোগ প্রতিরোধে এটা সময়ের দাবী

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে প্রাকৃতিক জীব বৈচিত্র্য ও প্রকৃতি।প্রকৃতি যতো তার ভারসাম্য হারাচ্ছে, মানুষ ও পরিবেশও ঠিক ততোটাই বিপদগ্রস্ত হচ্ছে।।অজানা অচেনা রোগে শোকে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বৈশ্বিক উঞ্চতা বৃদ্ধিতে বসবাস অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে বিশ্বের অনেক এলাকা।।।🇧🇩 বাংলাদেশও এই উঞ্চতার শিকার।।।ঘনঘন প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও মানব শরীরের রোগ ধরা না পড়া ও অজানা অচেনা রোগের আক্রমণ এর পূর্ব লক্ষণ।।। এ অবস্থা উত্তোরনে বৃক্ষরোপন ও বনভূমি রক্ষা সবচেয়ে প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে।।।

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ, শিল্পায়ন, কৃষি সমপ্রসারণ ও নগরায়নের ফলে বিশ্বব্যাপী বন ও বনভূমি হ্রাস পাচ্ছে। পৃথিবীতে জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য বন অপরিহার্য। বনই প্রকৃতির শক্তির আধার। জীবন ও জীবিকার জন্য বন থেকে খাদ্য, আশ্রয়, ওষুধ, ছায়া, বিনোদন পাই।।।অর্থ পায় মানুষ।।।সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো বেঁচে থাকার প্রধান ও একমাত্র উপাদান অক্সিজেন সাপ্লাই দেয় এই বৃক্ষ।  তাই দ্রুত পরিবর্তনশীল জলবায়ুর প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে বনের ভূমিকা অপরিসীম।

বিশ্বের মোট ভূমির পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার মিলিয়ন হেক্টর। মোট ভূমির ৭৮ ভাগ চাষাবাদের অনুপযোগী, ২২ ভাগ ভূমি চাষাবাদ যোগ্য। ২০০ বছর আগেও বিশ্বের ৪৭ ভাগ এলাকা বনভূমিতে পরিবেষ্টিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে ২৯ ভাগ এলাকায় বনভূমি রয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। অথচ বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ  ৭১ সালে ছিল ১৬ ভাগ।

দেশের মোট আয়তন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৯৩ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে বনাঞ্চল ২৩ হাজার ৯৯৮ বর্গকিলোমিটার। যদিও এটা কাগজে কলমে।। প্রকৃত বনভূমি না মেপেই দেশের সর্বনিম্ন শিক্ষিত ব্যক্তিও অনুমান করতে পারে।।। ২০০৫ সাল পর্যন্ত তবুও এর ছিটেফোঁটা অবশিষ্ট ছিল। কিন্তু অতিলোভী মানুষের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে এখন বৃক্ষ তরুলতা শুন্য দেশের বহু এলাকা।।। জনসংখ্যা চাহিদার তুলনায় বনভূমির পরিমাণ খুবই কম।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়ানো-ছিটানো যে অল্প বনভূমি রয়েছে তাও মানুষ নির্বিচারে কেটে সাবাড় করছে। কাঠ ও জ্বালানি কাঠের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে গিয়ে বনভূমি দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে। শুধু বাংলাদেশই নয়, সারা পৃথিবী থেকে দ্রুত বনভূমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রতি মিনিটে পৃথিবী থেকে ১৯০ একর বন উজাড় হচ্ছে।

পৃথিবীর প্রায় ১০০টির বেশি দেশ মরুময়তার শিকার। প্রতিবছর এ মরুভূমি ৩-৪ কিলোমিটার করে বাড়ছে। মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে পৃথিবীর ১০ ভাগ বন ও তৃণভূমি মরুময়তার শিকার হচ্ছে, আর ২৫ ভাগ হুমকির সম্মুখীন। প্রতি মিনিটে মরুভূমি গ্রাস করছে ৪৪ হেক্টর উর্বর জমি এবং ২০ হেক্টর বনভূমি বিরান হচ্ছে। বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলে ব্যাপক হারে বন উজাড়ের ফলে মরুময়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পরিবেশ ও বন বিশেষজ্ঞদের ধারণা আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা ১.৫ থেকে ৪.৫ সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। মেরু অঞ্চলের জমাট বাঁধা বরফপুঞ্জ গলতে শুরু করবে এবং সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী সমুদ্র উপকূলীয় নিচু অঞ্চলগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাবে। সমুদ্রের পানির উচ্চতা যদি ১ থেকে দেড় মিটার বৃদ্ধি যায় তবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ এক তৃতীয়াংশ এলাকা বঙ্গোপসাগরের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মরু অঞ্চল বৃদ্ধি পাবে। উর্বর জমির পরিমাণ কমে যাবে এবং দেখা দেবে খাদ্যাভাব। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পরিমাণ বেড়ে যাবে।

