• বুধবার ( সকাল ৬:৫৫ )
    • ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আনসার আল ইসলাম এর ০৪ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

সারাদেশে  র‌্যাবের ধারাবাহিক  অভিযানে রাজধানীর গাবতলী ও সাভারের আমিন বাজার এলাকা হতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আনসার আল ইসলাম এর ০৪ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সুত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর আভিযানিক দল গতকাল ২০ অক্টোবর ২০১৯ তারিখ রাতে অভিযান পরিচলানা করে রাজধানীর গাবতলী ও সাভারের আমিন বাজার এলাকা হতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আনসার আল ইসলাম এর নিম্নবর্নিত ০৪ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার করেঃ

(ক) মুফতি সাইফুল ইসলাম (৩৪), জেলা-মানিকগঞ্জ।
(খ) মোঃ সালিম মিয়া (৩০), জেলা-ব্রাহ্মনবাড়িয়া।
(গ) জুনায়েদ(৩৭), জেলা-মুন্সীগঞ্জ।
(ঘ) আহম্মেদ সোহায়েল (২১), জেলা-সুনামগঞ্জ।

গ্রেফতারকৃতদের    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা  নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আনসার আল ইসলাম এর সক্রিয় সদস্য।  তাদের নিকট হতে আনসার আল ইসলাম এর বিভিন্ন ধরনের উগ্রবাদী সম্পর্কিত বই, ভিডিও, কবিতা, বয়ান, লিফলেটসহ মোবাইল, ল্যাপটপ ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়।গ্রেফতারকৃত মুফতি সাইফুল ইসলাম (৩৪) কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, সে উত্তর বাড্ডায় একটি নৈশ মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে। ছাত্র জীবনে সে হরকাতুল জিহাদের সাথে যুক্ত ছিল। হরকাতুল জিহাদ নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে তিনি তার সক্রিয়তা কমিয়ে দেয়, কিন্তু সবসময় সে সশস্ত্র জঙ্গীবাদ এ অংশ গ্রহনে আগ্রহী ছিল। অন্য দিকে তার প্রাক্তন ছাত্র সেলিমের সহায়তায় একজন সক্রিয় আনসার আল-ইসলাম এর সদস্যের সাথে পরিচিত হয়। ঐ ব্যক্তি তাকে আনসার আল-ইসলামের দাওয়াত দেয় এবং বিভিন্ন বই, লিফলেট ও ভিডিও সরবরাহ করে। এমনকি সংগঠনের প্রয়োজনে যোগাযোগ করার জন্য বিভিন্ন প্রটেক্টিভ সফটওয়্যার ও মোবাইল এ্যাপস সম্পর্কে হাতে কলমে শিক্ষা দেয়। সে শীর্ষ জঙ্গীদের মধ্যে একজন, তার ল্যাপটপ এবংমোবাইল থেকে বিভিন্ন উগ্রবাদি ডিজিটাল কন্টেন্ট পাওয়া গিয়েছে।

এছাড়া  গ্রেফতারকৃত মোঃ সালিম মিয়া (৩০) বর্তমানে হাজারীবাগে বসবাস করে। সে ২০০৪ সালে প্রথম ঢাকায় আসে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী শেষে বর্তমানে সে একটি লিফট কোম্পানীতে কালেকশনের কাজ করে। ২০১৩ সালে নৈশ মাদ্রাসায় পড়তে গিয়ে সাইফুল হুজুরের সাথে তার প্রথম পরিচয় হয়। সাইফুল হুজুর বিভিন্ন সময়ে উগ্রবাদের কথা বলে। পরবর্তীতে এক ব্যক্তির সাথে তার পরিচয় হয়। সে আনসার আল-ইসলামের একজন সক্রিয় সদস্য। সে আনসার আল-ইসলামের বিভিন্ন ভিডিও, বইপত্র, মোবাইল এ্যাপস সংগ্রহ করতো এবং সংগঠন পরিচালনা ও ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রতি মাসে চাঁদা দিয়ে আসছে।

