• শনিবার (সকাল ৬:০৬)
    • ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

বঙ্গবন্ধুর মেয়ে এটাই কি তার কম পরিচয়? কিন্তু তিনি যে বঙ্গবন্ধুর ছায়া। বঙ্গকন্যা ও মমতাময়ী শেখ হাসিনা। পুরো দেশের যেহেতু তিনিই প্রধান তাই সকল জনগনই তার সন্তানের মত। মমতায় তাই আগলে থাকে পুরো দেশ ও তার জনগন। একদিকে পিতাকে হারিয়েছেন অপরদিকে হারিয়েছেন পুরো পরিবার। পিতৃহত্যার প্রতিশোধের আগুন বুকে চেপে নির্বাসিত ফেরারী জীবনে শেষে  শেখ হাসিনা দলের সিদ্ধান্তে এক বজ্রকঠিন ব্রত নিয়ে ১৯৮১ সালে দেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন।
৩৯ বছর আগে উদারনৈতিক–প্রগতিশীলতার রাজনীতির পরিবেশ ফিরিয়ে, দেশ ও জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার গুরুদায়িত্ব কাঁধে নেয়ার জন্য, জননী শেখ হাসিনা ত্যাগ করেছিলেন সন্তানদের মায়া পর্যন্ত! মাতৃসঙ্গ বঞ্চিত তাঁর দুই সন্তান তখন বিদেশে ছোটবোন রেহানার কাছে। গণতন্ত্র আর সুবিচার নিশ্চিত করার যুদ্ধে তখন বড় চ্যালেঞ্জ ছিল প্রতিকূল রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন।  স্বদেশে ফেরার দিনটি ইতিহাসের এক বড় সূচনাক্ষণ নতুন অধ্যায়ের। পরতে পরতে সংগ্রামী বঙ্গবন্ধু কন্যার রাজনৈতিক বিচক্ষণতায় ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা ফেরে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়া আওয়ামী লীগের হাতে। দলীয় প্রধান হিসেবে ইতিহাস তার কাঁধে সমর্পণ করেছিলো জাতির কাণ্ডারি হবার দায়ভার।

বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে সব সূচকে অগ্রগতি, সাফল্য আর উন্নয়নের ফানুস উড়িয়েই টানা দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতার চার বছর পূর্ণ করল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ১২ জানুয়ারি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এই সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুত্তি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন দেশের ভেতর-বাইরে প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এখন শুধু উন্নয়নের রোল মডেলই নয়, একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবেও প্রশংসিত। কথিত তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি খাদ্য, বস্ত্র-চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ সবকিছুই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা ও সাহসী নেতৃত্বের কারণে।

দারিদ্র্যক্লিষ্ট এই জাতিকে মুক্তি দিতে বিরতিহীন যাত্রা একজন শেখ হাসিনার। দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে সবার বাসোপযোগী করা প্রগতির স্বপ্ন বাস্তবায়নের সেই যাত্রা রাজনৈতিক-পারিপার্শ্বিক আর প্রাকৃতিক শত প্রতিকূলতাতেও হার মানাতে পারেনি দৃঢ়চেতা এই নেত্রীকে। প্রত্যাবর্তনের চার দশকে ব্যক্তি শেখ হাসিনাকে বরাবরই দেখা গেছে কল্যাণমুখী মানসিকতায় যেকোনো দুর্যোগ পরিস্থিতিতে সব সামলে নেয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ভূমিকায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের জন্য সুকৌশলে তিনি যুদ্ধ করে চলেছেন প্রাকৃতিক আর মনুষ্যসৃষ্ট সব বাধা-বিপত্তির বিপরীতে। পিতৃহারা শেখ হাসিনা যখন ঢাকায় ফিরেছিলেন সে সময়টাতেও প্রকৃতি ছিলো এক রুদ্র মূর্তির বাতাবরণে। কালবৈশাখীর ঝড় সামলে চলার শুরু হয়তো সেই থেকেই।

“বঙ্গবন্ধুর মেয়ে এটাই কি তার কম পরিচয়? কিন্তু তিনি যে বঙ্গবন্ধুর ছায়া। বঙ্গকন্যা ও মমতাময়ী শেখ হাসিনা। পুরো দেশের যেহেতু তিনিই প্রধান তাই সকল জনগনই তার সন্তানের মত। মমতায় তাই আগলে থাকে পুরো দেশ ও তার জনগন। একদিকে পিতাকে হারিয়েছেন অপরদিকে হারিয়েছেন পুরো পরিবার। পিতৃহত্যার প্রতিশোধের আগুন বুকে চেপে নির্বাসিত ফেরারী জীবনে শেষে  শেখ হাসিনা দলের সিদ্ধান্তে এক বজ্রকঠিন ব্রত নিয়ে ১৯৮১ সালে দেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন।
 ৩৯ বছর আগে উদারনৈতিক–প্রগতিশীলতার রাজনীতির পরিবেশ ফিরিয়ে, দেশ ও জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার গুরুদায়িত্ব কাঁধে নেয়ার জন্য, জননী শেখ হাসিনা ত্যাগ করেছিলেন সন্তানদের মায়া পর্যন্ত!”

সরকারের টানা নয় বছরে দেশের রাজনীতিসহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ শেখ হাসিনার হাতে থাকলেও সে পথ মসৃণ ছিল না। জ্বালাও-পোড়াও, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাসহ দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র, বাধা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগোতে হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রীড়া, পরিবেশ, কৃষি, খাদ্য, টেলিযোগাযোগ, সংস্কৃতি, সামাজিক নিরাপত্তা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এমন কোনো খাত নেই যে খাতে অগ্রগতি সাধিত হয়নি। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে দেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, পুষ্টি, মাতৃত্ব এবং শিশু স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলেও।

দেশ আর্থ-সামাজিক সূচকসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রত্যাশাজনক সাফল্য অর্জন করেছে এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ এখন মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের কাজ অব্যাহতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের প্রবৃদ্ধি ৫.৫৭ থেকে ৭.২৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয় ৮৪৩ থেকে ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার, বিনিয়োগ ২৬.২৫ শতাংশ থেকে ৩০.২৭ শতাংশ, রফতানি ১৬.২৩ থেকে ৩৪.৮৫ বিলিয়ন ডলার, রেমিট্যান্স ১০.৯৯ থেকে ১২.৭৭ বিলিয়ন ডলার, রিজার্ভ ১০.৭৫ থেকে ৩৩.৪১ বিলিয়ন ডলার এবং এডিপি ২৮৫ বিলিয়ন টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১০৭ বিলিয়ন টাকা।

নিজস্ব অর্থে পদ্মার ওপর ৬ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করার সাহস দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ার পর বিশাল এ প্রকল্প হাতে নেয়ার ঘটনা অনেক দেশ ও সংস্থার সন্দেহ ও বিস্ময় প্রকাশ করলেও সে স্বপ্ন এখন দৃশ্যমান। এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে বাংলাদেশ। গত বছরের ৩০ নভেম্বরের পর থেকে দেশ এখন বিশ্বের ৩১টি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের তালিকায়। ২০৪১ সালে উন্নত দেশে উন্নীত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগও চলমান। রয়েছে মহাকাশ জয়ের লক্ষ্য। দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ আগামী মার্চে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ উপগ্রহ সফলভাবে মহকাশে গেলে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হবে বাংলাদেশ। বছরে সাশ্রয় হবে ১৪ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ছাড়াও ব্যবহার করবে সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমিনিস্তান ও কাজাখস্তানের কিছু অংশ।

এ ছাড়া মেট্রোরেল, এলিভেটেট এক্সপ্রেসহ আরো কিছু বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। দেশের প্রথম ৬ লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪ জানুয়ারি ফেনী জেলার মহিপালে এই ফ্লাইওভার উদ্বোধন করেন। দেশের আইটি খাতের নতুন সম্ভাবনা যশোরে ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ প্রধানমন্ত্রী ১০ ডিসেম্বর উদ্বোধন করেছেন। মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) সুমিতোমোর নেতৃত্বাধীন জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

