• রবিবার ( রাত ১:৪১ )
    • ১৮ই জানুয়ারি, ২০২০ ইং

কমছে পিঁয়াজের দাম– সংসদে কৃষিমন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাক

বিশেষ প্রতিনিধিঃঃ

পিঁয়াজ নিয়ে বহু মাতামাতির পর এবার পিঁয়াজের দাম কমে পাবলিকের ক্রয় সীমার মধ্যে আসার একটা সম্ভবনা দেখা দিয়েছে।আশা করা যায়,  আগানী কিছু দিনের মধ্যে আবার আগের মতই পিৃয়াজ কিনতে পারবে জনগন। কৃষি মন্ত্রী ডক্টর  আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন শিগগিরই পেঁয়াজের দাম কমবে।  ভারত পেঁয়াজ রফতানির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় পেঁয়াজের দাম কমবে। পেঁয়াজের কেজি ১১০ টাকা থাকবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে দাম কমে কত হবে জানাতে পারেননি তিনি।

২০২০ সালের জানুয়ারীর ১৬ তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের ৬ষ্ঠ অধিবেশনে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাসদ একাংশের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য শিরিন আখতারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে একথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, এখন পেঁয়াজের মৌসুম। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে এবং অন্যান্য দেশ থেকেও এসময় পেঁয়াজ আসবে। কোনওক্রমেই পেঁয়াজের দাম ১১০ টাকা কেজি থাকবে না। এটা অবশ্যই কমে আসবে। আমরা পেঁয়াজের ওপর যথেষ্ট গবেষণা করেছি এবং বিজ্ঞানীরা অনেক উন্নতমানের জাত আবিষ্কার করেছে এবং এখন হেক্টরে ২০, ২৫, ৩০ টন পর্যন্ত পেঁয়াজ উৎপাদন করা সম্ভব। কথা প্রসঙ্গে নিত্য কিছু পন্য যার ব্যবহার বহুল কিন্তু আলোচনা কম এমন দ্রব্য এলাচির দাম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মসলা নিয়ে অনেক গবেষণা করেছি। বগুড়াতে একটা গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা কাজ করছে। প্রকৃতির কারণে সব মসলা বাংলাদেশে হয় না। অনেক মসলা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। যেগুলো আমাদের দেশে হয় সেগুলো তো উৎপাদন করছি এবং সরকার এই জাতীয় মসলা যারা আবাদ করবে তাদের ৪ শতাংশ হারে সুদ দিয়ে কৃষককে প্রণোদনা দেয় বা ঋণ দেয়। কৃষকরা যদি মসলা, পেঁয়াজ উৎপাদন করে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবেন।এলাচির দাম আন্তর্জাতিক বাজারেই বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাছাড়া সবজির দাম এবার তুলনামূলকভাবে বেশি।

এ নিয়ে উভয় সঙ্কটের কথা তুলে ধরে বলেন, একদিকে সবজি আবাদ করতে যে খরচ হয়, সে অনুযায়ী কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। আবার যেটা অস্বাভাবিক সেটাও গ্রহণযোগ্য না। আমরা এমন একটা জায়গায় আছি আমাদের জন্য উভয় সঙ্কট। দাম বেশি হলেও নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের জন্য অনেক কষ্ট হয় আবার একদম কমে গেলে চাষিরা ফসল বিক্রি করে তার সংসার অন্যান্য খরচ চালাতে পারে না। দামটা অবশ্যই সহনশীল পর্যায়ে থাকতে হবে। তবে মানতে হবে সবজি এবং বিভিন্ন পরিবহনে খরচ অত্যাধিক।

সাংসদ আয়েন উদ্দিনের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে মানুষের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে দাম কিছুটা বৃদ্ধি থাকলেও স্থিতিশীল রয়েছে। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তবে আগামীতে পেঁয়াজ নিয়ে কোনও সঙ্কট সৃষ্টি হবে না। যদি আমদানি করতেই হয়, তবে আগে থেকেই আমদানির ব্যবস্থা করা হবে। কৃষকরা যাতে পেঁয়াজ উৎপাদন করে ন্যায্যমূল্য পায় তার জন্য স্থানীয়ভাবে পেঁয়াজ সংরক্ষণের নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, দেশে ২৩ থেকে ২৪ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়, কিন্তু চাহিদা রয়েছে ৩০ থেকে ৩২ লাখ মেট্রিক টন। অবশিষ্ট চাহিদা পূরণে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়।

