• রবিবার ( রাত ১০:০৬ )
    • ১৮ই আগস্ট, ২০১৯ ইং

পাক-ভারত সীমান্তে গোলাগুলিঃ উভয় পক্ষের আট সেনা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃঃ

চরম উত্তেজনার মধ্যে ভারত পাক সীমান্তের  পাকিস্তান অংশে  (লাইন অব কন্ট্রোল) গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ভারতের পাঁচ ও পাকিস্তানের তিন সেনা সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে   নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানে আইএসপিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আসিফ গাফুরের বরাত দিয়ে  পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন  এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) ভারতজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে ৭৩তম স্বাধীনতা দিবস। এরই মধ্যে এ হতাহতের খবর এলো।টুইটবার্তায় গাফুর লিখেছেন, ‘জম্মু-কাশ্মীর ইস্যু আড়াল করতে ভারতীয় বাহিনী উসকানিমূলকভাবে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে আমাদের তিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পাল্টা জবাব দিয়েছে পাকিস্তান। এতে ভারতের পাঁচ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেক। এ ছাড়া একাধিক বাঙ্কার ধ্বংস করে দেয়া হয়েছ।’ এ ঘটনার পর থেকে সীমান্তে থেমে থেমে গোলাগুলি চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পাকিস্তানের নিহত তিন সেনা সদস্যের পরিচয় প্রকাশ করেছে ডন। তারা হলেন নায়েক তানভির, ল্যান্স নায়েক তৈমুর ও সিপাহি রমজান।
আজ ১৫ আগস্ট ভারতজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে স্বাধীনতা দিবস। অন্যদিকে সম্প্রতি ভারত জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়ায় এ দিনটিকে ‘কালো দিন’ হিসেবে পালন করছে পাকিস্তান।

এদিকে স্বাধীনতা দিবসের উৎসবে পাঁচ সেনা সদস্যের প্রাণহানির ঘটনা ভারতকে আরও উস্কিয়ে দিল পাকিস্তান। তাইতো শত্রু দেশ পাকিস্তানকে থামাতে এবার বিধ্বংসী পারমাণবিক অস্ত্রের কথা স্মরণ করিয়ে দিল নরেন্দ্র মোদি সরকার।

পাকিস্তানকে সতর্ক করে শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত পরমাণু অস্ত্র নিয়ে প্রথম ব্যবহার নীতিতে চলে না ভারত। অর্থাৎ, তারা কখনও আগে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার করবে না। তবে, পরিস্থিতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে এই নীতিরও পরিবর্তন হতে পারে।’

আজ রাজস্থানের পোখরানে সেনা মহড়া অনুষ্ঠানের শেষ দিনে অংশ নেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘কাকতালীয়ভাবে আজ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। আর পোখরানের সঙ্গে অটল বিহারী বাজপেয়ীর স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ভারতকে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে অটল বিহারী বাজপেয়ীর যে অবদান রয়েছে তার সাক্ষী এই পোখরান।’

পোখরানে প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ীর ছবিতে শ্রদ্ধা জানান রাজনাথ। এই পোখরানেই ১৯৭৪ এবং ১৯৯৮ সালে পরমাণু পরীক্ষা করা হয়।

ক্রাইম ডায়রি//আন্তর্জাতিক

5631total visits,82visits today

বিশেষ অভিযানে উঠতি ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্র আটক করেছে ইপিজেড থানা পুলিশ

হোসেন মিন্টুঃ

ঈদের নিরাপত্তায় সারাদেশে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৬জন উঠতি ডাকাত ও ছিনতাইকারী দলের সদস্য কে গ্রেফতার করেছেন ইপিজেড থানা পুলিশ।

থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ,  ১০আগস্ট রাত ১২.৪৫ মিনিটে সময় এই উঠতি ৬ ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্যদের আটক করা হয়।  ওসি মীর মোঃ নূরুল হুদা  ক্রাইম ডায়রিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গ্রেফতারকৃত ডাকাত দলের সদস্যরা হলো– মোঃ বাবুল প্রকাশ বাবু (২২), পিতা-মোঃ খলিল, জেলা-বাগেরহাট, মোঃ সবুজ (১৯), পিতা-মোঃ ইউছুফ, সাং-সূর্যমনি, খাইগো বাড়ী, থানা-মঠবাড়ীয়া, জেলা-পিরোজপুর, মোঃ আরিফ (২৬), পিতা-মোঃ বাচ্চু মিয়া, মোঃ মামুন (২০), পিতা-মোঃ ফরিদ, থানা-মোংলা, জেলা-বাগেরহাট, মোঃ রিপন (১৯), পিতা-মৃত লোকমান সিকদার,থানা-মোড়েলগঞ্জ, মোঃ নাদিম (১৫), পিতা-মোঃ হারুন, থানা-ভান্ডারিয়া, জেলা-বরিশাল । ডাকাতদলে আরও সদস্য ছিল। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তারা বিভিন্ন অলিগলি দিয়ে  পালিয়েছে । পালাতকদের ধরার ব্যাপারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে থানা সুত্রে জানা গেছে।


অপরাধীরা  ইপিজেড থানাস্থ কলসিদীঘী,ব্যারিস্টার কলেজ ওবন্দরটিলা রেলবিটের আশ-পাশের ভবনের অস্থায়ী ভাড়াটিয়া ঘরে অবস্থান করে এলাকায় চুরি,ডাকাতী ওছিনতাই কাজে লিপ্ত বলে তদন্ত ওসি ওসমান গনি জানিয়েছেন।তারা সবাই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চুরি,ডাকাতী ওছিনতাই কাজে লিপ্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন । অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করে আদালতে  প্রেরন করা হয়েছে।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম/মহানগর

5631total visits,82visits today

বরিশালে ঈদে বেড়াতে আসা ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুঃঃ সতর্ক থাকা জরুরি

বরিশাল বিভাগীয়  অফিসঃ

ডেঙ্গু জ্বরের ভয়বহতার   কারনেই সরকারের তরফ হতে বারবার নিষেধ করা হয়েছে যাতে ডেঙ্গু রোগীকে নিয়ে ঈদে বাড়ি না ফেরার।মানেননি অনেকে। কিন্তু আক্রান্তরা ঠিকই উপলব্ধি করছেন বিপদে পড়ার পর। সম্প্রতি, ঈদে  বেড়াতে আসা  ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বরিশালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রুশা (১০) নামের এক শিশু মারা গেছে। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) শনিবার (১০ আগস্ট) সকালে শিশুটি মারা যায়। শনিবার দুপুরে বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন শেবাচিমের পরিচালক ডাক্তার বাকির হোসেন।

