• রবিবার ( রাত ৩:০৬ )
    • ১৮ই জানুয়ারি, ২০২০ ইং

একজন হাসান মাহমুদঃ একজন মহানায়কের গল্পগাঁথা

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

হাঁটি হাঁটি পা পা করে বেড়ে ওঠা ছোট্ট শিশুটি একদিন বিশ্বজয় করবে বাবা মায়ের এমন বিশ্বাস নিয়ে বেড়ে ওঠা সেই শিশু সত্যিই বিশ্বজয় করেছে।।হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে লক্ষকোটি বাঙ্গালির।  জানেন সেই শিশুটি কে???  তিনি হলেন শতকোটি যুবকের হৃদয়ের স্পন্দন বিশিষ্ট পরিবেশ বিজ্ঞানী ডক্টর. হাসান মাহমুদ।     বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সুখবিলাস গ্রামে ১৯৬৩ সালের ৫ জুন ভোরবেলা বাবা মায়ের কোল আলোকিত করে  খ্যাতিমান আইনজীবী প্রয়াত নুরুচ্ছফা তালুকদারের ঘরে জন্মগ্রহণ করা শিশুটিই আজকের হাসান মাহমুদ।। বাবা-মা নাম রাখেন হাছান মাহমুদ। সুখবিলাস গ্রামের সে হাছান মাহমুদ এখন বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী।।।।

অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন তিনি। ১৯৭৮ সালে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী স্কুল চট্টগ্রাম মুসলিম হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে ভর্তি হন হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজে। তখন মহসীন কলেজর নাম ছিল ইন্টারমিডিয়েট কলেজ। ইন্টারমিডিয়েট কলেজ এবং ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ একীভূত হয়ে মহসীন কলেজ নামকরণ করা হয়। ছোট হাছান মাহমুদকে দায়িত্ব দেওয়া হয় কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের। একই সময়ে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। দক্ষতার হাতে খড়ি হয়। কিন্তু আদতে দেখা দক্ষতা নিয়েই জন্মগ্রহণ করেছেন তিনি।

কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাশ করে হাছান মাহমুদ ভর্তি হন বাংলাদেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে । মেধা আর বিচক্ষণতা দিয়ে একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি ছাত্রলীগের রাজনীতি চালিয়ে যান হাছান মাহমুদ।

আওয়ামীলীগের তখন ক্রান্তিকাল। সময়টা ১৯৮০ সাল। ছাত্রলীগ করা তখন দুরুহ ব্যাপার। সেই সময় হতে ছাত্রলীগের হাল ধরে   ছাত্র রাজনীতি করেছেন। এ থেকে কেউ দূরে রাখতে পারেনি হাছান মাহমুদকে। নির্বাচিত হন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে। ১৯৯০ সালে চাকসু নির্বাচনের জন্য গঠিত সর্বদলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মনোনীত করা হয় হাছান মাহমুদকে।ছাত্ররাজনীতির পাঠ চুকিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য একসময় ইউরোপ চলে যান তিনি। ভর্তি হন বিশ্বের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ ব্রাসেলস এর   ইউনিভার্সিটি অব ব্রীজ এ। পড়াশোনা শেষে বেলজিয়ামের লিমবার্গ ইউনিভার্সিটি সেন্টাম-এর শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন ড. হাছান মাহমুদ।

রক্তে যার রাজনীতি বাসা বেঁধেছে তিনি কী আর রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে পারেন? নিজেই সংগঠিত করেন বেলজিয়াম আওয়ামী লীগকে। নির্বাচিত হন বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। তখনো পাদপ্রদীপের নিচে ড. হাছান মাহমুদ।ব্রিজে ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশিয়া ভিত্তিক স্টুডেন্ট ফোরামের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক রাজনীতির সঙ্গে ড. হাছান মাহমুদের সুসম্পর্ক গড়ে উঠে।

যার হৃদয়ে দেশের প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসা তিনি তো আর বিদেশের মাটিতে আরাম আয়েশের জীবন কাটাতে পারেন না! আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে বিদেশে শিক্ষকতার চাকরি ফেলে দেশে ফিরে আসেন। ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সাথে যুক্ত হন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসলেও আওয়ামী লীগ সভাপতি আস্থা রাখেন হাছান মাহমুদের উপর। করা হয় শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী। ২০০৮ সাল পর্যন্ত সে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কিছুদিনের মাথায় আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ড. হাছান মাহমুদকে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব দেন।

এরইমধ্যে দেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন খ্যাতিমান পরিবেশবিদ হিসেবে সুপরিচিত হয়ে উঠেন ড. হাছান মাহমুদ। আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন কপ-১৫ (মেক্সিকো), কপ-১৬ (ডেনমার্ক), কপ-১৭ (ডারবান), কপ-১৮ (দোহা), কপ-১৯ (পোল্যান্ড), কপ-২০ (লিমা), কপ-২১ (প্যারিস), কপ-২২ (মরক্কো) এ বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল প্রতিনিধিত্ব করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হন। পরিবেশে অনন্য অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক গ্রিন স্টার পদকেও ভূষিত হন এ আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিজ্ঞানী। ২০০৮ সালের ৯ম নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে হারিয়ে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হন হাছান মাহমুদ। এরপর প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরে পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান ড. হাছান মাহমুদ। পরবর্তীতে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয় হাছান মাহমুদকে।

গত ৫ বছর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. হাছান মাহমুদ। এই সময়ে দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সফলতার সঙ্গে কাজ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হন তিনি।

ড. হাছান মাহমুদ পরপর দুই কমিটিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পান। বর্তমানে প্রচার সম্পাদকের পাশাপাশি দলের অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

রাজনীতির পাশাপাশি গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. হাছান মাহমুদ। এর আগে পরিবেশ বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ স্টাডিস বিষয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি এবং নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটিতে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী আংশিক) সংসদীয় আসনে বিশাল ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেন ড. হাছান মাহমুদ। তাঁর নিকট প্রার্থীকে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৩৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সৎ, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এ রাজনীতিবিদ।

দলের জন্য বহু ত্যাগ করেছেন জীবনে। ইচ্ছে করলে আরাম আয়েশে জীবন কাটাতে পারতেন। কিন্তু গনতন্ত্রের জন্য এবং আওয়ামীলীগের জন্য তার ত্যাগ ভুলবার নয়।

