• বৃহস্পতিবার ( বিকাল ৩:৫২ )
    • ২রা জুলাই, ২০২০ ইং

চান্দাইকোনায় জেলা আওয়ামিলীগ নেতা হান্নান চেয়ারম্যানকে কুুপিয়ে জখম

আরিফুল ইসলাম, ষ্টাফ রিপোর্টারঃ

সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ থানার চান্দাইকোনা বাজারে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং চান্দাইকোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নানকে একদল সন্ত্রাসী হত্যার উদ্দেশ্যে   কুপিয়ে জখম করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জননন্দিত নেতা আব্দুল হান্নান।  তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোন ব্যক্তিগত শত্রুর কথা শোনা যায়নি। দীর্ঘ পথ চলায় কোন দ্বন্দ কিংবা কোন গন্ডগোলও শোনা যায়নি। তবুও একদল পেশাদার সন্ত্রাসী ২৮শে জুন,২০২০ইং রবিবার ভোরবেলা তার বাড়ির ভিতর অতর্কিত ঢুকে পড়ে এবং কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই কোঁপানো শুরু করে।  এরপর  মৃত ভেবে ঘাতকরা পালিয়ে যায়। ভিকটিম ও স্থানীয়দের বক্তব্যে জানা যায়, ঘাতকেরা সংখ্যায় তিনজন অথবা চারজন ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জননন্দিত নেতা আব্দুল হান্নান।  তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোন ব্যক্তিগত শত্রুর কথা শোনা যায়নি। দীর্ঘ পথ চলায় কোন দ্বন্দ কিংবা কোন গন্ডগোলও শোনা যায়নি।

মুখে লাল গামছা ও লাল পাঞ্জাবি পরিহিত ছিল।   ঘাতকদের পোশাক বাছাই ও সময় নির্ধারনে বোঝা যায় ঘাতকদল প্রশিক্ষিত ও পূর্ব পরিচিত।   ভিকটিমকে  চিকিৎসার জন্য দ্রুততার সাথে বগুড়ায় নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের আফসোস ও বক্তব্যে বোঝা গেছে ভিকটিম সত্যই ভাল মনের মানুষ।

ক্রাইম ডায়রি // ক্রাইম// জেলা

Total Page Visits: 55425

চাকরী হারানোর ভয়ে অসংখ্য গার্মেন্টস শ্রমিক

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : একদিকে বেতন না পাওয়ার আহাজারি অন্যদিকে চাকরি হারানোর গভীর সঙ্কায় রয়েছেন পোশাক খাতের শ্রমিকরা। দেশে বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত সর্বমোট এক হাজার ৯২৬টি তৈরি পোশাক কারখানা চালু রয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৮৫৫টির মালিক তাদের শ্রমিকদের মে মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেছেন। তবে এখনও ৭১ কারখানার শ্রমিক বেতন-ভাতা পাননি। এ তথ্য জানিয়েছে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

মিল-কলকারখানা চালু হলেও কোনো শিল্প ইউনিট ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। সক্ষমতার বিপরীতে অর্ডার নেই। বড় জোর ৩০ শতাংশ শ্রমিক-কর্মচারী দিয়ে মিল ফ্যাক্টরি চালানোর সুযোগ আছে। তাও কতদিন চলবে- তা অনিশ্চিত। এ হিসাবে কমপক্ষে বস্ত্র সেক্টরের ৭০ শতাংশ কর্মীর চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