রুশা ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার জীবনদাশকাঠি এলাকার রুহুল আমিনের মেয়ে ও ঢাকার মোহাম্মদপুরের ওয়াই ডব্লিউসিএ স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

পরিচালক জানান, শিশুটি ঢাকায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে ঈদ উপলক্ষ্যে বাব-মার সাথে গ্রামের বাড়িতে আসে। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে শুক্রবার (৯ আগস্ট) রাত ৯ টায় শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে শিশুটি মারা যায়।

উল্লেখ্য, এ নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুসহ চারজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হলো। আর বরিশাল বিভাগে মোট ছয়জন মারা গেলেন।

এমতবস্থায়, খুবই সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের দেশবাসীর প্রতি।

ক্রাইম ডায়রি///জাতীয়//স্বাস্থ্য

5631total visits,82visits today

কি হতে চলেছে মুসলিম অধ্যুষিত ভূ স্বর্গ কাস্মিরে

 

অবরুদ্ধ কাশ্মীর যেন আরেক ফিলিস্তিন, চলছে বিক্ষোভ

অনলাইন  আন্তর্জাতিক ডেস্কঃঃঃঃ  

গাজওয়াতুল হিন্দ নিয়ে মহানবী সাঃ এর হাদিসটির সত্যতা প্রমাণিত হলোা।যদিও মুসলিম নামধারী ইহুদী আলেমরা এটাকে জাল হাদিস বলত। এরা জিলাপী খাওয়ার হাদিসকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রচার করে সঠিক হাদীস গুলোকে জাল প্রমানিত করার পিছনে কাজ করত। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা ইসলামের নুরকে উদ্ভাসিত করবেন যদিও কাফেরেরা তা অপছন্দ করে। ভারতীয় কাশ্মিরের উপর অবরোধ এটাই প্রমাণ করে।।। বিগত দিনের সরকারগুলো এ ব্যাপারে অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল থাকলেও হঠাৎ করেই এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে হতবাক পুরো বিশ্ব। ভারতের সংবিধানের কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর কাশ্মীর কার্যত বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সেখানে বিপুল সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা সবকিছু চেক করছে। পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে কে কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে – সবকিছু চেক করা হচ্ছে।সকল রাস্তায় সর্বত্র হাজার হাজার সেনা, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী টহল দিচ্ছে। সব রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সবর্ত্র কারফিউ জারি করা হয়েছে। কাউকে ঘর থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। ল্যান্ড ফোন, মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট ব্লক করে দেয়া হয়েছে।

এখন কাশ্মীরে ভেতরেও কেউ কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তারা একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সব কিছু মিলিয়েই পরিস্থিতি চরম সংকট তৈরি করেছে।

সব জায়গায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। কারণ তারা এখনো বুঝতে পারছে না যে, কী ঘটছে বা তাদের ভাগ্যে কী আছে।

আর কয়েকদিন পরেই ঈদ। ধারণা করা হচ্ছে, ভারত সরকার তখন সাময়িকভাবে কারফিউ তুলে নেবে যেন লোকজন উৎসবের আগে কেনাকাটা করতে পারে। তবে ঈদের সময় বাড়ির বাইরে তাদের নামাজ পড়ার অনুমতি দেয়া হবে কিনা। তারা এখনও তা জানেন না।

ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।সবকিছু মিলিয়ে ভারতের দখলিকৃত কাশ্মীর আরেক ফিলিস্তিনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেও কারফিউ ভঙ্গ করে সেনা, পুলিশ সহ নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্যত বন্দুকের সামনেই তারা বিক্ষোভ করছে, বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে।বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর ছোঁড়ার ঘটনা ঘটেছে।শ্রীনগর এবং কাশ্মীরের উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর ছোঁড়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে ভারতশাসিত কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর এখন ক্রোধে ফেটে পড়েছে।

সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের আগে রোববার সন্ধ্যা থেকেই কাশ্মীরে টেলিফোন, মোবাইল এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।

আগামী দিনগুলোতে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাশ্মীরের যোগাযোগ এমনভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যে, সেখানকার অনেক লোকই এখনো ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের খবর জানেন না। তবে যারা জানতে পেরেছেন তাদের মধ্যে অধিকাংশ লোকই বলছেন যে, তারা আরো খবরের অপেক্ষায় আছেন।কারণ সবার কথা তারা বিশ্বাস করছেন না।

৫০ বছর বয়সী এক কাশ্মীরি নাগরিক বলেন, আগে তারা নিজেদের স্বাধীন ভাবতেন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সেই স্বাধীনতাও তারা হারিয়ে ফেলেছেন। তারা ভারতের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন এবং তারা ভারতের গোলামে পরিণত হয়েছেন।

কাশ্মীরের লোকজনের এটাই সাধারণ অনুভূতি।

এখানকার মূলধারার রাজনৈতিক নেতারা গৃহবন্দী। তাদেরকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। তারা প্রতিবাদ করেছেন। ভারতের সরকারের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছেন যে, জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা উচিত হবে না, এতে হাত দেয়া ঠিক হবে না।

সুতরাং এটা স্পষ্ট যে ভারতের সরকার ও কাশ্মীরের মধ্যে যোগাযোগের অভাব ছিল। কাশ্মীরের নেতাদের গৃহবন্দী হবার কথা এখনও অনেকেই জানেন না। এ ব্যাপারে সেখানে কোন সরকারি ঘোষণাও দেয়া হয়নি।