তাইতো, আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতাদের যখন মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি। হাছান মাহমুদ তখন পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তথ্য মন্ত্রী হিসেবে তার সফলতার গল্প আরও বিস্তর।।। আরেকদিন শোনাবো সেই গল্প।

ড. হাছান মাহমুদের বাবা চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং দুই মেয়াদে চট্টগ্রাম আদালতের পিপি ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে ড. হাছান মাহমুদ দুই কন্যা, এক ছেলের জনক।

রাজনৈতিক জীবনে একজন সফল ব্যক্তিত্বের অধিকারী তিনি। আওয়ামিলীগ এর যে কয়জন ক্লিন ইমেজের নেতা আছেন তার মধ্যে ড.হাসান মাহমুদ অন্যতম। বরাবরই তিনি যুব সমাজের হৃদয়ের স্পন্দন।  দলের সবচেয়ে ঠান্ডা মেজাজের ও সবচেয়ে বুদ্ধিমান বলে মনে করে দেশী বিদেশী রাজনীতিকরা। ব্যক্তিজীবনে দানবীর ও মহৎ হৃদয়ের অধিকারীী এই নেতার কাছে ভাল কোন বিষয়ে আবদার করে নিরাশ হয়েছে এমন রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যায় না।।।  তাই তো আওয়ামিলীগের ২১তম সম্মেলনে বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা তার উপর আস্থা রেখেছেন।।দায়িত্ব দিয়েছেন যুগ্ম সাধারন সম্পাদকের।।।

লেখক…

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেল

সম্পাদক ও প্রকাশক

ক্রাইম ডায়রি  ( সাপ্তাহিক, অনলাইন দৈনিক, অনলাইন টেলিভিশন) এবং

সভাপতি

জাতীয় সাংবাদিক পরিষদ।

+৮৮ ০১৯১৫ ৫০৬৩৩২

ক্রাইম ডায়রি///জাতীয়//স্পেশাল

Total Page Visits: 29895

গণমানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে নেতা কর্মীদের প্রতি আওয়ামীলীগের নব নির্বাচিত সভাপতি শেখ হাসিনার আহবান

ক্রাইম ডায়রি ডেস্কঃ

আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে শেখ হাসিনা সভাপতি এবং ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আজ শনিবার ইর্ঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে কাউন্সিল অধিবেশনে তাদেরকে নির্বাচিত করা হয়।

দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত নির্বাচন কমিশনের প্রধান কমিশনার এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরের নাম ঘোষণা করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আদর্শ ভিত্তিক রাজনীতি করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার জন্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে হবে, মানুষ যাতে স্বতস্ফূর্ত ভাবে ভোট দিয়ে আমাদেরকে নির্বাচিত করে এবং আমরা যেন দেশসেবা করে যেতে পারি। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়তে পারি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ যে স্বাধীনতা অর্জন করেছে সেই রক্ত যেন বৃথা না যায়, সে লক্ষ্য নিয়েই তাঁর সরকার কাজ করে বিগত ১০ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। লক্ষ্য আরো অনেক দূর যেতে হবে। সেজন্য সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।

আব্দুল মতিন খসরু সভাপতি পদে শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করেন এবং পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য তা সমর্থন করেন। নির্বাচন কমিশনার ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এ পদে আর কোনো নাম প্রস্তাব না পাওয়ায় শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন।
এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের নাম প্রস্তাব করলে তাতে সমর্থন জানান আব্দুর রহমান। নির্বাচন কমিশনার ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এ পদে আর কোনো নাম প্রস্তাব না পাওয়ায় ওবায়দুল কাদেরকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করেন।

পরে ২১তম জাতীয় সম্মেলনে নব নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদিকমন্ডলীর সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।

সভাপতিমন্ডলীর সদস্যরা হলেন-সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্লাহ, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, রমেশ চন্দ্র সেন, অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, আবদুল মতিন খসরু, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকরা হলেন, মাহাবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মণি, ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

সাংগঠনিক সম্পাদকরা হলেন, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এস এম কামাল হোসেন ও মির্জা আজম।

এছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আক্তার, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাজিবুল্লাহ হিরু, প্রচার সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুন অর রশীদ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন শামসুন নাহার চাঁপা, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এবং স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদ ডা. রোকেয়া সুলতানার নাম ঘোষণা করেন।

সম্মেলনে বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্য করে   বলেন, ‘এখানে কাউন্সিলরবৃন্দ আছেন- সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। আর জাতির পিতার যে আদর্শ সেই আদর্শ মেনেই চলতে হবে।’প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ ২১ শে  ডিসেম্বর, ২০১৯ইং শনিবার আওয়ামী লীগের ২১ তম জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্ব কাউন্সিল অধিবেশনের শুরুতে প্রদত্ত ভাষণে একথা বলেন।

সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে নির্মিত প্যান্ডেলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই অধিবেশন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২৯টি বছর এদেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে তাদের বিরুদ্ধে যত সংগ্রাম ও আন্দেলন এং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার যত সংগ্রাম আওয়ামী লীগই সে সংগ্রাম করেছে এবং আওয়ামী লীগই এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, বাঙালির জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করা, একে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়েই জাতির পিতা তাঁর সারাটি জীবন উৎসর্গ করে যান। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য তিনি আজীবন জেল, জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে গেছেন।

জাতির পিতার অবদান ও আওয়ামী লীগকে গড়ে তোলার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এমনভাবে সংগঠনটি গড়ে তোলেন, এর মাধ্যমে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেন।

 

সরকার প্রধান বলেন, বাংলার জনগণকে জাতির পিতার স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র সাড়ে ৩ বছরের শাসনকালে জনগণকে অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিতে পারেন নাই। সেই স্বপ্ন পূরণই তাঁর রাজনীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর বাবা-মা’য়ের আত্মা যেন শান্তি পায়।

প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার উর্ধ্বে উঠে দেশের জন্য কাজ করে যাওয়ায় নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেখা যায় যে, অনেকেই ক্ষমতায় আসার পরে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারে না। কিন্তু আমরা সেটা পেরেছি। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছি। সেক্ষেত্রে আমি বলবো বলবো সকলকে সেই চিন্তা থেকেই কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন এবং জাতির যেকোন ক্রান্তি লগ্নে এর নেতা-কর্মীরা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করেছে। প্রতিটি কাউন্সিলরকে এটা মাথায় রাখতে হবে- জাতির পিতার সেই আদর্শ নিয়েই আমরা দেশকে গড়ে তুলবো।’

