• শনিবার ( সকাল ৬:২০ )
    • ১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং

প্রিন্স ড. মূসা বিন শমশেরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে  মামলা দায়ের করেছ দুদক

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ


প্রিন্স ড. মূসা বিন শমশেরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে  মামলা দায়ের করেছ দুদক।

মামলা সুত্রে জানা গেছে,  ভুয়া রেকর্ডপত্র তৈরি করে বিআরটিএ ভোলা হতে কার্নেট ডি প্যাসেজ সুবিধায় আনীত বিক্রি নিষিদ্ধ জধহমব জড়াবৎ লববঢ় টি রেজিস্ট্রেশন নং ভোলা-ঘ-১১-০০৩৫ প্রদান তথা রেজিস্ট্রেশনপূর্বক ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ফৌজদারী অপরাধ করায় মুসা বিন শমসের সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।। দুদক সুত্রে আরও জানা গেছে,  ১২-৩-২০১০খ্রিঃ তারিখ থেকে ২১-৩-২০১৭খ্রিঃ তারিখ পর্যন্ত বিআরটিএ, ভোলা সার্কেল, ভোলাতে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন যথাক্রমেঃঃঃঃ—  (১) মোঃ আইয়ুব আনছারী ,সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি)(অঃদাঃ), জেলা সার্কেল ভোলা, বর্তমানে-সহকারী পরিচালক(ইঞ্জিঃ),বিআরটিএ,ডিসি ভবন,ঝালকাঠি; (২) প্রিন্স ড. মূসা বিন শমশের, চেয়ারম্যান-উঅঞঈঙ (DATCO (Defense Advancement and Trading Company), বনানী, ঢাকা-১২১৩। (৩) মোঃ ফারুক-উজ-জামান চৌধুরী , পেশা-ব্যবসা, দিলালপুর,কোড নং ৬৬০০, থানা- পাবনা সদর, পাবনা।(৪) Mr Fareed Nabir, Passport No-305685641 date: 15.08.2006, Address: 34 Mansford Street London, 27AJ ও (৫) মো: ওয়াহিদুর রহমান(৫০), মালিক-অটো ডিফাইন,ফিয়াজ এন্টার প্রাইজ ও ফিয়াজ ট্রেডিং, ঢাকা।

এই ঘটনায় দুদকের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা এর পরিচালক মীর মোঃ জয়নাল আবেদীন শিবলী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।।।

অনুসন্ধানকালে দেখা যায় যে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর স্মারক নং ১৫৬, তারিখ: ২০-০৬-২০১৭ মূলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর কর্তৃক আটককৃত কার্নেট ডি প্যাসেজ সুবিধায় আনীত বিক্রি নিষিদ্ধ Range Rover jeep, যার রেজিস্ট্রেশন নং ভোলা-ঘ-১১-০০৩৫ সংক্রান্তে দুদক আইন অনুযায়ী আইনগত প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশন, ঢাকাকে অনুরোধ করা হয়। প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় আরো দেখা যায় কার্নেট ডি প্যাসেজ সুবিধায় ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী ফরিদ নাবির গাড়িটি বাংলাদেশে আনয়নকারী এবং বিআরটিএ-এর গাড়ি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী গাড়ির মালিক মোঃ ফারুক-উজ-জামান চৌধুরী। গাড়ীটি ১২-৩-২০১০খ্রিঃ তারিখে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর ২১-৩-২০১৭খ্রিঃ তারিখে আটক করে। শুল্ক আইন,১৯৬৯ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন,২০১২ অনুযায়ী ২,১৫,৬৫,৮৩৩.৪৭ টাকা প্রযোজ্য শুল্ক কর ফাঁকির অভিযোগে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর,ঢাকার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাদী হয়ে গুলশান(ডিএমপি)থানা,ঢাকায় একটি মামলা রুজু করেছেন, যার নং ২৮, তারিখ: ৩১-৭-২০১৭খ্রি:। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর কর্তৃক ২,১৫,৬৫,৮৩৩.৪৭ টাকা প্রযোজ্য শুল্ক কর ফাঁকির অভিযোগে মামলা রুজু করা হলেও ভুয়া দলিলাদির ভিত্তিতে বিআরটিএ-এর কর্মকর্তা কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করত: দুর্নীতির দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন,২০০৪ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগটি দুদকে প্রেরণ করা হয়েছে।