বর্তমান সরকারের শাসন আমলেই কোনো রকম যুদ্ধ-সংঘাত বা বৈরিতা ছাড়াই দুই প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের বিপক্ষে সমুদ্র বিজয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গোপসাগরে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি টেরিটরিয়াল সমুদ্র, ২০০ নটিক্যাল মাইল এলাকায় একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপান এলাকার প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া স্বাধীনতার পরপর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে স্থল সীমান্ত চুক্তি হয়েছিল সম্প্রতি তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহল সমস্যার সমাধান করা বাংলাদেশের বড় অর্জন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। সর্বশেষ রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা পেয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘসহ বিশ্বের প্রায় সকল দেশ ও সংস্থা এই ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করে পাশে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পেয়েছেন ‘মাদার অফ হিউম্যানিটি’ উপাধি। তলাহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি খাদ্য, বস্ত্র-চিকিৎসার দায়িত্বও পালন করছে।

পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস, বিশ্বের পাঁচজন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে চিহ্নিত করেছেন, যাদের দুর্নীতি স্পর্শ করেনি, বিদেশে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই, উল্লেখ করার মতো কোনো সম্পদও নেই। বিশ্বের সবচেয়ে সৎ এই পাঁচজন সরকারপ্রধানের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়াও কাজের অবদানের জন্য তাকে নানা পুরস্কারে ভূষিত করা হয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে।

২০১৪ সালে ইউনেস্কো তাকে ‘শান্তির বৃক্ষ’ ও ২০১৫ সালে ওমেন ইন পার্লামেন্টস গ্লোবাল রফারাম নারীর ক্ষমতায়নের জন্য তাকে রিজিওনাল লিডারশিপ পুরস্কার এবং গ্লোবাল সাউথ-সাউথ ডেভলপমেন্ট এক্সপো-২০১৪ ভিশনারি পুরস্কারে ভূষিত করে। বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নে অব্যাহত সমর্থন, খাদ্য উৎপাদনে সয়ম্ভরতা অর্জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে অবদানের জন্য আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৫ সালে তাকে সম্মাননা সনদ প্রদান করে। জাতিসংঘ পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচি দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবেশ এবং টেকসই উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য লিডারশিপ ক্যাটাগরিতে শেখ হাসিনাকে তাদের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ-২০১৫’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

টাইম ম্যাগাজিনের বিবেচনায় বিশ্বের প্রভাবশালী ১০ নারী নেত্রীর একজন মনোনীত হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। একজন জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা সবসময় নিজেকে প্রমাণ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক খালিজ টাইমস রোহিঙ্গাদের সংকট মোকাবিলায় শেখ হাসিনার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য তাকে ‘নিউ স্টার অব দ্য ইস্ট’ বা ‘পূর্বের নতুন তারকা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার কাজে সফলতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। টানা দুই মেয়াদের ক্ষমতায় বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশ ও গোষ্ঠীর চাপ সত্ত্বেও শীর্ষস্থানীয় অপরাধীদের বিচার শেষে রায় কার্যকর করা হয়েছে। এই বিচার করতে পারা স্বাধীন বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করার ক্ষেত্রে বড় সাফল্য। সেই সঙ্গে গত কয়েক বছরে ডিজিটাইজেশনে বাংলাদেশের অগ্রগতি বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করছে। ভূমি ব্যবস্থা ডিজিটাইজেশনের ফলে মানুষের দুর্ভোগ কমছে। ই-টেন্ডারিং, ই-জিপির ফলে দুর্নীতি কমছে। ১০ টাকায় কৃষক ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ, মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করার ঘটনাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদাহরণ হিসেবে কাজে লাগছে।

প্রথম মেয়াদ শেষ করা ও টানা দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু ও তার চার বছরে অনেক সফলতা আসলেও এই যাত্রা মসৃণ ছিল না। এই সময়ে পিছু ছাড়েনি ষড়যন্ত্র। সামনে এসেছে নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ। বিএনপি-জামায়াতের চরম রাজনৈতিক সহিংসতা মোকাবিলা করে দেশ যখন স্থিতিশীল পরিবেশে অর্থনৈতিকসহ নানা ক্ষেত্রে ইতিবাচক ধারায়, ঠিক তখনই আবার নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে জঙ্গিবাদ। তবে এসব চ্যালেঞ্জের বেশিরভাগই স্বাভাবিকভাবে সৃষ্ট নয়, বরং ষড়যন্ত্রমূলকও। সরকারকে বিপাকে ফেলে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড-অগ্রযাত্রা স্তিমিত করে দেয়াই ছিল উদ্দেশ্য। গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ জঙ্গি হামলা, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদের জামাতে জঙ্গি হামলা, মসজিদ-মন্দিরে হামলা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং সবশেষ এক নারী জঙ্গির আত্মঘাতীর ঘটনা সেটিই প্রমাণ করে। তবে সব ষড়যন্ত্র আর চ্যালেঞ্জ প্রজ্ঞার সঙ্গে মোকাবিলা করেই পথ চলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে যখন দেশে ক্রমে বেড়েই চলেছে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। ঠিক এর শুরু থেকেই এ যুদ্ধের জন্য দেশবাসীকে প্রস্তুত করেছেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। সংক্রমণ রোধে অর্থনৈতিক স্থবিরতা নেমে আসবে জেনেও, দীর্ঘ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে মানুষকে নিরাপদ করার প্রয়াসে নির্দেশ দেন ‘ঘরে থাকার’।

অর্থনীতি থেকে শুরু করে পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতায় সবকিছু থমকে দেয়ার বৈশ্বিক এই দুর্যোগেও বিরতিহীন যিনি শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন তিনি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। অচেনা এই দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে সমাজের সব শ্রেণির জন্য রাষ্ট্রের তরফ থেকে প্রতিনিয়তই ‘কিছু না কিছু’ বন্দোবস্ত করে চলেছেন তিনি।

এই যুদ্ধে জয়লাভের আকাঙ্ক্ষায় নিরলস শ্রমে তিনি নিত্য-নতুন নীতি আর প্রণোদনার আলোকে দেশবাসীকে যুগিয়ে চলেছেন ঘুরে দাঁড়ানোর নিরন্তর প্রেরণা। কোভিডের এই পরিস্থিতি সামলে নিতে কী করছেন শেখ হাসিনা? তার পদক্ষেপগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়:

● কোভিড-১৯ এর শুরু থেকেই সবকিছু বন্ধ থাকার দরুন সার্বক্ষণিক দাপ্তরিক কাজ চালাচ্ছেন গণভবন থেকেই; প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন ঘরে বসেই।

● ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়মিত ভিডিও কনফারেন্সে খোঁজ রাখছেন মাঠ পর্যায়ে।

● পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্ক সদস্য দেশগুলোর নেতৃবৃন্দসহ ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সাথে।

● অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে ঘোষণা করেছেন সহায়তার রকমারি উদ্দীপনা প্যাকেজ।

● প্রায় ১ লাখ ১ হাজার ১১৭ কোটি টাকার ১৮ টি প্যাকেজ ঘোষণা; যা দেশের মোট জিডিপি’র ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

● কুটির-মাঝারি-বড় শিল্পের পাশাপাশি প্রণোদনার আওতায় এসেছে রপ্তানিকারকসহ প্রান্তিক কৃষক শ্রেণিও।

● বিপুল সংখ্যক রোগীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে জরুরী ভিত্তিতে ২ হাজার ডাক্তার ও ৫ হাজারের বেশি নার্স নিয়োগ।

● চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী ও বিজিবি সদস্য এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীর জন্য বীমা ও সম্মানী ভাতা চালুকরণ।

● রেশন কার্ডের সুবিধার আওতা ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১ কোটিতে উন্নীতকরণ।

● কৃষকদের যথাসময় বীজ পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংগ্রহের পরিকল্পনা।

● ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় ও দুর্নীতি রোধে ৬৪ জেলায় সচিবদের দায়িত্ব বণ্টন; অসদুপায়ের দায়ে ৫৫ জন জনপ্রতিনিধির বহিষ্কারাদেশ।

● আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেশে ৯০ লাখ ২৫ হাজার ৩২৭ পরিবারকে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি ৮ কোটি ৬২ লাখ ৮ হাজার টাকা নগদ প্রদান।

● ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে কর্মহীন হয়ে পড়া ৫০ লাখ পরিবারে নগদ ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকার সহায়তা প্রেরণ।

জনগণকে সচেতন করে, এই ভাইরাসের বিরুদ্ধেও চূড়ান্ত লড়াইয়ে লিপ্ত শেখ হাসিনা। অতীতের সব বৈরী আবহাওয়া মোকাবিলার মতো করে এই মহামারী থেকে দেশ বাঁচাতেও সংকল্পবদ্ধ প্রধানমন্ত্রী। করোনা সেরে গেলে অথৈ সাগরে দেশের নিমজ্জিত হবার পরিস্থিতি রোধে তিনি যথাসম্ভব লড়ছেন ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে, আপন বুদ্ধিতে।