তিনি বলেন, জাতির পিতা স্বাধীনতার পরে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশ গড়ে তুলে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায়ে রেখে গিয়েছিলেন আর এরপরেই জাতির জীবনে ১৫ আগষ্ট বিপর্যয় নিয়ে আসে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ এর জাতির পিতাকে হত্যার পর এদেশে যে হত্যা, ক্যু এবং ষড়যন্ত্রের রাজনীতি এদেশে শুরু হয়েছিল। যেখানে গণতন্ত্র ছিল না, কারফিউ গণতন্ত্র ছিল। যেখানে সেনাতন্ত্র ছিল, সামরিক স্বৈর শাসকরা রাষ্ট্র শাসন করেছে দীর্ঘ ২১ বছর, এরপর আবার ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত।

 

 

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জনগণ যে সরকারের সেবা পেতে পারে, জনগণের কল্যাণ করতে পারে, তাঁদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে, এটা কেবল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরেই জনগণ উপলদ্ধি করতে পেরেছে।

তিনি বলেন, উড়ে এসে জুড়ে বসারা সবসময় নিজেদের ভাগ্য নিয়ে এবং অসৎ উপায়ে ক্ষমতা দখলকে বৈধ করার কাজেই ব্যস্ত ছিল। তারা জনগণের কথা চিন্তা করে নাই।

সরকার প্রধান বলেন, এদেশে ঋণ খেলাপি কালচার, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে তাদেরকে ব্যবহার করাসহ পুরো সমাজটাকে তারা ধ্বংসের পথে টেনে নিয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে সরকারের কোন নীতি আদর্শ থাকে না, কোন লক্ষ্য থাকে না, সে সরকার চলে কি করে, প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি এ সময় জাতির পিতার লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা এবং জাতির পিতার বিরুদ্ধে পাকিস্তানী গোয়েন্দাদের গোপন প্রতিবেদন নিয়ে প্রকাশিত ১৪ খন্ড ভলিউমের বইগুলো দলের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে পড়ার পরামর্শ দেন।

কারো বিরুদ্ধে প্রকাশিত গোয়েন্দা রিপোর্ট নিয়ে অদ্যাবধি কেউ কোন পুস্তক রচনা না করলেও জাতির পিতা কিভাবে দেশের কল্যাণে কাজ করে গেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কি কি ষড়যন্ত্র হয়েছিল, কি কি অপপ্রচার হয়েছিল-সেগুলো তুলে ধরার জন্যই ’সিক্রেট ডকুমেন্ট অন ফাদার অব দি নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শীর্ষক এ সংক্রান্ত বইগুলো তিনি প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বইগুলো থেকে আপনাদের অনেক কিছু শিক্ষা নেওয়ার আছে।’শৈত্য প্রবাহের কারণে প্রচন্ড শীত অনুভূত হওয়ায় কাউন্সিলের কর্মসূচি সংক্ষেপ করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

/ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়//রাজনীতি   ///সূত্র : বাসস

Total Page Visits: 29895

কক্সবাজারে ঘুষের টাকাসহ ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত কানুনগো গ্রেফতার

কক্সবাজার সংবাদদাতাঃ

সারাদেশে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে      ভূমিহীন ও প্রতিবন্ধী এক যুবকের নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে মহেশখালী উপজেলা (কক্সবাজার) ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত কানুনগো আব্দুর রহমানকে হাতে-নাতে গ্রেফতার করেছে দুদক।

২৮অক্টোবর বিকাল ৪ টায় দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপপরিচালক মাহবুবুল আলম-এর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি টিম কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলা ভূমি অফিস থেকে নিজ দপ্তরে বসে ঘুষ গ্রহণকালে ঘুষের টাকাসহ ঐ ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত কানুনগো আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করে।

স্থানীয় জনৈক ভূমিহীন ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অভিযোগ করেন, মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর মৌজায় নিজের ভূমিহীন বাবা ও মায়ের নামে ভূমিহীন হিসেবে পাওয়া বন্দোবস্তি প্রাপ্ত জমির নামজারি প্রতিবেদনের জন্য আব্দুর রহমান তার কাছে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। প্রতিবন্ধী এই যুবকের কোনো অনুরোধেই মন গলেনি আব্দুর রহমানের। ঘুষের টাকা না দিলে, প্রতিবেদন দিবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
বিষয়টি ঐ প্রতিবন্ধী যুবক লিখিতভাবে দুদক-কে অবহিত করলে-কমিশন অভিযোগসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ফাঁদ মামলা পরিচালনা করে ঘুষ গ্রহণকালে হাতে-নাতে গ্রেফতারের অনুমতি দেয়।

আজ ঘুষ গ্রহণের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগ থেকেই দুদক টিমের সদস্যরা মহেশখালী উপজেলা ভূমি অফিসের চারিদিকে ওত পেতে থাকেন । মহেশখালী উপজেলা (কক্সবাজার) ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত কানুনগো আব্দুর রহমান যখন আজ বেলঅ ৪ টায় নিজ দপ্তরে বসে ঘুষের ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করছিলেন, ঠিক তখনই দুদক টিমের সদস্যরা তাকে ঘুষের টাকাসহ হাতে-নাতে গ্রেফতার করে। এসময় তার ব্যবহার্য ব্যাগ, ড্রয়ার তল্লাশি করে আরো নগদ প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধার করে দুদক টিম। আসামি এসব টাকারও কোনো বৈধ উৎস জানাতে পারেননি। এসব টাকাও আজকেরই ঘুষের টাকা বলেই সাক্ষ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে দুদক সজেকা চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মোঃ হুমায়ুন কবীর বাদী হয়ে দুদক সজেকা চট্টগ্রাম-২-এ একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপপরিচালক মুহম্মাদ মাহবুবুল আলম।