গ্রেফতারকৃত মোঃ জুনায়েদ হোসেন (৩৭) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, তার বাড়ী মুন্সিগঞ্জে হলেও বর্তমানে সে সাভার থানার অন্তর্গত হেমায়েতপুরে একটি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এবং শিক্ষক। ২০১৪ সালে সে তার মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে। ছাত্র জীবনে সে হরকাতুল জিহাদের সাথে যুক্ত ছিল। জুলাই ২০১৯ মাসে জনৈক মাহফুজের মাধ্যমে সাইফুল ও সোহায়েল সাথে তার পরিচয় হয়। সাইফুলের কাছ থেকে আনসার আল-ইসলামের সক্রিয়তা সম্পর্কে জানতে পেরে সে সাইফুলের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতো এবং তার স্থাপিত মাদ্রাসায় সাইফুল, জনৈক মাহফুজের সাথে নিয়মিত মিটিং এর আয়োজন করে।

এছাড়াও  গ্রেফতারকৃত আহম্মেদ সোহায়েল (২১), সে একটি মাদ্রাসার মিসকাত জান্নাত শ্রেণীর একজন ছাত্র। সে মাহাদি নামক এক ব্যক্তির সাথে এ্যাপস্ এর মাধ্যমে আনসার আল ইসলাম দল সম্পর্কে প্রথম জানতে পারে এবং তাদের কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে এ দলে যোগদান করে। সে প্রায় ০৩ বৎসর যাবত এই সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছে। পরবর্তীতে সে আনসার আল ইসলাম শীর্ষ নেতার সাথে অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে পরিচিত হয় এবং নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিল। আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, তারা গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপক্ষে, তাদের মতে এই ব্যবস্থা তাগোদি বা বাতিল, তারা ইসলামি শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠায় যারা প্রতিহত বা বিরোধ সৃষ্টি করে তাদের চূড়ান্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা। দেশের প্রচলিত শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা করাই আনসার আল ইসলামের মূল উদ্দেশ্য। তাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা কারীদের উপর তারা আকশ্মিক আক্রমন করে কঠোর শাস্তি বা টার্গেট কিলিং করে থাকে। টার্গেট কিলিং এর ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় আগ্নেয়াস্ত্রের পরিবর্তে চাপাতি ব্যবহার করে। জঙ্গী তৎপড়তা, প্রশিক্ষণ ও করনীয় সম্পর্কে তারা নিজেদের মধ্যে অনলাইনে Protective Apps, Protective Text, Protective Browser এর মাধ্যমে যোগাযোগ করে। নিয়মিত ভাবে তাদের সদস্যদের কাছ থেকে মেহেনতের মাধ্যমে ইয়ানত সংগ্রহ করে। তারা নির্ধারিত ফর্মেটে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন ও অগ্রগতি আমির এর নিকট দাখিল করে। যেমন-কয়জন নতুন সদস্যকে বয়ান দেওয়া হয়েছে, কোন ফান্ড বা চাঁদা সংগ্রহ করা হয়েছে কিনা ইত্যাদি। এই দলের সদস্যরা এন্ড্রয়েট মোবাইল বা ল্যাপটপ এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রটেক্টিভ এ্যাপস্, ম্যাসেঞ্জার ও ব্রাউজার ইত্যাদি ব্যবহার করে বিভিন্ন গ্রুপ তৈরি করে উগ্রবাদী সংবাদ, বই, উগ্রাবাদী ব্লগ, উগ্রবাদ উৎসাহ মূলক ভিডিও আপলোড ও শেয়ার করে নিয়মিত নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিল। তার কাট-আউট মেথড অবলম্বন করে বিধায় এদের সনাক্ত করা কঠিন এবং সহজে কেউ কারো সাথে দেখা সাক্ষাৎ করে না, ফলে কেউ কাউকে চিনেনা। তবে কোন নাশকতার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষন, গোপনীয় তথ্য সরাবারহ ও গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে কদাচিৎ দেখা সাক্ষাৎ করে থাকে। শিঘ্রই কোন নাশকতার পরিকল্পনা জন্য গ্রেফতারকৃত আসামীরা সাভারের আমিন বাজার এলাকায় তাদের পূর্ব নির্ধারিত স্থানে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই তথ্য জানতে পেরে গতকাল রাত্রে তাদেরকে গাবতলী ও আমিনবাজার হতেগ্রেফতার করে নাশকতার পরিকল্পনা নশ্মাত করা হয়। এ সময় তাদের দলের আরো বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়। পলাতক জঙ্গীদের সমন্ধে তথ্য সংগ্রহ পূর্বক গেফতারের প্রক্রিয়া চলামান রয়েছে।গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//আইন শৃঙ্খলা

