• শুক্রবার (সন্ধ্যা ৭:২৮)
    • ১৪ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

বঙ্গবন্ধুর মেয়ে এটাই কি তার কম পরিচয়? কিন্তু তিনি যে বঙ্গবন্ধুর ছায়া। বঙ্গকন্যা ও মমতাময়ী শেখ হাসিনা। পুরো দেশের যেহেতু তিনিই প্রধান তাই সকল জনগনই তার সন্তানের মত। মমতায় তাই আগলে থাকে পুরো দেশ ও তার জনগন। একদিকে পিতাকে হারিয়েছেন অপরদিকে হারিয়েছেন পুরো পরিবার। পিতৃহত্যার প্রতিশোধের আগুন বুকে চেপে নির্বাসিত ফেরারী জীবনে শেষে  শেখ হাসিনা দলের সিদ্ধান্তে এক বজ্রকঠিন ব্রত নিয়ে ১৯৮১ সালে দেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন।
৩৯ বছর আগে উদারনৈতিক–প্রগতিশীলতার রাজনীতির পরিবেশ ফিরিয়ে, দেশ ও জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার গুরুদায়িত্ব কাঁধে নেয়ার জন্য, জননী শেখ হাসিনা ত্যাগ করেছিলেন সন্তানদের মায়া পর্যন্ত! মাতৃসঙ্গ বঞ্চিত তাঁর দুই সন্তান তখন বিদেশে ছোটবোন রেহানার কাছে। গণতন্ত্র আর সুবিচার নিশ্চিত করার যুদ্ধে তখন বড় চ্যালেঞ্জ ছিল প্রতিকূল রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন।  স্বদেশে ফেরার দিনটি ইতিহাসের এক বড় সূচনাক্ষণ নতুন অধ্যায়ের। পরতে পরতে সংগ্রামী বঙ্গবন্ধু কন্যার রাজনৈতিক বিচক্ষণতায় ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রের শাসন ক্ষমতা ফেরে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়া আওয়ামী লীগের হাতে। দলীয় প্রধান হিসেবে ইতিহাস তার কাঁধে সমর্পণ করেছিলো জাতির কাণ্ডারি হবার দায়ভার।

বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে সব সূচকে অগ্রগতি, সাফল্য আর উন্নয়নের ফানুস উড়িয়েই টানা দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতার চার বছর পূর্ণ করল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ১২ জানুয়ারি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এই সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুত্তি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন দেশের ভেতর-বাইরে প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ এখন শুধু উন্নয়নের রোল মডেলই নয়, একটি মানবিক রাষ্ট্র হিসেবেও প্রশংসিত। কথিত তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি খাদ্য, বস্ত্র-চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ সবকিছুই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা ও সাহসী নেতৃত্বের কারণে।

দারিদ্র্যক্লিষ্ট এই জাতিকে মুক্তি দিতে বিরতিহীন যাত্রা একজন শেখ হাসিনার। দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে সবার বাসোপযোগী করা প্রগতির স্বপ্ন বাস্তবায়নের সেই যাত্রা রাজনৈতিক-পারিপার্শ্বিক আর প্রাকৃতিক শত প্রতিকূলতাতেও হার মানাতে পারেনি দৃঢ়চেতা এই নেত্রীকে। প্রত্যাবর্তনের চার দশকে ব্যক্তি শেখ হাসিনাকে বরাবরই দেখা গেছে কল্যাণমুখী মানসিকতায় যেকোনো দুর্যোগ পরিস্থিতিতে সব সামলে নেয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ভূমিকায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের জন্য সুকৌশলে তিনি যুদ্ধ করে চলেছেন প্রাকৃতিক আর মনুষ্যসৃষ্ট সব বাধা-বিপত্তির বিপরীতে। পিতৃহারা শেখ হাসিনা যখন ঢাকায় ফিরেছিলেন সে সময়টাতেও প্রকৃতি ছিলো এক রুদ্র মূর্তির বাতাবরণে। কালবৈশাখীর ঝড় সামলে চলার শুরু হয়তো সেই থেকেই।

“বঙ্গবন্ধুর মেয়ে এটাই কি তার কম পরিচয়? কিন্তু তিনি যে বঙ্গবন্ধুর ছায়া। বঙ্গকন্যা ও মমতাময়ী শেখ হাসিনা। পুরো দেশের যেহেতু তিনিই প্রধান তাই সকল জনগনই তার সন্তানের মত। মমতায় তাই আগলে থাকে পুরো দেশ ও তার জনগন। একদিকে পিতাকে হারিয়েছেন অপরদিকে হারিয়েছেন পুরো পরিবার। পিতৃহত্যার প্রতিশোধের আগুন বুকে চেপে নির্বাসিত ফেরারী জীবনে শেষে  শেখ হাসিনা দলের সিদ্ধান্তে এক বজ্রকঠিন ব্রত নিয়ে ১৯৮১ সালে দেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন।
 ৩৯ বছর আগে উদারনৈতিক–প্রগতিশীলতার রাজনীতির পরিবেশ ফিরিয়ে, দেশ ও জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার গুরুদায়িত্ব কাঁধে নেয়ার জন্য, জননী শেখ হাসিনা ত্যাগ করেছিলেন সন্তানদের মায়া পর্যন্ত!”

সরকারের টানা নয় বছরে দেশের রাজনীতিসহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ শেখ হাসিনার হাতে থাকলেও সে পথ মসৃণ ছিল না। জ্বালাও-পোড়াও, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাসহ দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র, বাধা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগোতে হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, ক্রীড়া, পরিবেশ, কৃষি, খাদ্য, টেলিযোগাযোগ, সংস্কৃতি, সামাজিক নিরাপত্তা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এমন কোনো খাত নেই যে খাতে অগ্রগতি সাধিত হয়নি। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে দেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, পুষ্টি, মাতৃত্ব এবং শিশু স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলেও।

দেশ আর্থ-সামাজিক সূচকসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রত্যাশাজনক সাফল্য অর্জন করেছে এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ এখন মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের কাজ অব্যাহতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের প্রবৃদ্ধি ৫.৫৭ থেকে ৭.২৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয় ৮৪৩ থেকে ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার, বিনিয়োগ ২৬.২৫ শতাংশ থেকে ৩০.২৭ শতাংশ, রফতানি ১৬.২৩ থেকে ৩৪.৮৫ বিলিয়ন ডলার, রেমিট্যান্স ১০.৯৯ থেকে ১২.৭৭ বিলিয়ন ডলার, রিজার্ভ ১০.৭৫ থেকে ৩৩.৪১ বিলিয়ন ডলার এবং এডিপি ২৮৫ বিলিয়ন টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১০৭ বিলিয়ন টাকা।

নিজস্ব অর্থে পদ্মার ওপর ৬ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করার সাহস দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ার পর বিশাল এ প্রকল্প হাতে নেয়ার ঘটনা অনেক দেশ ও সংস্থার সন্দেহ ও বিস্ময় প্রকাশ করলেও সে স্বপ্ন এখন দৃশ্যমান। এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করছে বাংলাদেশ। গত বছরের ৩০ নভেম্বরের পর থেকে দেশ এখন বিশ্বের ৩১টি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের তালিকায়। ২০৪১ সালে উন্নত দেশে উন্নীত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগও চলমান। রয়েছে মহাকাশ জয়ের লক্ষ্য। দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ আগামী মার্চে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ উপগ্রহ সফলভাবে মহকাশে গেলে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হবে বাংলাদেশ। বছরে সাশ্রয় হবে ১৪ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ছাড়াও ব্যবহার করবে সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমিনিস্তান ও কাজাখস্তানের কিছু অংশ।

এ ছাড়া মেট্রোরেল, এলিভেটেট এক্সপ্রেসহ আরো কিছু বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। দেশের প্রথম ৬ লেনের ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪ জানুয়ারি ফেনী জেলার মহিপালে এই ফ্লাইওভার উদ্বোধন করেন। দেশের আইটি খাতের নতুন সম্ভাবনা যশোরে ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ প্রধানমন্ত্রী ১০ ডিসেম্বর উদ্বোধন করেছেন। মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) সুমিতোমোর নেতৃত্বাধীন জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

বর্তমান সরকারের শাসন আমলেই কোনো রকম যুদ্ধ-সংঘাত বা বৈরিতা ছাড়াই দুই প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের বিপক্ষে সমুদ্র বিজয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। বঙ্গোপসাগরে এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি টেরিটরিয়াল সমুদ্র, ২০০ নটিক্যাল মাইল এলাকায় একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপান এলাকার প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া স্বাধীনতার পরপর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে স্থল সীমান্ত চুক্তি হয়েছিল সম্প্রতি তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহল সমস্যার সমাধান করা বাংলাদেশের বড় অর্জন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। সর্বশেষ রোহিঙ্গা ইস্যুতেও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা পেয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘসহ বিশ্বের প্রায় সকল দেশ ও সংস্থা এই ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করে পাশে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পেয়েছেন ‘মাদার অফ হিউম্যানিটি’ উপাধি। তলাহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ আজ ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি খাদ্য, বস্ত্র-চিকিৎসার দায়িত্বও পালন করছে।

পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস, বিশ্বের পাঁচজন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে চিহ্নিত করেছেন, যাদের দুর্নীতি স্পর্শ করেনি, বিদেশে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই, উল্লেখ করার মতো কোনো সম্পদও নেই। বিশ্বের সবচেয়ে সৎ এই পাঁচজন সরকারপ্রধানের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়াও কাজের অবদানের জন্য তাকে নানা পুরস্কারে ভূষিত করা হয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে।

২০১৪ সালে ইউনেস্কো তাকে ‘শান্তির বৃক্ষ’ ও ২০১৫ সালে ওমেন ইন পার্লামেন্টস গ্লোবাল রফারাম নারীর ক্ষমতায়নের জন্য তাকে রিজিওনাল লিডারশিপ পুরস্কার এবং গ্লোবাল সাউথ-সাউথ ডেভলপমেন্ট এক্সপো-২০১৪ ভিশনারি পুরস্কারে ভূষিত করে। বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নে অব্যাহত সমর্থন, খাদ্য উৎপাদনে সয়ম্ভরতা অর্জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে অবদানের জন্য আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৫ সালে তাকে সম্মাননা সনদ প্রদান করে। জাতিসংঘ পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচি দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবেশ এবং টেকসই উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য লিডারশিপ ক্যাটাগরিতে শেখ হাসিনাকে তাদের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ-২০১৫’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

টাইম ম্যাগাজিনের বিবেচনায় বিশ্বের প্রভাবশালী ১০ নারী নেত্রীর একজন মনোনীত হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। একজন জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা সবসময় নিজেকে প্রমাণ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক খালিজ টাইমস রোহিঙ্গাদের সংকট মোকাবিলায় শেখ হাসিনার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য তাকে ‘নিউ স্টার অব দ্য ইস্ট’ বা ‘পূর্বের নতুন তারকা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার কাজে সফলতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। টানা দুই মেয়াদের ক্ষমতায় বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশ ও গোষ্ঠীর চাপ সত্ত্বেও শীর্ষস্থানীয় অপরাধীদের বিচার শেষে রায় কার্যকর করা হয়েছে। এই বিচার করতে পারা স্বাধীন বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করার ক্ষেত্রে বড় সাফল্য। সেই সঙ্গে গত কয়েক বছরে ডিজিটাইজেশনে বাংলাদেশের অগ্রগতি বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করছে। ভূমি ব্যবস্থা ডিজিটাইজেশনের ফলে মানুষের দুর্ভোগ কমছে। ই-টেন্ডারিং, ই-জিপির ফলে দুর্নীতি কমছে। ১০ টাকায় কৃষক ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ, মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করার ঘটনাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদাহরণ হিসেবে কাজে লাগছে।

প্রথম মেয়াদ শেষ করা ও টানা দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু ও তার চার বছরে অনেক সফলতা আসলেও এই যাত্রা মসৃণ ছিল না। এই সময়ে পিছু ছাড়েনি ষড়যন্ত্র। সামনে এসেছে নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ। বিএনপি-জামায়াতের চরম রাজনৈতিক সহিংসতা মোকাবিলা করে দেশ যখন স্থিতিশীল পরিবেশে অর্থনৈতিকসহ নানা ক্ষেত্রে ইতিবাচক ধারায়, ঠিক তখনই আবার নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে জঙ্গিবাদ। তবে এসব চ্যালেঞ্জের বেশিরভাগই স্বাভাবিকভাবে সৃষ্ট নয়, বরং ষড়যন্ত্রমূলকও। সরকারকে বিপাকে ফেলে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড-অগ্রযাত্রা স্তিমিত করে দেয়াই ছিল উদ্দেশ্য। গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ জঙ্গি হামলা, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদের জামাতে জঙ্গি হামলা, মসজিদ-মন্দিরে হামলা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং সবশেষ এক নারী জঙ্গির আত্মঘাতীর ঘটনা সেটিই প্রমাণ করে। তবে সব ষড়যন্ত্র আর চ্যালেঞ্জ প্রজ্ঞার সঙ্গে মোকাবিলা করেই পথ চলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে যখন দেশে ক্রমে বেড়েই চলেছে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। ঠিক এর শুরু থেকেই এ যুদ্ধের জন্য দেশবাসীকে প্রস্তুত করেছেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। সংক্রমণ রোধে অর্থনৈতিক স্থবিরতা নেমে আসবে জেনেও, দীর্ঘ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে মানুষকে নিরাপদ করার প্রয়াসে নির্দেশ দেন ‘ঘরে থাকার’।

অর্থনীতি থেকে শুরু করে পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতায় সবকিছু থমকে দেয়ার বৈশ্বিক এই দুর্যোগেও বিরতিহীন যিনি শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন তিনি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। অচেনা এই দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে সমাজের সব শ্রেণির জন্য রাষ্ট্রের তরফ থেকে প্রতিনিয়তই ‘কিছু না কিছু’ বন্দোবস্ত করে চলেছেন তিনি।

এই যুদ্ধে জয়লাভের আকাঙ্ক্ষায় নিরলস শ্রমে তিনি নিত্য-নতুন নীতি আর প্রণোদনার আলোকে দেশবাসীকে যুগিয়ে চলেছেন ঘুরে দাঁড়ানোর নিরন্তর প্রেরণা। কোভিডের এই পরিস্থিতি সামলে নিতে কী করছেন শেখ হাসিনা? তার পদক্ষেপগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়:

● কোভিড-১৯ এর শুরু থেকেই সবকিছু বন্ধ থাকার দরুন সার্বক্ষণিক দাপ্তরিক কাজ চালাচ্ছেন গণভবন থেকেই; প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন ঘরে বসেই।

● ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়মিত ভিডিও কনফারেন্সে খোঁজ রাখছেন মাঠ পর্যায়ে।

● পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্ক সদস্য দেশগুলোর নেতৃবৃন্দসহ ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সাথে।

● অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে ঘোষণা করেছেন সহায়তার রকমারি উদ্দীপনা প্যাকেজ।

● প্রায় ১ লাখ ১ হাজার ১১৭ কোটি টাকার ১৮ টি প্যাকেজ ঘোষণা; যা দেশের মোট জিডিপি’র ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

● কুটির-মাঝারি-বড় শিল্পের পাশাপাশি প্রণোদনার আওতায় এসেছে রপ্তানিকারকসহ প্রান্তিক কৃষক শ্রেণিও।

● বিপুল সংখ্যক রোগীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে জরুরী ভিত্তিতে ২ হাজার ডাক্তার ও ৫ হাজারের বেশি নার্স নিয়োগ।

● চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী ও বিজিবি সদস্য এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীর জন্য বীমা ও সম্মানী ভাতা চালুকরণ।

● রেশন কার্ডের সুবিধার আওতা ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১ কোটিতে উন্নীতকরণ।