করোনা পরবর্তী দুনিয়ায় সামগ্রিক অর্থেই রাজনীতি, অর্থনীতি সব নীতিতেই নতুন ধারা অবশ্যম্ভাবী বলে আভাস দিচ্ছেন বিশ্ব বরেণ্য বিশ্লেষকরা। সেই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার একক নেতৃত্বগুণ শুধুমাত্র জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ কন্যারই রয়েছে; কেননা তাঁর সিদ্ধান্তেই যে দিশা খুঁজে পায় মুক্তিকামী-স্বাধীনচেতা মানুষ।

ঈষৎ সম্পাদিত

সম্পাদনায়

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেল

সম্পাদক ও প্রকাশক

ক্রাইম ডায়রি ও গোয়েন্দা ডায়রি

(প্রিন্ট,অনলাইন)

www.crimediarybd.com

www.crimediarytv.net

কেন্দ্রীয় সভাপতি

জাতীয় সাংবাদিক পরিষদ

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 66014

আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের সব পাটকল

কালিমুল্লাহ দেওয়ান রাজাঃ

পাটকল নিয়ে সকল জল্পনা-কল্পনার দিন শেষ। বঙ্গকন্যা ও দেশদরদী প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা   সম্প্রতি বন্ধ ঘোষিত দেশের পাটকলগুলোকে আবার চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছেন। সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে পাটকলগুলো চালু করা হবে।  বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

মন্ত্রী জানান, পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার পাটশিল্প সম্প্রসারণে সব ধরনের সহায়তাও দেবে। ০৩ আগষ্ট, ২০২০ইং সোমবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা জানান। ঈদের তিন দিনের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে নিজ মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দফতর/সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়ে এ সভা করেন মন্ত্রী। পাটমন্ত্রী বলেন, বহুমুখী পাটপণ্যের বর্তমান বাজার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে পাটপণ্যের উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও পুনর্বিন্যাস করে বিজেএমসির বন্ধ ঘোষিত মিলগুলো জরুরি ভিত্তিতে পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে সরকার।

“অবসায়নের পরে দেশের পাটকলগুলোকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি), যৌথ উদ্যোগ জিটুজি বা লিজ মডেলে পরিচালনার মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব আবার উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা হবে এবং সকল মিল উপযুক্ত ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন ও পুনরায় চালু করা হবে।”

বিজেএমসির জনবল কাঠামো পরিবর্তিত পরিস্থিতির আলোকে যৌক্তিকীকরণের বিষয়ে সুপারিশ দিতে উচ্চপর্যায়ের দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এ দিকে সরকারের এমন পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছেন পরিবেশ রক্ষার অন্যতম হাতিয়ার এই পাট-শিল্পের বিকাশ ঘটানো সহ সোনালী আঁশের সোনালী দিন আবার ফিরে আসবে সরকারের এমন পদক্ষেপে।

ক্রাইম ডায়রি///জাতীয়

Total Page Visits: 66014

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাত ১০টার পরে বাহিরে বের হওয়া নিষিদ্ধ

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

মহামারী করোনায় ভয়াবহতার শিকার বিশ্ববাসী। পুরো বিশ্ব আজ শিখেছে কিভাবে নতুন করে বাঁচতে হয়। বাঁচার নতুন কৌশল নিয়ে নতুন পৃথিবীর সন্ধানে গবেষকরা। এহেন পরিস্থিতিতে     জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত দেশবাসীকে অকারনে বাহিরে বের না হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এছাড়া দোকানপাট ও শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে বলা হয়েছে। ০৩ আগষ্ট, ২০২০ইং সোমবার এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নির্দেশনা বলবৎ থাকবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত জরুরি কোন প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাহিরে যাওয়া যাবে না। তবে ক্রয়-বিক্রয়, কর্মস্থলে যাতায়াত, জরুরি পরিষেবা, ওষুধ ক্রয়, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন ও সৎকার ইত্যাদি কাজে বাহিরে বের হয়ে যাবে। এতে আরও বলা হয়, ঘরের বাহিরে গেলে মাস্ক পরিধান ও পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। অন্যথায়, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া হাটবাজার, দোকানপাট, শপিংমলে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোভাবে প্রতিপালন করতে হবে। আদেশে সরকার আরও বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে। যা নিম্নরুপঃ—-

১. আগামী ৪ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটি এ নিয়ন্ত্রণের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

২. হাটবাজার, দোকানপাট, শপিংমলে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে। শপিংমলের প্রবেশপথে তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজার রাখতে হবে। শপিংমলে আগত যানবাহনকে অবশ্যই জীবণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। পণ্য ও খাদ্য ক্রয়ে জনগণকে ই-কমার্স সাইট ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে।

“আদেশে বলা হয়, রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত জরুরি কোন প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাহিরে যাওয়া যাবে না। তবে ক্রয়-বিক্রয়, কর্মস্থলে যাতায়াত, জরুরি পরিষেবা, ওষুধ ক্রয়, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন ও সৎকার ইত্যাদি কাজে বাহিরে বের হয়ে যাবে। এতে আরও বলা হয়, ঘরের বাহিরে গেলে মাস্ক পরিধান ও পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। অন্যথায়, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে।”

৩. সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ, অসুস্থ কর্মচারী ও সন্তানসম্ভবা নারীরা কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

৪. গণপরিবহনসহ সব ধরনের যানবাহন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করতে হবে।

৫. এ সময়ে সব সভা-সমাবেশ, জমায়েত ও অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে। ভার্চুয়াল উপস্থিতি অনুষ্ঠান আয়োজনে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সময়ে প্রদত্ত নির্দেশনা মেনে মসজিদে জামাত ও অন্যান্য উপাসনালয়সমূহে প্রার্থনা পরিচালনা করা হবে।

সরকারি এ নির্দেশনা মেনে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহযোগিতার জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 66014

ভোলায় যৌতুক মামলাঃ অফিস টাইমে ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেফতার

ভোলা ব্যুরোঃ

অফিস টাইমে কর্মরত অবস্থায় ভোলার মনপুরায় একজন ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় তাকে এভাবে গ্রেফতার করা হয়।  ভোলার মনপুরায় সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার জোবায়ের হাসান  শাকিল তার নাম। তাকে স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলায় কর্মরত অবস্থায় ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একটি টিম গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। এ দিকে ব্যাংকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি না নিয়ে কর্মরত অবস্থায় একজন অফিসারকে আটক করায় সোনালী ব্যাংকের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসারকে আটকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ব্যাংক ম্যানেজার ও পুলিশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। এই ব্যাপারে সোনালী ব্যাংক ভোলা জেলার এজিএম আবুল কালাম আজাদ মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের জানান, মনপুরা শাখায় কর্মরত অফিসারকে আটকের বিষয়টি তিনি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কেউ জানে না। তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।

“আধুনিক যুগে যৌতুক চাওয়ার পর ও বিয়ে দেয়া ঠিক নয়।  কারন বোঝা উচিত যে আগে যৌতুক চায় সে পরেও ঝামেলা করতে পারে। লোভীরা একবার সুযোগ পেলে বারবার সেই কাজ করতে চায়।তবে ব্যাংক কর্মকর্তা যৌতুকের জন্য চাপ দিবেন বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। নারী নির্যাতন ঘটলেও  এ সমাজে পুরুষরাও নিরব নির্যাতনের শিকার।”

রোববার দুপুর ১টায় সোনালী ব্যাংক, মনপুরা শাখায় কর্মরত অবস্থায় ওই সিনিয়র অফিসারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মনপুরা সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার রাসেদ মাহমুদ জানান, কর্মরত অবস্থায় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একটি টিম এসে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তারা আমাদের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়নি। তবে একটি কাগজ রেখে গেছে যেখানে পুলিশের কর্মকর্তাদের সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছেন।

মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ টিমের এসআই শরিফুল ইসলাম জানান, স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় ওই অফিসারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি নেয়া হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী শশী বিনতে সামাদ সাংবাদিকদের জানান, ২০১৯ সালের ৬ ডিসেম্বর ঢাকার মিরপুরের শেওড়াপাড়া কাজী অফিসে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে আমাদের বনিবনা হচ্ছিল না। সে আমাকে শারীরিক নির্যাতন করা শুরু করে। তার নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আমি নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলা দায়ের করি।তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন নারী নির্যাতন একটি সামাজিক ব্যাধি। আধুনিক যুগে যৌতুক চাওয়ার পর ও বিয়ে দেয়া ঠিক নয়।  কারন বোঝা উচিত যে আগে যৌতুক চায় সে পরেও ঝামেলা করতে পারে। লোভীরা একবার সুযোগ পেলে বারবার সেই কাজ করতে চায়।তবে ব্যাংক কর্মকর্তা যৌতুকের জন্য চাপ দিবেন বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। নারী নির্যাতন ঘটলেও  এ সমাজে পুরুষরাও নিরব নির্যাতনের শিকার।

ক্রাইম ডায়রি// আইন শৃংখলা//ক্রাইম

Total Page Visits: 66014

একজন ব্যাতিক্রমী দূর্জয়ের সফলতার গল্প

মাহাবুব রহমান দূর্জয়, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

আধুনিক যুগে অনলাইন ব্যবসায় সফলতার গল্প এখন শুধু গল্প নয় বাস্তব। নিরলস পরিশ্রম ও  ত্যাগ করার মানসিকতাই পারে এমন সফলতা এনে দিতে।  যুগে যুগে তরুণরা বহু কঠিন সময়কে জয় করে সাফল্য ছিনিয়ে এনেছে। লজ্জা এবং ভয়কে যারা জয় করতে জানে তাদেরই একজন দূর্জয়।

“অনলাইনে একজন তরুণ উদ্যোক্তা দূর্জয়ের সফল হওয়ার গল্প তার নিজ মুখ হতেই  শোনাব। আমরা চাই এমন দূর্জয় আরও বেড়িয়ে পড়ুক তাদের নিয়তি উন্নয়নের দূর্গম যাত্রায়।”

“””আমি যখন শুরু করি তখন কান্টি লক-ডাউন!ব্যবসাটা আমি ঠিক তখন আরম্ভ করি যখন সবার ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত পুরো পৃথিবী। কর্মহীন পৃথিবীর সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ তখন সরকারি ঘোষনায় সম্পূর্ণ লক-ডাউন। নিম্ন আয়ের নিত্যদিনকার আয় করা মানুষের দুঃখ কষ্ট চরমে। যেদিকেই যাই সে দিকেই মৃত্যু আর অসুস্থ্য রোগীর তালিকা বিশাল দেখি।

এমতাবস্থায় বেকার কিছু মানুষের কর্মসংস্থান করার চিন্তা আসে মাথায়। তখন প্রচন্ড গরমকাল শুরু। মৌসুমি ফলগুলো বাজারে আসা শুরু করেছে সবে। দেখলাম তরমুজ খুব চলছে! আমার আপন বড় ভাইসহ আরও তিনজনের সমন্বয়ে তরমুজ ব্যবসা শুরু করলাম। ভালোই চাহিদা দেখে আগ্রহ বেড়ে গেলো। বাজারের শুরুতেই বাঙ্গী আনা শুরু করলাম। ভালোই লাভ হলো।

এরপর রমজান শুরু হলো; তরমুজ, বাঙ্গী, আপেল, আম, খেজুর, লেবু, নারকেল প্রচুর পরিমাণে বিক্রি করে প্রত্যাশা বেড়ে গেলো। আম পুরোদমে যখন শুরু করলাম তখন সবাই অবাক! এত বিক্রি কিভাবে?

আমের পর লিচু, কাঁঠাল, আনারস আনলাম। সবগুলা ফল বিক্রি করেছি অনলাইনে। অফলাইনে তেমন বিক্রি করি নাই। দোকান ছিলো না, গোডাউন ছিলো বিশাল। দৈনিক তিন টন পর্যন্ত আমের অর্ডার সম্পন্ন করেছি। ক্রেতার সাথে কথা এবং কাজের শতভাগ মিল রেখেই বেঁচাবিক্রি অব্যাহত রেখেছি।

যেহেতু কাঁচামালের ব্যবসা সেক্ষেত্রে কিছু কিছু পণ্য পঁচে গেছে, পঁচা পেয়েছি। কিন্তু হতাশ হই নি। সাহস রেখেছি। অনলাইনে বিক্রির জন্য আরও কয়েকজন বানিয়ে নিয়েছি নিজের মত। দিনশেষে সন্তুষ্টি এবং মুখের কোনে এক চিলতে হাসিই প্রমাণ করে ব্যবসা ভালোই করছি।

বলছি; নতুন হিসেবে এই পরিমাণে ব্যবসা হবে কল্পনাও করতে পারি না। একটা সময় খুঁচরার চেয়ে পাইকারি বিক্রি বেড়ে গেলো। মোট বিক্রি পরিমান অকল্পনীয়। চালান আসলেই ফুরিয়ে যাচ্ছে। মনে স্বপ্নরা আশা বাধলো। দেশের বাইরে একবন্ধুর মারফতে কথা হলো। আম ও কাঁঠাল পাঠানোর জন্য অনুরোধ করলো। আমি নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।

অনেকে আমাকে দেখে আমার সাথে কথা বলে ব্যবসা শুরু করলো। আমি তাদেরকে সুযোগ দিলাম। অন্যদিকে আম ও কাঁঠাল রপ্তানির জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। কাঁঠাল আগে পাঠালাম, এরপর আমও পাঠালাম।

মূলকথা; যেখানে সবাই ভয়ে লক-ডাউন হয়ে ঘরে ছিলো ঠিক তখনই আমি কর্মসংস্থান করার জন্য বেড়িয়ে পরলাম ঘর থেকে। মানুষকে ঘরে রেখেই তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্পন্ন পণ্য পাঠালাম। সর্বমোট হিসেব করে দেখলাম যে ৭০ টনেরও অধিক আম বিক্রি করতে পেরেছি। ভ্রু কপালে উঠলো তাই না? উঠাই স্বাভাবিক, কারণ আমি সম্পূর্ণ নতুন, এটা অসম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা এটাই যে আমি সত্যটাই তুলে ধরেছি।

কাজ যাই হোক, করতে হবে! সাহস নিয়ে আগাতে হবে। চুরি ডাকাতি করার জন্য সাহস থাকলে সৎ ভাবে কাজ করতে সাহস থাকবে না কেন? খারাপ কর্মে সম্মান নষ্ট হয়, সৎ ও পবিত্র কর্মে সম্মান বাড়ে! আপনি ভাবেন যে যাই করছেন অন্তত চুরি বা ভিক্ষা তো করছেন না। কর্ম করার জন্য এর চেয়ে বেশী অনুপ্রেরণার দরকার পরে না। নিজেকে নিয়ে ভাবুন, পরিবার নিয়ে ভাবুন।

আপনার আজকের সামন্য ভাবনা নিঃসন্দেহে বিশাল ভাবনায় পরিণত হতে বাধ্য যদি আপনার থাকে অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম করার মত মানসিকতা। জড়তা ছেড়ে দিয়ে নেমে পড়ুন, আজকেই নামুন। কালকে আপনিই হতে পারেন শিরোনাম। অনেকের অনুপ্রেরণা।

ভালো থাকুন, সাথে থাকুন! ভালো রাখুন, সাথে আছি!”””

ক্রাইম ডায়রি/// স্পেশাল

Total Page Visits: 66014

রাজধানীর জলাবদ্ধতায় সমাধান মিলছে না বছরের পর বছর

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

একটি দেশের রাজধানী হলো সেই দেশের আয়না। রাজধানী দেখলেই পুরো দেশের একটি দৃশ্য যে কেউ সহজে  অনুমান করে নেয়। কারন, ভ্রমন পিয়াসু মানুষ সাধারনতঃ যে দেশের যাক না কেন আগে যায় সেই দেশের রাজধানীতে। এলোমেলো খোড়াখুড়ি কিংবা অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে আমাদের রাজধানীর যে সংকট তৈরি হয় তা পুরো বিশ্বের নিকট দেশের ভাবমুর্তিকে নষ্ট করে দিচ্ছে। একটা বিষয় কিন্তু স্বীকার না করে উপায় নেই যে বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কড়া নির্দেশ এ সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করা। কিন্তুু সুবিধাভোগী বরাবরের মতই তার নির্দেশকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের গতিতে চলছে।
সম্প্রতি, ঢাকার মিরপুর, ধানমন্ডি, শান্তিনগরসহ নানা এলাকার রাস্তায় পানি নিয়ে ব্যঙ্গ আর হাসি তামাশা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বৃষ্টির কারণে গত দুদিনের মতো আজও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু বা কোমর সমান পানি দেখা গেছে। যদিও এদৃশ্য বিগত অনেক বছরের। শনির আখড়ার অধিবাসী মনজিদা আখতার বলছেন পানি তাদের দুর্ভোগ চরমে তুলেছে। “বাসার সিঁড়ির নিচে কক্সবাজারের মতো দৃশ্য। আর উপরে রুমে পানি নেই। মধুবাগে এসেছি সেখানে হাঁটু পানি,” বুধবার বিকেলে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মনজিদা আখতার। গ্রীন রোডে থাকেন ফেরদৌসি রেজা চৌধুরী। তিনি বলছেন অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে সেখানে।  মিরপুর, ধানমন্ডি, শান্তিনগরসহ নানা এলাকার রাস্তার পানি নিয়ে ব্যঙ্গ আর হাসি তামশা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