বিশেষ করে মানুষ ও উদ্ভিদের পরস্পরের দেহাপোযোগী সামগ্রীর জন্য একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। মানুষ কার্বন-ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে (শ্বাস-প্রশ্বাসের সময়) এবং অক্সিজেন গ্রহণ করে। অন্যদিকে উদ্ভিদ অক্সিজেন ত্যাগ করে এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে। পৃথিবীতে বৃক্ষের পরিমাণ হ্রাস পেতে থাকলে এক সময় মানুষের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হবে। এমনকি এটা মানবজীবনের জন্য অত্যন্ত মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। উদ্ভিদ ও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা এ আশঙ্কায়ই উদ্ভিদ নিধোনকে অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে তুলে ধরেন এবং বৃক্ষরোপণের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। পবিত্র কুরআনের উপরোক্ত উক্তিতে আমরা এ ভারসাম্যের দিকনির্দেশনাই লাভ করি। আল্লাহ আরও বলেছেন, ‘সূর্য ও চন্দ্র আবর্তন করে নির্ধারিত কক্ষপথে, তৃণ-লতা ও বৃক্ষরাজি মেনে চলে তারই বিধান। তিনি আকাশকে করেছেন সমুন্নত এবং স্থাপন করেছেন ভারসাম্য।’ (সূরা আর রহমান : আয়াত ৫-৭)। বৃক্ষরাজি ও উদ্ভিদ আল্লাহর সৃষ্টির বৈচিত্র্য প্রকাশক। আল্লাহ সুনিপুণ স্রষ্টা, তিনি সৃষ্টি করেছেন বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ। আল্লাহ বলেছেন, ‘আমিই প্রচুর বারি বর্ষণ করি, অতঃপর আমি ভূমিকে প্রকৃষ্টরূপে বিদারিত করি এবং উহাতে উৎপন্ন করি শস্য, দ্রাক্ষা, শাকসবজি, জয়তুন, খেজুর এবং বহু বৃক্ষবিশিষ্ট উদ্যান।’ (সূরা আবাসা : আয়াত ২৫-৩০)। আল্লাহর কী নৈপুণ্য! একই মাটি একই পানিতেই আমরা ভিন্ন ভিন্ন উদ্ভিদ জন্মাতে দেখি, যাতে ভিন্ন ভিন্ন ফুল ও ফল ধরে। এসবই মানুষের কল্যাণের জন্যই।
আল্লাহ কোনো সৃষ্টিকেই অমর্যাদা করা উচিত নয়। তবে প্রয়োজন হলো তাকে যথার্থভাবে কাজে লাগানো। বৃক্ষরাজির পরিকল্পিত উৎপাদন ও ব্যবহারের ওপরই মানুষের বহু কল্যাণ বা উপকার নিহিত রয়েছে। তাই ইসলাম বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করে। নবী করিম (সা.) বৃক্ষরোপণের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যদি জানো আগামীকাল কেয়ামত, তথাপিও আজ যদি হাতে কোনো বীজ বা চারাগাছ থাকে, তা বপন করো অথবা লাগাও।’ পরিবেশের স্বাভাবিক প্রয়োজন এবং সভ্যতার বিকাশের জন্য বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত জরুরি।
বস্তুত জগতের সব সৃষ্টিই আল্লাহর নিয়ম মেনে চলে এবং তার মহিমাকীর্তন করে। এসবের মধ্য থেকে আল্লাহ মানুষকে এক ধরনের শিক্ষাও দিতে চেয়েছেন। আল্লাহ এসবের উদাহরণ দিয়ে পবিত্র কুরআনে বলেছেন, মানুষ কি তার আদেশ মানবে না? আল্লাহর সৃষ্টি বৃক্ষরাজি আল্লাহর নিয়ম মেনে চলে এবং আল্লাহর তসবিহ পাঠ করে। বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে ওই তসবিহ পাঠের অংশীদার হয়া যায়। উপরোক্ত হাদিসে রাসূলে করিম (সা.) সেই ইঙ্গিতই প্রদান করেছেন।
মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য বৃক্ষ অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বৈষয়িক প্রয়োজনেও তাই বৃক্ষরোপণ করা একান্ত দরকার। যে কোনো ফল ও ফসল উৎপন্ন হলেই তা মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। এমনকি ওই ফল বা ফসল যদি উৎপাদনকারী বা প্রকৃত মালিক নাও পায়, কেউ যদি চুরি করে নিয়ে যায় তাতেও সমাজের কারও না কারও প্রয়োজন পূর্ণ হয়। অর্থাৎ ওই ফল বা ফসল, সর্বাবস্থায়ই অর্থনৈতিকভাবে মূল্যমান। ইসলাম এ বিষয়ে মানুষকে সান্ত¡না প্রদান করেছে। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যদি কোনো মুসলিম কোনো ফলের গাছ লাগায় বা বাগিচা করে অথবা ক্ষেতে কোনো শস্যের বীজ বপন করে, তা থেকে উৎপন্ন কোনো ফল মানুষ বা পশুপাখি যদি খায়, তবে ওই বৃক্ষের মালিক, বাগিচাওয়ালা বা ক্ষেতওয়ালা সদকার সওয়াব পাবে।’
ইসলামে ফল বৃক্ষরোপণ ও ফসল ফলানোকে সওয়াবের কাজ হিসেবে ‘সদকায়ে জারিয়া’ বা অবিরত দানরূপে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি একটি বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা করেন তাহলে ওই গাছটি যতদিন বেঁচে থাকবে এবং মানুষ ও অন্য জীবজন্তু যতদিন তার ফল বা উপকার ভোগ করতে থাকবে, ততদিন ওই ব্যক্তির আমলনামায় পুণ্যের সওয়াব লেখা হতে থাকবে। সদকায়ে জারিয়ার জন্য ফলবান বৃক্ষই বেশি উপকারী।
এ প্রসঙ্গে হজরত আবু দারদার (রা.) একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একদা হজরত আবু দারদা (রা.) দামেস্কে একটি বৃক্ষরোপণ করেছিলেন। এমন সময় একটি লোক তার কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। সে হযরত আবু দারদাকে (রা.) অত্যন্ত মনোনিবেশ সহকারে বৃক্ষরোপণ করতে দেখে একটু অবাক হয়ে প্রশ্ন করল, আপনি রাসূলুল্লাহর (সা.) একজন প্রিয় সাহাবি হওয়া সত্ত্বেও এ কাজটি করছেন? হজরত আবু দারদা (রা.) উত্তরে বললেন, আপনি এমনটি বলবেন না। আমি রাসূলকে (সা.) বলতে শুনেছি, ‘কোনো ব্যক্তি যদি একটি বৃক্ষ চারা লাগায়, অতঃপর তা থেকে কোনো ফল মানুষ ও পাখি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে তখন তার জন্য একটি সদকা হিসেবে লেখা হয়।’ এমনকি মুসলিম সেনাবাহিনী যুদ্ধে রওনা হওয়ার সময় রাসূল (সা.)সহ পরবর্তী সব খলিফা কঠোরভাবে সৈন্যদের নির্দেশ দিতেন তারা যেন বিজিতদের কোনো গাছপালা বা শস্যক্ষেত্র ধ্বংস না করে।
বনের গাছপালা থেকে আমরা শুধু কাঠ, রাবার, ওষুধ ও ফলমূলই পাই না এগুলো থেকে বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধী দ্রব্য ও তেলও পাওয়া যায়। গাছের পরিশুদ্ধ তেল দ্বারা প্রজ্বলিত প্রদীপের সঙ্গে আল্লাহপাক তার নূরের ইঙ্গিত দিয়েছেন। মানুষ চেষ্টা-গবেষণা করলে গাছ থেকেও যে উৎকৃষ্ট ধরনের তেল আহরণ করতে পারে, এটা নিঃসন্দেহে সে তথ্যেরই উপমা বহন করে।