দুদক কর্তৃক অভিযোগটি প্রাপ্তির পর অনুসন্ধানকালে দেখা যায় যে, ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী Mr Fareed Nabir কর্তৃক কার্নেট ডি প্যাসেজ সুবিধায় বিনা শুল্কে আনয়নকৃত বিক্রি নিষিদ্ধ গাড়ীটি প্রিন্স মুসা বিন শমসের এর দখল থেকে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর আটক করেছে। ভুয়া রেকর্ডপত্রের মাধ্যমে ড. মুসা বিন শমসের তার শ্যালক জনাব ফারুক উজ জামান চৌধুরীর নামে গাড়ীটি রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করিয়েছেন। ফারুক উজ জামান চৌধুরী বলেছেন তিনি শুধু রেজিস্ট্রেশনের সময় ভোলায় গিয়েছিলেন মাত্র। ড. মুসা বিন শমসের শ্যালকের সাথে ভাড়ার চুক্তিপত্র প্রদর্শন করলেও ফারুক উজ জামান চৌধুরী ভাড়ার চুক্তির বিষয়ে কিছু জানেন না মর্মে জানিয়েছেন। মি: ফরিদ নাবির কার্নেট ডি প্যাসেজ সুবিধায় বিনা শুল্কে আনয়নকৃত গাড়িটি ড. মুসা বিন শমসের মেসার্স অটো ডিফাইন হতে ফারুক উজ জামান চৌধুরীর নামে ক্রয় করত: ভোলা বিআরটিএ হতে গাড়িটি রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করান।

অনুসন্ধানকালে আরো দেখা যায় যে “মেসার্স ম্যানহাটন মটরস” ১০৬/৩ কাকরাইল রোড, ঢাকার ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লি:, ভিআইপি রোড শাখা,ঢাকার মাধ্যমে M.J. Auto Japan Ltd. জাপান থেকে Toyota Axio Model Year-2010, Color-Golden I Toyota Axio Model Year-2009 USD-7700 + 7300 + 15,000 H.S.Code-8703.22.11. LCAF No. 60802 Dt.12.11.2014 L/C no. 089214010529 Dt.12.11.2014 বিল অব এন্ট্রি নং Custom C-1045911 Dt.13.12.2014, USD যথাক্রমে ৭৩০০ ও ৭৭০০ ডকুমেন্ট ইনভয়েস নং MJ-MT-4 Dt. 4.12.2014 বিএল নং YCGP-077 Dt. 21.11.2014I B/L YCGP-075 Dt.21.11.2014 Proforma in no.MJ-MT-4 Dt.8.11.2014. এর আমদানীকৃত গাড়ী দুটির রেকর্ডপত্র টেম্পারিং করে Bhola Gha 11-0035 RANGE ROVER গাড়ীটি BRTA এর নিকট রেজিষ্ট্রেশন করা হয়েছে। অর্থাৎ রেজিষ্ট্রেশনকালে যেসব এলসি সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র দাখিল করা হয়েছে তার সবগুলি Tempering করে করা হয়েছে। ম্যান হাটন মটরস এর মালিক জনাব তারিক হোসেন জানান তারা LCF no.60802 এর ডুপ্লিকেট কপি পণ্য খালাসের জন্য চিটাগাং কাষ্টমস অফিসে জমা দেন। কাষ্টমস হাউজ থেকে অথবা সিএন্ডএফ এজেন্ট থেকে কপি সংগ্রহ করে বিআরটিএ-এর নিকট রেজিষ্ট্রেশনকালে যেসব L/C সংক্রান্ত কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছে তার সবগুলোই টেম্পারিং করে করা হয়েছে, কারণ এগুলোর মূল কাগজপত্রের সাথে কোন মিল নাই। অনুসন্ধানকালে আরো দেখা যায় যে, Mr Fareed Nabir কর্তৃক কার্নেট ডি প্যাসেজ সুবিধায় আনীত বিক্রি নিষিদ্ধ Range Rover jeep টি মেসার্স অটো ডিফাইন-এর মালিক মো: ওয়াহিদুর রহমান-এর নিকট হতে ক্রয়পূর্বক উক্ত গাড়ির ব্যবহারকারী প্রিন্স মুসা বিন শমসের তার শ্যালক মোঃ ফারুক-উজ-জামান চৌধুরীর মাধ্যমে ভুয়া রেকর্ডপত্র সৃজনকরত: তা বিআরটিএ ভোলায় দাখিল করে ভোলা, বিআরটিএ-এর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিন) মো: আইয়ুব আনছারীর সহযোগিতায় রেজিস্ট্রেশন নং ভোলা-ঘ-১১-০০৩৫ গ্রহণ করে আসামীগণ ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ফৌজদারী অপরাধ করেছেন।

এমতাবস্থায়, আসামী (১) মো: আইয়ুব আনছারী (২) প্রিন্স ড. মুসা বিন শমসের (৩) মোঃ ফারুক-উজ-জামান চৌধুরী (৪) Mr Fareed Nabir ও (৫) মো: ওয়াহিদুর রহমানগণ জ্ঞাতসারে পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয়ে ভুয়া রেকর্ডপত্র সৃজনকরত: কার্নেট ডি প্যাসেজ সুবিধায় আনীত বিক্রি নিষিদ্ধ Range Rover jeep টি রেজিস্ট্রেশন করায় (ভোলা-ঘ-১১-০০৩৫) তাদের বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা ও দন্ডবিধির ৪২০/১০৯ ধারায় একটি মামলা রুজুর করা হয়েছে। মামলা নং-০১,দদুক সজেকা বরিশাল(ভোলা), তাং ১৭.১০.২০১৯ ইং।