ঢাকা দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নুর তাপস বলছেন ওয়াসা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে তাই জলাবদ্ধতার সমাধান চাইলে দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনকেই দিতে হবে। তিনি বলেন, “ওয়াসা ব্যর্থ হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যর্থ হয়েছে। আইন মোতাবেক জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনকে বুঝিয়ে দিতে হবে। অথচ জলাশয়, খাল অন্যদের দিয়ে রাখা হয়েছে। এগুলো সিটি কর্পোরেশনকে বুঝিয়ে দিলে আমরা কার্যকর পরিকল্পনা করে আমাদের যে মহাপরিকল্পনার কাজ চলছে তার অংশ হিসেবে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করতে পারবো।”

তাহলে এখন আর সিটি কর্পোরেশন কোনো কাজ করতে পারছে না জলাবদ্ধতা নিরসনে- পরিস্থিতি কি এমনই? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যথার্থই তাই। মানুষের ভোগান্তি আমরা দেখছি কিন্তু কিছু করতে তো পারছি না।”

ওদিকে পানি প্রবাহের যে খালগুলো প্রায় বন্ধ সেগুলোসহ জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা ওয়াসার অধীনে পাম্প হাউজগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও ঢাকার দুই মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা।

মানুষ কবে এই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলছেন কবে নাগাদ সমস্যার সমাধান হবে সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। “আমরা সমস্যাগুলো দেখছি। এরপর সমাধানে কি করা যায় সেটি দেখা হবে। কাদের মাধ্যমে সমাধান হলে ভালো হবে সেটি দেখে কাজ করা হবে। হুট করে এখনই বা পনের দিনে সমাধান হবে সেটি বলা যাচ্ছে না। কিন্তু আমি আশ্বস্ত করতে চাই যে এর সমাধান হবে।”

আবার সিটি কর্পোরেশনকে দায়িত্ব দেয়া হবে কিনা তাও চিন্তা ভাবনা করেই চূড়ান্ত করা হবে বলছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। অর্থাৎ আপাতত জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলছে না নগরবাসীর। যদিও মন্ত্রী বলছেন দ্রুত পানি অপসারণের যেসব কার্যক্রম আছে সেগুলো জোরদার করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

“রাজধানী যেন একটি সমুদ্র। বৃষ্টি হলেই সেই সমুদ্রে জাহাজ চলে । এমন দৃশ্য শুধু হাসিরই উদ্রেক করেনা,দুঃখবোধও জাগায়। সরকার বড়ই আন্তরিক দেখেই এখনও সেখানে মহাসমুদ্র হয়নি। তবে দায়িত্বশীলরা পেড়ে ওঠেন না সুবিধাভোগী স্বার্থান্বেষি মহলের জন্য। এই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলছেন কবে নাগাদ সমস্যার সমাধান হবে সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। “আমরা সমস্যাগুলো দেখছি। এরপর সমাধানে কি করা যায় সেটি দেখা হবে। কাদের মাধ্যমে সমাধান হলে ভালো হবে সেটি দেখে কাজ করা হবে। হুট করে এখনই বা পনের দিনে সমাধান হবে সেটি বলা যাচ্ছে না। কিন্তু আমি আশ্বস্ত করতে চাই যে এর সমাধান হবে।”

নিম্নচাপের প্রভাবে টানা দু’দিনের অবিরাম বৃষ্টির ফলে ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিলো গত দু’দিন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় পানি জমে ছিল দীর্ঘক্ষণ। এছাড়া ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়ক, মতিঝিল, মিরপুর, বাড্ডা ও রামপুরাসহ প্রায় সব এলাকাতেই কোথাও হাটুপানি, কোথাও কোমরপানি দেখা গেছে। যদিও এর আগে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতার হতো যে শান্তিনগরে সেটির সমাধানের দাবি করেছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হচ্ছে এমন এলাকার সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে। এবার শুক্র ও শনিবারের বৃষ্টিতে কয়েকটি এলাকার রাস্তায় নৌাকা এমনকি ভেলা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। এই যে ঢাকার জলাবদ্ধতা ক্রমে বেড়েই চলেছে। কিন্তু এটি নিরসন করা যাচ্ছে না কেন? সমস্যা কোথায়?

জবাবে বুয়েটের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্লানিং বিভাগ শিক্ষক ড. সারওয়ার জাহান বলেন জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে অপরিকল্পিত উন্নয়ন হচেছ। একই সাথে প্রাকৃতিক ড্রেনেজ সিস্টেম অর্থাৎ খাল বিল পুকুড় যা ছিলো তা ভরাট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “পানি তো যেতে হবে কিন্তু সে সুযোগ তৈরি করতে হবে। প্রাকৃতিক সিস্টেম যেহেতু ধ্বংস হয়ে গেছে তাই কৃত্রিম সুযোগ তৈরি করতে হবে পানি যাওয়ার”। সবগুলো সংস্থা কি একযোগে কাজ করছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালোভাবে করার জন্য ? এমন প্রশ্নের জবাবে ড. জাহান বলেন ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড একসাথে কাজ করতে হবে পানি নষ্কাশনের জন্য কিন্তু তাদের মধ্যে কোন সমন্বয় নেই। তার মতে পুরো শহর ভেঙ্গে নতুন কিছু করা যাবেনা তাই ড্রেনেজ সিস্টেম যাতে কাজ করে তা দেখার পাশাপাশি নতুন ড্রেনেজ সিস্টেম মাটির উপরে ও নীচে বাড়িয়ে সেটির ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর সিলেট মহানগরীতেও জলাবদ্ধতার খবর আমাদের যতখানি না হতাশ, তারচেয়ে বেশি করেছে হতবাক। রাজধানী শহর ঢাকা যদিও প্রাকৃতিকভাবেই অর্ধশতাধিক খাল ও নদীবেষ্টিত ছিল, এর বেশিরভাগই দখল, ভরাট ও দূষণের শিকার হয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়নের জের ধরে বেশিরভাগ নিম্নভূমিও ভরাট করে ফেলেছে আবাসন কোম্পানিগুলো। ফলে অতিরিক্ত বর্ষণের পানি সহজে নামতে পারে না। চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি- ঢাকার মতো নদী, খাল, ভরাট ও দখল ছাড়াও বাড়তি কারণ হচ্ছে জোয়ার-ভাটার প্রভাব বৃদ্ধি। জোয়ারের সময় অতিরিক্ত বর্ষণের কারণে পনি নিস্কাশন ব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে বৈকি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং বেড়িবাঁধ ব্যবস্থার ‘পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া’ হিসেবে উপকূলীয় কোনো কোনো শহরেও সাম্প্রতিক সময়ে জলাবদ্ধতা দেখছি আমরা। কিন্তু জলাবদ্ধতায় নাকাল নগরের তালিকায় সিলেট কী কারণে যুক্ত হয়েছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। শনিবার সমকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতে সিলেট নগরীর অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এমনকি আগে কখনও জলাবদ্ধতার শিকার হয়নি, এমন এলাকাও এবার জলমগ্ন।