ক্রাইম ডায়রি/ক্রাইম   /// দুদক বিট

Total Page Visits: 29895

লন্ডনে চার কোম্পানির মালিক নাজমুলঃঃ খোঁজ নিচ্ছে দুদক

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

বঙ্গকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট অপরাধী অপরাধীই। সেক্ষেত্রে, তার বাবার রেখে যাওয়া স্বপ্নের আওয়ামীলীগ যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখে সেই সোনার বাংলা গঠনে প্রধান অন্তরায় অপরাধ প্রবণতা।।তাই,  কোন অপরাধীই সাধারন সুযোগ গ্রহন করে সংশোধিত না হলে কোনভাবেই তারা ছাড় পাবেনা। এরই ধারাবাহিকতায় ধরা হচ্ছে অপরাধীদের হোতাদের।। দল নয়,অপরাধ করলেই সে শাস্তির আওতায় আসবে। দুদকের প্রতি তার কড়া নির্দেশনা।

সেক্ষেত্রে, দলীয় পরিচয় কোন কাজে লাগবে না। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম দেশে ও বিদেশে কী পরিমাণ সম্পদের মালিক? তার সম্পদের উৎস কী? সে-সব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান সংস্থাটির সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত।

‘লন্ডনে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাজমুলের চার কোম্পানি!’ শিরোনামে রবিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমগুলো। এই প্রতিবেদনের সূত্র ধরেই কি তার সম্পদবিবরণী অনুসন্ধান করা হচ্ছে দুদক সচিবের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নাজমুল আলমকে নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন চোখে পড়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য যাচাই-বাছাই করে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। আদৌ!  তা সঠিক উপায়ে করা হয়েছে না তার ভিতর গলদ আছে তা জাস্টিফাই না করা পর্যন্ত মন্তব্য করে ব্যক্তি ইমেজ খুন করা ঘৃনিত অপরাধ।

প্রসঙ্গত, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাজমুল আলম যুক্তরাজ্যের লন্ডনে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ সরকারের কাছে নাজমুলের কোটি কোটি টাকার নিবন্ধিত বিনিয়োগ রয়েছে। তার নামে ব্রিটেনের কোম্পানি হাউজে আবাসন, গাড়ির অ্যাক্সিডেন্ট ক্লেইম ম্যানেজমেন্ট, পণ্যের পাইকারি বিক্রেতা, বিজ্ঞাপন, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান, সেবা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের ৬টি কোম্পানির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২টি কোম্পানির পরিচালক পদে তার নাম নেই। বাকি ৪টি কোম্পানির মধ্যে একটির একক পরিচালক এবং ৩টি যৌথ পরিচালক হিসেবে রয়েছেন তিনি।

সবগুলো বিষয়ই যুক্তির কষ্টিপাথরে যাচাই করা হবে বলে দুদক সুত্রে জানা গেছে ।

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম//জাতীয়

Total Page Visits: 29895

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তিঃ নারায়নগঞ্জে গ্রেফতার ০১

ফারুক হোসেন হৃদয়ঃঃ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটুক্তি করা একটি জঘন্যতম অপরাধ।  সম্প্রতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার দায়ের করা মামলায় আমির হোসেন পাটোয়ারি (৫৭) নামে একজন প্রবীণ  পরিবহন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার রাতে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। ওই রাতেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।

মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নোমান হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে,    আটক আমির হোসেন লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জের যাদিয়া গ্রামের মৃত মুহাম্মাদুল্লাহ পাটোয়ারির ছেলে।মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আমির হোসেন তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর-০১৭১১২০৪৯৫৯ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের `Amir Hossain’ আইডি থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী এলাকার ১০ তলা বিল্ডিং সংলগ্ন এএইচ কার্গো সার্ভিস নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে গত বছরের ১০ জুন এবং চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করে পোস্ট শেয়ার করেন। এছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর পুত্রবধূসহ দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশের বিভিন্ন এডিট করা ছবি ও মানহানিকর পোস্ট শেয়ার করে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী, সেতুমন্ত্রীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও পুলিশকে কটূক্তি করে ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করার অভিযোগে আইসিটি অ্যাক্টে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত আমির হোসেনকে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে রাতেই গ্রেফতার করা হয়।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//জাতীয়//জেলা

Total Page Visits: 29895

রাজধানীতে ডি এস সি সি’র রাজস্ব ও জন্ম নিবন্ধন অফিসে ছদ্মবেশে দুদকের অভিযান

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

সারাদেশে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে       এবং  দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে আগত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৬-১০-২০১৯ খ্রি. এ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের খিলগাঁও রাজস্ব অঞ্চল ও জন্ম নিবন্ধন অফিসে ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে ব্যাপক অনিয়ম উদঘাটন করেছে দুদক। দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে  দুই ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ খায়রুল হক এবং উপসহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-২ এ আজ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে দুদক বিশেষ টিমের এক সদস্য লাইনে দাঁড়িয়ে দেখেন সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের আবেদন নিয়ে গেলে স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা সেবাপ্রার্থীদের কাছে অনৈতিক অর্থ দাবি করছেন। তারা সন্তানদের জন্য নকল টিকা কার্ড বানিয়ে এবং খিদমাহ হাসপাতাল থেকে ভুয়া তারিখে জন্ম গ্রহণের প্রমাণক নিয়ে জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করবেন বলে জানান। বিষয়টি দুদক টিমের গোচরীভূত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী/দালালরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে অপর একটি অভিযোগের বিষয়ে টিম ডিএসসিসি অঞ্চল কর অঞ্চল-২ এ উপস্থিত হলে ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের জন্য একজন “লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজার” এক ব্যক্তির নিকট ২ দফায় ৩ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন মর্মে অভিযোগ পায়। অপর অভিযুক্ত “লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজার” দুদক টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে অফিসস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তাঁর সাথে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ স্থাপন করা যায়নি। দুদক টিম প্রাপ্ত অনিয়মসমূহের বিষয়ে রাজস্ব অঞ্চল-২ এর কর কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন-কে অবহিত করলে তিনি দায়ভার গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। টিম অভিযানে প্রাপ্ত তথ্যাবলি ও প্রমাণাদি-সহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশনের নিকট অনুমোদন চেয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে। উপস্থিত জনসাধারণ দুদকের এ অভিযানকে স্বাগত জানায়। টিমের উপস্থিতিতে জনসাধারণ তাদের নানাবিধ অভিযোগ উপস্থাপন করেন।  স্বতঃস্ফূর্ত জনতা এ সময় দুদক টিমের এমন অভিযানে খুশি প্রকাশ করে এমন অভিযান অব্যহত রাখতে দুদকের প্রতি আবেদন জানায়।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//আইন শৃঙ্খলা///দুদক বিট