গত রোববার সন্ধ্যা থেকে বন্ধ করা ইন্টারনেট ও টেলিফোন নেটওয়ার্ক এখনো সচল হয়নি; উপত্যকাটির বিভিন্ন সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাজার হাজার সদস্যের টহল অব্যাহত আছে।
বিবিসি বলছে, সংবিধানের ওই বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ঘটনা কাশ্মীরজুড়ে তুমুল বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের বিস্ফোরণ ঘটাবে বলে ধারণা করা হলেও মানুষ সেখানে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তার কোনো খবর মিলছে না।
স্থানীয় নেতারা এখনও আটকাবস্থাতেই আছেন।
১৯৪৭ এর পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই হিমালয় অঞ্চলের কাশ্মীরকে নিজেদের বলে দাবি করে এলেও নয়াদিল্লী ও ইসলামাবাদ এখন অঞ্চলটির আলাদা দুটি অংশের নিয়ন্ত্রক।
ভারতশাসিত অংশে দীর্ঘদিন ধরেই স্বাধীনতাকামী বিভিন্ন সংগঠনের তৎপরতাও দেখা গেছে, যাতে প্রাণ হারিয়েছে হাজার হাজার লোক।
শ্রীনগরে বিবিসির প্রতিনিধি আমির পীরজাদা গত সোমবার দিল্লীতে থাকা সহকর্মীদের সঙ্গে টেলিফোনে কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।
“রাজ্যের অন্য অংশে কী হচ্ছে কেউ জানে না। আমরা কারও সঙ্গে কথাও বলতে পারছি না। মানুষজন উদ্বিগ্ন- তারা জানে না কী ঘটছে; তারা জানে না কী ঘটতে যাচ্ছে,” বলেছেন তিনি।
ভারতের অন্যান্য অংশে থাকা কাশ্মীরিরাও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ না করতে পারার কথা জানিয়েছেন; বলেছেন উদ্বেগ আর আতঙ্কের কথা।
দিল্লীতে থাকা কাশ্মীরের এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিতে স্থানীয় থানাতেও ফোন দিয়েছেন; কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভারতশাসিত কাশ্মীরের জনগণের অনেকেই এতদিন সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের কারণেই ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার যৌক্তিকতা খুঁজে নিত।
কিন্তু বিজেপি সরকার আইনি বাধ্যবাধকতাসহ সংবিধানের এ বিশেষ মর্যাদা তুলে নিয়ে দিল্লীর সঙ্গে এ এলাকার সম্পর্ককে একেবারে খাদের কিনারায় নিয়ে গেছে।
৩৭০ অনুচ্ছেদ জম্মু ও কাশ্মীরকে অনেক ক্ষেত্রেই স্বায়ত্তশাসন দিয়েছিল; এ অনুচ্ছেদের ফলে কাশ্মীরিদের নিজস্ব সংবিধান, আলাদা পতাকা ও স্বতন্ত্র আইন বানানোর অধিকার ছিল। রাজ্যটির কেবল পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।
ওই অনুচ্ছেদের বলেই কাশ্মীর স্থায়ী বাসিন্দা নির্ধারণ, সম্পত্তির মালিকানা ও মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত আলাদা আইন তৈরি করেছিল। সেসব আইনে ভারতের অন্য এলাকার বাসিন্দাদের কাশ্মীরের জমি-সম্পদ ক্রয় কিংবা এখানে স্থায়ীভাবে বসবাসে নিষেধাজ্ঞা ছিল।
পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতার কারণে উপত্যকাটিতে এমনিতেই বিপুল পরিমাণ সেনা মোতায়েন থাকতো। গত সোমবার ভারতের রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করার পর সেখানে আরও সৈন্য পাঠানো হয়।
পর্যটক এবং হিন্দু তীর্থযাত্রীদের আগেই এলাকাটি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়; স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়। এভাবে পরিকল্পনা বিষয়ে সামান্য ইঙ্গিত না দিয়েই ভারত সরকার তড়িঘড়ি করে ওই অনুচ্ছেদটি বাতিল করে দেয়।
পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা গত কয়েক মাস ধরেই খাদ্য মজুদ করে রাখছিল বলে ওই এলাকার সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।
রোববার রাতেই কাশ্মীরের দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দি করা হয়; ইন্টারনেট ও টেলিফোন যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ওই এলাকা কার্যত একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে; সেখানকার পরিস্থিতি কিংবা সেখানে কী ঘটছে কিছুই জানা যাচ্ছে না।
টেলিফোন ও ইন্টারনেট যোগাযোগ কখন চালু হবে এ বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত না মিললেও ওই এলাকায় লোকজনকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