Total Page Visits: 17099

ঘুষ গ্রহণকালে দুদকের হাতে গ্রেফতার

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

ঘুষ গ্রহণকালে দুদকের হাতে গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। দুদক সুত্রে জানা গেছে,১৫ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণকালে টাঙ্গাইলের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে আজ হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে দুদক। গ্রেফতারকৃত আসামির নাম  আব্দুল্লাহ আল মারুফ ফেরদৌস, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, কাস্টমস, এক্সাইজ, ভ্যাট বিভাগ, টাঙ্গাইল।

জানা গেছে,  প্রকৃত ভ্যাটের চেয়ে কম ভ্যাট আদায় ও ১৩ ডিজিটের নতুন ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়ার জন্য জনৈক ব্যবসায়ীর নিকট থেকে অবৈধভাবে ১৫,০০০/-(পনেরো হাজার) টাকা নগদ ঘুষ গ্রহণ কালে তার নিজ দপ্তরে হাতে-নাতে গ্রেফতার। এ জন্য দন্ডবিধি’র ১৬১ ধারায় এবং সরকারি কর্মচারী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও অসদাচরণের দায়ে ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ ০২নং আইনের ৫(২) ত ধারায় ০১(একটি) মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//আদালত

Total Page Visits: 17099

ঝালকাঠিতে শিক্ষার্থীদের রাতের আড্ডা বন্ধে পুলিশ সুপারের বিশেষ অভিযান

ইমাম বিমান,ঝালকাঠি অফিসঃ
ঝালকাঠিতে শিক্ষার্থীদের রাতে আড্ডা বন্ধ করার জন্য জেলা পুলিশ সুপারের বিশেষ অভিযান। জেলার রাজাপুর উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে ঝালকাঠি পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে স্কুল, কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের রাতে আড্ডা বন্ধে আহবান জানান।
শনিবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে উপজেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় বিভিন্ন স্কুল, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের রাস্তায় ঘোড়াঘুরি ও আড্ডা দেওয়া দেখে তাদেরকে বুঝিয়ে পড়ার টেবিলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন। এর আগে পুলিশ সুপার ঝালকাঠি শহরের বিভিন্ন পার্ক, গাবখান সেতু এলাকায় রাতে অভিযান চালিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
এ সময় জেলা পুলিশ সুপারের সাথে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (রাজাপুর-কাঠালিয়া সার্কেল) মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, রাজাপুর থানা সেকেন্ট অফিসার এসআই শাহজাদা সহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও পুলিশ সুপার শহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন ও তাদের খোঁজ খবর নেন।
ক্রাইম ডায়রি//আইন শৃঙ্খলা//জেলা
Total Page Visits: 17099

ফেসবুকে অন্যের ছবি ও ভূয়া ক্যাপশনের দিন শেষঃ তৎপর পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং টিম