Total Page Visits: 29895

পল্টিবাজ ও ভুঁইফোঁড় যুবলীগের জিকে শামীম দেহরক্ষীসহ গ্রেফতার

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

শেখহাসিনার চাওয়া যেন বঙ্গবন্ধুর চাওয়ার প্রতিফলন। তিনি চাইতেন দুর্নীতিমুক্ত আওয়ামীলীগ। শেখ হাসিনাও তাই চান।পুরো দেশবাসী তাই চায়।আমরাও চাই।।। দুর্নীতিবাজরা কারো বন্ধু নন।তারা ধান্দাবাজ ও পল্টিবাজ।।। ক্ষমতার পালা বদলে তারাও দল পাল্টান।

ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক সহসম্পাদক কেন্দ্রীয় যুবলীগের সমবায় বিষয়ক সম্পাদক এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে তার ছয় দেহরক্ষী সহ আটক করেছে র‌্যাব। যুবদল হতে যুবলীগ।

ভুঁইফোঁড় যে কোন সংগঠনের জন্য কত বড় বিষফোঁড়া তা এবার হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছে আওয়ামীলীগসহ৷ সকল রাজনৈতিক দল।।।সকাল বিকাল যারা নীতি পরিবর্তন করেন তারা ধান্দাবাজ না হয়ে পারেন না।

শামীমকে গ্রেফতারের সময় রাজধানীর নিকেতনে তার ব্যবসায়িক কার্যালয় জি কে বিল্ডার্স থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ নগদ ১০ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমানে এফডিআর ও ডলার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) জব্দ করা হয়েছে।

রাজধানীর নিকেতন থেকে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া ওরফে জি কে শামীমকে একাধিক দেহরক্ষীসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার দুপুরে নিকেতনে শামীমের ব্যাবসায়ীক কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ৬ দেহরক্ষীসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।

দেহরক্ষীদের মধ্যে প্রধান দেহরক্ষী শহীদুল মুরাদ কামাল ও জাহিদের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিকেতন ৪ নম্বর রোডের ১১৪ নম্বর ভবনে জিকেবি কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড শামীমের বাণিজ্যিক কার্যালয়। জি কে শামীম যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক। একই সাথে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি।

রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় জি কে শামীম প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবেই পরিচিত। গণপূর্ত ভবনের বেশির ভাগ ঠিকাদারি কাজই জি কে শামীম নিয়ন্ত্রণ করেন। শামীম যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সন্মানদী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে শামীম। আফসার উদ্দিন মাস্টার ছিলেন হরিহরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিন ছেলের মধ্যে জি কে শামীম মেজো। বড় ছেলে গোলাম হাবিব নাসিম ঢাকায় জাতীয় পার্টির রাজনীতি করেন। সন্মানদী ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, প্রাইমারি স্কুল ও হাই স্কুল পাস করার পর তাঁদের গ্রামে দেখা যায়নি। ঢাকার বাসাবো আর সবুজবাগ এলাকায় বড় হয়েছেন। গত জাতীয় নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রচারণাও চালিয়েছিলেন শামীম।

তিনি সবসময় ছয়জন অস্ত্রধারী দেহরক্ষী প্রটেকশন নিয়ে চলেন। সবার হাতেই থাকে শর্টগান। গায়ে বিশেষ সিকিউরিটির পোশাক। তাদের একেকজনের উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট। শামীম ছোটখাটো মানুষ হলেও তার ক্ষমতার দাপট আকাশসমান।

 

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কিংবা যুবলীগের পার্টি অফিস, বিয়ে বাড়ি কিংবা বন্ধুর বাড়ি, যেখানেই তিনি যান, সঙ্গে থাকে অস্ত্রধারী প্রটোকল বাহিনী। ভারী অস্ত্র নিয়ে ছয়জন নিরাপত্তারক্ষী আগে-পিছে পাহারা দিয়ে তাকে নিয়ে যান। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন জি কে শামীম।

বাসাবো এলাকায় পাঁচটি বাড়ি এবং একাধিক প্লট রয়েছে শমীমের। বাসাবোর কদমতলায় ১৭ নম্বরের পাঁচতলা বাড়িটি জি কে শামীমের। এই বাড়িটি ম্যানেজার হিসেবে দেখাশোনা করেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন সর্দার। শামীম কয়েক বছর বাসাবোর ওই বাড়িতে বসবাস করলেও এখন থাকছেন বনানীর ওল্ড ডিওএইচএসে নিজের ফ্ল্যাটে। এবং নিজের কার্যালয় বানিয়ে বসেন নিকেতন এলাকায় একটি ভবনে। বাসাবোতে আরো রয়েছে তিনটি ভবন এবং ডেমরা ও দক্ষিণগাঁও ছাড়াও সোনারগাঁ উপজেলা, বান্দরবান ও গাজীপুরে কয়েক শ বিঘা জমি কিনেছেন তিনি।

বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা অন্যায় অপরাধকে মোটে বরদাশত কটেন না।অন্যায়ের প্রতি আপোসহীন নেত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছে আপামর নাগরিকবৃন্দ।

 

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম

Total Page Visits: 29895

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নিবির পর্যবেক্ষণ করা হবে

শাহাদাত হোসেন রিটনঃ

একের পর এক ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি এখানে কার্যরত বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম গভীর পর্যবেক্ষণের আওতায় নিয়ে আসছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সংশ্নিষ্ট বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে পরিবর্তনসহ বেশ কিছু নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।  ক্যাম্প এলাকায় তাদের সংঘবদ্ধ সমাবেশ, চাঁদাবাজি ও মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে সংশ্নিষ্টতা এবং কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন তৎপরতার বিষয় নজরে আসার পর সরকার টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধসহ জরুরি কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে শরণার্থী ক্যাম্প এলাকায় বিকেল ৫টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ১৩ ঘণ্টা থ্রিজি ও ফোরজি সেবা বন্ধ করার জন্য মোবাইল ফোন অপারেটরদের নির্দেশনা দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে কূটনৈতিক কার্যক্রমও জোরালো করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের যারা দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে নিরুৎসাহিত করবে কিংবা বাধা দেবে, তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে রোহিঙ্গাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভাসানচরে পাঠানো হবে না।