কাশ্মীরকে ফিলিস্তিন বানানোর পাঁয়তারাঃঃ- 
ভারতের সংবিধানে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের যে নিশ্চয়তা ছিল, মোদি সরকার ৩৭০ ধারা বাতিল করার পর এর অন্তর্গত ৩৫-এ অনুচ্ছেদে বর্ণিত কাশ্মীরিদের বিশেষ সুবিধাও বাতিল হয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।  ‘৩৫-এ’ অনুযায়ী কাশ্মীরের বাসিন্দা নন এমন ভারতীয়দের সেখানে সম্পদের মালিক হওয়া ও চাকরি পাওয়ায় বাধা ছিল। মোদি সরকারের সিদ্ধান্তে সেই বাধা দূর হয়েছে। এখন চাইলেই যে কোনও ভারতীয় নাগরিক সেখান ভূমিসহ অন্যান্য সম্পদ কিনতে সক্ষম হবে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত কাশ্মীরিদের বিশেষ সুবিধা অকার্যকর করার মধ্য দিয়ে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের জনসংখ্যাতাত্ত্বিক চরিত্রে পরিবর্তন আনতে চাইছে বিজেপি। বিশ্লেষকদের মতে, মোদি সরকার আদতে কাশ্মীরে হিন্দু বসতি ও শিল্প গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায়কে হুমকির মুখে ঠেলে দিতে চাইছে। এই সিদ্ধান্তকে তাই ফিলিস্তিনি ভূখ-ের প্রশ্নে ইসরাইলি নীতির সঙ্গে তুলনা করছেন কেউ  কেউ। তারা বলতে চাইছেন, কাশ্মীরকে ফিলিস্তিন বানানোর পাঁয়তারা করছে হিন্দুত্ববাদী সরকার।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাধারণত এমন সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য রাজ্যের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজন হয়। তবে জম্মু-কাশ্মীরে এখন কেন্দ্রীয় শাসন চলছে। গত জুনে মেহবুবা মুফতির পিডিসি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার থেকে নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহার করে বিজেপি। আর তখনই রাজ্যটি সরাসরি কেন্দ্রের শাসনাধীন হয়। জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হ্যাপিমন জ্যাকব সিএনএনকে বলেছেন, এই কেন্দ্রীয় শাসন জারির মধ্য দিয়েই জম্মু-কাশ্মীরের সুরক্ষাকবচ হিসেবে সংবিধানে থাকা ৩৭০ ধারা বাতিলের পথ করে নিয়েছে বিজেপি সরকার।
জ্যাকব মনে করেন, যেভাবে প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রির মধ্য দিয়ে ৩৭০ ধারার বিলোপ করা হয়েছে, তার আইনত ভিত্তি দুর্বল। তিনি বলেন, ‘আদালতে এই আদেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, তবে আমার মনে হয় না বিজেপি সেটা নিয়ে চিন্তিত। যেনতেনভাবে তারা এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখবে এবং এই বাস্তবতা দীর্ঘ হবে। এই দীর্ঘ সময়কে কাজে লাগিয়ে বিজেপি রাজ্যটাকে ব্যাপকভাবে বদলে ফেলার চেষ্টা করবে। এখন আইনত সেখানে কোনও বিরোধী নেই। কেবলমাত্র গভর্নর আছেন যিনি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতার এখতিয়ার রাখেন। তবে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়োজিত।’
৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে রাজ্য থেকে কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চলে পরিণত করার বিল পাস করেছে বিজেপি সরকার। ভারতীয় বিধি অনুযায়ী, স্থানীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারই গুরুত্বপূর্ণ কর্তৃপক্ষীয় ভূমিকা পালন করার এখতিয়ারভুক্ত। তবে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে কেন্দ্রীয় সরকারই শাসনব্যবস্থার মূল নিয়ন্ত্রক। সোমবার কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে একটি বিল ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে পাস হয় এবং শিগগিরই এটি নিম্নকক্ষে তোলা হবে। জ্যাকব বলেছেন, ‘একটি রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার দৃষ্টান্ত নজিরবিহীন। তবে জম্মু-কাশ্মীরের রাজনীতির আমূল ও মৌলিক পরিবর্তন সত্যিই বিস্ময়কর। একবার একটি রাজ্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হলে সেখানকার রাজ্যসভার আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো ক্ষমতা থাকে না।’
বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপ অনুযায়ী, জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের অংশ দূরবর্তী পার্বত্য অঞ্চল লাদাখ আলাদা হয়ে যাবে এবং কেন্দ্রীয় শাসিত পৃথক অঞ্চলে পরিণত হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, কাশ্মীরিদের একটা বড় অংশ মনে করছে, মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের বিদ্যমান জনমিতির সুরক্ষাকে হুমকির মুখে ফেলবে। সরকারের এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, কাশ্মীরের বিদ্যমান ভূমির মালিকানার নীতি সেখানকার উন্নয়নের পথে যে প্রতিবন্ধকতা আকারে হাজির ছিল, কাশ্মীরের বিশেষ অধিকার বাতিলের মধ্য দিয়ে সেই পথ প্রশস্ত হবে। তবে লস অ্যাঞ্জেলস টাইমসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিশেষ অধিকার বাতিল হলে তুষারে আচ্ছাদিত ভূস্বর্গে হিন্দু সেটেলারদের বসতি গড়ার পথ প্রশস্ত হবে, হ্রাস পাবে মুসলিম জনসংখ্যা। একে সমালোচকরা ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইহুদি বসতি স্থাপনের অন্যায্যতার সঙ্গে তুলনা করছেন। মুসাদির আমিন নামের কাশ্মীরভিত্তিক একজন বিশ্লেষক ওই সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য কাশ্মীরের জনসংখ্যাতাত্ত্বিক অবস্থাকে বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টা যা কেবল সংঘাতকেই আরও ত্বরান্বিত করবে।’
রুশ বংশোদ্ভূত মার্কিন বিশ্লেষক অ্যান্ড্রু কারিবকো বলছেন, যেমন করে ইসরাইল ফিলিস্তিনি ভূমিতে অর্ধলক্ষ সেনা-সমাবেশ ঘটিয়েছে, কারফিউ জারির পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর ধারাবাহিক গ্রেফতার-নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে, যেমন করে সেখানকার স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেওয়া হয়েছে, গাজাকে পশ্চিমতীর থেকে পৃথক করে আলাদা প্রশাসনিক অঞ্চল বানানো হয়েছে, কাশ্মীরের ক্ষেত্রেও ভারত তাই করতে চলেছে। পশ্চিমতীরে যেমন করে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের বন্দোবস্ত করা হয়েছে, [৩৭০ ধারা বাতিলের মধ্য দিয়ে] তেমনি করে কাশ্মীরেও হিন্দুত্ববাদীরা অবৈধ বসতি স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। কারিবকো বলছেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক স্বীকৃত ওই বিতর্কিত ভূমির জনসংখ্যাগত চরিত্র বদলে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে।

অ্যামনেস্টি  কি বলছে??????
কাশ্মীরের মর্যাদা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত রাজ্যটিতে সহিংসতা বাড়াতে পারে বলে ভারতকে সতর্ক করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সোমবার লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার গ্রুপটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের পদক্ষেপ সেখানকার অস্থিরতার কারণ হতে পারে আর বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে। গত কয়েক দিনের পরিস্থিতিতে কাশ্মীরিদের খাদের কিনারায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়  ওই বিবৃতিতে।
সর্ব ভারতীয় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান আকর পাটেল বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে কাশ্মীর প্রত্যক্ষ করছে- অতিরিক্ত হাজার হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সুবিধা বন্ধ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা- জম্মু কাশ্মীরের মানুষদের খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে’।
স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কোনও ধরণের আলোচনা ছাড়াই পার্লামেন্টে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়েছে উল্লেখ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদদের গৃহবন্দি করে পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে ফেলা হয়েছে। জম্মু কাশ্মীরের মানুষের সম্পৃক্ততা ছাড়া সেখানকার নিপীড়ন বন্ধ করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন আকর পাটেল।
ওই বিবৃতিতে তিনি বলেন, অনির্দিষ্ট সময় ধরে জম্মু কাশ্মীরের টেলিযোগাযোগ সেবা বন্ধ রাখা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব বন্ধ থাকার কারণে কাশ্মীরের জনগণের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার, জানানোর সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এগুলো বাকস্বাধীনতার অখন্ড অংশ।