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম//অপরাধ///আদালত

 

Total Page Visits: 16655

রাজধানীতে ডি এস সি সি’র রাজস্ব ও জন্ম নিবন্ধন অফিসে ছদ্মবেশে দুদকের অভিযান

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

সারাদেশে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে       এবং  দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে আগত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৬-১০-২০১৯ খ্রি. এ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের খিলগাঁও রাজস্ব অঞ্চল ও জন্ম নিবন্ধন অফিসে ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে ব্যাপক অনিয়ম উদঘাটন করেছে দুদক। দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে  দুই ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ খায়রুল হক এবং উপসহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-২ এ আজ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে দুদক বিশেষ টিমের এক সদস্য লাইনে দাঁড়িয়ে দেখেন সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের আবেদন নিয়ে গেলে স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা সেবাপ্রার্থীদের কাছে অনৈতিক অর্থ দাবি করছেন। তারা সন্তানদের জন্য নকল টিকা কার্ড বানিয়ে এবং খিদমাহ হাসপাতাল থেকে ভুয়া তারিখে জন্ম গ্রহণের প্রমাণক নিয়ে জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করবেন বলে জানান। বিষয়টি দুদক টিমের গোচরীভূত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী/দালালরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে অপর একটি অভিযোগের বিষয়ে টিম ডিএসসিসি অঞ্চল কর অঞ্চল-২ এ উপস্থিত হলে ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের জন্য একজন “লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজার” এক ব্যক্তির নিকট ২ দফায় ৩ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন মর্মে অভিযোগ পায়। অপর অভিযুক্ত “লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজার” দুদক টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে অফিসস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তাঁর সাথে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ স্থাপন করা যায়নি। দুদক টিম প্রাপ্ত অনিয়মসমূহের বিষয়ে রাজস্ব অঞ্চল-২ এর কর কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন-কে অবহিত করলে তিনি দায়ভার গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। টিম অভিযানে প্রাপ্ত তথ্যাবলি ও প্রমাণাদি-সহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশনের নিকট অনুমোদন চেয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে। উপস্থিত জনসাধারণ দুদকের এ অভিযানকে স্বাগত জানায়। টিমের উপস্থিতিতে জনসাধারণ তাদের নানাবিধ অভিযোগ উপস্থাপন করেন।  স্বতঃস্ফূর্ত জনতা এ সময় দুদক টিমের এমন অভিযানে খুশি প্রকাশ করে এমন অভিযান অব্যহত রাখতে দুদকের প্রতি আবেদন জানায়।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//আইন শৃঙ্খলা///দুদক বিট

Total Page Visits: 16655

গোপালগঞ্জ বশেমুরবিপ্রবির সাবেক ভিসি খোন্দকার নাসিরউদ্দীনের এ কেমন বন্ধুত্ব!

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জঃ

বন্ধুত্বের অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন। প্রকল্পের কাজ শেষ
হওয়ায় বন্ধুকে ডেকে এনে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইভস্টক সাইন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এলভিএম) বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ
দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি জানিয়েছেন সাবেক উপাচার্যের বন্ধু শফিকুজ্জামান নিজেই। এমনকি তাকে কোনো সিভিও জমা দিতে হয়নি বলে
জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ তোলা হয়।পরবর্তীতে ব্যাপক অনুসন্ধান করে জানা যায় বাকৃবির সাবেক এই শিক্ষার্থী কেবলমাত্র বন্ধুত্বের কারণেই ২০১৮ সালে নিয়োগ পেয়েছেন। তার ইতোপূর্বে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার অভিজ্ঞতা ছিলোনা। প্রায়
১৮ বছর একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকল্পের অধীনে কাজ করেছেন তিনি। প্রকল্পটি শেষ হলে তাকে তার বন্ধু ডেকে এনে এলভিএম বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। তবে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের লেকচারার,
সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক বা অধ্যাপক এই চারটি ডেজিগনেশনের যে কোনো একটি ডেজিগনেশন থাকলেও শফিকুজ্জামানের
কোনো ডেজিগনেশন নেই। এমনকি তাকে চেয়ারম্যান হিসেবেও নিয়োগ দেয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অমান্য করে। বশেমুরবিপ্রবি আইন ২০০১ এর ২৫নং ধারা অনুযায়ী বিভাগের চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য নূন্যতম সহযোগী
অধ্যাপক হওয়ার প্রয়োজন হয়।
এ বিষয়ে শফিকুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও তার ডেজিগনেশন জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, সাবেক উপাচার্য আমার বন্ধু ছিলেন, তিনি যখন এলভিএম বিভাগ চালু করেন তখন এখানে কোনো শিক্ষক ছিলো না। আর একই সময়ে আমারো প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়। যেহেতু
আমি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চাকরি করেছি তাই আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। চেয়ারম্যান হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, উপাচার্য
আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন তাই আমি দায়িত্ব পালন করছি।