বিজিএমইএ বলেছে, এক হাজার ৯২৬ কারখানার মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় রয়েছে ৩৩৩টি। এর মধ্যে মে মাসের বেতন দিয়েছে ৩১৪টি প্রতিষ্ঠান। গাজীপুরের ৭১৩ কারখানার মধ্যে বেতন দিয়েছে ৬৯৩টি, সাভার-আশুলিয়ায় ৪১২টির মধ্যে বেতন দিয়েছে ৩৯৭টি, নারায়ণগঞ্জের ১৯৮টি কারখানার মধ্যে বেতন দিয়েছে ১৯৬টি, চট্টগ্রামের ২৫২টি কারখানার মধ্যে ২৪০টি এবং প্রত্যন্ত এলাকার ১৮টি কারখানার মধ্যে ১৫টি বেতন পরিশোধ করেছে। সব মিলিয়ে মে মাসের বেতন পরিশোধ করেছে চালু থাকা এক হাজার ৮৫৫টি (৯৬.৩০ শতাংশ) কারখানা। তবে ৭১টি কারখানার (৩.৭০ শতাংশ) শ্রমিকদের বেতন ২৫ জুন পর্যন্ত পরিশোধ করেনি মালিকপক্ষ।
জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এই প্যাকেজ থেকে উৎপাদনের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ পণ্য রফতানি করছে এমন সচল প্রতিষ্ঠান সুদবিহীন সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দিয়ে ঋণ নিতে পারছে। জানা যায়, তহবিল থেকে ঋণ পেতে বিজিএমইএর সদস্য এক হাজার ৩৭০টি ও বিকেএমইএর সদস্য ৫১৯টি কারখানা আবেদন করেছিল। বিভিন্ন কারণে বিকেএমইএর ৯৯ সদস্য কারখানাসহ বেশি কিছু আবেদন বাতিল হয়। তবে এরপরও পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের সিংহভাগ অর্থই ঋণ হিসেবে পেয়েছেন পোশাকশিল্পের মালিকরা। ফলে দুই মাস ধরে পোশাক শ্রমিকদের একটি বড় অংশের মজুরি হচ্ছে প্রণোদনার টাকায়। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চলমান সংকটে শ্রমিক-কর্মচারীদের আরও তিন মাসের বেতন-ভাতা দেয়ার জন্য বিশেষ অর্থ বরাদ্দ চান দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকরা। এই বরাদ্দ চেয়ে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী বরাবর চিঠি দেয় রফতনিমুখী পোশাক মালিকদের বড় দুটি সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।
এ বিষয়ে বিকেএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, চলমান সংকটে রফতানিমুখী শিল্পের ক্ষতির কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছায় বেতন-ভাতা দেয়ার জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ দিয়েছেন। ওই টাকায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পোশাক কারখানা তিন মাসের মজুরি দিচ্ছে। তিনি বলেন, প্যাকেজের ঋণের অর্থে আমরা এপ্রিল, মে ও জুন- এ তিন মাসের মজুরি দেয়ার সুযোগ পেয়েছি। এখন আগামী জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য আগের মতো সহজশর্তে অর্থবরাদ্দ চেয়েছি। কারণ আজ থেকে তিন-চার মাস পর আমাদের যে কাজ প্রোডাকশন লাইনে যাবে বা শিপমেন্ট হবে সেটা এখনই কনফার্ম হওয়া দরকার। কিন্তু আমাদের কাছে এ মুহূর্তে কোনো অর্ডার আসছে না। তাই আগামী তিন মাস শ্রমিকদের বেতন দেয়ার মতো পরিস্থিতি কারখানাগুলোর নেই। এমন অবস্থায় আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছি বেতন দেয়ার জন্য ঋণের সুবিধা আরও তিন মাস যেন দেয়া হয়।
এদিকে মিল-কলকারখানা চালু হলেও কোনো শিল্প ইউনিট ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। সক্ষমতার বিপরীতে অর্ডার নেই। বড় জোর ৩০ শতাংশ শ্রমিক-কর্মচারী দিয়ে মিল ফ্যাক্টরি চালানোর সুযোগ আছে। তাও কতদিন চলবে- তা অনিশ্চিত। এ হিসাবে কমপক্ষে বস্ত্র সেক্টরের ৭০ শতাংশ কর্মীর চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু গার্মেন্ট সেক্টরেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ কোটি লোকের কাজ থাকবে না। সূত্রমতে, বিজিএমইএর দাবি অনুযায়ী তাদের শ্রমিক সংখ্যা ৪৫ লাখ হলে এর ৭০ শতাংশ অর্থাৎ ৩১ লাখের বেশি শ্রমিকের কাজ থাকছে না। এছাড়া তৈরি পোশাকের পশ্চাৎপদ শিল্প যেমন স্পিনিং, টেক্সটাইল, এক্সেসরিজ, পরিবহন, ফ্রেইট ফরোয়াডার্স, সিএন্ডএফ এজেন্টসহ পরোক্ষভাবে জড়িত শ্রমিক-কর্মচারীদের বড় অংশ কর্মহীন হয়ে পড়বে। এর বাইরেও পরোক্ষভাবে একটি কারখানাকে কেন্দ্র করে আরও অনেক ছোটখাটো ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে ওঠে। সেগুলোর কাজ কিংবা আয়ের পথ বন্ধ হবে। সব মিলিয়ে হিসাব করলে কোটির কাছাকাছি হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প মালিকদের কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যে যাই বলুক না কেন, বাস্তবতা হল বর্তমানে গার্মেন্টে যে কাজ আছে সেখানে ৩০ শতাংশের বেশি শ্রমিক কাজে লাগানোর সুযোগ নেই। যদি সুবিধামতো অর্ডার না পাওয়া যায় তাহলে চালু রাখা তো দূরের কথা, পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেয়া ছাড়া কোনো পথ খোলা থাকবে না। এর সঙ্গে ছাঁটাইয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। কাজ না থাকলে বেতন দেবে কে? ব্যবসার স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে কেউ থাকতে পারবেন না। ইতোমধ্যে শিল্প মালিকরা লোকসান দিয়ে হলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের ধরে রেখেছেন। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হলে সামনের দিকে সামলানো সম্ভব হবে না। তারা বলেন, অবস্থাদৃষ্টে যা দেখা যাচ্ছে, তাতে সামগ্রিকভাবে বস্ত্র খাত আদৌ আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে। তাই সংকট নিরসনে সরকারকেই এখন এগিয়ে আসতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাকেঞ্জির তথ্য অনুযায়ী করোনার প্রভাবে আগের বছরের তুলনায় চলতি বছর বিশ্বের পোশাক বাজারে বিক্রি ৩০ শতাংশ হ্রাস পাবে। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে পোশাক রফতানি ১০ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পাবে। চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) পোশাক শিল্পে ঋণাত্মক ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি। করোনার প্রভাবে মার্চ পর্যন্ত ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ক্রয়াদেশ বাতিল হয়ে গেছে। কারণ বহির্বিশ্বে বাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অনেক বড় বড় ক্রেতা দেউলিয়াত্বও বরণ করেছে। অর্ডার কমে যাওয়ায় চলমান পরিস্থিতিতে কোনো কারখানাই সামর্থ্যের শতভাগ ব্যবহার করতে পারছে না। অনেক কারখানা ৩৫ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। বড় কারখানাগুলোও ৬০ শতাংশের বেশি সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না। জুনে কারখানাগুলো গড়ে ৫৫ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার করে কোনোরকমে উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখছে। জুলাইর পরিস্থিতি এখনই অনুমান করা কঠিন। গত ৪ জুন এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক এমন বাস্তবতা তুলে ধরে বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কারখানাগুলো ক্যাপাসিটির ৫৫ শতাংশ কাজে লাগাতে পারছে। এ ক্যাপাসিটিতে কারখানা চালিয়ে শতভাগ কর্মী রাখা উদ্যোক্তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এমন প্রেক্ষাপটে জুন থেকে শ্রমিক ছাঁটাই করা হতে পারে। এটি অনাকাঙ্খিত বাস্তবতা, কিন্তু করার কিছু নেই।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ভোগ ও চাহিদা কমে যাওয়ায় সারা বিশ্বেই শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে। বাংলাদেশেও এর বাইরে নয়। কারণ একদিকে পোশাকের অর্ডার কমে গেছে। অন্যদিকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কারখানায় লে-আউট প্ল্যান পরিবর্তন করতে হয়েছে। এতে ৩০ শতাংশ মেশিন সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। সেই ৩০ শতাংশ শ্রমিককেও সরকারের প্রণোদনা তহবিলের টাকায় এপ্রিল ও মে মাসে কাজ ছাড়া বেতন দেয়া হয়েছে। এ টাকা মালিকদেরই পরিশোধ করতে হবে। এ অবস্থা চলতে থাকলে তৈরি পোশাক খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় এক কোটি শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো মালিকই শ্রমিক ছাঁটাই করতে চান না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, মহামারীর কাছে মালিকরা অসহায়। শুধু গত ২ মাসেই প্রায় ৩শ’ গার্মেন্ট বন্ধ হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে কী হবে তা কেউ বলতে পারছে না।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, তৈরি পোশাকের পশ্চাৎপদ শিল্প হিসেবে টেক্সটাইল খাতও কোভিড-১৯ এ চরম ক্ষতিগ্রস্ত। অর্ডার যেভাবে বাতিল হচ্ছে, তাতে রফতানিমুখী টেক্সটাইল খাতের উৎপাদন কমবে। পাশাপাশি দেশে লকডাউন থাকায় স্থানীয় সুতা-কাপড়ের চাহিদা কমে এসেছে। এভাবে চললে ভবিষ্যতে কী হবে তা বলা যাচ্ছে না। উদ্যোক্তারা এখন লাভের জন্য নয়, বেঁচে থাকার জন্য কারখানা চালাচ্ছেন। কিন্তু করোনা দীর্ঘায়িত হলে সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে যাবে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টশ অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি আবদুল কাদের খান বলেন, আগের অর্ডার দিয়ে জুন পর্যন্ত কারখানা চালানো যাবে। কিন্তু জুলাইয়ে কী হবে তা বলা যাচ্ছে না। গার্মেন্ট থেকে এক্সেসরিজের অর্ডার দিচ্ছে না।

ক্রাইম ডায়রি//অনলাইন//জাতীয়

Total Page Visits: 55425

চট্টগ্রাম মহানগরীর বীর অভি হত্যাকান্ডঃ এলাকাবাসীর মানববন্ধন

বাবুল হোসেন বাবলা, চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধিঃ 

অভি হত্যার প্রতিবাদে আগ্রাবাদ এলাকায় সাধারণ মানুষের মানববন্ধন অভি হত্যার প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছে এলাকাবাসী আগ্রাবাদ মিস্ত্রিপাড়া এলাকার বাসিন্দা শহীদ মীর ছাদেক অভি হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। আগ্রাবাদ এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে আজ ২৭ জুন দুপুর ৩টায় নগরীর আগ্রবাদ এলাকায় “ডবলমুরিং থানার সর্বস্তরের জনসাধারণ” এর ব্যানারে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। উক্ত মানববন্ধন থেকে অভি হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় এবং প্রশাসনের ঢিলেঢালা মনোভাবের তীব্র ক্ষোভ জানানো হয়। উক্ত মানববন্ধনে শহীদ মীর ছাদেক অভির শোকাহত মা শিরিন আকতার উপস্থিত হয়ে অবিলম্বে অভি হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানান এবং অভির মাদক বিরোধী সংগ্রাম অব্যাহত রাখার জন্য চট্টগ্রামবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান। উক্ত মানববন্দন থেকে অভি হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবীতে স্লোগান দেয়া হয়।