আল্লাহ বলেন ‘এবং আমি সৃষ্টি করি এক বৃক্ষ যা জন্মায় সিনাই পর্বতে, এতে উৎপন্ন হয় আহারকারীদের জন্য তেল ও ব্যঞ্জন।’ (সূরা মমিনুন : ২০)। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে গাছের নামে শপথ করেছেন এবং তদানুসারে সূরাটির নামকরণও করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন, ত্বিন (এক জাতীয় বৃক্ষ) ও জয়তুনের (জলপাই জাতীয় এক ধরনের ফল) শপথ! (সূরা আত ত্বিন : ১)। অতএব গাছপালা, বৃক্ষলতা আল্লাহ সুমহান কুদরতের অপরূপ নিদর্শন। এর মধ্যেই তিনি মানুষ ও অন্য জীবজন্তুর খাবার প্রস্তুত করে রেখেছেন এবং মানুষকে পরিশ্রম করে সেগুলো সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ইসলাম বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়েও গুরুত্ব দিতে ভুল করেনি। দুনিয়ায় একটি গাছ লাগিয়ে তার যথার্থ পরিচর্যার বিপরীতে পরকালে বেহেশতের মধ্যে অনুরূপ একটি গাছের নিশ্চয়তা পাওয়া মোমিনের জন্য অনেক সৌভাগ্যের, সন্দেহ নেই। পক্ষান্তরে অনর্থক গাছ কাটা ও বন উজাড় করাকে ইসলামে গর্হিত কাজ হিসেবে দেখা হয়।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ব্যাপক ক্ষতি থেকে বন আমাদের রক্ষা করে। বঙ্গোপসাগরের তীরে গড়ে ওঠা ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস থেকে বারবার উপকূলবাসীকে মায়ের মতো আগলে রেখেছে। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যাবতীয় প্রয়োজন মিটিয়ে আসছে বৃক্ষ। সভ্যতার সূচনা লগ্ন থেকে বিশ্বের মানুষ ও প্রাণীর অস্তিত্ব রক্ষায় বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম। পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রয়োজন বন সুরক্ষা এবং বনায়ন কার্যক্রম গতিশীল করা। আমাদের জীবন বাঁচানোর তাগিদে বন সুরক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। তাহলে এ পৃথিবীতে আমরা পাব দূষণমুক্ত জীববৈচিত্র্য ভরপুর নির্মল পরিবেশ।