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম//জেলা//অপরাধ জগত

Total Page Visits: 16655

দুদকের অভিযানে রংপুর মেডিকেল কলেজের অর্থ আত্মসাৎকারী গ্রেফতার

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ


রংপুর মেডিকেল কলেজের অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগে বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিকেল কোম্পানির মহাব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)।

রংপুর মেডিকেল কলেজে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে  চার কোটি ৪৮ লক্ষ ৮৯ হাজা ৩০০টাকা  আত্মসাতের মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার বিকাল ৪টার দিকে রাজধানীর তোপখানা রোড এলাকা থেকে কোম্পানিটির জিএম সৈয়দ কামরুল আহসানকে গ্রেপ্তার করা হয় ।

এর আগে বিগত সেপ্টম্বর মাসে  রংপুর মেডিকেল কলেজে যন্ত্রপাতি কেনার নামে চার কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বেঙ্গল সায়েন্টিফিক এন্ড সার্জিকেল কোং এর মালিক মোঃ জাহের উদ্দিন সরকারসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুদক সজেকা রংপুরে মামলাটি দায়ের করা হয়( তারিখ: ১২.০৯.২০১৯ ইং)।

এজাহারে বলা হয়, “অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদির প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও প্রতারণা ও জালজালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ব্যবহার অনুপযোগী ও নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহের মাধ্যমে সরকারের চার কোটি আট চল্লিশ লক্ষ ঊননব্বই হাজার তিনশত টাকা আত্মসাৎ করেন আসামিরা।”

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মোঃ সাইদুজ্জামান এ গ্রেফতার অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//আইন শৃঙ্খলা

Total Page Visits: 16655

ঝালকাঠিতে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত রিভা গাঙ্গুলী দাসের ভিমরুলি পেয়ারা বাগান পরিদর্শন 

ইমাম বিমান, ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠির ভীমরুলি পেয়ারা বাগান এবং চারটি খালের মোহনায় সৌন্দর্যমন্ডিত ভাসমান হাট পরির্দশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস। রবিবার সকাল ৮টায় তিনি বরিশাল থেকে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভীমরুলি গ্রাম পরিদর্শনে আসেন। এ সময় ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক জোহর আলী এবং জেলা পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। পরে রাষ্ট্রদূত রীভা গাঙ্গুলী দাস প্রথমে ভীমরুলি গ্রামের সার্বজনিন দূর্গা মন্দির ঘুরে দেখেন।
এ সময় গ্রামবাসী তাকে ঊলুধ্বণী আর শাঁখ বাঁজিয়ে বরণ করেন। এরপর নৌকায় চড়ে ভীমরুলি খালের দুই কিলোমিটার এলাকা, আশপাশের পেয়ারা বাগান পরিদর্শন করেন সেই সাথে ভিমরুলির সেই বিখ্যাত ভাসমান পেয়ারার হাট ঘুরে দেখেন। পেয়ারা অঞ্চল পরিদর্শন শেষে সকাল ১০টায় ঝালকাঠি সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের কাছে অনভূতি প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, আতিথেয়তায় বাংলাদেশিরাই সেরা। পারিবারিক পরিবেশে তাদের অভ্যর্থনায় আমরা সবসময় অভিভূত।
ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়
Total Page Visits: 16655

গুজব ঠেকানোয় ব্যর্থতাঃ দায়ভার কে নিবে???

মিয়া মোহাম্মদ হেলাল, যুক্তরাজ্য প্রবাসী,   ক্রাইম ডায়রির বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কুখ্যাত নিয়াজির ভাতিজা ইমরান খান নিয়াজির এদেশীয় তথাকথিত মুসলিম সিপাহীরা ভারত কোথাও মলমূত্র ত্যাগ করলে সেখানে গিয়েও গন্ধ খুঁজতে শুরু করে। আর যদি সামান্যতম গন্ধ পায় তাহলে সেই গন্ধকে গুজবের মাধ্যমে সবার মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেয়। এটা অবশ্য তাদের রাজনৈতিক পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকারী সূত্রে পাওয়া। বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা সীমান্তের একটি মূল ঘটনাকে আড়াল করে তেমনি ভাবে গুজব ছড়িয়ে সবার মাঝে ভারত বিরোধী প্রচার চালাচ্ছে। অথচ মূল ঘটনা হলো-

বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার আশাবাড়ি সীমান্ত এলাকায় জলিল ও হাবিল নামে দুই মাদক কারবারিকে ধরতে ছদ্মবেশে তাদের কাছ থেকে মাদক কিনতে যান র‌্যাবের দুই নারী সোর্স। জলিল ও হাবিব মাদক বিক্রির কথা জানিয়ে দুই নারী সোর্সকে সীমান্তের ওপারে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান। এদিকে খবর পেয়ে অপেক্ষামান র‌্যাব সদস্যরা ভারতের সীমানায় ঢুকে জলিল ও হাবিলকে আটকের চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা এবং মাদক কারবারিরা র‌্যাবের তিন সদস্য এবং দুই নারী সোর্সকে মারধর করেন। পরে সকাল নয়টার দিকে বিএসএফ তাদের আটক করে। তাদের ফেরাতে তৎপরতা শুরু করে র‌্যাব ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি। দীর্ঘ আলোচনার পর বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে তাদের ফেরত আনা হয়।

এটা নিয়ে শুরু হয় গুজব।।।অবশ্য এটা নিয়ে গুজব প্রচারকারীদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। জন্মই যাদের আজন্ম পাপ।গুজবইতো তাদের হাতিয়ার। গুজবকারীরা গুজব ছড়াবে।চোর চুরি করবে,এটাই স্বাভাবিক।। ঠেকাবে পুলিশ প্রশাসন। চোর৷ ধরবে,,বিচারের আওতায় আনবে পুলিশ বাহিনী।তাদের পরিচালক তথা কর্তা হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়। তারা ব্যর্থ হলে তার দায়ভার তার কাঁধেই বর্তায়।  । এটাই স্বতঃসিদ্ধ কথা।। ঠিক তেমনি গুজব ছড়ানো হচ্ছে ইলেকট্রনিকস মাধ্যমে। সামাজিক মাধ্যমে–ফেসবুক,টুইটার ইত্যাদি ইত্যাদি। সেগুলো পরিচালনার জন্য সরকারের নির্দিষ্ট বিভাগ আছে।। তাদেরই দায়িত্ব সেই মাধ্যমের গুজব ঠেকানোর ব্যবস্থা নেয়া।। বিদ্যুতে গোলযোগ দেখা দিলে সেন্ট্রালি কন্ট্রোল করা হয়। গ্যাস লাইনে প্রবলেম হলে সেন্ট্রালি কন্ট্রোল হয়। সব বিষয়েই সেন্ট্রালি কন্ট্রোল হচ্ছে। কিন্তুু সামাজিক মাধ্যমে বার বার গুজব ছড়ানো হচ্ছে। বার বার দেশকে অশান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু, গুজব নিয়ন্ত্রনে; গুজব ছড়ানোর মাধ্যমগুলোকে কন্ট্রোলের কি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে তা জাতি জানতে চায়।।। নাকি যারা দায়িত্বে আছেন তারা  ব্যর্থ হচ্ছেন।। হলে; এর দায়ভার কে নিবে, তা স্পষ্ট করা এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরী দাবী।।

(লেখক, যুক্তরাজ্য প্রবাসী-মুক্তচিন্তার মূর্তপ্রতীক,দেশপ্রেমিক, আওয়ামী অনলাইন এক্টিভিস্ট, আওয়ামীলীগ গবেষক,  বঙ্গবন্ধু ও শেখহাসিনার  সূর্য সৈনিক।।।)

Total Page Visits: 16655

র‌্যাব ৪ এর সাফল্যঃ রাজধানীর শাহআলীতে বিশেষ অভিযানেে অস্ত্র ও মাদকসহ অস্ত্র ব্যবসায়ী আটক

আরিফুল ইসলাম কাইয়ুম, মিরপুর প্রতিনিধিঃঃ

ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে   রাজধানীর শাহআলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে  ০২ টি বিদেশী পিস্তল, ০৬ রাউন্ড গুলি, ০২ টি খালি ম্যাগাজিন এবং ১০০ পিস ইয়াবাসহ ০১ জন মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী গ্রেফতার করেছে RAB 4.  সুত্রে জানা গেছে,  ১০ অক্টোবর ২০১৯ তারিখ ১৯.২০ ঘটিকা হইতে ১০ অক্টোবর ২০১৯ ইং সন্ধা ২০.১৫ ঘটিকার পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল পুলিশ সুপার নরেশ চাকমা এবং সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রিফাত বাশার তালুকদার এর নেতেৃত্বে শাহআলী থানাধীন গোড়ান চটবাড়ীর বেড়িবাধের  ন্যাশনাল বোটানিক্যাল গার্ডেনের ৩ নম্বর গেইটের সামনে অভিযান পরিচালনা করে আসামীর হাতে থাকা একটি লাল রঙের শপিং ব্যাগের ভিতরে একটি স্বচ্ছ পলিথিনের মধ্যে প্যাচানো একটি চেক লুঙ্গি দ্বারা মোড়ানো আবস্থায় ০২ টি বিদেশী পিস্তল, ০৬ রাউন্ড গুলি, ০২ টি খালি ম্যাগাজিন, আসামীর পরিহিত প্যান্টের সামনের ডান পকেট হতে ১০০ পিস ইয়াবা এবং ০১ টি মোবাইলসহ মাদক এবং অস্ত্র ব্যবসায়ী মোঃ সেলিম রেজা (৪১), জেলা-চাপাইনবাবগঞ্জ’কে গ্রেফতার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে , আসামী মোঃ সেলিম রেজা (৪১) দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন সময় রাজধানীর মিরপুর এলাকায় বিভিন্ন লোকের কাছে অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় করে আসছে এবং চাপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত।