মাদকবাজরা অভির মতো মাদকবিরোধীদের হারিয়ে দিতে পারেনা। এ সমাজে হাজারো ভাল মানুষের মাঝে অন্যায়কারী এক/দুইজন। এরা যদি হাজারো মানুষের ভীরে অন্যায় করে পার পেয়ে যায় তবে বুঝতে হবে আসলে অন্যায়কারী এই প্রশ্রয়দাতা সবাই। তখন এর দায় কেউ এড়াতে পারবেনা।


উক্ত মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা বলেন, সামাজিক কর্মকান্ডে অভির সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মাদক বিরোধী তার নানামূখী কর্মকান্ডের কারণে তিনি সর্বমহলে সমাদৃত ছিলেন। তিনি বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। মানুষের প্রতি তার ভালবাসার কারণেই তিনি এলাকাবাসীর অত্যধিক প্রিয় সন্তান ছিলেন। কিন্তু মাদক সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে আমাদের প্রিয় এই সন্তানকে। এই হত্যাকান্ড আমাদের হৃদয়ে ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। অভির হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ আমাদের এই ক্ষত শুকাবে না। অভির মৃত্যুর কয়েকদিন পার হয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনরূপ এ্যাকশান না দেখে আমরা খুবই মর্মাহত। অবিলম্বে অভির খুনিদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যাতায় আমরা এলাকাবাসী রাজপথে আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।


উক্ত মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন স্তরের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অভির হত্যাকারীদের গ্রেফতার দাবী করে এ সময় বক্তব্য রাখেন শহীদ অভির মা শিরিন আকতার, ছাত্রনেতা গাজী মো. সিরাজ উল­াহ, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাঈন উদ্দিন আহমেদ রাশেদ, মীর জাহেদ ইলাহী রানা, যুব নেতা মো. সেলিম, বজল আহমদ, মো. আলমগীর, আগ্রাবাদ মোটর পার্টস সমিতির সভাপতি সৈয়দ ওমর ফারুক, বিশিষ্ট শিল্পপতি সাহেদ আলী সারজিল, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মীর সাদাত, মঈনুল হাসান লেমন, মো. আলম, মুজিবুর রহমান, মীর ও সৈয়দ বাড়ীর সর্দার সেকান্দর মিয়া, ছাত্রনেতা সামিয়াত আমিন জিসান, জাফরুল হাসান রানা, আরিফুর রহমান মিঠু, মাসুদ সিকদার, সৌরভ প্রিয় পাল, এম কে রিয়াদ, মাহমুদুর রহমান বাবু, কাইয়ুম রশিদ বাবু, আরশে আজিম আরিফ, মাঈন উদ্দিন মিনহাজ, ডিএইচ শিশির, মো. হামিদ, এম. ডি সোহেল মাল্টু প্রমুখ।

ক্রাইম ডায়রি/ মহানগর

Total Page Visits: 55425

ঝালকাঠিতে কিস্তি পরিশোধ না করায় খুনের চেষ্টাঃ মামলা দায়ের

ইমাম  বিমান, ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ
করোনা মহামারী পরিস্থিতিতেও পিছু ছাড়েনি কিস্তি কোম্পানির লোকজন।  জনসেবার কথা বললেও ব্রিটিশ আমলের সুদে মহাজনদের মত এখনও ঘাড়ে সওয়ার হয়ে কিস্তি প্রদান ও উত্তোলনের ঘটনা বড়ই পীড়াদায়ক।
সরকারের নির্দেশনা থাকলেও ঝালকাঠিতে করোনা সংকটে কিস্তির টাকা না দিতে পারায় প্রকাশ্যে ঋন গ্রহীতাকে মারধর করে হত্যার চেষ্টা অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ঝালকাঠিতে করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যেও থেমে নেই বেসরকারি সমবয় সমিতির আওতাধীন কিস্তির টাকা আদায়। আর এ কিস্তির টাকা দিতে না পারায় মজিবর রহমান(৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে ধরালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা চেষ্টা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে মিলন হাওলাদার(৩৮) ও সুমন মাঝি( ৩৬) নামের দুই এনজি কর্মীর বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার(২৪ জুন) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটেছে শহরের পুরাতন খেয়াঘাটে।
এ বিষয় থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, ঝালকাঠি পৌরসভাধীন আশার আলো কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড কতৃক পৌরসভা খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত মোঃ মজিবর রহমান ঝালকাঠি পূবালী ব্যাংক শাখায় তার ব্যক্তিগত এ্যাকাউন্টে ব্যবহারিত নিজ স্বাক্ষর সম্বলিত একটি চেক জামানত পূর্বক উক্ত সমবায় সমিতি থেকে চল্লিশ হাজার টাকা ঋন গ্রহন করি। উক্ত ঋনের টাকা কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করে আসছি, ঋণ গ্রহনের পর থেকে ৯টি কিস্তি পরিশোধ করা হলে দেশে করোনা ভাইরাস ( কোভিড-১৯) প্রাদূর্ভাবের জন্য বাকি কিস্তির টাকা যথাসময়ে পরিশোধ করতে না পারায় উক্ত সমবায় সমিতির পরিচালক মিলন হাওলাদার আমার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে বিভিন্ন সময় কিস্তির টাকা পরিশোধ করার জন্য গালাগাল পূর্বক আমাকে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। গত ২৪জুন সন্ধ্যায় আমার মুঠোফোনে উক্ত সমিতি সদস্য সুমন মাঝি আমাকে পৌর খেয়াঘাট সংলগ্ন রাস্তায় বের হতে বলে। আমি সুমনের কথায় রাস্তায় বের হলে আশার আলো কৃষি উন্নয়ন সমবায় সমিতির পরিচালক মিলন হাওলাদার কোন কথা না বলে কিস্তির টাকা দে, বলে আমার গলা চেপে আমাকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। আমি কোনমতে আমার গলা থেকে তার হাত সরিয়ে ফেলে চিৎকার করলে তারা দুজনে মিলে আমাকে এলোপাথারী  কিলঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায় মিলন তার প্যান্টের পকেট থেকে চাকু বের করে আমার গলায় পোচ দেয় আমি সরে গেলে সেই পোচ আমার বাম কানের উপর লেগে কাটা যখম হয়। আমাকে মারধর করার ফাঁকে মিলন ও সুমন আমার গলায় থাকা স্বর্নের চেইন, পকেটে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে মজিবরকে খুনের ভয় দেখিয়ে মিলন ও সুমন চলে যায়।
করোনা মহামারী পরিস্থিতিতেও পিছু ছাড়েনি কিস্তি কোম্পানির লোকজন।  জনসেবার কথা বললেও ব্রিটিশ আমলের সুদে মহাজনদের মত এখনও ঘাড়ে সওয়ার হয়ে কিস্তি প্রদান ও উত্তোলনের ঘটনা বড়ই পীড়াদায়ক।
এ বিষয় ভুক্তভোগী মজিবর বলেন, করোনা মহামারীর পূর্বে আমি ঝালকাঠি শহরের সদর চৌমাথা এলাকার আশার আলো কৃষি উন্নয়ন সমবয় সমিতির লিমিটেড থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ উত্তোলন করি। নিয়মিত ভাবে ৯টি কিস্তির টাকাও পরিশোধ করি।কিন্তু এর পর করোনা মহামারী শুরু হলে আর্থিক ভাবে অসহায় হয়ে পড়ি এবং তিন মাস ধরে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হই। ব্যর্থতার জেরধরে অভিযুক্ত মিলন ও সুমন আমাকে প্রতিনিয়তা কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য গালাগাল পূর্বক চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।
এ বিষয় মজিবর রহমানের স্ত্রী জানান, বৃহস্পতিবার মাগরীব নামাজ শেষে আমি তজবী পড়তে ছিলাম হঠাৎ ঘরের বাইরে আমার স্বামীর চিৎকার শুনতে পেয়ে আমি ও আমার ছেলে মেয়ে দৌড়ে গিয়ে দেখি মিলন ও সুমন আমার স্বামীকে মারধর করছে। আমি দৌড়ে গিয়ে আমার স্বামীকে জড়িয়ে ধরে তাদেরকে না মারার জন্য অনুরোধ করলেও তারা মারধর করতে থাকে, আমি বারন করতে গেলে মিলন আমার শরীরেও কিলঘুষি মেরে আঘাত করে।
করোনা মহামারিতে সরকার এনজিও ঋণের কিস্তি পরিশোধ শিথিল করেছে। এমন কি চাপ দিয়ে টাকা আদায় করলে ওই এনজিওর নিবন্ধন বাতিল করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তারপরও মজিবর রহমানের কাছ থেকে জোর করে কিস্তির টাকা আদায় করার চেষ্টা করে মিলন ও সুমন। এ বিষয় অভিযুক্ত মিলনের ফোনে কল করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অপরদিকে সুমনের ফোনে কল দিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি মারধরের কথা অশ্বিকার করে বলেন,  মজিবরের সাথে আমাদের বাকবিতন্ড হয়।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি থানার ওসি খলিলুর রহমান ক্রাইম ডায়রিকে   বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।
ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম //জেলা
Total Page Visits: 55425