গত মৌসুমে অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে জমিতেই পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়, ফলে অধিক ঘাটতির সৃষ্টি হয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত হঠাৎ করে পেঁয়াজ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির কারণে দেশে হু হু করে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পায়, আমরা বাজারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। সরকার দ্রুত চীন, মিসরসহ কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, পেঁয়াজের বিষয়টি সরকার এবার গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। মাঠ পর্যায়ে নানা প্রণোদনা প্রদানের কারণে অতীতের তুলনায় এবার অধিকহারে পেঁয়াজ উৎপাদন হবে। এক্ষেত্রে আমরা আমদানি বন্ধ করে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনকারী কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্যে পায় সে ব্যবস্থা করবো। কারণ পেঁয়াজ পচনশীল। ভরা মৌসুমে কৃষকরা পেঁয়াজ খুব অল্পমূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এতে পেঁয়াজ উৎপাদনে তারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। আগামীতে এটা যেন না হয় সে ব্যাপারে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পিঁয়াজ নিয়ে যে অনাকাংখিত পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল তা সত্যিই অনভিপ্রেত।  তবে এ ঘটনা হতে যথেষ্ট শিক্ষা গ্রহন করা হয়েছে।  সকল আবাদী জমিকে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব ভাবে কৃষি পন্য উৎপাদন করে নিজস্ব পন্য ভান্ডার বৃদ্ধি করতে পারলে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনও হতে হবেনা বলে বিশেষজ্ঞগন মনে করেন।

ক্রাইম ডায়রি/// জাতীয়//কৃষি

Total Page Visits: 29888

ঝিনাইদহে বেকারিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরিমানা

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ


ঝিনাইদহে পচা বাসি খাবার রাখার অপরাধে দুটি বেকারিতে জরিমানা করেছে ভোক্তা
অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বুধবার দুপুরে শহরের আলিফ ও রিমা বেকারিতে এ অভিযান
পরিচালনা করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক সুচন্দন মন্ডল
জানান, শহরের গীতাঞ্জলী সড়কের পুরাতন ছবি ঘর সংলগ্ন আলিফ ও রিমা বেকারিতে
দীর্ঘদিন ধরে পচা বাসি খাবার তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছে।

এমন সংবাদের ভিত্তিতে
সেখানে অভিযান চালিয়ে রিমা বেকারিকে ২০ হাজার ও আলিফ বেকারিকে ১০ হাজার
টাকা জরিমান করা হয়। সেসময় সিপিসি ২ ও র‌্যাব-৬ এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম//আদালত

Total Page Visits: 29888

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আকস্মিক মৃত আবরারের মামলায় দেশবরেন্য পত্রিকার সম্পাদককে গ্রেফতারী পরোয়ানা

অনলাইন ডেস্কঃ

মনে আছে সেই ছেলেটির কথা। বহুল আলোচিত সেই কিশোর আবরার দেশের খ্যাতি সম্পন্ন ও অন্যতম জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।  পরবর্তীতে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত দূর্ঘটনার শিকার হয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুবরন করে। যাতে হতবিহবল হয়ে পড়ে প্রথম আলো পরিবার।  ঘটনা সুত্রে প্রকাশ,   কিশোর সাময়িকী ‘কিশোর আলোর’ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বিদ্যুতায়িত হয়ে নাইমুল আবরার নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, কিশোর আলো সম্পাদক আনিসুল হকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ১৬ জানুয়ারী, ২০২০ইং তারিখ, বৃহস্পতিবার ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম এ-সংক্রান্তে দাখিল হওয়া পুলিশ প্রতিবেদন আমলে নিয়ে এ পরোয়ানা জারি করেছেন। এতে যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তারা হলেন,  প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক, হেড অব ইভেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্টিভিশন কবির বকুল, নির্বাহী শুভাশীষ প্রামাণিক শুভ, কিশোর আলোর জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মহিতুল আলম পাভেল, নির্বাহী শাহপরান তুষার, ডেকোরেশন ও জেনারেটর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের জসিম উদ্দিন অপু, মোশারফ হোসেন, সুজন ও কামরুল হাওলাদার প্রমূখ।

উল্লেখ্য যে,  ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর নিহত নাইমুল আবরারের পিতা মো. মজিবুর রহমান একই আদালতে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় এ মামলা করেন, যার সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছরের কারাদণ্ড।

মামলাটি  দীর্ঘ  তদন্ত করে  মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক আব্দুল আলীম।  পরে তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে  বলে জানান এবং এই  মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার আদালত আমলে নিয়ে পরোয়ানা জারি করেন।
মামলাটির অভিযোগে বলা হয়েছে যে, বাদীর ছেলে নাইমুল আবরার (১৫) গত ১ নভেম্বর,২০১৯ইং ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে কিশোরদের মাসিক সাময়িকী কিশোর আলোর বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে যায়। সে ওই প্রতিষ্ঠানেরই নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। অনুষ্ঠান চলাকালে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আবরার বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। অনুষ্ঠানের জন্য যে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয় তা অরক্ষিত ছিল। এরূপ অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার যে নিরাপত্তামূলক ও সাবধানতার ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রয়োজন ছিল তা করা হয়নি। তাছাড়া  স্পটের খুব কাছেই সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থাকলেও আবরারকে দূরবর্তী ‘মহাখালী ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে’ নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গত ১ নভেম্বর ইস্যুকৃত মৃত্যু সনদে দেখা যায়, নিহত আবরার ওই তারিখে বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে ভর্তি হয় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক ৪টা ৫১ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। যেখানে আবরার বেলা সাড়ে ৩টায় বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়। আর মৃত্যু সংবাদ জানার পরও মৃত্যুর সংবাদ গোপন রেখে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চালিয়ে যায়। যা অমানবিক এবং হৃদয়বিদারক   চরম ধৃষ্টতার শামিল।

অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর আবরারের পরিবারকে ৭টার পর সহপাঠীর মাধ্যমে মৃত্যু সংবাদ জানানো হয়েছে দাবি করে অভিযোগপত্রে এটাকে ‘পরিকল্পিত অবহেলাজনিত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আরো অভিযোগ করা হয়েছে, পরে বাদী ও তার পরিবার হাসপাতালে এলে মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। এরপর বাদী দ্রুত মরদেহ চাইলে মুচলেকা রেখে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। ফলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন হয়। পরবর্তী সময়ে নাইমুল আবরারের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা দৃশ্যমান হতে থাকে। অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়ে শিক্ষার্থীরা গত ২ নভেম্বর ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে।
আরো বলা হয়, বাদীর দৃঢ় বিশ্বাস নাইমুল আবরারের মৃত্যু অপমৃত্যু নয়। বরং আসামিদের চরম অবহেলা, অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসায় অবহেলা, অযত্ন, অমনোযোগী, গাফিলতি ও অসাবধানতার কারণে ঘটেছে, যা বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৪-এ ধারার অপরাধ বলে উল্লেখ  হয়েছেে। তবেে বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রেক্ষাপটে বোঝা ঘটনা অনভিপ্রেত ও আকস্মিক। ঐ সময়ে উপস্থিত অনেকেই অবশ্য আকস্মিক  ঘটনায় হতবিহবল হয়ে

পড়েছিলেন।পরে মৃত্যুর সংবাদ শুনে তারা সত্যই বেদনাহত হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান।

ক্রাইম ডায়রি///ক্রাইম///আদালত

Total Page Visits: 29888

ফুঁসে উঠছে ইরানঃ যুদ্ধের ভয়াবহতা এড়াতে শান্তির আহবান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃঃ

ইরানের সেনাবাহিনীর গর্ব মেজর জেনারেল সোলেমানিকে হত্যায় ফুঁসে উঠেছে পুরো ইরান। সাজ সাজ রব চারিদিকে। যুদ্ধাশংকায় পুরো বিশ্ব।    ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন হামলায় নিহত আল-কুদস ফোর্সের প্রধান মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

এদিকে ইরান যদি হত্যার প্রতিশোধ না নেয় তাহলে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহারের পাশাপাশি দেশটিকে সহায়তাও প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের সাবেক এক কূটনীতিকের বরাতে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ এ খবর জানিয়েছে। আমির আল-মুসাভি নামে ওই কূটনীতিক শনিবার ভিডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, একজন আরব মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আমাকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যে অপরাধ করেছে তার জন্য ইরান যেন কোনো প্রতিশোধ না নেয়। এর বিনিময়ে তারা ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে।

ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সবধরণের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অর্থনৈতিক নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

আমির আল-মুসাভি বলেন, এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র শুধুমাত্র ইরানের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। আমি মনে করি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব ইরানের ক্ষোভ প্রশমিত করবে না, কারণ যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত যত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার সবই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে বাগদাদ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়ে আল-কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকি মিলিশিয়া  বাহিনীর লিডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিসকে হত্যা করা হয়েছে।

মার্কিন হামলায় নিহতদের মধ্যে সোলাইমানিসহ পাঁচজন ইরানি ও মুহান্দিসসহ পাঁচজন ইরাকি রয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের গণমাধ্যম। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি, সমর প্রকৌশলবিদ ও সেনা কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেমানি ও ইরাকের মিলিশিয়া বাহিনী শীর্ষ নেতা আবু মাহদি আল মুহানদিসের হত্যার ফের বাজতে শুরু করেছে আরেক যুদ্ধ-সংঘাতের দামামা।

২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের দেড় দশক পর ইরাকের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এলেও দেশটি ফের আঞ্চলিক সংঘাতের কেন্দ্রে চলে এসেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সোলাইমানির হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চিত্র মুহূর্তেই পাল্টে গেল। এ হত্যাকাণ্ড ট্রাম্পকে স্বস্তি দিলেও মধ্যপ্রাচ্যে রক্ত ঝরাবে। ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকি কমান্ডার নিহত হওয়ার ঘটনায় শনিবার বাগদাদজুড়ে শোকমিছিল হয়েছে। এসময় ক্ষুব্ধ লোকজনকে ‘আমেরিকা সবচেয়ে বড় শয়তান’ বলে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

পুরো বিশ্বের ইসলামীল নেতারাসহ খোদ আমেরিকার গণমানুষও বিক্ষোভ করেছেন। যুদ্ধের ধ্বংস ও ভয়াবহতার হাত থেকে বাঁচতে চায় বিশ্ববাসী।