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম//আইন শৃঙ্খলা//রাজধানী

Total Page Visits: 16655

৪ কোটি টাকা ফেরত দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সাবেক ছাত্রলীগনেতা আবু তৈয়ব”

৪ কোটি টাকা ফেরত দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন
সাবেক ছাত্রলীগনেতা আবু তৈয়ব

বিশেষ প্রতিনিধিঃঃ

৮ অক্টোবর জমকালো অনুষ্ঠানাদির মধ্যদিয়ে উদ্বোধন হয়েছে নগরীতে বায়েজিদ সবুজ উদ্যান ৷ এটির উদ্বোধন করেন সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারনী ফোরামের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি ৷ তবে, এ খবরটির চেয়েও বড় খবর হয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইয়াল হয়েছেন বায়েজিদ সবুজ উদ্যানের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক ৷ সবুজ উদ্যানটি নিমার্ণে ১২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর । ঠিকাদারী কাজ পেয়েছিলেন আবু তৈয়ব নামের একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ।

ঠিকাদার আবু তৈয়ব ৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা দিয়ে মানসম্মতভাবে কাজটি সম্পন্ন করে বাকি সাড়ে ৪ কোটি টাকা ফেরত দেন গণপূর্ত অধিদপ্তরকে। চায়লে অবশিষ্ট সাড়ে ৪ কোটি টাকা বিল ও খরচ দেখিয়ে অনায়াসেই ঠিকাদার আবু তৈয়ব নিজের করে নিতে পারতেন বলেও অনেকের অভিমত । তবে, তিনি তা করেননি, ফলে এখন তাঁর সততার এ খবর চট্টগ্রামই কেবল নয় সমগ্র দেশজুড়ে ভাইয়াল হয়েছে ৷ বিশেষ করে দেশে ঠিকাদার জি কে শামীমদের বিরুদ্ধে যখন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলছে, ঠিক সেই মুহুর্তে আবু তৈয়ব নয়া দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ৷ জানা যায় আবু তৈয়ব চট্টগ্রাম উত্তরজেলা ছাত্রলীগের সদ্য গত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ৷ তাঁর বাড়ী রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ৷ তিনি তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ৷

কিছু অনুপ্রবেশকারী, বিশ্বাসঘাতক, হাইব্রিড, টেন্ডারবাজ, সন্ত্রাসী, মাদকসেবীদের কারণে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ঐতিহ্য যখন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বারংবার ঠিক তখনই মানবিক ও সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চট্টগ্রাম উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক,রাঙ্গুনিয়ার কৃতি সন্তান, মোহাম্মদ আবু তৈয়ব।

ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়

Total Page Visits: 16655

নারায়নগঞ্জে ১৬ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানী মামলার প্রতিবাদে বিএমএসএফ ও জাতীয় সাংবাদিক পরিষদ