ধৈর্য্য ধরল দুই দেশঃ কমান্ডার বৈঠকে সিদ্ধান্ত

ক্রাইম ডায়রি ডেস্কঃ

টান টান উত্তেজনা। সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে বিশ্বের সেরা দুই রাষ্ট্রের রশি টানাটানি দেখতে। আবার এটাও অনেকে দেখতে চেয়েছেন কার ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতা বেশি। কারন, সবাই জানে ধৈর্য্যশীলরাই বিজয়ী  । অবশেষে সেই পরিচয় মিলল দুই দেশের আচরনে। চীন-ভারত উত্তেজনা নিরসনে বৈঠক শেষ করেছে দু্‌ই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা।বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে,  সেনারা স্ব স্ব দেশের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় সম্মুখ অবস্থান থেকে পরস্পর দূরত্বে অবস্থান করবে। ২৩শে জুন, ২০২০ইং সোমবার দু’দেশের কমান্ডারদের মধ্যে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার বৈঠকের ফল নিয়ে বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেন, উত্তেজনা কমাতে দুই পক্ষই রাজি হয়েছে।

টান টান উত্তেজনা। সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে বিশ্বের সেরা দুই রাষ্ট্রের রশি টানাটানি দেখতে। আবার এটাও অনেকে দেখতে চেয়েছেন কার ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতা বেশি। কারন, সবাই জানে ধৈর্য্যশীলরাই বিজয়ী।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোর  প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত যদি চীনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধকে সংঘাত বা এমনকি স্থানীয় যুদ্ধে পরিণত করে, তবে এটি পাথরের বিরুদ্ধে ডিম ছোড়ার মতো হবে। তবে, বরাবরের মতই প্রতিজন ভারতীয় অন্ধ বিশ্বাস করে ভারতীয় সেনা আধুনিকায়ন করা হয়েছে। তারা চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মিকে পরাস্ত করতে পারবে এবং ১৯৬২ সালে চীনের কাছে পরাস্ত হওয়ার প্রতিশোধ নিবে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন হয়েছে দু’দেশেরই। কয়েক দশক ধরে চীন-ভারত সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সম্মুখ গুলি বিনিময়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

গ্লোবাল টাইমস বলছে, যদি ভারতীয় সেনারা ভবিষ্যতে চীনা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করে, তবে সীমান্ত এলাকার চিত্র ভিন্ন হবে।

তবে চীন ভারতীয়দের হুশিয়ারি দিয়েছে, যদি ভারতীয় সেনারা অস্ত্রবিহীন সংঘর্ষে চীনা সেনাবাহিনীকে পরাজিত করতে না পারে, তাহলে গোলা এবং অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্র আপনাদের সাহায্য করতে পারবে না। এর কারণ, চীনের সামরিক শক্তি ভারতের চেয়ে অনেক উন্নত এবং শক্তিশালী বলে দাবী করা হয়। আগের চীনা অর্থনীতি আর আজকের দেশটির অর্থনীতি এক নয়। চীনের জিডিপি ভারতের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি। এ ছাড়া চীনের সামরিক ব্যয় ভারতে চেয়ে তিনগুণ বেশি ।

ক্রাইম ডায়রি//আন্তর্জাতিক

Total Page Visits: 55425

নকল মাস্ক তৈরি চক্র সি আই ডি’র জালে আটক

বিশেষ প্রতিনিধ, ঢাকা মহানগরঃ

একের পর এক সাফল্য দেখিয়ে নিজেদের অবস্থানকে বরাবরই শক্তিশালী করে রেখেছে সিআইডি পুলিশ।  এ যেন সিরিয়াল ক্রাইম ফিকশান মুভির সিআইডি’র মতো। যেখানেই অভিযান সেখানেই অভাবনীয় সাফল্য। করোনা মহামারীর মধ্যেও মৃত্যু যখন সুনিশ্চিত তখনও আর্থিক লাভবান হবার আশায় ” জীবন মৃত্যুর ”      পণ্য দিয়ে মানুষ ঠকানো বড্ড অমানবিক নয় কি??

এরকমই একটা অপরাধ করছিল একদল প্রতারক।করোনা প্রতিরোধী মাস্কের কথা বলে তারা নকল মাস্ক তৈরি করে সারাদেশে সরবরাহ করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিআইডি’র সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের  একটি বিশেষ টিম পুরোনো ঢাকার ওয়ারী থানাধীন নারিন্দা ভূতের গলিতে অভিযান চালায়। এ সময় ঐ এলাকা হতে নকল মাস্ক ও মাস্ক তৈরীর উপকরণ সহ ০৫ (পাঁচ) জনকে গ্রেফতার করেছে।

করোনা মহামারীর মধ্যেও মৃত্যু যখন সুনিশ্চিত তখনও আর্থিক লাভবান হবার আশায় ” জীবন মৃত্যুর ”      পণ্য দিয়ে মানুষ ঠকানো বড্ড অমানবিক নয় কি??