আমেরিকা বলছে——
ভারত-পাকিস্তান দু’দেশকেই নিয়ন্ত্রণরেখায় শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে আমেরিকা। সেই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের বিষয়টির উপর নজর রাখছে বলেও তারা জানিয়েছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে মার্কিন বিদেশ দফতরের মুখপাত্র মর্গ্যান অট্রাগাস বলেন, “দু’দেশকেই বলেছি নিয়ন্ত্রণরেখায় যেন শান্তি বজায় রাখে তারা।”
৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল এবং জম্মু-কাশ্মীরের প্রশাসনিক বিভাজন নিয়ে সোমবারই রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ সদস্যÑ চিন, আমেরিকা, রাশিয়া, ফ্রান্স এবং ব্রিটেনকে গোটা বিষয়টি জানিয়েছিল ভারত। তাদের কাছে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, বিষয়টি সংসদের বিবেচনাধীন এবং একেবারেই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কোনও আন্তর্জাতিক আইন ভাঙা হয়নি। সুশাসন, সামাজিক ন্যায় এবং জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের আর্থিক উন্নয়নই এর মূল লক্ষ্য। ফলে গত সোমবার বিকেল পর্যন্ত কোনও দেশকেই এ ব্যাপারে মুখ খুলতে দেখা যায়নি।
যে মার্কিন প্রসিডেন্টের মুখে কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্থতার কথা শোনা গিয়েছিল, সেই ডোনাল্ড ট্রাম্পও নীরব। যদিও সোমবার রাতের দিকে আমেরিকার বিদেশ দফতর থেকে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে তারা। জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অট্রাগাস। তিনি বলেন, “জম্মু-কাশ্মীরে আটকের ঘটনা ঘটছে, এমন রিপোর্টও আসছে। বিষয়টা নিয়ে উদ্বিগ্ন আমরা।” কোনও ভাবেই যাতে সেখানে ব্যক্তি অধিকার খর্ব না হয় সে দিকটা নজর রাখতে বলা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন অট্রাগাস।
অন্য দিকে, রাষ্ট্রপুঞ্জও জম্মু-কাশ্মীরের গোটা বিষয়টির উপর নজর রাখছিল। ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলকে ঘিরে যে উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে তা নিয়ে ভারত-পাকিস্তান দু’দেশকেই সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন রাষ্ট্রপুঞ্জ প্রধান আন্তোনিয়ো গুতেরেস। ব্রিটেন, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়ার মতো কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, কাশ্মীর উপত্যকা ফের অশান্ত হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার এর বিরুদ্ধে সোমবার বিকেলে কলকাতা প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করলো ভাষা ও চেতনা সমিতি। এই বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন ভাষা ও চেতনা সমিতির আহ্বায়ক ইমানুল হক ও বিশিষ্ট আইনজীবী, কলকাতার সাবেক মেয়র বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যসহ জাতি ধর্ম নির্বিশেষে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ।
সাবেক মেয়র বিকাশ রঞ্জন বাবু বলেন, আজকে যে কাজটা ওরা করলেন তার প্রকৃতপক্ষে কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদকে নতুন করে জন্ম দিলেন। ওরা ভুলে গেলেন যে, কাশ্মীরের সঙ্গে ভারতবর্ষের সংযুক্তিকরণ যখন হয় তখন একটি চুক্তির ভিত্তিতে হয়। কাশ্মীর একটা স্বাধীন দেশ ছিল। ভারতের সঙ্গে তাদের সংযুক্তিকরণ করেন এই শর্তে যে তাদের কিছু কিছু বিশেষ সুবিধা রাখতে হবে। আজকে ধরুন সিকিম যে ভারতবর্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তখনও চুক্তি হয়েছে সিকিমকে কিছু বিশেষ সুবিধা দিতে হবে। সেই চুক্তি যদি ভঙ্গ করা হয় তাহলে কি ভারতবর্ষের প্রতি সেই সব ছোট ছোট রাজ্য যারা একসময় যুক্ত হয়েছিল তারা আস্থা রাখতে পারবে? তারা বিচ্ছিন্নতাবাদের জন্ম দেবে। এখন যদি কাশ্মীরি জনগণ বলেন ৩৭০ ধারা নেই তাহলে আমরা আর ভারতবর্ষের সঙ্গে থাকতে রাজি নই কেন? ভারতবর্ষের সঙ্গে আমাদের সংযুক্তির মূল ভিত্তি চলে গেছে। তাই তারা উৎসাহিত হবে। বিদেশী শত্রুরা তাদের উৎসাহিত করবে। প্রকৃতপক্ষে মোদি-অমিত শাহ ভারতবর্ষকে টুকরো টুকরো করার পরিকল্পনাটা সেরে ফেললেন। এটা আসলে প্রকৃতপক্ষে ভারতবর্ষকে টুকরো টুকরো করে দেওয়ার একটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে আর এস এস এগোচ্ছে তাদের হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। এক ভয়াবহ বিপদজনক জায়গায় আমরা দাঁড়িয়ে আছি।

কাশ্মীর ইস্যুতে সবরকম পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের
জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতের ৩৭০ ধারা বাতিলের অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া হবে না বলে ‘হুমকি দিয়ে’ মুখ খুলেছে পাকিস্তান। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত ভারতীয় সংবিধানের ওই ধারা বাতিল করার পরপরই এ হুমকি দেয় ইমরান সরকার।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাশ্মীরের ব্যাপারে পাকিস্তান তার অবিচল প্রতিশ্রুতি আবারও নিশ্চিত করবে।
‘আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিতর্কিত অঞ্চলের অংশীদার হিসেবে ভারতের ওই অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
সোমবার রাজ্যসভায় পাশ হয়েছে ৩৭০ ধারা বাতিলের বিলটি। এতে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ আলাদা কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পরিণত হল। আজ বুধবার এটি লোকসভায় পাশ হলেই রাজ্যের মর্যাদা হারিয়ে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পরিণত হতে যাচ্ছে কাশ্মীর।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘‘জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সরকারের নেয়া ওই পদক্ষেপকে পাকিস্তান নিন্দা জানিয়ে প্রত্যাখান করেছে। ওই অঞ্চল আন্তর্জাতিকভাবেই বিতর্কিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। তাই ওই অঞ্চল নিয়ে ভারত সরকারের একতরফা সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া হবে না। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের দেয়া রেজুলেশনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলা হয়, ভারত সরকারের ওই সিদ্ধান্ত কাশ্মীর ও পাকিস্তানের জনগণ কখনো গ্রহণ করবে না।’