ক্রাইম ডায়রি ডেস্কঃ

ফেসবুকে ভূয়া পেইজ ও অন্যের ছবি ব্যবহারের দিন শেষ। অন্যের অশ্লীল ছবি ব্যবহার ও হেয় করার চেষ্টা কিংবা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হতে সাবধান।। এমনটি করলে আপনি ইতোমধ্যে পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি টিমের নজরদারির ভিতরেই আছেন। যে কোন মুহুর্তে যে কারো অভিযোগের     প্রেক্ষিতে এরেস্টও হতে পারেন। সম্প্রতি নারী পুলিশের ছবি ব্যবহার করে কতিপয় দুষ্টচক্র ভুয়া ক্যাপশন দিয়ে প্রচার করে আসছিল।    ভুয়া নামে ফেসবুকে পেজ খুলে সেখানে পোস্ট করা হতো নারী পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের ছবি। এসব ছবির বেশির ভাগই আপত্তিকরভাবে এডিট করা হতো এবং ক্যাপশনে ব্যবহার করা হতো কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য। নারী পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নারীদের কুরুচিপূর্ণ ছবিও পোস্ট করা হতো এসব ভুয়া ফেসবুক পেজে। অবশেষে পুলিশের তদন্তে সন্ধান মিলেছে এমন কয়েকটি ফেসবুক পেজের সাথে জড়িতদের।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ(ডিএমপি) এর স্যোশাল মিডিয়া মনিটরিং টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার ধ্রুব জ্যোতির্ময় গোপ অনলাইন গণমাধ্যমকে   জানিয়েছেন , আপত্তিকর ফেসবুক পেজের সাথে জড়িত বেশ কয়েকজনকে সনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, নারী পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের আপত্তিকর ছবি ফেসবুক পেজে পোস্ট করার অভিযোগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে রমনা মডেল থানায় ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টে একটি মামলা রুজু হয়। এই মামলায় গ্রেফতার করা হয় চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার উজ্জ্বল বড়–য়া নামের এক যুবককে।

ধ্রুব জানান, কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাবুল মিয়ার ছেলে রিয়াজ উদ্দিনকে সম্প্রতি সনাক্ত করেছে স্যোশাল মিডিয়া মনিটরিং টিম। রিয়াজ উদ্দিন বর্তমানে ওমানে অবস্থান করছেন। বিদেশে বসে তিনি ভুয়া ফেসবুক পেজের মাধ্যমে নারীদের আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে শেয়ার করতেন এবং বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ক্যাপশন লিখতেন। পুলিশ এসব ফেসবুক পেজ জব্দ করেছে এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে যাতে তারা এ ধরণের অপরাধ সংঘঠিত করতে না পারে।

সহকারী পুলিশ কমিশনার ধ্রুব  আরও বলেন, ওমান প্রবাসী রিয়াজ উদ্দিনকে রমনা মডেল থানায় রুজু হওয়া ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টের মামলায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। রিয়াজ দেশে না ফিরলে পলাতক হিসেবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

যোগাযোগ করা হলে কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্য  অভিযোগ করেন, আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার কারণে তারা সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন।

পুলিশ সদরদপ্তরে কর্মরত সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, যে বা যারা নারী পুলিশ ও অন্যান্য নারীদের ছবি বিনা অনুমতিতে ফেসবুকে শেয়ার করেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।

যোগাযোগ করা হলে শনিবার (১৯ অক্টোবর, ২০১৯) ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এ এফ এম আল কিবরিয়া  বলেন, “পুলিশ ও অন্যান্য সরকারী দপ্তরে কর্মরত ও সাধারণ নারীদের নাম ও ছবি যারা অসৎ উদ্দেশ্যে ফেসবুকে শেয়ার করেন তারা আমাদের নজরদারীতে রয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ক্রাইম ডায়রি//সুত্রঃ ডি এমপি নিউজ///ক্রাইম//অপরাধজগত