সি আই ডি সূত্রে জানা গেছে, সানরাইজ ব্যাগ কোম্পানী নামে একটি চক্র করোনা প্যানডেমিক ছড়িয়ে পড়ার পরে নকল মাস্ক তৈরি করেআসছে মর্মে সিআইডি সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়। উক্ত অভিযানে প্রায় ১৪০,০০০ (এক লক্ষ চল্লিশ হাজার) পিস নকল মাস্ক যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৪০,০০০ x ১৫=২১,০০,০০০/- (একুশ লক্ষ টাকা) এবং প্রায় ১০০০কেজি নকল মাস্ক তৈরির ফেব্রিক্স জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১০০০ x ২৫০=২,৫০,০০০/- (দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সি আই ডিসূত্রে জানা গেছে, কোম্পানির মালিকগ  খালিদ ইমরান (৪০), ২। এমডি রেহান ইউসুব ৩। মোঃ আব্দুল সোবহান (২০), ৪। জিতু চন্দ্র দাস (৩৬), ৫। মোঃ ওসমান গণী (২৭) গং দের ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে।    জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছে, তারা  অনেক দিন ধরে ঠিকাদারের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন দপ্তর/প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নকল মাস্ক সরবরাহ করে আসছে। যা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত করেছে সি আই ডি।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রাজীব ফরহান এর নেতৃত্বে পরিচালিত উক্ত অভিযানে সিআইডির ৮ সদস্যের একটি টিম অংশ গ্রহণ করে। এ ধরনের অবৈধ মাস্ক তৈরির কারখানা ও সংশ্লিষ্ট
ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সিআইডির অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সি আই ডি সূত্রেজানা গেছে।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম// অপরাধ জগত

Total Page Visits: 55425

ভয়ংকর রেড-ইয়োলো জোনে সাধারন ছুটি-সবুজ জোনে সীমিত

শরীফা আক্তার স্বর্না, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

করোনার অত্যধিক সংক্রমণ ঝুঁকিতে থাকা লাল (রেড) ও হলুদ (ইয়েলো) জোনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এছাড়া সবুজ (গ্রিন) জোনে অফিস সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে। আজ সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনায় এ কথা জানানো হয়েছে। আদেশে আরও বলা হয়, আগের শর্তেই সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন ও সরকারি-বেসরকারি অফিস চলবে। তবে করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধকল্পে শর্তসাপেক্ষে সার্বিক কার্যাবলি ও চলাচলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ১৬ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সাপ্তাহিক ছুটি এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।

সংক্রামক ব্যাধি আইনে এ সংক্রান্ত তালিকা প্রকাশের ক্ষমতা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দেয়া আছে। তবে লকডাউন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, কোথায় লকডাউন হবে তার তালিকা স্থানীয় প্রশাসন ঠিক করবে। কোন কোন স্থান লকডাউন করা হবে তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কোথায় কোথায় লকডাউন হবে তা আমার বলারও সুযোগ নেই। স্বাস্থ্য অধিদফতর এটা ঘোষণা করবে।

 

ঢাকা উত্তর সিটি

উত্তর সিটি করপোরেশনে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলো হলো : গুলশান, বাড্ডা, ক্যান্টনমেন্ট, মহাখালী, তেজগাঁও, রামপুরা, আফতাবনগর, মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর, গুলশান, মগবাজার, এয়ারপোর্ট, বনশ্রী, রাজাবাজার, উত্তরা, মিরপুর।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৮টি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো : যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মুগদা, গেন্ডারিয়া, ধানমন্ডি, জিগাতলা, লালবাগ, আজিমপুর, বাসাবো, শান্তিনগর, পল্টন, কলাবাগান, রমনা, সূত্রাপুর, মালিবাগ, কোতোয়ালি, টিকাটুলি, মিটফোর্ড, শাহজাহানপুর, মতিঝিল, ওয়ারী, খিলগাঁও, পরিবাগ, কদমতলী, সিদ্ধেশ্বরী, লক্ষ্মীবাজার, এলিফ্যান্ট রোড, সেগুনবাগিচা।

চট্টগ্রাম সিটি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ১০ এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো হলো: চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, পতেঙ্গার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড, পাহাড়তলির ১০ নম্বর ওয়ার্ড, কোতোয়ালির ১৬, ২০, ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ড, খুলশীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ড, হালিশহর এলাকার ২৬ নম্বর ওয়ার্ড।

বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক প্রণীত (Bangladesh risk zone-based covid-19 containment implementation startegy/guide) গাইডলাইন অনুসরণ করে সংক্রমণের ভিত্তিতে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ লাল অঞ্চল, হলুদ অঞ্চল ও সবুজ অঞ্চল হিসেবে ভাগ করে জেলা/উপজেলা/এলকা/বাড়ি/মহল্লাভিত্তিক জন চলাচল/জীবনযাত্রা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

আদেশে আরও বলা হয়, সিটি করপোরেশন এলাকায় অঞ্চলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার সার্বিক দায়িত্ব থাকবে সিটি করপোরেশনের। এর বাইরে জেলা প্রশাসন সার্বিক সমন্বয় করবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান জেলা উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দফতর সমন্বিতভাবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, কোভিড আক্রান্ত কিছু এলাকা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ঢাকার এলাকাগুলোতে আমরা সহযোগিতা করছি। কিন্তু নির্দেশনা হচ্ছে, সিভিল সার্জনরা নিজেরাই জোনভিত্তিক এলাকা ঘোষণা করবেন। আমরা তাদের সহযোগিতা করবো। এটা স্থানীয়ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হওয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, লকডাউন সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে সেটি বাস্তবায়নে অনেক মন্ত্রণালয় ও দফতর জড়িত। তাই এককভাবে কারও পক্ষে কোনও এলাকা লকডাউন করা সম্ভব নয়।

এদিকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, দেশের বিদ্যমান সংক্রামক রোগ আইন অনুযায়ী রাজধানীর বাইরে জেলাগুলোয় কোনও এলাকা লকডাউন করতে হলে সেই জেলার সিভিল সার্জনের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমতি নিয়েই লকডাউন করতে হবে। সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার লকডাউন কার্যকর করবেন। গাজীপুরে বেড়েই চলছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। সে কারণেই জেলার সব উপজেলার বিভিন্ন এলাকা রেড জোনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে জেলার বিভিন্ন এলাকা রেড জোনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং সে জন্য প্রস্তুতি নিতেও বলা হয়েছে। তবে কোন কোন এলাকা রেড জোনের আওতায় আনা হচ্ছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে এখনও জানানো হয়নি কিংবা নির্দেশনা দেয়া হয়নি বলে জানান জেলা প্রশাসক।

এদিকে, জেলার কালীগঞ্জ পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড শনিবার থেকেই রেড জোনের আওতায় আনা হয়েছে।গাজীপুর সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, রবিবার জেলায় সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে অরও ৯০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ২৩৩ জনে। এছাড়া মোট ২৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 55425

নোয়াখালিতে ধর্ষক বন্দুকযুদ্ধে নিহতঃ জনতার উল্লাস

নোয়াখালি ব্যুরোঃ

ধর্ষন একটি কঠিন শব্দ। ভিকটিম, তার ফ্যামিলি এমনকি প্রতিবেশিরাও জানেন এর ভয়াবহতা কতটুকু। একদম নিচু শ্রেনীর পিচাশ ছাড়া এহেন কাজ কেউ করতে পারেনা। একটা মর্মাহত হওয়ার মত বাক্য উচ্চারন করি। সেটা হলো- যেখানে ৫০/১০০ টাকা হলে দেহাপসারিনী পাওয়া যায় সেখানে জীবনের ঝুুঁকি নিয়ে একটি তরতাজা জীবনকে নষ্ট করা এমনকি পরিশেষে নিজেকে শেষ করে দেয়া যাদের ধাতে আছে  তাদের আসলে বেঁচে থেকে সমাজকে কলুষিত করার কোন অধিকারই নেই। আর হ্যা, এটা যদি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হিসেবে  ইসলামের রেফারেন্স নিতে চান তবে ইসলামে ধর্ষনের শাস্তি আরও কঠিন। যার পরিণতি মৃত্যুই। সম্প্রতি , নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম মিজানুর রহমান (৪০)। ১৪ই জুন,২০২০ইং রোববার দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের ছাতারপাইয়া পূর্ব বাজার এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সুত্রে, ধর্ষককে গ্রেফতার ও ধর্ষনের শাস্তির ব্যাপারে এলাকাবাসীর উল্লাস চোখে পড়ার মত। সন্তষ্ট ধর্ষিতার পরিবারও।