আমরা জানি, ভৌগোলিকভাবে হাওরাঞ্চলে অবস্থিত হলেও সিলেট শহর ‘নিম্নভূমি’ নয়। বরং টিলাবহুল এই নগরী ওই অঞ্চলের অন্যতম উচ্চভূমি। ঢালু ভূ-গঠন ও শহরের পাদদেশে প্রবহমান সুরমা নদীর কারণে সিলেট নগরীতে আর যে নাগরিক সংকটই থাকুক, জলাবদ্ধতা থাকার কথা নয়। দুর্ভাগ্যবশত সেই চিত্রই আমাদের দেখতে হচ্ছে। অথচ সিলেট যেমন ভৌগোলিকভাবে ঢাকার মতো সমতল নয় যে, বৃষ্টির পানি আটকে থাকতে পারে; তেমনই চট্টগ্রামের মতো সমুদ্রসংলগ্নও নয় যে, জোয়ারের প্রভাবে বৃষ্টির পানি নামতে বিলম্ব হতে পারে। কিন্তু তারপরও জলাবদ্ধতা হচ্ছে কেন? এটা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই যে, সমস্যা পানি নিস্কাশন ব্যবস্থায়। গত দুই দশকে সিলেট শহরের প্রাকৃতিক ছড়াগুলো যেমন, তেমনই কৃত্রিম নালাগুলোও দখল ও ভরাটের শিকার হয়েছে। ফলে পানি সহজে নামতে পারে না। ঢাকা বা চট্টগ্রামের তুলনায় সিলেটের পানি নিস্কাশন সমস্যা দূর করা অপেক্ষাকৃত ‘সহজ’। শুধু যদি ছড়া ও নালাগুলো প্রতিবন্ধকতামুক্ত রাখা যায়, তাহলেই পরিস্থিতির বহুলাংশে উন্নতি ঘটবে। আমরা দেখছি, এ ব্যাপারে সরকারের দিক থেকে কোনো ঔদাসীন্য নেই। প্রকল্প ছাড় ও অর্থ বরাদ্দ হয়েছে দফায় দফায়। গত বছর সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাতে ‘রেকর্ড’ ১২শ’ ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

২০১৬ সালেও এই খাতে ২৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, অপেক্ষাকৃত কম হলেও বরাদ্দ এসেছিল ২০১৩ এবং তারও আগে ২০০৯ সালে। আমাদের প্রশ্ন- নালা, খাল, ছড়া যদি উদ্ধার না-ই হয়, তাহলে এত অর্থ যাচ্ছে কোথায়? নগরের প্রাকৃতিক কাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখলেই যেখানে পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা সচল থাকার কথা, সেখানে শত শত কোটি টাকা খরচ করেও বছরের পর বছর কেবল জলাবদ্ধতাই সম্প্রসারিত হবে কেন? তার মানে এত প্রকল্প ও বরাদ্দ দিয়ে পানি নয়, অর্থ নিস্কাশনেরই ব্যবস্থা করা হচ্ছে? আমরা দেখতে চাই, অবিলম্বে চলমান প্রকল্পের মান ও অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন দফায় বরাদ্দ অর্থ কোন নালা দিয়ে ‘জলে গেছে’ তাও নিরীক্ষা প্রয়োজন বর্তমান ও ভবিষ্যতের অর্থ কাজে লাগার স্বার্থেই। আমাদের মনে আছে, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেয়ে সিলেট নগরীর মেয়র সরকারকে ধন্যবাদ দিয়েছিলেন। মেয়রের এ কথাও আমরা ভুলিনি যে- প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে খাল ও ছড়া কেবল উদ্ধারই নয়, অভ্যন্তরীণভাবে নৌকা চলাচলও সম্ভব হবে। এখন দেখা যাচ্ছে, জলাবদ্ধতার কারণে খালের বদলে সড়কে নৌকা চালাতে হবে নগরবাসীকে। আমরা বাগাড়ম্বর চাই না, কাজ দেখতে চাই। সিলেট নগরীর খালে নৌকা চালানোর স্বপ্ন নিশ্চয়ই সাধুবাদযোগ্য; কিন্তু তার আগে খোদ খাল ও ছড়া সচল হোক। আপাতত জলপথ চাই না, জলাবদ্ধতা সামলান।

কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকা শহর যেন পরিণত হয় সমুদ্রে, একই অবস্থা বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও। এ অবস্থা কয়েক যুগ থেকে চলে আসছে। বর্তমান সময়ে রাজধানীজুড়ে চলা মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ নানা মেগা প্রকল্পের সমন্বয়হীন কর্মে জলাবদ্ধতা প্রকোট আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টির পরপরই নগরবাসীর দুর্ভোগ চিত্র গণমাধ্যম-সামাজিক মাধ্যমে এসে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে।

এই জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্নসময় ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসা’র বিরুদ্ধে নাগরিক ক্ষোভ দেখা যায়। আবার ওই দুই সংস্থাকে অনেকসময় দেখা যায় দায় এড়াতে একে অন্যকে দোষারোপ করতে। চট্টগ্রামসহ নানা বড় শহরগুলোতেও এরকম অবস্থা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণ একপ্রকার অসহায়ভাবে এই সমস্যাকে মেনে নিতে শুরু করেছে বলে আমাদের ধারণা।

রাজধানীতে বড় জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার মধ্যে রয়েছে- সচিবালয়, মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, নিকুঞ্জ-১ ও ২, রোকেয়া সরণি, সাংবাদিক কলোনি এলাকা। রাজধানীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম খালগুলো অবৈধ দখল ও কঠিন বর্জ্যে ভরাট হয়ে আছে। নগরের খাল, ড্রেন, বক্স কালভার্ট ও ব্রিক স্যুয়ারেজ লাইন দিয়ে পানি নদীতে যেতে পারছে না। ফলে ভারি বর্ষণে শহরের অলিগলি, প্রধান সড়ক, ফুটপাথ পর্যন্ত তলিয়ে যায়। ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের বাৎসরিক বাজেটে খাল পরিষ্কারে বেশ ভাল অংকের বরাদ্দ থাকলেও তা খরচের পদ্ধতিগত বিষয়ে নানা অসঙ্গতি নানাসময়ে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। খাল পরিষ্কার করে সেই ময়লা আবার খালের পাড়েই রেখে দেয়া হয়সহ নানা অভিযোগের কথা শোনা যায়। স্বল্পকালীন কিছু পদক্ষেপ থাকলেও টেকসই সমাধানে সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বললে ভুল হবে না।

 

জলাবদ্ধতায় রাজধানীর রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে স্বল্পসময়ে। গণপরিবহনসহ জনগণের সম্পত্তিরও ক্ষতি হচ্ছে সমানুপাতিক হারে। এসব বিষয়ে জরুরি ও দীর্ঘমেয়াদি নজর দেয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। একটি দেশের রাজধানীসহ বড় বড় শহরের নাগরিক সুবিধার চিত্রের উপরে দেশের ভাবমূর্তি নানাভাবে জড়িত। বিভিন্ন বৈশ্বিক সূচকে সেগুলোর বেশ ফলাও করে প্রচার-প্রকাশিত হয় নানা সময়ে। সেইসব সূচক বা প্রতিবেদনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরের করুণ চিত্র বছর বছর দেখা যায়। যানজট, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতার মতো সমস্যা বারবার বিব্রত করছে জাতিকে। এই অবস্থা থেকে দ্রুত মুক্তি সময়ের দাবি। আমাদের আশাবাদ, সংশ্লিষ্ট সব মহল এ বিষয়ে কার্যকর মনোযোগ দেবেন।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

 

 

Total Page Visits: 66014

বিএসটিআই বগুড়ার অভিযানঃ অবৈধভাবে মানচিহ্ন ব্যবহার করায় জড়িমানা

শরীফা আক্তার স্বর্না,  উত্তরাঞ্চলীয় অফিসঃ

মানসনদ গ্রহন না করে পন্যের গায়ে মানচিহ্ন ব্যবহার করে সারাদেশেই চলছে দূর্নীতির মহোৎসব। সাম্প্রতিককালে মফস্বলে এ চিত্র আরও ভয়াবহ। কোন কোন জায়গায় সব মানচিহ্ন ব্যবহার করে মোড়কে কোম্পানির কোন ঠিকানা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছেনা। ঠিকানায় লেখা হচ্ছে চকবাজার ঢাকা কিংবা মোহাম্মদপুর ঢাকা কিংবা বগুড়া, বাংলাদেশ এমন। বিশেষ কিছু পন্যে এমন ব্যবহার করে বাজারজাতকরণে  আরও ভয়াবহ চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চাপাতা, জুস এবং মশার কয়েল এ তিনটি পন্যে এরকম নকলের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ইদানিংকালে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে নকল পন্যের আনাগোনা বেশি চোখে পড়ছে। চায়ের দোকানগুলোতে মানসনদহীন চা পাতায় ভরপুর। দোকানগুলোতে জুস, মশার কয়েলে ভরপুর।

বিশেষ কিছু পন্যে এমন ব্যবহার করে বাজারজাতকরণে  আরও ভয়াবহ চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চাপাতা, জুস এবং মশার কয়েল এ তিনটি পন্যে এরকম নকলের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ইদানিংকালে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে নকল পন্যের আনাগোনা বেশি চোখে পড়ছে।