কয়েকটি এনজিওকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তৎপরতা চালাতে দেখা যায়, যেগুলোর কার্যক্রম সেখানে বেশ আগেই এনজিও ব্যুরো নিষিদ্ধ করেছিল। এসব এনজিও রোহিঙ্গাদের মধ্যে উগ্র চিন্তার প্রচার, সরকারবিরোধী প্রচারণা, এমনকি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ার মতো অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে সরকারের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে। কয়েকটি এনজিও রোহিঙ্গাদের বাংলা ভাষা শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি অবৈধভাবে এ দেশের জাতীয় পরিচয়পত্র পাইয়ে দেওয়ার মতো অপরাধমূলক তৎপরতার সঙ্গে জড়িত- এমন তথ্যও উঠে আসে। দেখা যায়, এসব এনজিও শরণার্থীদের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত জরুরি সেবা দেওয়ার জন্য নির্দেশিত ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও তা আদৌ দিচ্ছে না।

সম্প্রতি নেতিবাচক কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৪১টি এনজিওর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এগুলোর বেআইনি কার্যক্রম সম্পর্কে প্রায় এক বছর আগেই স্থানীয় প্রশাসন এনজিও ব্যুরোর কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছিল, যার ভিত্তিতে সেগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। কিন্তু রহস্যজনকভাবে এ তালিকাভুক্ত অধিকাংশ এনজিওই ক্যাম্পে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। সর্বশেষ ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের তারিখ নির্ধারণের পর এসব এনজিও কর্মী তাদের নিরুৎসাহিত করতে প্রচারণা চালায়।

২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসেই বিতর্কিত এবং এনজিও ব্যুরোর শর্ত লঙ্ঘন করা সাতটি এনজিওর কার্যক্রম বন্ধের সুপারিশ করে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। এসব এনজিওর মধ্যে ছিল- এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সার্ভিস (ইডিএএস), সেভ দ্য চিলড্রেন, মোয়াস এমডিএস, কোডাক, এসআরপিবি এবং শেড। পরে এনজিও ব্যুরো থেকে মোট ৪১টি এনজিওর একটি তালিকা তৈরি করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে ব্যুরোর যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ওঠে। তবে রহস্যজনকভাবে ৪১ এনজিওর সুনির্দিষ্ট নামসহ তালিকাটি কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। অনানুষ্ঠানিকভাবে বেশ কিছু এনজিওর নাম কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়। এমনকি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গত ৩০ আগস্ট ৪১টি এনজিওর কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত জানালেও এর তালিকা সাংবাদিকদের দিতে পারেনি কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসন।

এদিকে কক্সবাজারের বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, ক্যাম্পে পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক এবং স্থানীয় কিছু এনজিওর রাজনৈতিক তৎপরতা ও উগ্র চিন্তার প্রচারের মতো ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এদের কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনিক তৎপরতা চোখে পড়েনি।

সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য, সমাবেশ আয়োজন ইত্যাদি মূল্যায়ন করে তাদের অপরাধমূলক ভূমিকার কথা একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে কিছু এনজিওর অশুভ তৎপরতা চালানোর বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে। তাই এসব এনজিওর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এসব এনজিও কীভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, কারা তাদের সহযোগিতা করছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিতর্কিত এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মঙ্গল চিন্তা করেই তাদের ভাসানচরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেক সংস্থার কর্মকর্তাই কক্সবাজারে গিয়ে ফাইভ স্টার হোটেলে থাকেন। ভাসানচরে ফাইভস্টার হোটেল না থাকায় আন্তর্জাতিক একাধিক সংস্থা রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠাতে আপত্তি করছে। তিনি বলেন, নীতিগত অবস্থান থেকে রোহিঙ্গারে জোর করে ভাসানচরে পাঠানো হবে না।

ক্রাইম ডায়রি//জেলা///জাতীয়

Total Page Visits: 29895

আসামে নাগরিক তালিকাঃ বাদ পড়েছে প্রায় বিশ লাখ আদি বাসিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

সেভেন  সিস্টার্স বলে পরিচিত এলাকা    ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের আদি  বাসিন্দাদের নাম  তালিকা (এনআরসি) থেকে বাদ পড়েছে প্রায় বিশ লাখেরও বেশি মানুষের নাম। ৩১আগষ্ট  শনিবার সকালে প্রকাশিত তালিকায় চূড়ান্তভাবে  ৩ কোটি ১১ লাখ মানুষের নাম প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিন হলো আলোচিত ইস্যু   এনআরসি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল ।  অনলাইনে তালিকা প্রকাশের পর অপ্রকাশিত প্রায় বিশ লাখ  মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়ে গেল বলে জানিয়েছে  এনডিটিভি।

এসব মানুষকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করে বাদ দেয়া হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মিরের কয়েক দশকের পুরনো স্বায়ত্তশাসন বাতিল করার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই এই এনআরসি তালিকা প্রকাশ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম বৃহত্তম পদক্ষেপ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।এদিকে এনআরসি তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এই রাজ্য যাতে কোনো অশান্তি না ছড়ায় সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি সরকারি স্থানে চার জনের বেশি লোক জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, বিশেষত সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোতে। কেননা এর আগে আসামের গুয়াহাটিসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় এই ইস্যুতে অশান্তি ছড়ায়। আসাম জুড়ে প্রায় ৬০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ২০ হাজার অতিরিক্ত আধা-সামরিক বাহিনীও আসামে পাঠিয়েছে কেন্দ্র।

কেন্দ্র অবশ্য বলেছে, যাদের নাম চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় স্থান পাবে না সমস্ত আইনি বিকল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এখনই বিদেশি ঘোষণা করা যাবে না। এনআরসির বাইরে থাকা প্রতিটি ব্যক্তি বিদেশি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন এবং আবেদন করার সময়সীমা ৬০ থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন করা হয়েছে।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে তাদের পক্ষে যুক্তি শোনার জন্য পর্যায়ক্রমে কমপক্ষে এক হাজার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে; এর মধ্যে ১০০টি ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যেই খুলে দেয়া হয়েছে এবং আরও ২০০টি আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই স্থাপন করা হবে। ট্রাইব্যুনালে কেউ মামলা হারলেও তারা উচ্চ আদালত এবং তারপরে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করতে পারবেন।