নোয়াখালির সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  আবদুল বাতেন মৃধা ক্রাইম ডায়রিকে জানান, , ১৩ই জুন, শনিবার বিকেলে পার্শ্ববর্তী সোনাইমুড়ী এলাকার একটি বেকারির কর্মচারী এক কিশোরী (১৪) কর্মস্থল থেকে বের হয়ে গ্রামের বাড়ি কবিরহাট উপজেলায় যাচ্ছিল। পথে সোনাইমুড়ী এলাকার মিজানুর রহমান ওই কিশোরীকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায় তোলেন। এরপর তাকে জোর করে সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া এলাকায় নিয়ে অপর এক সহযোগীসহ রাতভর ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ওই কিশোরী বাদি হয়ে গতকাল সেনবাগ থানায় একটি মামলা করে। মামলায় মিজানুর রহমান ও তাঁর অপর এক সহযোগীকে আসামি করা হয়।

 

ধর্ষন একটি কঠিন শব্দ। ভিকটিম, তার ফ্যামিলি এমনকি প্রতিবেশিরাও জানেন এর ভয়াবহতা কতটুকু। একদম নিচু শ্রেনীর পিচাশ ছাড়া এহেন কাজ কেউ করতে পারেনা। একটা মর্মাহত হওয়ার মত বাক্য উচ্চারন করি। সেটা হলো- যেখানে ৫০/১০০ টাকা হলে দেহাপসারিনী পাওয়া যায় সেখানে জীবনের ঝুুঁকি নিয়ে একটি তরতাজা জীবনকে নষ্ট করা এমনকি পরিশেষে নিজেকে শেষ করে দেয়া যাদের ধাতে আছে  তাদের আসলে বেঁচে থেকে সমাজকে কলুষিত করার কোন অধিকারই নেই। আর হ্যা, এটা যদি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হিসেবে  ইসলামের রেফারেন্স নিতে চান তবে ইসলামে ধর্ষনের শাস্তি আরও কঠিন। যার পরিণতি মৃত্যুই।

রোববার সন্ধ্যায় ছাতারপাইয়া এলাকা থেকে ধর্ষনের প্রধান অভিযুক্ত মিজানকে গ্রেপ্তার করে সেনবাগ থানার পুলিশের একটি চৌকস দল। এরপর রাত দুইটার দিকে তাঁকে নিয়ে তাঁর অপর সহযোগীকে গ্রেপ্তারের জন্য ছাতারপাইয়া পূর্ব বাজারে গেলে মিজানের সহযোগীরা পুলিশের ওপর গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি করে। কিছুক্ষণ পর গোলাগুলি বন্ধ হলে ঘটনাস্থল থেকে মিজানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এসময় তার সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে অপর আসামীদেরকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত আছে।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//জেলা

Total Page Visits: 55425

”মাসুদ রানা”সিরিজের ২৬০ বইয়ের লেখক শেখ আব্দুল হাকিম; কাজী আনোয়ার নন

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

মাসুদ রানা সিরিজ পড়েনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুস্কর। কল্পনার জগতে ভেসে বেড়ায় কত যুবক এই মাসুদ রানা সিরিজ পড়েই। আবার বাস্তবমুখী বহু কিছু শিখিয়েছেও মাসুদ রানা। ভাববাদী বলেন কিংবা বাস্তবতা বলেন মাসুদ রানার ভক্ত নয় কে?? আর এর স্রষ্টা বলে আজীবনই সবাই জেনে এসেছে কাজী আনোয়ার হোসেনকে। মনে করা হয়েছে তিনিই হয়তোবা রাহাত খান। শুরু হতে আজ অবধি মাসুদ রানা তুমুল জনপ্রিয়। গোয়েন্দারও গোয়েন্দা আছে। গোয়েন্দা সিরিজ মাসুদ রানার উপর এবার হলো মহাগোয়েন্দাগিরি। রাহাত খান; কাজী আনোয়ার হোসেন হতে পাল্টে এবার হলেন শেখ আব্দুল হাকিম । হা হয়ে গেলেন তো। হ্যা, এটাই সত্য। মাসুদ রানা সিরিজের শুরুর দিকে এগারটি বই কাজী আনোয়ার হোসেন লিখলেও পরবর্তী  ২৬০টি বইয়ের লেখক  হলেন শেখ আব্দুল হাকিম।

 শেখ আবদুল হাকিম নিজেকে এই সিরিজের অধিকাংশ বইয়ের লেখক হিসেবে দাবি করে কপিরাইট আইনে মামলা করেন। দীর্ঘ প্রায় এক বছরের আইনি লড়াই শেষে রোববার বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস এই মামলার রায় দিয়েছে। তাতে আবদুল হাকিমের পক্ষে রায় এল।

রায়ে বলা হয়, গোয়েন্দা সিরিজ মাসুদ রানার প্রথম ১১টি বইয়ের পরের ২৬০টি বইয়ের লেখক কাজী আনোয়ার হোসেন নন। এর লেখক হলেন শেখ আবদুল হাকিম। যার ফলে দাবিকৃত মাসুদ রানা সিরিজের ২৬০টি এবং কুয়াশা সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে কপিরাইট স্বত্ত্ব পেতে যাচ্ছেন শেখ আবদুল হাকিম।

বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী  ক্রাইম ডায়রিকে বলেন, কাজী আনোয়ার হোসেন চাইলে অবশ্যই আমাদের এ রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করতে পারবেন। তবে তা অবশ্যই ৯০ দিনের মধ্যে করতে হবে। এখানে তিনি হেরে গেলে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন বলেও তিনি জানান।

কপিরাইট অন্তর্ভুক্তির কারণে তাকে প্রতিটি বইয়ের জন্য আলাদা করে আবেদন করতে হবে। এর পর প্রতিটি বইয়ের লেখক হিসেবে তার নাম যাওয়ার পাশাপাশি, কপিরাইটও তার হয়ে যাবে। লেখকের নাম পরিবর্তন হবে। নতুন করে আবার সবাই মাসুদ রানা সিরিজকে চিনবে।

উল্লেখ্য যে, গত বছরের ২৯ জুলাই শেখ আব্দুল হাকিম ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০টি এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০টি বইয়ের লেখক হিসেবে স্বত্ব দাবি করে সেবা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কাজী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কপিরাইট আইনের ৭১ ও ৮৯ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ দাখিল করেন।

বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের রায়ে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু সমাধান ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে কপিরাইট বোর্ড বা বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যন্ত আবেদনকারীর দাবিকৃত ও তালিকাভুক্ত বইগুলোর প্রকাশ বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য প্রতিপক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হল।