ইমাম বিমানঃ
সম্প্রতি র‍্যাবের মাদক, জুয়া বিরোধী চলমান অভিযানে যখন ক্যাসিনো সম্রাটদের আটক করা হয়েছে ঠিক তখনই ক্যাসিনো সম্রাটদের সহযোগীদের নামে সংবাদ প্রকাশ করার জের ধরে নারায়ণগঞ্জে ১৬ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আদােলতে দুটি পৃথক মানহানি মামলা দায়েরের ঘটনায় প্রতিবাদ সহ মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছে ” বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ” বিএমএসএফ” এবং জাতীয় সাংবাদিক পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) “বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ” বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শহীদুল ইসলাম পাইলট ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর যৌথ এক বিবৃতিতে নারায়ণগঞ্জের ১৬ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা ও দিনাজপুরের হিলিতে ” ডেইলী ইন্ডাষ্ট্রি ” পত্রিকার প্রতিনিধি সোহেল রানাকে পুলিশ কর্তৃক লাঞ্ছিত করায় তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন।
একই উদ্দেশ্যে মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে জাতীয় সাংবাদিক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেল অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারসহ সাংবাদিকদের তথ্যমুলক সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার দাবী জানান।
এ সময় বিএমএসএফ’র  ও জাতীয় সাংবাদিক পরিষদের   কেন্দ্রীয় কমিটির বিবৃতির মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দিয়ে সংবাদিকদের বাকরুদ্ধ করার পায়তারা করছেন একদল গোষ্ঠী। যারা ক্ষমতাসীন দলের ব্যানেরে থেকে ক্ষমতার অপব্যাবহার করার মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করে সংবাদ প্রকাশে বাধার সৃষ্টি সহ দেশে মাদক, জুয়াকে তড়ান্বিত করতে উঠে পড়ে লেগেছে। তাই আজ নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী ও সিদ্ধিরগঞ্জের এসও রোডের স্বপন মন্ডল বাদী হয়ে বিভিন্ন পত্রিকার ১৬জন সাংবাদিকের নামে মানহানির একাধিক মামলা দায়ের করে।আমরা নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিকদের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারি দুটি মামলার একটির বাদী হচ্ছেন সিদ্ধিরগঞ্জের এসও রোডের স্বপন মন্ডল। তার পক্ষে মামলাটি দায়ের করেন অ্যাড. হাবিবুর রহমান মাসুম এবং অপরটির বাদী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী। তার পক্ষে মামলাটি দায়ের করেন অ্যাড. মশিউর রহমান শাহিন। স্বপনের করা মামলায় ৭ পত্রিকার ১৪ জন এবং মীর সোহেল আলীর মামলায় এক পত্রিকার দু’জন সাংবাদিককে বিবাদী করা হয়েছে।
স্বপন তার মামলায় দাবি করেন যে, ‘ক্যাসিনো ডন সেলিম প্রধান গ্রেফতার হলেও প্রকাশ্যে ঘনিষ্ট বন্ধু স্বপন মন্ডল’, ‘ক্যাসিনো ডন সেলিম প্রধান গ্রেফতার আতঙ্কে গা ঢাকা দিয়েছে স্বপন মন্ডল’ ইত্যাদি শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সাথে তিনি দাবি করেছেন যে, এসকল সংবাদ প্রকাশের কারণে তার ৫ কোটি টাকার মানহানি ঘটেছে উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিক সচেতন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক কাজী  ইসলাম, একই পত্রিকার বার্তা সম্পাদক ইমতিয়াজ আহম্মেদ, দৈনিক সময়ের নারায়ণগঞ্জ এর প্রকাশক সম্পাদক জাবেদ আহম্মেদ জুয়েল, বার্তা সম্পাদক শাহীন, দৈনিক সংবাদ চর্চা এর প্রকাশক সম্পাদক মুন্না খাঁন, বার্তা সম্পাদক আনোয়ার হাসান, দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. ইলিয়াস মোল্লা, বার্তা সম্পাদক জসিম উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সোহেল রানা, দৈনিক যুগের চিন্তা এর প্রকাশক সম্পাদক আবু আল মোরসালিন বাবলা, নির্বহী সম্পাদক এজাজ কোরেশী এবং দৈনিক মাতৃভূমির খবর এর প্রকাশক সম্পাদক মো. রেজাউল করিম, উপদেষ্টা সম্পাদক আনায়ারুল ইসলাম, নির্বাহী সম্পাদক এনামুল কবিরকে আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করেন।অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলীর বিরুদ্ধে ডান্ডিবার্তায় প্রকাশিত সংবাদ অসত্য মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যে ভরপুর। এর ফলে তারও মানহানি ঘটেছে বলে তিনি দাবি করে দৈনিক ডান্ডিবার্তা পত্রিকার প্রকাশক- সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাদল এবং একই পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আ. রহিমের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয় দেশের একমাত্র ও অন্যতম সাংবাদিক বান্ধব সংগঠন বিএমএসএফ  ও জাতীয় সাংবাদিক পরিষদ   নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে মামলা দুটি প্রত্যাহারের দাবি করেন সেই সাথে মামলা প্রত্যার না করা হলে কঠোর আন্দোলনেরও হুশিয়ারী দেন।
ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়
Total Page Visits: 16655