Total Page Visits: 17099

চট্টগ্রাম নগরীর জহুর হকার্স মার্কেটে আগুন

হোসেন মিন্টুঃ

চট্টগ্রামের জহুর হকার্স মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড,ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের দক্ষতায় নগরীর এই প্রধান মার্কেটটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। বন্দর নগরী চট্টগ্রামের জহুর হকার্স মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সর্বসাকুল্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
শনিবার (১৯ অক্টোবর) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চারটি স্টেশনের ১৫টি ইউনিট টানা প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ভোর পৌঁনে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক পূর্ণচন্দ্র মূৎসুদ্দী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে রযেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের দক্ষতায় নগরীর এ প্রধান মার্কেটটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। তিনি বলেন, রাত সাড়ে ৩টার দিকে আমরা আগুনের খবর পাই। খবর পেয়েই নন্দনকানন, চন্দনপুরা, আগ্রাবাদ ও কালুরঘাট ফায়ার স্টেশনের ১৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করি। ফলে আগুন বড় হতে পারেনি। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণও কম নয়। এখন ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত করে জানানো হবে। জহুর হকার্স মার্কেট চট্টগ্রাম নগরীর সবচেয়ে বড় হকার্স মার্কেট। প্রায় কয়েক কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এ মার্কেটে কয়েক হাজার কাপড়ের দোকান ও টেইলার্স রয়েছে। নগরীর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত লোকের কেনাকাটার অন্যতম পছন্দের স্থান এই জহুর হকার্স মার্কেট। ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে কমপক্ষে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ক্রাইম ডায়রি//মহানগর//জেলা

Total Page Visits: 17099

রাজধানীতে ডি এস সি সি’র রাজস্ব ও জন্ম নিবন্ধন অফিসে ছদ্মবেশে দুদকের অভিযান

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

সারাদেশে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে       এবং  দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে আগত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৬-১০-২০১৯ খ্রি. এ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের খিলগাঁও রাজস্ব অঞ্চল ও জন্ম নিবন্ধন অফিসে ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে ব্যাপক অনিয়ম উদঘাটন করেছে দুদক। দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে  দুই ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ খায়রুল হক এবং উপসহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-২ এ আজ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে দুদক বিশেষ টিমের এক সদস্য লাইনে দাঁড়িয়ে দেখেন সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের আবেদন নিয়ে গেলে স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা সেবাপ্রার্থীদের কাছে অনৈতিক অর্থ দাবি করছেন। তারা সন্তানদের জন্য নকল টিকা কার্ড বানিয়ে এবং খিদমাহ হাসপাতাল থেকে ভুয়া তারিখে জন্ম গ্রহণের প্রমাণক নিয়ে জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করবেন বলে জানান। বিষয়টি দুদক টিমের গোচরীভূত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী/দালালরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে অপর একটি অভিযোগের বিষয়ে টিম ডিএসসিসি অঞ্চল কর অঞ্চল-২ এ উপস্থিত হলে ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের জন্য একজন “লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজার” এক ব্যক্তির নিকট ২ দফায় ৩ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন মর্মে অভিযোগ পায়। অপর অভিযুক্ত “লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজার” দুদক টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে অফিসস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তাঁর সাথে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ স্থাপন করা যায়নি। দুদক টিম প্রাপ্ত অনিয়মসমূহের বিষয়ে রাজস্ব অঞ্চল-২ এর কর কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন-কে অবহিত করলে তিনি দায়ভার গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। টিম অভিযানে প্রাপ্ত তথ্যাবলি ও প্রমাণাদি-সহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশনের নিকট অনুমোদন চেয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে। উপস্থিত জনসাধারণ দুদকের এ অভিযানকে স্বাগত জানায়। টিমের উপস্থিতিতে জনসাধারণ তাদের নানাবিধ অভিযোগ উপস্থাপন করেন।  স্বতঃস্ফূর্ত জনতা এ সময় দুদক টিমের এমন অভিযানে খুশি প্রকাশ করে এমন অভিযান অব্যহত রাখতে দুদকের প্রতি আবেদন জানায়।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//আইন শৃঙ্খলা///দুদক বিট

Total Page Visits: 17099

গোপালগঞ্জ বশেমুরবিপ্রবির সাবেক ভিসি খোন্দকার নাসিরউদ্দীনের এ কেমন বন্ধুত্ব!