এ ছাড়া প্রতিপক্ষকে আবেদনকারীর কপিরাইট রেজিস্ট্রেশনকৃত প্রকাশিত বইগুলোর সংস্করণ ও বিক্রিত কপির সংখ্যা এবং বিক্রয় মূল্যের হিসাব বিবরণী এ আদেশ জারির তারিখের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসে দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হল।

কপিরাইট অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৯ জুলাই শেখ আবদুল হাকিম অভিযোগ করার পরে অভিযোগকারী ও প্রতিপক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতিতে ওই বছরের ১১ ও ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ৪ নভেম্বর শুনানি হয়।

শুনানিতে উভয়পক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করে। দাখিলকৃত অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষ লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন। প্রতিপক্ষের উক্ত লিখিত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাদী পুনরায় নিজের স্বপক্ষে লিখিত যুক্তিতর্ক দাখিল করেন। পরবর্তীতে অভিযোগকারীর দাখিলকৃত যুক্তির বিষয়ে প্রতিপক্ষ পুনরায় লিখিত যুক্তিতর্ক পেশ করেন।

কপিরাইট অফিস সুত্রে জানা গেছে, মামলার বিষয়টি বেশ ক্রিটিকাল হওয়ায়  এর বিশ্বাসযোগ্য ও সঠিক সমাধানের জন্য অভিযোগের বিষয়ে দেশের বিখ্যাত ও প্রথিতযশা কয়েকজন লেখক ও প্রকাশক বুলবুল চৌধুরী ও শওকত হোসেন, প্রখ্যাত শিল্পী হাশেম খান  এবং সেবা প্রকাশনীর সাবেক ব্যবস্থাপক ইসরাইল হোসেন খানের লিখিত মতামত চাওয়া হয়। এরই সুত্র ধরে ১৪ই জুন,২০২০ইং রোজ রবিবার এই রায় দেয়া হয়। এদিকে এই রায়ে পাঠক সমাজে শেখ আব্দুল হাকিমের প্রতি যেমন সহানুভুতি দেখা গেছে ঠিক তেমনি তরুন পাঠকেরা মনক্ষুন্নও হয়েছেন অনেকে। তবে বিজ্ঞজনেরা বলছেন দীর্ঘদিনে পরিচিতির কারনে তরুনেরা হঠাৎ করে এটা মেনে নিতে না পারলেও ধীরে ধীরে এটা সয়ে যাবে।

ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়

 

Total Page Visits: 55425

আমি ওভাবে বলিনি, যা বলেছি…..ড.মীজানুর রহমান

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

কোন কোন দেশে ভালোর কদর নেই।। হক কথা বললে মামু বেজার। মাঝে মাঝে মামুদের জোয়ার  আসে।  ভালো বললে মন্দটুকু কাটিং করে প্রচার করবে। আগের এবং পরেরটুকু আর বলবে না।  এরা প্রেক্ষাপটে যাবেনা। পরিস্থিতি বুঝবে না। বসেই আছে, কখন কে মুখ ফসকে কি বলে ফেলে সেই আশায়। সেটা যদি বাস্তবতার নিরিখে হয় কিংবা হক  হয় তাতে কিছু যায় আসেনা। কথা সত্য; তালগাছ আমার। মাঝে মধ্যেই একটি মহল কিছু  বলতেই সেটা নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে।। এদের জাল হতে মুক্তি নেই; এমনকি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরও। যে বিবেচনাতেই নিয়োগ হোক অযোগ্য লোক কিন্তু ভিসি নিয়োগ হয়না।

কয়েকদিন হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে নিয়ে; তার একটি বক্তব্যকে ঘিরে নানামুখী বিতর্ক চলছে। দক্ষতা সম্পন্ন একজন মানুষ ড.মীজানুর রহমান। তিনি একজন  বিবেচনা সম্পন্ন নাগরিক। তিনি কালোকে কালো এবং সাদাকে সাদা বলতে পারবেন না,তাতো হয়না!

[facebook/The Crime Diary ] “কোন কোন দেশে ভালোর কদর নেই।। হক কথা বললে মামু বেজার। মাঝে মাঝে মামুদের জোয়ার  আসে।  ভালো বললে মন্দটুকু কাটিং করে প্রচার করবে। আগের এবং পরেরটুকু আর বলবে না।  এরা প্রেক্ষাপটে যাবেনা। পরিস্থিতি বুঝবে না। বসেই আছে, কখন কে মুখ ফসকে কি বলে ফেলে সেই আশায়। সেটা যদি বাস্তবতার নিরিখে হয় কিংবা হক  হয় তাতে কিছু যায় আসেনা। কথা সত্য; তালগাছ আমার।”

ছাত্রদের মেসভাড়া নিয়ে তিনি অনেক কথা বলেছেন। আমরা জানি দায়িত্বশীল অবস্থান হতে  কোন কথা বলতে নিলে সেই কথার   প্রেক্ষাপট বা শানে নুজুল থাকে, কথার কথা থাকে, উদাহরন থাকে, প্রসঙ্গে দু’একটা অযাতিত কথাও হয়।  সেই কথা গুলোর মধ্যে কাটিং করে যতটুকুতে ঘায়েল করা যায় অতটুকু প্রচার অমানবিকও বটে। পিতা তার সন্তানকে গালি দেয়ার সময় কেমন কথা বলে সবারই জানা। সেগুলো ধরলে পিতার অবস্থান কোথায় যায়??

 

এ বিষয়ে মিডিয়ার কাছে মুখ খুলেছেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কারিগর এবং বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ নিয়ে সুদীর্ঘ সময়ের বিশ্লেষণধর্মী আলোচক ড.মীজানুর রহমান। পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো—-

[[ “কথাগুলো-ওভাবে-বলিনি-জবি-উপাচার্য

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার কথা নিয়ে যেভাবে সমালোচনা হচ্ছে, আসলে তিনি কথাগুলো ‘ওভাবে’ বলেননি। কথাগুলোর পূর্বাপর কিছু উল্লেখ না করে কেবল খন্ডিত অংশ তুলে ধরায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যা প্রচার করা হচ্ছে এটা আমার কোনো বক্তব্য নয়। ব্যক্তিগত আলোচনা। আমি কথাগুলো ওভাবে বলিনি। কাউকে আঘাত করার জন্য বলিনি। প্রসঙ্গক্রমে বলেছি।’যখন তারা (ছাত্ররা) বলছে ১৬ হাজার ছাত্র টিউশনি করে চলে। বাড়িতে টাকা পাঠায়। তাই তাদের দুই হাজার টাকা করে মোট ২৯ কোটি টাকা মেস ভাড়ার জন্য বরাদ্দ দিতে হবে। এটা কি বাস্তব কোনো দাবি? যারা মেসে থাকেন তারা কি সবাই গরিব? তখন আমি বলেছি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই কি গরিব? এখানে কি কেবল গরিবদের ভর্তি করা হয়েছে? আমরা কি বিজ্ঞপ্তিতে বলেছি এখানে গরিব-অসহায়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে? এখানে সবাই মেধার ভিত্তিতে ভর্তি হয়েছে। অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন ছাত্ররা ভর্তি হয়, এখানেও তেমন।’যখন আমরা নানামুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, আমাদের অনেক ছাত্র আক্রান্ত, তাদের ফোন করে করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করাতে হচ্ছে। কয়েকজন শিক্ষক বাসায় বসে অক্সিজেন নিচ্ছেন। তাদেরও ভর্তি নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে। তখন সারাক্ষণই তারা গণমাধ্যমের কাছে মেস ভাড়ার দাবিতে কথা বলছে।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও দরিদ্র শিক্ষার্থী আসে, বুয়েটেও আসে। এখন যদি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে গরিব এটা যদি তুলে ধরা হয় তাহলে ছাত্রদের অবস্থান কোথায় থাকে?’  বিশ্ববিদ্যালয়কে যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, এটা গরিবদের বিশ্ববিদ্যালয়, এই বিষয়টি ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কারণ এটা মেধাবীদের বিশ্ববিদ্যালয়। মেধার ভিত্তিতে এখানে ছাত্র ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা আসে, এখানে আসে। আমাদের ক্লাসের ৮০ থেকে ৯০ জন ছাত্র থাকলে ২০ জন হয়তো দরিদ্র পরিবারের হতে পারে। আর ১০ জন হয়তো খুবই নিঃস্ব। বাকিরা তো আমরা ভালো আছি। তাহলে সবার মেস ভাড়া বরাদ্দের তো কোনো কারণ নেই। মেস ভাড়া যাদের সামর্থ্য আছে তারা দিবে। এখন তো মেসভাড়া কেউ চাচ্ছেও না। এখন তো মেসেও কেউ নেই। অনেকেই তো বাড়িতে চলে গেছেন। তারা যখন আসবেন তখন এটা নিয়ে সুরাহা করা যাবে। দেখা যাবে কী করা যায়।’