বি এসটিআইয়ের   দক্ষ কর্মকর্তাদের কারনে তটস্থ থাকতে হয় নকলবাজদের। সম্প্রতি এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বি এস টি আই বগুড়ার কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ এর মাঠ পর্যায়ে অব্যহত অভিযানে ভেঙে গিয়েছে নকলবাজদের মেরুদণ্ড। স্বস্থি পেয়েছে জনগন। জুলাই ১৮,২০২০ইং বগুড়ায় অবৈধভাবে বিএসটিআই’র মানচিহ্ন ব্যবহার করায় ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ টাকা) জরিমানা এবং ৪৩,০০০/- মূল্যের মালামাল ধ্বংস করা হয়েছে।

সরেজমিন সূত্রে জানা গেছে,  বগুড়া সদরে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব)-১২ এর সহযোগিতায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম কামরুল ইসলামের নের্তৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত হতে বিএসটিআই’র গুণগত মানসনদ গ্রহণ না করে অবৈধভাবে ‘ক্যান্ডি/লজেন্স, আইস ললি ও এডিবল জেল’ বিক্রয়-বিতরণ এবং মোড়কে বিএসটিআই’র লোগো সম্বলিত স্ট্যান্ডার্ড মার্ক ব্যবহার করায় গোকুল এলাকার মেসার্স পিএন্ডপি ফুডসকে ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন আইন-২০১৮’ এর ২৭ ধারা মোতাবেক ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ টাকা) জরিমানা করা হয়।  এসময় সেখান হতে ৪৩,০০০/- মূল্যের অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত মালামাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। মামলাটির প্রসিকিউশন দেন বিএসটিআই জেলা অফিস, বগুড়া এর পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-১২ এর ক্যাম্প কমান্ডার মোস্তাফিজুর রহমান ও স্যানিটারী ইন্সপেক্টর শাহ আলী।

বি এস টি আই সূত্র জানিয়েছে, জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যহত থাকবে।

ক্রাইম ডায়রি/// ক্রাইম// আদালত/ জেলা

Total Page Visits: 66014

মার্কিন রনতরীতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডঃ আহত ২১

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্রে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে আগুন, আহত ২১

 

মহাশক্তিধর বলে আত্ম অহামিকায় ভরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোতে নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজে আগুন লেগে অন্তত ২১ জন নাবিক আহত হয়েছে। রবিবার সকালে সান ডিয়েগো নৌঘাঁটির ইউএসএস বোনহোমে রিচার্ড নামের এই জাহাজে আগুনের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে একটি বিস্ফোরণের পর এই আগুনের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আহত ১৭ জন নাবিক ও চার জন বেসামরিককে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের জখমে প্রাণ সংশয়ের হুমকি নেই।”

আগুনে যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস বনহোম রিচার্ডের নাবিকরা ‘সামান্য আহত’ হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে  নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার প্যাট্রিশিয়া কোয়েজবার্গার সিনএএনকে জানিয়েছেন।

রোববার বিকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের ন্যাভাল সার্ফেস ফোর্সেস এক টুইটে জানায়, সব ক্রু যুদ্ধজাহাজটি থেকে নেমে গেছেন এবং কেউ নিখোঁজ নেই। জাহাজটিতে প্রায় ২০০ জনের মতো লোক ছিল। যদিও স্বাভাবিক ভাবে রনতরীতে ১০০০  সৈন্য থাকে।

আগুনে যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস বনহোম রিচার্ডের নাবিকরা ‘সামান্য আহত’ হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে  নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার প্যাট্রিশিয়া কোয়েজবার্গার সিনএএনকে জানিয়েছেন।

সান ডিয়াগো ফায়ার-রেসকিউ বিভাগ তাদের প্রতিবেদনে জানায়, স্থানীয় সময় সকাল প্রায় সাড়ে ৮টার দিকে যুদ্ধজাহাজটিতে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়, পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে একটি বিস্ফোরণও ঘটে। রিয়ার অ্যাডমিরাল ফিলিপ সাংবাদিকদের জানান, আহত সৈন্যদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়,নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জাহাজটিকে বন্দরে রাখা অবস্থায় এমন ঘটনা ঘটে।

ক্রাইম ডায়রি// আন্তর্জাতিক

 

Total Page Visits: 66014

ভূয়া করোনা সনদ বিক্রিঃঃ ডাঃ সাবরিনার দাবী ডিজিকে তিনি জানিয়েছিলেন

ক্রাইম ডায়রি অনলাইন ডেস্কঃঃ

ভয়ংকর করোনার কড়াল থাবায় পুরো বিশ্ব যখন নাজেহাল তখন করোনার ভূয়া রিপোর্ট দিয়ে করোনা মহামারী ছড়িয়ে মানব হত্যার মত জঘন্য কাজের সাথে জড়িত হওয়া কতটুকু জঘন্য তা বিচারের ভার জনগনের উপরই ছেড়ে দিলাম।   রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন দেশ প্রধান বঙ্গকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তার সকল অর্জন ধুলিসাৎ করে দিচ্ছে তার আশেপাশে থাকা সুবিধাভোগী হাইব্রিড দলবাজরা। ব্যবহৃত হচ্ছে নারী; ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যানার। এরা কবে কে দল করে আওয়ামীলীগকে উদ্ধার করেছে তার খোঁজ পাওয়া যায়না। অথচ, আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে হঠাৎ করে নিরিহ জনগনের উপর অমানবিক নির্যাতন করে নিজের সুবিধা বাগিয়ে নিতে পিছপা হচ্ছেনাা।

সিন্ডিকেট করে অপরাধ চলছেই। তারই অংশ হিসেবে নমুনা ফেলে দিয়ে হাজারো মনগড়া কোভিড রিপোর্ট দেয়ার পর জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী বলছেন, প্রতারণার বিষয়ে আগেই জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে।

এরা কবে কে দল করে আওয়ামীলীগকে উদ্ধার করেছে তার খোঁজ পাওয়া যায়না। অথচ, আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে হঠাৎ করে নিরিহ জনগনের উপর অমানবিক নির্যাতন করে নিজের সুবিধা বাগিয়ে নিতে পিছপা হচ্ছেনা।

নিজে বাঁচার জন্য এখন জড়াতে চাচ্ছেন মহাপরিচালককে। তবে এ বিষয়ে এখনো মুখ খোলেননি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। একাধিক সূত্র বলছে, মহাপরিচালক এমন নন। তাকে ফাঁসাতে এবং নিজে বাঁচতে এমন কথা বলছেন সাবরিনা। সঠিক ও গভীর তদন্ত করলে হয়তো আরও গভীর কিছু পাওয়া যেতে পারে।

করোনা সনদ জালিয়াতিসহ চার মামলায় গ্রেপ্তার আরিফুলসহ ছয়জন আছেন কারাগারে।গত ২৪ জুন  তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে থানায় হামলার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন জেকেজির ১৮ কর্মী। কিন্তু তার স্ত্রী সাবরিনা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এদিকে ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী দাবি করছেন তিনি জেকেজির চেয়ারম্যান নন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে একটি বেসরকারি চ্যানেলকে সাবরিনা বলেন, জেকেজির চেয়ারম্যান হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। বরং এটা ওভাল কোম্পানির একটি অঙ্গসংগঠন। ওভাল গ্রুপ ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। যেখানকার মালিক হচ্ছেন আরিফুর রহমান। তবে করোনার নমুনা সংগ্রহের প্রতারণা সামনে আসার আগে তিনি নিজেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জেকেজির চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন।

প্রতারণার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছিলো কি না এমন প্রশ্নে সাবরিনা বলেন, ‘বলেছি, আমি ডিজি স্যারকে (আবুল কালাম আজাদ) বলেছি, এডিজিকে বলেছি।’

তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আরিফের সব প্রভাব ও হুমকিধমকির পেছনে ছিল স্ত্রী ডা. সাবরিনা। ডা. সাবরিনা এ চৌধুরী ওরফে ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীকে প্রায়ই টেলিভিশন টকশোতে দেখা যেত স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনায়। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের রেজিস্টার্ড চিকিৎসক হয়েও তিনি ছিলেন কথিত ‘স্বেচ্ছাসেবী’ সংগঠন জেকেজি হেলথ কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান।স্বামীর প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে ‘নানা অনৈতিক উপায়’ অবলম্বনের অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। এতে নাম এসেছে বিএমএর এক নেতারও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সরকারের অনেক উচ্চপদস্থদের সঙ্গে ‘ওঠাবসার’ ছবি দেখিয়ে সুবিধা নিতো এই দম্পতি। তবে জুনের শুরুতে মনোমালিন্যের পর দূরত্ব শুরু হয় দুজনের।