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জঃ

বন্ধুত্বের অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন। প্রকল্পের কাজ শেষ
হওয়ায় বন্ধুকে ডেকে এনে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইভস্টক সাইন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এলভিএম) বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ
দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি জানিয়েছেন সাবেক উপাচার্যের বন্ধু শফিকুজ্জামান নিজেই। এমনকি তাকে কোনো সিভিও জমা দিতে হয়নি বলে
জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ তোলা হয়।পরবর্তীতে ব্যাপক অনুসন্ধান করে জানা যায় বাকৃবির সাবেক এই শিক্ষার্থী কেবলমাত্র বন্ধুত্বের কারণেই ২০১৮ সালে নিয়োগ পেয়েছেন। তার ইতোপূর্বে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার অভিজ্ঞতা ছিলোনা। প্রায়
১৮ বছর একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকল্পের অধীনে কাজ করেছেন তিনি। প্রকল্পটি শেষ হলে তাকে তার বন্ধু ডেকে এনে এলভিএম বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। তবে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের লেকচারার,
সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক বা অধ্যাপক এই চারটি ডেজিগনেশনের যে কোনো একটি ডেজিগনেশন থাকলেও শফিকুজ্জামানের
কোনো ডেজিগনেশন নেই। এমনকি তাকে চেয়ারম্যান হিসেবেও নিয়োগ দেয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অমান্য করে। বশেমুরবিপ্রবি আইন ২০০১ এর ২৫নং ধারা অনুযায়ী বিভাগের চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য নূন্যতম সহযোগী
অধ্যাপক হওয়ার প্রয়োজন হয়।
এ বিষয়ে শফিকুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও তার ডেজিগনেশন জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, সাবেক উপাচার্য আমার বন্ধু ছিলেন, তিনি যখন এলভিএম বিভাগ চালু করেন তখন এখানে কোনো শিক্ষক ছিলো না। আর একই সময়ে আমারো প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়। যেহেতু
আমি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চাকরি করেছি তাই আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। চেয়ারম্যান হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, উপাচার্য
আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তাই আমি দায়িত্ব পালন করছি।

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম//জেলা//অপরাধ জগত

Total Page Visits: 17099

অবশেষে পদত্যাগে বাধ্য হলেন আলোচিত ভিসি নাসির উদ্দিন

ক্রাইম ডায়রির গোপালগঞ্জ অফিসঃ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সেই বিতর্কিত ও আলোচিত  ভিসি অধ্যাপক খোন্দকার নাসিরউদ্দিন অবশেষে পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন।

সোমবার দুপুরের দিকে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে তিনি সেটি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছে হস্তান্তর করেন। পদত্যাগের ব্যাপারে মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সিনিয়র সচিবের সঙ্গে ভিসি মৌখিকভাবে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে।

এরআগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি তাকে অপসারণ করার সুপারিশ করেছে। ভিসি নাসিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে বলে সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। সেই কারণে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।

স্বেচ্ছাচারিতা ও নৈতিক স্খলনসহ বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্যের বিরুদ্ধে আরও যে অভিযোগগুলো উঠেছে সেগুলোরও প্রমাণ মিলেছে বলে বলা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে উপাচার্য খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছিল সেখানকার শিক্ষার্থীরা।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়/শিক্ষা

Total Page Visits: 17099

বঙ্গবন্ধু সরকারের নিষিদ্ধ করা মদ, জুয়া, হাউজি পুনরায় চালুঃঢাকা শহরকে লাসভেগাস বানানোর ষড়যন্ত্র

মিয়া মোহাম্মদ হেলাল, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী,ক্রাইম ডায়রির বিশেষ প্রতিনিধিঃ   