যারা টিউশনি করে মেস ভাড়া দিয়ে থাকত, তাদের নিয়ে তো সমস্যাটা আরও গভীর হবে। এখন তো মেস ভাড়া দিতে পারছে না, তখন তো খাওয়ারও টাকা থাকবে না। তাদের টিউশনি তো থাকবে না। সেটা নিয়ে আমাদের সবাইকে চিন্তা করতে হবে। আমরা সবাই গরিব তা তো না। আমরা যদি সারাক্ষণ বলি আমরা খুব দরিদ্র-গরিব, সবাই মেসে থাকি, তাহলে তো আমাদের নিজেদেরই আত্মমর্যাদা নষ্ট হবে। এটা বলেছিলাম কথা প্রসঙ্গক্রমে।  শিক্ষার্থীদের বললাম, আমাদের শিক্ষার্থীদের তো অনেকভাবেই আমরা সহযোগিতা করছি। উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত যেখানে যে সমস্যায় পড়ছে তাকেই সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। ইউএনওকে ফোন করে, চেয়ারম্যানকে ফোন করে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছানোর কাজ করছি। বিকাশের মাধ্যমে নগদ টাকা পৌঁছানোর কাজও চলছে। আমাদের প্রচুর ছাত্র আছে অনেক দরিদ্র। এদের তালিকাও আমাদের কাছে আছে। কারণ আমাদের জাকাত ফান্ড আছে। দরিদ্রদের সাহায্য-সহযোগিতা করার বিভিন্ন টিম আছে। সেই হিসাবেই আমাদের ধারণা আছে ৩৬০-৩৬৫ জনের মতো ছাত্র একেবারেই নিঃস্ব। যাদের টিউশনির টাকায় চলতে হয়। তারা এ থেকে বাড়িতেও টাকা পাঠায়।’

তাছাড়া বড় চিন্তার বিষয় হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় যখন খুলবে এই ছাত্ররা যখন ফিরে আসবে তখন তো টিউশনি অনেকের থাকবে না। স্বাভাবিকভাবে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কারণে অনেক ছাত্রের টিউশনিও থাকবে না। কারণ কেউ তো ঝুঁকি নিয়ে প্রাইভেট শিক্ষক রাখবে না। ঘরে যেতে দিবে না এই পরিস্থিতিতে। এই ছাত্ররা কীভাবে তাদের জীবন-জীবিকা চালাবে? এটা হচ্ছে আমাদের চিন্তার বিষয়। তাদের অনেকেই দ্বিতীয় বর্ষ, তৃতীয় বর্ষে পড়ছে। আমাদের সবাইকে মিলেই এটি মোকাবিলা করতে হবে। সরকারের থেকে যদি সহযোগিতা পাওয়া যায় তাহলে ভালো। যারা ধনী আছে, আমাদের ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে, তারাও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে। একদিনের বেতনও দিয়ে রাখছে শিক্ষকরা।’

ছাত্রদের যারা মেসে থাকে সবাই গরিব না; একেক মেসে পাঁচজন, সাতজন, দশজন করে দরিদ্র ছাত্র আছে। তাকে সবাই মিলে সহযোগিতা করলে আমি মনে করি এই সমস্যার উত্তরণ ঘটবে। আমরা সবাই মেস ভাড়া দিতে পারছি না, সবাই গরিব-এটা যদি আমরা মানুষের কাছে প্রকাশ করি তার মানে কী? আমি এটা বলেছি, আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিজ্ঞপ্তিতে তো বলি নাই যে দরিদ্র এবং অসহায়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এরকম কি বলেছি? আমরা তো ছাত্র ভর্তি করেছি মেধার ভিত্তিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ক্যাটাগরি বা ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ডের ছাত্ররা ভর্তি হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও তো একই যোগ্যতা, একই ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ডের।’

 

আমাদের অনেক ছাত্র মোটরসাইকেল চালিয়ে ক্যাম্পাসে আসে। তাদের তো মেস ভাড়া নিয়ে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এটাই আমি বলেছি। আমাদের এখানে মোট ছাত্র ধরা যাক ১৮ হাজার। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র হচ্ছে ৪০ হাজার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সব মিলিয়ে ডাবলিং, গণরুম মিলিয়ে ২০ হাজার ছাত্র থাকে। বাকি ২০ হাজার ছাত্র কোথাও থাকে, মেসেই তো থাকে। আমাদের যে পরিমাণ ছাত্র মেসে থাকে আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যত ছাত্র মেসে থাকে সংখ্যাটা ধরলাম সমান। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ কি মেস ভাড়া নিয়ে এসব কথাবার্তা বলছে? আমি সেটাই বলছি, আমরা যদি এটাই নিয়ে ব্যস্ত থাকি, তাহলে কী করে হয়?’

তেমনি, এই সমস্যা তো কেবল তো আমাদের সমস্যা নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যে পরিমাণ ছাত্র-ছাত্রী ট্রেনে করে ক্যাম্পাসে আসে, তাদেরও সমস্যা। এই সমস্যার সমাধান হয় রাষ্ট্রকে করতে হবে, অথবা আমাদের মধ্যে যারা সামর্থ্যবান আছে প্রত্যেক ক্লাসে প্রচুর ছাত্র আছে, যারা একজন দশজনকে দেখতে পারবে, তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। এটাই বলেছিলাম যে আমরা তো সবাই গরিব না।”]]

সবাই মিলে সংকট মোকাবিলা করতে হবে উল্লেখ করে ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘সরকার তো সহযোগিতা করছে, আমাদের যাদের সামর্থ্য আছে, তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে নিয়ে নেগেটিভ মন্তব্য করা যায় যখন তার অবস্থান সুস্পষ্ট দুর্নীতির পক্ষে। কিন্তু তিনি যখন   হক কথা বলেন সেটাকে কাটছাট করে ভাইরাল করলে পুরো জাতী লজ্জিত হয়। বিষয়টি ভবিষ্যতের স্বার্থে সবাইকে ভেবে দেখা উচিত নয় কি???

ক্রাইম ডায়রি//  জাতীয়

 

Total Page Visits: 55425