তদন্ত ও তদন্ত তদারকি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা মহামারীর শুরুর দিকে ডা. সাবরিনার তদবিরে জেকেজি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহের কাজ বাগিয়ে নেয়। এখান থেকে করোনা টেস্টের নামে ভুয়া সদন দেওয়া শুরু করেন আরিফুল। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৪৪টি নমুনা সংগ্রহ বুথ বসিয়ে ও হটলাইন খুলে নমুনা সংগ্রহ করে কোনো পরীক্ষা না করেই প্রতিষ্ঠানটি কমপক্ষে ১৬ হাজার মানুষকে করোনা টেস্টের ভুয়া সনদ দিয়েছে। গুলশানে তাদের অফিসের ১৫ তলার কক্ষে বসেই এসব মনগড়া সনদ তৈরি করে হাজার হাজার মানুষের মেইলে পাঠানো হতো। বুথের বাইরে হটলাইনের মাধ্যমে ‘বিশ্বস্ত এজেন্ট’ দিয়ে বাসা বাড়িতে গিয়েও নমুনা সংগ্রহ করতেন জেকেজি কর্মীরা। গত ২৩ জুন করোনার মনগড়া সনদ দেওয়া, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে তেজগাঁও থানা পুলিশ আরিফুলসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযান তদারকি করেন তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশীদ।

গ্রেপ্তারের পর থানা-হাজতে থাকা অবস্থায় আরিফুলের ক্যাডার বাহিনী ভাঙচুর ও হামলা করে থানায়। মারধর করে পুলিশকেও। এছাড়া রাজধানীর মহাখালীর তিতুমীর কলেজে নমুনা সংগ্রহের বুথ বসিয়ে সেখানে প্রশিক্ষণের নামে শুরু করেন নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড। কলেজের কক্ষে কক্ষে নারী-পুরুষের আপত্তিকর অবস্থানসহ নানা অনৈতিক কাজে বাধা দিলে তিতুমীর কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্রদের ওপরও হামলা করে আরিফুলের ক্যাডার বাহিনী। মূলত ওই মামলার অনুসন্ধান করতে গিয়েই বেরিয়ে আসে আরিফুলের নানা অপকর্মের কাহিনী। রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন জনকে হুমকি দিতেন তিনি। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নাম ব্যবহার করে স্বাস্থ্য অধিপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালককেও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন আরিফুল।

তার বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় প্রতারণা জালিয়াতি, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলাসহ নানা অভিযোগে চারটি মামলা করেছে পুলিশ। তার একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল উদ্দিন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার আসামিরা জেলহাজতে আছে। আমি একটি মামলার তদন্ত করছি। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা আসবে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’ তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়েও বলে জানান তিনি।বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনার অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির প্রতি আস্থাশীল জনগন।  একাধিক সাধারন মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এই মানুষরুপী জানোয়ারকে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করলে জনগন সরকারের পাশে আছে এবং থাকবে।

তদন্ত তদারকি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রথমে তিতুমীর কলেজ মাঠে নমুনা সংগ্রহ বুথ স্থাপনের অনুমতি পায় জেকেজি। পরে প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার বাসাবোসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ৪৪টি বুথ বসিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছিল তারা। স্বামী-স্ত্রী মিলে করোনা টেস্টের ভুয়া সনদ বিক্রি করতে থাকেন। প্রতিটি টেস্টের জন্য জনপ্রতি নেওয়া হয় সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা আর বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে জনপ্রতি নিতে থাকে ১০০ ডলার। করোনা টেস্ট কারবার করে জেকেজি হাতিয়ে নিয়েছে কমপক্ষে ৮ কোটি টাকা। এমন অন্যায়ে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করলে আর কেউ এহেন জঘন্য কাজ করার সাহস পাবেনা বলে মন্তব্য সাধারন গণমানুষের।

ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম   ///সূত্র:দেশ রূপান্তর

Total Page Visits: 66014

মাদক ব্যবসায়ী ইউপি মেম্বরকে আটকের দাবীতে মানববন্ধন

শেখ সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট প্রতিনিধি:

মাদকের বিরুদ্ধে বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতির সফল বাস্তবায়নের মাঝেও সরকারের মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক দায়িত্বপালনকারী একজন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাদকের সাথে নিজে জড়িত আবার ব্যবসাও করেন এমনটা ভাবতেই কেমন যেন অবাক হতে হয়। মাদক কেন; কোন একটা দূর্নীতি করে আওয়ামীলীগের কোন প্রভাবশালীই যেখানে পার পায়নি সেখানে এই মেম্বরের খুঁটির জোর কোথায়?? কার ইন্ধনে ও সাহসে তিনি মাদক ব্যবসা করেন???সেই গুটিবাজ ইন্ধনদাতা ও তার সহযোগী ইউপি মেম্বরকে এখনি গ্রেফতার সময়ের দাবী।।

সম্প্রতি, বাগেরহাটের চিতলমারীতে বিধবার জমি দখলের প্রতিবাদ ও আওয়ামী লীগ নেতা দিপুল শেখ হত্যা মামলার আসামী মাদক ব্যবসায়ী ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে চিতলমারী উপজেলার পরানপুর গ্রামে ঘন্টাব্যাপি এ মানববন্ধনে দুই শতাধিক এলাকাবাসী অংশ নেয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড (পরানপুর) আওয়ামী লীগের সভাপতি ফখরুল আলম, মৃত হানিফ শেখের স্ত্রী হাওয়া বেগম, আওয়ামী লীগ নেতা মৃত দিপুল শেখের ছেলে আল আমিন শেখ, স্ত্রী কামনা বেগম, দিপুলের ভাই মোঃ বাবুল শেখ, ফরিদ শেখ, স্থানীয় নোমান শেখ, এসএম সুমনসহ আরও অনেকে।

মাদক কেন; কোন একটা দূর্নীতি করে আওয়ামীলীগের কোন প্রভাবশালীই যেখানে পার পায়নি সেখানে এই মেম্বরের খুঁটির জোর কোথায়?? কার ইন্ধনে ও সাহসে তিনি মাদক ব্যবসা করেন???সেই গুটিবাজ ইন্ধনদাতা ও তার সহযোগী ইউপি মেম্বরকে এখনি গ্রেফতার সময়ের দাবী।।

বক্তারা বলেন, মিজানুর রহমান একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এমন কোন অপরাধ নেই যা তিনি করেননি। ৮ই এপ্রিল মিজানুর রহমান ও তার লোকেরা হামলা চালিয়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক দিপুল শেখকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এলাকার অনেকেরই জমি দখল করেছে এই মিজান ও তার বাহিনী। থানায় হত্যা, মাদক, জমিদখলসহ কয়েকটি মামলা থাকলেও মিজানকে আটক করে না পুলিশ। মিজানের দাপটে স্থানীয়রা সব সময় আতঙ্কিত থাকেন। মিজানকে আটক করে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তারা।
হত্যার শিকার আওয়ামী লীগ নেতা দিপুল শেখের ছেলে আল আমিন শেখ বলেন, ৮ এপ্রিল মাগরিবের সময় মিজান ও তার লোকেরা আমার বাবার উপর হামলা করে। পরে রাতেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার পিতা মারা যায়। আমরা হত্যা মামলা করলেও পুলিশ মিজান মেম্বরকে আটক করেনি। বরং মিজান আমাদেরকে হুমকী ধামকি দিচ্ছে মামলা তুলে নিতে।
বিধবা হাওয়া বেগম বলেণ, মিজান মেম্বর ও তার লোকেরা জোর করে আমার বাড়ির ১৭ শতক জমি দখল করে নিয়েছে। আমি জমিতে আসতে পারিনা। জমিতে আসলে আমাকে মেরে ফেলবে। আমি থানা পুলিশকে জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি তারা। আমি আমার জমি ফেরত চাই। এই অত্যাচারীর হাত থেকে বাঁচতে চাই। শুধু আমার নয় এলাকার অনেকের জমি দখল করেছে মিজান মেম্বর। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারে না।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর শরিফুল হক বলেণ, মামলার পর থেকে মিজান পলাতক রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি তাকে আটকের জন্য।

ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম
Total Page Visits: 66014