● কৃষকদের যথাসময় বীজ পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংগ্রহের পরিকল্পনা।

● ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় ও দুর্নীতি রোধে ৬৪ জেলায় সচিবদের দায়িত্ব বণ্টন; অসদুপায়ের দায়ে ৫৫ জন জনপ্রতিনিধির বহিষ্কারাদেশ।

● আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেশে ৯০ লাখ ২৫ হাজার ৩২৭ পরিবারকে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি ৮ কোটি ৬২ লাখ ৮ হাজার টাকা নগদ প্রদান।

● ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে কর্মহীন হয়ে পড়া ৫০ লাখ পরিবারে নগদ ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকার সহায়তা প্রেরণ।

জনগণকে সচেতন করে, এই ভাইরাসের বিরুদ্ধেও চূড়ান্ত লড়াইয়ে লিপ্ত শেখ হাসিনা। অতীতের সব বৈরী আবহাওয়া মোকাবিলার মতো করে এই মহামারী থেকে দেশ বাঁচাতেও সংকল্পবদ্ধ প্রধানমন্ত্রী। করোনা সেরে গেলে অথৈ সাগরে দেশের নিমজ্জিত হবার পরিস্থিতি রোধে তিনি যথাসম্ভব লড়ছেন ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে, আপন বুদ্ধিতে।

করোনা পরবর্তী দুনিয়ায় সামগ্রিক অর্থেই রাজনীতি, অর্থনীতি সব নীতিতেই নতুন ধারা অবশ্যম্ভাবী বলে আভাস দিচ্ছেন বিশ্ব বরেণ্য বিশ্লেষকরা। সেই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার একক নেতৃত্বগুণ শুধুমাত্র জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ কন্যারই রয়েছে; কেননা তাঁর সিদ্ধান্তেই যে দিশা খুঁজে পায় মুক্তিকামী-স্বাধীনচেতা মানুষ।

ঈষৎ সম্পাদিত

সম্পাদনায়

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেল

সম্পাদক ও প্রকাশক

ক্রাইম ডায়রি ও গোয়েন্দা ডায়রি

(প্রিন্ট,অনলাইন)

www.crimediarybd.com

www.crimediarytv.net

কেন্দ্রীয় সভাপতি

জাতীয় সাংবাদিক পরিষদ

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 61628

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশঃ একনজরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

প্রতিটি দেশেই একজন ব্যক্তি থাকেন যিনি সেই দেশের সার্বিক নেতৃত্ব দেন। দেশকে স্বাধীন করেন নিজের জীবন বাজী রেখে দেশকে নিয়ে যান উন্নতির চরম শিখরে।এমনই একজন বাংলাদেশী বাংলাদেশের বন্ধু ,বাঙ্গালী জাতীর রুপকার স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।  তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় বাংলাদেশের মানুষ ও তাদের কল্যানের জন্য ব্যয় করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সমগ্র বাংলাদেশকে সংঘবদ্ধ করতে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। প্রত্যেক বাংলাদেশীর জন্য এই মহান ব্যক্তির জীবনি জানা উচিত।।।।

জন্ম ও পরিচয়ঃ—

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে শেখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।গোপালগঞ্জ বর্তমানে একটি জেলা।তাঁর পিতার নাম শেখ লুৎফুর রহমান এবং তাঁর দাদার নাম শেখ আবদুল হামিদ।তাঁর মাতার নাম সাহেরা খাতুন এবং নানার নাম আবদুল মজিদ।তাঁর আকিকার সময় তাঁর নানা আবদুল মজিদ বঙ্গবন্ধুর নাম রেখেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান এবং বলেছিলেন এ নাম জগৎ জোড়া খ্যাত হবে।পিতা-মাতা তাকে আদর করে ‘খোকা’ বলে ডাকতেন।এবং ভাইবোন ও গ্রামবাসির নিকট তিনি ‘মিয়াভাই’ বলে পরিচিত ছিলেন।বর্তমানে ১৭ই মার্চ সারাদেশে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালিত হয়।

““““““~~~~<<<<<<<<<<<<<<<<বঙ্গবন্ধু>>>>>>>>>>>>>>>>
……আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলের বঙ্গবন্ধু ভাবণার বহিঃপ্রকাশ……….
শোকাবহ ১৫ই আগষ্ট। দলমত নির্বিশেষে যিনি ছিলেন বাংলা ও বাঙ্গালী জাতির প্রাণ। যিনি নিজের জীবনের সুখ স্বাচ্ছ্যন্দের জন্য নয় যিনি শুধু ভাবতেন এই দেশ ও মানুষের জন্য। যিনি রেসকোর্সের ভাষণে দীপ্ত কন্ঠে বাঙ্গালী জাতির মুক্তি ঘোষণা করেছিলেন সেই মহান ব্যক্তিকে একদল কুচক্রী হায়েনা নির্মমভাবে স্বপরিবারে গুলি করে শহীদ করেছিল। তিনি মরেও মরেননি। তিনি বেঁচে আছেন আমাদের হৃদয় মাঝে।

বঙ্গ পিতা বঙ্গবন্ধু
বাঙ্গালী জাতির জান ও প্রাণ,
প্রজন্মের পর প্রজন্ম যাবে
বাংলায় রবে তোমার ঘ্রাণ।
দুঃখ কষ্ট শত বেদনায়
রয়েছ তুমি মোর চেতনায়,
হৃদয়ের মাঝে রক্তক্ষরণ
কেড়ে নিল কে তোমার প্রাণ?
বেইমান সব কুকুরের দল
পিতার বুকে গুলি কেন বল?
ঘরের শত্রু বিভিষণ সব
বাংলায় শুধু কান্নার রোল।।
বছর ঘুরে পার হয়ে যায়
দিব্য চোখে তোমায় দেখি,
তোমার প্রতি বাঙ্গালী জাতির
ভালবাসার গল্প লেখি।
আগষ্ট এলো বছর ঘুরে
বাঙ্গালীর চোখে শোকের জল,
তোমার জন্য বঙ্গবন্ধু
শোকের জলই বাঙ্গালীর বল।

লেখকঃ

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেল
সম্পাদক ও প্রকাশক
ক্রাইম ডায়রি ও ক্রাইম ডায়রিবিডি.কম
৫৫,আজাদ সেন্টার,লেভেল ৭,পুরানা পল্টন,ঢাকা-১০০০।
বিকেল ৫ ঘটিকা। তারিখঃ ১৫ ই আগষ্ট,২০১৬ইং।”””””””

শৈশব

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শৈমব সম্পর্কে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন তাঁর ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ গ্রন্থে বলেন,

      “আমার আব্বার শৈশব কেটেছিল টুঙ্গিপাড়ার নদীতে ঝাঁপ দিয়ে,মেঠো পথের ধুলোবালি মেখে।বর্ষার কাদাপানিতে ভিজে।”

বঙ্গ বন্ধু বলেন,

      “ছোট সময়ে আমি খুব দুষ্ট প্রকৃতির ছিলাম।খেলাধুলা করতাম, গান গাইতাম এবং খুব ভাল ব্রতচারী করতে পারতাম।” –(অসমাপ্ত আত্মজীবনী)

 

শিক্ষাজীবন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রাথমিক শিক্ষার শুরু হয় নিজ গৃহে গৃহশিক্ষকদের হাত ধরে।তাঁদের কাছে বঙ্গবন্ধু আরবি, বাংলা. ইংরেজি ও অংক শিখতেন।পরবর্তীতে তিনি গিমাডাঙ্গা স্কুলে ভর্তি হন।সেখানে তিনি ৩য় শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেন।একবার বর্ষাকালে নেীকা করে স্কুল থেকে ফেরার পথে নেীকাডুবি হলে তাঁকে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে ভর্তি করা হয়।সেখান থেকে তিনি ১৯৪২ সালে এন্ট্রাস পাস করেন।পরবর্তীতে তিনি কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে(বর্তমান আজাদ মওলানা কলেজ) ভর্তি হন।সেখানে তিনি বেকার হোস্টেলে থাকতেন।১৯৪৭ সালে তিনি ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ পাস করেন।দেশভাগের পর তিনি ঢকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তিহন।তিনি ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্র ছিলেন।

বিবাহ

বিবাহ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বলেন,

      “আমার যখন বিবাহ হয় তখন আমার বয়ষ বার তেরো বছর হতে পারে।আমি শুনলাম আমার বিবাহ হয়েছে,তখন কিছুই বুঝতাম না।রেণুর বয়ষ তখন বোধহয় তিন বছর হবে।”

খেলাধুলা প্রিয়

বঙ্গবন্ধু একজন দক্ষ ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন,এমনকি তাঁর পিতাও ফুটবল খেলা পছন্দ করতেন।এ সম্পর্কে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন,

       ‘আমার আব্বার পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি দারুন ঝোঁক ছিল।বিশেষ করে ফুটবল খেলা খুব পছন্দ করতেন।মধুমতি নদী পার হয়ে চিতলমারী ও মোল্লাহাট যেতেন খেলতে।এদিকে আমার দাদাও খেলতে পছন্দ করতেন।’-(শেখ মুজিব আমার পিতা)

 রোগে আক্রান্ত

বঙ্গবন্ধু ছোট বেলায় বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হন।এসম্পর্কে তিনি বলেন,

     ১৯৩৪ সালে যখন আমি ৭ম শ্রেনীতে পড়ি তখন ভীষণভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি।হঠাৎ বেরিবোরি রোগে আক্রান্ত হয়ে আমার হার্ট দূর্বল হয়ে পড়ে।আব্বা আমাকে নিয়ে কলকাতায় চিকিৎসা করাতে যান।কলকাতার বড় বড় ডাক্তার শিবপদ ভট্টাপার্য, এ,কে, রায় চৌধুরী আরও অনেককেই দেখান এবং চিকিৎসা করাতে থাকেন।–(অসমাপ্ত আত্মজীবনী) ।বঙ্গবন্ধু ছোট বেলায় চোখের গ্লুকোমা রোগে আক্রান্ত হন।এসম্পর্কে তিনি বলেন, ১৯৩৬ সালে আবার আমার চক্ষু খারাপ হয়ে পড়ে।গ্লুকোমা নামে একটা রোগ হয়।ডাক্তারদের পরামর্শে আব্বা আবার আমাকে নিয়ে কলকাতায় রওনা হলেন চিকিৎসার জন্য।ডাক্তার সাহেব আমার চক্ষু অপরেশন করাতে বললেন।অপরেশন করা হলো।আমি ভাল হলাম।তবে কিছুদিন পড়াশুনা বন্ধ রাখতে হবে,চশমা পরতে হবে।তাই ১৯৩৬ সাল খেকেই চশমা পরছি।

শিক্ষা বিরতি

অসুস্থার কারণে বঙ্গবন্ধু ৪ বছর লেখাপড়া করতে পারেন নি।এ সম্পর্কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,

      ‘স্কুলে পড়তে পড়তে আব্বার বেরিবেরি রোগ হয় এবং চোখ খারাপ হয়ে যায়।ফলে চার বছর লেখাপড়া বন্ধ থাকে ।তিনি সুস্থ হবার পর পুনরায় স্কুলে ভর্তি হন।’-(শেখ মুজব আমার পিতা)

মুসলিম সেবা সমিতি

বঙ্গবন্ধুর একজন স্কুল মাস্টার একটা সংগঠন গড়ে তোলেন যার সদস্যরা বাড়ি-বাড়ি ঘুরে ধান,চাল,টাকা, জোগার করে গরিব মেধাবী ছেলেদের সাহায্য করতেন।বঙ্গবন্ধু সেই দলের অন্যতম সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু বলেন,

      “মাস্টার সাহেব গোপালগঞ্জে একটা ‘মুসলিম সেবা সমিতি’ গঠন করেন,যার দ্বারা গরিব ছেলেদের সাহায্য করতেন।মুষ্টি ভিক্ষার চাল উঠাতেন প্রত্যেক মুসলমানের বাড়ি থেকে।প্রত্যেক রবিবার আমরা থলি নিয়ে বাড়ি বাড়ি থেকে চাউল উঠিয়ে আনতাম এবং এই চাউল বিক্রি করে তিনি গরিব ছেলেদের বই এবং পরীক্ষার অন্যান্য খরচ দিতেন।”-(অসমাপ্ত আত্মজীবনী)

এছাড় তার দানশীলতা সম্পর্কে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন,

      ‘দাদির কাছে শুনেছি আব্বার জন্য মাসে কয়েকটা ছাতা কিনতে হতো কারণ আর কিছুই নয়।কোন ছেলে গরিব,ছাতা কিনতে পারে না,দূরের পথ রোদ বৃষ্টিতে কষ্ট হবে দেখে,তাদের ছাতা দিয়ে দিতেন।এমনকি পড়ার বইও মাঝে মাঝে দিয়ে আসতেন।’-(শেখ মুজিব আমার পিতা)

প্রথম বিদ্রোহ

এ সম্পর্কে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন,

      ‘কৈশরেই তিনি খুব অধিকার সচেতন ছিলেন।একবার যুক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা গোপালগঞ্জে সফরে যান এবং স্কুল পরিদর্শন করেন।সেই সময় সাহসী কিশোর শেখ মুজিব তাঁর কাছে স্কুলঘরে বর্ষার পানি পড়ার অভিযোগ তুলে ধরেন এবং মেরামত করার অঙ্গীকার আদায় করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।’

                                                -(শেখ মুজিব আমার পিতা)

রাজনীতীতে অংশগ্রহণ

এ সম্পর্কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর শেখ মুজিব আমার পিতা গ্রন্থে উল্লেখ করেন,

      ‘গোপালগঞ্জ স্কুল খেকে ম্যাট্টিক পাস করে তিনি কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে পড়তে যান।তখন বেকার হোস্টেলে থাকতেন।এই সময় তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সংস্পর্শে আসেন।হলওয়ে মনুমেন্ট আন্দলনে জড়িয়ে পড়েন সক্রিয়ভাবে।এই সময় থেকে তাঁর রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ শুরু হয়।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম আন্দোলন

এ সম্পর্কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর শেখ মুজিব আমার পিতা গ্রন্থে উল্লেখ করেন,

     ‘এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বঙ্গবন্ধু প্রথম পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছিলেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দাবি-দাওয়া পূরণের জন্য পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠা লগ্নে।’

কারা জীবন

৭ মার্চ ২০১৭ বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জাতীয় সংসদে বলেন, বঙ্গবন্ধু সারা জীবনে মোট ৪৬৮২ দিন কারাভোগ করেন। এর মধ্যে ব্রিটিশ আমলে ৭ দিন এবং পাকিস্তান আমলে ৪৬৭৫দিন।বঙ্গবন্ধু ছাত্রাবস্থায় ১৯৩৮ সালে প্রথম কারাগারে যান।

ছাত্রলীগ গঠন

পকিম্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও নঈমউদ্দিন আহমেদ মিলে ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারী পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ গঠন করেন।

বঙ্গবন্ধু বলেন,

       ‘১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারী তারিখে ফজলুল হক মুসলিম হলের এ্যাসেম্বলি হলে এক সভা ডাকা হলো,সেখানে স্থির হল একটা ছাত্র প্রতিষ্ঠান করা হবে।যার নাম হবে ‘পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ’

                                                     (অসমাপ্ত আত্মজীবনী)

আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।সাধারন সম্পাদক ছিলেন শামছুল হক এবং বঙ্গবন্ধু ছিলেন জয়েন্ট সেক্রেটারি।১৯৫৩ সালে বঙ্গবন্ধু আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নিযুক্ত হন।১৯৫৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।আওয়ামীলীগ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বলেন,

      “শেষপর্যন্ত হুমায়ুন সাহেবের রোজ গার্ডেন বাড়িতে সম্মেলনের কাজ শুরু হয়েছিল।শুধু কর্মীরা না, অনেক রাজনৈতিক নেতাও নেই সম্মেলনে যোগদান করেন।সকলেই একমত হয়ে নতুন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গঠন করলেন;তার নাম দেওয়া হলো, ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’।মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি,জনাব শামছুল হক সাধারণ সম্পাদক এবং আমাকে করা হলো জয়েন্ট সেক্রেটারি।”

ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা দখল করেই বাংলা ও বাঙালিকে পদানত রাখার পরিকল্পনা করে।প্রথমেই আঘাত হানে ভাষার ওপর।তারা উর্দূকে রাষ্ট্র ভাষা ঘোষণা করে।এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ফজলুল হক মুসলিম হলে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠনের প্রস্তাব করেন এবং এর প্রেক্ষিতে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।১৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু আমতলায় সভাপতির হিসেবে ভাষণ প্রদান করেন।এসম্পর্কে বঙ্গবন্ধু বলেন,

       ‘১৬ তারিখ সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারন ছাত্রসভায় আমরা সকলেই যোগদান করালাম।হঠাৎ কে যেন আমার নাম প্রস্তাব করে বসল সভাপতির আসন গ্রহণ করার জন্য।সকলেই সমর্থন করল।বিখ্যাত আমতলায় এই আমার প্রথম সভাপতিত্ব করতে হলো’

                                                     (অসমাপ্ত আত্মজীবনী)

১৯৫২ সালে বঙ্গবন্ধু জেলে থাকাকালীন অবস্থায় ভাষার জন্য অণশন শুরু করেন।পরবর্তীতে জেলথেকে ছাড়াপেয়ে তিনি আবার আন্দোলন শুরু করনে।

বঙ্গবন্ধু বলেন

      ‘আমি সাধারণ সম্পাদক(আওয়ামী মুসলিম লীগের) হয়েই একটা প্রেস কনফারেন্স করলাম।তাতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করতে হবে, রাজবন্দিদের মুক্তি দিতে হবে এবং যারা ২১শে ফেব্রুয়ারী শহীদ হয়েছেন তাঁদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দান এবং যারা অন্যায়ভাবে জুলুম করেছে তাদের শাস্তির দাবি করলাম’

                                                     (অসমাপ্ত আত্মজীবনী)

যুক্তফ্রন্ট

পকিস্তানের স্বাধীনতা লাভের পর মুসলিমলীগ পকেট সংগঠনে পরিণত হলে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে শেরেবাংলা,ভাষানী,ও হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর নেতৃত্বে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর চারটি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল নৌকা।নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়।এই নির্বাচনে প্রথমবারের মত অংশগ্রহণ করে বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জ আসন থেকে নির্বাচিত হন।নির্বাচনের পর শেরেবাংলা এ.কে. ফজলুল হক সরকার গঠন করেন।বঙ্গবন্ধু সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসেবে সমবায় ও কৃষিঋণ মন্ত্রণলায়ের দায়িত্ব লাভ করেন।

কারাগার থেকে কারাগারে

১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারির চারদিন পর বঙ্গবন্ধুকে নিরাপত্তা আইনে আটক করা হয়।প্রায় ১৪ মাস আটক রাখার পর মুক্তিপান তিনি। তবে আবার জেলগেট থেকে তাঁকে আটক করা হয়।প্রায় দুই বছর করাগারে থাকেন এসময়।১৯৬১ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে তিনি মুক্তিপান।১৯৬২ সালে জননিরাপত্তা আইনে আবার তাঁকে গ্রফতার করা হয়।পরবর্তীতে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন প্রকাশিত হলে বঙ্গবন্ধু এর সমালোচনা করেন এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।

ঐতিহাসিক ছয় দফা

ছয়দফা কর্মসূচি  পাকিস্তানের দু অংশের মধ্যকার বৈষম্য এবং পূর্ব বাংলায় পশ্চিম পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ উপনিবেশিক শাসনের অবসানের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ ঘোষিত কর্মসূচি। তাসখন্দ চুক্তির মাধ্যমে ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের অবসানের পর পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের চরম অবহেলা ও ঔদাসীন্যের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোচ্চার হন।১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের আইয়ুব বিরোধী রাজণৈতিক দল সমূহের জতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।এই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ এতিহাসিক ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। ছয় দফা দাবির প্রথম দফা ছিল ‘লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানকে একটি ফেডারেশনে পরিণত করতে হবে, যেখানে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার থাকবে এবং প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটে নির্বাচিত আইন পরিষদ সার্বভৌম হবে’

আগরতলা মামলা

পাকিস্তান সরকার ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে আওয়ামী লীগ প্রধান  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মরত ও প্রাক্তন সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি অফিসারদের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করে।তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তারা ভারত সরকারের সহায়তায় সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা শহরে ভারতীয় পক্ষ ও আসামি পক্ষদের মধ্যে এ ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ থাকায় একে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বলা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এ মামলা এবং এর প্রতিক্রিয়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।১৯৬৮ সালের ১৯ জুন ৩৫ জনকে আসামি করে পাকিস্তান দন্ডবিধির ১২১-ক ধারা এবং ১৩১ ধারায় মামলার শুনানি শুরু হয়। মামলায় শেখ মুজিবকে ১ নম্বর আসামি করা হয় এবং ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান গং’ নামে মামলাটি পরিচালিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার অচিরেই মামলাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।

গণঅভ্যুত্থান

১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবি ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ, বাঙালির ম্যাগনাকার্টা।১৯৬৭ সালের ১৬ জুন নির্ভিক সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেনের ইত্তেফাক পত্রিকা বাজেয়াপ্ত করা হয়।২৩ জুন রবীন্দ্র সঙ্গীত প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়।১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধু কে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আগরতলা মামলা করে তাদের উপর নির্যাতন করা হয়।ফলে সারা দেশে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়।১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারী ছাত্র সমাজ ঐতিহাসিক ১১ দফা দাবি উত্থাপন করে।৮ জানুয়ারী ৮ টি রাজনৈতিক দল নিয়ে DAC গঠিত হয়।২০ জানুয়ারী ছাত্রনেতা আসাদ পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।আন্দোলন তীব্র হয়। ১৫ ফেব্রয়ারী আগরতলা মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে কারাকারের ভেতরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।১৮ ফেব্রয়ারী ১৯৬৯ তারিখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড.শামছুজ্জোহা কে হত্যার ফলে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।২৪ জানুয়ারী সারা দেশে গণ আন্দোলন হয়।

বঙ্গবন্ধু উপাধিলাভ

গণআন্দোলনের মুখে সরকার ২২ ফেব্রুয়রী ১৯৬৯ তারিখে আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে নেয়।২৩ ফেব্রুয়ারী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ রেসকোর্সের ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানকে গণসংবর্ধনা দেয়।সভায় তৎকালীন ছাত্রনেতা, ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহমেদ লাখো জনতার উপস্থিতিতে তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

বাংলাদেশ নামকরণ

১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামীলীগের জনসভায় বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন,

      “জনগনের পক্ষ থেকে আমি ঘোষণা করছি, আজ হতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম পূর্বপাকিস্তানের পরিবর্তে ‘বাংলাদেশ’ হবে”

৭০ এর নির্বাচন

১৯৭০ সালের ৬ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।বঙ্গবন্ধু ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহনের সিদ্ধান্ত নেন।নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা, স্লোগান ছিল ‘জয় বাংলা’ আর ঘোষণাপত্র ছিল ছয় দফা।বাংলাদেশের আনাচে কানাচে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়।নির্বাচনে আওয়ামীলীগ পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯ টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন লাভ করে।পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি লাভ করলেও আওয়ামীলীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয় না।এ জন্যই ১৯৭০ সালের নির্বাচনকে পাকিস্তানের মৃত্যুর বার্তাবাহক বলা হয়।

অসহযোগ আন্দোলন

১৯৭০ সালের নির্বাচন ছিল এক ব্যক্তি এক ভোট নীতির প্রথম নির্বাচন।৩ মার্চ ১৯৭০ সালে আ.স.ম. আবদুর রব বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ উপাধি প্রদান করেন।এই সমাবেশে বক্তৃতা কালে বঙ্গবন্ধু আসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।

৭ই মার্চের ভাষণ

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে রোজ শুক্রবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ ভাষণ প্রদান করেন। সময় বিকাল ৩ট ২০ মিনিট।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা বলেন,এর ব্যাপ্তিকাল ছিল ২৩ মিনিট তবে ১৮-১৯ মিনিট রেকর্ড করা হয়।রেকর্ড করেন এ এইচ খন্দকার এবং চিত্র ধারণ করেন আবুল খায়ের এমএনএ।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫ম তফসিলে জাতির পিতার এ ভাষণ সন্নিবেশিত হয়। এ ভাষণেই বঙ্গবন্ধু বলেন “আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না।আমরা এদেশের মানুষের অধিকার চাই।”৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু ৪ দফা দাবি তুলে ধরেন।যথাঃ

১. প্রথমে মার্শাল ল উইথড্র করতে হবে।

২. সমস্ত সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফেরত যেতে হবে।

৩. যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তার তদন্ত করতে হবে।আর

৪. জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

১৩ নভেম্বর ২০১৭ বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের ২৬টি বাক্যের বিশ্লেষণ করে “বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ:রাজনীতির মহাকাব্য”শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।গ্রন্থটি প্রকাশ করে-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।৩০ অক্টোবর ২০১৭ ইউনেস্কো ৭ই মার্চের ভাষণকে “ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারী হেরিটেজ” বা “বিশ্ব প্রামাণ্যের ঐতিহ্য” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।এ পর্যন্ত বিশ্বে মোট ৪২৭ টি নথি এতে যুক্ত হয়েছে।সম্প্রতি ইউনেস্কো ঘেষিত ৭৮টি ঐতিহাসিক দলিলের মধ্যে ৭ই মার্চের ভাষণ ৪৮ তম।ইউনেস্কোর এযাবৎ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ৪২৭টি প্রামান্য ঐতিহ্যের মধ্যে প্রথম অলিখিত ভাষণ এটি।স্বীকৃতির সময় ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ছিলেন ইরিনা বোকোভা। ব্রিটিশ ঐতিহাসিক জ্যাকব এফ ফিল্ড তার  ‘We Shall Fight on the Beaches: The Speeches That Inspired History’   গ্রন্থের ২০১ পৃষ্ঠায় ভাষনটি যুক্ত করেন।৭ মার্চের ভাষনকে আড়াই হাজার বছরের ইতিহাসে যুদ্ধকালে দেয়া বিশ্বের অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ক বক্তৃতা বলা হয়। ভাষণটি এ পর্যন্ত মোট(২০১৭) ১২টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে।

স্বাধীনতার ঘোষনা

১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ ঢাকাসহ সারাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীরা নিরীহ মানুষদের উপর অমানুষিক অত্যাচার শুরু করে।শুধু ঢাকাতেই ৫০ হাজারের বেশী মানুষ হত্যা করে তারা।২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।২৬শে মার্চ চট্রগ্রামের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সর্বপ্রথম এম.এ.হান্নান নিজের কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা পাঠ করেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থের ভূমিকাতে বলেন,

      ‘১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে স্বাধীনতার ঘোষনা দেওয়ার পরপরই আমাদের ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কের পাকিস্তনি সেনাবাহিনী হানা দেয় এবং আমার পিতাকে গ্রফতার করে নিয়ে যায়।’

মুজিবনগর সরকার

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল কুষ্টিয়ার মহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলার ভবেরপাড়া গুামের আম্রকাননে মুজবনগর সরকার গঠিত হয়।১৭ এপ্রিল ১৯৭১ দেশ-বিদেশের ১২৭ জন সাংবাদিকের সামনে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।তবে বঙ্গবন্ধু জেলে থাকার কারনে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দ্বায়িত্ব পালন করেন।মুজিব নগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজ উদ্দিন আহমদ।যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্তে মুজিব নগর সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করে।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি

দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর ৩০ লক্ষ্য শহীদ ও দুই লক্ষ্য মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমারা স্বাধীনতা লাভ করি।১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ৯৩ হাজার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রেসকোর্সের ময়দানে আত্মসমর্পন করে।প্রতিষ্ঠিত হয় জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ।আর এই স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ছিলেন বঙ্গপন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও সংবিধান রচনা

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা লাভের পর ২২ ডিসেম্বর মুজিবনগর সরকার ঢাকায় এসে শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করে।১০ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধান রচনায় মনোনিবেশ করেন।১১ জানুয়ারী ১৯৭২ স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘অস্থায়ী সংবিধান’ আদেশ জারি করেন।বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ গণপরিষদ আদেশ জারি করেন।১০ এপ্রিল ১৯৭২ গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। ১১ এপ্রিল ড.কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট সংবিধান কমিটি গঠন করা হয়।কমিটির একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য ছিল সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং একমাত্র মহিলা সদস্য ছিল রাজিয়া বানু।খসড়া কমিটি ৪৭টি বৈঠকের মাধ্যমে খসড়া চুড়ান্ত করে।১২ অক্টোবর ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান গণ পরিষদে উত্থাপন করা হয় এবং ৪ নভেম্বর ১৯৭২(১৮ কার্তিক ১৩৭৯) তা গৃহীত হয়।প্রতি বছর ৪ নভেম্বর সংবিধান দিবস হিসেবে পালন করা হয়।১৫ ডিসেম্বর সংবিধানে স্বাক্ষর করা হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ থেকে তা কার্য়কর হয়।বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১টি প্রস্তাবনা,১১টি ভাগ,১৫৩টি অনুচ্ছেদ এবং ৭টি তফসিল রয়েছে।রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি ৪টি।এ পর্যন্ত সংবিধানে মোট ১৬ বার সংশোধনী আনা হয়েছে।৫ম তফসিলে জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণ,৬ষ্ঠ তফসিলে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ৭ম তফসিলে মুজিবনগন সরকার কর্তৃক জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত হয়েছে।

“১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। এর মধ্য দিয়ে বাঙালির ইতিহাসে এক কালিমালিপ্ত অধ্যায় সংযোজিত হয়েছিল।দুই জন পুলিশ কর্মকর্তা সহ এইদিন ঘাতকরা মোট ১৮ জনকে হত্যা করে।তাদের হাত থেকে বঙ্গবন্ধুর শিশু পুত্র শেখ রাসেলও রেহাই পায়নি।বাংলাদেশের ইতিহাসে এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল খন্দকার মোশতাক,মেজর ডালিম সহ কতিপয় বিপথগামী সদস্যের হাত।যাদের জন্য বঙ্গবন্ধু সারা জীবন লড়াই করেছেন তাদেরই কিছু বিপথগামী ক্ষমতালোভীর হাতেই রচিত হয় বাংলার ইতিহাসের কলঙ্কময় দিন।বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতের এই ১৫ই আগস্ট দিনটি জাতি শোকদিবস হিসেবে পালন করে থাকে।”

 

ফিদেল কাস্ত্রের সাক্ষাত

১৯৭৩ সালে আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের শীর্ষ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সাক্ষাতের পর কিউবার মহান বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো বলেছিলেন,

“আমি হিমালয় দেখিনি কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব এবং সাহসিকতায় তিনিই হিমালয়।’

সংবিধান সংশোধন ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর রেসকোর্স ময়দানে এক ঘোষণার মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার ঘোষনা দেন।Bangladesh Collaborators(Special tribunals) Order, 1972  নামে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য প্রথম আইন পাস হয়।পরবর্তীতে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হয়।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আমলে সংবিধান মোট ৪ বার সংশোধন করা হয়।যুদ্ধবন্দীদের বিচার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ১৯৭৩ সালে প্রথম সংশোধনী আনা হয়।রাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি,মেয়াদ ও জরুরী অবস্থার বিধান রেখ ২য় সংশোধনী আনা হয়।ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত চুক্তির আলোকে ৩য় সংশোধনী আনা হয়।এবং ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যভস্থার প্রবর্তন করা হয়।