ক্ষমতাসীন মোদী সরকার জানিয়েছে  সকল আইনি বিকল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই বিদেশি হিসেবে ঘোষণা করা হবেনা।

ক্রাইম ডায়রি// আন্তর্জাতিক

Total Page Visits: 29895

প্রসঙ্গ ইভটিজিংঃ আত্মহত্যা,বাস্তবতা ও করণীয়

স্পেশাল ডেস্কঃঃ

ইভটিজিং এক মহাপ্রলয়ংকারী আতংক। উঠতি বয়সী মেয়েরা এমন এক অবস্থার মুখোমুখি হয়  যেখানে সে কিছুই বলতে পারেনা।নিরবে সে বাধ্য হয় অথবা আত্নহত্যাও করে বসে। বাংলাদেশে গত আড়াই বছরে ‘ইভ টিজিং’ বা প্রেমের নামে ছেলেদের হাতে উত্যক্ত বা হয়রানির শিকার হয়ে প্রায় ৪০ জন মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে বলছে একটি গবেষণা রিপোর্ট।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের করা ওই গবেষণায় বলা হয়, উত্যক্তকারীদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার কোন উপায় না দেখেই সাধারণত ওই মেয়েরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।প্রকাশিত রিপোর্টটিতে বলা হয়, ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭৫৪টি ইভটিজিং-এর ঘটনার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু এসব ঘটনার বিচারের হার খুবই নগণ্য। নারী নির্যাতনের খবর বাংলাদেশে নতুন নয়, কিন্তু ইভ টিজিং-এর শিকার হয়ে ৪০ জনের আত্মহত্যার ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জনস্বার্থে প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন হুবহু তুলে ধরা হলোঃ—–

“বাংলাদেশে এমন নারী খুঁজে পাওয়া দুস্কর যে কখনো কোনো দিন ইভ টিজিংয়ের শিকার হয়নি! সে বোরকার নিচেই থাকুক আর তথাকথিত আধুনিকাই হোক না কেন। ফেস-টু-ফেস কিংবা ভার্চুয়াল, নারী পরিচিত-অপরিচিতদের কাছ থেকে কখনো নোংরা কথা কিংবা কখনো ‘হাই সুন্দরী’, এই জাতীয় প্রশংসাসূচক কথার মাধ্যমেও টিজিংয়ের শিকার হয়ে থাকে। যে বলে, ‘কই আমার মা-বোনেরা তো কোনো দিন টিজিংয়ের শিকার হয়নি!’ কিছু না জেনেই আবার যে বলে, ‘টিজিং করছে, নিশ্চয় মেয়েটার দোষ ছিল। এক হাতে তো বাপু তালি বাজে না। আরও তো মেয়ে আছে, তাদের তো কেউ টিজ করে না।’ আমি তাদের বলব, ‘আপনি সত্য থেকে বহু দূরে! টিজিংয়ের জন্য সুন্দরী-অসুন্দরী, হিজাব-নেকাব কোনটাই কাজে আসে না। ওই যে ‘নিনজা’ যায় কিংবা ‘বোরকাওয়ালি’ আইছে—এটাও তো টিজিং বা বুলিংয়ের পর্যায়েই পড়ে। আর তালি আজকাল এক হাতেও বাজে বটে, দরকার শুধু একটা ড্রাম বা ঢোল জাতীয় কিছু।

তবে এ কথাও সত্যি যে, আজকাল ছেলেরাও নাকি টিজিং-বুলিং এসবের শিকার হয়ে থাকেন। তো সে ছেলে হোক বা মেয়ে হোক, টিজিং অসহনীয় মাত্রায় পৌঁছালে শুনেছি কেউ আত্মহত্যা করেন, কেউ নেশা করেন, কেউ লেখাপড়া বাদ দিয়ে ঘরে বসে থেকে মানবেতর জীবন যাপন করে থাকেন।
আমি আজকে লিখছি তাদের জন্য, যারা সর্বদাই ‘টিজিং’ নামক নোংরামির সাথে পথ চলতে বাধ্য হচ্ছে। হতাশায় ভুগে জীবনের লক্ষ্য থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে। জীবনের গল্প থেকে নেওয়া এ লেখা শুধুই তাদের জন্য।