কাশ্মীর ইস্যুতে বিশ্বের সমর্থন চাইছে পাকিস্তান, তুরস্ক-মালয়েশিয়ার ইতিবাচক আশ্বাস
কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে বলে মনে করে পাকিস্তান। সোমবার ভারতের রাজ্যসভায় কাশ্মীরের সায়ত্তশাসন বাতিলের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দিল্লীর এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেবে ইসলামাবাদ। একই দিন বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ভারতের সিদ্ধান্তকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে কাশ্মীর ইস্যুতে তাদের সমর্থন প্রত্যাশা করেন তিনি।  এতে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোয়ান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এই খবর জানিয়েছে।
পরমাণু শক্তিধর দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই কাশ্মীরকে নিজেদের বলে দাবি করে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার পর দুই প্রতিবেশীর তিনটি যুদ্ধের মধ্যে দুটি সংঘটিত হয়েছে কাশ্মীর ইস্যুতে। এক সামরিক নিয়ন্ত্রণরেখা দিয়ে কাশ্মীরকে বিভক্ত করে রাখা হয়েছে। ভারতের শাসনে রয়েছে ৪৫ শতাংশ এলাকা আর পাকিস্তান শাসন করে ৩৫ শতাংশ অঞ্চল। আর বাকি অঞ্চল শাসন করে চীন। এ বিষয়ে জাতিসংঘে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে পাকিস্তান।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে লেখা চিঠিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযোগ জানান।
খবরে বলা হয়, জাতিসংঘ মহাসচিবকে লেখা চিঠিতে জম্মু-কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর তৎপরতা সম্পর্কে অবহিত করেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
চিঠিতে মাহমুদ কোরেশি বলেন, কাশ্মীরি জনগণের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করে ভারত সরকার উপত্যকাটির নাগরিকদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালাচ্ছে। এছাড়া ভারতীয় বাহিনী কাশ্মীর সীমান্তে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বর্ডার অ্যাকশন টিমের সদস্যদের টার্গেট করে গুলি চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে ভারত সরকার জাতিসংঘের নির্ধারিত নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে বলেও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে দিয়ে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করায় পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কঠিন বার্তা দিয়েছে পাকিস্তান।
সোমবার ভারতীয় পার্লামেন্টের রাজ্যসভায় ৩৭০ ধারা বাতিল করায় পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে ডেকে প্রতিবাদ জানায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এ সময় কাশ্মীরে যে কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি থেকে বিরত থাকার জন্য রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে ভারতকে সতর্ক করে পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ভারতের বাড়াবাড়ির কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পাকিস্তান কঠিন পদক্ষেপ নেবে বলেও হুশিয়ারি করা হয়।

৩৭০ ধারা বাতিল করে ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের উপর করে নয়া দিল্লী পাকাপাকিভাবেই তার অধিকার হারিয়ে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু-কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দার।
গত সোমবার ভারতীয় রাজ্যসভায় কাশ্মীরের বিশেষ সুবিধা বাতিল ও রাজ্যকে দুইভাগ করার বিল পাসের পর ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ভারত কাশ্মীরের উপর তাদের অধিকার হারালো। এ পরিস্থিতিতে আজাদ কাশ্মীরের আইনসভায় একটি বিশেষ অধিবেশনও ডাকা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক বলেন, ভারত আজ আনুষ্ঠানিকভাবে কাশ্মীর হারালো। আমরা কখনোই ভারতের অংশ ছিলাম না। কিন্তু ভারত আজ লাদাখ ও জম্মুসহ উপত্যকাও হারালো। কাশ্মীরের মানুষ জীবন বাঁচাতে যুদ্ধ করছে উল্লেখ করে তিনি আশংকা প্রকাশ করে বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরে গণহত্যা চালাতে পারে। রাজা হায়দার বলেন, সরকার শুধু মাত্র ভারতীয় প্রোপাগান্ডার জবাবই দেবে না বরং কাশ্মীর নিয়ে তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিও বিশ্বের দরবারে তুলে ধরবে। ভারত এমন পরিস্থিতি তৈরি করে পাকিস্তানের সাথে একটি জটিল সম্পর্ক সৃষ্টি করছে। আবার অনেকে  ইমাম মাহদীর আগমনের পুর্বে আল্ললাহ রাসুুুলের সাঃ বানী গাজওয়াতুুুল হিন্দ  নিয়ে কথা বলছেন।

 

 

 

 

ক্রাইম ডায়রি////

5631total visits,82visits today

বগুড়ার সীমাবাড়ি ও ভবানীপুর ইউপিতে ভি জি এফের চাল বিতরণ

মোঃ শাহাদাত হোসেন, ভ্রাম্যমাণ   প্রতিনিধিঃ

বগুড়া শেরপুরের সীমাবাড়ি ও ভবানীপুর ইউনিয়নে গরীব ও দুস্হদের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরন করা হয়েছে। এ সময় গরীব ও দুস্হদের মাঝে মাথাপিছু ১৫ কেজি করে চাল বিতারন করা হয়েছে।সম্প্রতি ভবানীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব আবুল কালাম আজাদ ও সীমাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু গৌরদাস রায় চৌধুরীর  উদ্যেগে এই ভিজিএফ এর চাল বিতরণ করা হয়। ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের   চাল বিতরণের সময় উপস্হিত ছিলেন মোঃ শাহাবুল ইসলাম, উপ- সহকারী প্রকৌশলী, মেম্বার মোঃ শামীম হোসেন,মেম্বার মোঃ মোখলেচুর রহমান, মেম্বার মোঃ সাইফুল ইসলাম, মেম্বার মোঃ রহমান হোসেন, বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, সমাজ সেবক মোঃ সুজন আলী, শ্রমিক নেতা মোঃ রুবেল হোসেন, এবং ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ আমিনুল ইসলাম সহ ভবানীপুর ইউনিয়নের স্হানীয় জনগন। সীমাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের    চাল বিতারণের সময় উপস্হিত ছিলেন মোঃ আখতারুজ্জামান শিক্ষা অফিসার, সীমাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোঃ লতিফ হোসেন, ,মেম্বার মোঃ জহুরুল ইসলাম, আঃ রাজ্জাক, , মেম্বার মোঃ রেজাউল করিম ইসলাম, মেম্বার মোঃহোসেন আলী বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোঃহালিম হোসেন, সমাজ সেবক মোঃ রুবেল হোসেনসহ সীমাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব লিটন কুমার  ও সীমাবাড়ী ইউনিয়নে স্হানীয় জনগন। উপস্হিত জনতার সামনে সঠিক ওজনে মাথাপিছু ১৫ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরন করা হয়। ক্রাইম ডায়রি ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে সীমাবাড়ী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান শ্রী যুক্ত বাবু গৌরদাস রায় চৌধুরী ও ইউনিয়ন প্রতিনিধি সহ সঠিক মাপে ১৫ কেজি চাল বিতারন করছেন। উভয় জায়গাতেই   ক্রাইম ডায়রি ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেন সরেজমিনে পরিদর্শন করে চাল বিতরনে জনতার হাস্যোজ্জল মুখ পরিলক্ষিত করেন।