অসমাপ্ত আত্মজীবনী

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লিখিত আত্মজীবনী মূলক প্রথম গ্রন্থ ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’।২০১২ সালের জুন মাসে বইটি ‘দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড’ থেকে প্রকাশিত হয়।বইটির প্রকাশক মহিউদ্দিন আহমেদ,প্রচ্ছদ সমর মজুমদার এবং গ্রন্থস্বত্ব ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড.ফকরুল আলম স্যার ‘The Unfinished Memoirs’  নামে বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেন।মে, ২০১৭ সাল পর্যন্ত বইটি মোট ৮টি ভাষায় প্রকাশিত হয়।সর্বশেষ হিন্দি ভাষায় অনুদিত হয়।হিন্দি ভাষায় বইটি অনুবাদ করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রাণলায়।১৯৬৭-১৯৬৯ সালে কারাকারে থাকাকালীন বঙ্গবন্ধু বইটি লেখেন।বইটি লিখতে বঙ্গবন্ধুকে প্রেরণা দেন তার স্ত্রী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৪ সালে ফজলুল হক মনির ড্রয়ার খেকে এর মূল পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেন।২০০৭ সালের ৭ আগস্ট সাব জেলে থাকাকালীন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বইটির ভূমিকা লেখেন।বইটিতে বঙ্গবন্ধু তাঁর পূর্ব পুরুষদের ইতিহাস সহ বাল্যকাল থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত নিজের জীবনের বিভিন্ন ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছেন।প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চট্টগ্রামর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষা বর্ষের পাঠ্যসূচীতে বইটির ইংরেজি অনুবাদ The Unfinished Memoirs অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

কারাগারের রোজনামচা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত আত্মজীবনী মূলক দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘কারাগারের রোজনামচা’।২০০৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপি খুঁজে পান।বইটি ২০১৭ সালের ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ৯৮ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসে ঐতিহাসিক বাংলাএকাডেমী থেকে প্রকাশিত হয়।পাণ্ডুলিপি আনুযায়ী বঙ্গবন্ধু এর নাম দিয়েছিলেন “থালাবাটি কম্বল/জেলখানার সম্বল”।বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা বইটির নামকরণ করেন ‘কারাগারের রোজনামচা’ গ্রন্থটিতে ১৯৬৬-১৯৬৮ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর কারাবাসের চিত্র তুলেধরেছেন।গ্রন্থটির প্রচ্ছদ শিল্পী তারিক সুজাত।বঙ্গবন্ধু এই গ্রন্থটিতে তাঁর জেল জীবনের পাশাপাশি জেল যন্ত্রনা,কয়েদীদের অজানা কথা, অপরাধীদের কথা,কেন তারা এই অপরাধে লিপ্তহলো তার কথা,তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি,আওয়ামীলীগ নেতাদের দুঃখ দুর্দশা,সংবাদ মাধ্যমের অবস্থা,শাসকগোষ্ঠীর নির্মম নির্যাতন প্রভৃতি তুলে ধরেছেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরি ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড.ফকরুল আলম স্যার বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং তা বাংলা একাডেমী থেকে ‘প্রিজন ডায়েরী’ নামে প্রকাশিত হয়।বইটির ভূমিকা লিখেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা ও বর্তমান বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বইটির গ্রন্থস্বত্ব হচ্ছে ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’।

ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। এর মধ্য দিয়ে বাঙালির ইতিহাসে এক কালিমালিপ্ত অধ্যায় সংযোজিত হয়েছিল।দুই জন পুলিশ কর্মকর্তা সহ এইদিন ঘাতকরা মোট ১৮ জনকে হত্যা করে।তাদের হাত থেকে বঙ্গবন্ধুর শিশু পুত্র শেখ রাসেলও রেহাই পায়নি।বাংলাদেশের ইতিহাসে এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিল খন্দকার মোশতাক,মেজর ডালিম সহ কতিপয় বিপথগামী সদস্যের হাত।যাদের জন্য বঙ্গবন্ধু সারা জীবন লড়াই করেছেন তাদেরই কিছু বিপথগামী ক্ষমতালোভীর হাতেই রচিত হয় বাংলার ইতিহাসের কলঙ্কময় দিন।বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতের এই ১৫ই আগস্ট দিনটি জাতি শোকদিবস হিসেবে পালন করে থাকে।

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর দায়মুক্তি আইন বাতিল করে আওয়ামী লীগ সরকার এবং ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী আ ফ ম মহিতুল ইসলাম বাদী হয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মামলা করেন। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল তৃতীয় বিচারক মোহাম্মদ ফজলুল করিম ২৫ দিন শুনানীর পর অভিযুক্ত ১২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিশ্চিত করেন।১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত বাদী-বিবাদীর আপিলের প্রেক্ষিতে চার দফায় রায় প্রকাশ হয়, সর্বশেষ আপিল বিভাগ ২০১০ সালের ৫ অক্টোবর থেকে টানা ২৯ কর্মদিবস শুনানি করার পর ১৯ নভেম্বর চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।এতে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

একনজরে ——–একনজরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব

১৯২০, ১৭ মার্চ, গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন।
১৯২৭: সাত বছর বয়সে গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতিরজনকের প্রাতিষ্ঠানিক ছাত্রজীবনের সূচনা হয়।
১৯২৯: বঙ্গবন্ধুকে গোপালগঞ্জ সীতানাথ একাডেমীর (বা পাবলিক স্কুলে) তৃতীয় শ্রেনীতে ভর্তি করা হয়।
১৯৩৪: মাদারীপুরে ইসলামিয়া হাইস্কুলে পড়ার সময় বঙ্গবন্ধু বেরীবেরি রোগে আক্রান্ত হন।
১৯৩৭: অসুস্থতার কারণে বঙ্গবন্ধুর লেখাপড়া বন্ধ ছিলো, আবার তা শুরু হয়।
১৯৩৮: ১৬ জানুয়ারী: বাংলার প্রধামন্ত্রী শেরে বাংলা একে ফজলুল হক গোপালগঞ্জ মিশন স্কুল পরিদর্শনে এলে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
১৯৩৯: সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ সভা করার দু:সাহসের কারণে বঙ্গবন্ধু প্রথম কারাবরণ করেন।
১৯৩৮: মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি বেগম ফজিলাতুননেসার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
১৯৪২: অসুস্থতার কারণে একটু বেশীবছর বয়সে বঙ্গবন্ধু এন্ট্রাস (প্রবেশিকা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এই বছরেই কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। এই কলেজের বেকার হোষ্টেলের ২৪নম্বর কক্ষে তিনি থাকতে শুরু করেন।
১৯৪৪: কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদান করেন। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে তিনি রাজনীতিতে অভিষিক্ত হন। এই বছরই ফরিদপুর ডিষ্টিক্ট এসোসিয়েশনের সম্পাদক নিযুক্ত হন।
১৯৪৬: বঙ্গবন্ধু বিনা প্রতিদ্বদ্বিতায় কলকাতা ইসলামি কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সহকারী নিযুক্ত হন। এই বছরই প্রদেশিক নির্বাচনে তিনি মুসলিম লীগের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৪৭ : বঙ্গবন্ধু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন।
১৯৪৭ : ৬ সেপ্টেম্বর, ঢাকায় গণতান্ত্রিক যুব কর্মীদের এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৪৮ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন।
১৯৪৮ : ২৩ ফেব্রুয়ারী, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন উর্দুকে পাকিস্থানের রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু তার তৎক্ষনিক প্রতিবাদ করেন।
১৯৪৮ : ২ মার্চ, রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
১৯৪৮ : ১১ মার্চ, রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে সাধারণ ধর্মঘট আহবানকালে বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হন।
১৯৪৮ : ১৫ মার্চ, বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তিপান।
১৯৪৮: ১১ সেপ্টেম্বর: ফরিদপুরের কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য বঙ্গবন্ধু আবার গ্রেফতার হন।
১৯৪৯ : ২১ জানুয়ারী: বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তিপান।
১৯৪৯ : ৩ মার্চ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা তাদের দাবী দাওয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে ধর্মঘট ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু তার প্রতি সমর্থন জানান।
১৯৪৯ : ২৯ মার্চ: আন্দোলনে যোগদেয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুকে অযৌক্তিক ভাবে জরিমানা করে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তার প্রতি সমর্থন জানান।
১৯৪৮ : ২০ এপ্রিল: বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সৃষ্ট আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়।
১৯৪৯ : ২৩ জুন: পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয় এবং জেলে থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৪৯ : ২৭ জুলাই: বঙ্গবন্ধু জেল থেকে মুক্তিপান। মুক্তি পেয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে না গিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন।
১৯৪৯ : পূর্ব বাংলায় দুর্ভিক্ষ শুরু হলে খাদ্যের দাবীতে তিনি আন্দোলন শুরু করেন।
১৯৫০ : ১ জানুয়ারী: এই আন্দোলনের কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
১৯৫২ : ১৪ ফেব্রুয়ারী: বাংলা রাষ্ট্র ভাষার দাবীতে বঙ্গবন্ধু কারাগারে অনশন শুরু করেন।
১৯৫২ : ২১ ফেব্রুয়ারী: রাষ্ট্রভাষার দাবীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদ মিছিলে গুলি চলে। শহীদ হন সালাম, রফিক, বরক সহ অনেকে। জেল থেকে বঙ্গবন্ধু এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেন এবং একটানা ৩ দিন অব্যাহত রাখেন।
১৯৫২ : ২৭ ফেব্রুয়ারী: টানা অনশনে অসুস্থ বঙ্গবন্ধুকে স্বাস্থ্যগত কারণে মুক্তিদেয়া হয়।
১৯৫৩ : ১৬ নভেম্বর: প্রাদেশিক আওয়ামী মুসলীম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৫৩ : ৪ ডিসেম্বর: প্রথম সাধারণ নির্বাচনে সব বিরোধী দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে।
১৯৫৪ : ১০ মার্চ: সাধারণ নির্বাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে বিজয়ী হয়। বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জের আসনে বিজয়ী হন।
১৯৫৪ : ২ এপ্রিল: যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা গঠিত হয়।
১৯৫৪ : ১৪ মে: বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভায় বয়:কনিষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
১৯৫৪ : ৩০ মে: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী সভা বাতিল করেন। বঙ্গবন্ধু এ দিনই করাচী থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং গ্রেফতার হন।
১৯৫৪ : ২৩ নভেম্বর: বঙ্গবন্ধু জামিনে মুক্তি পেলে জেল গেটেই তাকে নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করা হয়।
১৯৫৪ : বঙ্গবন্ধু কারাগার থেমে মুক্তিপান।
১৯৫৫ : ৫ জুন: বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৫৫ : ১৭ জুন: ঢাকার পল্টনের জনসভা থেকে বঙ্গবন্ধু প্রথম পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন দাবী করেন।
১৯৫৫ : ২১ অক্টোবর: আওয়ামী মুসলিম লীগের বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশন ধর্ম নিরপেক্ষতা আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দ প্রত্যাহার করে নতুন নামকরণ করা হয় আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু পুনরায় দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৫৮ : ৭ অক্টোবর: জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার শাহেদ আলীর উপর আক্রমন এবং তার মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারী করেন।
১৯৫৮ : ১২ অক্টোবর: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এসময় তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দেয়া হয়।
১৯৫৯ : ৫ অক্টোবর: বঙ্গবন্ধু মুক্তি পান কিন্তু তার গতিবিধির উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়। এ সময় তিনি বার বার গ্রেফতার হন এবং ছাড়া পান।
১৯৬২ : ২ জুন: চার বছরের সামরিক শাসনের অবসান ঘটলে ১৮ জুন শেখ মুজিব মুক্তি লাভ করেন।
১৯৬৪ : ২৫ জানুয়ারী: বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবত করা হয়।
১৯৬৪ : ৫, ১১ মার্চ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিুর রহমানের নেতৃত্বে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বিরোধি দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি গঠিত হয়।
১৯৬৪ : ২৬ জুলাই: বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সম্মিলিত বিরোধি দল কঅপ (কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টি গঠিত হয়।)
১৯৬৫ : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কঅপ এর পক্ষ থেকে মিস ফাতিমা জিন্নাহকে প্রার্থী দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু ফাতিমা জিন্নাহর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ১৪দিন আগে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়।
১৯৬৬ : ১৮ মার্চ: আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ৬ দফা গৃহীত হয়। এরপর তিনি ৬ দফার পক্ষে দেশ ব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেন এ সময় তাকে সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বার বার গ্রেফতার করা হয়। ৩ মাসে তিনি ৮ বার গ্রেফতার হন। শেষ বার তাকে গ্রেফতার করে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়।
১৯৬৮ : ৩ জানুয়ারী: পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামী করে মোট ৩৫জন বাঙ্গালী সেনা ও সিএসপি অফিসারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বিছিন্ন করার অভিযোগে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
১৯৬৮ : ২৮ জানুয়ারী: নিজেকে নির্দোষ দাবী করে আদালতে লিখিত বিবৃতি দেন। এই বিবৃতি পড়ে বঙ্গবন্ধুর মুক্তি ও তার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে আন্দালন গন অভুঙ্খানে রূপ নেয়। ছাত্র সমাজ ছয় দফার সমর্থনে ১১ দফা দাবী উপস্থাপন করে।
১৯৬৯ : ৩০ জানুয়ারী: উদ্ভুত পরিস্থিতি ঠেকাতে আলোচনার জন্য বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তির প্রস্তাব দেয় পাকিস্তানী জান্তা সরকার। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সে প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেন।
১৯৬৯ : ১৫ ফেব্রুয়ারী: ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের অভ্যন্তরে মামলার অন্যতম আসামী সাজেন্ট জহুরুল হককে নির্মম ভাবে হত্যা করা হলে বিক্ষুব্ধ জনতা বাধ ভাঙ্গা বন্যার মতো রাস্তায় নেমে আসে।
১৯৬৯ : ২২ ফেব্রুয়ারী: তীব্র গণআন্দোলনের মুখে সরকার রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য শিরোনামে মিথ্যা মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়।
১৯৬৯ : ২৩ ফেব্রুয়ারী: ডাকসু এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবকে এক বিশাল সম্বর্ধনা দেয়ার আয়োজন করে। ঐ সভায় শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়।