আরিচা ঘাটে ফেরি টার্মিনাল দখল করে বালুর ব্যবসা

এম. মিজানুর রহমান খান, শিবালয় (মানিকগঞ্জ) থেকে ফিরেঃ


আরিচা ফেরি টার্মিনাল সংলগ্ন যমুনা তীরবর্তী জায়গায় ড্রেজার বসিয়ে পাইপের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএর টার্মিনাল দখল করে বালু বিক্রি করছে প্রভাবশালীরা। টার্মিনাল দখলে নিয়ে বালুর পাহাড় বানিয়েছে তারা। এছাড়া বন্দর এলাকার নদীর পাড়ে বালু মজুদ করে রাখা হয়েছে। ঝড়ো হাওয়ায় আশপাশের বাসিন্দাদের বাড়ি-ঘর বালু উড়ে গিয়ে অপরিষ্কার ও অসস্থিকর পরিবেশের
সৃষ্টি হয়। জানা গেছে, যমুনা নদীর তীর ঘেঁষে আরিচা নদীবন্দর এলাকার পাঁচ একর জায়গায় আরিচা ফেরি টার্মিনাল নির্মাণ করে বিআইডব্লিউটিএ। ২০০২ সালের ১২ মার্চ আরিচা থেকে পাটুরিয়ায় ফেরিঘাট স্থানান্তরিত হলে
টার্মিনালটি পরিত্যক্ত হয়। এছাড়া এই ঘাট থেকে পাবনার মধ্যে ফেরি চলাচলের সিদ্ধান্ত রয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের। আরিচা ঘাট হয়ে পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মালামাল পরিবহনের জন্য ফেরি সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি। ফলে টার্মিনালটি দখলমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। কিন্ত প্রভাবশালীদের কারণে তা বাস্তবায়ন করা
সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিনে পরিদর্শনকালে এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে
পদ্মা-যমুনা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু মাটি উত্তোলন করে ভলগেট ড্রেজারের মাধ্যমে এনে মজুদ করছে আরিচা টর্মিনালে। অনেকে নদীর পার এলাকায়
ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে পুকুর ডোবা-নালা ভরাট করছে। এতে কোনো বাধা বিপত্তি না থাকায় নতুন নতুন বালু ব্যবসায়ী গজিয়ে উঠছে
আরিচায়। তারা এলাকার পুকুর, নিচু জমি, ভিটি-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট ভরাট, ইট ভাটা ও ঠিকাদারদের কাছে চুক্তিতে বালু বিক্রি করছে। এতে আরিচা
ঘাটসংলগ্ন যমুনা নদী তীরবর্তি এলাকাসহ আরিচা-জাফরগঞ্জ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের নিহালপুর অংশে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়ছে
আরিচা নদীবন্দর, আবহাওয়া অফিস, আরিচা হাটবাজার ও আরিচা-তেওতা-জাফরগঞ্জ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বিস্তীর্ণ এলাকাআরিচা ঘাটে বাস মালিক হেলাল মুন্সী বলেন, প্রতিটি গাড়ির পার্কিং
চার্জ দিতে হয় ৫০ টাকা। দৈনিক ৪/৫ বার গাড়ি যাতায়াত করলে প্রতিবারই দিতে হচ্ছে ৫০ টাকা করে। টার্মিনালে ঢুকতে না পেরে বাধ্য হয়ে গাড়ি
পার্কি করতে হচ্ছে রাস্তায়। এতে প্রায়ই গাড়ি থেকে চুরি হচ্ছে মালামাল। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তাদের বার বার জানানো হলে কোনো
লাভ হয়নি। বিআইডব্লিউটিএ’র আরিচা ফেরি টার্মিনালের ইজারাদার বিশ্বজিত বিশ্বাস বলেন, আমরা মোটা টাকা ব্যয় করে টার্মিনাল ইজারা নিয়েছি। সে টাকা পুষিয়ে তুলতে বালুর ব্যবসা করছি। টার্মিনালে বালুর ব্যবসা বন্ধ ও ৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শিবালয় থানা ও ইউএনও’র কাছে অভিযোগ করেছেন বিআইডব্লিউটিএ’র উপপরিচালক ও আরিচা নদী বন্দরের পরিবহন কর্মকর্তা শেখ মো. সেলিম রেজা।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মেসার্স খন্দকার ব্রাদার্স,, মেসার্স ব্রাদার্স, মেসার্স খন্দকার , মেসার্স আনিচ, মেসার্স খন্দকার যমুনা , মেসার্স পিয়াল ট্রেডিং, মেসার্স ভাই ভাই, মেসার্স ফুয়াত ও
ফ্রেন্ডস পয়েন্ট ।


এ বিষয়ে মেসার্স পিয়াল ট্রেডিং এর মালিক রাজু আহমেদ লাভলু বলেন, আমরা দীর্ঘ দিন ধরে বিআইডব্লিউটিএ’র অফিসে টাকা দিয়ে
বালুর ব্যবসা করছি। আরিচা নদীবন্দরের পরিবহন কর্মকর্তা শেখ মো. সেলিম রেজা বলেন, সমেজ ঘর
তেওতা থেকে পাটুরিয়া ঘাটের ভাটি পর্যন্ত যমুনা নদীর পাড় এলাকা আরিচা নদীবন্দরের আওতাভুক্ত। এ এলাকার ভেতর থেকে এক কোদাল বালু কাটার অধিকার নেই কারও। তারপর অনেকে চুরি করে কাটছে। টার্মিনালে শুধুমাত্র গাড়ি পার্কিং
চার্জ আদায়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে চলতি অর্থ বছরের জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে।

ফেরি টার্মিনালে বালুর ব্যবসা বন্ধ করতে থানা ও উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শিবালয় থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। শিবালয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও
আ.লীগ সভাপতি রেজাউর রহমান খান বলেন, এ সিন্ডিক্যাটের সঙ্গে প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকায় কেউ-ই তাদের বিরুদ্ধে টু শব্দ করারও সাহস পাচ্ছে না। এ বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তপেক্ষ কামনা করেন তিনি।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//জেলা//চলতি পথে

Total Page Visits: 16655