ক্রাইম ডায়রি//আন্তর্জাতিক

Total Page Visits: 29888

নরসিংদী জেলা বাল্যবিবাহ মুক্ত করার লক্ষ্যে জেলা কাজী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নরসিংদী সংবাদদাতাঃ

 

নরসিংদী জেলা কাজী সমিতি কর্তৃক আয়োজিত “নরসিংদী জেলা বাল্যবিবাহ মুক্ত করার লক্ষ্যে জেলা কাজী সমিতির করণীয় শীর্ষক সম্মেলন-২০১৯” ৩০ডিসেম্বর সোমবার  অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা ফারহানা কাউনাইনসহ জেলার কাজীগন সহ স্থানীয় প্রশাসন ও গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।

জেলার কাজীদের উদ্দেশ্য দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “আপনারা জন্ম নিবন্ধন ছাড়া কোন বিবাহ নিবন্ধন করবেন না। আপনারা এ সমাজের নেতা। আর তাই বাল্যবিবাহ রোধ সহ অন্যান্য সামাজিক ব্যাধি দূরীকরণে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।” এ সময় প্রধান অতিথির গঠন মূলক বক্তব্যে স্থানীয় বিজ্ঞমহল তার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

ক্রাইম ডায়রি//জেলা

Total Page Visits: 29888

অবৈধভাবে উপার্জন ও গোপন বিনিয়োগে দুদকের অনুসন্ধান

শরীফা আক্তার স্বর্নাঃ

অবৈধভাবে উপার্জন ও গোপন বিনিয়োগ কিংবা অন্যের নামে বিনিয়োগের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে একাধিক এন্ট্রি করাপশন টিম। একটি বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সরকারি কিংবা বেসরকারি    প্রতিষ্ঠানে  কর্মরত অবস্থায় অবৈধ উপার্জিত অর্থ স্ত্রী কিংবা বন্ধু কিংবা অন্য কারো নামে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে টাকাকে সাদা কিংবা হালাল করার চেষ্টা করছে একদল লোক।

বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বলিয়ান দুদকের আসন্ন চিরুনী অভিযান এদের বিরুদ্ধে শুরু হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।  বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে, ভ্যাট ও ইনকাম ট্যাক্স নিয়েও একশ্রেণির কর্মকর্তা সরকারি কোষাগারকে ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেেের সাথে গোপন আঁতাত করে ভ্যাট কম বা ফাঁকি দিতে সহযোগীতা করে নিজের লাভবান হচ্ছে এমন সব কোম্পানি ও কর্মকর্তাদেরও তালিকা করা হচ্ছে। অবৈধ বিনিয়োগের বহুমুখী ধাপ রয়েছে। এ সব অপরাধীরা এতোটাই সুক্ষভাবে দক্ষতার সাথে তাদের টাকা হাইড করছে বা করে ফেলেছে যে সাধারণ দৃষ্টিতে তা চোখে পড়া অসম্ভব। একশ্রেণির সি এ ফার্ম কিংবা একাউন্টস কর্মকর্তারাও এসব অপরাধের   সহযোগী।

এসব সুক্ষাতিসুক্ষ আর্থিক অপরাধ দেশের চলমান অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্থ করে ব্যাক্তিকে হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বানায়।    ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা অর্থনৈতিক গোয়েন্দারা এসব সুক্ষ আর্থিক লেনদেন নিয়ে কাজ করছে বলে একটি সুত্র ক্রাইম ডায়রিকে   জানিয়েছে।

(ধারাবাহিক…… চলবে)

ক্রাইম ডায়রি//ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিট//অপরাধ জগত

Total Page Visits: 29888

রাজধানীর উত্তরায় নিউমার্কেট এ দুদকের অভিযান

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

 

সারাদেশে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে ও  দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে আগত অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজধানীর উত্তরায়  অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক।  দুদক সুত্রে জানা গেছে, সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে তার উপর মার্কেট তৈরি এবং জাল জালিয়াতির মাধ্যমে অন্য এক ব্যক্তির নামে বিদ্যুৎ এবং পানি সংযোগ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্বসাৎ করা হয়েছে এই মর্মে দুদক অভিযোগ কেন্দ্র-১০৬ এ একটি অভিযোগ আসে।  দুদকের সহকারী পরিচালক জেসমিন আক্তার এবং উপসহকারী পরিচালক ফাহমিদা আকতার এর সমন্বয়ে গঠিত টিম আজ ২৬-১২-২০১৯ তারিখে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযানটি পরিচালিনা করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জনাব গোলাম ফারুক নামে জনৈক ব্যক্তি অবৈধভাবে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে রাজউক ও বিভিন্ন সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজশ করে উত্তরা আজমপুরের ঢাকা- ময়মনসিংহ রোডের পাশে প্রায় ১৭ কাঠার সরকারি স¤পত্তি দখল করে “উত্তরা নিউ মার্কেট” নামে প্রায় ১০০ টি দোকানসমৃদ্ধ একটি মার্কেট স্থাপন করেছেন। এছাড়া, অন্য এক ব্যক্তির নামে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে ডেসকো থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং ঢাকা ওয়াসা থেকে পানির সংযোগ নিয়ে তা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ব্যবহার করে আসছেন। জনাব গোলাম ফারুক এসব ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড থেকে ১২ কোটি টাকা ঋণও গ্রহণ করে ইতোমধ্যে তা ভোগ করছেন। এর জন্য তারা অবৈধ বিদ্যুৎ এবং পানির লাইন নিয়েছেন।  এছাড়া, সরকারি জমি উদ্ধার করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়ে দুদকের পক্ষ হতে সুুুুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ক্রাইম ডায়রি// ক্রাইম// দুদক বিট