ক্রাইম ডায়রি //জেলা/গ্রাম বাংলা

 

 

5631total visits,82visits today

আদালতের মন্তব্যঃরাষ্ট্রপতি এবং প্রধাণমন্ত্রী ভি আইপি;বাকী সবাই প্রজাতন্ত্রের চাকর

শাহাদাত হোসেন  রিটনঃ
অমানবিক মৃত্যুর পর টনক নড়েছে পুরো দেশবাসীর। আলোচনা সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় ঘটনাটি। স্বপ্রণোদিত হয়ে আদালতে রিট করা হয়। এতে, রাষ্ট্রপতি আর প্রধানমন্ত্রী ছাড়া দেশে কোনো ভিআইপি নেই বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। যুগ্ম সচিবের অপেক্ষায় মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে তিন ঘণ্টা দেরিতে ফেরি ছাড়ায় স্কুলছাত্র তিতাসের মৃত্যুর ঘটনায় করা রিটের শুনানিতে বুধবার এ মন্তব্য করেন আদালত। আদালতের এ নির্দেশনায় জনগনের চাওয়ার প্রতিফলন ঘটেছে বলে অনেকে মনে করছেন।।     সংশ্লিষ্ট যুগ্ম সচিব ও ফেরির ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানিতে আদালত বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি আর প্রধানমন্ত্রী ছাড়া দেশে কোনো ভিআইপি নেই। বাকিরা সবাই প্রজাতন্ত্রের চাকর।’
উল্লেখ্য গত কয়েকদিন আগে   নড়াইল কালিয়া পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাস ঘোষ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে তাকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা ভাড়া করা একটি আইসিইউ সম্বলিত অ্যাম্বুলেন্সে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির উদ্দেশে রওনা দেন পরিবারের লোকজন। রাত ৮টার দিকে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌ-রুটের মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ১ নম্বর ভিআইপি ফেরিঘাটে পৌঁছায় অ্যাম্বুলেন্সটি। তখন কুমিল্লা নামে ফেরিটি ঘাটে যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় ছিল। সরকারের এটুআই প্রকল্পের যুগ্ম সচিব আবদুস সবুর মণ্ডল পিরোজপুর থেকে ঢাকা যাবেন বলে ওই ফেরিকে অপেক্ষা করতে ঘাট কর্তৃপক্ষকে বার্তা পাঠানো হয়। তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর ফেরিতে ওঠে অ্যাম্বুলেন্সটি। এসময় ফেরী কর্তৃপক্ষকে জীবনভিক্ষা চেয়ে অনুনয়-বিনয় করে তিতাসের মাসহ পরিবার। বহু কান্নাকাটির পরও মন গলেনি তাদের। কিন্তু এর মধ্যে মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যায় তিতাস। এ ঘটনা তদন্তে সোমবার (২৯ জুলাই) তিনটি কমিটি গঠন করা হয়।
বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটের শুনানি হয়। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জহির উদ্দিন লিমন।পুরো দেশই শুধু নয় বিশ্বমানবতা স্থম্ভিত। বঙ্গকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে পুরো বাংলাদেশ যাতে এহেন ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি দেখতে না হয়।।
ক্রাইম ডায়রি/// জাতীয়///আদালত

5631total visits,82visits today

পুলিশের ব্যক্তিগত কাজে গাড়ি রিকুইজিশনে নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টের

এড.আবুল বাশার, হাইকোর্ট সংবাদদাতাঃ

যখন তখন গাড়ি রিকুইজিশন করে নেয়া দেখলে মনে হয় নিজ দেশে  পরবাসী হয়ে আছে গাড়ির মালিকেরা।প্রাচীনকালে  কর বা জিজিয়া প্রদানের মত বাধ্য হয়েই এটা করতে হয় সাধারণ মানুষের। আদালতের  দৃষ্টিগোচর হলে জনগনের স্বার্থে    ব্যক্তিগত কাজে গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশা ও ট্যাক্সি রিকুইজিশন করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপির) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোশতাক হোসেন।রায় শেষে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্ট কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়েছেন।

সেগুলো হলো- যে কোনো গাড়ি রিকুইজিশন অবশ্যই জনস্বার্থে করতে হবে। যদি কেউ না করে সে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।রিকুইজিশন করা গাড়ি কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত বা পরিবারের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না। করলে অসদাচরণের জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।

রিকুইজিশন করা গাড়ির ব্যাপারে প্রত্যেক পুলিশ স্টেশনে তালিকা সংরক্ষণ করতে হবে। ব্যক্তিগত গাড়ি রিকুইজিশন করা যাবেনা।  রিকুইজিশনের ব্যাপারে যে কোনো অভিযোগ পুলিশ কমিশনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।

রিকুইজিশনকৃত গাড়ির ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। গাড়ির পেট্রোল খরচ বহন করতে হবে। চালকদের খাবার খরচ দিতে হবে।ছয় মাসের মধ্যে একই গাড়ি দ্বিতীয়বার রিকুইজিশন করা যাবে না। নারী, শিশু, রোগী থাকলে সে গাড়ি রিকুইজিশন করা যাবে না।

পুলিশ কমিশনার একটি সার্কুলার ইস্যু করে সব পুলিশ কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন এবং নির্দেশনা মানা নিশ্চিত করবেন।আদালত মামলাটি চলমান রেখেছেন বলে জানিয়েছেন মনজিল মোরসেদ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশের ১০৩(ক) ধারার অধীনে পুলিশ কর্তৃক গাড়ি রিকুইজিশনের বিধান নিয়ে ২০১০ সালে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করা হয়েছিল। তবে এইরায়ে খুশি পুরোদেশবাসী।