  

বঙ্গবন্ধু সরকারের নিষিদ্ধ করা মদ, জুয়া, হাউজি পুনরায় চালু করাই ছিল ঢাকা শহরকে লাসভেগাস শহর বানানোর মুখ্য উদ্দেশ্য

ডঃ আব্দুল মঈন খান বলেছেন ❝আজ থেকে ৪০০ বছর আগে যখন এ শহর প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তখন ঢাকার পরিচয় ছিল মসজিদের শহর হিসেবে। আজকে সেই শহর পরিণত হয়েছে ক্যাসিনোর শহরে।❞ সত্যি কি তাই ? ঢাকাকে ক্যাসিনোর শহর বানালো কে ? ঢাকা কি আজকে ক্যাসিনোর শহর হয়েছে ? কে এই মঈন খান ?

১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় খাদ্য সচিব ছিলেন আব্দুল মোমেন খান। তৎকালীন সময়ে পশ্চিমাদের সাথে ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়ে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টিতে অন্যতম ভুমিকা পালন করেন। সেই দুর্ভিক্ষ সহ নানাবিধ ষড়যন্ত্রের ফলে এক হৃদয় বিদারক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও তাহার পুরো পরিবারকে নিঃশেষ করে আওয়ামীলীগকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। যার পুরুস্কার হিসেবে জিয়াউর রহমান বুকে টেনে নিয়ে খাদ্য সচিব আব্দুল মোমেন খানকে নিজ দলে স্থান দেন। সেই দুর্নীতিবাজ ষড়যন্ত্র কারী আব্দুল মোমেন খানের পুত্র হলেন ডঃ আব্দুল মঈন খান।

ডঃ আব্দুল মঈন খান প্রথম দৃশ্যপটে আসেন গতকাল যে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানব বন্ধন করলেন সেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের এক চাঞ্চল্যকর ও রম্য অনশন কর্মসূচির ঘটনায়। ঢাকাই সিনেমার তৎকালীনহার্টথ্রব নায়িকা অমর চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের শ্যালিকা ফরিদা আখতার পপি ওরফে ববিতাকে বিয়ে করার দাবিতে মঈন খান একদিন অনশন করে বসলেন। অনেক পত্রিকা, বিশেষ করে সেই সময়ের আলোচিত সিনে সাপ্তাহিক চিত্রালী সহ আরও অনেক কাগজে তখন সেই অনশনের ছবি ছাপা হয়। কথিত আছে ববিতাকে না পাবার বেদনা থেকে লম্বা চুল রাখতে শুরু করেন মঈন খান। প্রেমিক মানুষ বলে সুন্দরী নেত্রী দেখে তিনি ও পরে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই মঈন খান আজ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। এবার আসি ক্যাসিনো শহরে

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু সরকার মদ, জুয়া নিষিদ্ধ করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দৃশ্যপটে আসে খন্দকার মোশতাকের অন্যতম সহযোগী সেনাপ্রধান ও উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান। ২৯ শে নভেম্বর ১৯৭৬ সালে এক সামরিক ফরমান বলে বঙ্গবন্ধু সরকারের মদ জুয়ার নিষিদ্ধ আদেশটি বাতিল করে মদের বার, ক্যাসিনো, হাউজিসহ সকল রকমের জুয়া ও পতিতাবৃত্তির লাইসেন্স প্রদান করে উন্মুক্ত করে দিলেন।