Total Page Visits: 29888

৯ টি পন্যের সনদ বাতিল করল বি এস টি আইঃ খুচরা বিক্রয়,গুদামজাত ও বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ

প্রকৌশলী জুনায়েদ আহম্মেদঃ

বাংলাদেশ ষ্ট্যান্ডার্টস এন্ড   টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বি এস টি আই) এক বিজ্ঞপ্তিতে খোলা বাজারে ৯টি ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্যের মানসনদ বা লাইসেন্স বাতিল করেছে বলে জানা গেছে।  বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ক্রেতাদের মানসম্মত পণ্য খাওয়াতে এবং ব্যবহার করার সুযোগ দিতে বদ্ধপরিকর। বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  নির্দেশ অনুযায়ী বি এস টি আই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এ অভিযান পরিচালনা  করে আসছে।

বিএসটিআই এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পরিদর্শন দলের মাধ্যমে খোলাবাজার থেকে বিভিন্ন পণ্যের নমুনা ক্রয় করে পরীক্ষা করা হয়। এতে কোম্পানির ৯টি ব্র্যান্ডের পণ্যে অত্যন্ত নিম্নমানের উপকরণ পাওয়া যায়। তাই এসব পণ্যের মান সনদ বা সার্টিফিকেশন মার্কস (সিএম) লাইসেন্স বাতিল করা হয়।

পণ্যগুলো হলো এ কে খান ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেফ ব্র্যান্ডের ফর্টিফাইড সয়াবিন তেল, জে কে ফুড প্রডাক্টসের মদিনা লাচ্ছা সেমাই, মডার্ন কসমেটিকস অ্যান্ড হারবাল ইন্ডাস্ট্রিজের মডার্ন স্কিন ক্রিম, জি এম কেমিক্যাল ওয়ার্কসের জিএম স্কিন ক্রিম, নিউ চট্টলা প্রা. লিমিটেডের এরাবিয়ান স্পেশাল ঘি, রেভেন ফুড কোম্পানির রেভেন লাচ্ছা সেমাই, খাজানা মিঠাই লিমিটেডের খাজানা ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, ঘি ও চানাচুর, প্রমি এগ্রো ফুডের প্রমি হলুদের গুঁড়া এবং ইফাদ সল্ট অ্যান্ড কেমিক্যাল লিমিটেডের ইফাদ ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ।

বিএস টি আই এর চট্টগ্রাম বিভাগের  পরিচালক মোঃ সেলিম উদ্দিন, রাজশাহী বিভাগের সহকারী পরিচালক আসলাম হেসেন, ময়মনসিংহের ফিল্ড অফিসার প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম ক্রাইম ডায়রির এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন,  বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক একজন দক্ষ নীতিবান ও গুনী মানুষ। জনগন খারাপ ও মানহীন পণ্য খাবে এটা তিনি কিছুতেই বরদাশত করবেন না।তাই এসব মানহীন পন্যের কোম্পানিগুলো          নতুনভাবে লাইসেন্স গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা এসব পণ্য বিক্রি, বিতরণ, সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না।

বিএসটিআই ভোক্তাদেরও এসব পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।

সংস্থাটি এসব পণ্য কোন খুচরা দোকানী বিক্রি, মজুত ও কোন মিডিয়া এসব পন্যের বিজ্ঞাপন প্রচার যাতে না করে সে ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বলে ক্রাইম ডায়রিকে জানিয়েছে।

ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়

Total Page Visits: 29888

একজন হাসান মাহমুদঃ একজন মহানায়কের গল্পগাঁথা

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেলঃঃ

হাঁটি হাঁটি পা পা করে বেড়ে ওঠা ছোট্ট শিশুটি একদিন বিশ্বজয় করবে বাবা মায়ের এমন বিশ্বাস নিয়ে বেড়ে ওঠা সেই শিশু সত্যিই বিশ্বজয় করেছে।।হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে লক্ষকোটি বাঙ্গালির।  জানেন সেই শিশুটি কে???  তিনি হলেন শতকোটি যুবকের হৃদয়ের স্পন্দন বিশিষ্ট পরিবেশ বিজ্ঞানী ডক্টর. হাসান মাহমুদ।     বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সুখবিলাস গ্রামে ১৯৬৩ সালের ৫ জুন ভোরবেলা বাবা মায়ের কোল আলোকিত করে  খ্যাতিমান আইনজীবী প্রয়াত নুরুচ্ছফা তালুকদারের ঘরে জন্মগ্রহণ করা শিশুটিই আজকের হাসান মাহমুদ।। বাবা-মা নাম রাখেন হাছান মাহমুদ। সুখবিলাস গ্রামের সে হাছান মাহমুদ এখন বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী।।।।

অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন তিনি। ১৯৭৮ সালে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী স্কুল চট্টগ্রাম মুসলিম হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে ভর্তি হন হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজে। তখন মহসীন কলেজর নাম ছিল ইন্টারমিডিয়েট কলেজ। ইন্টারমিডিয়েট কলেজ এবং ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ একীভূত হয়ে মহসীন কলেজ নামকরণ করা হয়। ছোট হাছান মাহমুদকে দায়িত্ব দেওয়া হয় কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের। একই সময়ে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। দক্ষতার হাতে খড়ি হয়। কিন্তু আদতে দেখা দক্ষতা নিয়েই জন্মগ্রহণ করেছেন তিনি।

কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাশ করে হাছান মাহমুদ ভর্তি হন বাংলাদেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে । মেধা আর বিচক্ষণতা দিয়ে একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি ছাত্রলীগের রাজনীতি চালিয়ে যান হাছান মাহমুদ।

আওয়ামীলীগের তখন ক্রান্তিকাল। সময়টা ১৯৮০ সাল। ছাত্রলীগ করা তখন দুরুহ ব্যাপার। সেই সময় হতে ছাত্রলীগের হাল ধরে   ছাত্র রাজনীতি করেছেন। এ থেকে কেউ দূরে রাখতে পারেনি হাছান মাহমুদকে। নির্বাচিত হন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে। ১৯৯০ সালে চাকসু নির্বাচনের জন্য গঠিত সর্বদলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মনোনীত করা হয় হাছান মাহমুদকে।ছাত্ররাজনীতির পাঠ চুকিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য একসময় ইউরোপ চলে যান তিনি। ভর্তি হন বিশ্বের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ ব্রাসেলস এর   ইউনিভার্সিটি অব ব্রীজ এ। পড়াশোনা শেষে বেলজিয়ামের লিমবার্গ ইউনিভার্সিটি সেন্টাম-এর শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন ড. হাছান মাহমুদ।

রক্তে যার রাজনীতি বাসা বেঁধেছে তিনি কী আর রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে পারেন? নিজেই সংগঠিত করেন বেলজিয়াম আওয়ামী লীগকে। নির্বাচিত হন বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। তখনো পাদপ্রদীপের নিচে ড. হাছান মাহমুদ।ব্রিজে ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশিয়া ভিত্তিক স্টুডেন্ট ফোরামের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক রাজনীতির সঙ্গে ড. হাছান মাহমুদের সুসম্পর্ক গড়ে উঠে।

যার হৃদয়ে দেশের প্রতি অকুণ্ঠ ভালোবাসা তিনি তো আর বিদেশের মাটিতে আরাম আয়েশের জীবন কাটাতে পারেন না! আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে বিদেশে শিক্ষকতার চাকরি ফেলে দেশে ফিরে আসেন। ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সাথে যুক্ত হন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসলেও আওয়ামী লীগ সভাপতি আস্থা রাখেন হাছান মাহমুদের উপর। করা হয় শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী। ২০০৮ সাল পর্যন্ত সে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কিছুদিনের মাথায় আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ড. হাছান মাহমুদকে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব দেন।

এরইমধ্যে দেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন খ্যাতিমান পরিবেশবিদ হিসেবে সুপরিচিত হয়ে উঠেন ড. হাছান মাহমুদ। আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন কপ-১৫ (মেক্সিকো), কপ-১৬ (ডেনমার্ক), কপ-১৭ (ডারবান), কপ-১৮ (দোহা), কপ-১৯ (পোল্যান্ড), কপ-২০ (লিমা), কপ-২১ (প্যারিস), কপ-২২ (মরক্কো) এ বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল প্রতিনিধিত্ব করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হন। পরিবেশে অনন্য অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক গ্রিন স্টার পদকেও ভূষিত হন এ আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিজ্ঞানী। ২০০৮ সালের ৯ম নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে হারিয়ে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হন হাছান মাহমুদ। এরপর প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরে পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান ড. হাছান মাহমুদ। পরবর্তীতে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয় হাছান মাহমুদকে।

গত ৫ বছর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. হাছান মাহমুদ। এই সময়ে দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সফলতার সঙ্গে কাজ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হন তিনি।

ড. হাছান মাহমুদ পরপর দুই কমিটিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পান। বর্তমানে প্রচার সম্পাদকের পাশাপাশি দলের অন্যতম মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

রাজনীতির পাশাপাশি গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. হাছান মাহমুদ। এর আগে পরিবেশ বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ স্টাডিস বিষয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি এবং নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটিতে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী আংশিক) সংসদীয় আসনে বিশাল ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেন ড. হাছান মাহমুদ। তাঁর নিকট প্রার্থীকে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৩৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সৎ, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এ রাজনীতিবিদ।