১৯৬৯ : ১০ মার্চ: রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আইয়ুব খান গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেন। গোল টেবিলে ৬ দফার পক্ষে বঙ্গবন্ধু দৃঢ় অবস্থান নেন। তবে ঐ বৈঠক ব্যর্থ হয়।
১৯৬৯ : ২৫ মার্চ: রাওয়াল পিন্ডি গোল টেবিল বৈঠক ব্যর্থ হবার প্রেক্ষিতে আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ইয়াহিয়া সামরিক শাসন জারী করেন।
১৯৬৯ : ২৮ নভেম্বর: জাতির উদ্দেশ্যে এক বেতার ভাষণে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ এর ১ জানুয়ারী থেকে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষনা দেন। ঐ বছরের শেষ ভাগে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথাও ঘোষণা করেন।
১৯৭০ : ১ জানুয়ারী: ১৯৫৮ সালের পর প্রথম রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। বঙ্গবন্ধু প্রথম দিন থেকেই ৬ দফার পক্ষে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেন।
১৯৭০ : ৪ জুন: নির্বাচনকে সামনে রেখে মতিঝিল ইডেন হোটেল প্রাঙ্গনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয়। কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ একক ভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
১৯৭০ : ৫ জুন: পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচনী এলাকা বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদে ৩১০টি আসন আর জাতীয় পরিষদে ১৬৯টি আসন নিদির্ষ্ট করা হয়।
১৯৭০ : ১৫ আগষ্ট: প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন যথাক্রমে ৭ ও ১৭ ডিসেম্বর।
১৯৭০ : ৮ অক্টোবর: ইসলামাবাদ থেকে ১৯টি রাজনৈতিক দলের প্রতীক ঘোষনা করে নির্বাচন কমিশন। আওয়ামী লীগকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। স্মরনীয় যে, ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিলো নৌকা।
১৯৭০ : ২৮ অক্টোবর: বঙ্গবন্ধু বেতার ও টেলিভিশনে নির্বাচনী ভাষণ দেন। তিনি বলে, প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে দিয়েই আওয়ামী লীগের জন্ম। তার সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়েই আওয়ামী লীগের বিকাশ । তিনি দেশবাসীর কাছে ছয় দফার পক্ষে ম্যান্ডেট চান।
১৯৭০ : ১২ নভেম্বর: পূর্ব বাংলায় ভয়াবহ ঝড় এবং জলোচ্ছাসে ১০/১২ লাখ মানুষ মারা যান। বঙ্গবন্ধু তার নির্বাচনী প্রচারণা স্থগিত করে ত্রাণ কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি এই অঞ্চলের জনগনের প্রতি চরম উদাসীনতা তুলে ধরেন। এই সময় সোনার বাংলা শ্মশান কেনো শিরোনামে তথ্য সম্বলিত একটি পোষ্টার জাতিকে নাড়া দেয়।
১৯৭০ : ৭ ডিসেম্বর: বন্যা-দুর্গত এলাকা বাদে জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে। পাকিস্তান পিপলস পার্টি পায় ৮৮টি আসন।
১৯৭০ : ১৭ ডিসেম্বর: প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান ২৯৮টি আসন লাভ করে।
১৯৭১: ৩ জানুয়ারী: আওয়ামী লীগের সকল নির্বাচিত সদস্য ৬ দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র প্রনয়ন তথা ৬ দফা বাস্তবায়নের শপথ গ্রহণ করেন। আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি এই রবীন্দ্র সংগীতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। বঙ্গবন্ধু জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে বাঙালী জাতির মুক্তির সংকল্প ব্যক্ত করেন। শপথ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সংগীতের পর জয় বাংলা বাংলার জয়। গানটি পরিবেশিত হয়।
১৯৭১ : ১০ জানুয়ারী: প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর সংগে তিন দফা বৈঠক করেন। ৪দিন পর ফিরে আসার সময় তিনি বলেন শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন।
১৯৭১ : ২৭ জানুয়ারী: জুলফিকার আলী ভূট্টো ঢাকা এসে বঙ্গবন্ধুর সংগে কয়েকদফা আলোচনা করেন। কিন্তু ভূট্টোর সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হয়।
১৯৭১ : ১৩ ফেব্রুয়ারী: এক সরকারী ঘোষণায় বলা হয় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় ৩ মার্চ ১৯৭১ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
১৯৭১ : ১ মার্চ: জাতীয় পরিষদ অধিবেশনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠক শুরু হয় হোটেল পূর্বানীতে। ঐ দিনই আকস্মিক ভাবে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনিদিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষনা করেন। সারা বাংলা ক্ষোভে ফেটে পরে। বিক্ষুদ্ধ জনসমুদ্রে পরিণত হয় রাজপথ। বঙ্গবন্ধু এটাকে শাসকদের আরেকটি চক্রান্ত বলে চিহ্নিত করেন। তিনি ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সারা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল আহবান করেন।
১৯৭১ : ২ মার্চ: ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বত:স্ফুর্ত হরতাল পালিত হয়। উত্তাল জনস্রোতে ঢাকা পরিণত হয় এক বিক্ষোভের শহরে। জান্তা সরকার ঢাকা শহরের পৌর এলাকায় সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কারফিউ জারী করেন।
১৯৭১ : ৩ মার্চ: বিক্ষুদ্ধ জনতা কারফিউ উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। সামরিক জান্তার গুলিতে মারা যান ৩জন আহত হন কমপক্ষে ৬০জন। এই সময় পুরো দেশ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পরিচালিত হতে থাকে।
১৯৭১ : ৭ মার্চ: বঙ্গবন্ধু তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক যুগান্তকারী ভাষনে ঘোষণা করেন, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষনে ষ্পষ্ট হয়ে যায় স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যত। সারাদেশে শুরু হয় এক অভূতপূর্ব অসযোগ আন্দোলন।
১৯৭১ : ১৬ মার্চ: বিস্ফোরণমুখ বাংলাদেশে আসেন ইয়াহিয়া খান। বঙ্গবন্ধুর সংগে তার দীর্ঘ আলোচনা শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু তার গাড়ীতে কালো পতাকা উড়িয়ে হেয়ার রোডে প্রেসিডেন্ট ভবনে আলোচনার জন্য যান।
১৯৭১ : ১৭ মার্চ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম জন্মদিন। এই দিন ইয়াহিয়া খানের সংগে দ্বিতীয় দফা আলোচনা থেকে ফিরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলে এদেশে জন্ম দিনই বা কি আর মৃত্যু দিনই বা কি আমার জনগনই আমার জীবন।
১৯৭১ : ২৩ মার্চ: কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ প্রতিরোধ দিবস পালনের ঘোষনা দেন। সমস্ত সরকারী এবং বেসরকারী ভবনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু এদিন সরকারী ছুটি ঘোষনা করেন।
১৯৭১ : ২৫ মার্চ: পৃথিবীর ইতিহাসে এক নৃশংসতম কালো রাত্রি ২৫ মার্চ। এদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে মানুষের ঢল নামে। সন্ধ্যায় খবর পাওয়া যায় ইয়াহিয়া ঢাকা ত্যাগ করেছেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। তার সাড়ে এগারটায় শুরু হয় অপারেশন সার্চ লাইট। ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা।
১৯৭১ : ২৬ মার্চ: ১২-৩০ মিনিট ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হবার আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাবার্তা ওয়ারলেস যোগে চট্টগ্রামের জহুরুল আহমেদ চৌধুরীকে প্রেরণ করেন। চট্টগ্রাম বেতার থেকে আওয়ামী লীগ নেতা হান্নান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার বানী স্বকন্ঠে প্রচার করেন। পরে ২৭ মার্চ চট্টগ্রামে অবস্থিত অষ্টম ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান ঐ ঘোষণা পূণ:পাঠ করেন। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে করাচীতে নিয়ে যাওয়া হয়।


১৯৭১ : ২৭ মার্চ: বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষন এবং স্বাধীনতার ঘোষণার আলোকে বীর বাঙালী গড়ে তোলে স্বত:স্ফুর্ত প্রতিরোধ। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের এক গৌরবজ্জল অধ্যায়।
১৯৭১ : ১৭ এপ্রিল: তৎকালীন মেহেরপুর মহকুমার ভবের পাড়ার (বৈদ্যনাথ তলা) আমবাগানে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারে নতুন মন্ত্রীসভা গঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহম্মদ ঘোষণা করেন আজ থেকে (১৭ এপ্রিল) বৈদ্যনাথ তলার নাম মুজিব নগর এবং অস্থায়ী রাজধানী মুজিব নগর থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা করা হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং তার অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়।
১৯৭১ : ২৫ মে: ক্রমেই মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হতে শুরু করে। সংগঠিত হয় প্রবাসী সরকার। ২৫ মে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু হয়। এই কেন্দ্রের সিগনেচার টিউন ছিলো জয় বাংলা বাংলার জয়। কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচারিত হতে থাকে। এই কেন্দ্র থেকে প্রচারিত শোন একটি মুজিবরের কন্ঠে…… গানটি বাঙালীর উদ্দীপনা বাড়িয়ে দেয়।
১৯৭১ : ৩ আগষ্ট: পাকিস্তান টেলিভিশন থেকে বলা হয় ১১ আগষ্ট থেকে সামরিক আদালতে বঙ্গবন্ধুর বিচার শুরু হবে। এই ঘোষণায় বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ এবং উদ্বেগের ঝড় বয়ে যায়। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রবাসী বাঙালীরা আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আইনজীবী সন ম্যাকব্রাইডকে ইসলামাবাদে পাঠান। কিন্তু পাকিস্তানী জান্তা সরকার বিদেশী আইনজীবী নিয়োগে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে।
১৯৭১ : ১০ আগষ্ট: পাকিস্তানী জান্তা সরকার বঙ্গবন্ধুর পক্ষ সমর্থনের জন্য আইনজীবী একে ব্রোহীকে নিয়োগ দেয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে যখন ২৬ মার্চ ইয়াহিয়া খানের ভাষনের টেপ শোনানো হয় তখন তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনে অস্বীকার করেন এবং ব্রোহীকে অব্যহতি দেন। জাতীয় ও আন্তজার্তিক ভাবে বাংলাদেশের পক্ষে ব্যাপক জনমত তৈরী হয়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতার স্বপ্ন বস্তবতা স্পর্শ করতে থাকে।
১৯৭১ : ১১ নভেম্বর: বঙ্গবন্ধুকে ইয়াহিয়া খানের সামনে হাজির করা হয়। ইয়াহিয়ার সংগে ছিলেন ভূট্টো এবং জেনারেল আকবর। ইয়াহিয়া করমর্দনের জন্য হাত বাড়ালে বঙ্গবন্ধু বলে দুঃখিত ও হাতে বাঙালীর রক্ত লেগে আছে ও হাত আমি স্পর্শ করবো না। এ সময় অনিবার্য বিজয়ের দিকে এগুতে থাকে আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।
১৯৭১ : ২ ডিসেম্বর: বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের মুক্তির সংগ্রাম যখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে তখন লায়ালাপুর কারাগারে ইয়াহিয়া বঙ্গবন্ধুর সংগে সমঝোতার প্রস্তাব দেন। কিন্তু ঐ সমঝোতা প্রস্তাব বঙ্গবন্ধু ঘৃনাভরে প্রত্যাখান করেন।
১৯৭১ : ১৬ ডিসেম্বর: ত্রিশ লাখ শহীদ এবং তিন লাখ মা বোনের ইজ্জ্বতের বিনিময়ে আসে আমাদের বিজয়। বাঙালী জাতি মুক্ত হয় পরাধীনতার শৃংখল থেকে। কিন্তু মুক্তির অপূর্ণতা রয়ে যায় স্বাধীনতার স্থাপতি তখন নির্জন কারাগারে।
১৯৭২ : ৩ জানুয়ারী: পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে জুলফিকার আলী ভূট্টো করাচীতে ঘোষণা করেন শেখ মুজিবকে বিনা শর্তে মুক্তি দেয়া হবে।
১৯৭২ : ৮ জানুয়ারী: বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পান। পিআইয়ের একটি বিশেষ বিমানে বঙ্গবন্ধুকে লন্ডনে পাঠানো হয়। ৮ জানুয়ারী ভোরে বঙ্গবন্ধু লন্ডনে পৌছেন। তার হোটেলের সামনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা করেন আমি আমার জনগনের কাছে ফিরে যেতে চাই।
১৯৭২ : ১০ জানুয়ারী: সকালে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথের আগ্রহে ব্রিটেনের রাজকীয় বিমান বাহিনীর এক বিশেষ বিমানে বঙ্গবন্ধু নয়া দিল্লী পৌছালে রাষ্ট্রপতি ভি.ভি গিরি এবং প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরাগান্ধী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। বিমান বন্দরে বঙ্গবন্ধু বলেন অশুভের বিরুদ্ধে শুভের বিজয় হয়েছে। ঐ দিন বিকেলে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিমান বন্দরে অবতরণ করেন। লাখো মানুষের জনস্রোত, বাঁধভাঙ্গা আবেগে অশ্রসিক্ত জাতিরপিতা বলেন আজ আমার জীবনের স্বাদপূর্ণ হয়েছে ।ঐ দিন জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু হৃদয়কাড়া এক ভাষণ দেন। ঐ রাতেই তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
১৯৭২ : ১২ জানুয়ারী: দেশে রাষ্ট্রপতি শাসনের পরিবর্তে সংসদীয় শাসন কাঠামো প্রবর্তন করে নতুন মন্ত্রী পরিষদ গঠন করে এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
১৯৭২ : ১২ মার্চ: স্বাধীনতার মাত্র ৫০ দিনের মধ্যে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হয়।
১৯৭২ : ২৬ মার্চ: শোষনহীন সমাজ গঠনের অঙ্গীকারের মধ্যে দিয়ে প্রথম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়।
১৯৭২ :২০ এপ্রিল: শুরু হয় গণপরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষনা সম্পর্কিত প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়।
১৯৭২ : ৪ নভেম্বর: গণপরিষদে বাংলাদেশের খসড়া শাসনতন্ত্র অনুমোদিত হয়। এ উপলক্ষে প্রদত্ত ভাষনে বঙ্গবন্ধু বলেন বিজয়ের ৯ মাসের মধ্যে শাসনতন্ত্র দেয়া, মানুষের মৌলিক অধিকার দেয়ার অর্থ হলো জনগনের উপর বিশ্বাস করি।
১৯৭২ : ১৬ ডিসেম্বর: নতুন সংবিধান কার্যকর করা হয়। বাতিল করা হয় গণপরিষদ।
১৯৭২ : ৭ মার্চ: নতুন সংবিধানের আওতায় বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জাতির জনকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ৩০০টির মদ্যে ২৯২টি আসনে বিজয়ী হয়।
১৯৭৩ : ৩ সেপ্টেম্বর: আওয়ামীলীগ, সিপিবি ও ন্যাপের সমন্বয়ে ত্রিদলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়।
১৯৭৪ : ২৩ সেপ্টেম্বর: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম বাঙালী নেতা হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিণষষদে বাংলা ভাষায় বক্তৃতা দেন।
১৯৭৫ : ২৫ জানুয়ারী: দেশে বিরাজমান পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু জাতীয় সংসদে চতুর্থ সংশোধনী বিল পাশ করেন। এই বিলের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়।
১৯৭৫ : ২৫ ফেব্রুয়ারী: রাষ্ট্রপতি এক ডিগ্রীর মাধ্যমে সমস্ত রাজনৈতিক দলের সম্মিলনে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ নামে একটি নতুন একক রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
১৯৭৫ : ১৫ আগষ্ট: স্বাধীনতা বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ষড়যন্ত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে শহীদ হন।

শেষকথা

একজন শেখ মুজিব মানে একটি বাংলাদেশ। এমনটি শুধু এদেশে নয়। সারাবিশ্বেই সবদেশেই এমন একএকজন মহানায়কের জন্ম হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সমগ্র বিশ্বের রোল মডেল। এমন তেজোদীপ্ত কথা আর কেই কখনও বলেনি। তাই তিনি মহানায়ক।  আমরা বলতে পারি যে,১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে বাংলার শেষ নবাব সিরাজুদ্দৌলার সাথে বেইমানি করেছিল তাঁরই সেনাপতি মীল জাফর ক্ষমতার লোভে, নবাব হওয়ার আশায়। ১৯৭৫ সালেও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল। স্বাধীন বাংলাদেশর প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তাঁরই মন্ত্রীপরিষদের সদস্য খন্দকার মোশতাক। ইতিহাস স্বাক্ষী দেয় যে ক্ষমতা লোভীরা স্থায়ী হতে পারেনি মীর জাফর তিন মাসও ক্ষমতায় ছিল না। তেমনি ভাবে খন্দকার মোশতাকও তার রাষ্ট্রপতি পদ তিন মাসও রাখতে পারেনি। বাংলার বুকে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে এবং বাকীদেরও হবে এমন বিশ্বাস প্রতিটি বাঙ্গালীর।

ঈষৎ সম্পাদিত

সম্পাদনায়

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেল

সম্পাদক ও প্রকাশক

ক্রাইম ডায়রি ও গোয়েন্দা ডায়রি

(প্রিন্ট,অনলাইন)

www.crimediarybd.com

www.crimediarytv.net

কেন্দ্রীয় সভাপতি

জাতীয় সাংবাদিক পরিষদ

 

ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়

Total Page Visits: 61628

আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের সব পাটকল

কালিমুল্লাহ দেওয়ান রাজাঃ

পাটকল নিয়ে সকল জল্পনা-কল্পনার দিন শেষ। বঙ্গকন্যা ও দেশদরদী প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনা   সম্প্রতি বন্ধ ঘোষিত দেশের পাটকলগুলোকে আবার চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছেন। সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে পাটকলগুলো চালু করা হবে।  বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

মন্ত্রী জানান, পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার পাটশিল্প সম্প্রসারণে সব ধরনের সহায়তাও দেবে। ০৩ আগষ্ট, ২০২০ইং সোমবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা জানান। ঈদের তিন দিনের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে নিজ মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ দফতর/সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়ে এ সভা করেন মন্ত্রী। পাটমন্ত্রী বলেন, বহুমুখী পাটপণ্যের বর্তমান বাজার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে পাটপণ্যের উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও পুনর্বিন্যাস করে বিজেএমসির বন্ধ ঘোষিত মিলগুলো জরুরি ভিত্তিতে পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে সরকার।

“অবসায়নের পরে দেশের পাটকলগুলোকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি), যৌথ উদ্যোগ জিটুজি বা লিজ মডেলে পরিচালনার মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব আবার উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা হবে এবং সকল মিল উপযুক্ত ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন ও পুনরায় চালু করা হবে।”

বিজেএমসির জনবল কাঠামো পরিবর্তিত পরিস্থিতির আলোকে যৌক্তিকীকরণের বিষয়ে সুপারিশ দিতে উচ্চপর্যায়ের দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এ দিকে সরকারের এমন পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছেন পরিবেশ রক্ষার অন্যতম হাতিয়ার এই পাট-শিল্পের বিকাশ ঘটানো সহ সোনালী আঁশের সোনালী দিন আবার ফিরে আসবে সরকারের এমন পদক্ষেপে।

ক্রাইম ডায়রি///জাতীয়

Total Page Visits: 61628

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাত ১০টার পরে বাহিরে বের হওয়া নিষিদ্ধ

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

মহামারী করোনায় ভয়াবহতার শিকার বিশ্ববাসী। পুরো বিশ্ব আজ শিখেছে কিভাবে নতুন করে বাঁচতে হয়। বাঁচার নতুন কৌশল নিয়ে নতুন পৃথিবীর সন্ধানে গবেষকরা। এহেন পরিস্থিতিতে     জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত দেশবাসীকে অকারনে বাহিরে বের না হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এছাড়া দোকানপাট ও শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে বলা হয়েছে। ০৩ আগষ্ট, ২০২০ইং সোমবার এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মঙ্গলবার থেকে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নির্দেশনা বলবৎ থাকবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত জরুরি কোন প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাহিরে যাওয়া যাবে না। তবে ক্রয়-বিক্রয়, কর্মস্থলে যাতায়াত, জরুরি পরিষেবা, ওষুধ ক্রয়, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন ও সৎকার ইত্যাদি কাজে বাহিরে বের হয়ে যাবে। এতে আরও বলা হয়, ঘরের বাহিরে গেলে মাস্ক পরিধান ও পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। অন্যথায়, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া হাটবাজার, দোকানপাট, শপিংমলে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোভাবে প্রতিপালন করতে হবে। আদেশে সরকার আরও বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে। যা নিম্নরুপঃ—-

১. আগামী ৪ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটি এ নিয়ন্ত্রণের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

২. হাটবাজার, দোকানপাট, শপিংমলে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে। শপিংমলের প্রবেশপথে তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজার রাখতে হবে। শপিংমলে আগত যানবাহনকে অবশ্যই জীবণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। পণ্য ও খাদ্য ক্রয়ে জনগণকে ই-কমার্স সাইট ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে।

“আদেশে বলা হয়, রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত জরুরি কোন প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাহিরে যাওয়া যাবে না। তবে ক্রয়-বিক্রয়, কর্মস্থলে যাতায়াত, জরুরি পরিষেবা, ওষুধ ক্রয়, চিকিৎসাসেবা, মৃতদেহ দাফন ও সৎকার ইত্যাদি কাজে বাহিরে বের হয়ে যাবে। এতে আরও বলা হয়, ঘরের বাহিরে গেলে মাস্ক পরিধান ও পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। অন্যথায়, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে।”

৩. সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ, অসুস্থ কর্মচারী ও সন্তানসম্ভবা নারীরা কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

৪. গণপরিবহনসহ সব ধরনের যানবাহন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করতে হবে।

৫. এ সময়ে সব সভা-সমাবেশ, জমায়েত ও অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে। ভার্চুয়াল উপস্থিতি অনুষ্ঠান আয়োজনে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সময়ে প্রদত্ত নির্দেশনা মেনে মসজিদে জামাত ও অন্যান্য উপাসনালয়সমূহে প্রার্থনা পরিচালনা করা হবে।

সরকারি এ নির্দেশনা মেনে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহযোগিতার জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 61628

রাজধানীর জলাবদ্ধতায় সমাধান মিলছে না বছরের পর বছর

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃ

একটি দেশের রাজধানী হলো সেই দেশের আয়না। রাজধানী দেখলেই পুরো দেশের একটি দৃশ্য যে কেউ সহজে  অনুমান করে নেয়। কারন, ভ্রমন পিয়াসু মানুষ সাধারনতঃ যে দেশের যাক না কেন আগে যায় সেই দেশের রাজধানীতে। এলোমেলো খোড়াখুড়ি কিংবা অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে আমাদের রাজধানীর যে সংকট তৈরি হয় তা পুরো বিশ্বের নিকট দেশের ভাবমুর্তিকে নষ্ট করে দিচ্ছে। একটা বিষয় কিন্তু স্বীকার না করে উপায় নেই যে বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কড়া নির্দেশ এ সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করা। কিন্তুু সুবিধাভোগী বরাবরের মতই তার নির্দেশকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের গতিতে চলছে।
সম্প্রতি, ঢাকার মিরপুর, ধানমন্ডি, শান্তিনগরসহ নানা এলাকার রাস্তায় পানি নিয়ে ব্যঙ্গ আর হাসি তামাশা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বৃষ্টির কারণে গত দুদিনের মতো আজও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু বা কোমর সমান পানি দেখা গেছে। যদিও এদৃশ্য বিগত অনেক বছরের। শনির আখড়ার অধিবাসী মনজিদা আখতার বলছেন পানি তাদের দুর্ভোগ চরমে তুলেছে। “বাসার সিঁড়ির নিচে কক্সবাজারের মতো দৃশ্য। আর উপরে রুমে পানি নেই। মধুবাগে এসেছি সেখানে হাঁটু পানি,” বুধবার বিকেলে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মনজিদা আখতার। গ্রীন রোডে থাকেন ফেরদৌসি রেজা চৌধুরী। তিনি বলছেন অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে সেখানে।  মিরপুর, ধানমন্ডি, শান্তিনগরসহ নানা এলাকার রাস্তার পানি নিয়ে ব্যঙ্গ আর হাসি তামশা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

ঢাকা দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নুর তাপস বলছেন ওয়াসা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে তাই জলাবদ্ধতার সমাধান চাইলে দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনকেই দিতে হবে। তিনি বলেন, “ওয়াসা ব্যর্থ হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্যর্থ হয়েছে। আইন মোতাবেক জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনকে বুঝিয়ে দিতে হবে। অথচ জলাশয়, খাল অন্যদের দিয়ে রাখা হয়েছে। এগুলো সিটি কর্পোরেশনকে বুঝিয়ে দিলে আমরা কার্যকর পরিকল্পনা করে আমাদের যে মহাপরিকল্পনার কাজ চলছে তার অংশ হিসেবে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করতে পারবো।”

তাহলে এখন আর সিটি কর্পোরেশন কোনো কাজ করতে পারছে না জলাবদ্ধতা নিরসনে- পরিস্থিতি কি এমনই? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যথার্থই তাই। মানুষের ভোগান্তি আমরা দেখছি কিন্তু কিছু করতে তো পারছি না।”

ওদিকে পানি প্রবাহের যে খালগুলো প্রায় বন্ধ সেগুলোসহ জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা ওয়াসার অধীনে পাম্প হাউজগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও ঢাকার দুই মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা।

মানুষ কবে এই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলছেন কবে নাগাদ সমস্যার সমাধান হবে সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। “আমরা সমস্যাগুলো দেখছি। এরপর সমাধানে কি করা যায় সেটি দেখা হবে। কাদের মাধ্যমে সমাধান হলে ভালো হবে সেটি দেখে কাজ করা হবে। হুট করে এখনই বা পনের দিনে সমাধান হবে সেটি বলা যাচ্ছে না। কিন্তু আমি আশ্বস্ত করতে চাই যে এর সমাধান হবে।”

আবার সিটি কর্পোরেশনকে দায়িত্ব দেয়া হবে কিনা তাও চিন্তা ভাবনা করেই চূড়ান্ত করা হবে বলছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। অর্থাৎ আপাতত জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলছে না নগরবাসীর। যদিও মন্ত্রী বলছেন দ্রুত পানি অপসারণের যেসব কার্যক্রম আছে সেগুলো জোরদার করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

“রাজধানী যেন একটি সমুদ্র। বৃষ্টি হলেই সেই সমুদ্রে জাহাজ চলে । এমন দৃশ্য শুধু হাসিরই উদ্রেক করেনা,দুঃখবোধও জাগায়। সরকার বড়ই আন্তরিক দেখেই এখনও সেখানে মহাসমুদ্র হয়নি। তবে দায়িত্বশীলরা পেড়ে ওঠেন না সুবিধাভোগী স্বার্থান্বেষি মহলের জন্য। এই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলছেন কবে নাগাদ সমস্যার সমাধান হবে সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। “আমরা সমস্যাগুলো দেখছি। এরপর সমাধানে কি করা যায় সেটি দেখা হবে। কাদের মাধ্যমে সমাধান হলে ভালো হবে সেটি দেখে কাজ করা হবে। হুট করে এখনই বা পনের দিনে সমাধান হবে সেটি বলা যাচ্ছে না। কিন্তু আমি আশ্বস্ত করতে চাই যে এর সমাধান হবে।”

নিম্নচাপের প্রভাবে টানা দু’দিনের অবিরাম বৃষ্টির ফলে ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিলো গত দু’দিন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় পানি জমে ছিল দীর্ঘক্ষণ। এছাড়া ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর সড়ক, মতিঝিল, মিরপুর, বাড্ডা ও রামপুরাসহ প্রায় সব এলাকাতেই কোথাও হাটুপানি, কোথাও কোমরপানি দেখা গেছে। যদিও এর আগে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতার হতো যে শান্তিনগরে সেটির সমাধানের দাবি করেছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হচ্ছে এমন এলাকার সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে। এবার শুক্র ও শনিবারের বৃষ্টিতে কয়েকটি এলাকার রাস্তায় নৌাকা এমনকি ভেলা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। এই যে ঢাকার জলাবদ্ধতা ক্রমে বেড়েই চলেছে। কিন্তু এটি নিরসন করা যাচ্ছে না কেন? সমস্যা কোথায়?

জবাবে বুয়েটের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্লানিং বিভাগ শিক্ষক ড. সারওয়ার জাহান বলেন জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে অপরিকল্পিত উন্নয়ন হচেছ। একই সাথে প্রাকৃতিক ড্রেনেজ সিস্টেম অর্থাৎ খাল বিল পুকুড় যা ছিলো তা ভরাট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “পানি তো যেতে হবে কিন্তু সে সুযোগ তৈরি করতে হবে। প্রাকৃতিক সিস্টেম যেহেতু ধ্বংস হয়ে গেছে তাই কৃত্রিম সুযোগ তৈরি করতে হবে পানি যাওয়ার”। সবগুলো সংস্থা কি একযোগে কাজ করছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালোভাবে করার জন্য ? এমন প্রশ্নের জবাবে ড. জাহান বলেন ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড একসাথে কাজ করতে হবে পানি নষ্কাশনের জন্য কিন্তু তাদের মধ্যে কোন সমন্বয় নেই। তার মতে পুরো শহর ভেঙ্গে নতুন কিছু করা যাবেনা তাই ড্রেনেজ সিস্টেম যাতে কাজ করে তা দেখার পাশাপাশি নতুন ড্রেনেজ সিস্টেম মাটির উপরে ও নীচে বাড়িয়ে সেটির ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর সিলেট মহানগরীতেও জলাবদ্ধতার খবর আমাদের যতখানি না হতাশ, তারচেয়ে বেশি করেছে হতবাক। রাজধানী শহর ঢাকা যদিও প্রাকৃতিকভাবেই অর্ধশতাধিক খাল ও নদীবেষ্টিত ছিল, এর বেশিরভাগই দখল, ভরাট ও দূষণের শিকার হয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়নের জের ধরে বেশিরভাগ নিম্নভূমিও ভরাট করে ফেলেছে আবাসন কোম্পানিগুলো। ফলে অতিরিক্ত বর্ষণের পানি সহজে নামতে পারে না। চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি- ঢাকার মতো নদী, খাল, ভরাট ও দখল ছাড়াও বাড়তি কারণ হচ্ছে জোয়ার-ভাটার প্রভাব বৃদ্ধি। জোয়ারের সময় অতিরিক্ত বর্ষণের কারণে পনি নিস্কাশন ব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে বৈকি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং বেড়িবাঁধ ব্যবস্থার ‘পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া’ হিসেবে উপকূলীয় কোনো কোনো শহরেও সাম্প্রতিক সময়ে জলাবদ্ধতা দেখছি আমরা। কিন্তু জলাবদ্ধতায় নাকাল নগরের তালিকায় সিলেট কী কারণে যুক্ত হয়েছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। শনিবার সমকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতে সিলেট নগরীর অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এমনকি আগে কখনও জলাবদ্ধতার শিকার হয়নি, এমন এলাকাও এবার জলমগ্ন।

আমরা জানি, ভৌগোলিকভাবে হাওরাঞ্চলে অবস্থিত হলেও সিলেট শহর ‘নিম্নভূমি’ নয়। বরং টিলাবহুল এই নগরী ওই অঞ্চলের অন্যতম উচ্চভূমি। ঢালু ভূ-গঠন ও শহরের পাদদেশে প্রবহমান সুরমা নদীর কারণে সিলেট নগরীতে আর যে নাগরিক সংকটই থাকুক, জলাবদ্ধতা থাকার কথা নয়। দুর্ভাগ্যবশত সেই চিত্রই আমাদের দেখতে হচ্ছে। অথচ সিলেট যেমন ভৌগোলিকভাবে ঢাকার মতো সমতল নয় যে, বৃষ্টির পানি আটকে থাকতে পারে; তেমনই চট্টগ্রামের মতো সমুদ্রসংলগ্নও নয় যে, জোয়ারের প্রভাবে বৃষ্টির পানি নামতে বিলম্ব হতে পারে। কিন্তু তারপরও জলাবদ্ধতা হচ্ছে কেন? এটা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই যে, সমস্যা পানি নিস্কাশন ব্যবস্থায়। গত দুই দশকে সিলেট শহরের প্রাকৃতিক ছড়াগুলো যেমন, তেমনই কৃত্রিম নালাগুলোও দখল ও ভরাটের শিকার হয়েছে। ফলে পানি সহজে নামতে পারে না। ঢাকা বা চট্টগ্রামের তুলনায় সিলেটের পানি নিস্কাশন সমস্যা দূর করা অপেক্ষাকৃত ‘সহজ’। শুধু যদি ছড়া ও নালাগুলো প্রতিবন্ধকতামুক্ত রাখা যায়, তাহলেই পরিস্থিতির বহুলাংশে উন্নতি ঘটবে। আমরা দেখছি, এ ব্যাপারে সরকারের দিক থেকে কোনো ঔদাসীন্য নেই। প্রকল্প ছাড় ও অর্থ বরাদ্দ হয়েছে দফায় দফায়। গত বছর সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাতে ‘রেকর্ড’ ১২শ’ ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