তখন আমি মাত্র অনার্স শেষ করে মাস্টার্সের জন্য ফাইনান্স ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয়েছি। কিছুদিন পর জানতে পারলাম ডিপার্টমেন্টে শিক্ষক নিয়োগ হবে। সত্যি বলতে কি, শৈশব-কৈশোরে বড় হয়ে অনেক কিছু হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন আমি দেখিনি। সারা জীবন নিজে পড়ো আর অন্যদের পড়াও, ভাবতেই কেন যেন দম বন্ধ হয়ে আসত। কিন্তু নিয়তি বলে অন্য কথা!
প্রশাসনিক দপ্তরে যথাসময়ে দরখাস্ত জমা দিলাম। প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার কারণে, সব থেকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সবার আগে আমার নাম শুনতে পেলাম। তবে অনেকের কাছে এ কথাও শুনলাম, ওপর মহল থেকে ফোন না এলে নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া যায় না। বাবা-মা-আত্মীয়স্বজন ১৪ গোষ্ঠীর মধ্যে ‘তথাকথিত ওপর মহলে’ কেউই অবস্থান করেন না বিধায় ওপর মহলের চিন্তা বাদ দিয়ে বরাবরের মতোই ওপরওয়ালার ওপর সব ছেড়ে দিলাম। ভাগ্যে লেখা থাকলে হবে, না থাকলে নাই—এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করে নিজের মেধা-যোগ্যতার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখলাম।
শিক্ষক নিয়োগের ভাইভার আর কিছু দিন বাকি আছে। হঠাৎ করেই আবিষ্কার করলাম ক্যাম্পাসে যেখানেই যাচ্ছি, ছেলেরা আজেবাজে টিজ করছে। মাথায় ঢুকছে না কেন আমাকে নিয়ে সবাই আজেবাজে কথা বলছে। কাহিনি কী? ঘনিষ্ঠ বান্ধবীদের কাছে জানতে পারলাম আমি যাতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ না পাই, তাই কোনো একটি মহল আমাকে নিয়ে হরেক রকম গল্প বানাচ্ছে এবং তা সচেতনভাবেই ছড়িয়ে দিচ্ছে ক্যাম্পাসের আনাচকানাচে। সেই মহলের ইচ্ছে শক্ত রাজনৈতিক খুঁটির ওপর দাঁড়ানো ১২তমকে নিয়োগ দেওয়ার। কিন্তু তার আগে তো ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্টকে হটাতে হবে! আর যেহেতু আমি মেয়ে, কাজেই আমার নামে নোংরা কিছু ছড়িয়ে দিলেই হলো। জনগণ গুজব (রিউমার) শুনতে পছন্দ এবং নিজের মতো করে গল্প বানাতে পছন্দ করে। কাজেই কোনো কিছু যাচাই না করে অনেকেই মুখে যা আসে তা-ই বলা শুরু করল। আমি ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিতে থাকলাম।
সত্যি বলতে কী, সে সময় মানসিকভাবে আমি খুব ভেঙে পড়েছিলাম। হলের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে মরার চিন্তাও যে মাথায় আসে নাই, বললে মিথ্যা বলা হবে। কিন্তু ঠান্ডা মাথায় একদিন ভেবে দেখেছি, আমার আত্মহত্যা কি এর সঠিক সমাধান? আমি মরলে এদের কী? কিন্তু আমার বাবা-মা-ভাইবোন যারা আমাকে বড় করেছেন, ওদের কী হবে? ভেবে দেখলাম, জীবনে এই চাকরি করতে হবে এমন তো কোনো কথা নাই। আমার যে যোগ্যতা, তা দিয়ে আমি যেকোনো ভালো প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার গড়তে পারব। আর বড় কথা হলো, আমি যাতে এসব নোংরা টিজিংয়ের জন্য প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাই, এটাই তো কেউ কেউ চাইছে। আমি কেন হেরে গিয়ে ওদের জিতিয়ে দেব? আমার তো কোনো দোষ নেই।
আমি নিজেকে বদলাতে শুরু করলাম। আগের মতো ক্লাস, লাইব্রেরি, অডিটরিয়াম সবখানে যাওয়া শুরু করলাম। নোংরা কথাগুলো এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দিতাম। মানুষের ফিসফিসানি, কানাকানি দেখেও না দেখার ভান করতে লাগলাম। ভিতরে ভিতরে পুড়ে গেলেও বাইরে থেকে এত শক্ত থাকতাম যে বদমাশগুলো টিজ করে তেমন মজা পেত না। আমার নিস্পৃহতা ওদের উত্সাহে পানি ঢেলে দিয়েছিল বোধ হয়। আমি মুখোমুখি ওদের কখনোই প্রতিবাদ করিনি। আমার মতে প্রতিবাদ করা মানে ওদের আরও উসকে দেওয়া। আমার নিস্পৃহতা ছিলই আমার প্রতিবাদ।
এত কিছুর পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিটা আমি পেয়েছিলাম, আমার ভালো রেজাল্ট, আমার দৃঢ় মনোবল আর সততাই আমাকে জিতিয়ে দিয়েছিল। একদা ক্যাম্পাসের যে নোংরা বাতাসে আমার শ্বাস নিতে বড্ড কষ্ট হতো, শিগগিরই সেই নোংরা বাতাস নির্মল বিশুদ্ধ হতে লাগল। জঘন্য গুজবগুলো হঠাৎই বাতাসে মিলিয়ে গেল।
তাই মেয়েরা তোমাদের বলছি, নোংরা কথা নোংরা লোকেরা বলবেই। আত্মহত্যা কিংবা নিজেকে সবকিছু থেকে গুটিয়ে নেওয়ার মতো ভুল সিদ্ধান্ত এর কোনো সমাধান নয়। কে কী বলে বলুক, তুমি শক্ত হয়ে পথ চলো। মাথা উচু করে হেঁটে যাও। ওদের মিথ্যা কথায় কষ্ট পাচ্ছ? বুঝতে দিও না।

তোমাকে টুকরো টুকরো করে ভাঙাই তো ওদের লক্ষ্য। তুমি যখন নির্বিকার থাকবে, ওরা এমনিতেই দেখবে একদিন উত্সাহ হারিয়ে চুপটি মেরে যাবে। আর তুমি তোমার পড়াশুনায় মন দাও, ভালো ক্যারিয়ারের স্বপ্ন দেখো। অমূল্য এই জীবনটাকে তুমি গড়ে তোলো তোমার মেধা দিয়ে, তোমার কর্মগুণে।
পিছু ফিরে দেখতে পাবে, নোংরা ছেলেগুলো এখনো গলির মুখে, স্কুল-কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ঠিক আগের মতো। তবে আরও নোংরা হয়ে। এবার তারা টিজ করছে তোমার ভাই বা বোনের মেয়েটিকে। কিংবা আরও পরে ফুটফুটে তোমার মেয়েটিকে। ওরা কখনোই বদলাবে না। কিন্তু তুমি তো তোমার জীবনটাকে বদলে দিতে পারো! দরকার শুধু তোমার ইচ্ছাশক্তি আর সাহসিকতার। রাস্তার নোংরা ছেলেগুলো থাক না রাস্তায় পড়ে। তোমার এই অমূল্য জীবন শুধুই তোমার। তুমি ভয় না পেয়ে এগিয়ে যাও, অনেক দূরে—সাফল্যের শিখরে।”

বাংলাদেশের বহু জায়গায় কি বগুড়ার প্রত্যন্ত ধনকুন্ডি গ্রাম;  কি টেকনাফ কিংবা তেতুলিয়ার ঘোরপল্লী সবজায়গায় ইভটিজার। আর এরা হলো একই পাড়ায় বেড়ে ওঠা উঠতি বয়সী টোকাই শ্রেণীর ছেলেরা। ক্রাইম ডায়রির বিশেষ গবেষণায় দেখা গেছে এগুলো বন্ধে প্রয়োজন স্কুল ভিত্তিক নিয়মিত আলোচনা,প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করা,মসজিদে নিয়মিত আলোচনা ও সামাজিক উদ্যোগ। তাহলে বন্ধ হতে পারে ইভটিজিং।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম///স্পেশাল/জাতীয়

Total Page Visits: 29895