ইদানিংকালে দেশের কিছু ক্ষুদ্র সংগঠন মানুষ এ বিষয়গুলো যেভাবে ভাবছে একইভাবে যদি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলো ভাবত এবং মিলেমিশে কাজ করে সচেতনতা বৃদ্ধি করতো তবে,  কতই না ভাল হতো। অনলাইন ভিত্তিক আন্দোলন

http://Facebook/pages/Grame Cholএবং ফেসবুক গ্রুপ http://facebook/group/Grame Chol Aandolon  গ্রামে চল আন্দোলন    শিরোনামে একদল সাংবাদিক ইতোমধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও বৃক্ষরোপন ও রক্ষায় জোরালো ভূমিকা পালন করছেন।।।সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা মিলে প্রায়শঃই গ্রাম ভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি শীর্ষক আলোচনাসভা ও কর্মশালার আয়োজন করে থাকে। এভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতি বাড়ির আঙিনা ও আশেপাশে বৃক্ষ রোপন করা তরু লতা ও জঙ্গলে রুপান্তরিত করতে হবে।

[{{{{[লেখক–

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেল

সম্পাদক ও প্রকাশক

ক্রাইম ডায়রি(জাতীয় সাপ্তাহিক, অনলাইন দৈনিক, অনলাইন টেলিভিশন ও অপরাধ গবেষনা)

এবং সাপ্তাহিক গোয়েন্দা ডায়রি

সভাপতি

জাতীয় সাংবাদিক পরিষদ

চেয়ারম্যান

গ্রামে চল আন্দোলন।।

+৮৮ ০১৯১৫ ৫০ ৬৩ ৩২

raselcrimediary@gmail.com]}}}]

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 55425