ক্রাইম ডায়রি///আদালত///

5631total visits,82visits today

কাঁচা মরিচের কেজি ১৬০টাকাঃ বিপাকে ঝিনাইদহের সাধারন মানুষ

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ


বৈরি আবহাওয়া ও মাকড়ের আক্রমণে ঝিনাইদহে মরিচের ফুল নষ্ঠ হওয়ায় কাঁচা মরিচের উৎপাদন ব্যাপক কমে গেছে। এতে বাজারে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলা দেশের অন্যতম কাঁচা মরিচ উৎপাদনকারী এলাকা। খরিপুর ১ মৌসুমে যশোরে ৬’শ ৬৫ হেক্টরে, ঝিনাইদহে ১৫’শ ৭০ হেক্টরে, মাগুরায় ৬’শ ৯৫ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গায় ১৩’শ ৪৯ হেক্টরে, মেহেরপুরে ৪ হাজার ২’শ ৮০ হেক্টরে ও কুষ্টিয়ায দু হাজার ৭৫ হেক্টরে মরিচের চাষ হয়। এসব জেলাগুলোতে প্রচুর মরিচ উৎপাদন হয়ে থাকে। মে জুন মাসে ক্ষেতে প্রচুর কাঁচা মরিচ ধরে। দামও একেবারেই পড়ে যায়। কোন কোন সবজি বাজারে পাইকারি প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ মাত্র ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি হয়। শৈলকুপা উপজেলার গোরিন্দপুর গ্রামের রিপন শেখ জানান, তারা চার ভাই অনেক দিন ধরে মরিচ চাষ করে আসছে। খরিপুর-১ মৌসুমে চাষ করা মরিচ শেষ পর্যায়ে, গাছ মরে যাচ্ছে। মাস দেড়েক আগে পাইকারী প্রতি কেজি মরচি ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। তখন ক্ষেত থেকে মরিচ তুলে ভ্যান ভাড়া দিয়ে হাটে এনে বিক্রির পর লাভ থাকতো না। বৃষ্টি কম হওয়ায় মরিচ গাছ মরে যায়। গরম ও মাকড়ের আক্রমণে মরিচ গাছে ফুল ফল কম ধরে। এতে মরিচের উৎপাদন কমে যায়। দাম চড়ে যায়। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ পাইকারী একশ’ ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা একশত ষাট টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিসের উপ-
পরিচালক সুরেন্দ্র শেখর মালাকার জানান, খরিপুর ১ মৌসুমে চাষ করা মরিচ শেষ পর্যায়ে। গরম ও মাকড়ের আক্রমণে মরিচের ফুল ফল নষ্ঠ হওয়ায় উত্পাদন কমে গেছে। বৃষ্টি হলে মরিচের উৎপাদন বেড়ে যাবে বলে তিনি জানান।

5631total visits,82visits today

রাজধানীতে হাসপাতাল মালিক দুই ভূয়া চিকিৎসক আটক

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃঃ

ভূয়া ডাক্তার নিয়ে লেখালের শেষ নেই। কিন্তু কোন অবস্থাতেই বন্ধ হয়নি ভূয়াদের দৌরাত্ব। কি রাজধানী, কি মফস্বল! সবজায়গাতেই হাতুড়ে আর ভূয়াদের আনাগোনা। তিনি কোনোরকম এসএসসি পাশ। এরপর ১৩ বছর ধরে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছিলেন গাইনি চিকিৎসক হিসেবে। দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছিলেন ভুয়া চিকিৎসা। দুই রোগীর জরায়ুতে অস্ত্রোপচার করে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় অভিযান চালায় র‍্যাব। দেখা যায়, অভিযুক্ত হাসপাতালটির দুই চিকিৎসকই ভুয়া।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ির ধোলাইরপাড়ে অবস্থিত হাসপাতালটি। নাম কিউর জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। গতকাল বুধবার (২৫ জুলাই) রাতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় হাসপাতালটির দুই ভুয়া চিকিৎসকসহ তিনজনকে আটক করে র‌্যাব ১০ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাদেরকে আট লাখ টাকা জরিমানাসহ দুই বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সিলগালা করে দেওয়া হয় হাসপাতালটি।

একই সঙ্গে দুই ভুয়া চিকিৎসককে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালটির মালিক রাহিমা আক্তারকে চার লাখ টাকা জরিমানাসহ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। এর আগে বুধবার (২৫ জুলাই) রাতে যাত্রাবাড়ির ধোলাইরপাড়ে অবস্থিত কিউর জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ডিজি হেলথ’র পরিচালক ডা. মো. শফিউর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলম বলেন, কিউর জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক রাহিমা আক্তার। এসএসসি পাশ করে ২০০৮ সাল থেকে ১৩ বছর নিজেকে গাইনি চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে আসছেন তিনি। পরিচালনা করছিলেন হাসপাতালটি। সেখানকার আরেক ভুয়া চিকিৎসক এস এম আল মাহমুদ। নিজেকে এমবিবিস ও এফসিপিএস ডিএমসিএইচ পরিচয় দিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন তিনিও।

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযানে আরও দেখা যায়, কোনো স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের মতামত ছাড়াই শাবানা নামে এক রোগীর জরায়ু কেটে ফেলে দেওয়া হয়েছে। অপারেশনের সময়ও ছিল না কোনো কনসালটেন্ট। দুইজন ভুয়া চিকিৎসক মিলেই অপারেশন করে ফেলেন। হাসপাতালের মালিক এসএসসি পাশ রহিমাও নিজেকে ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসা দেন এবং অপারেশন করেন। এছাড়া গত ১০ জুলাই সিজার করার সময় এ হাসপাতালে এক নবজাতক মারা যায়।’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, দুই বছর আগেও ওই হাসপাতালটিকে জরিমানা করা হয়। তবুও বন্ধ হয়নি এসব ভূয়াদের দৌরাত্ব। উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহন না করলে লাভজনক এ পেশায় ভূয়ারা আরও বেশি প্রবেশ করে মারাত্বক ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে জনস্বাস্থ্যকে।

ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম//আদালত

5631total visits,82visits today

আলোকিত বগুড়ার উদ্যোগে সীমাবাড়ি মহিলা কলেজ চত্তরে বৃক্ষরোপন

আলমগীর হোসেন, সীমাবাড়ি সংবাদদাতাঃ

আলোকিত বগুড়া সীমাবাড়ী শাখার আয়োজনে সীমাবাড়ী মহিলা কলেজে বিভিন্ন বনজ ফলজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন আলোকিত বগুড়ার পরিচালক এ্যাডভোকেট ফেরদৌসি আক্তার রুনা।

সিমাবাড়ী শাখার সভাপতি- বেটখের উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম আকন্দ,
সম্পাদক- কাজী মুহাঃ আলমগীর হোসাইন।  সীমাবাড়ি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সাবিনা বেগমসহ আলোকিত বগুড়ার সদস্য বীরমুক্তিযোদ্বা আলহাজ ইমরুল কায়েস,
আসাদুল ইসলাম,শামীম কামালসহ আর ও অনেকে।

ক্রাইম ডায়রি// জেলা///শিক্ষাঙ্গন

5631total visits,82visits today