দলের জন্য বহু ত্যাগ করেছেন জীবনে। ইচ্ছে করলে আরাম আয়েশে জীবন কাটাতে পারতেন। কিন্তু গনতন্ত্রের জন্য এবং আওয়ামীলীগের জন্য তার ত্যাগ ভুলবার নয়।

তাইতো, আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতাদের যখন মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি। হাছান মাহমুদ তখন পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তথ্য মন্ত্রী হিসেবে তার সফলতার গল্প আরও বিস্তর।।। আরেকদিন শোনাবো সেই গল্প।

ড. হাছান মাহমুদের বাবা চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং দুই মেয়াদে চট্টগ্রাম আদালতের পিপি ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে ড. হাছান মাহমুদ দুই কন্যা, এক ছেলের জনক।

রাজনৈতিক জীবনে একজন সফল ব্যক্তিত্বের অধিকারী তিনি। আওয়ামিলীগ এর যে কয়জন ক্লিন ইমেজের নেতা আছেন তার মধ্যে ড.হাসান মাহমুদ অন্যতম। বরাবরই তিনি যুব সমাজের হৃদয়ের স্পন্দন।  দলের সবচেয়ে ঠান্ডা মেজাজের ও সবচেয়ে বুদ্ধিমান বলে মনে করে দেশী বিদেশী রাজনীতিকরা। ব্যক্তিজীবনে দানবীর ও মহৎ হৃদয়ের অধিকারীী এই নেতার কাছে ভাল কোন বিষয়ে আবদার করে নিরাশ হয়েছে এমন রেকর্ড খুঁজে পাওয়া যায় না।।।  তাই তো আওয়ামিলীগের ২১তম সম্মেলনে বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা তার উপর আস্থা রেখেছেন।।দায়িত্ব দিয়েছেন যুগ্ম সাধারন সম্পাদকের।।।

লেখক…

আতিকুল্লাহ আরেফিন রাসেল

সম্পাদক ও প্রকাশক

ক্রাইম ডায়রি  ( সাপ্তাহিক, অনলাইন দৈনিক, অনলাইন টেলিভিশন) এবং

সভাপতি

জাতীয় সাংবাদিক পরিষদ।

+৮৮ ০১৯১৫ ৫০৬৩৩২

ক্রাইম ডায়রি///জাতীয়//স্পেশাল

Total Page Visits: 29888

গণমানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে নেতা কর্মীদের প্রতি আওয়ামীলীগের নব নির্বাচিত সভাপতি শেখ হাসিনার আহবান

ক্রাইম ডায়রি ডেস্কঃ

আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে শেখ হাসিনা সভাপতি এবং ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আজ শনিবার ইর্ঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে কাউন্সিল অধিবেশনে তাদেরকে নির্বাচিত করা হয়।

দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত নির্বাচন কমিশনের প্রধান কমিশনার এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরের নাম ঘোষণা করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আদর্শ ভিত্তিক রাজনীতি করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার জন্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে হবে, মানুষ যাতে স্বতস্ফূর্ত ভাবে ভোট দিয়ে আমাদেরকে নির্বাচিত করে এবং আমরা যেন দেশসেবা করে যেতে পারি। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়তে পারি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ যে স্বাধীনতা অর্জন করেছে সেই রক্ত যেন বৃথা না যায়, সে লক্ষ্য নিয়েই তাঁর সরকার কাজ করে বিগত ১০ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। লক্ষ্য আরো অনেক দূর যেতে হবে। সেজন্য সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।

আব্দুল মতিন খসরু সভাপতি পদে শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করেন এবং পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য তা সমর্থন করেন। নির্বাচন কমিশনার ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এ পদে আর কোনো নাম প্রস্তাব না পাওয়ায় শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেন।
এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের নাম প্রস্তাব করলে তাতে সমর্থন জানান আব্দুর রহমান। নির্বাচন কমিশনার ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এ পদে আর কোনো নাম প্রস্তাব না পাওয়ায় ওবায়দুল কাদেরকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করেন।

পরে ২১তম জাতীয় সম্মেলনে নব নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদিকমন্ডলীর সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।

সভাপতিমন্ডলীর সদস্যরা হলেন-সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্লাহ, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, রমেশ চন্দ্র সেন, অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, আবদুল মতিন খসরু, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকরা হলেন, মাহাবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মণি, ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

সাংগঠনিক সম্পাদকরা হলেন, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এস এম কামাল হোসেন ও মির্জা আজম।

এছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আক্তার, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাজিবুল্লাহ হিরু, প্রচার সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুন অর রশীদ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন শামসুন নাহার চাঁপা, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এবং স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদ ডা. রোকেয়া সুলতানার নাম ঘোষণা করেন।

সম্মেলনে বঙ্গকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্য করে   বলেন, ‘এখানে কাউন্সিলরবৃন্দ আছেন- সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। আর জাতির পিতার যে আদর্শ সেই আদর্শ মেনেই চলতে হবে।’প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ ২১ শে  ডিসেম্বর, ২০১৯ইং শনিবার আওয়ামী লীগের ২১ তম জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্ব কাউন্সিল অধিবেশনের শুরুতে প্রদত্ত ভাষণে একথা বলেন।

সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে নির্মিত প্যান্ডেলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই অধিবেশন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২৯টি বছর এদেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে তাদের বিরুদ্ধে যত সংগ্রাম ও আন্দেলন এং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার যত সংগ্রাম আওয়ামী লীগই সে সংগ্রাম করেছে এবং আওয়ামী লীগই এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, বাঙালির জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করা, একে উন্নত-সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলে বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়েই জাতির পিতা তাঁর সারাটি জীবন উৎসর্গ করে যান। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য তিনি আজীবন জেল, জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে গেছেন।

জাতির পিতার অবদান ও আওয়ামী লীগকে গড়ে তোলার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এমনভাবে সংগঠনটি গড়ে তোলেন, এর মাধ্যমে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেন।

 

সরকার প্রধান বলেন, বাংলার জনগণকে জাতির পিতার স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র সাড়ে ৩ বছরের শাসনকালে জনগণকে অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিতে পারেন নাই। সেই স্বপ্ন পূরণই তাঁর রাজনীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর বাবা-মা’য়ের আত্মা যেন শান্তি পায়।

প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার উর্ধ্বে উঠে দেশের জন্য কাজ করে যাওয়ায় নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেখা যায় যে, অনেকেই ক্ষমতায় আসার পরে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারে না। কিন্তু আমরা সেটা পেরেছি। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছি। সেক্ষেত্রে আমি বলবো বলবো সকলকে সেই চিন্তা থেকেই কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন এবং জাতির যেকোন ক্রান্তি লগ্নে এর নেতা-কর্মীরা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করেছে। প্রতিটি কাউন্সিলরকে এটা মাথায় রাখতে হবে- জাতির পিতার সেই আদর্শ নিয়েই আমরা দেশকে গড়ে তুলবো।’

তিনি বলেন, জাতির পিতা স্বাধীনতার পরে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশ গড়ে তুলে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায়ে রেখে গিয়েছিলেন আর এরপরেই জাতির জীবনে ১৫ আগষ্ট বিপর্যয় নিয়ে আসে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ এর জাতির পিতাকে হত্যার পর এদেশে যে হত্যা, ক্যু এবং ষড়যন্ত্রের রাজনীতি এদেশে শুরু হয়েছিল। যেখানে গণতন্ত্র ছিল না, কারফিউ গণতন্ত্র ছিল। যেখানে সেনাতন্ত্র ছিল, সামরিক স্বৈর শাসকরা রাষ্ট্র শাসন করেছে দীর্ঘ ২১ বছর, এরপর আবার ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত।

 

 

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জনগণ যে সরকারের সেবা পেতে পারে, জনগণের কল্যাণ করতে পারে, তাঁদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে, এটা কেবল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরেই জনগণ উপলদ্ধি করতে পেরেছে।

তিনি বলেন, উড়ে এসে জুড়ে বসারা সবসময় নিজেদের ভাগ্য নিয়ে এবং অসৎ উপায়ে ক্ষমতা দখলকে বৈধ করার কাজেই ব্যস্ত ছিল। তারা জনগণের কথা চিন্তা করে নাই।

সরকার প্রধান বলেন, এদেশে ঋণ খেলাপি কালচার, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে তাদেরকে ব্যবহার করাসহ পুরো সমাজটাকে তারা ধ্বংসের পথে টেনে নিয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে সরকারের কোন নীতি আদর্শ থাকে না, কোন লক্ষ্য থাকে না, সে সরকার চলে কি করে, প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি এ সময় জাতির পিতার লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা এবং জাতির পিতার বিরুদ্ধে পাকিস্তানী গোয়েন্দাদের গোপন প্রতিবেদন নিয়ে প্রকাশিত ১৪ খন্ড ভলিউমের বইগুলো দলের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে পড়ার পরামর্শ দেন।

কারো বিরুদ্ধে প্রকাশিত গোয়েন্দা রিপোর্ট নিয়ে অদ্যাবধি কেউ কোন পুস্তক রচনা না করলেও জাতির পিতা কিভাবে দেশের কল্যাণে কাজ করে গেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কি কি ষড়যন্ত্র হয়েছিল, কি কি অপপ্রচার হয়েছিল-সেগুলো তুলে ধরার জন্যই ’সিক্রেট ডকুমেন্ট অন ফাদার অব দি নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শীর্ষক এ সংক্রান্ত বইগুলো তিনি প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বইগুলো থেকে আপনাদের অনেক কিছু শিক্ষা নেওয়ার আছে।’শৈত্য প্রবাহের কারণে প্রচন্ড শীত অনুভূত হওয়ায় কাউন্সিলের কর্মসূচি সংক্ষেপ করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

/ক্রাইম ডায়রি//জাতীয়//রাজনীতি   ///সূত্র : বাসস

Total Page Visits: 29888