জিয়ার রাবার স্টাম্প সংসদে জাসদের শাহজাহান সিরাজ (১৯৭৯ সাল) এই সামরিক ফরমান বাতিলের জন্য প্রস্তাবনা উত্থাপন করলে কুখ্যাত রাজাকার আবদুস সবুর খান সংসদে বলেন ❝আউট অব বন্ডসহ জুয়া- ক্যসিনো নগর সভ্যতার নিয়ামক শক্তি।এগুলো সমাজের সেফটি বাল্ব। জিয়া ঈমানদার সামরিক নেতা। তার উদারতায় আজ আমরা সংসদে আসার সুযোগ পেয়েছি। তার কোনো ফরমান বাতিল করা যাবে না। আমরা সংবিধান সংশোধনীতে তার সকল জারিকৃত ফরমানকে শতভাগ বৈধ করে দিয়েছি।❞ সবুর খানকে সমর্থন করে বক্তব্য রাখেন রাজিয়া ফয়েজ, ইউসুফ, কাজী কাদের সহ মুসলিম লীগের সদস্য এবং পাকিস্তানপন্থী সাংসদেরা।

বিএনপি জামাত জোট সরকার (১৯৯১) ক্ষমতায় আসার পর সাদেক হোসেন খোকার হাত ধরে ব্রাদার্স ইউনিয়নে প্রথম ক্যাসিনো বসানো শুরু হয়। সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্য সে সময় মির্জা আব্বাসও মতিঝিলের আরামবাগ ক্লাব ও ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনো শুরু করেন। মির্জা আব্বাস আর সাদেক হোসেন খোকার পদাঙ্ক অনুসরণ করে মোসাদ্দেক আলী ফালু মোহামেডান ক্লাব ও রহমতগঞ্জ ক্লাবে ক্যাসিনো শুরু করেছিলেন। ৯১-৯৬ সালে বিএনপির আমলে একমাত্র আবাহনী ক্লাব ছাড়া অন্য সবগুলো ক্লাবেই জুয়া-ক্যাসিনোর বাজার বসানো হয়েছিল।

বিএনপি চলে যাওয়ার পর (১৯৯৬-২০০১) দীর্ঘ একুশ বছর পর ক্ষমতার বাহিরে থাকা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেও প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বসে থাকা অপশক্তি গুলোর সহায়তায় এই ক্লাবগুলোর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকে।

২০০৬ সালে ১/১১ সরকার আসলে বিএনপির এই ক্যাসিনো বাণিজ্য লন্ডভন্ড হয়ে যায়। সবগুলো ক্লাবেই তখন জুয়ার আসর বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দুই বছর কোনো ক্যাসিনো ছিল না। সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা নিষ্পত্তি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গি মোকাবেলা ব্যস্থতার আড়ালে আওয়ামীলীগের একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ নেতাদের হাত ধরে আস্তে আস্তে ধাপে ধাপে দল বদল করে ক্যাসিনো গুলো আবার চালু করা হয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যখন সাড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে, বোয়াল গুলো যখন ধরা পড়তেছে তখন বঙ্গবন্ধুর নিষিদ্ধ করা মদ, জুয়া, হাউজি যে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বিসমিল্লাহ বলে আইন দ্বারা উম্মুক্ত করেন, যে দলের সভানেত্রী বেগম জিয়া এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে কারাগারে, যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এতিমের টাকা আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিং দায়ে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তারেক রহমান, সেই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আসিকানে ববিতা পাগলা এটা নিয়ে রাজনীতি শুরু করছেন। ওরে পাগলারা, রাজনীতি সব জায়গায় চলে না। মনে রেখো উনি বঙ্গবন্ধুর মাইয়া। মনসুর রহমানের পুত্র জিয়াউর রহমান কিংবা ইস্কান্দার মজুমদারের মাইয়া বেগম খালেদা জিয়া ওরফে পুতুল রানী নয়।

লেখক—

(লেখক, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী-মুক্তচিন্তার মূর্তপ্রতীক,দেশপ্রেমিক, আওয়ামী অনলাইন এক্টিভিস্ট, বঙ্গবন্ধু ও শেখহাসিনার  সূর্য সৈনিক, আওয়ামীলীগ গবেষক  ।।।)

ক্রাইম ডায়রি///লেখাটি একান্তই লেখকের গবেষণালব্ধ অভিমত ও দায়ভার সম্পূর্ণ লেখকের///স্পেশাল

Total Page Visits: 17099