২০১৬ সালেও এই খাতে ২৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, অপেক্ষাকৃত কম হলেও বরাদ্দ এসেছিল ২০১৩ এবং তারও আগে ২০০৯ সালে। আমাদের প্রশ্ন- নালা, খাল, ছড়া যদি উদ্ধার না-ই হয়, তাহলে এত অর্থ যাচ্ছে কোথায়? নগরের প্রাকৃতিক কাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখলেই যেখানে পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা সচল থাকার কথা, সেখানে শত শত কোটি টাকা খরচ করেও বছরের পর বছর কেবল জলাবদ্ধতাই সম্প্রসারিত হবে কেন? তার মানে এত প্রকল্প ও বরাদ্দ দিয়ে পানি নয়, অর্থ নিস্কাশনেরই ব্যবস্থা করা হচ্ছে? আমরা দেখতে চাই, অবিলম্বে চলমান প্রকল্পের মান ও অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন দফায় বরাদ্দ অর্থ কোন নালা দিয়ে ‘জলে গেছে’ তাও নিরীক্ষা প্রয়োজন বর্তমান ও ভবিষ্যতের অর্থ কাজে লাগার স্বার্থেই। আমাদের মনে আছে, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেয়ে সিলেট নগরীর মেয়র সরকারকে ধন্যবাদ দিয়েছিলেন। মেয়রের এ কথাও আমরা ভুলিনি যে- প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে খাল ও ছড়া কেবল উদ্ধারই নয়, অভ্যন্তরীণভাবে নৌকা চলাচলও সম্ভব হবে। এখন দেখা যাচ্ছে, জলাবদ্ধতার কারণে খালের বদলে সড়কে নৌকা চালাতে হবে নগরবাসীকে। আমরা বাগাড়ম্বর চাই না, কাজ দেখতে চাই। সিলেট নগরীর খালে নৌকা চালানোর স্বপ্ন নিশ্চয়ই সাধুবাদযোগ্য; কিন্তু তার আগে খোদ খাল ও ছড়া সচল হোক। আপাতত জলপথ চাই না, জলাবদ্ধতা সামলান।

কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকা শহর যেন পরিণত হয় সমুদ্রে, একই অবস্থা বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও। এ অবস্থা কয়েক যুগ থেকে চলে আসছে। বর্তমান সময়ে রাজধানীজুড়ে চলা মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ নানা মেগা প্রকল্পের সমন্বয়হীন কর্মে জলাবদ্ধতা প্রকোট আকার ধারণ করেছে। বৃষ্টির পরপরই নগরবাসীর দুর্ভোগ চিত্র গণমাধ্যম-সামাজিক মাধ্যমে এসে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে।

এই জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্নসময় ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ও ওয়াসা’র বিরুদ্ধে নাগরিক ক্ষোভ দেখা যায়। আবার ওই দুই সংস্থাকে অনেকসময় দেখা যায় দায় এড়াতে একে অন্যকে দোষারোপ করতে। চট্টগ্রামসহ নানা বড় শহরগুলোতেও এরকম অবস্থা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণ একপ্রকার অসহায়ভাবে এই সমস্যাকে মেনে নিতে শুরু করেছে বলে আমাদের ধারণা।

রাজধানীতে বড় জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার মধ্যে রয়েছে- সচিবালয়, মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, নিকুঞ্জ-১ ও ২, রোকেয়া সরণি, সাংবাদিক কলোনি এলাকা। রাজধানীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম খালগুলো অবৈধ দখল ও কঠিন বর্জ্যে ভরাট হয়ে আছে। নগরের খাল, ড্রেন, বক্স কালভার্ট ও ব্রিক স্যুয়ারেজ লাইন দিয়ে পানি নদীতে যেতে পারছে না। ফলে ভারি বর্ষণে শহরের অলিগলি, প্রধান সড়ক, ফুটপাথ পর্যন্ত তলিয়ে যায়। ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের বাৎসরিক বাজেটে খাল পরিষ্কারে বেশ ভাল অংকের বরাদ্দ থাকলেও তা খরচের পদ্ধতিগত বিষয়ে নানা অসঙ্গতি নানাসময়ে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। খাল পরিষ্কার করে সেই ময়লা আবার খালের পাড়েই রেখে দেয়া হয়সহ নানা অভিযোগের কথা শোনা যায়। স্বল্পকালীন কিছু পদক্ষেপ থাকলেও টেকসই সমাধানে সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বললে ভুল হবে না।

 

জলাবদ্ধতায় রাজধানীর রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে স্বল্পসময়ে। গণপরিবহনসহ জনগণের সম্পত্তিরও ক্ষতি হচ্ছে সমানুপাতিক হারে। এসব বিষয়ে জরুরি ও দীর্ঘমেয়াদি নজর দেয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। একটি দেশের রাজধানীসহ বড় বড় শহরের নাগরিক সুবিধার চিত্রের উপরে দেশের ভাবমূর্তি নানাভাবে জড়িত। বিভিন্ন বৈশ্বিক সূচকে সেগুলোর বেশ ফলাও করে প্রচার-প্রকাশিত হয় নানা সময়ে। সেইসব সূচক বা প্রতিবেদনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরের করুণ চিত্র বছর বছর দেখা যায়। যানজট, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতার মতো সমস্যা বারবার বিব্রত করছে জাতিকে। এই অবস্থা থেকে দ্রুত মুক্তি সময়ের দাবি। আমাদের আশাবাদ, সংশ্লিষ্ট সব মহল এ বিষয়ে কার্যকর মনোযোগ দেবেন।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

 

 

Total Page Visits: 61628

মৃত্যুর দুয়ার হতে ফিরলেন শাহনাজ খুশিঃ দায়িত্বশীলদের প্রতি তার খোলা চিঠি

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

জানি মৃত্যুর মিছিল হতে ফিরে আসা যায়না।। প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম মেনে সেটা ঘটবেই। কিন্তু মানবসৃষ্ট দূর্ঘটনার জন্য প্রাকৃতিক নিয়মকে গালি দেওয়া যায়না। আল্লাহতায়ালা মানবজাতিকে আশরাফুল মাখলুকাত বানিয়ে সকল বিষয়ে সতর্ক হয়ে চলতে বলেছেন। কেউ যদি ছাদ হতে লাফ দেয়, কেউ যদি চলন্ত পথে দাঁড়িয়ে থাকে,নিয়ম না মেনে ড্রাইভ করে  তবে এহেন মৃত্যু সৃষ্টিকর্তার নিয়মকে লংঘন করে তাই আত্মহত্যাকে মহাপাপ বলা হয়েছে। এ মহাপাপে সহযোগীরাও পাপী।। তাই  নিয়ম মেনে গাড়ি চালনা এবং নিয়ম মানতে বাধ্য করাই শ্রেয়। সাম্প্রতিককালে, গাড়ি এক্সিডেন্ট বেড়েছে।। নির্মম এ এক্সিডেন্ট গুলোর জন্য বেশির ভাগ সময়ই মূর্খ গাড়িচালকের গোঁয়ার্তুমি ও নেশাখোর চালকের বেহুশ মনোভাবই দায়ী।  এ অবস্থা পুরো দেশের।  সম্প্রতি বাংলার চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি ও কিংবদন্তি পরিবারের পরিচালক শাহনাজ খুশি মৃত্যুর হাত হতে বেঁচে ফিরেছেন।  এমন একটি এক্সিডেন্ট এর ঘটনা ও দায়িত্বশীলদের  নিকট তার খোলা চিঠি হুবহু পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো—

          নির্মম এ এক্সিডেন্ট গুলোর জন্য বেশির ভাগ সময়ই মূর্খ গাড়িচালকের গোঁয়ার্তুমি ও নেশাখোর চালকের বেহুশ মনোভাবই দায়ী।  এ অবস্থা পুরো দেশের।  সম্প্রতি বাংলার চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি ও কিংবদন্তি পরিবারের পরিচালক শাহনাজ খুশি মৃত্যুর হাত হতে বেঁচে ফিরেছেন।

“চার মাস পর করোনার মধ্যে প্রথম শুটিং এ যাচ্ছি,খারাপ লাগা নিয়ে পরশু এমন একটা পোষ্ট দিয়েছিলাম।নাহ,আমাকে অদৃশ্য করোনা এখনো ছোঁয়নি,আমাকে মৃত্যুর দুয়ারে নিয়েছিল দৃশ্যমান ভয়াবহ এ পরিবহন সেক্টরের অরাজকতা!! এটা আমার গাড়ী!! এই গাড়ীর মধ্যে আমি ছিলাম!!! একেবারেই অলৌকিক কিছু না হলে আমার বাঁচার কথা নয়! আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমি বেঁচে আছি,ভাল আছি! কত বড় অরাজকতার মধ্যে আমরা বাস করছি,তা ভুক্তভুগি সবাই জানি।


আজ স্বাস্থ্যখাত সামনে এসেছে বলে,শাহেদদের মত অসংখ্য অসংখ্য কালপিট সামনে আসছে,পরিবহন খাতটা দীর্ঘকাল হলই এমন! প্রতিদিন এমন অসংখ্য দুর্ঘটনায় শেষ হচ্ছে হাজারো পরিবার,খালি হচ্ছে মায়ের কোল,সন্তানের বুক! কিন্তু কোন প্রতিকার নেই।স্বাস্থ্যখাতের চেয়েও আরও দুর্গম/অন্ধকার/অন্যায়ে ঠাসা এ পরিবহনখাত! ছবিতে যে বিশাল আকারের কার্গো,এটিই গাড়ীর উপর ওঠেছে,ঠেলে নিয়ে পেছনে থামা ট্রাকের সাথে চেপে ধরছে,সেটি চালাচ্ছিল হেলপার,বয়স ১৬/১৭।ড্রাইভার যিনি,উনিও তাই।গুরুত্বপুর্ন কথা হল,ড্রাইভারের কোন লাইসেন্স নাই!!!
এমন নাকি চলে,কোন সমস্যা হয় না! আমি আসলে পুরা সেন্সে ছিলাম না,কিছু কিছু কথা আমি ভুলতে পারছি না!!পুবাইল পুলিশ/আমার শুটিং এর ছেলেরা/আমার বাসার মানুষ সবাই চলে এসেছে।আমি তখন থর কম্প একটা মাংস পিন্ড কেবল।কেউ একজন ক্ষতিপুরনের কথা বলায় ড্রাইভার বলছে,”মানুষ মাইরালায় ট্যাহা লাগে না,বাঁইচ্যা আছে,তাও ট্যাহা লাগবো!!!!!!! “সামনের টেম্পোর ৬ জনরে বাঁচান্যার লাই ২ জনরে মাইরা দেয়া কুনু বিষয় না!!!!”এমন অসংগ্ন কথা বার্তা।মীরের বাজার পুলিশ বক্সে দায়িত্বে থাকা পুলিশ এবং থানা পুলিশ ভাইয়েরা যা করেছেন আমার জন্য তা সারাজীবন কোনদিন ভুলবো না।সেই সাথে জেনে এসেছি তাদের নেতৃস্থানীয়দের এবং পরিবহন লীডার বলয়ের কাছে অসহায়ত্বের কথা!!
আমি কাল থেকে অপ্রকৃতস্থ প্রায়! খেতে পারছি না,চোখ বন্ধ করতে পারছি না,আমার ছেলে দুইটা এ ভয়াবহতায় এলোমেলো,বাচ্চা ছেলেটা রাতে ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়েছে! আমি কিছু বুঝতে চাই না,আমি আমার দেশের প্রতি/আইনের প্রতি শতভাগ শ্রদ্ধা এবং দায়িত্ববান।আমার এবং আমার পরিবারের দ্বারা দেশের বিন্দু পরিমান সম্মান ক্ষুন্ন হয় নাই,বরং দেশের মর্যাদা রক্ষায় আমরা বদ্ধ পরিকর।আমি শুধু আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই মাননীয়! জীবনের এত যুদ্ধ,এত শিক্ষাার পর,একজন অশিক্ষিত নেশাগ্রস্ত লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভারের হাতে জীবন দিতে রাজী নই।দয়া করে আইন সংশোধন করে ,আমাদের জীবনকে নিরাপদ করুন।আমি আমার সন্তানকে দায়িত্বপুর্ন নাগরিক করবার দায়িত্বভার নিষ্ঠার সাথে পালন করছি।আপনারা আমাদের জীবন/পথকে নিরাপদ করুন মহামান্য!! আমার পরিবার এবং আমি,দাফনের জন্য টাকা আর ক্ষতিপুরনের কয়েক লাখ টাকা চাই না।আমরা ভর্তা ভাত খেয়ে,একে অপরের জীবিত সুস্থ সান্নিধ্যে বাঁচতে চাই…….🙏🙏😥😥””

এ আকুতি ১৮ কোটি জনতার।। বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট এ খোলা চিঠি  পুরো দেশবাসীর ।।  শাহনাজ খুশি পুরো দেশের আপামর  জনতার পক্ষ হতে শুধু তা উচ্চারন করলেন।

ক্রাইম ডায়রি// জাতীয়

Total Page Visits: 61628

বিএসটিআই বগুড়ার অভিযানঃ অবৈধভাবে মানচিহ্ন ব্যবহার করায় জড়িমানা

শরীফা আক্তার স্বর্না,  উত্তরাঞ্চলীয় অফিসঃ

মানসনদ গ্রহন না করে পন্যের গায়ে মানচিহ্ন ব্যবহার করে সারাদেশেই চলছে দূর্নীতির মহোৎসব। সাম্প্রতিককালে মফস্বলে এ চিত্র আরও ভয়াবহ। কোন কোন জায়গায় সব মানচিহ্ন ব্যবহার করে মোড়কে কোম্পানির কোন ঠিকানা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছেনা। ঠিকানায় লেখা হচ্ছে চকবাজার ঢাকা কিংবা মোহাম্মদপুর ঢাকা কিংবা বগুড়া, বাংলাদেশ এমন। বিশেষ কিছু পন্যে এমন ব্যবহার করে বাজারজাতকরণে  আরও ভয়াবহ চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চাপাতা, জুস এবং মশার কয়েল এ তিনটি পন্যে এরকম নকলের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ইদানিংকালে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে নকল পন্যের আনাগোনা বেশি চোখে পড়ছে। চায়ের দোকানগুলোতে মানসনদহীন চা পাতায় ভরপুর। দোকানগুলোতে জুস, মশার কয়েলে ভরপুর।

বিশেষ কিছু পন্যে এমন ব্যবহার করে বাজারজাতকরণে  আরও ভয়াবহ চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চাপাতা, জুস এবং মশার কয়েল এ তিনটি পন্যে এরকম নকলের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ইদানিংকালে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে নকল পন্যের আনাগোনা বেশি চোখে পড়ছে।

বি এসটিআইয়ের   দক্ষ কর্মকর্তাদের কারনে তটস্থ থাকতে হয় নকলবাজদের। সম্প্রতি এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বি এস টি আই বগুড়ার কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ এর মাঠ পর্যায়ে অব্যহত অভিযানে ভেঙে গিয়েছে নকলবাজদের মেরুদণ্ড। স্বস্থি পেয়েছে জনগন। জুলাই ১৮,২০২০ইং বগুড়ায় অবৈধভাবে বিএসটিআই’র মানচিহ্ন ব্যবহার করায় ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ টাকা) জরিমানা এবং ৪৩,০০০/- মূল্যের মালামাল ধ্বংস করা হয়েছে।

সরেজমিন সূত্রে জানা গেছে,  বগুড়া সদরে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব)-১২ এর সহযোগিতায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম কামরুল ইসলামের নের্তৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত হতে বিএসটিআই’র গুণগত মানসনদ গ্রহণ না করে অবৈধভাবে ‘ক্যান্ডি/লজেন্স, আইস ললি ও এডিবল জেল’ বিক্রয়-বিতরণ এবং মোড়কে বিএসটিআই’র লোগো সম্বলিত স্ট্যান্ডার্ড মার্ক ব্যবহার করায় গোকুল এলাকার মেসার্স পিএন্ডপি ফুডসকে ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন আইন-২০১৮’ এর ২৭ ধারা মোতাবেক ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ টাকা) জরিমানা করা হয়।  এসময় সেখান হতে ৪৩,০০০/- মূল্যের অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত মালামাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। মামলাটির প্রসিকিউশন দেন বিএসটিআই জেলা অফিস, বগুড়া এর পরিদর্শনকারী কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-১২ এর ক্যাম্প কমান্ডার মোস্তাফিজুর রহমান ও স্যানিটারী ইন্সপেক্টর শাহ আলী।

বি এস টি আই সূত্র জানিয়েছে, জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যহত থাকবে।

ক্রাইম ডায়রি/// ক্রাইম// আদালত/ জেলা

Total Page Visits: 61628

রাজধানীর ডেমরায় ভূয়া ডাক্তার আটকঃ হাসপাতাল সিলগালা

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

ভূয়া ডাক্তার, ভূয়া মামা,ভূয়া বড়ভাই অসংখ্য ভূয়ায় ভরপুর সোনার বাংলা। নিজ স্বার্থে যার যেমন ইচ্ছে ভূয়ামি করে চলেছে। ভূয়া ডাক্তারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে  রাজধানীর ডেমরায় র‍্যাবের বিশেষ অভিযানে ধরা পড়েছে সাখাওয়াত হোসেন সুমন নামে আরেক ‌’শাহেদ’।

দণ্ডপ্রাপ্ত সুমনের কাছে টক শোতে অংশগ্রহণ, চিকিৎসায় অবদানের জন্য ক্রেস্ট, ছবিসহ বিভিন্ন কিছু থাকলেও চিকিৎসক হওয়ার সনদ বা কোনো প্রমাণ ছিল না।

রিজেন্ট শাহেদের মত সেও ভিআইপিদের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি উঠেছে,টিভিতে টকশো করেছে। তারও আছে বড় ভাই,  মামাসহ আরও অনেকে। সবার প্রভাব খাঁটিয়ে সেও খুলেছে হাসপতাল। সে একজন ভুয়া ডাক্তার। ডাক্তার সেজে রোগী দেখতো হাসপাতাল পরিচালনা করতো। পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া রিপোর্ট দিতো। তাকে দণ্ড এবং তার হাসপাতাল সিলগালা করে দিয়েছেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া অন্যদেরও বিভিন্ন সাজা দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত সুমনের কাছে টক শোতে অংশগ্রহণ, চিকিৎসায় অবদানের জন্য ক্রেস্ট, ছবিসহ বিভিন্ন কিছু থাকলেও চিকিৎসক হওয়ার সনদ বা কোনো প্রমাণ ছিল না।

রোববারের অভিযান বিষয়ে র‍্যাব জানায়, ওই হাসপাতালে কর্মরত ১২ ‘চিকিৎসকের’ বেতন না দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে র‍্যাব-৩ রাজধানীর ডেমরা এলাকার সারলিয়ায় অবস্থিত ওই হাসপাতালে রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালায়।

গণমাধ্যমকে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বসু জানান, এসএইচএস হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল সেন্টারে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করা হয়েছে। নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে এটি পরিচালনা করতেন এর মালিক সাখাওয়াত হোসেন সুমন। আমরা তাকে রোগী দেখা অবস্থায় সেখানে অভিযান চালাই। অভিযানে তিনি আমাদের চিকিৎসা সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রমাণই দেখাতে পারেননি। তবে তার চেম্বারে সিল, প্যাড, ভিজিটিং কার্ড এসব পাওয়া গেছে। চিকিৎসায় অবদানের জন্য বিভিন্ন ক্রেস্ট, টেলিভিশন টক শোতে অংশগ্রহণের সনদও রয়েছে তার।

তিনি জানান, সুমন নিজেকে চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞ বলে পরিচয় দিত। রোগীদের বিভিন্ন নমুনার পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট দিত। এক বছর আগে তার হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ অক্সিজেন সিলিন্ডার, কার্বন ডাই অক্সাইডের সিলিন্ডারকে অক্সিজেন সিলিন্ডারে রূপান্তরসহ নানা অনিয়ম পাওয়া গেছে।

র‍্যাবের এ ম্যাজিস্ট্রেট জানান, তার হাসপাতালে ১২ জন চিকিৎসক আছেন জানালেও আসল চিকিৎসক মাত্র একজন। তাদের বেতনও ঠিক মতো দেওয়া হচ্ছিল না। তখন তারা র‍্যাবে অভিযোগ দেন। এ ছাড়া তার ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদন নেই এমন ওষুধ বিক্রি হচ্ছিল।

পলাশ বসু জানান, সাখাওয়াত হোসেন সুমনকে দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদেরও বিভিন্ন সাজা দেওয়া হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেরর কর্মকর্তা ডা. দেওয়ান মো. মেহেদি হাসান, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকসহ সাংবাদিকবৃন্দ।

ক্রাইম ডায়রি//ক্রাইম//রাজধানী

Total Page Visits: 61628

মার্কিন রনতরীতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডঃ আহত ২১

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

যুক্তরাষ্ট্রে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে আগুন, আহত ২১

 

মহাশক্তিধর বলে আত্ম অহামিকায় ভরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোতে নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজে আগুন লেগে অন্তত ২১ জন নাবিক আহত হয়েছে। রবিবার সকালে সান ডিয়েগো নৌঘাঁটির ইউএসএস বোনহোমে রিচার্ড নামের এই জাহাজে আগুনের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে একটি বিস্ফোরণের পর এই আগুনের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আহত ১৭ জন নাবিক ও চার জন বেসামরিককে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের জখমে প্রাণ সংশয়ের হুমকি নেই।”

আগুনে যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস বনহোম রিচার্ডের নাবিকরা ‘সামান্য আহত’ হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে  নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার প্যাট্রিশিয়া কোয়েজবার্গার সিনএএনকে জানিয়েছেন।

রোববার বিকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের ন্যাভাল সার্ফেস ফোর্সেস এক টুইটে জানায়, সব ক্রু যুদ্ধজাহাজটি থেকে নেমে গেছেন এবং কেউ নিখোঁজ নেই। জাহাজটিতে প্রায় ২০০ জনের মতো লোক ছিল। যদিও স্বাভাবিক ভাবে রনতরীতে ১০০০  সৈন্য থাকে।

আগুনে যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস বনহোম রিচার্ডের নাবিকরা ‘সামান্য আহত’ হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে  নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার প্যাট্রিশিয়া কোয়েজবার্গার সিনএএনকে জানিয়েছেন।

সান ডিয়াগো ফায়ার-রেসকিউ বিভাগ তাদের প্রতিবেদনে জানায়, স্থানীয় সময় সকাল প্রায় সাড়ে ৮টার দিকে যুদ্ধজাহাজটিতে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়, পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে একটি বিস্ফোরণও ঘটে। রিয়ার অ্যাডমিরাল ফিলিপ সাংবাদিকদের জানান, আহত সৈন্যদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়,নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জাহাজটিকে বন্দরে রাখা অবস্থায় এমন ঘটনা ঘটে।

ক্রাইম ডায়রি// আন্তর্জাতিক

 

Total Page Visits: 61628

ভূয়া করোনা সনদ বিক্রিঃঃ ডাঃ সাবরিনার দাবী ডিজিকে তিনি জানিয়েছিলেন

ক্রাইম ডায়রি অনলাইন ডেস্কঃঃ

ভয়ংকর করোনার কড়াল থাবায় পুরো বিশ্ব যখন নাজেহাল তখন করোনার ভূয়া রিপোর্ট দিয়ে করোনা মহামারী ছড়িয়ে মানব হত্যার মত জঘন্য কাজের সাথে জড়িত হওয়া কতটুকু জঘন্য তা বিচারের ভার জনগনের উপরই ছেড়ে দিলাম।   রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন দেশ প্রধান বঙ্গকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তার সকল অর্জন ধুলিসাৎ করে দিচ্ছে তার আশেপাশে থাকা সুবিধাভোগী হাইব্রিড দলবাজরা। ব্যবহৃত হচ্ছে নারী; ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যানার। এরা কবে কে দল করে আওয়ামীলীগকে উদ্ধার করেছে তার খোঁজ পাওয়া যায়না। অথচ, আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে হঠাৎ করে নিরিহ জনগনের উপর অমানবিক নির্যাতন করে নিজের সুবিধা বাগিয়ে নিতে পিছপা হচ্ছেনাা।

সিন্ডিকেট করে অপরাধ চলছেই। তারই অংশ হিসেবে নমুনা ফেলে দিয়ে হাজারো মনগড়া কোভিড রিপোর্ট দেয়ার পর জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী বলছেন, প্রতারণার বিষয়ে আগেই জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে।

এরা কবে কে দল করে আওয়ামীলীগকে উদ্ধার করেছে তার খোঁজ পাওয়া যায়না। অথচ, আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে হঠাৎ করে নিরিহ জনগনের উপর অমানবিক নির্যাতন করে নিজের সুবিধা বাগিয়ে নিতে পিছপা হচ্ছেনা।

নিজে বাঁচার জন্য এখন জড়াতে চাচ্ছেন মহাপরিচালককে। তবে এ বিষয়ে এখনো মুখ খোলেননি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। একাধিক সূত্র বলছে, মহাপরিচালক এমন নন। তাকে ফাঁসাতে এবং নিজে বাঁচতে এমন কথা বলছেন সাবরিনা। সঠিক ও গভীর তদন্ত করলে হয়তো আরও গভীর কিছু পাওয়া যেতে পারে।

করোনা সনদ জালিয়াতিসহ চার মামলায় গ্রেপ্তার আরিফুলসহ ছয়জন আছেন কারাগারে।গত ২৪ জুন  তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে থানায় হামলার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন জেকেজির ১৮ কর্মী। কিন্তু তার স্ত্রী সাবরিনা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এদিকে ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী দাবি করছেন তিনি জেকেজির চেয়ারম্যান নন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে একটি বেসরকারি চ্যানেলকে সাবরিনা বলেন, জেকেজির চেয়ারম্যান হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। বরং এটা ওভাল কোম্পানির একটি অঙ্গসংগঠন। ওভাল গ্রুপ ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। যেখানকার মালিক হচ্ছেন আরিফুর রহমান। তবে করোনার নমুনা সংগ্রহের প্রতারণা সামনে আসার আগে তিনি নিজেকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জেকেজির চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন।

প্রতারণার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছিলো কি না এমন প্রশ্নে সাবরিনা বলেন, ‘বলেছি, আমি ডিজি স্যারকে (আবুল কালাম আজাদ) বলেছি, এডিজিকে বলেছি।’

তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আরিফের সব প্রভাব ও হুমকিধমকির পেছনে ছিল স্ত্রী ডা. সাবরিনা। ডা. সাবরিনা এ চৌধুরী ওরফে ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীকে প্রায়ই টেলিভিশন টকশোতে দেখা যেত স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনায়। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের রেজিস্টার্ড চিকিৎসক হয়েও তিনি ছিলেন কথিত ‘স্বেচ্ছাসেবী’ সংগঠন জেকেজি হেলথ কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান।স্বামীর প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে ‘নানা অনৈতিক উপায়’ অবলম্বনের অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। এতে নাম এসেছে বিএমএর এক নেতারও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সরকারের অনেক উচ্চপদস্থদের সঙ্গে ‘ওঠাবসার’ ছবি দেখিয়ে সুবিধা নিতো এই দম্পতি। তবে জুনের শুরুতে মনোমালিন্যের পর দূরত্ব শুরু হয় দুজনের।

তদন্ত ও তদন্ত তদারকি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা মহামারীর শুরুর দিকে ডা. সাবরিনার তদবিরে জেকেজি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহের কাজ বাগিয়ে নেয়। এখান থেকে করোনা টেস্টের নামে ভুয়া সদন দেওয়া শুরু করেন আরিফুল। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৪৪টি নমুনা সংগ্রহ বুথ বসিয়ে ও হটলাইন খুলে নমুনা সংগ্রহ করে কোনো পরীক্ষা না করেই প্রতিষ্ঠানটি কমপক্ষে ১৬ হাজার মানুষকে করোনা টেস্টের ভুয়া সনদ দিয়েছে। গুলশানে তাদের অফিসের ১৫ তলার কক্ষে বসেই এসব মনগড়া সনদ তৈরি করে হাজার হাজার মানুষের মেইলে পাঠানো হতো। বুথের বাইরে হটলাইনের মাধ্যমে ‘বিশ্বস্ত এজেন্ট’ দিয়ে বাসা বাড়িতে গিয়েও নমুনা সংগ্রহ করতেন জেকেজি কর্মীরা। গত ২৩ জুন করোনার মনগড়া সনদ দেওয়া, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে তেজগাঁও থানা পুলিশ আরিফুলসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযান তদারকি করেন তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশীদ।

গ্রেপ্তারের পর থানা-হাজতে থাকা অবস্থায় আরিফুলের ক্যাডার বাহিনী ভাঙচুর ও হামলা করে থানায়। মারধর করে পুলিশকেও। এছাড়া রাজধানীর মহাখালীর তিতুমীর কলেজে নমুনা সংগ্রহের বুথ বসিয়ে সেখানে প্রশিক্ষণের নামে শুরু করেন নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড। কলেজের কক্ষে কক্ষে নারী-পুরুষের আপত্তিকর অবস্থানসহ নানা অনৈতিক কাজে বাধা দিলে তিতুমীর কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্রদের ওপরও হামলা করে আরিফুলের ক্যাডার বাহিনী। মূলত ওই মামলার অনুসন্ধান করতে গিয়েই বেরিয়ে আসে আরিফুলের নানা অপকর্মের কাহিনী। রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন জনকে হুমকি দিতেন তিনি। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নাম ব্যবহার করে স্বাস্থ্য অধিপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালককেও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন আরিফুল।

তার বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় প্রতারণা জালিয়াতি, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলাসহ নানা অভিযোগে চারটি মামলা করেছে পুলিশ। তার একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল উদ্দিন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার আসামিরা জেলহাজতে আছে। আমি একটি মামলার তদন্ত করছি। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা আসবে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’ তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়েও বলে জানান তিনি।বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনার অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির প্রতি আস্থাশীল জনগন।  একাধিক সাধারন মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এই মানুষরুপী জানোয়ারকে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করলে জনগন সরকারের পাশে আছে এবং থাকবে।

তদন্ত তদারকি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রথমে তিতুমীর কলেজ মাঠে নমুনা সংগ্রহ বুথ স্থাপনের অনুমতি পায় জেকেজি। পরে প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার বাসাবোসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ৪৪টি বুথ বসিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছিল তারা। স্বামী-স্ত্রী মিলে করোনা টেস্টের ভুয়া সনদ বিক্রি করতে থাকেন। প্রতিটি টেস্টের জন্য জনপ্রতি নেওয়া হয় সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা আর বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে জনপ্রতি নিতে থাকে ১০০ ডলার। করোনা টেস্ট কারবার করে জেকেজি হাতিয়ে নিয়েছে কমপক্ষে ৮ কোটি টাকা। এমন অন্যায়ে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করলে আর কেউ এহেন জঘন্য কাজ করার সাহস পাবেনা বলে মন্তব্য সাধারন গণমানুষের।

ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম   ///সূত্র:দেশ রূপান্তর

Total Page Visits: 61628